কবি বৃন্দাবন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
জয় অদভুত সো পহু অদ্বৈত
জয় জয় অদভুত সো পহুঁ অদ্বৈত
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড, ১ম শাখা ১ম পল্লব,মঙ্গলাচরণ, ৬-
পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি নিমানন্দ দাস বিরচিত পদরসসার সংকলেন ৬ সংখ্যক পদ
এবং কোনো পাঠান্তর নেই।  

॥ ধানশী॥

জয় অদভুত                  সো পহু অদ্বৈত
সুরধুনী সন্নিধানে।
আঁখি মুদি রহে                 প্রেমে নদী বহে
বসন তিতিল ঘামে॥
নিজ পহু মনে                       ঘন গরজনে
উঠি জোরে জোরে লম্ফ।
ডাকে বাহু তুলি                কাঁদে ফুলি ফুলি
দেহে বিপরীত কম্প॥
অদ্বৈত-হুঙ্কারে                     সুরধুনী-তীরে
আইলা নাগর-রাজ।
তাহার পিরিতে                  হইয়া তুরিতে
উদয় নদীয়া মাঝ॥
জয় সীতানাথ                      করল বেকত
নন্দের নন্দন হরি।
কহে বৃন্দাবন                       অদ্বৈত-চরণ
হিয়ার মাঝারে ধরি॥

টীকা -
৯-১২। “অদ্বৈত-হুঙ্কারে” ইত্যাদি। চৈতন্যভাগবত প্রভৃতি গ্রন্থে বর্ণিত হইয়াছে যে, ভক্তশিরোমণি অদ্বৈত
আচার্য্য ভক্তি-ধর্ম্মের নিতান্ত অবনতি দর্শনে মর্ম্মাহত হইয়া “যদা যদা হি ধর্ম্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত।
অভ্যুত্থানমধর্ম্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্॥” এই ভগবদ্বাক্যে দৃঢ় বিশ্বাসবশতঃ ভগবানকে অবতীর্ণ করার
জন্য প্রত্যহ গঙ্গাস্নানে যাইয়া ভগবানের উদ্দেশ্যে সচন্দন তুলসীপত্র ও গঙ্গাজল উত্সর্গ করিয়া প্রেমাবেশে
ভগবানের আহ্বানসূচক ঘন ঘন হুঙ্কারধ্বনি করিতেন ; ভগবান্ তাঁহার এই প্রেমের আকর্ষণ অগ্রাহ্য করিতা
না পারিয়া প্রেম-ধর্ম্ম প্রচারের জন্য শ্রীগৌরাঙ্গরূপে অবতীর্ণ হন।
---সতীশচন্দ্র রায়, পদকল্পতরু॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ
সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ৬ষ্ঠ তরঙ্গ, ২য় উচ্ছাস, ২৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

অদ্বৈতাচার্য্য।
॥ ধানশী॥

জয় জয় অদভুত, সো পহুঁ অদ্বৈত, সুরধুনী সন্নিধানে।
আঁখি মুদি রহে, প্রেমে নদী বহে, বসন তিতিল ঘামে॥
নিজ পহুঁ মনে, ঘন গরজনে, উঠি জোরে জোরে লম্ফ।
ডাকে বাহু তুলি, কাঁদে ফুলি ফুলি, দেহে বিপরীত কম্প॥
অদ্বৈত হুঙ্কারে, সুরধুনীতীরে, আইলা নাগররাজ।
তাহার পিরীতে, হইয়া তুরিতে, উদয় নদীয়া মাঝ॥
জয় সীতানাথ, করল বেকত, নন্দের নন্দন হরি।
কহে বৃন্দাবন, অদ্বৈতচরণ, হিয়ার মাঝারে ধরি॥

ই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত মহাজন পদাবলী, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীঅদ্বৈত-বন্দনা
॥ ধানশী॥

জয় অদভুত,                      সো পঁহু অদ্বৈত,
সুরধুনী সন্নিধানে।
আঁখি মুদি রহে,                      প্রেমনদী বহে,
বসন তিতল ঘামে॥
নিজ পঁহু মনে,                         ঘন গরজনে,
উঠি জোরে জোরে লম্ফ।
ডাকে বাহু তুলি,                  কাঁদে ফুলি ফুলি,
দেহে বিপরীত কম্প১॥
অদ্বৈত হুঙ্কারে২,                     সুরধুনী তীরে,
আইলা নাগর-রাজ।
তাহার পিরিতে,                     হইয়া তুরিতে,
উদয় নদীয়া-মাঝ॥
জয় সীতানাথ,                       করল বেকত,
নন্দের নন্দন হরি।
কহে বৃন্দাবন,                         অদ্বৈত-চরণ,
হিয়ার মাঝারে ধরি॥

টীকা -
১। স্তম্ভ, স্বেদ (ঘম্ম), রোমাঞ্চ, স্বরভঙ্গ, কম্প, বৈবর্ণ্য, অশ্রু ও প্রলয় (মূর্চ্ছা) এই আটটিকে সাত্ত্বিক ভাব বলে।
২। শ্রীঅদ্বৈত প্রভু ধর্ম্মের গ্লানি ও জীবের দুর্দ্দশা দেখিয়া প্রতিদিন গঙ্গাজল তুলসী দিয়া, ভগবানকে অবতীর্ণ
হইবার জন্য ডাকিতেন ও মাঝে মাঝে হুঙ্কার শব্দ করিতেন। বাঞ্ছাকল্পতরু তাঁহারই প্রার্থনায় নদীয়ায়
আবির্ভূত হইলেন।
---খগেন্দ্রনাথ মিত্র, “শ্রীপদামৃতমাধুরী”॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীশ্রীঅদ্বৈত বন্দনা।
॥ ধানশী॥

জয় অদভুত                   সো পহু অদ্বৈত,
সুরধুনী সন্নিধানে।
আঁখি মুদি রহে,                 প্রেমে নদী বহে,
বসন তিতিল ঘামে॥
নিজ পহু মনে,                      ঘন গরজনে,
উঠি জোরে জোরে লম্ফ।
কান্দে ফুলি ফুলি,              ডাকে বাহু তুলি,
দেহে বিপরীত কম্প॥
অদ্বৈত হুঙ্কারে,                    সুরধুনী তীরে,
আইলা নাগর রাজ।
তাহার পিরীতে                   হইয়া তুরিতে,
উদয় নদীয়া মাঝ॥
জয় সীতানাথ,                     করল বেকত,
নন্দের নন্দন হরি।
কহে বৃন্দাবন,                      অদ্বৈত চরণ,
হিয়ার মাঝারে ধরি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ বলে
উল্লেখ রয়েছে।

অদ্বৈত বন্দনা
॥ ধানশী॥

জয় জয় অদভুত             সো পহুঁ অদ্বৈত
সুরধুনী সন্নিধানে।
আঁখি মুদি রহে                 প্রেমে নদী বহে
বসন তিতিল ঘামে॥
নিজ পহুঁ মনে                      ঘন গরজনে
উঠে জোরে জোরে লম্ফ।
ডাকে বাহু তুলি              কাঁদে ফুলি ফুলি
দেহে বিপরীত কম্প॥
অদ্বৈত হুঙ্কারে                    সুরধুনীতীরে
আইলা নাগররাজ।
তাহার পিরীতে               আইলা তুরিতে
উদয় নদীয়া মাঝ॥
জয় সীতানাথ                   করল বেকত
নন্দের নন্দন হরি।
কহে বৃন্দাবন                      অদ্বৈতচরণ
হিয়ার মাঝারে ধরি॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২৩২-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

জয় জয় অদভুত সো পহুঁ অদ্বৈত                    
সুরধুনী সন্নিধানে।
আঁখি মুদি রহে প্রেমে নদী বহে                        
বসন তিতিল ঘামে॥
নিজ পহুঁ মনে ঘন গরজনে                             
উঠে জোরে জোরে লম্ফ।
ডাকে বাহু তুলি কাঁদে ফুলি ফুলি                      
দেহে বিপরীত কম্প॥
অদ্বৈত হুঙ্কারে সুরধুনীতীরে                            
আইলা নাগররাজ।
তাহার পিরীতে আইলা তুরিতে                        
উদয় নদীয়া মাঝ॥
জয় সীতানাথ করল বেকত                           
নন্দের নন্দন হরি।
কহে বৃন্দাবন অদ্বৈতচরণ                              
হিয়ার মাঝারে ধরি॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
নানা দ্রব্য আয়োজন করি করে নিমন্ত্রণ
নানা দ্রব্য আয়োজনে করে সভে নিমন্ত্রণে
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা ১ম পল্লব,
মঙ্গলাচরণ, ২৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

নানা দ্রব্য আয়োজন             করি করে নিমন্ত্রণ
কৃপা করি কর আগমন।
তোমরা বৈষ্ণবগণ                মোর এই নিবেদন
দৃষ্ট করি কর সমাপন॥
করি এত নিবেদন                  আনিল মহান্তগণ
কীর্ত্তনের করে অধিবাস।
অনেক ভাগ্যের বলে         বৈষ্ণব আসিয়া মিলে
কালি হবে মহোত্সব বিলাস॥
শ্রীকৃষ্ণের লীলা-গন               করিবেন আস্বাদন
পূরিবে সভার অভিলাষ।
শ্রীকৃষ্ণ-চৈতন্যচন্দ্র                সকল ভকত-বৃন্দ-
গুণ গায় বৃন্দাবনদাস॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৪-পদসংখ্যায় এই রূপে
দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে
উপস্থাপন করা হলো।

॥ মঙ্গল॥

নানা দ্রব্য আয়োজনে             করে সভে নিমন্ত্রণে
কৃপা করি কর আগমন।
তোমরা বৈষ্ণবগণ                  মোর এই নিবেদন
দৃষ্ট করি কর সমাপন॥
করি এত নিবেদন                    আনিল মহান্তগণ
কীর্ত্তনের করে অধিবাস।
অনেক ভাগ্যের বলে           বৈষ্ণব আসিয়া মিলে
কালি হবে মহোত্সব বিলাস॥
শ্রীকৃষ্ণের লীলা-গন                 করিবেন আস্বাদন
পূরিবে সভার অভিলাষ।
শ্রীকৃষ্ণ-চৈতন্যচন্দ্র                  সকল ভকত-বৃন্দ-
গুণ গায় বৃন্দাবনদাস॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার,
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথাহি মঙ্গল রাগঃ॥

নানা দ্রব্য আয়োজন     করে করি নিমন্ত্রণ     কৃপা করি কর আগমন।
তোমরা বৈষ্ণবগণ    মোর এই নিবেদন     দৃষ্ট করি কর সমাপন॥
করি এত নিবেদন     আনিল মহান্তগণ     কীর্ত্তনের করে অধিবাস।
অনেক ভাগ্যের ফলে     বৈষ্ণব আসিয়া মিলে     কালি হবে মহোত্সববিলাস॥
শ্রীকৃষ্ণের লীলাগান     করিবেন আস্বাদন     পূরিবে সভার অভিলাষ।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচন্দ     সকল ভকতবৃন্দ     গুণ গায় বৃন্দাবনদাস॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ
সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ৪র্থ তরঙ্গ, ৫ম উচ্ছাস, ১৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

নানাদ্রব্য আয়োজন               করি করে নিমন্ত্রণ
কৃপা করি কর আগমন।
তোমরা বৈষ্ণবগণ                 মোর এই নিবেদন
দৃষ্টি করি কর সমাপন॥
করি এত নিবেদন                   আনিল মহান্তগণ
কীর্ত্তনের করে অধিবাস।
অনেক ভাগ্যের ফলে          বৈষ্ণব আসিয়া মিলে
কালি হবে মহোত্সবিলাস॥
শ্রীকৃষ্ণের লীলাগান                 করিবেন আস্বাদন
পূরিবে সভার অভিলাষ।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচন্দ্র                    সকল ভকতবৃন্দ
গুণ গায় বৃন্দাবনদাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪৯২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

নানা দ্রব্য আয়োজন,             করি করে নিমন্ত্রণ,
কৃপা করি কর আগমন।
তোমরা বৈষ্ণবগণ,                মোর এই নিবেদন,
দৃষ্ট করি কর সমাপন॥
করি এত নিবেদন,                  আনিল মহান্তগণ,
কীর্ত্তনের করে অধিবাস।
অনেক ভাগ্যের বলে,          বৈষ্ণব আসিয়া মেলে,
কালি হবে মহোত্সব-বিলাস॥
শ্রীকৃষ্ণের লীলা-গান,              করিবেন আস্বাদন,
পূরিবে সবার অভিলাষ।
শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্যচন্দ্র,                 সকল ভকত-বৃন্দ,
গুণ গায় বৃন্দাবনদাস॥

ই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত মহাজন পদাবলী, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী বা বরাড়ী - জপতাল বা একতালা॥

নানা দ্রব্য আয়োজন,             করি করে নিমন্ত্রণ,
কৃপা করি কর আগমন।
তোমরা বৈষ্ণবগণ,                মোর এই নিবেদন,
দৃষ্ট করি কর সমাপন॥
করি এত নিবেদন,                   আনিল মহান্তগণ,
কীর্ত্তনের করে অধিবাস।
অনেক ভাগ্যের বলে,         বৈষ্ণব আসিয়া মিলে,
কালি হবে কীর্ত্তন-বিলাস॥
শ্রীকৃষ্ণের লীলাগান,               করিবেন আস্বাদন,
পূরিবে সভার অভিলাষ।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য-চন্দ্র,                  সকল ভকতবৃন্দ,
গুণ গায় বৃন্দাবন দাস॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

নানা দ্রব্য আয়োজন,             করি করে নিমন্ত্রণ,
কৃপা করি কর আগমন।
তোমরা বৈষ্ণবগণ,                 মোর এই নিবেদন,
দৃষ্ট করি কর সমাপন॥
করি এত নিবেদন,                  আনিল মহান্তগণ,
কীর্ত্তনের কর অধিবাস।
অনেক ভাগ্যের ফলে,         বৈষ্ণব আসিয়া মিলে,
কালি হবে মহোত্সব বিলাস॥
শ্রীকৃষ্ণের লীলা গান,               করিবেন আস্বাদন,
পূরিবে সবার অভিলাষ।
শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য চন্দ্র,                সকল ভকত বৃন্দ,
গুণ গায় বৃন্দাবন দাস॥

ই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, ব্রজমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব সেবা আরতি ও
কীর্ত্তন পদাবলী ও নিত্যক্রিয়া পদ্ধতি”, ৩৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নানা দ্রব্য আয়োজন,             করি করে নিমন্ত্রণ,
কৃপা করি কর আগমন।
তোমরা বৈষ্ণবগণ,                মোর এই নিবেদন,
দৃষ্ট করি কর সমাপন॥
করি এত নিমন্ত্রণ,                   আনিল মহান্তগণ,
কীর্ত্তনের করে অধিবাস।
অনেক ভাগ্যের ফলে,         বৈষ্ণব আসিয়া মিলে,
কালি হবে মহোত্সব বিলাস॥
শ্রীকৃষ্ণের লীলা গান,              করিবেন আস্বাদন,
পূরিবে সবার অভিলাষ।
শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ,                সকল ভকতবৃন্দ,
গুণ গায় বৃন্দাবন দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৭৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ বলে
উল্লেখ রয়েছে।

নামসংকীর্ত্তনের অধিবাস
॥ মঙ্গল॥

নানা দ্রব্য আয়োজন             করি করে নিমন্ত্রণ
কৃপা করি কর আগমন।
তোমরা বৈষ্ণবগণ                মোর এই নিবেদন
দৃষ্টি করি কর সমাপন॥
করি এত নিবেদন                 আনিল মহান্তগণ
কীর্ত্তনের করে অধিবাস।
অনেক ভাগ্যের বলে         বৈষ্ণব আসিয়া মিলে
কালি হবে মহোত্সববিলাস॥
শ্রীকৃষ্ণের লীলাগান               করিবেন আস্বাদন
পূরিবে সভার অভিলাষ।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচন্দ্র                  সকল ভকতবৃন্দ
গুণ গায় বৃন্দাবনদাস॥

ই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত সঙ্গীতাচার্য্য দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ১৮৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নানা দ্রব্য আয়োজন,              করি করে নিমন্ত্রণ
কৃপা করি কর আগমন।
তোমরা বৈষ্ণবগণ,                মোর এই নিবেদন,
দৃষ্টি করি কর সমাপন॥
করি এত নিবেদন,                  আনিল মহান্তগণ,
কীর্ত্তনের করে অধিবাস।
অনেক ভাগ্যের ফলে,         বৈষ্ণব আসিয়া মিলে,
কালি হবে মহোত্সব বিলাস॥
শ্রীকৃষ্ণের লীলা গান,              করিবেন আস্বাদন,
পূরিবে সভার অভিলাষ।
শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য চন্দ্র,                সকল ভকত বৃন্দ,
গুণগায় বৃন্দাবন দাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২২৫-পৃষ্ঠায়
বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

নানা দ্রব্য আয়োজন করি করে নিমন্ত্রণ                     
কৃপা করি কর আগমন।
তোমরা বৈষ্ণবগণ মোর এই নিবেদন                        
দৃষ্টি করি কর সমাপন॥
করি এত নিবেদন আনিল মহান্তগণ                           
কীর্ত্তনের করে অধিবাস।
অনেক ভাগ্যের বলে বৈষ্ণব আসিয়া                        
মিলে কালি হবে মহোত্সববিলাস॥
শ্রীকৃষ্ণের লীলাগান করিবেন আস্বাদন                        
পূরিবে সভার অভিলাষ।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচন্দ্র সকল ভকতবৃন্দ                           
গুণ গায় বৃন্দাবনদাস॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
আগে রম্ভা আরোপণ পূর্ণঘট স্থাপন
রাম রম্ভা আরোপণ পূর্ণ ঘট সংস্থাপন
আগে রম্ভা আরোপণ পূর্ণঘট সংস্থাপন
ভণিতা দাস বৃন্দাবন
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা ১ম পল্লব,
মঙ্গলাচরণ, ২৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

আগে রম্ভা আরোপণ                পূর্ণ-ঘট-স্থাপন
আম্র-পল্লব সারি সারি।
দ্বিজে বেদ-ধ্বনি করে             নারীগণ জ-জকারে
আর সভে বলে হরি হরি॥
দধি ঘৃত মঙ্গল                    করি সভে উতরোল
করয়ে আনন্দ পরকাশ।
আনিয়া বৈষ্ণবগণ                    দিয়া মালা চন্দন
কীর্ত্তন মঙ্গল অধিবাস॥
সভার আনন্দ মন                  বৈষ্ণবের আগমন
কালি হবে চৈতন্য-কীর্ত্তন।
শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য নাম                 শ্রীনিত্যানন্দ রাম
গুণ গায় দাস বৃন্দাবন॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৫-পদসংখ্যায় এই রূপে
দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে
উপস্থাপন করা হলো।

॥ বরাড়ী॥

আগে রম্ভা আরোপণ                   পূর্ণ-ঘট-স্থাপন
আম্র-পল্লব সারি সারি।
দ্বিজে বেদ-ধ্বনি করে           নাগরীগণ জয় জোকারে
আর সভে বলে হরি হরি॥
দধি ঘৃত মঙ্গল                    করি সভে উতরোল
করয়ে আনন্দ পরকাশ।
আনিয়া বৈষ্ণবগণ                    দিয়া মালা চন্দন
কীর্ত্তন মঙ্গল অধিবাস॥
সভার আনন্দ মন                  বৈষ্ণবের আগমন
কালি হবে চৈতন্য-কীর্ত্তন।
শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য নাম                 শ্রীনিত্যানন্দ রাম
গুণ গায় দাস বৃন্দাবন॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ
সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ৪র্থ তরঙ্গ, ৫ম উচ্ছাস, ১৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

আগে রম্ভা আরোপণ                পূর্ণঘট স্থাপন
আম্রপল্লব সারি সারি।
দ্বিজে বেদধ্বনি করে             নারীগণ জয়কারে
আর সবে বলে হরি হরি॥
দধি ঘৃত মঙ্গল                  করি সবে উতরোল
করিয়া আনন্দ পরকাশ।
আনিয়া বৈষ্ণবগণ                  দিয়া মালাচন্দন
কীর্ত্তন মঙ্গল অধিবাস॥
সবার আনন্দমন                  বৈষ্ণবের আগমন
কালি হবে চৈতন্যকীর্ত্তন।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নাম                 শ্রীনিত্যানন্দ ধাম
গুণ গায় বৃন্দাবন দাস॥ @

@ - এখানে অন্তমিল হয় নি। সম্ভবত মুদ্রণ প্রমাদ।

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪৯২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আগে রম্ভা আরোপণ,                পূর্ণ-ঘট-স্থাপন,
আম্র-পল্লব সারি সারি।
দ্বিজে বেদ-ধ্বনি করে,             নারীগণ জয়কারে,
আর সবে বলে হরি হরি॥
দধি ঘৃত মঙ্গল,                   করি সবে উতরোল,
করয়ে আনন্দ পরকাশ।
আনিয়া বৈষ্ণবগণ,                  দিয়া মালা চন্দন,
কীর্ত্তন-মঙ্গল অধিবাস॥
সবার আনন্দ মন,                  বৈষ্ণবের আগমন,
কালি হবে চৈতন্য-কীর্ত্তন।
শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য নাম,                 শ্রীনিত্যানন্দ ধাম,
গুণ গায় দাস বৃন্দাবন॥

ই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত মহাজন পদাবলী, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অষ্টপ্রহরব্যপী নামসঙ্কীর্ত্তনের অধিবাস
॥ বরাড়ী - ধড়াতাল॥

আগে রম্ভা আরোপণ,                  পূর্ণঘট স্থাপন,
আম্রপল্লব সারি সারি।
দ্বিজে বেদধ্বনি করে,              নারীগণ জ-জকারে,
আর সবে বলে হরি হরি॥
দধি ঘৃত মঙ্গল,                    সবে ভেল উতরোল,
করয়ে আনন্দ পরকাশ।
আনিয়া বৈষ্ণবগণ,                    দিয়া মালা চন্দন,
কীর্ত্তন-মঙ্গল অধিবাস॥
গোলকের এই রস,                   সকলে হইয়া বশ,
কালি হবে চৈতন্য-কীর্ত্তন।
তোমরা বৈষ্ণবগণ,                  এই মোর নিবেদন,
সবে আসি করিবে শ্রবণ॥
সংকীর্ত্তনের অধিকারী,                হইলেন নরহরি,
বিলসই শ্রীরঘুনন্দন।
আহ্বানিয়া সবাকারে,                বিনয় বচন করে,
আস্বাদিয়া গৌরাঙ্গের গুণ॥
রাধাকৃষ্ণ লীলা গান,               করিবা সে আস্বাদন,
এই ত পরম ধন জান।
শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য চন্দ্র,                  বলরাম নিত্যানন্দ,
বৃন্দাবন দাস গুণ গান॥

ই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত মহাজন পদাবলী, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ৩০-পৃষ্ঠায় পুনর্বার এইরূপে দেওয়া রয়েছে মাত্র ৬টি কলি সহ।

অষ্টপ্রহরব্যপী নামসঙ্কীর্ত্তনের অধিবাস
॥ বরাড়ী - ধড়া॥

[ অধিবাসে ] আগে রম্ভা আরোপণ,   পূর্ণঘট স্থাপন,
আম্রপল্লব সারি সারি।
দ্বিজে বেদধ্বনি করে,             নারীগণ জ-জকারে,
আর সবে বলে হরি হরি॥
দধি ঘৃত মঙ্গল,                    সবে ভেল উতরোল,
করয়ে আনন্দ পরকাশ।
আনিয়া বৈষ্ণবগণ,                    দিয়া মালা চন্দন,
কীর্ত্তন-মঙ্গল অধিবাস॥
সভার আনন্দ মন,                  বৈষ্ণবের আগমন,
কালি হবে চৈতন্য-কীর্ত্তন।
শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য নাম,                 শ্রী নিত্যানন্দ রাম,
গুণ গায় দাস বৃন্দাবন॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

আগে রম্ভা আরোপণ,                পূর্ণঘট সংস্থাপন,
আম্রপল্লব সারি সারি।
দ্বিজে বেদধ্বনি পড়ে,             নারীগণ জয় করে,
আর সবে বলে হরি হরি॥
দধি ঘৃত মঙ্গল,                    করি সবে উতরোল,
করয়ে আনন্দ পরকাশ।
আনিয়া বৈষ্ণবগণ,                    দিয়া মালা চন্দন,
কীর্ত্তন মঙ্গল অধিবাস॥
সবার আনন্দ মন,                  বৈষ্ণবের আগমন,
কালি হবে চৈতন্য কীর্ত্তন।
শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য নাম,                 শ্রীনিত্যানন্দ ধাম,
গুণ গায় দাস বৃন্দাবন॥

ই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, ব্রজমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব সেবা আরতি ও
কীর্ত্তন পদাবলী ও নিত্যক্রিয়া পদ্ধতি”, ৩৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আগে রম্ভা আরোপণ,                পূর্ণঘট স্থাপন,
আম্র পল্লব সারি সারি।
দ্বিজে বেদধ্বনি করে,             নারীগণ জয় কারে,
আর সবে বলে হরি হরি॥
দধি ঘৃত মঙ্গল,                    করি সবে উতরোল,
করয়ে আনন্দ পরকাশ।
আনিয়া বৈষ্ণবগণ,                    দিয়া মালা চন্দন,
কীর্ত্তন মঙ্গল অধিবাস॥
সবার আনন্দ মন,                  বৈষ্ণবের আগমন,
কালি হবে চৈতন্য কীর্ত্তন।
শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য নাম,                 শ্রীনিত্যানন্দ রাম,
গুণ গায় দাস বৃন্দাবন॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ১৯১-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী বরাড়ী - তাল একতালী॥

রাম রম্ভা আরোপণ, পূর্ণ ঘট সংস্থাপন, আম্র পল্লব সারি
সারি। দ্বিজ বেদধ্বনি করে, নারীগণ জয় করে, কেহ কেহ বলে
হরি হরি॥ দধিঘৃত সুমঙ্গল, সবে ভেল উতরোল, করত আনন্দ
পরকাশ। আনিয়া বৈষ্ণবগণ, দিয়া মাল্য চন্দন, কীর্ত্তন মঙ্গল
অধিবাস॥ গোলোকের এই রস, সকলে হইয়া বশ, আরম্ভিলা
চৈতন্য কীর্ত্তন। তোমরা বৈষ্ণবগণ, এই মোর নিবেদন, সবে
আসি করিবে শ্রবণ॥ আহ্বানিয়া সবাকারে, বচন বিনয় করে,
আস্বাদিবা গৌরাঙ্গের গুণ॥ রাধাকৃষ্ণ লীলা গান, করিবা সে
আস্বাদন, এই ত পরম ধন জান। শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্যচন্দ্র, বলরাম
নিত্যানন্দ, বৃন্দাবন দাস গুণ গান॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (১) এর
পদ বলে উল্লেখ রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

আগে রম্ভা আরোপণ                পূর্ণঘট স্থাপন
আম্রপল্লব সারি সারি।
দ্বিজে বেদধ্বনি করে             নারীগণ জয়কারে
আর সবে বলে হরি হরি॥
দধি ঘৃত মঙ্গল                    করি সবে উতরোল
করিয়া আনন্দ পরকাশ।
আনিয়া বৈষ্ণবগণ                    দিয়া মালাচন্দন
কীর্ত্তন মঙ্গল অধিবাস॥
সবার আনন্দমন                  বৈষ্ণবের আগমন
কালি হবে চৈতন্যকীর্ত্তন।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নাম                 শ্রীনিত্যানন্দ ধাম
গুণ গায় দাস বৃন্দাবন॥

ই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত সঙ্গীতাচার্য্য দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ১৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আগে রম্ভা আরোপণ,                পূর্ণঘট সংস্থাপন,
আম্র পল্লব সারি সারি।
দ্বিজে বেদধ্বনি পড়ে,             নারীগণ জয় করে,
আর সব বলে হরি হরি॥
দধি ঘৃত মঙ্গল,                    করি সবে উতরোল,
করিয়া আনন্দ পরকাশ।
আনিয়া বৈষ্ণবগণ,                    দিয়া মাল্য চন্দন,
কীর্ত্তন মঙ্গল অধিবাস॥
সবার আনন্দ মন,                  বৈষ্ণবের আগমন,
কালি হবে চৈতন্য কীর্ত্তন।
শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য নাম,                 শ্রীনিত্যানন্দ ধাম,
গুণগায় দাস বৃন্দাবন॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২২২-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

আগে রম্ভা আরোপণ পূর্ণঘট স্থাপন              
আম্রপল্লব সারি সারি।
দ্বিজে বেদধ্বনি করে নারীগণ জয়কারে            
আর সবে বলে হরি হরি॥
দধি ঘৃত মঙ্গল করি সবে উতরোল                
করিয়া আনন্দ পরকাশ।
আনিয়া বৈষ্ণবগণ দিয়া মালাচন্দন                
কীর্ত্তন মঙ্গল অধিবাস॥
সবার আনন্দমন বৈষ্ণবের আগমন                
কালি হবে চৈতন্যকীর্ত্তন।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নাম শ্রীনিত্যানন্দ ধাম                
গুণ গায় দাস বৃন্দাবন॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
শ্রীবাস অঙ্গনে বিনোদ বন্ধনে
শ্রীবাস অঙ্গনে বিনদ বন্ধনে
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি রাধামোহন ঠাকুর দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৮৭৮ সালে,
রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ মঙ্গল রাগ তথা তালৌ॥

শ্রীবাস অঙ্গনে বিনোদ বন্ধনে নাচত গৌরাঙ্গ রায়।
মনুজ দৈবত পুরুষ যোষিত সভাই দেখিবারে ধায়॥ ধ্রু॥
ভকত মণ্ডল গাওত মঙ্গল বাজত খোল করতাল। তার মাঝে
উনমত নিতাই নাচত ভাইয়ার ভাবে মাতোয়াল॥ হেমস্তম্ভ
জিনি বাহুর সুবলনি সিংহ জিনিয়া কটিদেশ। চন্দ্র আনন
কমললোচন মদনমোহন বেশ॥ গরজে পুন ২ লম্ফ ঘন ২
মল্লবেশ ধরি নাচই। অরুণ লোচনে প্রেম বরিখত্র অবনি
মণ্ডল সিঞ্চুই॥ ধরণি-মণ্ডল প্রেমে বাদল করল অবধূত
চান্দ। না জানে নর নারী ভুবন দশচারি সভাই রূপ হোর
কান্দ॥ শান্তিপুর নাথ গরজে অবিরত দেখিয়া প্রেমের বিকার।
ধরিয়া শ্রীচরণ করয়ে রোদন পণ্ডিত শ্রীবাস উদার॥ মুকুন্দ
কুতূহলি কান্দয়ে ফুলি ২ ধরিয়া গদাধর কোর। নয়নে বহে
প্রেম ঠাকুর অভিরাম সঘনে ভাইয়া ২ বোল॥ না জানে
দিবানিশি প্রেমভরে ভাসি সকল সহচর বৃন্দ। বৃন্দাবন দাস
প্রেম পরকাশ নিতাই চরণারবিন্দ॥

ই পদটি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং ৪২৬ গৌরাব্দে
(১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, ৮৮৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পুনর্ধানশী॥

শ্রীবাস অঙ্গনে, বিনোদ বন্ধানে, নাচত গৌরাঙ্গ রায়।
মনুজ দৈবত, পুরুষ যোষিত, সভাই দেখিতে ধায়॥ ভকত
মণ্ডল, গায়ত মঙ্গল, বাজত খোল করতাল। মাঝে উনমত,
নিতাই নাচত, ভায়ার ভাবে মাতোয়াল॥ হেমস্তম্ভ জিনি,
বাহু সুবলনি, সিংহ জিনি কটিদেশ। চন্দ্র বদনে, মদন-
আলয়, ভুবনমোহন বেশ॥ না জানি নর নারী, ভুবন দশ
চারি, রূপ হেরি হেরি কাঁদই। গরজে ঘন ঘন, লম্ফ পুন
পুন, মল্লবেশ ধরি নাচই॥ অরুণ লোচনে প্রেম বরিষণে,
অবনী মণ্ডলে সিঞ্চয়ে। ধরণিমণ্ডলে, প্রেমে বাদর, করল
অবধূত চন্দরে॥ শান্তিপুর নাথ, গরজে অবিরত, দেখিয়া
প্রেমের বিকার। ধরিয়া শ্রীচরণ, করয়ে রোদন, পণ্ডিত
শ্রীবাস উদার॥ মুকুন্দ কুতূহলি, কান্দয়ে ফুলি ফুলি, ধরিয়া
গদাধর-কোল। নয়নে বহে, প্রেম ঠাকুর অভিরাম, সঘনে হরি
হরি বোল॥ না জানে দিবা নিশি. প্রেমরসে ভাসি, সকল
সহচর-বৃন্দ। বৃন্দাবন দাস, প্রেমপরকাশ, নিতাইচরণারবিন্দ॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা ১ম পল্লব, রূপানুরাগ,
২৬৬-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ স্রীগৌরচন্দ্রস্য সংকীর্ত্তনবর্ণনম্।
॥ মঙ্গল॥

শ্রীবাস অঙ্গনে                   বিনদ বন্ধনে
নাচত গৌরাঙ্গ রায়।
মনুজ দৈবত                  পুরুষ যোষিত
সভাই দেখিবারে ধায়॥
ভকত-মণ্ডল                    গাওত মঙ্গল
বাজত খোল করতাল।
মাঝে উনমত                  নিতাই নাচত
ভাইয়ার ভাবে মাতোয়াল॥
গরজে পুন পুন                 লম্ফ ঘন ঘন
মল্লবেশ ধরি নাচই।
অরুণ লোচনে                প্রেম বরিখয়ে
অবনি-মণ্ডল সিঞ্চই॥
ধরণি-মণ্ডল                     প্রেমে বাদল
করল অবধৌত চান্দ।
না জানে নর নারি            ভুবন দশ চারি
সভাই রূপ হেরি কান্দ॥
শান্তিপুর-নাথ               গরজে অবিরত
দেখিয়া প্রেমের বিকার।
ধরিয়া শ্রীচরণ                 করয়ে রোদন
পণ্ডিত শ্রীবাস উদার॥
মুকুন্দ কুতুহলি           কান্দয়ে ফুলি ফুলি
ধরিয়া গদাধর কোর।
নয়নে বহে প্রেম             ঠাকুর অভিরাম
সঘনে ভাইয়া ভাইয়া বোল॥
না জানে দিবানিশি           প্রেমরসে ভাসি
সকল সহচর-বৃন্দ।
বৃন্দাবনদাস                    প্রেম পরকাশ
নিতাই চরণারবিন্দ॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ
সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ৪র্থ তরঙ্গ, ২য় উচ্ছাস, ১৭৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

শ্রীবাস-অঙ্গনে বিনোদ বন্ধনে নাচত গৌরাঙ্গ রায়।
মনুজ দৈবত পুরুষ যোষিত সবাই দেখিবারে ধায়॥ ধ্রু॥
ভকতমণ্ডল গায়ত মঙ্গল বাজত খোল করতাল।
মাঝে উনমত নিতাই নাচত ভাইয়ার ভাবে মাতোয়াল॥
গরজে পুন পুন লম্ফ ঘন ঘন মল্লবেশ ধরি নাচই।
অরুণলোচনে প্রেম বরিখয়ে অবনীমণ্ডল সিঞ্চই॥
ধরণীমণ্ডল প্রেমে বাদল করল অবধূত চাঁদ।
না জানে দশ চারি সবাই নর নারী ভুবন রূপ হেরি কাঁদ॥
শান্তিপুরনাথ গরজে অবিরত দেখিয়া প্রেমের বিকার।
ধরিয়া শ্রীচরণ করয়ে রোদন পণ্ডিত শ্রীবাস উদার॥
মুকুন্দ কুতুহলি কাঁদয়ে ফুলি ফুলি ধরিয়া গদাধর কোর।
নয়নে বহেপ্রেম ঠাকুর অভিরাম সঘনে ভাইয়া ভাইয়া বোল॥
না জানে দিবানিশি প্রেমরসে ভাসি সকল সহচরবৃন্দ।
বৃন্দাবন দাস প্রেম পরকাশ নিতাই চরণারবিন্দ॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ স্রীগৌরচন্দ্রস্য সংকীর্ত্তনবর্ণনং।
॥ মঙ্গল॥

শ্রীবাস-অঙ্গনে,             বিনোদ-বন্ধনে,
নাচত গৌররায়।
মনুজ দৈবত,              পুরুষ যোষিত,
সবাই দেখিবারে ধায়॥
ভকত মণ্ডল,               গাওত মঙ্গল,
বাজত খোল করতাল।
মাঝে উনমত,              নিতাই নাচত,
ভাইয়ার ভাবে মাতোয়ার॥
গরজে পুন পুন,             লম্ফ ঘন ঘন,
মল্লবেশ ধরি নাচই।
অরুণ লোচনে.             প্রেম বরিখয়ে,
অবনী মণ্ডল সিঞ্চই॥
ধরণীমণ্ডল,                   প্রেমে বাদল,
করল অবধৌত চান্দ।
না জানে নর নারী,        ভুবন দশ চারি,
সবাই রূপ হেরি কান্দ॥
শান্তিপুর নাথ,            গরজে অবিরত,
দেখিয়া প্রেমের বিকার।
ধরিয়া শ্রীচরণ,             করয়ে রোদন,
পণ্ডিত শ্রীবাস উদার॥
মুকুন্দ কুতুহলী,       কান্দয়ে ফুলি ফুলি,
ধরিয়া গদাধর কোর।
নয়নে রহে প্রেম,         ঠাকুর অভিরাম,
সঘনে ভাইয়া ভাইয়া বোল॥
না জানি দিবানিশি,       প্রেমরসে ভাসি,
সকল সহচর-বৃন্দ।
বৃন্দাবনদাস,                 প্রেম পরকাশ,
নিতাই চরণারবিন্দ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ
বলে উল্লেখ রয়েছে।

রূপানুরাগ
॥ মঙ্গল॥

শ্রীবাসঅঙ্গনে              বিনোদ বন্ধনে
নাচত গৌরাঙ্গ রায়।
মনুজ দৈবত               পুরুষ যোষিত
সবাই দেখিবার ধায়॥ ধ্রু॥
ভকতমণ্ডল                 গায়ত মঙ্গল
বাজত খোল করতাল।
মাঝে উনমত              নিতাই নাচত
ভাইয়ার ভাবে মাতোয়াল॥
গরজে পুন পুন             লম্ফ ঘন ঘন
মল্লবেশ ধরি নাচই।
অরুণলোচনে              প্রেম বরিখয়ে
অবনীমণ্ডল সিঞ্চই॥
ধরণীমণ্ডল                   প্রেমে বাদল
করল অবধূত চাঁদ।
না জানে দিশ চারি       সবাই নর নারী
ভুবন রূপ হেরি কাঁদ॥
শান্তিপুরনাথ            গরজে অবিরত
দেখিয়া প্রেমের বিকার।
ধরিয়া শ্রীচরণ            করয়ে রোদন
পণ্ডিত শ্রীবাস উদার॥
মুকুন্দ কুতুহলি       কান্দয়ে ফুলি ফুলি
ধরিয়া গদাধর কোর।
নয়নে বহে প্রেম         ঠাকুর অভিরাম
সঘনে ভাইয়া ভাইয়া বোল॥
না জানে দিবানিশি       প্রেমরসে ভাসি
সকল সহচরবৃন্দ।
বৃন্দাবন দাস              প্রেম পরকাশ
নিতাই চরণারবিন্দ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২২৯-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীবাসঅঙ্গনে বিনোদ বন্ধনে                
নাচত গৌরাঙ্গ রায়।
মনুজ দৈবত পুরুষ যোষিত                
সবাই দেখিবার ধায়॥
ভকতমণ্ডল গায়ত মঙ্গল                   
বাজত খোল করতাল।
মাঝে উনমত নিতাই নাচত                 
ভাইয়ার ভাবে মাতোয়াল॥
গরজে পুন পুন লম্ফ ঘন ঘন                
মল্লবেশ ধরি নাচই।
অরুণলোচনে প্রেম বরিখয়ে                
অবনীমণ্ডল সিঞ্চই॥
ধরণীমণ্ডল প্রেমে বাদল                     
করল অবধূত চাঁদ।
না জানে দিশ চারি সবাই নর নারী        
ভুবন রূপ হেরি কাঁদ॥
শান্তিপুরনাথ গরজে অবিরত                
দেখিয়া প্রেমের বিকার।
ধরিয়া শ্রীচরণ করয়ে রোদন                
পণ্ডিত শ্রীবাস উদার॥
মুকুন্দ কুতুহলি কাঁদয়ে ফুলি ফুলি           
ধরিয়া গদাধর কোর।
নয়নে বহে প্রেম ঠাকুর অভিরাম            
সঘনে ভাইয়া ভাইয়া বোল॥
না জানে দিবানিশি প্রেমরসে ভাসি         
সকল সহচরবৃন্দ।
বৃন্দাবন দাস প্রেম পরকাশ                 
নিতাই চরণারবিন্দ॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
বিমল হেম জিনি তনু অনুপাম রে
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭০০ সালে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা সংকলিত ও বিরোচিত এবং
১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”, একাদশ
ক্ষণদা - কৃষ্ণা একাদশী, ৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্রস্য।
॥ ধানশী॥

বিমল হেম জিনি             তনু অনুপম রে
তাহে শোভে নানা ফুল-দাম।
কদম্ব-কেশর জিনি            একটী পুলক রে
তার মাঝে বিন্দু বিন্দু ঘাম॥
জিনি মদ-মত্ত হাতী           গমন মন্থর গতি
ভাবাবেশে ঢুলি ঢুলি যায়।
অরুণ-বসন-ছবি          জিনি প্রভাতের রবি
গোরা-অঙ্গে লহরী খেলায়॥
চলিতে না পারে গোরা-      চাঁদ গোসাঞি রে
বলিতে না পারে আধ বোল।
ভাবেতে অবশ হৈয়া      হরি হরি বোলাইয়া
আচণ্ডালে ধরি দেই কোল॥
এ সুখ-সম্পদ-কালে     গোরা না ভজিনু হেলে
হেন পদে না করিনু আশ।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচন্দ্র           ঠাকুর শ্রীনিত্যানন্দ
গুণ গায় বৃন্দাবন দাস॥

ই পদটি রাধামোহন ঠাকুর দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৮৭৮ সালে,
রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী রাগ মণ্ঠকতালৌ॥

বিমল হেম জিনি তনু অনুপামরে তাহে শোভে নানা ফুল
দাম। কদম্বকেশর যিনি একটী পুলকরে তার মাঝে বিন্দু ২
ঘাম॥ চলিতে না পারে গোরাচান্দ গোসাঞিরে বলিতে
না পারে আধবোল। ভাবে বিহ্বল হইয়া হরি হরি বোলাইয়া
আচণ্ডালে ধরি দেই কোল॥ ধ্রু॥ গমন মন্থর গতি জিনি
ময়মত্ত হাতি ভাবা বেশে ঢুলি চলি যায়। অরুণ বসন ছবি
যেন প্রাতঃকালের রবি গোরা অঙ্গে লহরী খেলায়॥ এহেন
সম্পদ কালে গোরা না ভজিলাম হেলে তুয়া পদে না করি-
লাম আশ। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য ঠাকুর শ্রীনিত্যানন্দ গুণ গায়
বৃন্দাবন দাস॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা ৪র্থ পল্লব,
বসন্তকালোচিত বিপ্রলব্ধা, ৩২৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ হিমসময়োচিতাভিসারিকা-বাসক-সজ্জাদি-পর্য্যায়ো গীয়তে
তত্রৈদৌ শ্রীগৌরচন্দ্রঃ।
॥ ধানশী॥

বিমল হেম জিনি             তনু অনুপাম রে
তাহে শোভে নানা ফুলদাম।
কদম্ব-কেশর জিনি             একটি পুলক রে
তার মাঝে বিন্দু বিন্দু ঘাম॥
চলিতে না পারে গোরা-      চান্দ গোসাঞি রে
বলিতে না পারে আধ বোল।
ভাবে অবশ হৈয়া         হরি হরি বোলাইয়া
আচণ্ডালে ধরি দেই কোল॥
গমন মন্থর-গতি             জিনি ময়মত্ত হাতী
ভাবাবেশে ঢুলি ঢুলি যায়।
অরুণ বসন-ছবি          জিনি প্রভাতের রবি
গোরা-অঙ্গে লহরী খেলায়॥
এহেন সম্পদ কালে      গোরা না ভজিলুঁ হেলে
তুয়া পদে না করিলুঁ আশ।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য                  ঠাকুর নিত্যানন্দ
গুণ গায় বৃন্দাবন দাস॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ৩০৯-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ ধানশী॥

বিমল হেম জিনি                     তনু অনুপাম রে
তাহে শোভে নানা ফুলদাম।
কদম্ব-কুসুম জিনি                     একটি পুলক রে
তার মাঝে বিন্দু বিন্দু ঘাম॥
চলিতে না পারে মোর              গৌর গোসাঞি রে
বলিতে না পারে আধ বোল।
সভারে সদয় হৈয়া                হরি হরি বোলাইয়া
আচণ্ডালে ধরি দেই কোল॥
জিনি ময়মত্ত হাতী                   গমন মন্থর গতি
ভাবাবেশে ঢুলি চলি যায়।
ভাবের তরঙ্গ হেন                 কুন্দল কনয়া যেন
গোরা-অঙ্গে লহরী খেলায়॥
এহেন সম্পদ কালে            গোরা না ভজিলুঁ হেলে
তুয়া পদে না করিলুঁ আশ।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য                      অদ্বৈত আনন্দকন্দ
গুণ গায় বৃন্দাবন দাস॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ
সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ৩য় তরঙ্গ, ১ম উচ্ছাস, ৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

বিমল-হেম জিনি                     তনু অনুপাম রে
তাহে শোভে নানা ফুলদাম।
কদম্বকেশর জিনি                     একটি পুলক রে
তার মাঝে বিন্দু বিন্দু ঘাম॥
জিনি মদমত্ত হাতী                    গমন মন্থর গতি
ভাবাবেশে ঢুলি চলি যায়।
অরুণ বসন ছবি                  যেন প্রভাতের রবি
গৌর-অঙ্গে লহরি খেলায়॥
চলিতে নাহিক পারে             গোরাচাঁদ হেলে পড়ে
বলিতে না পারে আধ বোল।
ভাবেতে আবেশ হৈয়া            হরি হরি বোলাইয়া
আচণ্ডালে ধরি দেই কোল॥
এ সুখ-সম্পদ কালে          গোরা না ভজিলাঙ হেলে
হেন পদে না করিলাঙ আশ।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য                         ঠাকুর নিত্যানন্দ
গুণ গান বৃন্দাবনদাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

বিমল হেম জিনি,             তনু অনুপামরে,
তাহে শোভে নানা ফুলদাম।
কদম্ব-কেশর জিনি,             একটি পুলকরে,
তার মাঝে বিন্দু বিন্দু ঘাম॥
চলিতে না পারে গোরা,-      চাঁদ গোসাঞিরে,
বলিতে না পারে আধ বোল।
ভাবে অবশ হৈয়া,         হরি হরি বোলাইয়া,
আচণ্ডালে ধরি দেই কোল॥
গমন মন্থর গতি,            জিনি মদমত্ত হাতী,
ভাবাবেশে ঢুলি ঢুলি যায়।
অরুণ বসন-ছবি,          জিনি প্রভাতের রবি,
গোরা অঙ্গে লহরী খেলায়॥
এহেন সম্পদকালে,      গোরা না ভজিনু হেলে,
তুয়া পদে না করিনু আশ।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচন্দ্র,             ঠাকুর নিত্যানন্দ,
গুণ-গান বৃন্দাবন দাস।

ই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত মহাজন পদাবলী, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ৫৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিসারোত্কণ্ঠা।
শ্রীগৌরচন্দ্র
॥ মায়ূর ধানশী - মধ্যম দশকুশী॥

বিমল হেম জিনি                 তনু অনুপাম রে
তাহে শোভে নানা ফুল দাম।
কদম্ব কেশর জিনি                 একটি পুলক রে
তার মাঝে বিন্দু বিন্দু ঘাম॥
চলিতে না পারে                 গোরা চাঁদ গোঁসাই
বলিতে না পারে আধ বোল।
ভাবে অবশ হৈয়া              হরি হরি বোলাইয়া
আচণ্ডালে ধরি দেই কোল॥
গমন মন্থর অতি                  জিনি মদমত্ত হাতী
ভাবাবেশে ঢুলি ঢুলি যায়।
অরুণ বসন ছবি                জিনি প্রভাতের রবি
গোরা অঙ্গে লহরী খেলায়॥
এ হেন সম্পদ কালে        গোরা না ভজিলাম হেলে
তছু পদে না করিলাম আশ।
শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য                      ঠাকুর নিত্যানন্দ
গুণ গায় বৃন্দাবন দাস॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন
পাদাবলী”, ১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানসী - মধ্যম দশকুশী॥

বিমল হেম জিনি                     তনু অনুপাম রে
তাহে শোভে নানা ফুলদাম।
কদম্বকেশর জিনি                     একটি পুলক রে
তার মাঝে বিন্দু বিন্দু ঘাম॥
চলিতে না পারে                গোরাচাঁদ গোসাঞি রে
বলিতে না পারে আধ বোল।
ভাবে অবশ হৈয়া                 হরি হরি বোলাইয়া
আচণ্ডালে ধরি দেই কোল॥
গমন মন্থর অতি                  জিনি মদমত্ত হাতী
ভাবাবেশে ঢুলি ঢুলি যায়।
অরুণ বসন ছবি                 জিনি প্রভাতের রবি
গোরা অঙ্গে লহরী খেলায়॥
এ হেন সম্পদ কালে          গোরা না ভজিলাম হেলে
তুয়া পদে না করিলাম আশ।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য                       ঠাকুর শ্রীনিত্যানন্দ
গুণ গায় বৃন্দাবন দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ বলে
উল্লেখ রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের রূপ
॥ ধানশী॥

বিমল হেম জিনি             তনু অনুপাম রে
তাহে শোভে নানা ফুলদাম।
কদম্ব কেশর জিনি             একটি পুলক রে
তার মাঝে বিন্দু বিন্দু ঘাম॥
চলিতে না পারে গোরা-      চান্দ গোসাঞি রে
বলিতে না পারে আধ বোল।
ভাবে অবশ হইয়া         হরি হরি বোলাইয়া
আচণ্ডালে ধরি দেই কোল॥
গমন মন্থরগতি              জিনি ময়মত্ত হাতী
ভাবাবেশে ঢুলি ঢুলি যায়।
অরুণ বসনছবি            জিনি প্রভাতের রবি
গোরা তঙ্গে লহরী খেলায়॥
এহেন সম্পদ কালে         গোরা না ভজিলুঁ হেলে
তুয়া পদে না করিলুঁ আশ।
শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য                   ঠাকুর নিত্যানন্দ
গুণ গায় বৃন্দাবন দাস।

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”,
৪০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বিমল হেম জিনি             তনু অনুপাম রে
তাহে শোভে নানা ফুলদাম।
কদম্ব কেশর জিনি             একটি পুলক রে
তার মাঝে বিন্দু বিন্দু ঘাম॥
চলিতে না পারে            গোরা চাঁদ গোসাই
বলিতে না পারে আধ বোল।
ভাবে অবশ হইয়া         হরি হরি বোলাইয়া
আচণ্ডালে ধরি দেই কোল॥
গমন মন্থর অতি            জিনি মদমত্ত হাতী
ভাবাবেশে ঢুলি ঢুলি যায়।
অরুণ বসন ছবি          জিনি প্রভাতের রবি
গোরা অঙ্গে লহরী খেলায়॥
এহেন সম্পদকালে    গোরা না ভজিলাম হেলে
তুয়া পদে না করিলাম আশ।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য             ঠাকুর শ্রীনিত্যানন্দ
গুণ গায় বৃন্দাবন দাস।

ই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত, দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদসঙ্কলন”, ১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বিমল হেম জিনি             তনু অনুপাম রে
তাহে শোভে নানা ফুলদাম।
কদম্ব-কেশর জিনি             একটি পুলক রে
তার মাঝে বিন্দু বিন্দু ঘাম॥
চলিতে না পারে গোরা-      চান্দ গোসাঞি রে
বলিতে না পারে আধ বোল।
ভাবে অবশ হৈয়া          হরি হরি বোলাইয়া
আচণ্ডালে ধরি দেই কোল॥
গমন মন্থর-গতি              জিনি ময়মত্ত হাতী
ভাবাবেশে ঢুলি ঢুলি যায়।
অরুণ বসনছবি             জিনি প্রভাতের রবি
গোরা-অঙ্গে লহরী খেলায়॥
এহেন সম্পদ কালে         গোরা না ভজিলুঁ হেলে
তুয়া পদে না করিলুঁ আশ।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য                    ঠাকুর নিত্যানন্দ
গুণ গায় বৃন্দাবন দাস।

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২২৭-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

বিমল হেম জিনি তনু অনুপাম রে                
তাহে শোভে নানা ফুলদাম।
কদম্ব কেশর জিনি একটি পুলক রে                
তার মাঝে বিন্দু বিন্দু ঘাম॥
চলিতে না পারে গোরা চান্দ গোসাঞি             
রে বলিতে না পারে আধ বোল।
ভাবে অবশ হইয়া হরি হরি বোলাইয়া           
আচণ্ডালে ধরি দেই কোল॥
গমন মন্থরগতি জিনি ময়মত্ত হাতী                
ভাবাবেশে ঢুলি ঢুলি যায়।
অরুণ বসনছবি জিনি প্রভাতের রবি              
গোরা অঙ্গে লহরী খেলায়॥
এহেন সম্পদ কালে গোরা না ভজিলুঁ                
হেলে তুয়া পদে না করিলুঁ আশ।
শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য ঠাকুর শ্রীনিত্যানন্দ                
গুণ গায় বৃন্দাবন দাস।

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর