কবি বৃন্দাবন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
কৈছে চরণে কর-পল্লব ঠেললি
ভণিতা বৃন্দাবন / গোবিন্দদাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা ১৫ম পল্লব,
কলহান্তরিতা, ৪৬৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥  তথা রাগ।

কৈছে চরণে কর-              পল্লব ঠেললি
মীললি মান-ভুজঙ্গে।
কবলে কবলে জিউ         জরি যব যায়ব
তবহিঁ দেখব ইহ রঙ্গে॥
মা গো কিয়ে ইহ জীদ্দ অপার।
কো অছু বীর                   ধীর মহাবল
পাঙরি উতারব পার॥ ধ্রু॥
শ্যামর ঝামর              মলিন নলিন-মুখ
ঝর ঝর নয়নক নীর।
পীতাম্বর গলে               পদহি লোটায়ল
হিয়া কৈছে বান্ধলি থির॥
সাধি সাধি ছরমি           ধরমি মহাবীকল
ঘন ঘন দীর্ঘ নিশাস।
মনমথ-দাহ-             দহনে মন ধসি গেও
রোখে চলল নিজ বাস॥
অবিরোধি  প্রেম-         পন্থ তুহুঁ রোধলি
দোষ-লেশ নাহি নাহ।
বৃন্দাবন কহ                নিষেধ না মানলি
হামারি ওরে নাহি চাহ॥

পাঠান্তর -
এই পদের প্রথম দুইটি কলির সহিত ঘনশ্যাম দাসের ৪৩৯ সংখ্যক পদের প্রথম দুইটি কলি অভিন্ন।

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত  “পদরসসার” পুথির ৬৫৭ ও ৬৮৪-
পদসংখ্যায়, গোবিন্দদাসের ভণিতায়, এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি।
সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥  তথা রাগ।

কৈছে চরণে কর-           পল্লব ঠেললি
মীললি মান-ভুজঙ্গে।
কবলে কবলে জিউ      জরি যব যায়ব
তবহিঁ দেখব ইহ রঙ্গে॥
মা গো কিয়ে ইহ জীদ্দ অপার।
কো অছু বীর                   ধীর মহাবল
পাঙরি উতারব পার॥ ধ্রু॥
শ্যামের ঝামর          মলিন মুখমণ্ডল
ঝর ঝর নয়নক নোর।
পীতাম্বর গলে           পদহি লোটায়ল
হিয়া কৈছে বান্ধলি থোর॥
সাধি সাধি ছরমি       ধরমি মহাবীকল
ঘন ঘন দীর্ঘ নিশাস।
মনমথ-দাহ-             দহনে মন ধসি গেও
রোখে চলল নিজ বাস॥
অভিরথ প্রেম-        পন্থ তুহুঁ রোধলি
দোষ-লেশ নাহি নাহ।
গোবিন্দ দাস মনে          নিষেধ না মানই
হামারি উরে নাহি চাহ॥

ই পদটি দীনবন্ধু দাস দ্বারা ১৭৭১ সালে সংকলিত এবং ১৯২৯ সালে অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ দ্বারা
সম্পাদিত ও মুদ্রিত পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত”, ১৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥  তথা রাগ।

কৈছে চরণে কর-            পল্লব ঠেললি
মীললি মান-ভুজঙ্গে।
কবলে কবলে জিউ         জরি যব যায়ব
তবহিঁ দেখবি ইহ রঙ্গে॥
আগো মা এ কিএ জিদ্দ অপার।
কো অছু বীর                   ধীর মহাবল
পয়ঁরি উতারই পার॥
শ্যামের ঝামর             মলিন নলিন-মুখ
ঝর ঝর লোচন-নীর।
পীতাম্বর গলে                পদহিঁ লোটাওল
হিয়া কৈছে বান্ধলি থীর॥
সাধি সাধি ছরমি         ঘরমি মহা আকুল
ঘন ঘন দীঘনিশাস।
মনমথ দাহ-          দহনে তনু ধসি গেও
রোখি চলল নিজ বাস॥
অবিরোধ প্রেম-         পন্থ কাহে রোধলি
দোষলেশ নাহিঁ নাহ।
বৃন্দাবন পুন                নিষেধহ মানিনি
হামারি ওরে কাহে চাহ॥

ই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির ২২।১৩-পদ-
সংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-
পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥  তথা রাগ।

কৈছে চরণে কর-              পল্লব ঠেললি
মীললি মান-ভুজঙ্গে।
কবলে কবলে জিউ          জরি যব যায়ব
তবহিঁ দেখব ইহ রঙ্গে॥
মা গো কিয়ে ইহ জীদ্দ অপার।
কো অছু বীর                   ধীর মহাবল
পাঙরি উতারব পার॥ ধ্রু॥
শ্যামর ঝামর               মলিন নলিন-মুখ
ঝর ঝর নয়নক নীর।
পীতাম্বর গলে                পদহি লোটায়ল
হিয়া কৈছে বান্ধলি থীর॥
সাধি সাধি ছরমি           ধরমি মহাবীকল
ঘন ঘন দীর্ঘ নিশাস।
হেরইতে দারুণ         দহনে মন ধসি গেও
রোখে চলল নিজ বাস॥
অবিরোধে  প্রেম-         পন্থ তুহুঁ রোন্ধলি
দোষ-লেশ নাহি নাহ।
বৃন্দাবন কহ               নিষেধ না মানলি
হামারি ওর নাহি চাহ॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪৯৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

কৈছে চরণে কর,             পল্লব ঠেললি,
মিললি মান-ভুজঙ্গে।
কবলে কবলে জিউ,        জরি যব যাওব,
তবহিঁ দেখব ইহ রঙ্গে॥
মাগো কিয়ে ইহ জীব অপার।
কো অছু বীর,                   ধীর মহাবল,
পাঙরি উতায়রে পার॥
শ্যামর ঝামর,              মলিন নলিন মুখ,
ঝরই নয়নক নীর।
পীতাম্বর গলে,                পদহি লোটায়ল,
হিয়া কৈছে বান্ধলি থির॥
সাধি সাধি ছরমি,           ধরমি মহাবিকল,
ঘন ঘন দীরঘ নিশ্বাস।
মনমথ-দাহ,-             দহনে মন ধসি গেও,
রোখে চললি নিজ-বাস॥
অবিরোধি প্রেম-           পন্থ তুহুঁ রোধলি,
দোষ-লেশ নাহি নাহ।
বৃন্দাবন কহ,              নিষেধ না মানলি,
হামারি জোরে নাহি চাহ॥

ই পদটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত, খগেন্দ্রনাথ মিত্র, সুকুমার সেন, বিশ্বপতি চৌধুরী ও শ্যামাপদ চৌধুরী
সম্পাদিত সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী (চয়ন)”, ৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কৈছে চরণে কর-           পল্লব ঠেললি
মিললি মান-ভুজঙ্গে।
কবলে কবলে জিউ      জরি যব যায়ব
তবহিঁ দেখব ইহ রঙ্গে॥
মা গো, কিয়ে ইহ জীদ অপার।
কো অছু বীর                 ধীর মহাবল
পাঙরী উতারব পার॥
শ্যামর ঝামর             মলিন নলিন-মুখ
ঝর ঝর নয়নক নীর।
পীতাম্বর গলে               পদহি লোটায়ল
হিয়া কৈছে বান্ধলি থির॥
সাধি সাধি ছরমি         ঘরমি মহা বিকল
ঘন ঘন দীঘ নিশাস।
মনমথ দাহ-           দহনে মন ধসি গেও
রোখে চলল নিজ বাস॥
অবিরোধি  প্রেম-          পন্থ তুহু রোধলি
দোষ-লেশ নাহি নাহ।
বৃন্দাবন কহ                নিষেধ না মানলি
হামারি ওরে নাহি চাহ॥

ই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত, দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদসঙ্কলন”, ১৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কৈছে চরণে কর-           পল্লব ঠেললি
মীললি মান-ভুজঙ্গে।
কবলে কবলে জিউ      জরি যব যায়ব
তবহিঁ দেখব ইহ রঙ্গে॥
মা গো কিয়ে ইহ জীদ অপার।
কো অছু বীর                ধীর মহাবল
পাঙরি উতারব পার॥
শ্যামর ঝামর            মলিন নলিন মুখ
ঝরঝর নয়নক নীর।
পীতাম্বর গলে             পদহি লোটায়ল
হিয়া কৈছে বান্ধলি থীর॥
সাধি সাধি ছরমে       ধরমি মহাবিকল
ঘন ঘন দীঘ নিশাস।
মনমথ-দাহ           দহনে মন ধসি গেও
রোখে চলল নিজ বাস॥
অবিরোধি  প্রেম        পন্থ তুহুঁ রোধলি
দোষ-লেশ নাহি নাহ।
বৃন্দাবন কহ                নিষেধ না মানলি
হামারি ওরে নাহি চাহ॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
প্রাত সহচরি সঙ্গহি বৈঠলি
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা ২০শ পল্লব,
”বিবিধ মান”, ৫৭৩-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

প্রাত সহচরি              সঙ্গহি বৈঠলি
মানিনি মন মাহা ভাবই।
শ্যাম-মুখ যহিঁ             পেখি পুন নাহি
সোই দেশ হাম যাবই॥
রভস পুন শুনি             শ্যাম গুণমণি
মনহিঁ মনহিঁ বিচারই।
পাঁজি করে লই             একলি নাগর
গণকি-রূপ ধরি ধাবই॥
রাই তহিঁ  হেরি         পুছই বেরি বেরি
দেশ ইহ কোন সো হই।
সোই কহে পুন              কানু বিহর ন
ভুবনে হেন নাহি হোয়ই॥
বাণি ইহ শুনি             রোখে পুন ধনি
পাঁজি তছু লেই ডারই।
শ্যাম নিরখই                 রোখ প্রকটই
অঙ্গ-বসন উঘাড়ই॥
রাই চমকিনি                হাসি মুচকিনি
দেই দেশিনি নাশই।
রায় রঘুপতি                বল্লভ সঙ্গতি
বৃন্দাবন দাস ভাষই॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

প্রাত সহচরী,              সঙ্গহি বঠলি, @
মানিনী মন ভাবই।
শ্যাম-মুখ যহিঁ,             পেখি পুন নাহি,
সোই দেশ হাম যাবই॥
রভস পুন শুনি,              শ্যাম গুণমণি,
মনহি বিচারই।
পাঁজি করে লই,              একলি নাগর,
গণককি রূপে ধাবই॥
রাই তহিঁ হেরি,          পুছই বেরি বেরি,
দেশ ইহ কো নয়া হই।
সোই কহে পুন,             কানু বিহর ন,
ভুবনে হেন না হোই॥
বাণী ইহ শুনি,              রোখে পুন ধনী,
পাঁজি তছু নেই ডারই।
শ্যাম নিরখই,                 রোখ প্রকটই,
অঙ্গ-বসন উঘাড়ই॥
রাই চমকিনী,                হাসি মুচকিনী,
সোই দেশক নাশই।
রায় রঘুপতি,                বল্লভ সঙ্গতি,
বৃন্দাবন দাস ভাষই॥

@ - বৈঠলি হবে। মুদ্রণ প্রমাদ অথবা আমাদের সংস্করণে অপাঠ্য বা সহজসাধ্য পাঠ নয়।

ই পদটি আনুমানিক ১৯২৫ সালে প্রকাশিত, মহাজন পদাবলী, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৪৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মানপ্রকরণন।
॥ গান্ধার - মধ্যম দশকুশী॥

প্রাত সহচরি                সঙ্গহি বৈঠল
মানিনি মন মাহা ভাবই।
শ্যাম মুখ যহিঁ            পেখি পুন নাহি
সোই দেশ হাম যাবই॥
রভস পুন শুনি              শ্যাম গুণমণি
মনহিঁ মনহিঁ বিচারই।
পাঁজি করে লই              একলি নাগর
গণকি রূপ ধরি ধাবই॥
রাই তহিঁ  হেরি         পুছই বেরি বেরি
দেশ ইহ কোন সো হই।
সোই কহে পুন              কানু বিহর ন
ভুবনে হেন নাহি হোয়ই॥
বাণি ইহ শুনি              রোখে পুন ধনি
পাঁজি তছু লেই ডারই।
শ্যাম নিরখই                 রোখ প্রকটই
অঙ্গ বসন উঘাড়ই॥
রাই চমকিনি               হাসি মুচকিনি
দেই দেশিনি নাশই।
রায় রঘুপতি-                বল্লভ সঙ্গতি
বৃন্দাবন দাস ভাষই ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৮৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (২) এর
পদ বলে উল্লেখ রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের গ্রহাচার্য্যবেশে মিলন
॥ গান্ধার॥

প্রাত সহচরি               সঙ্গিহি বৈঠল
মানিনি মন মাহা ভাবই।
শ্যাম মুখ যহিঁ            পেখি পুন নাহি
সোই দেশ হাম যাবই॥
রভস পুন শুনি              শ্যাম গুণমণি
মনহিঁ মনহিঁ বিচারই।
পাঁজি করে লই              একলি নাগর
গণকরূপ ধরি যাবই॥
রাই তহিঁ  হেরি         পুছই বেরি বেরি
দেশ ইহ কোন সো হই।
সোই কহে পুন               কানু বিহরন
ভুবনে হেন নাহি হোয়ই॥
বাণি ইহ শুনি               রোখে পুন ধনি
পাঁজি তছু লেই ডারই।
শ্যাম নিরখই                 রোখ প্রকটই
অঙ্গবসন উঘাড়ই॥
রাই চমকিনি               হাসি মুচকিনি
দেই রোখ বিনাশই।
রায় রঘুপতি                বল্লভ সঙ্গতি
বৃন্দাবন দাস ভাষই ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২৩৪-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

প্রাত সহচরি সঙ্গিহি বৈঠল                 
মানিনি মন মাহা ভাবই।
শ্যাম মুখ যহিঁ পেখি পুন নাহি              
সোই দেশ হাম যাবই॥
রভস পুন শুনি শ্যাম গুণমণি                
মনহিঁ মনহিঁ বিচারই।
পাঁজি করে লই একলি নাগর                
গণকরূপ ধরি যাবই॥
রাই তহিঁ  হেরি পুছই বেরি বেরি        
দেশ ইহ কোন সো হই।
সোই কহে পুন কানু বিহরন                
ভুবনে হেন নাহি হোয়ই॥
বাণি ইহ শুনি রোখে পুন ধনি                
পাঁজি তছু লেই ডারই।
শ্যাম নিরখই রোখ প্রকটই                  
অঙ্গবসন উঘাড়ই॥
রাই চমকিনি হাসি মুচকিনি                
দেই রোখ বিনাশই।
রায় রঘুপতি বল্লভ সঙ্গতি                
বৃন্দাবন দাস ভাষই ॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
রাঢ় মাঝে একচাকা নামে আছে গ্রাম
রাঢ় দেশে একচাকা নামে আছে গ্রাম
ভণিতাহীন পদ / বৃন্দাবনদাস
বৃন্দাবন দাস        
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড,
৩য় শাখা ১৭শ পল্লব,জন্মলীলা, ১১১৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তথাহি শ্রীচৈতন্য-ভাগবতে যথা।

রাঢ় মাঝে একচাকা নামে আছে গ্রাম।
তহিঁ অবতীর্ণ নিত্যানন্দ বলরাম॥
হাড়াই পণ্ডিত নাম শুদ্ধ বিপ্ররাজ।
মুলে সর্ব্ব পিতা তানে কৈল পিতা-ব্যাজ॥
মহা জয়জয়-ধ্বনি পুষ্প-বরিষণ।
সঙ্গোপে দেবতাগণ করিলা তখন॥
কৃপা-সিন্ধু ভক্তিদাতা শ্রীবৈষ্ণব-ধাম।
অবতীর্ণ হৈলা রাঢ়ে নিত্যানন্দ রাম॥
সেই দিন হৈতে রাঢ়-মণ্ডল সকল।
পুন পুন বাঢ়িতে লাগিল সুমঙ্গল॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১৬১৭-
পদসংখ্যায়, এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

রাঢ় দেশে একচাকা নামে আছে গ্রাম।
তাহে অবতীর্ণ নিত্যানন্দ বলরাম॥
হাড়াই পণ্ডিত নাম শুদ্ধ বিপ্ররাজ।
মুলে সর্ব্বপিতা ভানে কৈল পিতা ব্যাজ॥
মহা জয়জয়-ধ্বনি পুষ্প-বরিষণ।
সঙ্গোপে দেবতাগণ করিলা তখন॥
কৃপা-সিন্ধু ভক্তিদাতা শ্রীবৈষ্ণব-ধাম।
অবতীর্ণ হৈলা রাঢ়ে নিত্যানন্দ রাম॥
সেই দিন হৈতে রাঢ়-মণ্ডল সকল।
পুন পুন বাঢ়িতে লাগিল সুমঙ্গল॥
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ জান।
বৃন্দাবনদাস তছু পদ যুগ গান॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত,
মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন  “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ৬ষ্ঠ তরঙ্গ, ১ম
উচ্ছাস, ২৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

রাঢ় মাঝে একচাকা নামে আছে গ্রাম।
তহিঁ অবতীর্ণ নিত্যানন্দ বলরাম॥
হাড়াই পণ্ডিত নাম শুদ্ধ বিপ্ররাজ।
মুলে সর্ব্ব পিতা তানে কৈল পিতা-ব্যাজ॥
মহা জয় জয় ধ্বনি পুষ্প বরিষণ।
সঙ্গোপে দেবতাগণ করিলা তখন॥
কৃপা-সিন্ধু ভক্তিদাতা শ্রীবৈষ্ণব ধাম।
অবতীর্ণ হৈলা রাঢ়ে নিত্যানন্দ রাম॥
সেই দিন হৈতে রাঢ়-মণ্ডল সকল।
পুনঃ পুনঃ বাঢ়িতে লাগিল সুমঙ্গল॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব
পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীনিত্যানন্দ-জন্মলীলা।
॥ সুহই॥

রাঢ় মাঝে একচাকা নামে আছে গ্রাম।
তাহে অবতীর্ণ নিত্যানন্দ বলরাম॥
হারাই পণ্ডিত নাম শুদ্ধ বিপ্ররাজ।
মূলে সর্ব্বেপিতা ভানে কৈল পিতা ব্যাজ॥
মহা জয় জয় ধ্বনি পুষ্প বরিষণ।
সঙ্গোপে দেবতাগণ করিল তখন॥
কৃপাসিন্ধু ভক্তিদাতা শ্রীবৈষ্ণব ধাম।
অবতীর্ণ হইল রাঢ়ে নিত্যানন্দ রাম॥
সেই দিন হৈতে রাঢ়-মণ্ডল সকল।
পুনঃ পুনঃ বাঢ়িতে লাগিল সুমঙ্গল॥
শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ জান।
বৃন্দাবন দাস তছু পদযুগ গান॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন
দাস (১) এর পদ বলে উল্লেখ রয়েছে।

শ্রীনিত্যানন্দের আবির্ভাব

রাঢ় মাঝে একচাকা নামে আছে গ্রাম।
তহিঁ অবতীর্ণ নিত্যানন্দ বলরাম॥
হাড়াই পণ্ডিত নাম শুদ্ধ বিপ্ররাজ।
মুলে সর্ব্ব পিতা তানে কৈল পিতা-ব্যাজ॥
মহা জয়জয়ধ্বনি পুষ্পবরিষণ।
সঙ্গোপে দেবতাগণ করিলা তখন॥
কৃপাসিন্ধু ভক্তিদাতা শ্রীবৈষ্ণবধাম।
অবতীর্ণ হৈলা রাঢ়ে নিত্যানন্দ রাম॥
সেই দিন হইতে রাঢ়মণ্ডল সকল।
পুন পুন বাঢ়িতে লাগিল সুমঙ্গল॥ 

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২২৮-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

রাঢ় মাঝে একচাকা নামে আছে গ্রাম।
তহিঁ অবতীর্ণ নিত্যানন্দ বলরাম॥
হাড়াই পণ্ডিত নাম শুদ্ধ বিপ্ররাজ।
মুলে সর্ব পিতা তানে কৈল পিতা ব্যাজ॥
মহা জয়জয়ধ্বনি পুষ্পবরিষণ।
সঙ্গোপে দেবতাগণ করিলা তখন॥
কৃপাসিন্ধু ভক্তিদাতা শ্রীবৈষ্ণবধাম।
অবতীর্ণ হৈলা রাঢ়ে নিত্যানন্দ রাম॥
সেই দিন হইতে রাঢ়মণ্ডল সকল।
পুন পুন বাঢ়িতে লাগিল সুমঙ্গল॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
নদিয়া-উদয়-গিরি পূর্ণ-চন্দ্র গৌরহরি
ভণিতাহীন পদ
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ১৭শ পল্লব,জন্মলীলা,
১১২২-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। গ্রন্থের পদসূচীতে পদটি বৃন্দাবন দাসের নামে
উল্লেখ করা রয়েছে।

॥ কল্যাণী॥
নদীয়া-উদয়-গিরি          পূর্ণ-চন্দ্র গৌরহরি
কৃপা করি করিলা উদয়।
পাপ-তম হৈল নাশ           ত্রিজগতে উল্লাস
জগ ভরি হরি-ধ্বনি হয়॥
হেন কালে নিজালয়ে    উঠিয়া অদ্বৈত রায়ে
নৃত্য করে আনন্দিত মনে।
হরিদাস লৈয়া সঙ্গে         হুঙ্কার গর্জ্জন রঙ্গে
কেনে নাচে কেহো নাহি জানে॥
দেখি উপরাগ-রাশি      শীঘ্র গঙ্গাঘাটে আসি
আনন্দে করিল গঙ্গাস্নান।
পাঞা উপরাগ-ছলে       আপনার মনোবলে
ব্রাহ্মণেরে করে নানা দান॥
জগত আনন্দময়            দেখি মনে বিস্ময়
ঠারে-ঠোরে কহে হরিদাস।
তোমার ঐছন রঙ্গ             মোর মন পরসন্ন
বুঝি কিছু কাজে আছে ভাষ॥
আচার্য্য-রত্ন শ্রীবাস        হৈল মনে সুখোল্লাস
যাই স্নান করে গঙ্গাজলে।
আনন্দে বিহ্বল-মন          কৈল হরি-সঙ্কীর্ত্তন
নানা দান কৈল মনোবলে॥
এই মত ভক্ত তথি     যার যেই দেশে স্থিতি
তাহাঁ তাহাঁ পাই মনোবলে।
নাচে করে সঙ্কীর্ত্তন      আনন্দে বিভোল মন
দান করে গ্রহণের ছলে॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১৬২০-পদসংখ্যায়, এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো। এখানে পদের শেষার্ধ নেই।

॥ কল্যাণী॥
নদীয়া-উদয়-গিরি          পূর্ণ-চন্দ্র গৌরহরি
কৃপা করি করিলা উদয়।
পাপ-তম হৈল নাশ           ত্রিজগতে উল্লাস
জগ ভরি হরি-ধ্বনি হয়॥
সেই কালে নিজালয়    উঠিয়া অদ্বৈত রায়
নৃত্য করে আনন্দিত মনে।
হরিদাস লৈয়া সঙ্গে         হুঙ্কার গর্জ্জন রঙ্গে
কেনে নাচে কেহ নাহি জানে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ
সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২য় তরঙ্গ, ১ম উচ্ছাস, ৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে। এখানে পদটি, পাঠান্তর সহ “কৃষ্ণদাস” ভণিতায় দেওয়া রয়েছে।

॥ কল্যাণ॥
নদীয়া উদয়-গিরি                    পূর্ণচন্দ্র গৌরহরি
কৃপা করি হইলা উদয়।
পাপতম হৈল নাশ                     ত্রিজগতের উল্লাস
জগ ভরি হরিধ্বনি হয়॥
হেন কালে নিজালয়ে                 উঠিয়া অদ্বৈতরায়ে
নৃত্য করে আনন্দিত-মনে।
হরিদাসে লৈয়া সঙ্গে                 হুঙ্কার কীর্ত্তন রঙ্গে
কেনে নাচে কেহ নাহি জানে॥
দেখি উপরাগ শশী                 শীঘ্র গঙ্গাঘাটে আসি
আনন্দে করিল গঙ্গাস্নান।
পাঞা উপরাগ ছলে                   আপনার মনোবলে
ব্রাহ্মণেরে করে নানা দান॥
জগত আনন্দময়                       দেখি মনে বিস্ময়
ঠারে ঠোরে কহে হরিদাস।
তোমার ঐছন রঙ্গ                       মোর মন পরসন্ন
জানি কিছু কার্য্যে আছে ভাষ॥
আচার্য্যরত্ন শ্রীবাস                হৈল মনে সুখোল্লাস
যাই স্নান করে গঙ্গাজলে।
আনন্দে বিহ্বল মন                      কৈল হরিসঙ্কীর্ত্তন
নানা দান কৈল মনোবলে॥
ব্রাহ্মণ সজ্জন নারী                 নানা রত্নে থলি ভরি
আইল সবে যৌতুক লইঞা।
যেন কাঁচা সোনা জ্যোতি            দেখি বালকের মূর্ত্তি
আশীর্ব্বাদ করে সুখ পাঞা॥
সাবিত্রী গৌরী সরস্বতী                শচী রম্ভা অরুন্ধতী
আর যত দেবনারীগণ।
নানা দ্রব্যে পাত্র ভরি                 ব্রাহ্মণীর বেশ ধরি
আসি সবে করে দরশন॥
অন্তরীক্ষে দেবগণ                     গন্ধর্ব্ব ঋষি তারণ
স্তুতি নৃত্য করে বাদ্য গীত।
নর্ত্তক বাদক ভাট                     নবদ্বীপে যার নাট
আসি সব নাচে পাঞা প্রীত॥
কেবা আসে কেবা যায়           কেবা নাচে কেবা গায়
সম্ভারিতে নারি কারো বোল।
খণ্ডিলেক দুঃখ শোক                প্রমোদপূর্ণিত লোক
মিশ্র হৈলা আনন্দে বিহ্বোল॥
আচার্য্যরত্ন শ্রীবাস                    জগন্নাথ মিশ্র পাশ
আসি তারে করে সাবধান।
করাইল জাতকর্ম্ম                   যে আছিল বিধিধর্ম্ম
তবে মিশ্র করে নানা দান॥
যৌতুক পাইল যত                   ঘরে বা আছিল যত
সব ধন বিপ্রে কৈল দান।
যত নর্ত্তক গায়ন                      ভাট অকিঞ্চন জন
ধন দিয়া কৈল সবার মান॥
শ্রীবাসের ব্রাহ্মণী                       নাম তার মালিনী
আচার্য্যরত্নের পত্নী সঙ্গে।
সিন্দুর হরিদ্রা-জল                    খই কলা নানা ফল
দিয়া পূজে নারীগণ রঙ্গে॥
শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ                  আচার্য্য অদ্বৈতচন্দ্র
স্বরূপ রূপ রঘুনাথ দাস।
ইহা সবার শ্রীচরণ                   শিরে ধরি নিজ জন
জন্মলীলা গাইল কৃষ্ণ দাস॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
প্রকাশ হইলা গৌরচন্দ্র
ভণিতা বৃন্দাবন / বৃন্দাবনদাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৫৩৮ খৃষ্টাব্দে বৃন্দাবন দাস দ্বারা বিরচিত, অতুলকৃষ্ণ গোস্বামী দ্বারা
১৯১৫ খৃষ্টাব্দে সম্পাদিত ও মুদ্রিত “শ্রীচৈতন্যভাগবত”, আদিখণ্ড, ২য় অধ্যায়, ২৪-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥
(একপদী)

প্রকাশ হইলা গৌরচন্দ্র।
দশ দিগে উঠিল আনন্দ॥ ধ্রু॥
রূপ কোটি মদন জিনিঞা।
হাসে নিজ কীর্ত্তন শুনিয়া॥ ১॥
অতি সুমধুর মুখ আঁখি।
মহারাজ-চিহ্ন সব দেখি॥ ২॥
শ্রীচরণে ধ্বজ বজ্র শোভে।
সব-অঙ্গে জগ-মন লোভে॥ ৩॥
দূরে গেল সকল আপদ।
ব্যক্ত হইল সকল সম্পদ॥ ৪॥
শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ জান।
বৃন্দাবনদাস গুণ গান॥ ৫॥

ই পদটি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং
৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ,
৭৬৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পুনর্বসন্তঃ॥

প্রকাশ হইলা গৌরচন্দ্র। দশদিগে উঠিল আনন্দ॥ ধ্রু॥
রূপ কোটি মদন যিনিয়া। হাসে নিজ কীর্ত্তন করিয়া॥
অতি সুমধুর মুখ আঁখি। মহারাজ চিহ্ন সব দেখি॥ শ্রীচ-
রণে ধ্বজ বজ্র শোভে। সব অঙ্গ জগ-মন লোভে॥ দূরে গেল
সকল আপদ্। ব্যক্ত হইল সকল সম্পদ্॥ শ্রীচৈতন্যনিত্যা-
নন্দ জান। বৃন্দাবনদাস গুণ গান॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড,
৩য় শাখা ১৭শ পল্লব,জন্মলীলা, ১১২৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহিণী॥

প্রকাশ হইলা গৌরচন্দ্র।
দশ দিশে বাড়িল আনন্দ॥
রূপ কোটি মদন জিনিয়া।
হাসে নিজ-কীর্ত্তন করিয়া॥
অতি সুমধুর মুখ আঁখি।
মহারাজ-চিহ্ন সব দেখি॥
শ্রীচরণে ধ্বজ বজ্র শোহে।
সব অঙ্গে জগ-মন মোহে॥
দূরে গেল সকল আপদ।
ব্যক্ত হইল সকল সম্পদ॥
শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ জান।
বৃন্দাবন তছু পদে গান॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১৬২২-
পদসংখ্যায়, এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ সুহিণী॥

প্রকাশ হইলা গৌরচন্দ্র।
দশ দিগে বাঢ়ল আনন্দ॥
রূপ কোটি মদন জিনিয়া।
হাসে নিজ-কীর্ত্তন করিয়া॥
অতি সুমধুর মুখ আঁখি।
মহারাজ-চিহ্ন সব দেখি॥
শ্রীচরণে ধ্বজ বজ্র শোহে।
সব অঙ্গে জগ-মন মোহে॥
দূরে গেও সকল আপদ।
ব্যক্ত হইল সকল সম্পদ॥
শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ জান।
বৃন্দাবন তছু পদে গান॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত,
মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২য় তরঙ্গ,
১ম উচ্ছাস, ৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহিণী বা পঠমঞ্জরী॥        

প্রকাশ হইলা গৌরচন্দ্র। দশদিকে বাড়িল আনন্দ॥
রূপ কোটি মদন জিনিয়া। হাসে নিজ কীর্ত্তন করিয়া॥
অতি সুমধুর মুখ আঁখি। মহারাজচিহ্ন সব দেখি॥
শ্রীচরণে ধ্বজবজ্র শোহে। সব অঙ্গে জগ-মন মোহে॥
দূরে গেল সকল আপদ। ব্যক্ত হৈল সকল সম্পদ॥
শ্রীচৈতন্যনিত্যানন্দ জান। বৃন্দাবন তছু পদে গান॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহিণী॥

প্রকাশ হইলা গৌরচন্দ্র।
দশ দিগে বাঢ়ল আনন্দ॥
রূপ কোটি মদন জিনিয়া।
হাসে নিজ কীর্ত্তন করিয়া॥
অতি সুমধুর মুখ আঁখি।
মহারাজ-চিহ্ন সব দেখি॥
শ্রীচরণে ধ্বজ বজ্র শোহে।
সব অঙ্গে জগ-মন মোহে॥
দূরে গেল সকল আপদ।
ব্যক্ত হইল সকল সম্পদ॥
শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ জান।
বৃন্দাবন তছু পদে গান॥

ই পদটি আনুমানিক ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, মহাজন পদাবলী, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও
খগেন্দ্রনাথ মিত্রর “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীচৈতন্যদেবের জন্মলীলা
॥ সুহিনী - ছোট দুঠুকী॥

প্রকাশ হইলা গৌরচন্দ্র।
দশ দিগে বাড়িল আনন্দ॥
রূপ কোটী মদন জিনিয়া।
হাসে নিজ কীর্ত্তন শুনিয়া॥
অতি সুমধুর মুখ আঁখি।
মহারাজ-চিহ্ন সব দেখি॥
শ্রীচরণে ধ্বজ বজ্র শোহে।
সব অঙ্গে জগ-মন মোহে॥
দূরে গেল সকল আপদ।
ব্যক্ত হইল সকল সম্পদ॥
শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ জান।
বৃন্দাবন তছু পদে গান॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন
দাস (১) এর পদ বলে উল্লেখ রয়েছে।

জন্মলীলা

॥ সুহিণী বা পঠমঞ্জরী॥

প্রকাশ হইলা গৌরচন্দ্র।
দশদিকে বাড়িল আনন্দ॥
রূপ কোটি মদন জিনিয়া।
হাসে নিজ কীর্ত্তন শুনিয়া॥
অতি সুমধুর মুখ আঁখি।
মহারাজচিহ্ন সব দেখি॥
শ্রীচরণে ধ্বজবজ্র শোহে।
সব অঙ্গে জগমন মোহে॥
দূর গেল সকল আপদ।
ব্যক্ত হৈল সকল সম্পদ॥
শ্রীচৈতন্যনিত্যানন্দ জান।
বৃন্দাবন তছু পদে গান॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২২৭-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

প্রকাশ হইলা গৌরচন্দ্র।
দশদিকে বাড়িল আনন্দ॥
রূপ কোটি মদন জিনিয়া।
হাসে নিজ কীর্ত্তন শুনিয়া॥
অতি সুমধুর মুখ আঁখি।
মহারাজচিহ্ন সব দেখি॥
শ্রীচরণে ধ্বজবজ্র শোহে।
সব অঙ্গে জগমন মোহে॥
দূর গেল সকল আপদ।
ব্যক্ত হৈল সকল সম্পদ॥
শ্রীচৈতন্যনিত্যানন্দ জান।
বৃন্দাবন তছু পদে গান॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
চৈতন্য-অবতার শুনিয়া দেবগণ
শ্রীচৈতন্য অবতার শুনি লোক নদিয়ার
চৈতন্য অবতার শুনি লোক নদিয়ার
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৫৬০ খৃষ্টাব্দ নাগাদ, বৃন্দাবন দাস বিরচিত এবং১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১খৃষ্টাব্দ)
রাধানাথ কাবাশীদ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত"শ্রীশ্রীচৈতন্য-ভাগবত" গ্রন্থ, আদি খণ্ড, ২য় অধ্যায়, ১৮-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ নট মঙ্গল ॥

চৈতন্য-অবতার,                  শুনিয়া দেবগণ,
উঠিল পরম মঙ্গল রে।
সকল-তাপ-হর,                  শ্রীমুখ-চন্দ্র দেখি,
আনন্দে হইলা বিহ্বল রে॥
অনন্ত ব্রহ্মা শিব,           আদি করি যত দেব,
সবেই নর-রূপ ধরি রে।
গায়েন হরি হরি,                  গ্রহণ ছল করি,
লখিতে কেহো নাহি পারি রে॥
দশ দিকে ধায়,                    লোক নদীয়ায়,
বলিয়া উচ্চ হরি হরি রে।
মানুষ দেবে মেলি,         এক ঠাঁই করে কেলি,
আনন্দে নবদ্বীপ পূরি রে॥
শচীর অঙ্গনে,                      সকল দেবগণে,
প্রণাম হইয়া পড়িলা রে।
গ্রহণ-অন্ধকারে,             লখিতে কেহো নারে,
দুর্জ্ঞেয় চৈতন্য-খেলা রে॥
কেহো পড়ে স্তুতি,             কারো হাতে ছাতি,
কেহো চামর ঢুলায় রে।
পরম হরিষে,                 কেহো পুষ্প বরিষে,
আনন্দে নাচে গায় রে॥
সব ভক্ত সঙ্গে করি,             আইলা গৌরহরি,
পাষণ্ডী কিছুই না জান রে।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য,                    প্রভু নিত্যানন্দ,
বৃন্দাবন দাস রস গান রে॥

ই ভণিতাহীন পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র
রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ১৭শ পল্লব,
জন্মলীলা, ১১২৫-পদসংখ্যায় বৃন্দাবন দাসেরই। পদটি চৈতন্য ভাগবতের আসল পদটি থেকে, ২০০ বছরের
সময়কালের অন্তরে, অনেকটাই পরিবর্তিত রূপে এখানে রয়েছে।

॥ জয়জয়ন্তী॥

শ্রীচৈতন্য অবতার                শুনি লোক নদিয়ার
উঠিল পরম মঙ্গল রে।
সকল-তাপ-হর                           শ্রীমুখ সুন্দর
দেখিয়া হইল বিভোর রে॥
অনন্ত ব্রহ্মা শিব                      আদি যত দেব
সভ্যই নর-রূপ-ধারী রে।
গায়েন হরি হরি                      গ্রহণ ছল করি
লখিতে কেহো নাহি পারি রে॥
কেহো করে স্তুতি                 কারো হাতে ছাতি
কেহো চামর ঢুলায় রে।
পরম হরিষে                     কেহো পুষ্প বরিষে
কেহো নাচে কেহো গায় বায় রে॥
দশ দিগে ধায়                         লোক নদিয়ায়
করিয়া উচ্চ হরি-ধ্বনি রে।
মানুষ দেবে মেলি             এক ঠাঞি করে কেলি
আনন্দে নবদ্বীপপুরী রে॥
শচীর অঙ্গনে                         সকল গেবগণে
প্রণত হইয়া পড়িল রে।
গ্রহণ-অন্ধকারে                 লখিতে কেহো নারে
দুর্জ্ঞেয় চৈতন্যের খেলা রে॥
সকল শক্তি সঙ্গ                       আইলা গৌরাঙ্গ
পাষণ্ডী কেহো নাহি জানে রে।
রাহু ধরল ইন্দু                      প্রকাশে নাম-সিন্ধু
কলি-মর্দ্দন বান্ধে বানা রে॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১৬২৩-পদসংখ্যায়, এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ জয়জয়ন্তী॥

শ্রীচৈতন্য অবতার               শুনি লোক নদিয়ার
উঠিল পরম মঙ্গল রে।
সকল-তাপ-হর                           শ্রীমুখ সুন্দর
দেখিয়া হইল বিভোর রে॥
অনন্ত ব্রহ্মা শিব                      আদি করি দেব
সভ্যই নর-রূপ-ধারী রে।
গায়েন হরি হরি                    গ্রহণের ছল করি
লখিতে কেহো নাহি পারি রে॥
কেহো করে স্তুতি                 কারো হাতে ছাতি
কেহো চামর ঢুলায় রে।
পরম হরিষে                     কেহো পুষ্প বরিষে
কেহো নাচে কেহো গায় বায় রে॥
দশ দিগে ধায়                         লোক নদিয়ায়
করিয়া উচ্চ হরি-ধ্বনি রে।
মানুষ দেবে মেলি                 একত্র করে কেলি
আনন্দে নবদ্বীপপুরী রে॥
শচীর অঙ্গনে                          সকল গেবগণে
প্রণত হইয়া পড়িল রে।
গ্রহণ-অন্ধকারে                 লখিতে কেহো নারে
দুর্জ্ঞেয় চৈতন্য খেলা রে॥
সকল শক্তি সঙ্গ                       আইলা গৌরাঙ্গ
পাষণ্ডী কেহো নাহি জানে রে।
রাহু ধরল ইন্দু                      প্রকাশে নাম-সিন্ধু
কলি-মর্দ্দন বানা রে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ
সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২য় তরঙ্গ, ১ম উচ্ছ্বাস, ৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল, নটরাগ বা জয়জয়ন্তী॥

চৈতন্য অবতার               শুনি লোক নদীয়ার
সকল উঠিল পরম-মঙ্গল রে।
সকল তাপহর                      শ্রীমুখচন্দ্র দেখি
আনন্দে হইল বিহ্বল রে॥
অনন্ত ব্রহ্মা শিব             আদি করি যত দেব
সবেই নররূপ ধরি রে।
গায়েন হরি হরি                      গ্রহণ ছল করি
লখিতে কেহ নাহি পারি রে॥
কেহ করে স্তুতি                 কারো হাতে ছাতি
কেহ চামর ঢুলায় রে।
পরম হরিষে                     কেহ পুষ্প বরিষে
কেহ আনন্দে নাচে গায় রে॥
দশ দিকে ধায়                      লোক নদীয়ার
বলিয়া উচ্চ হরি হরি রে।
মানুষ দেবে মিলি            এক ঠাঁই করে কেলি
আনন্দে নবদ্বীপ-পুরী রে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ জয়জয়ন্তী॥

শ্রীচৈতন্য অবতার,               শুনি লোক নদীয়ার,
উঠিল পরম মঙ্গল রে।
সকল-তাপ-হর,                        শ্রীমুখ সুন্দর,
দেখিয়া হইল বিভোর রে॥
অনন্ত ব্রহ্মা শিব,                    আদি যত দেব,
সভ্যই নর-রূপ ধরিল রে।
গায়েন হরি হরি,                     গ্রহণ ছল করি,
লখিতে কেহ নাহি পারি রে॥
কেহ করে স্তুতি,                   কার হাতে ছাতি,
কেহ চামর ঢুলায় রে।
পরম হরিষে,                    কেহো পুষ্প বরিষে,
কেহ নাচে কেহ গায় বায় রে॥
দশ দিগে ধায়,                         লোক নদীয়ায়,
করিয়া উচ্চ হরি-ধ্বনি রে।
মানুষ দেবে মিলি,              এক ঠাঁই করে কেলি,
আনন্দে নবদ্বীপ পুরী রে॥
শচীর অঙ্গনে,                         সকল গেবগণে,
প্রণত হইয়া পড়িল রে।
গ্রহণ-অন্ধকারে,                   লখিতে কেহ নারে,
দুর্জ্ঞেয় চৈতন্য-খেলা রে॥
সকল শক্তি সঙ্গ,                       আইলা গৌরাঙ্গ,
পাষণ্ডী কেহো নাহি জানে রে।
রাহু-অধর ইন্দু,                      প্রকাশে নাম-সিন্ধু,
কলি-মর্দ্দন বাণ রে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
দুন্দুভি ডিণ্ডিম মঙ্গল জয় ধ্বনি
দুন্দুভি ডিণ্ডিমি মহুরী জয়-ধ্বনি
দুন্দুভি ডিণ্ডিম বহুরি জয়ধ্বনি
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৫৩৮ খৃষ্টাব্দে বৃন্দাবন দাস দ্বারা বিরচিত, অতুলকৃষ্ণ গোস্বামী দ্বারা ১৯১৫ খৃষ্টাব্দে
সম্পাদিত ও মুদ্রিত “শ্রীচৈতন্যভাগবত”, আদিখণ্ড, ২য় অধ্যায়, ২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল [ পঞ্চম রাগ ]॥

দুন্দুভি ডিণ্ডিম,                  মঙ্গল জয় ধ্বনি,
গায় মধুর রসাল রে।
বেদের অগোচর,              আজু ভেটব,
বিলম্বে নাহি কাজ রে॥ ধ্রু॥
আনন্দে ইন্দ্রপুর,                 মঙ্গল-কোলাহল,
সাজ, সাজ বলি সাজ রে।
বহু পুণ্য-ভাগ্যে,                     চৈতন্য পরকাশ,
পাওল নবদ্বীপ মাঝ রে॥ ১॥
অন্যোহন্যে আলিঙ্গন,               চুম্বন ঘনে ঘন,
লাজ কেহো নাহি মান রে।
নদিয়া-পুরন্দর,---                     জনম-উল্লাসে,
আপন  পর নাহি জানি রে॥ ২॥

[ গৌরাঙ্গ সুন্দর ]
ঐছন কৌতুকে,                আইলা নবদ্বীপে,
চৌদিগে শুনি হরিনাম রে।
পাইয়া গোরা-রস,             বিহ্বোল-পরবশ,
চৈতন্য জয়জয় গান রে॥ ৩॥
দেখিল শচী-গৃহে,            গৌরাঙ্গ সুন্দরে,
একত্র যৈছে কোটী চান্দ রে।
মানুষ-রূপ ধরি,                 গ্রহণ-ছল করি,
বোলয়ে উচ্চ হরিনাম রে॥ ৪॥
সকল-শক্তি-সঙ্গে,                আইলা গৌরচন্দ্র,
পাষণ্ডী কিছুই না জান রে।
শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ,                চান্দ প্রভু জান,
বৃন্দাবন-দাস রস গান রে॥ ৫॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ১৭শ পল্লব,জন্মলীলা,
১১২৬-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

দুন্দুভি ডিণ্ডিমি                  মহুরী জয়-ধ্বনি
গাওয়ে মধুর বিষাণ রে।
বেদের অগোচর                ভেটিব গৌরবর
বিলম্বে নাহি আর কাজ রে॥
আনন্দে ইন্দ্রপুর                 মঙ্গল-কোলাহল
সাজ সাজ বলি সাজ রে।
বহু পুণ্যভাগে                     চৈতন্য প্রকাশে
পাওল নবদ্বীপ মাঝ রে॥
অন্যোন্যে আলিঙ্গন               চুম্বন ঘনে ঘন
লাজ কেহো নাহি মানে রে।
নদিয়া-পুরবাসী                     জনম-উল্লাসী
আপন  পর নাহি জানি রে॥
ঐছন কৌতুকে                দেবতা নবদ্বীপে
আওল শুনি হরি-নাম রে।
পাইয়া গৌর-রসে             বিভোর পরবশে
চৈতন্য জয় জয় গান রে।
দেখিলা শচী-গৃহে            গৌরাঙ্গ পরকাশে
একত্রে কত কোটি চান্দ রে॥
মানুষ রূপ ধরি                 গ্রহণ-ছল করি
বোলয়ে উচ্চ হরি-নাম রে॥
সকল শক্তি সঙ্গে                আইলা গৌরাঙ্গে
পাষণ্ডী কেহো নাহি জানে রে।
শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ  অদ্বৈত আদি ভক্ত-বৃন্দ
বৃন্দাবনদাস গুণ গান রে॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১৬২৪-পদসংখ্যায়, এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তথা রাগ॥

দুন্দুভি ডিণ্ডিমি                  মহুরি জয়-ধ্বনি
গাওয়ে মধুর বিষাল রে।
বেদের অগোচর                 ভেটিব গৌরবর
বিলম্বে নাহি আর কাজ রে॥
আনন্দ ইন্দ্রপুর                 মঙ্গল-কোলাহল
সাজ সাজ বলি সাজ রে।
বহু পুণ্যভাষে                     চৈতন্য প্রকাশে
পাওল নবদ্বীপ মাঝ রে॥
অনন্যে আলিঙ্গন                   চুম্বন ঘনে ঘন
লাজ কেহো নাহি মানে রে।
নদিয়া-পুরবাসী                     জনম-উল্লাসী
আপন  পর নাহি জানি রে॥
ঐছন কৌতুক                   দেবতা নবদ্বীপে
আওল শুনি হরি-নাম রে।
পাইয়া গৌর-রসে               বিভোর পরবশে
চৈতন্য জয় জয় গান রে।
দেখিলা শচী-গৃহে               গৌরাঙ্গ পরকাশে
একত্রে কত কোটি চান্দ রে॥
মানুষ রূপ ধরি                    গ্রহণ-ছল করি
বোলয়ে উচ্চ হরি-নাম রে॥
সকল শক্তি সঙ্গে                আইলা গৌরাঙ্গে
পাষণ্ডী কেহো নাহি জানে রে।
শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ      অদ্বৈত আদি ভক্ত-বৃন্দ
বৃন্দাবনদাস গুণ গান রে॥

ই পদটি, দেবীপ্রসন্ন রায়চৌধুরী সম্পাদিত “নব্যভারত” পত্রিকার শ্রাবণ ১৩০০ সংখ্যার (১৮৯৩) “বঙ্গের
বৈষ্ণব কবি”-র অন্তর্গত, হারাধন দত্ত রচিত “অবতার এবং ভক্ত প্রকরণম্” প্রবন্ধের, ২১৫- পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে। পদটি হারাধন দত্ত মহাশয় তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা পদসমুদ্র গ্রন্থের ২২৩৪ সংখ্যক
পদ বলে উল্লেখ করেছেন। দুর্ভাগ্যবশত এই পদসমুদ্র গ্রন্থটি তিনি, জনসমক্ষে আনেন নি এবং সর্বজনের
জন্য প্রকাশনার চেষ্টাও করেন নি।

শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর জন্মোত্সব।

দুন্দুভি ডিণ্ডিম, বহুরি জয়ধ্বনি, গাওয়ে মধুর বিশাল রে।
বেদ অগোচর, ভেটিয়া গৌরবর, বিলম্বে নাহি আর কাজ রে॥
হরষে ইন্দ্রপুর, আনন্দে কোলাহল, সাজ সাজ বলি সাজ রে।
বহুপুণ্যে শ্রীচৈতন্য প্রকাশিল আওল নবদ্বীপ মাঝেরে॥
অন্যোন্যে আলিঙ্গন, চুম্বন ঘনে ঘন, লাজ কেহ নাহি মানে রে।
নদিয়াপুরবাসী, জনমে উল্লাসি, আপন পর নাহি জানরে॥
ঐছন কৌতুক, দেবতা নবদ্বীপে, আওল শুনি হরিনামরে।
পাইয়া গৌররসে, বিভোর পরবশে, চৈতন্য জয়জয় গান রে।
দেখিলা শচীগৃহে, গৌরাঙ্গ পরকাশে, একত্রে যৈছি কত চাঁদরে॥
মানুষ রূপধরি, গ্রহণ ছলকরি, বোলয়ে উচ্চ হরিনামরে॥
সকল শক্তি সঙ্গে, আইলা গৌরাঙ্গে, পাষণ্ডি কেহ নাহি জানরে।
শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ, অদ্বৈত আদি ভক্তবৃন্দ, বৃন্দাবন দাস গুণগানরে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

দুন্দুভি ডিণ্ডিম,                  মহুরী জয় ধ্বনি,
গাওয়ে মধুর বিষাণ রে।
বেদের অগোচর,               ভেটিবা গৌরীবর,
বিলম্বে নাহি আর কাজ রে॥
আনন্দে ইন্দ্রপুর,                 মঙ্গল-কোলাহল,
সাজ সাজ বলি সাজ রে।
বহু পুণ্যভাগ্যে,                     চৈতন্য প্রকাশ,
পাওল নবদ্বীপ মাঝারে॥
অন্যোন্যে আলিঙ্গন,               চুম্বন ঘনে ঘন,
লাজ কেহ নাহি মানে রে।
নদীয়া-পুরবাসী,                     জনম-@@@,
আপন  পর নাহি জানে রে॥
ঐছন কৌতুক,                  দেবতা নবদ্বীপে,
আওল শুনি হরি-নাম রে।
পাইয়া গৌর-রসে,              বিভোর পরবশে,
চৈতন্য জয় জয় গান রে।
দেখিলা শচী-গৃহে,             গৌরাঙ্গ পরকাশে,
একত্রে যৈছে কত কোটি চান্দ রে॥
মানুষ-রূপ ধরি,                   গ্রহণ ছল করি,
বোলয়ে উচ্চ হরি-নাম রে॥
সকল শক্তি সঙ্গে,                আইলা গৌরাঙ্গে,
পাষণ্ডী কেহ নাহি জানে রে।
শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ,      অদ্বৈত আদি ভক্ত-বৃন্দ,
বৃন্দাবনদাস গুণ গান রে॥

@ - অপাঠ্য অক্ষর।

ই পদটি আনুমানিক ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, মহাজন পদাবলী, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীচৈতন্যদেবের জন্মলীলা
॥ মঙ্গল রাগ - ধামালী॥

দুন্দুভি ডিণ্ডিম,                  মহুরী জয়ধ্বনি,
গাওয়ে মধুর বিষাণ রে।
বেদের অগোচর,              ভেটিব গৌরীবর,
বিলম্বে নাহি আর কাজ রে॥
আনন্দে ইন্দ্রপুর,                 মঙ্গল কোলাহল,
সাজ সাজ বলি সাজ রে।
বহু পুণ্য ভাগ্যে,                  চৈতন্য প্রকাশে,
পাওল নবদ্বীপ মাঝে রে॥
অন্যোন্যে আলিঙ্গন,               চুম্বন ঘনে ঘন,
লাজ কেহ নাহি মানে রে।
নদীয়া পুরবাসী,                     জনম-উল্লাসী,
আপন পর নাহি জানে রে॥
ঐছন কৌতুকে,                দেবতা নবদ্বীপে,
আওল শুনি হরিনাম রে।
পাইয়া গৌর-রসে,               বিভোর পরবশে,
চৈতন্য জয় জয় গান রে।
দেখিলা শচী গৃহে,              গৌরাঙ্গ পরকাশে,
একত্রে যৈছে কত কোটী চান্দ রে॥
মানুষ রূপ ধরি,                 গ্রহণ ছল করি,
বোলয়ে উচ্চ হরিনাম রে॥
সকল শক্তি সঙ্গে,                আইলা গৌরাঙ্গে,
পাষণ্ডী কেহ নাহি জানে রে।
শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ,      অদ্বৈত আদি ভক্তবৃন্দ,
বৃন্দাবন দাস গুণ গান রে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
নাচেরে নাচেরে নিতাই গৌর দ্বিজমণিয়া
নাচে নাচে নিতাই গৌর দ্বিজমনিয়া
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ২৭শ পল্লব,বাসন্তী রাস-লীলা
প্রকারান্তর, ১৫১৩-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য-শ্রীনিত্যানন্দ-শ্রীঅদ্বৈতচন্দ্র।
বসন্ত-সময়োচিত-গীতং।
বাসন্তী-রাসলীলা প্রকারান্তরং যথা।
তদুচিতশ্রীশ্রীমহাপ্রভু।
॥ তুড়ী॥

নাচেরে নাচেরে নিতাই গৌর দ্বিজমণিয়া।
বামে প্রিয় গদাধর             শ্রীবাস অদ্বৈত বর
পারিষদ তারাগণ জিনিয়া॥ ধ্রু॥
বাজে খোল করতাল         মধুর-সংগীত ভাল
গগন ভরিল হরি-ধ্বনিয়া।
চন্দন-চর্চ্চিত গায়        ফাগু বিন্দু বিন্দু তায়
বন-মালা দোলে ভালে বনিয়া॥
গলে শুভ্র উপবীত         রূপ কোটি কাম জিত
চরণে নূপুর রণরণিয়া।
দুই ভাই নাচিয়া যায়              সহচরগণ গায়
গদাধর-অঙ্গে পড়ে ঢুলিয়া॥
পুরুব রভস-লীলা             এবে পহু প্রকাশিলা
সেই বৃন্দাবন এই নদিয়া।
বিহরে গঙ্গার তীরে              সেই ধীর সমীরে
বৃন্দাবনদাস কহে জানিয়া॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২০৬১-পদসংখ্যায়, এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তুড়ী॥

নাচেরে নাচেরে নিতাই গৌর দ্বিজমণিয়া।
বামে প্রিয় গদাধর             শ্রীবাস অদ্বৈত বর
পারিষদ তারাগণ জিনিয়া॥ ধ্রু॥
বাজে খোল করতাল             মধুরস গীত ভাল
গগন ভরিল হরি-ধ্বনিয়া।
চন্দন-চর্চ্চিত গায়           ফাগু বিন্দু বিন্দু তায়
বন-মালা দোলে ভালে বনিয়া॥
ভাল শোভে উপবীত       রূপ কোটি কাম জিত
চরণে নূপুর রণরণিয়া।
দুই ভাই নাচিয়া যায়              সহচরগণ গায়
গদাধর-অঙ্গে পড়ে ঢুলিয়া॥
পুরুব রভস-লীলা             এবে পহু প্রকাশিলা
সেই বৃন্দাবন এই নদিয়া।
বিহরে গঙ্গার তীরে              সেই ধীর সমীরে
বৃন্দাবনদাস কহে জানিয়া॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ
সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ৫ম তরঙ্গ, ১ম উচ্ছাস, ২১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

নাচে নাচে নিতাই গৌর দ্বিজমনিয়া।
বামে প্রিয় গদাধর             শ্রীবাস অদ্বৈতবর
পারিষদ তারাগণ জিনিয়া॥ ধ্রু॥
বাজে খোল করতাল         মধুর সঙ্গীত ভাল
গগন ভরিল হরিধ্বনিয়া।
চন্দন চর্চ্চিত গায়,        ফাগু বিন্দু বিন্দু তায়
বনমালা দোলে ভাল বলিয়া॥
ভাল শুভ্র উপবীত         রূপ কোটি কাম জিত
চরণে নূপুর রণরণিয়া।
দুই ভাই নাচি যায়              সহচরগণ গায়
গদাধর অঙ্গে পড়ে ঢুলিয়া॥
পুরুব রভসলীলা             এবে পহুঁ প্রকাশিলা
সেই বৃন্দাবন এই নদিয়া।
বিহরে গঙ্গাতীরে              সেই ধীর সমীরে
বৃন্দাবনদাস কহে জানিয়া॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪৯২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

নাচে নাচে নিতাই গৌর দ্বিজমণিয়া।
বামে প্রিয় গদাধর,            শ্রীবাস অদ্বৈত বর,
পারিষদ তারাগণ জিনিয়া॥
বাজে খোল করতাল,         মধুর সংগীত ভাল,
গগন ভরিল হরি-ধ্বনিয়া।
চন্দন-চর্চ্চিত গায়,        ফাগু বিন্দু বিন্দু তায়,
বন-মালা দোলে ভালে বনিয়া॥
গলে শুভ্র উপবীত,         রূপ কোটি কামজিত,
চরণে নূপুর রণরণিয়া।
দুই ভাই নাচিয়া যায়,            সহচরগণ গায়,
গদাধর আনন্দে পড়ে ঢুলিয়া॥
পুরুব রভস-লীলা,           এবে পহু প্রকাশিলা,
সেই বৃন্দাবন এই নদিয়া।
বিহরে গঙ্গার তীরে,            সেই ধীর সমীরে,
বৃন্দাবনদাস কহে জানিয়া॥

ই পদটি আনুমানিক ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, মহাজন পদাবলী, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বাসন্তী রাসলীলা
হোলির রাস।
॥ বসন্ত রাগ - বড় দশকুশী॥

নাচে নাচে নিতাই গৌর দ্বিজমণিয়া।
বামে প্রিয় গদাধর,             শ্রীবাস অদ্বৈতবর,
পারিষদ তারাগণ জিনিয়া॥
বাজে খোল করতাল,         মধুর সংগীত ভাল,
গগন ভরিল হরি ধ্বনিয়া।
চন্দনে চর্চ্চিত গায়,        ফাগুবিন্দু শোভে তায়,
বনমালা দোলে ভালে বনিয়া॥
কান্ধে শুভ্র উপবীত,         রূপে কোটি কাম জিত,
চরণে নূপুর রণ রণিয়া।
দুই ভাই নাচিয়া যায়,              পারিষদগণ গায়,
গদাধর অঙ্গে পড়ে ঢুলিয়া॥
পুরব রভস লীলা,             এবে গোরা প্রকাশিলা,
সেই বৃন্দাবন এই নদিয়া।
বিহরে গঙ্গার তীরে,              সেই ধীর সমীরে,
বৃন্দাবন দাস কহে জানিয়া॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ বলে
উল্লেখ রয়েছে।

বাসন্তী রাসলীলা
॥ তুড়ী॥

নাচে নাচে নিতাই গৌর দ্বিজমনিয়া।
বামে প্রিয় গদাধর             শ্রীবাস অদ্বৈতবর
পারিষদ তারাগণ জিনিয়া॥ ধ্রু॥
বাজে খোল করতাল         মধুর সঙ্গীত ভাল
গগন ভরিল হরিধ্বনিয়া।
চন্দন চর্চ্চিত গায়        ফাগু বিন্দু বিন্দু তায়
বনমালা দোলে ভালে বনিয়া॥
গলে শুভ্র উপবীত         রূপ কোটি কামজিত
চরণে নূপুর রণরণিয়া।
দুই ভাই নাচি যায়              সহচরগণ গায়
গদাধর অঙ্গে পড়ে ঢুলিয়া॥
পূরুব রভসলীলা             এবে পহুঁ প্রকাশিলা
সেই বৃন্দাবন এই নদিয়া।
বিহরে গঙ্গার তীরে              সেই ধীর সমীরে
বৃন্দাবন দাস কহে জানিয়া॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২৩৩-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

নাচে নাচে নিতাই গৌর দ্বিজমনিয়া।                
বামে প্রিয় গদাধর শ্রীবাস অদ্বৈতবর                
পারিষদ তারাগণ জিনিয়া॥
বাজে খোল করতাল মধুর সঙ্গীত ভাল                
গগন ভরিল হরিধ্বনিয়া।
চন্দন চর্চ্চিত গায় ফাগু বিন্দু বিন্দু তায়             
বনমালা দোলে ভালে বনিয়া॥
গলে শুভ্র উপবীত রূপ কোটি কামজিত             
চরণে নূপুর রণরণিয়া।
দুই ভাই নাচি যায় সহচরগণ গায়                   
গদাধর অঙ্গে পড়ে ঢুলিয়া॥
পূরুব রভসলীলা এবে পহুঁ প্রকাশিলা                
সেই বৃন্দাবন এই নদিয়া।
বিহরে গঙ্গার তীরে সেই ধীর সমীরে                
বৃন্দাবন দাস কহে জানিয়া॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
গৌরাঙ্গ সুন্দর নাচে
ভণিতা বৃন্দাবনদাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ২৭শ পল্লব,বাসন্তী রাস-লীলা
প্রকারান্তর, ১৫১৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কল্যাণী॥

গৌরাঙ্গ সুন্দর নাচে।
শিব বিরিঞ্চির                 অগোচর প্রেম
বিভোর হইয়া যাচে॥ ধ্রু॥
রসের আবেশে                   অঙ্গ ঢর ঢর
চলিতে আল্যায়া পড়ে।
সোণার বরণ                     নুনীর পুতলী
ভূমে গড়াগড়ি বুলে॥
শুনিয়া পুরুব                    আপন বৈভব
বৃন্দাবন-রস-লীলা।
কীর্ত্তন-আবেশে                প্রেম-সিন্ধু মাঝে
ডুবিলা শচীর বালা।
হেন অবতারে                   যে জন বঞ্চিত
তারে করু কৃপা-লেশে।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য               ঠাকুর শ্রীনিত্যানন্দ
গুণ গায় বৃন্দাবনদাসে॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২০৬২-পদসংখ্যায়, এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ কল্যাণী॥

গৌরাঙ্গ সুন্দর নাচে।
শিব বিরিঞ্চির                 অগোচর প্রেম
বিভোর হইয়া যাচে॥ ধ্রু॥
রসের আবেশে                  অঙ্গ ঢর ঢর
চলিতে আউলায়া পড়ে।
সোণার বরণ                     নুনীর পুতলী
ভূমে গড়াগড়ি বুলে॥
শুনিয়া পুরুব                    নিজহি বৈভব
বৃন্দাবন-রস-লীলা।
কীর্ত্তন-আবেশে                প্রেম-সিন্ধু মাঝে
ডুবিলা শচীর বালা।
হেন অবতারে                  যে জন বঞ্চিত
তারে করু কৃপা-লেশে।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য              ঠাকুর শ্রীনিত্যানন্দ
গায় বৃন্দাবনদাসে॥

ই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির ১৩।৩১-পদ
সংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-
পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ বিভাষ॥

গৌরাঙ্গ সুন্দর নাচে।
শিব বিরিঞ্চির                 অগোচর প্রেম
বিভোর হইয়া যাচে॥ ধ্রু॥
ভাবের আবেশে                  অঙ্গ গদগদ
চলিতে আলুঞা পড়ে।
সোণার বরণ                     নুনীর পুতলী
ভূমে গড়াগড়ি বুলে॥
পুরুবে যে কিছু                 আপন বৈভব
বৃন্দাবন-রস-লীলা।
কীর্ত্তন-আনন্দে                প্রেম-সিন্ধু মাঝে
ডুবিলা শচীর বালা।
হেন অবতারে                 যে যো বঞ্চিত
তারে কৃপা কর নাথ।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য             ঠাকুর শ্রীনিত্যানন্দ
গুণ গায় বৃন্দাবনদাসে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ
সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ৫ম তরঙ্গ, ১ম উচ্ছাস, ২১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ কল্যাণী॥

গৌরাঙ্গ সুন্দর নাচে।
শিব বিরিঞ্চির অগোচর প্রেমধন, ভাবে বিভোর হইয়া যাচে॥ ধ্রু॥
রসের আবেশে, অঙ্গ ঢর ঢর চলিতে আলাঞা পড়ে।
সোনার বরণ, ননীর পুতলী, ভূমে গড়াগড়ি বুলে॥
শুনিয়া পূরব, নিজ বৈভব, বৃন্দাবনরসলীলা।
কীর্ত্তন-আবেশে, প্রেমসিন্ধু মাঝে, ডুবিলা শচীর বালা।
হেন অবতারে, যে জন বঞ্চিত, তারে করু কৃপালেশে।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য, ঠাকুর শ্রীনিত্যানন্দ, গুণ গায় বৃন্দাবন দাসে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪৯২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কল্যাণী॥

গৌরাঙ্গ সুন্দর নাচে।
শিব বিরিঞ্চির,            অগোচর প্রেম-ধন,
ভাবে বিভোর হৈয়া যাচে॥
রসের আবেশে,                  অঙ্গ ঢর ঢর,
চলিতে আলাঞা পড়ে।
সোণার বরণ,                     ননীর পুতলী,
ভূমে গড়াগড়ি বুলে॥
শুনিয়া পূরুব,                      নিজ বৈভব,
বৃন্দাবন-রস-লীলা।
কীর্ত্তন-আবেশে,                প্রেম-সিন্ধু-মাঝে,
ডুবিলা শচীর বালা।
হেন অবতারে,                   যে জন বঞ্চিত,
তারে করু কৃপা লেশে।
@@@@@                    ঠাকুর শ্রীনিত্যানন্দ,
গুণ গায় বৃন্দাবনদাসে॥

@ - অপাঠ্য অক্ষর।

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ বলে
উল্লেখ রয়েছে।

॥ কল্যাণী ॥

গৌরাঙ্গসুন্দর নাচে।
শিব বিরিঞ্চির              অগোচর প্রেমধন
ভাবে বিভোর হৈয়া যাচে॥ ধ্রু॥
রসের আবেশে                   অঙ্গ ঢর ঢর
চলিতে আলায়া পড়ে।
সোনার বরণ                     ননীর পুতলী
ভূমে গড়াগড়ি বুলে॥
শুনিয়া পূরুব                      নিজ বৈভব
বৃন্দাবন-রসলীলা।
কীর্ত্তন-আবেশে                প্রেমসিন্ধু মাঝে
ডুবিলা শচীর বালা।
হেন অবতারে                  যে জন বঞ্চিত
তারে করু কৃপালেশে।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য                ঠাকুর নিত্যানন্দ
গুণ গায় বৃন্দাবন দাসে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২৩১-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

গৌরাঙ্গসুন্দর নাচে।                                
শিব বিরিঞ্চির অগোচর প্রেমধন                   
ভাবে বিভোর হৈয়া যাচে॥
রসের আবেশে অঙ্গ ঢর ঢর                        
চলিতে আলায়া পড়ে।
সোনার বরণ ননীর পুতলী                          
ভূমে গড়াগড়ি বুলে॥
শুনিয়া পূরুব নিজ বৈভব                            
বৃন্দাবন রসলীলা।
কীর্ত্তন আবেশে প্রেমসিন্ধু মাঝে                     
ডুবিলা শচীর বালা।
হেন অবতারে যে জন বঞ্চিত                        
তারে করু কৃপালেশে।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য ঠাকুর নিত্যানন্দ                       
গুণ গায় বৃন্দাবন দাসে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
অপরূপ নিতাইচাঁদের অভিষেকে
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ৩১শ পল্লব, অভিষেক-লীলা,
১৫৭৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ নিত্যানন্দচন্দ্রস্যাভিষেকঃ।
॥ মঙ্গল॥

অপরূপ নিতাইচাঁদের অভিষেকে।
বামে গদাধর দাস        মনে বড় সুখোল্লাস
প্রিয় পারিষদগণ দেখে॥
শত ঘট জল ভরি       পঞ্চগব্য আদি করি
নিতাইচাঁদের শিরে ঢালে।
চৌদিগে রমণীগণ           জজকার ঘন বন
আর সভে হরি হরি বোলে॥
বাম পাশে গৌরীদাস      হেরই দক্ষিণ পাশ
আবেশে নাচয়ে উদ্ধারণ।
বাসু আদি তিন ভাই     আনন্দ মঙ্গল গাই
ধনঞ্জয় মৃদঙ্গ বায়ন॥
ঘন হরি হরি বোল    গগনে উঠিছে রোল
প্রেমার সকল লোক ভাসে।
সঙরি পরমানন্দ         ঠাকুর শ্রীনিত্যানন্দ
গুণ গায় বৃন্দাবন দাসে॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২১৪৭-পদসংখ্যায়, এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ মঙ্গল॥

অপরূপ নিতাইচাঁদের অভিষেকে।
বামে গদাধর দাস        মনে বড় সুখোল্লাস
প্রিয় পারিষদগণ দেখে॥
শত ঘট জল ভরি       পঞ্চগব্য আদি করি
নিতাইচাঁদের শিরে ঢালে।
চৌদিগে রমণীগণ           জজোকার ঘন বন
আর সভে হরি হরি বোলে॥
বামে হেরি গৌরীদাস      হেরই দক্ষিণ পাশ
আবেশে নাচয়ে উদ্ধারণ।
বাসু আদি তিন ভাই     আনন্দে মঙ্গল গাই
ধনঞ্জয় মৃদঙ্গ বায়ন॥
ঘন হরি হরি বোল    গগনে উঠিছে রোল
প্রেমার সকল লোক ভাসে।
সঙরি পরমানন্দ         ঠাকুর শ্রীনিত্যানন্দ
গুণ গায় বৃন্দাবন দাসে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪৯৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

অপরূপ নিতাইচাঁদের অভিষেকে।
বামে গদাধর দাস,        মনে বড় সুখোল্লাস,
প্রিয় পারিষদগণ দেখে॥
শত ঘট জল ভরি,       পঞ্চগব্য আদি করি,
নিতাই-চাঁদের শিরে ঢালে।
চৌদিগে রমণীগণ,           জজকার ঘন ঘন,
আর সভে হরি হরি বোলে॥
বাম পাশে গৌরীদাস,      হেরই দক্ষিণ পাশ,
আবেশে নাচয়ে উদ্ধারণ।
বাসু আদি তিন ভাই,     আনন্দ মঙ্গল গাই,
ধনঞ্জয় মৃদঙ্গ বায়ন॥
ঘন হরি হরি বোল,    গগনে উঠিছে রোল,
প্রেমায় সকল লোক ভাসে।
সঙরি পরমানন্দ,         ঠাকুর নিত্যানন্দ
গুণ গায় বৃন্দাবন দাসে॥

ই পদটি আনুমানিক ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, মহাজন পদাবলী, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীনিত্যানন্দের অভিষেক
॥ মায়ূর - দশকুশী॥

অপরূপ নিতাই চান্দের অভিষেকে।
বামে গদাধর দাস        মনে বড় সুখোল্লাস
প্রিয় পারিষদগণ দেখে॥
শত ঘট জল ভরি       পঞ্চ গব্য আদি করি
নিতাই চান্দের শিরে ঢালে।
চৌদিগে রমণিগণ           জজ-কার ঘনে ঘন
আর সবে হরি হরি বোলে॥
বাম পাশে গৌরী দাস      হেরই দক্ষিণ পাশ
আবেশে নাচয়ে উদ্ধারণ।
বাসু আদি তিন ভাই১     আনন্দে মঙ্গল গাই
ধনঞ্জয় মৃদঙ্গ-বায়ন॥
ঘন হরি হরি বোল    গগনে উঠিছে রোল
প্রেমায় সকল লোক ভাসে।
সঙরি পরমানন্দ         ঠাকুর শ্রীনিত্যানন্দ
গুণ গায় বৃন্দাবন দাসে॥

টীকা -
১। বাসুদেব, মাধব ও গোবিন্দ তিন ভ্রাতা ছিলেন।
গোবিন্দ মাধব বাসুদেব তিন ভাই।
যা সভার কীর্ত্তনে নাচে চৈতন্য নিতাই॥
.                ---চৈতন্যচরিতামৃত---আদি।
---খগেন্দ্রনাথ মিত্র, “শ্রীপদামৃতমাধুরী”॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৭৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ বলে
উল্লেখ রয়েছে।

শ্রীনিত্যানন্দের অভিষেক
॥ মঙ্গল॥

অপরূপ নিতাইচাঁদের অভিষেকে।
বামে গদাধর দাস        মনে বড় সুখোল্লাস
প্রিয় পারিষদগণ দেখে॥
শত ঘট জল ভরি       পঞ্চগব্য আদি করি
নিতাইচাঁদের শিরে ঢালে।
চৌদিগে রমণীগণ           জজকার ঘন বন
আর সভে হরি হরি বোলে॥
বাম পাশে গৌরীদাস      হেরই দক্ষিণ পাশ
আবেশে নাচয়ে উদ্ধারণ।
বাসু আদি তিন ভাই     আনন্দ মঙ্গল গাই
ধনঞ্জয় মৃদঙ্গ বায়ন॥
ঘন হরি হরি বোল    গগনে উঠিছে রোল
প্রেমার সকল লোক ভাসে।
সঙরি পরমানন্দ         ঠাকুর শ্রীনিত্যানন্দ
গুণ গায় বৃন্দাবন দাসে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২২২-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

অপরূপ নিতাইচাঁদের অভিষেকে।                
বামে গদাধর দাস মনে বড় সুখোল্লাস                
প্রিয় পারিষদগণ দেখে॥
শত ঘট জল ভরি পঞ্চগব্য আদি করি                
নিতাইচাঁদের শিরে ঢালে।
চৌদিগে রমণীগণ জজকার ঘন বন                
আর সভে হরি হরি বোলে॥
বাম পাশে গৌরীদাস হেরই দক্ষিণ পাশ                
আবেশে নাচয়ে উদ্ধারণ।
বাসু আদি তিন ভাই আনন্দ মঙ্গল গাই                
ধনঞ্জয় মৃদঙ্গ বায়ন॥
ঘন হরি হরি বোল গগনে উঠিছে রোল                
প্রেমায় সকল লোক ভাসে।
সঙরি পরমানন্দ ঠাকুর শ্রীনিত্যানন্দ                
গুণ গায় বৃন্দাবন দাসে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর