| কবি বৃন্দাবন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| বিনোদ বন্ধানে নাচে শচীনন্দনে বিনোদ বন্ধনে নাচে শচীনন্দনে বৃন্দাবন দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা ১৭শ পল্লব,শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি লীলা, ২০৯৩-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটিনিমানন্দ দাসের পদরসসার সংকলনে ২২০২ সংখ্যক পদে কোনও পাঠান্তর ছাড়াই রয়েছে। ॥ মঙ্গল গুর্জ্জরী॥ ধরা একতাল বিনোদ বন্ধানে নাচে শচীনন্দনে চৌদিকে রূপ পরকাশ। বামে রহু পণ্ডিত প্রিয় গদাধর দক্ষিণে নরহরি দাস॥ গৌরাঙ্গ-অঙ্গেতে কনয়া কদম্ব জনু ঐছন পুলকের আভা। আনন্দে বিভোল ঠাকুর নিত্যানন্দ দেখিয়া গৌরাঙ্গের শোভা॥ যাহার অনুভব সেই সে সমুঝই কহনে না যায় পরকাশ। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য ঠাকুর শ্রীনিত্যানন্দ গুণ গায় বৃন্দাবন দাস॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ৪র্থ তরঙ্গ, ২য় উচ্ছাস, ১৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মঙ্গল গুর্জ্জরী - ধরা একতাল॥ বিনোদ বন্ধনে নাচে শচীনন্দনে চৌদিকে রূপ পরকাশ। বামে রহু পণ্ডিত প্রিয় গদাধর দক্ষিণে নরহরি দাস॥ গৌরাঙ্গ-অঙ্গেতে কনয়া কদম্ব জনু ঐছন পুলকের আভা। আনন্দে বিভোল ঠাকুর নিত্যানন্দ দেখিয়া গৌরাঙ্গের শোভা॥ যাহার অনুভব সেই সে সমুঝই কহনে না যায় পরকাশ। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য ঠাকুর শ্রীনিত্যানন্দ গুণ গান বৃন্দাবন দাস॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মঙ্গল গুর্জ্জরী॥ বিনোদ বন্ধনে, নাচে শচীনন্দনে, চৌদিকে রূপ পরকাশ। বামে রহুঁ পণ্ডিত, প্রিয় গদাধর, দক্ষিণে নরহরি দাস॥ গৌরাঙ্গ-অঙ্গেতে, কনয়া কদম্ব জনু, ঐছন পুলকের আভা। আনন্দে বিভোল, ঠাকুর নিত্যানন্দ, দেখিয়া গৌরাঙ্গের শোভা॥ যাহার অনুভব, সেই সে সমুঝই, কহনে না যায় পরকাশ। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য, ঠাকুর শ্রীনিত্যানন্দ, গুণ গায় বৃন্দাবন দাস॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| জানু লম্বিত বাহু যুগল ভণিতা বৃন্দাবনদাস কবি বৃন্দাবন দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা ১৮শ পল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের রূপ প্রভৃতি, ২১৪৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তুড়ী॥ জানু-লম্বিত বাহু-যুগল কনক-পুতলী দেহা। অরুণ অম্বর শোভিত কলেবর উপমা দেয়ব কাহাঁ॥ হাস-বিমল বয়ান-কমল পীন হৃদয় সাজে। উন্নত গীম সিংহ জিনিয়া উদার বিগ্রহ রাজে॥ চরণ-নখর উজোর শশধর কনয়া-মঞ্জরী শোহে। হেরি দিনমণি আপনা নিছয়ে রূপে জগ-মন মোহে॥ কলিযুগে অবতার চৈতন্য নিতাই পাপ পাষণ্ড নাহি মানে। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য ঠাকুর নিত্যানন্দ বৃন্দাবন দাস গুণ গানে॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২২৫৪-পদসংখ্যায়, এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ তুড়ী॥ জানু-লম্বিত বাহু-যুগল কনক-পুতলী দেহা। অরুণ অম্বর শোভিত কলেবর উপমা দেয়ব কাহাঁ॥ হাস-বিমল বয়ান-কমল পীন হৃদয় সাজে। উন্নত গীম সিংহ জিনিয়া উদার বিগ্রহ রাজে॥ চরণ-নখর উজোর শশধর কনয়া-মঞ্জরী শোহে। হেরি দিনমণি আপনা নিছনি রূপে জগ-মন মোহে॥ কলিযুগে অবতার চৈতন্য নিতাই পাপ পাষণ্ড নাহি মানে। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য ঠাকুর নিত্যানন্দ বৃন্দাবন দাস গুণ গানে॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ৩য় তরঙ্গ, ১ম উচ্ছাস, ৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তুড়ী॥ জানুলম্বিত বাহুযুগল কনকপুতলি দেহা। অরুণ অম্বর-শোভিত কলেবর উপমা দেয়ব কাঁহা॥ হাস বিমল, বয়ান কমল, পীন হৃদয় সাজে। উন্নত গীম সিংহ জিনিয়া উদার বিগ্রহ রাজে॥ চরণ-নখর উজোর শশধর কনয়া মঞ্জরী শোহে। হেরি দিনমণি আপনা নিছয়ে রূপে জগ-মন মোহে॥ কলিযুগ-অবতার চৈতন্য-নিতাই, পাপী পাষণ্ডী নাহি মানে। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য ঠাকুর নিত্যানন্দ বৃন্দাবনদাস গুণ গানে॥ এই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত মহাজন পদাবলী, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ৪৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পুনশ্চ অভিসার। শ্রীগৌরচন্দ্র ॥ তুড়ি - একতালা॥ জানু লম্বিত বাহু যুগল কনক পুতলি দেহা। অরুণ অম্বর শোভিত কলেবর উপমা দেওব কাঁহা॥ হাস বিমল বয়ান কমল পীন হৃদয় সাজে। উন্নত গীম সিংহ জিনিয়া উদার বিগ্রহ রাজে॥ চরণ নখর উজোর শশধর কনয়া মঞ্জরী শোহে। হেরিয়া দিনমণি আপনা নিছয়ে রূপে জগমন মোহে॥ কলি যুগ অবতার চৈতন্য নিতাই পাপী পাষণ্ডী নাহি মানে। শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য ঠাকুর নিত্যানন্দ বৃন্দাবনদাস গুণ গানে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ বলে উল্লেখ রয়েছে। শ্রীগৌরাঙ্গের রূপ ॥ তুড়ী॥ জানুলম্বিত বাহু যুগল কনকপুতলী দেহা। অরুণ অম্বর শোভিত কলেবর উপমা দেয়ব কাহাঁ॥ হাসবিমল বয়ান কমল পীন হৃদয় সাজে। উন্নত গীম সিংহ জিনিয়া উদার বিগ্রহ রাজে॥ চরণ নখর উজোর শশধর কনয়া মঞ্জরী শোহে। হেরি দিনমণি আপনা নিছয়ে রূপে জগমন মোহে॥ কলিযুগের অবতার চৈতন্য নিতাই পাপ পাষণ্ড নাহি মানে। শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য ঠাকুর নিত্যানন্দ বৃন্দাবন দাস গুণ গানে॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২২৫-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে। জানুলম্বিত বাহু যুগল কনকপুতলী দেহা। অরুণ অম্বর শোভিত কলেবর উপমা দেয়ব কাহাঁ॥ হাসবিমল বয়ান কমল পীন হৃদয় সাজে। উন্নত গীম সিংহ জিনিয়া উদার বিগ্রহ রাজে॥ চরণ নখর উজোর শশধর কনয়া মঞ্জরী শোহে। হেরি দিনমণি আপনা নিছয়ে রূপে জগমন মোহে॥ কলিযুগের অবতার চৈতন্য নিতাই পাপ পাষণ্ড নাহি মানে। শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য ঠাকুর নিত্যানন্দ বৃন্দাবন দাস গুণ গানে॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| গৌর-গোবিন্দ-গুণ শুন হে রসিক জন ভণিতা বৃন্দাবন কবি বৃন্দাবন দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা ২০শ পল্লব, শ্রীগৌরচন্দ্র--প্রকারান্তর, ২১৮৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ গৌর-গোবিন্দ-গুণ শুন হে রসিক জন বিষ্ণু-মহাবিষ্ণু-পর পহু। যার পদ-নখ-দ্যুতি পরমব্রহ্মের স্থিতি সুর-মুনিগণের প্রাণ তহু॥ অন্তরে বরণ ভিন বাহিরে গৌর-চিন শ্রীরাধার অঙ্গ-কান্তি রাজে। শতদল কমল হেন কর্ণিকার মাঝে যেন বিহরই চারি দ্বারী সাজে॥ গোলোকে বৈকুন্ঠ আর শ্বেতদ্বীপ নাম সার আনন্দ-আনন্দ এক নাম। বাসুদেব সঙ্কর্ষণে প্রদ্যুম্নানিরুদ্ধ সনে চারি দিগে সাজে চারি ধাম॥ ক্ষীরোদ-সায়র-জলে ভুজঙ্গ-রাজের কোলে যোগ-নিদ্রা অবলম্বি লীলা। তেহোঁ সব অবতরি শ্বেত-দ্বীপ অধিকারী অনন্ত নিত্যানন্দ-খেলা॥ সহস্র মুকুট সনে সহস্র সহস্র কাণে লুলিয়া লুলিয়া পড়ে মুখে। সৃজি দুই জিহ্বায় গৌরচন্দ্র-গুণ গায় পাদ-পদ্ম মহালক্ষ্মী-বুকে॥ দশশত ফণি-মণি মুকুটের সাজনি শ্বেত-অঙ্গে ধরে নানা জ্যোতি। কত কত পারিষদে সনক-সনন্দানন্দে দেব ঋষিগণে করে স্তুতি॥ যার এক লোম-কূপে কতেক ব্রহ্মাণ্ডেশ্বরে নানা মতে সৃজে সব প্রজা। রাম আদি অবতার অংশে পরকাশ যার সে সব ব্রহ্মাণ্ডের যোহো রাজা। এ হেন অনন্ত লীলা মায়ায় কত সৃজিলা শ্রীরাধিকার কটাক্ষ-বাণ-তূণে॥ ব্রহ্মাণ্ড উপরি ধাম শ্রীবৃন্দাবন নাম গুণ-গান করে বৃন্দাবনে॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২২৯৫-পদসংখ্যায়, এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ ধানশী॥ গৌর-গোবিন্দ-গুণ শুন হে রসিক জন বিষ্ণু-মহাবিষ্ণু-পর পহু। যার পদ-নখ-দ্যুতি পরমব্রহ্মের স্থিতি সুর-মুনিগণের প্রাণ পহু॥ অন্তরে বরণ ভিন বাহিরে গৌর-চিন শ্রীরাধার অঙ্গ-কান্তি রাজে। শতদল কমল হেন কর্ণিকার মাঝে যেন বিহরই চারি দ্বার সাজে॥ গোলোকে বৈকুন্ঠ আর শ্বেতদ্বীপ নাম সার আনন্দ-আনন্দ এক নাম। বাসুদেব সঙ্কর্ষণে প্রদ্যুম্নানিরুদ্ধ সনে চারি দিগে সাজে চারি ধাম॥ ক্ষীরোদ-সায়র-জলে ভুজঙ্গ-রাজের কোলে যোগ-নিদ্রা অবলম্বি লীলা। তেহোঁ সব অবতরি শ্বেত-দ্বীপ অধিকারী অনন্ত নিত্যানন্দ-খেলা॥ সহস্র মুকুট সনে সহস্র সহস্র কাণে লুলিয়া লুলিয়া পড়ে মুখে। সৃজি দুই জিহ্বায় গৌরচন্দ্র-গুণ গায় পাদ-পদ্ম মহালক্ষ্মী-বুকে॥ দশশত ফণি-মণি মুকুটের সাজনি শ্বেত-অঙ্গে ধরে নানা জ্যোতি। কত কত পারিষদে সনক-সনন্দানন্দে দেব ঋষিগণে করে স্তুতি॥ যার এক লোম-কূপে শতেক ব্রহ্মাণ্ডরূপে নানা মতে সৃজে সব প্রজা। রাম আদি অবতার অংশে পরকাশ যার সে সব ব্রহ্মাণ্ডের যোহো রাজা। এ হেন অনন্ত লীলা মায়ায় কত সৃজিলা শ্রীরাধিকার কটাক্ষ-বাণ-তূণে॥ ব্রহ্মাণ্ড উপরি ধাম শ্রীবৃন্দাবন নাম গুণ-গান করে বৃন্দাবনে॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১ম তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছাস, ২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ গৌর-গোবিন্দগণ শুন হে রসিক জন বিষ্ণু মহাবিষ্ণু পর পহুঁ। যার পদনখদ্যুতি পরম ব্রহ্মের স্থিতি সুর মুনি প্রাণের গণ তুহুঁ॥ অন্তরে বরণ ভিন্ন বাহিরে গৌরাঙ্গ চিহ্ন শ্রীরাধার অঙ্গ-কান্তি রাজে। শতদল কমল হেমকর্ণিকার মাঝে বিহরই চারি দ্বারী সাজে॥ গোলোক বৈকুন্ঠ আর শ্বেতদ্বীপ নামে সার আনন্দ অপার এক নাম। বাসুদেব সঙ্কর্ষণে প্রদ্যুম্নানিরুদ্ধ সনে চারি দিকে সাজে চারি ধাম॥ ক্ষীরোদসাগরজলে ভুজঙ্গরাজের কোলে যোগনিদ্রা অবলম্বিত লীলা। তাহে সব অবতরি শ্বেতদ্বীপ অধিকারী অনন্ত নিত্যানন্দ পেলা॥ সহস্র সহস্র কাণে লোলিয়া লোলিয়া পড়ে মুখে। সৃজি দুই জিহ্বায় গৌরচন্দ্র-গুণ গায় পাদপদ্ম মহালক্ষ্মী বুকে॥ ধ্রু॥ দশশত ফণি মণি মুকুটের সাজনি শ্বেত অঙ্গে ধরে নানা জ্যোতি। কত কত পারিষদ সনক সনাতনানন্দে দেব ঋষিগণে করে স্তুতি॥ যাঁর এক লোমকূপে কতেক ব্রহ্মস্বরূপে নানামতে সৃজে সব প্রজা। রাম আদি অবতার অংশে পরকাশ যাঁর সে সব ব্রহ্মাণ্ডের যেঁহো রাজা। এ হেন অনন্ত লীলা মায়ায় কত সৃজিলা শ্রীরাধার কটাক্ষবাণ তূণে॥ ব্রহ্মাণ্ড উপরি ধাম শ্রীবৃন্দাবন নাম গুণগান করে বৃন্দাবনে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ বলে উল্লেখ রয়েছে। শ্রীগৌরাঙ্গের ঐশ্বর্য্যবর্ণন ॥ ধানশী॥ গৌর গোবিন্দগুণ শুন হে রসিক জন বিষ্ণুমহাবিষ্ণুপর পহু। যার পদনখদ্যুতি পরম ব্রহ্মের স্থিতি সুরমুনি গণের প্রাণ তহুঁ॥ অন্তরে বরণ ভিন্ন বাহিরে গৌরাঙ্গ চিহ্ন শ্রীরাধার অঙ্গকান্তি রাজে। শতদল কমল হেমকর্ণিকার মাঝে বিহরই চারি দ্বারী সাজে॥ গোলোকে বৈকুন্ঠ আর শ্বেতদ্বীপ নামে সার আনন্দ অপার এক নাম। বাসুদেব সঙ্কর্ষণে প্রদ্যুম্নানিরুদ্ধ সনে চারি দিগে সাজে চারি ধাম॥ ক্ষীরোদসাগরজলে ভুজঙ্গরাজের কোলে যোগনিদ্রা অবলম্বি লীলা। তাহে সব অবতরি শ্বেতদ্বীপ অধিকারী অনন্ত নিত্যানন্দ খেলা॥ সহস্র মুকুট সনে সহস্র সহস্র ফণা লুলিয়া লুলিয়া পড়ে সুখে। প্রতিফণে দ্বিজিহ্বায় গৌরচন্দ্র গুণ গায় পাদপদ্ম মহালক্ষ্মী বুকে॥ ধ্রু॥ দশশত ফণিমণি মুকুটের সাজনি শ্বেত অঙ্গে ধরে নানা জ্যোতি। কত কত পারিষদে সনক সনতনানন্দে দেব ঋষিগণে করে স্তুতি॥ যাঁর এক লোমকূপে কতেক ব্রহ্মস্বরূপে নামেতে সৃজে সব প্রজা। রাম আদি অবতার অংশে পরকাশ যাঁর সে সব ব্রহ্মাণ্ডের যেঁহো রাজা। এ হেন অনন্তলীলা মায়ায় কত সৃজিলা শ্রীরাধার কটাক্ষবাণ তূণে॥ ব্রহ্মাণ্ড উপরি ধাম শ্রীবৃন্দাবন নাম গুণগান করে বৃন্দাবনে॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৩১-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে। গৌর গোবিন্দগুণ শুন হে রসিক জন বিষ্ণুমহাবিষ্ণুপর পহু। যার পদনখদ্যুতি পরম ব্রহ্মের স্থিতি সুরমুনি গণের প্রাণ তঁহুঁ॥ অন্তরে বরণ ভিন্ন বাহিরে গৌরাঙ্গ চিহ্ন শ্রীরাধার অঙ্গকান্তি রাজে। শতদল কমল হেমকর্ণিকার মাঝে বিহরই চারি দ্বারী সাজে॥ গোলোকে বৈকুন্ঠ আর শ্বেতদ্বীপ নামে সার আনন্দ অপার এক নাম। বাসুদেব সঙ্কর্ষণে প্রদ্যুম্নানিরুদ্ধ সনে চারি দিগে সাজে চারি ধাম॥ ক্ষীরোদসাগরজলে ভুজঙ্গরাজের কোলে যোগনিদ্রা অবলম্বি লীলা। তাহে সব অবতরি শ্বেতদ্বীপ অধিকারী অনন্ত নিত্যানন্দ খেলা॥ সহস্র মুকুট সনে সহস্র সহস্র ফণা লুলিয়া লুলিয়া পড়ে সুখে। প্রতিফণে দ্বিজিহ্বায় গৌরচন্দ্র গুণ গায় পাদপদ্ম মহালক্ষ্মী বুকে॥ দশশত ফণিমণি মুকুটের সাজনি শ্বেত অঙ্গে ধরে নানা জ্যোতি। কত কত পারিষদে সনক সনতনানন্দে দেব ঋষিগণে করে স্তুতি॥ যাঁর এক লোমকূপে কতেক ব্রহ্মস্বরূপে নামেতে সৃজে সব প্রজা। রাম আদি অবতার অংশে পরকাশ যাঁর সে সব ব্রহ্মাণ্ডের যেঁহো রাজা। এ হেন অনন্তলীলা মায়ায় কত সৃজিলা শ্রীরাধার কটাক্ষবাণ তূণে॥ ব্রহ্মাণ্ড উপরি ধাম শ্রীবৃন্দাবন নাম গুণগান করে বৃন্দাবনে॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ক্ষীরনিধি-জল মাঝে আছিলা শয়নে শেজে ভণিতা বৃন্দাবন দাস কবি বৃন্দাবন দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা ২০শ পল্লব, শ্রীগৌরচন্দ্র---প্রকারান্তর, ২১৯০-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাষ॥ ক্ষীরনিধি-জল মাঝে আছিলা শয়নে শেজে নিত্যানন্দ গদাধর সঙ্গে। অদ্বৈত পিরিতি-রসে আইলা কীর্ত্তন-বাসে হরি-ভক্তি বিলাইতে রঙ্গে॥ অবতরি রঘু-কুলে সিন্ধু বান্ধি গিরি-মূলে দশ-কন্ধ করিলা সংহার। বধিলা রাক্ষস-কুলে আপনার বাহু-বলে শ্রীরাম লক্ষ্মণ অবতার॥ যদু-সিংহ-অবতারে গোকুল মথুরাপুরে যত যত করিলা বিহার। মোহিয়া গোপীর মন বিলাইয়া প্রেম-ধন কানাই বলাই অবতার॥ লব-যুগ অবশেষে কলি যুগে পরবেশে ধন্য ধন্য নবদ্বীপ স্থান। জয় জয় মঙ্গল-ধ্বনি ত্রিভুবন ভরি শুনি করিবারে পতিতের ত্রাণ॥ যুগে যুগে অবতার হরিতে ক্ষিতির ভার পাপ পাষণ্ডী নাহি মানে। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য ঠাকুর নিত্যানন্দ বৃন্দাবন দাস গুণ-গানে॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২২৯৮-পদসংখ্যায়, এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ বিভাষ॥ ক্ষীরনিধি-জল মাঝে আছিলা শয়নে শেজে নিত্যানন্দ গদাধর সঙ্গে। অদ্বৈত পিরিতি-রসে আইলা কীর্ত্তন-বাসে হরি-ভক্তি বিলাইতে রঙ্গে॥ অবতরি রঘু-কুলে সিন্ধু বান্ধি গিরি-মূলে দশ-কন্ধ করিলা সংহার। বধিলা রাক্ষস-কুলে আপনার বাহু-বলে শ্রীরাম লক্ষ্মণ অবতার॥ লব-যুগ অবশেষে কলি যুগে পরবেশে ধন্য ধন্য নবদ্বীপ স্থান। জয় জয় মঙ্গল-ধ্বনি ত্রিভুবন ভরি শুনি করিবারে পতিতের ত্রাণ॥ যুগে যুগে অবতার হরিতে ক্ষিতির ভার পাপ পাষণ্ডী নাহি মানে। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য ঠাকুর নিত্যানন্দ বৃন্দাবন দাস গুণ-গানে॥ পাঠান্তরে রয়েছে - ‘যদু সিংহ’ ইত্যাদি কলিটি খ ও প-র-সা পুথিতে নাই। (প-র-সা = পদরসসার) আমরা (মিলনসাগর) ওই কলিটি সরিয়ে নীচে তুলে দিয়েছি . . . যদু-সিংহ-অবতারে গোকুল মথুরাপুরে যত যত করিলা বিহার। মোহিয়া গোপীর মন বিলাইয়া প্রেম-ধন কানাই বলাই অবতার॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১ম তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছাস, ২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাষ॥ ক্ষীরনিধি জলমাঝে আছিলা শয়নে শেজে নিত্যানন্দ গদাধর সঙ্গে। অদ্বৈত পিরীতি বশে আইলা কীর্ত্তন রসে হরিভক্তি বিলাইতে রঙ্গে॥ অবতরি রঘুকুলে সিন্ধু বাঁধি গিরিমূলে দশকন্ধ করিলা সংহার। বধিলা রাক্ষসকুলে আপনার বাহুবলে শ্রীরাম লক্ষ্মণ অবতার॥ যদুসিংহ অবতারে গোকুল মথুরাপুরে কত কত করিল বিহার। মোহিয়া গোপীর মন বিলাইলা প্রেমধন কানাই বলাই অবতার॥ সব যুগ অবশেষে কলি যুগে পরবেশে ধন্য ধন্য নবদ্বীপ স্থান। জয় জয় মঙ্গলধ্বনি ত্রিভুবন ভরি শুনি করিবারে পতিতের ত্রাণ॥ যুগে যুগে অবতার হরিতে ক্ষিতির ভার পাপী পাষণ্ডী নাহি মানে। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য ঠাকুর নিত্যানন্দ বৃন্দাবন দাস গুণগানে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ বলে উল্লেখ রয়েছে। শ্রীগৌরচন্দ্র ॥ বিভাস॥ ক্ষীরনিধি জলমাঝে আছিলা শয়নে শেজে অনন্ত শ্রীনিত্যানন্দ অঙ্গে। অদ্বৈত পিরীতি বশে আইলা কীর্ত্তন রসে হরিভক্তি বিলাইতে রঙ্গে॥ অবতরি রঘুকুলে সিন্ধু বাঁধি গিরিমূলে দশকন্ধ করিলা সংহার। বধিলা রাক্ষসকুলে আপনার বাহুবলে শ্রীরাম লক্ষ্মণ অবতার॥ যদুসিংহ অবতারে গোকুল মথুরাপুরে কত কত করিল বিহার। মোহিয়া সবার মন বিলাইয়া প্রেমধন কানাই বলাই অবতার॥ সব যুগ অবশেষে কলি যুগ পরবেশে ধন্য ধন্য নবদ্বীপ স্থান। জয় জয় মঙ্গলধ্বনি ত্রিভুবন ভরি শুনি করিবারে পতিতেরে ত্রাণ॥ যুগে যুগে অবতার হরিতে ক্ষিতির ভার পাপী পাষণ্ডী নাহি মানে। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য ঠাকুর নিত্যানন্দ বৃন্দাবন দাস গুণ-গানে॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২২৪-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে। ক্ষীরনিধি জলমাঝে আছিলা শয়নে শেজে অনন্ত শ্রীনিত্যানন্দ অঙ্গে। অদ্বৈত পিরীতি বশে আইলা কীর্ত্তন রসে হরিভক্তি বিলাইতে রঙ্গে॥ অবতরি রঘুকুলে সিন্ধু বাঁধি গিরিমূলে দশকন্ধ করিলা সংহার। বধিলা রাক্ষসকুলে আপনার বাহুবলে শ্রীরাম লক্ষ্মণ অবতার॥ যদুসিংহ অবতারে গোকুল মথুরাপুরে কত কত করিল বিহার। মোহিয়া সবার মন বিলাইয়া প্রেমধন কানাই বলাই অবতার॥ সব যুগ অবশেষে কলি যুগ পরবেশে ধন্য ধন্য নবদ্বীপ স্থান। জয় জয় মঙ্গলধ্বনি ত্রিভুবন ভরি শুনি করিবারে পতিতেরে ত্রাণ॥ যুগে যুগে অবতার হরিতে ক্ষিতির ভার পাপী পাষণ্ডী নাহি মানে। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য ঠাকুর নিত্যানন্দ বৃন্দাবন দাস গুণগানে॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| চলে নিতাই প্রেম-ভরে দিগ টলমল করে চলে নিজ প্রেম ভরে দিগ টলমল করে ভণিতা বৃন্দাবন দাস কবি বৃন্দাবন দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭০০ সালে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা সংকলিত ও বিরোচিত এবং ১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”, দ্বিতীয় ক্ষণদা - কৃষ্ণা দ্বিতীয়া, ১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীনিত্যানন্দচন্দ্রস্য। ॥ ধানশী॥ চলে নিতাই প্রেম-ভরে দিগ টলমল করে পদ-ভরে অবনী দোলায়। আধ আধ কথা কয় মুখের বাহির নয় নিজ পারিষদে গুণ গায়॥ দেখ ভাই অবনী-মণ্ডলে নিত্যানন্দ। ভাইয়ার মুখ হেরি বাঢ়য়ে আনন্দ॥ ধ্রু॥ পরিধান নীল ধটী আঁটনি না রহে কটি অন্তর্ভাবে বাহ্য নাহি জানে। অঙ্গ হেলি দুলি চলে গৌর গৌর সদা বলে নিশি দিশি আর নাহি জানে॥ যুগে যুগে রাম সুজন-প্রতিপালক পাষণ্ডীর করিতে বিনাশ। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচন্দ্র ঠাকুর শ্রীনিত্যানন্দ গুণ গায় বৃন্দাবন দাস॥ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা ২১শ পল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ইত্যাদি, ২২৯৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ॥ চলে নিতাই প্রেম-ভরে দিগ টলমল করে পদ-ভরে অবনী দোলায়। আধ আধ কথা কয় মুখের বাহির নয় নিজ পারিষদে গুণ গায়॥ দেখ ভাই অবনী-মণ্ডলে নিত্যানন্দ। ভাইয়ার মুখ হেরি বাঢ়য়ে আনন্দ॥ ধ্রু॥ পরিধান নীল ধটী শোভা করে ক্ষীণ কটি কনক-কুণ্ডল এক কাণে। অঙ্গ হেলি দুলি চলে গৌর গৌর সদা বলে দিবানিশি আন নাহি জানে॥ জিনি করিবর-শুণ্ড শ্রীভুজে কনক-দণ্ড পাষণ্ড করিতে বিনাশ। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য-চন্দ প্রভু মোর নিত্যানন্দ গুণ গায় বৃন্দাবন দাস॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৩৯৯-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ শ্রীরাগ॥ চলে নিতাই প্রেম-ভরে দিগ টলমল করে পদ-ভরে অবনী দোলায়। আধ আধ কথা কয় মুখের বাহির নয় নিজ পারিষদে গুণ গায়॥ দেখ ভাই অবনী-মণ্ডলে নিত্যানন্দ। ভাইয়ার মুখ হেরি বাঢ়য়ে আনন্দ॥ ধ্রু॥ পরিধান নীল ধটী শোভে হার ক্ষীণ কটি কনক-কুণ্ডল এক কাণে। অঙ্গ হেলি দুলি চলে গৌর গৌর সদা বলে দিবানিশি আন নাহি জানে॥ জিনি করিবর-শুণ্ড শ্রীভুজে কনক-দণ্ড পাষণ্ড করিতে বিনাশ। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু মোর নিত্যানন্দ গুণ গায় বৃন্দাবন দাস॥ এই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”, ১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধনাশ্রী॥ চলে নিজ প্রেম ভরে দিগ টলমল করে পদ ভরে অবনী দোলায়। আধ ২ বাণী কহে মুখের বাহির নহে নিজ পারিষদে গুণ গায়॥ দেখ ভাই অবনী মণ্ডলে নিত্যানন্দ। গোরা মুখ হেরি @ত বাঢ়য়ে আনন্দ॥ ধ্রু॥ পরিধান নীল ধটী আঁটনি না রহে কটি অন্তর ভাবে বাহ্য নাহি জানে। অঙ্গ হেলি ২ চলে গৌর ২ বলে নিশি দিশি আর নাহি জানে॥ যুগে ২ রাম সুজন প্রতি পালক পাষণ্ডীরে করিতে বিনাশ। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য ঠাকুর শ্রীনিত্যানন্দ গুণ গায় বৃন্দাবন দাস॥ @ - অপাঠ্য অক্ষর। এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ৬ষ্ঠ তরঙ্গ, ১ম উচ্ছাস, ২৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ॥ চলে নিতাই প্রেমভরে দিগ টলমল করে পদভরে অবনী দোলায়। পূর্ব্বে যেন ব্রজধাম মধুমত্ত বলরাম নানা দিকে ঘুরিয়া খেলায়॥ আধ আধ কথা কয় ক্ষণে কাঁদে উচ্চরায় মকরকুণ্ডল দোলে কানে। অঙ্গ হেলি দুলি চলে গৌর গৌর সদা বলে দিবা নিশি আর নাহি জানে॥ জিনি করিবর শুণ্ড শ্রীভুজে কনকদণ্ড পাষণ্ডেরে করিতে বিনাশ। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচন্দ্র প্রভু মোর নিত্যানন্দ গুণ গান বৃন্দাবন দাস॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ বলে উল্লেখ রয়েছে। শ্রীনিত্যানন্দের গুণবর্ণন ॥ শ্রীরাগ॥ চলে নিতাই প্রেমভরে দিগ টলমল করে পদভরে অবনী দোলায়। আধ আধ কথা কয় মুখের বাহির নয় নিজ পারিষদে গুণ গায়॥ দেখ ভাই অবনীমণ্ডলে নিত্যানন্দ। ভাইয়ার মুখ হেরি বাঢ়য়ে আনন্দ॥ পরিধান নীল ধটী শোভা করে ক্ষীণ কটি কনককুণ্ডল এক কাণে। অঙ্গ হেলি দুলি চলে গৌর গৌর সদা বলে দিবানিশি আন নাহি জানে॥ জিনি করিবরশুণ্ড শ্রীভুজে কনকদণ্ড পাষণ্ড করিতে বিনাশ। শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্যচন্দ প্রভু মোর নিত্যানন্দ গুণ গায় বৃন্দাবন দাস॥ এই পদটি আনুমানিক ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, মহাজন পদাবলী, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীনিত্যানন্দের গুণ-বর্ণন ॥ শ্রীরাগ - মধ্যম দশকুশী॥ চলে নিতাই প্রেম ভরে দিগ টলমল করে পদ ভরে অবনী দোলায়। আধ আধ কথা কয় মুখের বাহির নয় নিজ পারিষদে গুণ গায়॥ দেখ ভাই অবনী-মণ্ডলে নিত্যানন্দ। ভাইয়ার মুখ হেরি বাঢ়য়ে আনন্দ॥ ধ্রু॥ পরিধান নীলধটী শোভা করে ক্ষীণ কটি কনক কুণ্ডল এক কাণে। অঙ্গ হেলি দুলি চলে গৌর গৌর সদা বলে দিবা নিশি আন নাহি জানে॥ জিনি করিবর-শুণ্ড শ্রীভুজে কনক দণ্ড পাষণ্ড করিতে বিনাশ। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য চন্দ প্রভু মোর নিত্যানন্দ গুণ গায় বৃন্দাবন দাস॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২২৪-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে। চলে নিতাই প্রেমভরে দিগ টলমল করে পদভরে অবনী দোলায়। আধ আধ কথা কয় মুখের বাহির নয় নিজ পারিষদে গুণ গায়॥ দেখ ভাই অবনীমণ্ডলে নিত্যানন্দ। ভাইয়ার মুখ হেরি বাঢ়য়ে আনন্দ॥ পরিধান নীল ধটী শোভা করে ক্ষীণ কটি কনককুণ্ডল এক কাণে। অঙ্গ হেলি দুলি বলে গৌর গৌর সদা বলে দিবানিশি আন নাহি জানে॥ জিনি করিবরশুণ্ড শ্রীভুজে কনকদণ্ড পাষণ্ড করিতে বিনাশ। শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্যচন্দ প্রভু মোর নিত্যানন্দ গুণ গায় বৃন্দাবন দাস॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |