কবি বৃন্দাবন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
বন্দো প্রভু নিত্যানন্দ কেবল আনন্দ কন্দ
বন্দে প্রভু নিত্যানন্দ কেবল আনন্দ-কন্দ
ভণিতা বৃন্দাবনদাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং ৪২৬ গৌরাব্দে
(১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, ৯৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গীতে যথা - কামোদঃ॥

বন্দো প্রভু-নিত্যানন্দ, কেবল আনন্দ কন্দ, ঝল মল অভ-
রণ সাজে। দুই দিগে শ্রুতিমূলে, মকর কুণ্ডল দোলে, গলে
এক কৌস্তুভ বিরাজে॥ সুবলিত ভুজদণ্ড, জিনি করিবর শুণ্ড,
তাহাতে শোভয়ে হেমদণ্ড। অরুণ অম্বর গায়, সিংহের গমনে
ধায়, দেখি কাঁপে অসুর পাষণ্ড॥ অঙ্গ দেখি শুদ্ধ স্বর্ণ, দুই
আঁখি রক্তবর্ণ, তাহাতে ঝরয়ে মকরন্দ। সুমেরু বাহিয়া যেন,
গঙ্গাধারা বহে হেন, দেখি সুরলোকের আনন্দ॥ সর্ব্বাঙ্গে
পুলক ছটা, যেন কদম্বের ঘটা, লম্ফেতে কম্পয়ে বসুমতী।
বীরদর্প্প মালসাটে, শবদে ব্রহ্মাণ্ড ফাটে, দেখি ব্রহ্মলোক
করে স্তুতি॥ চৈতন্যের প্রেমরত্ন, জীবেরে করিয়া যত্ন, দিল
পহু পরম আনন্দে। কহে বৃন্দাবনদাসে, আপনার কর্ম্মদোষে,
না ভজিনু নিতাই পদদ্বন্দ্বে॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা ২২শ পল্লব,
শ্রীনিত্যানন্দের গুণ-বর্ণন, ২২৯৬-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

বন্দো প্রভু নিত্যানন্দ        কেবল আনন্দ-কন্দ
ঝলমল অভরণ সাজে।
দুই দিগে শ্রুতি-মূলে        মকর-কুণ্ডল দোলে
গলে এক কৌস্তুভ বিরাজে॥
সুবলিত ভুজ-দণ্ড             জিনি করিবর-শুণ্ড
তাহাতে শোভয়ে হেম-দণ্ড।
অরুণ অম্বর গায়           সিংহের গমনে ধায়
দেখি কাঁপে অসুর পাষণ্ড॥
অঙ্গ দেখি শুদ্ধ স্বর্ণ         দুটি আঁখি রক্ত-বর্ণ
তাহাতে ঝরয়ে মকরন্দ।
সুমেরু বাহিয়া যেন      গঙ্গা-ধারা বহে হেন
দেখি সুর-লোকের আনন্দ॥
সর্ব্বাঙ্গে পুলক-ছটা            যেন কদম্বের ঘটা
লম্ফে কম্প হয় বসুমতী।
বীর-দাপ মালশাটে         শবদে ব্রহ্মাণ্ড ফাটে
দেখি ব্রহ্মলোকে করে স্তুতি॥
চৈতন্যের প্রেম-রত্ন         জীবেরে করিয়া যত্ন
দিল পহু পরম আনন্দে।
কহে বৃন্দাবন দাসে      আপনার কর্ম্ম-দোষে
না ভজিলু নিতাই পদ-দ্বন্দ্বে॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৪০০-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ ধানশী॥

বন্দো প্রভু নিত্যানন্দ        কেবল আনন্দ-কন্দ
ঝলমল অভরণ সাজে।
দুই দিগে শ্রুতি-মূলে        মকর-কুণ্ডল দোলে
গলে এক কৌস্তুভ বিরাজে॥
সুবলিত ভুজ-দণ্ড             জিনি করিবর-শুণ্ড
তাহাতে শোভয়ে হেম-দণ্ড।
অরুণ অম্বর গায়           সিংহের গমনে ধায়
দেখি কাঁপে অসুর পাষণ্ড॥
অঙ্গ দেখি শুদ্ধ স্বর্ণ         দুটি আঁখি রক্ত-বর্ণ
তাহাতে ঝরয়ে মকরন্দ।
সুমেরু বাহিয়া যেন        গঙ্গা-ধারা বহে হেন
দেখি সুর-লোকের আনন্দ॥
সর্ব্বাঙ্গে পুলক-ছটা            যেন কদম্বের ঘটা
লম্ফে কম্প হয় বসুমতী।
বীর-দাপ মালশাটে         শবদে ব্রহ্মাণ্ড ফাটে
দেখি ব্রহ্মলোকে করে স্তুতি॥
চৈতন্যের প্রেম-রত্ন         জীবেরে করিয়া যত্ন
দিল পহু পরম আনন্দে।
কহে বৃন্দাবন দাসে      আপনার কর্ম্ম-দোষে
না ভজিলাম নিতাই পদ-দ্বন্দ্বে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ
সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ৬ষ্ঠ তরঙ্গ, ১ম উচ্ছাস, ২৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

বন্দে প্রভু নিত্যানন্দ        কেবল আনন্দ-কন্দ
ঝলমল অভরণ-সাজে।
দুই দিকে শ্রুতি-মূলে        মকর কুণ্ডল দোলে
গলে এক কৌস্তুভ বিরাজে॥
সুবলিত ভুজদণ্ড             জিনি করিবর শুণ্ড
তাহাতে শোভয়ে হেমদণ্ড।
অরুণ অম্বর গায়           সিংহের গমনে ধায়
দেখি কাঁপে অসুর পাষণ্ড॥
অঙ্গ দেখি শুদ্ধ বর্ণ         দুটি আঁখি পদ্ম পর্ণ
তাহাতে ঝরয়ে মকরন্দ।
হিম-গিরি বাহি যেন          সুরধুনী বাহে হেন
দেখি সুরলোকের আনন্দ॥
সর্ব্বাঙ্গে পুলক-ছটা            যেন কদম্বের ঘটা
লম্ফে কম্প হয় বসুমতী।
বীর-দাপ মালসাটে         শবদে ব্রহ্মাণ্ড ফাটে
দেখি ব্রহ্মলোকে করে স্তুতি॥
চৈতন্যের প্রেমরত্ন          জীবেরে করিয়া যত্ন
দিল পহুঁ পরম আনন্দে।
কহে বৃন্দাবন দাসে         আপনার কর্ম্মদোষে
না ভজিলাম নিতাই-পদদ্বন্দ্বে॥

ই পদটি ১৯১৯ সালে (১৩২৬ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত, সাহিত্য-পরিষৎ-গ্রন্থাবলীর অন্তর্গত বীরভূম রতন
লাইব্রেরীতে সংগৃহীত, শিবরতন মিত্র সঙ্কলিত “বাঙ্গালা প্রাচীন পুথির বিবরণ”, ২য় খণ্ড, ১ম সংখ্যা,
১১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বন্দো প্রভু নিত্যানন্দ            কেবল আনন্দকন্দ
ঝলমল অভরণ সাজে।
দুই দিকে শুতিমূলে               মকর কুণ্ডল দুলে
গলে এক কস্তুর বিরাজে॥
করিবর-শুণ্ড জিনি                দুটি বাহুর বলনি
তায় শোভে হেমময় দণ্ড।
অরুণ অম্বর গায়                 সিদ্ধের গমনে ধায়
দেখি কাঁপে অসুর পাষণ্ড॥
অঙ্গ অতি শুদ্ধ ছটা         দেখি জেন চন্দ্রের ঘটা
লম্ফে কম্প হইল বসুমতী।
বীরদর্প মালসাটে                শবদে ব্রহ্মাণ্ড ফাটে
দেখি ব্রহ্মলোকে করে স্তুতি॥
অঙ্গ অতি শুদ্ধ স্বর্ণ               দুটি আঁখি রক্তবর্ণ
তায় ঝরে প্রেম-মকরন্দ।
সুমেরি বহিঞা ধারা           জেন মন্দাকিনী পারা
দেখি সুরলোকের আনন্দ॥
পূর্ব্ব শেষ অবতারে                ধরণী ধরএ শিরে
জার অন্ত না পাইল ব্রহ্মা রুদ্র।
এবে কলি অবতীর্ণ                জীবে করি পরচ্ছন্ন
@@@@@@@@@@@@@
শ্রীচৈতন্য-প্রেমরত্ন                জীবেরে করিয়া যত্ন
দিল নিতাই আপনার সুখে।
যে পদ কমলা বাঞ্ছে             বিরিঞ্চি শঙ্কর ইচ্ছে
গুণ গায় দশশত মুখে॥
রাধাতৃষ্ণ-প্রমধন                দিল নিতাই জনে জন
আনন্দ বাঢ়ল সভাকার।
কহে বৃন্দাবনদাসে             আপনার দুর্দ্দৈব দোষে
না ভজিলাম হেন অবতার॥

@@ - অপাঠ্য। এই কলিটি সম্পূর্ণভাবে পাতার নীচে থাকার দরুণ স্ক্যান করার সময় বাদ পড়ে গেছে।

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ বলে
উল্লেখ রয়েছে।

শ্রীনিত্যানন্দের গুণবর্ণন
॥ ধানশী॥

বন্দো প্রভু নিত্যানন্দ        কেবল আনন্দকন্দ
ঝলমল অভরণ সাজে।
দুই দিগে শ্রুতিমূলে        মকরকুণ্ডল দোলে
গলে এক কৌস্তুভ বিরাজে॥
সুবলিত ভুজদণ্ড             জিনি করিবরশুণ্ড
তাহাতে শোভয়ে হেমদণ্ড।
অরুণ অম্বর গায়           সিংহের গমনে ধায়
দেখি কাঁপে অসুর পাষণ্ড॥
অঙ্গ দেখি শুদ্ধ স্বর্ণ          দুটি আঁখি রক্তবর্ণ
তাহাতে ঝরয়ে মকরন্দ।
সুমেরু বাহিয়া যেন         গঙ্গা ধারা বহে হেন
দেখি সুরলোকের আনন্দ॥
সর্ব্বাঙ্গে পুলক ছটা            যেন কদম্বের ঘটা
লম্ফে কম্প হয় বসুমতী।
বীরদাপ মালশাটে         শবদে ব্রহ্মাণ্ড ফাটে
দেখি ব্রহ্মলোকে করে স্তুতি॥
চৈতন্যের প্রেমরত্ন         জীবেরে করিয়া যত্ন
দিল পহু পরম আনন্দে।
কহে বৃন্দাবন দাসে        আপনার কর্ম্মদোষে
না ভজিলুঁ নিতাই পদদ্বন্দ্বে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২২৭-পৃষ্ঠায়
বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

বন্দো প্রভু নিত্যানন্দ কেবল আনন্দকন্দ                
ঝলমল অভরণ সাজে।
দুই দিগে শ্রুতিমূলে মকরকুণ্ডল দোলে                 
গলে এক কৌস্তুভ বিরাজে॥
সুবলিত ভুজদণ্ড জিনি করিবরশুণ্ড                   
তাহাতে শোভয়ে হেমদণ্ড।
অরুণ অম্বর গায় সিংহের গমনে ধায়                 
দেখি কাঁপে অসুর পাষণ্ড॥
অঙ্গ দেখি শুদ্ধ স্বর্ণ দুটি আঁখি রক্তবর্ণ                
তাহাতে ঝরয়ে মকরন্দ।
সুমেরু বাহিয়া যেন গঙ্গা ধারা বহে হেন                
দেখি সুরলোকের আনন্দ॥
সর্ব্বাঙ্গে পুলক ছটা যেন কদম্বের ঘটা                
লম্ফে কম্প হয় বসুমতী।
বীরদাপ মালশাটে শবদে ব্রহ্মাণ্ড ফাটে                
দেখি ব্রহ্মলোকে করে স্তুতি॥
চৈতন্যের প্রেমরত্ন জীবেরে করিয়া যত্ন                
দিল পহু পরম আনন্দে।
কহে বৃন্দাবন দাসে আপনার কর্ম্মদোষে                
না ভজিলুঁ নিতাই পদদ্বন্দ্বে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
জয় জয় নিত্যানন্দ রোহিণী-কুমার
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও
বিরোচিত এবং ৪৬২ গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় (পূর্বরাগ)”, ২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ শ্রীনিত্যানন্দচন্দ্রস্য
॥ সিন্ধুড়া॥

জয় জয় নিত্যানন্দ রোহিণী-কুমার। পতিত উদ্ধার লাগি দুবাহু পসার॥
গদগদ মধুর মধুর আধ বোল। যারে দেখে তারে প্রেমে ধরি দেই কোল॥
ডগমগ নয়ন ঘুরয়ে নিরন্তর। সোণার কমলে যেন ফিরয়ে ভ্রমর॥
দয়ার ঠাকুর নিতাই পরদুঃখ জানে। হরিনামের মালা গাঁথি দিল জগজনে॥
পাপ পাষণ্ডী যত করিলা দমনে। দীন হীন জনে কৈল প্রেম বিতরণে॥
আহা শ্রীগৌরাঙ্গ বলি পড়ে ভূমিতলে। শরীর ভিজিল নিতাইর নয়নের জলে॥
বৃন্দাবন দাস এই মনে বিচারিল। ধরণী উপরে কিবা বিজুরী পড়িল॥

ই পদটি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং
৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, ৯৬৫-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গীতে যথা - আভীরী॥

জয় জয় নিত্যানন্দ রোহিণী-কুমার। পতিত উদ্ধার লাগি
বাহু পসার॥ গদ গদ মধুর মধুর আধ বোল। যারে দেখে
তারে প্রেমে ধরি দেই কোল॥ ডগ মগ নয়ন ঘুরয়ে নিরন্তর।
সোনার কমলে যেন ফিরয়ে ভ্রমর॥ দয়ার ঠাকুর নিতাই
পরদুখ জানে। হরিনামের মালা গাঁথি দিল জগজনে॥ পাপ
পাষণ্ডী যত করিলা দমন। দীন হীন জনে কৈল প্রেম বিতরণ॥
আহা শ্রীগৌরাঙ্গ বলি পড়ে ভূমিতলে। শরীর ভিজিল
নিতাইর নয়নের জলে॥ বৃন্দাবন দাস এই মনে বিচারিল।
ধরণী উপরে কিবা বিজুরি পড়িল॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড,
৪র্থ শাখা ২২শ পল্লব,শ্রীনিত্যানন্দের গুণ-বর্ণন,  ২২৯৭-পদসংখ্যায়  এইরূপে দেওয়া
রয়েছে। এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির
২৪০১-পদসংখ্যায় এই রূপে কোনও পাঠান্তর ছাড়াই দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

জয় জয় নিত্যানন্দ রোহিণী-কুমার।
পতিত উদ্ধার লাগি দুবাহু পসার॥
গদগদ মধুর মধুর আধ বোল।
যারে দেখে তারে প্রেমে ধরি দেই কোল॥
ডগ মগ লোচন ঘুরয়ে নিরন্তর।
সোণার কমলে যেন ফিরয়ে ভ্রমর॥
দয়ার ঠাকুর নিতাই পর-দুখ জানে।
হরি নামের মালা গাঁথি দিল জগ-মনে॥
পাপ পাষণ্ডী যত করিল দলন।
দীন হীন জনে কৈলা প্রেম বিতরণ॥
হাহা গৌরাঙ্গ বলি পড়ে ভূমি-তলে।
শরীর ভিজিল নিতাইর নয়নের জলে॥
বৃন্দাবন দাস মনে এই বিচারিল।
ধরণী উপরে কিবা সুমেরু পড়িল॥

ই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির ৬।২-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ সিন্ধুড়া॥

জয় জয় নিত্যানন্দ রোহিণী-কুমার।
পতিত উদ্ধার লাগি বাহু পসার॥
গদগদ মধুর মধুর আধ বোল।
যারে দেখে তারে প্রেমে ধরি দেয় কোল॥
ডগ মগ লোচন ঘুরয়ে নিরন্তর।
সোণার কমলে যেন ফিরয়ে ভ্রমর॥
দয়ার ঠাকুর নিতাই পর-সুখ জানে।
হরি নামের মালা গাঁথি দিল জগ-মনে॥
পাপ পাষণ্ডী যত করিল দমনে।
দীন হীন জনে কৈলা প্রেম বিতরণ॥
আহা গৌরাঙ্গ বলি পড়ে ভূমি-তলে।
শরীর ভাসিল সব নয়নের জলে॥
বৃন্দাবন দাস মনে এই বিচারিল।
অবনি উপরে যেন সুমেরু পড়িল॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত,
মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ৬ষ্ঠ তরঙ্গ, ১ম
উচ্ছাস, ২৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

জয় জয় নিত্যানন্দ রোহিণী-কুমার।
পতিত উদ্ধার লাগি দুবাহু পসার॥
গদ গদ মধুর মধুর আধ বোল।
যারে দেখে গরে প্রেমে ধরি দেয় কোল॥
ডগমগ লোচন ঘোরায়ে নিরন্তর।
সোনার কমলে যেন ফিরয়ে ভ্রমর॥
দয়ার ঠাকুর নিতাই পর দুঃখ জানে।
হরিনামের মালা গাঁথি দিল জনে জনে॥
পাপী পাষণ্ডী যত করিল দলনে।
দীন হীন জনে কৈলা প্রেম বিতরণে॥
আহা রে গৌরাঙ্গ বলি পড়ে ভূমিতলে।
শরীর ভিজিল নিতাইর নয়নের জলে॥
বৃন্দাবন দাস মনে এই বিচারিল।
ধরণী উপরে কিবা সুমেরু পড়িল॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন
দাস (১) এর পদ বলে উল্লেখ রয়েছে।

শ্রীনিত্যানন্দের গুণবর্ণন
॥ সিন্ধুড়া॥

জয় জয় নিত্যানন্দ রোহিণীকুমার।
পতিত উদ্ধার লাগি দুবাহু পসার॥
গদগদ মধুর মধুর আধ বোল।
যারে দেখে তারে প্রেমে ধরি দেই কোল॥
ডগমগ লোচন ঘুরয়ে নিরন্তর।
সোনার কমলে যেন ফিরয়ে ভ্রমর॥
দয়ার ঠাকুর নিতাই পর দুখ জানে।
হরিনামের মালা গাঁথি দিল জগজনে॥
পাপ পাষণ্ডী যত করিল দলন।
দীন হীন জনে কৈলা প্রেম বিতরণ॥
হাহা গৌরাঙ্গ বলি পড়ে ভূমিতলে।
শরীর ভিজিল নিতাইর নয়নের জলে॥
বৃন্দাবন দাস মনে এই বিচারিল।
ধরণী উপরে কিবা সুমেরু পড়িল॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২২৫-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

জয় জয় নিত্যানন্দ রোহিণীকুমার।
পতিত উদ্ধার লাগি দুবাহু পসার॥
গদগদ মধুর মধুর আধ বোল।
যারে দেখে তারে প্রেমে ধরি দেই কোল॥
ডগমগ লোচন ঘুরয়ে নিরন্তর।
সোনার কমলে যেন ফিরয়ে ভ্রমর॥
দয়ার ঠাকুর নিতাই পর দুখ জানে।
হরিনামের মালা গাঁথি দিল জগজনে॥
পাপ পাষণ্ডী যত করিল দলন।
দীন হীন জনে কৈলা প্রেম বিতরণ॥
হাহা গৌরাঙ্গ বলি পড়ে ভূমিতলে।
শরীর ভিজিল নিতাইর নয়নের জলে॥
বৃন্দাবন দাস মনে এই বিচারিল।
ধরণী উপরে কিবা সুমেরু পড়িল॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
গূঢ়-রূপে রাম পূরে নিজ কাজ
ভণিতা দাস বৃন্দাবন
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা ২২শ পল্লব,
শ্রীনিত্যানন্দের গুণ-বর্ণন, ২৩১২-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

গূঢ়-রূপে রাম               পূরে নিজ কাম
অনঙ্গ-মঞ্জরী হৈয়া।
রাস-রস কাজে            বৈসে ব্রজ মাঝে
আনন্দে গোবিন্দ লৈয়া॥
হরি হরি কে বুঝে রামের রীত।
পুরুষ প্রকৃতি                  অনন্ত-মূরতি
ধরি পহু করে প্রীত॥ ধ্রু॥
রাইয়ের ভগিনী            অনুজা আপনি
পিন্ধন নীলিম বাস।
বসন্ত কেতকী             জাতি যূথী জিতি
মৃদুল মৃদুল ভাষ॥
সখ্য-দেহে সখা           দাস্যে দাস লেখা
বাত্সল্যে লালক প্রায়।
দাস বৃন্দাবন                   মানস-রতন
বুঝিয়া সোঁপল তায়॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৪১৬-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তথা রাগ॥

গূঢ়-রূপে রাম               পূরে নিজ কাম
অনঙ্গ-মঞ্জরী হৈয়া।
রাস-রস কাজে            বৈসে ব্রজ মাঝে
আনন্দে গোবিন্দ লৈয়া॥
হরি হরি কে বুঝে রামের রীত।
পুরুষ প্রকৃতি                  অনন্ত-মূরতি
ধরি পহু করে প্রীত॥ ধ্রু॥
রাইয়ের ভগিনী            অনুজা আপনি
পিন্ধন নীলিম বাস।
বসন্ত কেতকী             জাতি যূথী জিতি
মৃদুল মৃদুল ভাষ॥
সখ্য-দেহে সখা           দাস্যে দাস লেখা
বাত্সল্যে লালক প্রায়।
দাস বৃন্দাবন                   মানুষ-রতন
বুঝিয়া সো পুন তায়॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ
সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ৬ষ্ঠ তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছাস, ৩০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

গূঢ়রূপে রাম                পূরে নিজকাম
অনঙ্গমঞ্জরী হৈয়া।
রাসরস কাজে             বৈসে ব্রজ মাঝে
আনন্দে গোবিন্দ লৈয়া॥
হরি হরি কে বুঝে রামের রীত।
পুরুষ প্রকৃতি                  অনন্ত মূরতি
ধরি পহুঁ করে প্রীত॥ ধ্রু॥
রাইয়ের ভগিনী            অনুজা আপনি
পিন্ধন নীলিম বাস।
বসন্ত কেতকী             জাতি যূথি জিতি
মৃদুল মৃদুল ভাষ॥
সখ্য দেহে সখা            দাস্যে দাস লেখা
বাত্সল্যে বালকপ্রায়।
দাস বৃন্দাবন                    মানসরতন
বুঝিয়া সোঁপল তায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ বলে
উল্লেখ রয়েছে।

শ্রীনিত্যানন্দ-গুণবর্ণন
॥ তথা রাগ॥

গূঢ়রূপে রাম               পূরে নিজ কাম
অনঙ্গমঞ্জরী হৈয়া।
রাসরস কাজে            বৈসে ব্রজ মাঝে
আনন্দে গোবিন্দ লৈয়া॥
হরি হরি কে বুঝে রামের রীত।
পুরুষ প্রকৃতি                  অনন্ত মূরতি
ধরি পহুঁ করে প্রীত॥ ধ্রু॥
রাইয়ের ভগিনী            অনুজা আপনি
পিন্ধন নীলিম বাস।
বসন্ত কেতকী             জাতি যূথী জিতি
মৃদুল মৃদুল ভাষ॥
সখ্য দেহে সখা           দাস্যে দাস লেখা
বাত্সল্যে বালকপ্রায়।
দাস বৃন্দাবন                   মানসরতন
বুঝিয়া সোঁপল তায়॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৩১-পৃষ্ঠায়
বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

গূঢ়রূপে রাম পূরে নিজ কাম                
অনঙ্গমঞ্জরী হৈয়া।
রাসরস কাজে বৈসে ব্রজ মাঝে                
আনন্দে গোবিন্দ লৈয়া॥
হরি হরি কে বুঝে রামের রীত।              
পুরুষ প্রকৃতি অনন্ত মূরতি                    
ধরি পহুঁ করে প্রীত॥
রাইয়ের ভগিনী অনুজা আপনি                
পিন্ধন নীলিম বাস।
বসন্ত কেতকী জাতি যূথী জিতি                
মৃদুল মৃদুল ভাষ॥
সখ্য দেহে সখা দাস্যে দাস লেখা                
বাত্সল্যে বালকপ্রায়।
দাস বৃন্দাবন মানসরতন                        
বুঝিয়া সোঁপল তায়॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
আরে ভাই! নিতাই আমার দয়ার অবধি
ওরে ভাই নিতাই আমার দয়ার অবধি
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭০০ সালে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা সংকলিত ও বিরোচিত
এবং ১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”,
চতুর্দশ ক্ষণদা - কৃষ্ণা চতুর্দ্দশী, ১০৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীনিত্যানন্দচন্দ্রস্য।
॥ শ্রীরাগ॥

আরে ভাই! নিতাই আমার দয়ার অবধি।
জীবেরে করুণা করি       দেশে দেশে ফিরি ফিরি
প্রেম-ধন যাচে নিরবধি॥
অদ্বৈতের সঙ্গে রঙ্গ             ধরণে না যায় অঙ্গ
গোরা-প্রেমে গঢ়া তনুখানি।
ঢুলিয়া ঢুলিয়া চলে             বাহু তুলি হরি বলে
দু’নয়নে বহে নিতাইর পাণি॥
কপালে তিলক শোভে          কুটিল কুন্তল লোলে
গুঞ্জার আঁটুনী চূড়া তায়।
কেশরী জিনিয়া কটি             কটিতটে নীল ধটি
বাজন নূপুর রাঙ্গা পায়॥
ভুবন-মোহন বেশ                  মজাইল সব দেশ
রসাবেশে অট্ট অট্ট হাস।
প্রভু মোর নিত্যানন্দ             কেবল আনন্দ-কন্দ
গুণ গায় বৃন্দাবন দাস॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা ২২শ পল্লব,
শ্রীনিত্যানন্দের গুণ-বর্ণন, ২৩২৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীগান্ধার॥

ওরে ভাই নিতাই আমার দয়ার অবধি।
জীবেরে করুণা করি       দেশে দেশে ফিরি ফিরি
প্রেম-ধন যাচে নিরবধি॥ ধ্রু॥
অদ্বৈতের সঙ্গে রঙ্গ             ধরণে না যায় অঙ্গ
গোরা-প্রেমে গড়া তনুখানি।
ঢুলিয়া ঢুলিয়া চলে             বাহু তুলি হরি বলে
দু নয়নে বহে কত পানি॥
কপালে তিলক শোভে          কুটিল কুন্তল লোভে
গুঞ্জার আটনি চূড়া তায়।
কেশরী জিনিয়া কটি         তাহে শোভে নীল ধটী
বাজান-নূপুর শোভে পায়॥
কো কহু নিতাইর গুণ            জীবে দেখি সকরুণ
হরি-নামে জগত তারিল।
মদন-মদেত অন্ধ                  বিষয়ে রহল ধন্দ
হেন নিতাই ভজিতে না পাইল॥
ভুবন-মোহন বেশ              মাতাইল সকল দেশ
রসাবেশে অট্ট অট্ট হাস।
পহু মোর নিত্যানন্দ              কেবল আনন্দ-কন্দ
গুণ গায় বৃন্দাবন দাস॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৪২৯-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ শ্রীগান্ধার॥

ওরে ভাই নিতাই আমার দয়ার অবধি।
জীবেরে করুণা করি       দেশে দেশে ফিরি ফিরি
প্রেম-ধন যাচে নিরবধি॥ ধ্রু॥
অদ্বৈতের সঙ্গে রঙ্গ             ধরণে না যায় অঙ্গ
গোরা-প্রেমে গড়া তনুখানি।
ঢুলিয়া ঢুলিয়া চলে             বাহু তুলি হরি বলে
দু নয়নে বহে কত পানি॥
কপালে তিলক শোভে          কুটিল কুন্তল লোলে
গুঞ্জার আটনি চূড়া তায়।
কেশরী জিনিয়া কটি         তাহে শোভে নীল ধটী
বাজান-নূপুর শোভে পায়॥
কো কহু নিতাইর গুণ            জীবে দেখি সকরুণ
হরি-নামে জগত তারিল।
মদন-মদেত অন্ধ                  বিষয়ে রহল ধন্দ
হেন নিতাই ভজিতে না পাইল॥
ভুবন-মোহন বেশ              মাতাইল সব দেশ
রসাবেশে অট্ট অট্ট হাস।
পহু মোর নিত্যানন্দ              কেবল আনন্দ-কন্দ
গুণ গায় বৃন্দাবন দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ বলে
উল্লেখ রয়েছে।

শ্রীনিত্যানন্দের গুণবর্ণন
॥ শ্রীগান্ধার॥

ওরে ভাই নিতাই আমার দয়ার অবধি।
জীবেরে করুণা করি       দেশে দেশে ফিরি ফিরি
প্রেমধন যাচে নিরবধি॥ ধ্রু॥
অদ্বৈতের সঙ্গে রঙ্গ             ধরণে না যায় অঙ্গ
গোরাপ্রেমে গড়া তনুখানি।
ঢুলিয়া ঢুলিয়া চলে             বাহু তুলি হরি বলে
দু নয়নে বহে কত পানি॥
কপালে তিলক শোভে          কুটিল কুন্তল লোভে
গুঞ্জার আটনি চূড়া তায়।
কেশরী জিনিয়া কটি         তাহে শোভে নীল ধটী
বাজননূপুর শোভে পায়॥
কো কহু নিতাইর গুণ            জীবে দেখি সকরুণ
হরিনামে জগত তারিল।
মদন-মদেতে অন্ধ                  বিষয়ে রহলু ধন্দ
হেন নিতাই ভজিতে না পাইল॥
ভুবন মোহন বেশ              মাতাইল সকল দেশ
রসাবেশে অট্ট অট্ট হাস।
পহু মোর নিত্যানন্দ              কেবল আনন্দকন্দ
গুণ গায় বৃন্দাবন দাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২২২-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

ওরে ভাই নিতাই আমার দয়ার অবধি।              
জীবেরে করুণা করি দেশে দেশে ফিরি ফিরি          
প্রেমধন যাচে নিরবধি॥ ধ্রু॥
অদ্বৈতের সঙ্গে রঙ্গ ধরণে না বায় অঙ্গ                
গোরাপ্রেমে গড়া তনুখানি।
ঢুলিয়া ঢুলিয়া চলে বাহু তুলি হরি                      
বলে দু নয়নে বহে কত পানি॥
কপালে তিলক শোভে কুটিল কুন্তল                    
লোভে গুঞ্জার আটনি চূড়া তায়।
কেশরী জিনিয়া কটি তাহে শোভে নীল                
ধটী বাজননূপুর শোভে পায়॥
কো কহু নিতাইর গুণ জীবে দেখি                      
সকরুণ হরিনামে জগত তারিল।
মদন মদেতে অন্ধ বিষয়ে রহলু ধন্দ                   
হেন নিতাই ভজিতে না পাইল॥
ভুবন মোহন বেশ মাতাইল সকল দেশ                
রসাবেশে অট্ট অট্ট হাস।
পহু মোর নিত্যানন্দ কেবল আনন্দকন্দ                
গুণ গায় বৃন্দাবন দাস॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
সহজে নিতাইচাঁদের রীত
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড,
৪র্থ শাখা ২২শ পল্লব, শ্রীনিত্যানন্দের গুণ-বর্ণন, ২৩২৬-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ দেশাগ॥

সহজে নিতাইচাঁদের রীত।
দেখি উনমত জগত-চীত॥
অবনি কম্পিত নিতাই-ভরে।
ভাইয়া ভাইয়া বলে গভীর স্বরে॥
গৌর বলিতে সৌর-হীন।
ভাইর ভাবে কান্দে রজনী দিন॥
শ্রীমুখ-কমলে সে গুণ-গাথা।
ঢর-ঢর দুই নয়ন রাতা॥
নিতাই-চরণে যে করে আশ।
বৃন্দাবন তার দাসের দাস॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৪৩০-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ দেশাগ॥

সহজে নিতাইচাঁদের রীত।
দেখি উনমত জগত-চীত॥
অবনি কম্পিত নিতাই-ভরে।
ভাইয়া ভাইয়া বলে গভীর স্বরে॥
গৌর বলিতে সৌর-হীন।
ভায়ার ভাবে কান্দে রজনী দিন॥
শ্রীমুখ-কমলে সে গুণ-গাথা।
ঢর-ঢর দুই নয়ন রাতা॥
নিতাই-চরণে যে করে আশ।
বৃন্দাবন তার দাসের দাস॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত,
মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ৬ষ্ঠ তরঙ্গ, ১ম
উচ্ছাস, ২৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ দেশরাগ॥

সহজে নিতাইচাঁদের রীত।
দেখি উনমত জগতচিত॥
অবনী কম্পিত নিতাই ভরে।
ভায়া ভায়া বলে গভীরস্বরে॥
গৌর বলিতে সৌরহীন।
কাঁদে বা কি ভাবে রজনী দিন॥
নিতাই-চরণে যে করে আশ।
বৃন্দাবন তার দাসের দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন
দাস (১) এর পদ বলে উল্লেখ রয়েছে।

শ্রীনিত্যানন্দের গুণবর্ণন
॥ দেশাগ॥

সহজে নিতাইচাঁদের রীত।
দেখি উনমত জগতচীত॥
অবনি কম্পিত নিতাইভরে।
ভাইয়া ভাইয়া বলে গভীর স্বরে॥
গৌর বলিতে সৌরহীন।
ভাইর ভাবে কান্দে রজনী দিন॥
শ্রীমুখকমলে সে গুণগাথা।
ঢর-ঢর দুই নয়ন রাতা॥
নিতাই চরণে যে করে আশ।
বৃন্দাবন তার দাসের দাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২২৯-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

সহজে নিতাইচাঁদের রীত।
দেখি উনমত জগতচীত॥
অবনি কম্পিত নিতাইভরে।
ভাইয়া ভাইয়া বলে গভীর স্বরে॥
গৌর বলিতে সৌরহীন।
ভাইর ভাবে কান্দে রজনী দিন॥
শ্রীমুখকমলে সে গুণগাথা।
ঢর-ঢর দুই নয়ন রাতা॥
নিতাই চরণে যে করে আশ।
বৃন্দাবন তার দাসের দাস॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
অবনিক মাঝে দেখ দোনং ভাই
অবনিক মাঝে দেখ দোন ভাই
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড,
৪র্থ শাখা ২২শ পল্লব, শ্রীনিত্যানন্দের গুণ-বর্ণন, ২৩৩২-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

অবনিক মাঝে দেখ দোনং ভাই।
অপরূপ রূপ গোরাচাঁদ নিতাই॥
হেম-পদ্ম জিনি দুহুঁ মুখ-ছটা।
তাহে পরকাশল প্রেম-ঘটা॥
ঘন চন্দন দুহুঁ অঙ্গ ভরি।
ভুজযুগ তুলি দুহুঁ বোলে হরি হরি॥
নাম-সংকীর্ত্তন করিলা প্রকাশ।
গুণ গাওয়ে বৃন্দাবন দাস॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৪৩৬-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ ভাটিয়ারি॥

অবনিক মাঝে দেখ দোনং ভাই।
অপরূপ গোরাচাঁদ নিতাই॥
হেম-পদ্ম জিনি দুহুঁ মুখ-ছটা।
তাহে পরকাশল প্রেম-ঘটা॥
ঘন চন্দন রে দুহুঁ অঙ্গ ভরি।
ভুজযুগ তুলি দুহুঁ বোলে হরি হরি॥
নাম-সংকীর্ত্তন করিলা প্রকাশ।
গুণ গাওয়ে বৃন্দাবন দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন
দাস (১) এর পদ বলে উল্লেখ রয়েছে।

শ্রীনিত্যানন্দের গুণবর্ণন
॥ ভাটিয়ারি॥

অবনিক মাঝে দেখ দোন ভাই।
অপরূপ রূপ গোরাচাঁদ নিতাই॥
হেমপদ্ম জিনি দুহুঁ মুখছটা।
তাহে পরকাশল প্রেম-ঘটা॥
ঘন চন্দন দুহুঁ অঙ্গ ভরি।
ভুজযুগ তুলি দুহুঁ বোলে হরি হরি॥
নাম-সংকীর্ত্তন করিলা প্রকাশ।
গুণ গাওয়ে বৃন্দাবন দাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২২২-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

অবনিক মাঝে দেখ দোন ভাই।
অপরূপ রূপ গোরাচাঁদ নিতাই॥
হেমপদ্ম জিনি দুহুঁ মুখছটা।
তাহে পরকাশল প্রেম ঘটা॥
ঘন চন্দন দুহুঁ অঙ্গ ভরি।
ভুজযুগ তুলি দুহুঁ বোলে হরি হরি॥
নাম সংকীর্ত্তন করিলা প্রকাশ।
গুণ গাওয়ে বৃন্দাবন দাস॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
জয় জগন্নাথ শচী নন্দন গৌরাঙ্গ পহু
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২৩শ পল্লব,শ্রীনিত্যানন্দের গুণ-
বর্ণন, ২৩৪০-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস
সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৪৪৪-পদসংখ্যায় কোনো পাঠান্তর ছাড়া এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

জয় জগন্নাথ-শচী-         নন্দন গৌরাঙ্গ পহু
জয় নিত্যানন্দ প্রেম-ধাম।
জগত দুখিত দেখি      হৈয়া সকরুণ-আঁখি
উদ্ধারিলা দিয়া হরি-নাম॥
বৈকুন্ঠ-নায়ক হরি       দ্বিজ-কুলে অবতরি
সংকীর্ত্তন করিলা প্রচার।
ধন্য সুরধুনী-তীরে           ধন্য নবদ্বীপ পুরে
সাঙ্গোপাঙ্গে করিলা বিহার॥
এমন করুণা-সিন্ধু         শ্রীচৈতন্য প্রাণ-বন্ধু
পাপ পাষণ্ড নাহি জানে।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য            ঠাকুর শ্রীনিত্যানন্দ
বৃন্দাবন দাস গুণ গানে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ
সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১ম তরঙ্গ, ২য় উচ্ছাস, ৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাষ॥

জয় জগন্নাথ শচী-           নন্দন গৌরাঙ্গ পহুঁ
জয় নিত্যানন্দ প্রেমধাম।
জগত দুঃখিত দেখি        হৈয়া সকরুণ আঁখি
উদ্ধারিলা দিয়া হরিনাম॥
বৈকুন্ঠ-নায়ক হরি           দ্বিজকুলে অবতরি
সংকীর্ত্তন করিলা প্রচার।
ধন্য সুরধুনীতীরে               ধন্য নবদ্বীপপুরে
সাঙ্গোপাঙ্গ করিলা বিহার॥
এমন করুণাসিন্ধু              শ্রীচৈতন্য প্রাণবন্ধু
পাপী পাষণ্ড নাহি জানে।
শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য                ঠাকুর নিত্যানন্দ
বৃন্দাবন দাস গুণ গানে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
অকলঙ্ক পূর্ণ চান্দে কামিনী-মোহন ফান্দে
ভণিতা বৃন্দাবনদাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা ২য় ভাগ ৩০শ পল্লব,অষ্টকালীয়
নিত্য-লী, ২৯১৩-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ রাত্রি-বিলাস বর্ণনা প্রকারান্তর যথা।
তন্মঙ্গলাচরণং শ্রীমদ্গৌরচন্দ্রস্য রূপ-বর্ণনং।
॥ কানড়॥

অকলঙ্ক পূর্ণ চান্দে         কামিনী-মোহন ফান্দে
মদনে মদন-গর্ব্ব চূর্ণ।
মৃদু মৃদু আধ ভাষা           ইষত উন্নত নাসা
দাড়িম্ব-কুসুম জিনি কর্ণ॥
ঝরে নয়নারবিন্দে          বাষ্পকণা-মকরন্দে
তারক-ভ্রমর হরষিত।
গভীর গর্জ্জন কভু          কভু বলে হাহা প্রভু
আপাদ মস্তক পুলকিত॥
প্রেমে না দেখয়ে বাট     ক্ষণে মারে মালশাট
ক্ষণে কৃষ্ণ ক্ষণে বোলে রাধা।
নাচয়ে গৌরাঙ্গ রায়      সভে দেখিবারে ধায়
কর্ম্ম বন্ধে পড়ি গেল বাধা॥
পাই হেন প্রেম-ধন             নাচয়ে বৈষ্ণবগণ
আনন্দ-সায়রে নাহি ওর।
দেখিয়া মেঘের মেলি     চাতক করিছে কেলি
চান্দ দেখি যৈছন চকোর॥
প্রেমে মাতোয়াল গোরা     জগত করিল ভোরা
পুরাইল সব জীব-আশ।
জড়-অন্ধ-মূকমাত্র           সভে ভেল প্রেম-পাত্র
বঞ্চিত সে বৃন্দাবন দাস॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার,
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ অথ প্রবাসান্তে বংশীধ্বনি রাস পূর্বক্রম আরব্ধ॥
॥ তদুচিত গৌরচন্দ্র॥ রাগিণী কানাড়া॥
॥ তালোচিত॥

অকলঙ্ক পূর্ণ চান্দে কামিনীমোহন ফান্দে বদনে মদন গর্বচূর্ণ।
মৃদুমৃদু আধ ভাষা ঈষৎ উন্নত নাসা দাড়িম্ব কুসুম জিনি বর্ণ॥
ঝরে নয়নারবিন্দে বাষ্পকলা মকরন্দে তারক ভ্রমর হরষিত।
গভীর গর্জন কভু বোলে হাসে মহাপ্রভু আপাদমস্তক পুলকিত॥
প্রেমে না দেখয়ে বাট খনে মারে মালসাট খনে কৃষ্ণ খনে বলে রাধা।
নাচয়ে গৌরাঙ্গরায় সভে দেখিবারে জায় কর্মবন্ধে পড়ি গেল বাধা॥
পাই হেন প্রেমধন নাচয়ে বৈষ্ণবগণ আনন্দসায়েরে নাহি ওর।
দেখিয়া মেঘের মেলী চাতক করিছে কেলি চান্দ দেখি জৈখন চকোর॥
প্রেমে মাতোয়ার গোরা জগৎ করিল ভোরা পূরাইল সর্বজীব আশ।
অন্ধ জড় মূর্খ মাত্র সবে ভেল প্রেমপাত্র বঞ্চিত সে বৃন্দাবনদাস॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ
সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ৩য় তরঙ্গ, ১ম উচ্ছাস, ৮৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ কানড়া॥

অকলঙ্ক পূর্ণচাঁদে          কামিনী মোহন ফাঁদে
বদনে মদনগর্ব্বচূর্ণ।
মৃদু মৃদু আধ ভাষা           ঈষত উন্নত নাসা
দাড়িম্ব কুসুম জিনি কর্ণ॥
ঝরে নয়নারবিন্দে          বাষ্পকণা মকরন্দে
তারক-ভ্রমর হরষিত।
গভীর গর্জ্জন কভু           কভু বলে হাহা প্রভু
আপাদমস্তক পুলকিত॥
প্রেমে না দেখয়ে বাট       ক্ষণে মারে মালসাট
ক্ষণে কৃষ্ণ ক্ষণে বোলে রাধা।
নাচয়ে গৌরাঙ্গরায়         সভে দেখিবার ধায়
কর্ম্মবন্ধে পড়ি গেল বাঁধা॥
পাই হেন প্রেমধন              নাচয়ে বৈষ্ণবগণ
আনন্দসায়রে নাহি ওর।
দেখিয়া মেঘের মেলি     চাতক করিছে কেলি
চাঁদ দেখি যৈছন চকোর॥
প্রেমে মাতোয়াল গোরা     জগত করিলা ভোরা
পুরাইল সব জীব আশ।
জড় অন্ধ মূকমাত্র           সভে ভেল প্রেমপাত্র
বঞ্চিত সে বৃন্দাবনদাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ বলে
উল্লেখ রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্রের নৃত্য
॥ কানড়া॥

অকলঙ্ক পূর্ণচাঁদে          কামিনী মোহন ফাঁদে
বদনে মদনগর্ব্বচূর্ণ।
মৃদু মৃদু আধ ভাষা           ঈষত উন্নত নাসা
দাড়িম্ব কুসুম জিনি বর্ণ॥
ঝরে নয়নারবিন্দে          বাষ্পকণা মকরন্দে
তারক ভ্রমর হরষিত।
গভীর গর্জ্জন কভু          কভু বলে হাহা প্রভু
আপাদমস্তক পুলকিত॥
প্রেমে না দেখয়ে বাট       ক্ষণে মারে মালসাট
ক্ষণে কৃষ্ণ ক্ষণে বোলে রাধা।
নাচয়ে গৌরাঙ্গরায়         সভে দেখিবার ধায়
কর্ম্মবন্ধে পড়ি গেলুঁ বাঁধা॥
পাই হেন প্রেমধন              নাচয়ে বৈষ্ণবগণ
আনন্দসায়রে নাহি ওর।
দেখিয়া মেঘের মেলি     চাতক করিছে কেলি
চাঁদ দেখি যৈছন চকোর॥
প্রেমে মাতোয়াল গোরা     জগত করিলা ভোরা
পাইল সকল জীব আশ।
জড় অন্ধ মূকমাত্র           সবে ভেল প্রেমপাত্র
বঞ্চিত সে বৃন্দাবনদাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২২৯-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

অকলঙ্ক পূর্ণচাঁদে কামিনী মোহন                      
ফাঁদে বদনে মদনগর্ব্বচূর্ণ।
মৃদু মৃদু আধ ভাষা ঈষত উন্নত নাসা                
দাড়িম্ব কুসুম জিনি বর্ণ॥
ঝরে নয়নারবিন্দে বাষ্পকণা মকরন্দে                
তারক ভ্রমর হরষিত।
গভীর গর্জ্জন কভু কভু বলে হাহা প্রভু                
আপাদমস্তক পুলকিত॥
প্রেমে না দেখয়ে বাট ক্ষণে মারে মালসাট            
ক্ষণে কৃষ্ণ ক্ষণে বোলে রাধা।
নাচয়ে গৌরাঙ্গরায় সভে দেখিবার ধায়                
কর্ম্মবন্ধে পড়ি গেলুঁ বাঁধা॥
পাই হেন প্রেমধন নাচয়ে বৈষ্ণবগণ                    
আনন্দসায়রে নাহি ওর।
দেখিয়া মেঘের মেলি চাতক করিছে                   
কেলি চাঁদ দেখি যৈছন চকোর॥
প্রেমে মাতোয়াল গোরা জগত করিলা                  
ভোরা পাইল সকল জীব আশ।
জড় অন্ধ মূকমাত্র সবে ভেল প্রেমপাত্র                
বঞ্চিত সে বৃন্দাবনদাস॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নিত্যানন্দ দুই প্রভু
বৃন্দাবন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড,
৪র্থ শাখা ৩৬শ পল্লব,প্রার্থনা, ৩০৫৬-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি
উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৫৫৩-পদসংখ্যায়
কোনো পাঠান্তর ছাড়া এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নিত্যানন্দ দুই প্রভু।
এই কৃপা কর যেন না পাসরি কভু॥
হইল পাপিষ্ঠ জন্ম না হৈল তখনে।
বঞ্চিত হইলুঁ সেই সুখ দরশনে॥
তথাপিহু এই কৃপা কর মহাশয়।
এ সব বিহার মোর রহুক হৃদয়॥
জয় জয় শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ রায়।
তোমার চরণ ধন রহুক হিয়ায়॥
সপার্ষদে তুমি নিত্যানন্দ যথা যথা।
কৃপা কর মুঞি যেন ভৃত্য হঙ তথা॥
সংসারের পার হৈয়া ভক্তির সাগরে।
যে ডুবিবে সে ভজুক নিতাইচাঁদেরে॥
হেন দিন হইবে চৈতন্য নিত্যানন্দ।
দেখিব বেষ্টিত কি সকল ভক্তবৃন্দ॥
শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দচাঁদ পহুঁ জান।
বৃন্দাবনদাস তছু পদ-যুগে গান॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত,
মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ৬ষ্ঠ তরঙ্গ, ৪র্থ
উচ্ছাস, ৩২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নিত্যানন্দ দুই প্রভু।
এই কৃপা কর যেন না পাসর কভু॥
হইল পাপিষ্ঠ জন্ম না হৈল তখনে।
বঞ্চিত হইলুঁ সেই সুখ দরশনে॥
তথাপিহ এই কৃপা কর মহাশয়।
এ সব বিহার মোর রহুক হৃদয়॥
জয় জয় শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ রায়।
তোমার চরণ ধন রহুক হিয়ায়॥
সপার্ষদে তুমি নিত্যানন্দ যথা তথা।
কৃপা কর মুঞি যেন ভৃত্য হই তথা॥
সংসারের সার হৈয়া ভক্তির সাগরে।
যে ডুবিবে সে ভজুক নিতাইচাঁদেরে॥
হেন দিন হইবে চৈতন্য নিত্যানন্দ।
দেখিব বেষ্টিত কি সকল ভক্তবৃন্দ॥
শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দচাঁদ পহুঁ জান।
বৃন্দাবন দাস তছু পদযুগে গান॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন
দাস (১) এর পদ বলে উল্লেখ রয়েছে।

প্রার্থনা
॥ সুহই॥

শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নিত্যানন্দ দুইপ্রভু।
এই কৃপা কর যেন না পাসরি কভু॥
হইল পাপিষ্ঠ জন্ম না হৈল তখনে।
বঞ্চিত হইলুঁ সেই মুখ-দরশনে॥
তথাপিহু এই কৃপা কর মহাশয়।
এ সব বিহার মোর রহুক হৃদয়॥
জয় জয় শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ রায়।
তোমার চরণধন রহুক হিয়ায়॥
সপার্ষদে তুমি নিত্যানন্দ যথা যথা।
কৃপা কর মুঞি যেন ভৃত্য হঙ তথা॥
সংসারের পার হৈয়া ভক্তির সাগরে।
যে ডুবিবে সে ভজুক নিতাই চাঁদেরে॥
হেন দিন হইবে চৈতন্য নিত্যানন্দ।
দেখিব বেষ্টিত কি সকল ভক্তবৃন্দ॥
শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দচাঁদ পহুঁ জান।
বৃন্দাবন দাস তছু পদযুগে গান॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২২৯-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নিত্যানন্দ দুইপ্রভু।
এই কৃপা কর যেন না পাসরি কভু॥
হইল পাপিষ্ঠ জন্ম না হৈল তখনে।
বঞ্চিত হইলুঁ সেই মুখ দরশনে॥
তথাপিহু এই কৃপা কর মহাশয়।
এ সব বিহার মোর রহুক হৃদয়॥
জয় জয় শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ রায়।
তোমার চরণধন রহুক হিয়ায়॥
সপার্ষদে তুমি নিত্যানন্দ যথা যথা।
কৃপা কর মুঞি যেন ভৃত্য হঙ তথা॥
সংসারের পার হৈয়া ভক্তির সাগরে।
যে ডুবিবে সে ভজুক নিতাই চাঁদেরে॥
হেন দিন হইবে চৈতন্য নিত্যানন্দ।
দেখিব বেষ্টিত কি সকল ভক্তবৃন্দ॥
শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দচাঁদ পহুঁ জান।
বৃন্দাবন দাস তছু পদযুগে গান॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
বিশ্বম্ভরচরণে আমার নমস্কার
ভণিতা বৃন্দাবনদাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত,
মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১ম তরঙ্গ, ২য়
উচ্ছ্বাস, ১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

বিশ্বম্ভরচরণে আমার নমস্কার।
নবঘন পীতাম্বর বসন যাঁহার॥
শচীর নন্দনপায়ে মোর নমস্কার।
নবগুঞ্জা শিখিপুচ্ছ ভূষণ যাঁহার॥
গঙ্গাদাসশিষ্যপায়ে মোর নমস্কার।
বনমালা করে দধি ওদন যাঁহার॥
জহন্নাথপুত্রপায়ে মোর নমস্কার।
কোটি চন্দ্র জিনি রূপ বদন যাঁহার॥
শিঙ্গা বেত্র বেণু চিহ্ন ভূষণ যাঁহার।
সেই তুমি তোমার চরণে নমস্কার॥
চারি বেদে যাঁরে ঘোষে নন্দের কুমার।
সেই তুমি তোমার চরণে নমস্কার॥
তুমি বিষ্ণু তুমি কৃষ্ণ তুমি যজ্ঞেশ্বর।
তোমার চরণযুগে গঙ্গাতীর্থবর॥
জানকী-জীবন তুমি তুমি নরসিংহ।
অজ-ভব আদি তব চরণের ভৃঙ্গ॥
তুমি সে বেদান্ত বেদ তুমি নারায়ণ।
তুমি সে ছলিলা বলি হইয়া বামন॥
তুমি হয়গ্রীব তুমি জগত-জীবন।
তুমি নীলাচলচন্দ্র জগত-কারণ॥
আজি মোর সকল দুঃখের হৈল নাশ।
আজি মোর দিবস হইল পরকাশ॥
আজি মোর জন্ম কর্ম্ম সকল সফল।
আজি মোর উদয় হইল সুমঙ্গল॥
আজি মোর পিতৃকুল হইল উদ্ধার।
আজি সে বসতি ধন্য হৈল নদীয়ার॥
আজি মোর নয়ন-ভাগ্যের নাহি সীমা।
তাহা দেখি যাঁহার চরণ সেবে রমা॥
বলিতে আবিষ্ট হৈল পণ্ডিত শ্রীবাস।
চৈতন্যবন্দনা গায় বৃন্দাবনদাস॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর