কবি বৃন্দাবন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
জয় জয় সর্ব্বপ্রাণনাথ বিশ্বম্ভর
বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র
সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১ম তরঙ্গ,
২য় উচ্ছ্বাস, ১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গুর্জ্জরী॥

জয় জয় সর্ব্বপ্রাণনাথ বিশ্বম্ভর।
জয় জয় গৌরচন্দ্র করুণাসাগর॥
জয় জয় ভকতবচনসত্যকারী।
জয় জয় মহাপ্রভু মহা অবতারী॥
জয় জয় সিন্ধুসুতা-পতিমনোরম।
জয় জয় শ্রীবত্স কৌস্তভবিভূষণ॥
জয় জয় হরেকৃষ্ণ মন্ত্রের প্রকাশ।
জয় জয় নিজভক্তি গ্রহণ বিলাস॥
জয় জয় মহাপ্রভু অনন্তশয়ন।
জয় জয় জয় সর্ব্বজীবের শরণ॥
তুমি বিষ্ণু তুমি কৃষ্ণ তুমি নারায়ণ।
তুমি মত্স্য তুমি কূর্ম্ম তুমি সনাতন॥
তুমি সে বরাহ প্রভু তুমি সে বামন।
তুমি কর যুগে যুগে দেবের পালন॥
তুমি রক্ষঃকুলহন্তা জানকী জীবন।
তুমি প্রভু বরদাতা অহল্যা-মোচন॥
তুমি সে প্রহ্লাদ লাগি হৈলা অবতার।
হিরণ্য বধিয়া নরসিংহ নাম যাঁর॥
সর্ব্বদেব-চূড়ামণি তুমি দ্বিজরাজ।
তুমি সে ভোজনকারী নীলাচল মাঝ॥
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নিত্যানন্দচাঁদ জান।
বৃন্দাবনদাস তছু পদযুগে গান॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
জয় আদি হেতু জয় জনক সবার
বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র
সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১ম তরঙ্গ,
২য় উচ্ছ্বাস, ১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গুর্জ্জরী॥

জয় আদি হেতু জয় জনক সবার।
জয় জয় সংকীর্ত্তনারম্ভ অবতার॥
জয় জয় বেদ-ধর্ম্ম-সাধুজনপ্রাণ।
জয় জয় আব্রহ্মস্তম্বের মূল স্থান॥
জয় জয় পতিতপাবন দীনবন্ধু।
জয় জয় পরম শরণ কৃপাসিন্ধু॥
জয় জয় ক্ষীরসিন্ধু মধ্যে গোপবাসী।
জয় জয় ভক্ত হেতু প্রকট বিলাসী॥
জয় জয় অচিন্ত্য অগম্য আদিতত্ত্ব।
জয় জয় পরম কোমল শুদ্ধসত্ত্ব॥
জয় জয় বিপ্রকুল-পাবন-ভূষণ।
জয় বেদ ধর্ম্ম আদি সবার জীবন॥
জয় জয় অজামিল পতিতপাবন।
জয় জয় পূতনা দুস্কৃতি-বিমোচন॥
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নিত্যানন্দচাঁদ জান
বৃন্দাবনদাস তছু পদযুগে গান॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
ত্রাহি ত্রাহি কৃপাসিন্ধু সর্ব্বদেবনাথ
বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র
সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১ম তরঙ্গ,
২য় উচ্ছ্বাস, ১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গুর্জ্জরী॥

ত্রাহি ত্রাহি কৃপাসিন্ধু সর্ব্বদেবনাথ।
মুঞি পাতকীরে কর শুভ দৃষ্টিপাত॥
ত্রাহি ত্রাহি স্বতন্ত্রবিহারী কৃপাসিন্ধু।
ত্রাহি ত্রাহি শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য দীনবন্ধু॥
ত্রাহি ত্রাহি সর্ব্বদেব-বন্দ্য রমাকান্ত।
ত্রাহি ত্রাহি ভক্তজনবল্লভ একান্ত॥
ত্রাহি ত্রাহি মহাশুদ্ধসত্ত্ব-রূপধারী।
ত্রাহি ত্রাহি সংকীর্ত্তনলম্পট মুরারি॥
ত্রাহি ত্রাহি অবিজ্ঞাত-তত্ত্বগুণ নাম।
ত্রাহি ত্রাহি পরম কোমলগুণ-ধাম॥
ত্রাহি ত্রাহি অজ ভব বন্দ্য শ্রীচরণ
ত্রাহি ত্রাহি সন্ন্যাসধর্ম্মের বিভূষণ॥
ত্রাহি ত্রাহি শ্রীগৌরসুন্দর মহাপ্রভু।
এই কৃপা কর নাথ না ছাড়িবা কভু॥
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নিত্যানন্দচাঁদ জান।
বৃন্দাবনদাস তছু পদযুগে গান॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
জয় জয় জয় শ্রীগৌর সুন্দর
বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র
সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১ম তরঙ্গ,
২য় উচ্ছ্বাস, ১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গুর্জ্জরী॥

জয় জয় জয় শ্রীগৌর সুন্দর।        
জয় জগন্নাথ প্রভু মহামহেশ্বর॥
জয় নিত্যানন্দ গদাধরের জীবন।
জয় জয় অদ্বৈতাদি ভক্তের শরণ॥
জয় জয় শ্রীকরুণাসিন্ধু গৌরচন্দ্র।
জয় জয় শ্রীবাসবিগ্রহ নিত্যানন্দ॥
জয় জয় মহাপ্রভু জনক সবার।
জয় জয় সংকীর্ত্তন হেতু অবতার॥
জয় জয় বেদ-ধর্ম্ম-সাধু-বিপ্রপাল।
জয় জয় অভক্ত-শমন মহাকাল॥
জয় জয় সর্ব্বসত্যময় কলেবর।
জয় জয় ইচ্ছাময় মহামহেশ্বর॥
জয় জয় মহামহেশ্বর গৌরচন্দ্র।
জয় জয় বিশ্বম্ভর প্রিয় ভক্তবৃন্দ॥
জয় জগন্নাথ শচীপুত্র সর্ব্বপ্রাণ।
কৃপাদৃষ্টে কর প্রভু সর্ব্ব জীবে ত্রাণ॥
জয় জয় কৃপাসিন্ধু শ্রীগৌরসুন্দর।
জয় শচী-জগন্নাথ-গৃহ-শশধর॥
জয় জয় নিত্যানন্দস্বরূপের প্রাণ।
জয় জয় সংকীর্ত্তন ধর্ম্মের বিধান॥
জয় জয় শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য কৃপাসিন্ধু।
জয় জয় নিত্যানন্দ অগতির বন্ধু॥
জয় অদ্বৈতচন্দ্রের জীবন ধন প্রাণ।
জয় শ্রীনিবাস গদাধরের নিধান॥
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নিত্যানন্দচাঁদ জান।
বৃন্দাবনদাস তছু পদযুগে গান॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
পুলকে চরিত গায় সুখে গড়াগড়ি যায়
পুলকে পূরিত গায় সুখে গড়াগড়ি যায়
ভণিতা বৃন্দাবন
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৫৬০ খৃষ্টাব্দ নাগাদ, বৃন্দাবন দাস বিরচিত এবং১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১খৃষ্টাব্দ)
রাধানাথ কাবাশী দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত"শ্রীশ্রীচৈতন্য-ভাগবত" গ্রন্থ, অন্ত্য খণ্ড, ৯ম অধ্যায়,
৪২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ ॥

পুলকে চরিত গায়,                 সুখে গড়াগড়ি যায়,
দেখ রে চৈতন্য-অবতার।
বৈকুন্ঠে-নায়ক হরি,                দ্বিজ-রূপে অবতরি,
সঙ্কীর্ত্তনে করেন বিহার॥
কনক জিনিয়া কান্তি,              শ্রীবিগ্রহ-শোভা ভান্তি
আজানুলম্বিত ভুজ সাজে রে।
ন্যাসিবর-রূপ-ধর,                   আপনা রসে বিহ্বল,
না জানি কেমন সুখে নাচে রে॥ ধ্রু॥
জয় গৌরসুন্দর,                          করুণাসিন্ধুময়,
জয় জয় বৃন্দাবন-রায়া রে।
জয় জয় সম্প্রতি,                       নবদ্বীপ-পুরন্দর,
চরণ-কমলে দেহ ছায়া রে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ
সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১ম তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছ্বাস, ২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

পুলকে চরিত গায়                     সুখে গড়াগড়ি যায়
দেখ রে চৈতন্য অবতার।
বৈকুন্ঠ-নায়ক হরি                   দ্বিজরূপে অবতরি
সংকীর্ত্তনে করেন বিহার॥
কনক জিনিয়া কান্তি               শ্রীবিগ্রহ শোভা ভান্তি
আজানুলম্বিত ভুজ সাজে।
সন্ন্যাসীর রূপ ধরি                      আপন রসে বিহ্বল
না জানি কেমন সুখে নাচে॥
জয় শ্রীগৌরসুন্দর                        করুণার সিন্ধুময়
জয় বৃন্দাবনরায় রে।
নবদ্বীপ পুরন্দর                           বৃন্দাবন পামরে
চরণকমলে দেহ ছায় রে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ বলে
উল্লেখ রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্রের সন্ন্যাস
॥ শ্রীরাগ॥

পুলকে পূরিত গায়                     সুখে গড়াগড়ি যায়
দেখ রে চৈতন্য অবতার।
গোলক-নায়ক হরি                   দ্বিজরূপে অবতরি
সংকীর্ত্তনে করেন বিহার॥
কনক জিনিয়া কান্তি               শ্রীবিগ্রহ শোভা ভান্তি
আজানুলম্বিত ভুজ সাজে।
সন্ন্যাসীর রূপ ধরি                      রাধারসে বিহ্বল
না জানি কেমন সুখে নাচে॥
জয় গৌরসুন্দর                       করুণার সিন্ধু বর
জয় বৃন্দাবনরায় রে।
নবদ্বীপ পুরন্দর                         বৃন্দাবন পামরে
চরণকমলে দেহ ছায় রে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২৩৪-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

পুলকে পূরিত গায় সুখে গড়াগড়ি                
যায় দেখ রে চৈতন্য অবতার।
গোলক নায়ক হরি দ্বিজরূপে অবতরি            
সংকীর্ত্তনে করেন বিহার॥
কনক জিনিয়া কান্তি শ্রীবিগ্রহ শোভা              
ভান্তি আজানুলম্বিত ভুজ সাজে।
সন্ন্যাসীর রূপ ধরি রাধারসে বিহ্বল              
না জানি কেমন সুখে নাচে॥
জয় গৌরসুন্দর করুণার সিন্ধু বর                
জয় বৃন্দাবনরায় রে।
নবদ্বীপ পুরন্দর বৃন্দাবন পামরে                  
চরণকমলে দেহ ছায় রে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
নাচই ধর্ম্মরাজ ছাড়িয়া সব কাজ
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৫৬০ খৃষ্টাব্দ নাগাদ, বৃন্দাবন দাস বিরচিত এবং১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১খৃষ্টাব্দ)
রাধানাথ কাবাশীদ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত" শ্রীশ্রীচৈতন্য-ভাগবত" গ্রন্থ, মধ্য খণ্ড, ১৪তম অধ্যায়,
২২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ ॥

নাচই ধর্ম্মরাজ,                   ছাড়িয়া সকল কাজ,
কৃষ্ণাবেশে না জানে আপনা।
স্মঙরিয়া শ্রীচৈতন্য,                    বলেন ধন্য ধন্য,
পতিত-পাবন ধন্য বানা॥
হুহুঙ্কার গর্জ্জন,                       সপুলক মহাপ্রেম,
যমের ভাবের অন্ত নাই।
বিহ্বল হইয়া যম,                     করে বহু ক্রন্দন,
সঙরিয়া জগাই মাধাই॥
যমের যতেক গণ,                দেখিয়া যমের প্রেম,
আনন্দে পড়িয়া গড়ি যায়।
চিত্রগুপ্ত মহাভাগ,                কৃষ্ণে বড় অনুরাগ,
মালসাট্ পূরি পূরি ধায়॥
নাচে প্রভু শঙ্কর,                       হইয়া দিগম্বর,
কৃষ্ণাবেশে বসন না জানে।
বৈষ্ণবের অগ্রগণ্য,                জগত করয়ে ধন্য,
কহিয়া তারক-রামনামে॥
নাচে মহেশ আনন্দে,               জটা নাহিক বান্ধে,
দেখি নিজ-প্রভুর মহিমা।
কার্ত্তিক গণেশ নাচে,            মহেশের পাছে পাছে,
স্মঙরিয়া কারুণ্যের সীমা॥
নাচয়ে চতুরানন,                  ভক্তি যার প্রাণ ধন,
লইয়া সকল পরিবার।
কশ্যপ কর্দ্দম দক্ষ,                  মনু ভৃগু মহামুখ্য,
পাছে নাচে সকল ব্রহ্মার॥
সবে মহা-ভাগবত,                   কৃষ্ণরসে মহামত্ত,
সবে করে ভক্তি-অধ্যাপনা।
বেঢ়িয়া ব্রহ্মার পাশে,           কান্দে ছাড়ি দীর্ঘশ্বাসে,
স্মঙরিয়া প্রভুর করুণা॥
দেবর্ষি নারদ নাচে,               রহিয়া ব্রহ্মার পাছে,
নয়নে বহয়ে প্রেমজল।
পাইয়া যশের সীমা,            কোথা বা রহিল বীণা,
না জানয়ে --- আনন্দে বিহ্বল॥
চৈতন্যের প্রিয় ভৃত্য,             শুকদেব করে নৃত্য,
ভক্তির মহিমা শুক জানে।
লোটাইয়া পড়ে ধূলি,             ‘জগাই মাধাই’ বলি,
করে বহু দণ্ড-পরণামে॥
নাচে ইন্দ্র সুরেশ্বর,                  মহাবীর বজ্রধর,
আপনারে করে অনুতাপ।
সহস্র-নয়নে ধার,                  অবিরত বহে যার,
সফল হইল ব্রহ্মশাপ॥
প্রভুর মহিমা দেখি,                 ইন্দ্রদেব বড় সুখী,
গড়াগড়ি যায় পরবশ।
কোথা গেল বজ্রসার              কোথায় কিরীট হার,
ইহারে সে বলি কৃষ্ণ-রস॥
চন্দ্র সূর্য্য পবন,                     কুবের বহ্নি বরুণ,
নাচে সব যত লোকপাল।
সভেই কৃষ্ণের ভৃত্য,                 কৃষ্ণরসে করে নৃত্য,
দেখিয়া কৃষ্ণের ঠাকুরাল॥
নাচে সব দেবর্ষে,                    উলসিত-মন হর্ষে,
ছোট বড় না জানে হরিষে।
বড় হয় ঠেলাঠেলী,                   তবু সবে কুতূহলী,
সত্য সুখ কৃষ্ণের আবেশে॥
নাচে প্রভু ভগবান্,                 ‘অনন্ত’ যাঁহার নাম,
বিনতা-নন্দন করি সঙ্গে।
সকল বৈষ্ণবরাজ,                  পালন যাঁহার কাজ,
আদিদেব সেহো নাচে রঙ্গে॥
অজ ভব নারদ,                  শুক আদি যত দেব,
অনন্ত বেড়িয়া সবে নাচে।
গৌরচন্দ্র অবতার,                   ব্রহ্মদৈত্য-উদ্ধার,
সহস্র-বদন গায় মাঝে॥
কেহো কান্দে কেহ হাসে,          দেখি মহা পরকাশে
কেহো মূর্চ্ছা পায় সেই ঠাঁই রে।
কেহো বলে ভাল ভাল,             গৌরচন্দ্র ঠাকুরাল,
ধন্য ধন্য জগাই মাধাই রে॥
নৃত্য-গীত-কোলাহলে,                কৃষ্ণ-যশ-সুমঙ্গলে,
পূর্ণ হৈল সকল আকাশ রে।
মহা জয়-জয়-ধ্বনি,               অনন্ত ব্রহ্মাণ্ডে শুনি,
অমঙ্গল সব গেল নাশ রে॥
সত্যলোক আদি জিনি,             উঠিল মঙ্গল-ধ্বনি,
স্বর্গ মর্ত্ত্য পূরিল পাতাল রে।
ব্রহ্মদৈত্য-উদ্ধার,                  বহি নাহি শুনি আর,
প্রকট গৌরাঙ্গ-ঠাকুরাল রে॥
হেন মহাভাগবত,                     সব দেবগণ যত,
কৃষ্ণাবেশে চলিলেন পুরে রে।
গৌরাঙ্গচন্দ্রের যশ,              বিনে আর কোন রস,
কাহারো বদনে নাহি স্ফুরে রে॥
জয় জয় জগত-,                        মঙ্গল গৌরচন্দ্র,
জয় সর্ব্ব-জীব-লোক-নাথ রে।
উদ্ধারিলা করুণাতে,              ব্রহ্মদৈত্য যেন মতে,
সবা প্রতি কর দৃষ্টিপাত রে॥
জয় জয় শ্রীচৈতন্য,                   সংসার সর ধন্য,
পতিত-পাবন ধন্য বানা রে।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য,                    নিত্যানন্দ-চান্দ প্রভু,
বৃন্দাবন দাস গুণ গান রে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ
সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১ম তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছ্বাস, ৩৫-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

নাচই ধর্ম্মরাজ                       ছাড়িয়া সব কাজ
কৃষ্ণাবেশে না জানে আপনা।
সোঙরিয়া শ্রীচৈতন্য                    বলেন ধন্য ধন্য
পতিতপাবন ধন্যবানা॥
হুঙ্কার গরজন                       পুলকিত মহাপ্রেম
যমের ভাবের অন্ত নাই।
বিহ্বল হইয়া যম                    করে বহু ক্রন্দন
সোঙরিয়া গৌরাঙ্গ গোসাঞি॥
যমের যতেক গণ               দেখিয়া যমের প্রেম
আনন্দে পড়িয়া গড়ি যায়।
চিত্রগুপ্ত মহাভাগ                 কৃষ্ণে বড় অনুরাগ
মালসাট পুরি পুরি ধায়॥
নাচে প্রভু শঙ্কর                         হইয়া দিগম্বর
কৃষ্ণাবেশে বসন না জানে।
বৈষ্ণবের অগ্রগণ্য                  জগত করিল ধন্য
কহিয়া তারক রাম-নামে॥
মহেশ নাচে আনন্দে               জটা নাহিক বাঁধে
দেখি নিজ প্রভুর মহিমা।
কার্ত্তিক গণেশ নাচে            মহেশের পাছে পাছে
সোঙরিয়া কারুণ্যের সীমা॥
নাচয়ে চতুরানন                   ভক্তি যার প্রাণধন
লইয়া সকল পরিবার।
কশ্যপ কর্দ্দম দক্ষ                   মনু ভৃগু মহামুখ্য
পাছে নাচে সকল ব্রহ্মার॥
দেবর্ষি নারদ নাচে                রহিয়া ব্রহ্মার কাছে
নয়নেতে বহে প্রেমজল।
পাইয়া যশের সীমা              কোথা বা রহিল বীণা
না জানয়ে আনন্দে বিহ্বল॥
চৈতন্যের প্রিয় ভৃত্য              শুকদেব করে নৃত্য
ভক্তির মহিমা শুক জানে।
লোটাইয়া পড়ে ধূলি                জগাই মাধাই বলি
করে বহু দণ্ড পরণামে॥
নাচে ইন্দ্র সুরেশ্বর                   মহাবীর বজ্রধর
আপনারে করে অনুতাপ।
সহস্র নয়নে যার                  অবিরত বহে ধার
সফল হইল ব্রহ্মশাপ॥
প্রভুর মহিমা দেখি                 ইন্দ্রদেব বড় সুখী
গড়াগড়ি ধায় পরবশ।
কোথা গেল বজ্র তার            কোথায় কিরীট হার
ইহারে সে বলি কৃষ্ণরস॥
চন্দ্র সূর্য্য পবন                 কুবের বহ্নি বরুণ
নাচে যত সব লোকপাল।
সবেই কৃষ্ণের ভৃত্য              কৃষ্ণরসে করে নৃত্য
দেখিয়া কৃষ্ণের ঠাকুরাল॥
জয় জয় শ্রীচৈতন্য               সংসার করিলা ধন্য
পতিতপাবন ধন্যবান রে।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচন্দ্র                জান নিত্যানন্দচন্দ্র
বৃন্দাবনদাস রস গান রে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
নাচে সধ্ব দেবর্ষে উল্লাসিত মন হর্ষে
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ
সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১ম তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছ্বাস, ৩৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে। এই পদটির প্রথম চারটি কলি বাদ দিয়ে তার পরের অংশ “কেহ কাঁদে কেহ হাসে দেখি মহা
পরকাশে” শিরোনামের পদ হিসেবে, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলীতে সংকলিত আছে।

॥ শ্রীরাগ॥

নাচে সধ্ব দেবর্ষে                     উল্লাসিত মন হর্ষে
ছোট বড় না জানে হরিষে।
বড় হয় ঠেলাঠেলি                       তবু সবে কুতূহলী
নৃত্যসুখে কৃষ্ণের আবেশে॥
নাচে প্রভু ভগবান                     অনন্ত যাঁহার নাম
বিনতানন্দন করি সঙ্গে।
সকল বৈষ্ণবরাজ                      পালন যাঁহার কাজ
আদিদেব সেহ নাচে রঙ্গে॥
কেহ কেহ হাসে                       দেখি মহা পরকাশে
কে মূর্চ্ছা পায় সেই ঠাঞি রে।
কেহ কহে ভাল ভাল                   গৌরচন্দ্র ঠাকুরাল
ধন্য পাপী জগাই মাধাই রে॥
নৃত্যগীত কোলাহলে                      কৃষ্ণযশ সুমঙ্গলে
পূর্ণ হৈল সকল আকাশ রে।
মহা জয় জয় ধ্বনি                   অনন্ত ব্রহ্মাণ্ডে শুনি
অমঙ্গল সব হৈল নাশ রে॥
সত্যলোক আদি জিনি                   উঠিল মঙ্গলধ্বনি
স্বর্গ মর্ত্ত পুরিয়া পাতাল রে।
ব্রহ্মদৈত্য উদ্ধার                      বহি নাহি শুনি আর
প্রকট গৌরাঙ্গ ঠাকুরাল রে॥
কৃষ্ণরসে হেন মতে                       যত মহাভাগবতে
কৃষ্ণাবেশে চলিলেন পুরে রে।
গৌরাঙ্গচন্দ্রের যশ                    বিনা আর কোন রস
কাহার বদনে নাহি স্ফুরে রে॥
জয় জয় জগদিন্দ্র                         প্রভু শ্রীগৌরচন্দ্র
জয় সর্ব্ব-জীব-লোকনাথ রে।
করুণা যে প্রকাশিলা                  ব্রহ্মদৈত্য উদ্ধারিলা
সবা প্রতি কর দৃষ্টিপাত রে॥
জয় জয় শ্রীচৈতন্য                     সংসার করিলা ধন্য
পতিতপাবন ধন্যবান রে।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচন্দ্র                       জান নিত্যানন্দচন্দ্র
বৃন্দাবনদাস রস গান রে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
কেহ কাঁদে কেহ হাসে দেখি মহা পরকাশে
ভণিতা বৃন্দাবনদাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৭৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ বলে উল্লেখ রয়েছে
। এই পদটি “নাচে সধ্ব দেবর্ষে উল্লাসিত মন হর্ষে” পদের প্রথম চারটি কলি বাদ দিয়ে তার পরের অংশ।

জগাই মাধাই উদ্ধার

কেহ কাঁদে কেহ হাসে                  দেখি মহা পরকাশে
কে মূর্চ্ছা পায় সেই ঠাঞি রে।
কেহ কহে ভাল ভাল                     গৌরচন্দ্র ঠাকুরাল
ধন্য পাপী জগাই মাধাই রে॥
নৃত্যগীত কোলাহলে                       কৃষ্ণযশ সুমঙ্গলে
পূর্ণ হৈল সকল আকাশ রে।
মহা জয় জয় ধ্বনি                     অনন্ত ব্রহ্মাণ্ডে শুনি
অমঙ্গল সব হৈল নাশ রে॥
সত্যলোক আদি জিনি                     উঠিল মঙ্গলধ্বনি
স্বর্গ মর্ত্ত পূরিয়া পাতাল রে।
ব্রহ্মদৈত্য উদ্ধার                       বই নাহি শুনি আর
প্রকট গৌরাঙ্গ ঠাকুরাল রে॥
কৃষ্ণরসে হেন মতে                       যত মহাভাগবতে
কৃষ্ণাবেশে চলিলেন পুরে রে।
গৌরাঙ্গচন্দ্রের যশ                     বিনা আর কোন রস
কাহার বদনে নাহি স্ফুরে রে॥
জয় জয় জগদিন্দ্র                          প্রভু শ্রীগৌরচন্দ্র
জয় সর্ব্ব-জীব-লোকনাথ রে।
করুণা যে প্রকাশিলা                   ব্রহ্মদৈত্য উদ্ধারিলা
সবা প্রতি কর দৃষ্টিপাত রে॥
জয় জয় শ্রীচৈতন্য                      সংসার করিলা ধন্য
পতিতপাবন ধন্য বানা রে।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচন্দ্র                       জান নিত্যানন্দচন্দ্র
বৃন্দাবনদাস রস গানা রে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২২৪-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

কেহ কাঁদে কেহ হাসে দেখি মহা পর-                
কাশে কে মূর্চ্ছা পায় সেই ঠাঞি রে।                
কেহ কহে ভাল ভাল গৌরচন্দ্র ঠাকুরাল              
ধন্য পাপী জগাই মাধাই রে॥
নৃত্যগীত কোলাহলে কৃষ্ণযশ সুমঙ্গলে                
পূর্ণ হৈল সকল আকাশ রে।
মহা জয় জয় ধ্বনি অনন্ত ব্রহ্মাণ্ডে শুনি              
অমঙ্গল সব হৈল নাশ রে॥
সত্যলোক আদি জিনি উঠিল মঙ্গলধ্বনি              
স্বর্গ মর্ত্ত পূরিয়া পাতাল রে।
ব্রহ্মদৈত্য উদ্ধার বই নাহি শুনি আর                
প্রকট গৌরাঙ্গ ঠাকুরাল রে॥
কৃষ্ণরসে হেন মতে যত মহাভাগবতে                
কৃষ্ণাবেশে চলিলেন পুরে রে।
গৌরাঙ্গচন্দ্রের যশ বিনা আর কোন রস             
কাহার বদনে নাহি স্ফুরে রে॥
জয় জয় জগদিন্দ্র প্রভু শ্রীগৌরচন্দ্র                  
জয় সর্ব্ব জীব লোকনাথ রে।
করুণা যে প্রকাশিলা ব্রহ্মদৈত্য উদ্ধারিলা             
সবা প্রতি কর দৃষ্টিপাত রে॥
জয় জয় শ্রীচৈতন্য সংসার করিলা ধন্য              
পতিতপাবন ধন্য বানা রে।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচন্দ্র জান নিত্যানন্দচন্দ্র                  
বৃন্দাবনদাস রস গানা রে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
জয় জয় রব ভেল নদীয়া নগরে
ভণিতা বৃন্দাবনদাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত,
মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২য় তরঙ্গ, ১ম
উচ্ছ্বাস, ৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী ॥

জয় জয় রব ভেল নদীয়া নগরে।
জন্মিলেন শ্রীগৌরাঙ্গ জগন্নাথ ঘরে॥
জগন্মাতা শচীদেবী মিশ্র জগন্নাথ।
মহানন্দে গগন পাওল জনু হাত॥
গ্রহণ সময়ে পহুঁ আইলা অবনী।
শঙ্খনাদ হরিধ্বনি চারি ভিতে শুনি॥
নদীয়া-নাগরীগণ দেয় জয়কার।
হুলুধ্বনি হরিধ্বনি আনন্দ অপার॥
পাপ রাহু অবনী করিয়াছিল গ্রাস।
পূর্ণশশী গৌরপহুঁ তে ভেল প্রকাশ॥
গৌরচন্দ্র-চন্দ্র প্রেম-অমৃত সিঞ্চিবে।
বৃন্দাবনদাস কহে পাপতম যাবে॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী ॥

জয় জয় রব ভেল নদীয়া নগরে।
জন্মিলেন শ্রীগৌরাঙ্গ জগন্নাথ ঘরে॥
জগন্মাতা শচীদেবী মিশ্র জগন্নাথ।
মহানন্দে প্রাণ পাওল জনু হাত॥
গ্রহণ সময়ে পহুঁ আইলা অবনী।
শঙ্খনাদ হরিধ্বনি চারিভিতে শুনি॥
নদীয়া নাগরীগণ দেয় জয় কার।
হুলুধ্বনি হরিধ্বনি আনন্দ অপার॥
পাপ রাহু অবনী করিয়াছিল গ্রাস।
পূর্ণশশী গৌর পহুঁ তে ভেল প্রকাশ॥
গৌরচন্দ্র চন্দ্র প্রেম-অমৃত সিঞ্চিবে।
বৃন্দাবন দাস কহে পাপতম যাবে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন
দাস (১) এর পদ বলে উল্লেখ রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের আবির্ভাব

॥ ধানশী ॥

জয় জয় রব ভেল নদীয়া নগরে।
জন্মিলেন শ্রীগৌরাঙ্গ জগন্নাথ ঘরে॥
জগন্মাতা শচীদেবী মিশ্র জগন্নাথ।
মহানন্দে গগন পাওল জনু হাত॥
গ্রহণ সময়ে পহুঁ আইলা অবনী।
শঙ্খনাদ হরিধ্বনি চারি ভিতে শুনি॥
নদীয়া-নাগরীগণ দেয় জয়কার।
হুলুধ্বনি হরিধ্বনি আনন্দ অপার॥
পাপ রাহু অবনী করিয়াছিল গ্রাস।
পূর্ণশশী গৌরপহুঁ তে ভেল প্রকাশ॥
গৌরচন্দ্রচন্দ্র প্রেমঅমৃত সিঞ্চিবে।
বৃন্দাবনদাস কহে পাপতম যাবে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২২৫-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

জয় জয় রব ভেল নদীয়া নগরে।
জন্মিলেন শ্রীগৌরাঙ্গ জগন্নাথ ঘরে॥
জগন্মাতা শচীদেবী মিশ্র জগন্নাথ।
মহানন্দে গগন পাওল জনু হাত॥
গ্রহণ সময়ে পহুঁ আইলা অবনী।
শঙ্খনাদ হরিধ্বনি চারি ভিতে শুনি॥
নদীয়া নাগরীগণ দেয় জয়কার।
হুলুধ্বনি হরিধ্বনি আনন্দ অপার॥
পাপ রাহু অবনী করিয়াছিল গ্রাস।
পূর্ণশশী গৌরপহুঁ তে ভেল প্রকাশ॥
গৌরচন্দ্রচন্দ্র প্রেমঅমৃত সিঞ্চিবে।
বৃন্দাবনদাস কহে পাপতম যাবে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
জিনিয়া রবিকর শ্রীঅঙ্গ সুন্দর
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৫৬০ খৃষ্টাব্দ নাগাদ, বৃন্দাবন দাস বিরচিত এবং১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১খৃষ্টাব্দ)
রাধানাথ কাবাশীদ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত" শ্রীশ্রীচৈতন্য-ভাগবত" গ্রন্থ, আদি খণ্ড, ২য় অধ্যায়, ১৭-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী ॥

জিনিয়া রবি-কর,                 শ্রীঅঙ্গ সুন্দর,
নয়নে হেরই না পারি।
আয়ত লোচন,                      ঈষত বঙ্কিম,
উপমা নাহিক বিচারি॥
( আজু ) বিজয়ে গৌরাঙ্গ,    অবনী-মণ্ডলে
চৌদিকে শুনিয়া উল্লাস।
এক হরি-ধ্বনি,                আব্রহ্ম ভরি শুনি,
গৌরাঙ্গ-চাঁদের পরকাশ॥
চন্দনে উজ্জ্বল,                       বক্ষ পরিসর,
দোলয়ে তথি বনমাল।
চাঁদ সুশীতল,                        শ্রীমুখ-মণ্ডল,
আজানু বাহু বিশাল॥
দেখিয়া চৈতন্য,                  ভুবনে ধন্য ধন্য,
উঠয়ে জয় জয় নাদ।
কোই নাচত,                        কোই গায়ত,
কলি হৈলা হরিষে বিষাদ॥
চারি-বেদ-শির-                    মুকুট চৈতন্য,
পামর মূঢ় নাহি জানে।
শ্রীচৈতন্য চন্দ্র,                     নিতাই ঠাকুর,
বৃন্দাবন দাস রস গানে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ
সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২য় তরঙ্গ, ১ম উচ্ছ্বাস, ৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

জিনিয়া রবি কর                     শ্রীঅঙ্গ সুন্দর
নয়ন হেরই না পারি।
আয়ত লোচন                           ঈষৎ বঙ্কিম
উপমা নাহিক বিচারি॥
আজি বিজয়ে                 গৌরাঙ্গ অবনীমণ্ডলে
চৌদিকে শুনায় উল্লাস।
এক হরিধ্বনি                       আব্রহ্ম ভরি শুনি
গৌরাঙ্গচাঁদের পরকাশ॥
চন্দনে উজ্জ্বল                          বক্ষ পরিসর
দোলনি যৈছে বনমাল।
চাঁদ সুশীতল                             শ্রীমুখমণ্ডল
আজানু বাহু বিশাল॥
দেখিয়া চৈতন্য                        ধন্য ধন্য ধন্য
জয় জয় উঠয়ে নাদ।
কোই নাচত                            কোই গাওত
কলির হৈল হরিষে বিষাদ॥
চারি বেদ শির                       মুকুট গৌরাঙ্গ
পরম মূঢ় নাহি জানে।
শ্রীচৈতন্য নিতাই                        বড় ঠাকুর
বৃন্দাবনদাস রস গানে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর