| কবি বৃন্দাবন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| পুলকে চরিত গায় সুখে গড়াগড়ি যায় পুলকে পূরিত গায় সুখে গড়াগড়ি যায় ভণিতা বৃন্দাবন কবি বৃন্দাবন দাস এই পদটি আনুমানিক ১৫৬০ খৃষ্টাব্দ নাগাদ, বৃন্দাবন দাস বিরচিত এবং১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১খৃষ্টাব্দ) রাধানাথ কাবাশী দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত"শ্রীশ্রীচৈতন্য-ভাগবত" গ্রন্থ, অন্ত্য খণ্ড, ৯ম অধ্যায়, ৪২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ ॥ পুলকে চরিত গায়, সুখে গড়াগড়ি যায়, দেখ রে চৈতন্য-অবতার। বৈকুন্ঠে-নায়ক হরি, দ্বিজ-রূপে অবতরি, সঙ্কীর্ত্তনে করেন বিহার॥ কনক জিনিয়া কান্তি, শ্রীবিগ্রহ-শোভা ভান্তি আজানুলম্বিত ভুজ সাজে রে। ন্যাসিবর-রূপ-ধর, আপনা রসে বিহ্বল, না জানি কেমন সুখে নাচে রে॥ ধ্রু॥ জয় গৌরসুন্দর, করুণাসিন্ধুময়, জয় জয় বৃন্দাবন-রায়া রে। জয় জয় সম্প্রতি, নবদ্বীপ-পুরন্দর, চরণ-কমলে দেহ ছায়া রে॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১ম তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছ্বাস, ২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ॥ পুলকে চরিত গায় সুখে গড়াগড়ি যায় দেখ রে চৈতন্য অবতার। বৈকুন্ঠ-নায়ক হরি দ্বিজরূপে অবতরি সংকীর্ত্তনে করেন বিহার॥ কনক জিনিয়া কান্তি শ্রীবিগ্রহ শোভা ভান্তি আজানুলম্বিত ভুজ সাজে। সন্ন্যাসীর রূপ ধরি আপন রসে বিহ্বল না জানি কেমন সুখে নাচে॥ জয় শ্রীগৌরসুন্দর করুণার সিন্ধুময় জয় বৃন্দাবনরায় রে। নবদ্বীপ পুরন্দর বৃন্দাবন পামরে চরণকমলে দেহ ছায় রে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ বলে উল্লেখ রয়েছে। শ্রীগৌরচন্দ্রের সন্ন্যাস ॥ শ্রীরাগ॥ পুলকে পূরিত গায় সুখে গড়াগড়ি যায় দেখ রে চৈতন্য অবতার। গোলক-নায়ক হরি দ্বিজরূপে অবতরি সংকীর্ত্তনে করেন বিহার॥ কনক জিনিয়া কান্তি শ্রীবিগ্রহ শোভা ভান্তি আজানুলম্বিত ভুজ সাজে। সন্ন্যাসীর রূপ ধরি রাধারসে বিহ্বল না জানি কেমন সুখে নাচে॥ জয় গৌরসুন্দর করুণার সিন্ধু বর জয় বৃন্দাবনরায় রে। নবদ্বীপ পুরন্দর বৃন্দাবন পামরে চরণকমলে দেহ ছায় রে॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৩৪-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে। পুলকে পূরিত গায় সুখে গড়াগড়ি যায় দেখ রে চৈতন্য অবতার। গোলক নায়ক হরি দ্বিজরূপে অবতরি সংকীর্ত্তনে করেন বিহার॥ কনক জিনিয়া কান্তি শ্রীবিগ্রহ শোভা ভান্তি আজানুলম্বিত ভুজ সাজে। সন্ন্যাসীর রূপ ধরি রাধারসে বিহ্বল না জানি কেমন সুখে নাচে॥ জয় গৌরসুন্দর করুণার সিন্ধু বর জয় বৃন্দাবনরায় রে। নবদ্বীপ পুরন্দর বৃন্দাবন পামরে চরণকমলে দেহ ছায় রে॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নাচই ধর্ম্মরাজ ছাড়িয়া সব কাজ ভণিতা বৃন্দাবন দাস কবি বৃন্দাবন দাস এই পদটি আনুমানিক ১৫৬০ খৃষ্টাব্দ নাগাদ, বৃন্দাবন দাস বিরচিত এবং১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১খৃষ্টাব্দ) রাধানাথ কাবাশীদ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত" শ্রীশ্রীচৈতন্য-ভাগবত" গ্রন্থ, মধ্য খণ্ড, ১৪তম অধ্যায়, ২২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ ॥ নাচই ধর্ম্মরাজ, ছাড়িয়া সকল কাজ, কৃষ্ণাবেশে না জানে আপনা। স্মঙরিয়া শ্রীচৈতন্য, বলেন ধন্য ধন্য, পতিত-পাবন ধন্য বানা॥ হুহুঙ্কার গর্জ্জন, সপুলক মহাপ্রেম, যমের ভাবের অন্ত নাই। বিহ্বল হইয়া যম, করে বহু ক্রন্দন, সঙরিয়া জগাই মাধাই॥ যমের যতেক গণ, দেখিয়া যমের প্রেম, আনন্দে পড়িয়া গড়ি যায়। চিত্রগুপ্ত মহাভাগ, কৃষ্ণে বড় অনুরাগ, মালসাট্ পূরি পূরি ধায়॥ নাচে প্রভু শঙ্কর, হইয়া দিগম্বর, কৃষ্ণাবেশে বসন না জানে। বৈষ্ণবের অগ্রগণ্য, জগত করয়ে ধন্য, কহিয়া তারক-রামনামে॥ নাচে মহেশ আনন্দে, জটা নাহিক বান্ধে, দেখি নিজ-প্রভুর মহিমা। কার্ত্তিক গণেশ নাচে, মহেশের পাছে পাছে, স্মঙরিয়া কারুণ্যের সীমা॥ নাচয়ে চতুরানন, ভক্তি যার প্রাণ ধন, লইয়া সকল পরিবার। কশ্যপ কর্দ্দম দক্ষ, মনু ভৃগু মহামুখ্য, পাছে নাচে সকল ব্রহ্মার॥ সবে মহা-ভাগবত, কৃষ্ণরসে মহামত্ত, সবে করে ভক্তি-অধ্যাপনা। বেঢ়িয়া ব্রহ্মার পাশে, কান্দে ছাড়ি দীর্ঘশ্বাসে, স্মঙরিয়া প্রভুর করুণা॥ দেবর্ষি নারদ নাচে, রহিয়া ব্রহ্মার পাছে, নয়নে বহয়ে প্রেমজল। পাইয়া যশের সীমা, কোথা বা রহিল বীণা, না জানয়ে --- আনন্দে বিহ্বল॥ চৈতন্যের প্রিয় ভৃত্য, শুকদেব করে নৃত্য, ভক্তির মহিমা শুক জানে। লোটাইয়া পড়ে ধূলি, ‘জগাই মাধাই’ বলি, করে বহু দণ্ড-পরণামে॥ নাচে ইন্দ্র সুরেশ্বর, মহাবীর বজ্রধর, আপনারে করে অনুতাপ। সহস্র-নয়নে ধার, অবিরত বহে যার, সফল হইল ব্রহ্মশাপ॥ প্রভুর মহিমা দেখি, ইন্দ্রদেব বড় সুখী, গড়াগড়ি যায় পরবশ। কোথা গেল বজ্রসার কোথায় কিরীট হার, ইহারে সে বলি কৃষ্ণ-রস॥ চন্দ্র সূর্য্য পবন, কুবের বহ্নি বরুণ, নাচে সব যত লোকপাল। সভেই কৃষ্ণের ভৃত্য, কৃষ্ণরসে করে নৃত্য, দেখিয়া কৃষ্ণের ঠাকুরাল॥ নাচে সব দেবর্ষে, উলসিত-মন হর্ষে, ছোট বড় না জানে হরিষে। বড় হয় ঠেলাঠেলী, তবু সবে কুতূহলী, সত্য সুখ কৃষ্ণের আবেশে॥ নাচে প্রভু ভগবান্, ‘অনন্ত’ যাঁহার নাম, বিনতা-নন্দন করি সঙ্গে। সকল বৈষ্ণবরাজ, পালন যাঁহার কাজ, আদিদেব সেহো নাচে রঙ্গে॥ অজ ভব নারদ, শুক আদি যত দেব, অনন্ত বেড়িয়া সবে নাচে। গৌরচন্দ্র অবতার, ব্রহ্মদৈত্য-উদ্ধার, সহস্র-বদন গায় মাঝে॥ কেহো কান্দে কেহ হাসে, দেখি মহা পরকাশে কেহো মূর্চ্ছা পায় সেই ঠাঁই রে। কেহো বলে ভাল ভাল, গৌরচন্দ্র ঠাকুরাল, ধন্য ধন্য জগাই মাধাই রে॥ নৃত্য-গীত-কোলাহলে, কৃষ্ণ-যশ-সুমঙ্গলে, পূর্ণ হৈল সকল আকাশ রে। মহা জয়-জয়-ধ্বনি, অনন্ত ব্রহ্মাণ্ডে শুনি, অমঙ্গল সব গেল নাশ রে॥ সত্যলোক আদি জিনি, উঠিল মঙ্গল-ধ্বনি, স্বর্গ মর্ত্ত্য পূরিল পাতাল রে। ব্রহ্মদৈত্য-উদ্ধার, বহি নাহি শুনি আর, প্রকট গৌরাঙ্গ-ঠাকুরাল রে॥ হেন মহাভাগবত, সব দেবগণ যত, কৃষ্ণাবেশে চলিলেন পুরে রে। গৌরাঙ্গচন্দ্রের যশ, বিনে আর কোন রস, কাহারো বদনে নাহি স্ফুরে রে॥ জয় জয় জগত-, মঙ্গল গৌরচন্দ্র, জয় সর্ব্ব-জীব-লোক-নাথ রে। উদ্ধারিলা করুণাতে, ব্রহ্মদৈত্য যেন মতে, সবা প্রতি কর দৃষ্টিপাত রে॥ জয় জয় শ্রীচৈতন্য, সংসার সর ধন্য, পতিত-পাবন ধন্য বানা রে। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য, নিত্যানন্দ-চান্দ প্রভু, বৃন্দাবন দাস গুণ গান রে॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১ম তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছ্বাস, ৩৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ॥ নাচই ধর্ম্মরাজ ছাড়িয়া সব কাজ কৃষ্ণাবেশে না জানে আপনা। সোঙরিয়া শ্রীচৈতন্য বলেন ধন্য ধন্য পতিতপাবন ধন্যবানা॥ হুঙ্কার গরজন পুলকিত মহাপ্রেম যমের ভাবের অন্ত নাই। বিহ্বল হইয়া যম করে বহু ক্রন্দন সোঙরিয়া গৌরাঙ্গ গোসাঞি॥ যমের যতেক গণ দেখিয়া যমের প্রেম আনন্দে পড়িয়া গড়ি যায়। চিত্রগুপ্ত মহাভাগ কৃষ্ণে বড় অনুরাগ মালসাট পুরি পুরি ধায়॥ নাচে প্রভু শঙ্কর হইয়া দিগম্বর কৃষ্ণাবেশে বসন না জানে। বৈষ্ণবের অগ্রগণ্য জগত করিল ধন্য কহিয়া তারক রাম-নামে॥ মহেশ নাচে আনন্দে জটা নাহিক বাঁধে দেখি নিজ প্রভুর মহিমা। কার্ত্তিক গণেশ নাচে মহেশের পাছে পাছে সোঙরিয়া কারুণ্যের সীমা॥ নাচয়ে চতুরানন ভক্তি যার প্রাণধন লইয়া সকল পরিবার। কশ্যপ কর্দ্দম দক্ষ মনু ভৃগু মহামুখ্য পাছে নাচে সকল ব্রহ্মার॥ দেবর্ষি নারদ নাচে রহিয়া ব্রহ্মার কাছে নয়নেতে বহে প্রেমজল। পাইয়া যশের সীমা কোথা বা রহিল বীণা না জানয়ে আনন্দে বিহ্বল॥ চৈতন্যের প্রিয় ভৃত্য শুকদেব করে নৃত্য ভক্তির মহিমা শুক জানে। লোটাইয়া পড়ে ধূলি জগাই মাধাই বলি করে বহু দণ্ড পরণামে॥ নাচে ইন্দ্র সুরেশ্বর মহাবীর বজ্রধর আপনারে করে অনুতাপ। সহস্র নয়নে যার অবিরত বহে ধার সফল হইল ব্রহ্মশাপ॥ প্রভুর মহিমা দেখি ইন্দ্রদেব বড় সুখী গড়াগড়ি ধায় পরবশ। কোথা গেল বজ্র তার কোথায় কিরীট হার ইহারে সে বলি কৃষ্ণরস॥ চন্দ্র সূর্য্য পবন কুবের বহ্নি বরুণ নাচে যত সব লোকপাল। সবেই কৃষ্ণের ভৃত্য কৃষ্ণরসে করে নৃত্য দেখিয়া কৃষ্ণের ঠাকুরাল॥ জয় জয় শ্রীচৈতন্য সংসার করিলা ধন্য পতিতপাবন ধন্যবান রে। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচন্দ্র জান নিত্যানন্দচন্দ্র বৃন্দাবনদাস রস গান রে॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নাচে সধ্ব দেবর্ষে উল্লাসিত মন হর্ষে কবি বৃন্দাবন দাস এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১ম তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছ্বাস, ৩৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটির প্রথম চারটি কলি বাদ দিয়ে তার পরের অংশ “কেহ কাঁদে কেহ হাসে দেখি মহা পরকাশে” শিরোনামের পদ হিসেবে, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলীতে সংকলিত আছে। ॥ শ্রীরাগ॥ নাচে সধ্ব দেবর্ষে উল্লাসিত মন হর্ষে ছোট বড় না জানে হরিষে। বড় হয় ঠেলাঠেলি তবু সবে কুতূহলী নৃত্যসুখে কৃষ্ণের আবেশে॥ নাচে প্রভু ভগবান অনন্ত যাঁহার নাম বিনতানন্দন করি সঙ্গে। সকল বৈষ্ণবরাজ পালন যাঁহার কাজ আদিদেব সেহ নাচে রঙ্গে॥ কেহ কেহ হাসে দেখি মহা পরকাশে কে মূর্চ্ছা পায় সেই ঠাঞি রে। কেহ কহে ভাল ভাল গৌরচন্দ্র ঠাকুরাল ধন্য পাপী জগাই মাধাই রে॥ নৃত্যগীত কোলাহলে কৃষ্ণযশ সুমঙ্গলে পূর্ণ হৈল সকল আকাশ রে। মহা জয় জয় ধ্বনি অনন্ত ব্রহ্মাণ্ডে শুনি অমঙ্গল সব হৈল নাশ রে॥ সত্যলোক আদি জিনি উঠিল মঙ্গলধ্বনি স্বর্গ মর্ত্ত পুরিয়া পাতাল রে। ব্রহ্মদৈত্য উদ্ধার বহি নাহি শুনি আর প্রকট গৌরাঙ্গ ঠাকুরাল রে॥ কৃষ্ণরসে হেন মতে যত মহাভাগবতে কৃষ্ণাবেশে চলিলেন পুরে রে। গৌরাঙ্গচন্দ্রের যশ বিনা আর কোন রস কাহার বদনে নাহি স্ফুরে রে॥ জয় জয় জগদিন্দ্র প্রভু শ্রীগৌরচন্দ্র জয় সর্ব্ব-জীব-লোকনাথ রে। করুণা যে প্রকাশিলা ব্রহ্মদৈত্য উদ্ধারিলা সবা প্রতি কর দৃষ্টিপাত রে॥ জয় জয় শ্রীচৈতন্য সংসার করিলা ধন্য পতিতপাবন ধন্যবান রে। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচন্দ্র জান নিত্যানন্দচন্দ্র বৃন্দাবনদাস রস গান রে॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কেহ কাঁদে কেহ হাসে দেখি মহা পরকাশে ভণিতা বৃন্দাবনদাস কবি বৃন্দাবন দাস এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৭৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ বলে উল্লেখ রয়েছে । এই পদটি “নাচে সধ্ব দেবর্ষে উল্লাসিত মন হর্ষে” পদের প্রথম চারটি কলি বাদ দিয়ে তার পরের অংশ। জগাই মাধাই উদ্ধার কেহ কাঁদে কেহ হাসে দেখি মহা পরকাশে কে মূর্চ্ছা পায় সেই ঠাঞি রে। কেহ কহে ভাল ভাল গৌরচন্দ্র ঠাকুরাল ধন্য পাপী জগাই মাধাই রে॥ নৃত্যগীত কোলাহলে কৃষ্ণযশ সুমঙ্গলে পূর্ণ হৈল সকল আকাশ রে। মহা জয় জয় ধ্বনি অনন্ত ব্রহ্মাণ্ডে শুনি অমঙ্গল সব হৈল নাশ রে॥ সত্যলোক আদি জিনি উঠিল মঙ্গলধ্বনি স্বর্গ মর্ত্ত পূরিয়া পাতাল রে। ব্রহ্মদৈত্য উদ্ধার বই নাহি শুনি আর প্রকট গৌরাঙ্গ ঠাকুরাল রে॥ কৃষ্ণরসে হেন মতে যত মহাভাগবতে কৃষ্ণাবেশে চলিলেন পুরে রে। গৌরাঙ্গচন্দ্রের যশ বিনা আর কোন রস কাহার বদনে নাহি স্ফুরে রে॥ জয় জয় জগদিন্দ্র প্রভু শ্রীগৌরচন্দ্র জয় সর্ব্ব-জীব-লোকনাথ রে। করুণা যে প্রকাশিলা ব্রহ্মদৈত্য উদ্ধারিলা সবা প্রতি কর দৃষ্টিপাত রে॥ জয় জয় শ্রীচৈতন্য সংসার করিলা ধন্য পতিতপাবন ধন্য বানা রে। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচন্দ্র জান নিত্যানন্দচন্দ্র বৃন্দাবনদাস রস গানা রে॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২২৪-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে। কেহ কাঁদে কেহ হাসে দেখি মহা পর- কাশে কে মূর্চ্ছা পায় সেই ঠাঞি রে। কেহ কহে ভাল ভাল গৌরচন্দ্র ঠাকুরাল ধন্য পাপী জগাই মাধাই রে॥ নৃত্যগীত কোলাহলে কৃষ্ণযশ সুমঙ্গলে পূর্ণ হৈল সকল আকাশ রে। মহা জয় জয় ধ্বনি অনন্ত ব্রহ্মাণ্ডে শুনি অমঙ্গল সব হৈল নাশ রে॥ সত্যলোক আদি জিনি উঠিল মঙ্গলধ্বনি স্বর্গ মর্ত্ত পূরিয়া পাতাল রে। ব্রহ্মদৈত্য উদ্ধার বই নাহি শুনি আর প্রকট গৌরাঙ্গ ঠাকুরাল রে॥ কৃষ্ণরসে হেন মতে যত মহাভাগবতে কৃষ্ণাবেশে চলিলেন পুরে রে। গৌরাঙ্গচন্দ্রের যশ বিনা আর কোন রস কাহার বদনে নাহি স্ফুরে রে॥ জয় জয় জগদিন্দ্র প্রভু শ্রীগৌরচন্দ্র জয় সর্ব্ব জীব লোকনাথ রে। করুণা যে প্রকাশিলা ব্রহ্মদৈত্য উদ্ধারিলা সবা প্রতি কর দৃষ্টিপাত রে॥ জয় জয় শ্রীচৈতন্য সংসার করিলা ধন্য পতিতপাবন ধন্য বানা রে। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচন্দ্র জান নিত্যানন্দচন্দ্র বৃন্দাবনদাস রস গানা রে॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| জিনিয়া রবিকর শ্রীঅঙ্গ সুন্দর ভণিতা বৃন্দাবন দাস কবি বৃন্দাবন দাস এই পদটি আনুমানিক ১৫৬০ খৃষ্টাব্দ নাগাদ, বৃন্দাবন দাস বিরচিত এবং১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১খৃষ্টাব্দ) রাধানাথ কাবাশীদ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত" শ্রীশ্রীচৈতন্য-ভাগবত" গ্রন্থ, আদি খণ্ড, ২য় অধ্যায়, ১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী ॥ জিনিয়া রবি-কর, শ্রীঅঙ্গ সুন্দর, নয়নে হেরই না পারি। আয়ত লোচন, ঈষত বঙ্কিম, উপমা নাহিক বিচারি॥ ( আজু ) বিজয়ে গৌরাঙ্গ, অবনী-মণ্ডলে চৌদিকে শুনিয়া উল্লাস। এক হরি-ধ্বনি, আব্রহ্ম ভরি শুনি, গৌরাঙ্গ-চাঁদের পরকাশ॥ চন্দনে উজ্জ্বল, বক্ষ পরিসর, দোলয়ে তথি বনমাল। চাঁদ সুশীতল, শ্রীমুখ-মণ্ডল, আজানু বাহু বিশাল॥ দেখিয়া চৈতন্য, ভুবনে ধন্য ধন্য, উঠয়ে জয় জয় নাদ। কোই নাচত, কোই গায়ত, কলি হৈলা হরিষে বিষাদ॥ চারি-বেদ-শির- মুকুট চৈতন্য, পামর মূঢ় নাহি জানে। শ্রীচৈতন্য চন্দ্র, নিতাই ঠাকুর, বৃন্দাবন দাস রস গানে॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২য় তরঙ্গ, ১ম উচ্ছ্বাস, ৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ জিনিয়া রবি কর শ্রীঅঙ্গ সুন্দর নয়ন হেরই না পারি। আয়ত লোচন ঈষৎ বঙ্কিম উপমা নাহিক বিচারি॥ আজি বিজয়ে গৌরাঙ্গ অবনীমণ্ডলে চৌদিকে শুনায় উল্লাস। এক হরিধ্বনি আব্রহ্ম ভরি শুনি গৌরাঙ্গচাঁদের পরকাশ॥ চন্দনে উজ্জ্বল বক্ষ পরিসর দোলনি যৈছে বনমাল। চাঁদ সুশীতল শ্রীমুখমণ্ডল আজানু বাহু বিশাল॥ দেখিয়া চৈতন্য ধন্য ধন্য ধন্য জয় জয় উঠয়ে নাদ। কোই নাচত কোই গাওত কলির হৈল হরিষে বিষাদ॥ চারি বেদ শির মুকুট গৌরাঙ্গ পরম মূঢ় নাহি জানে। শ্রীচৈতন্য নিতাই বড় ঠাকুর বৃন্দাবনদাস রস গানে॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |