| কবি বৃন্দাবন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| রাহু-কবল ইন্দু প্রকাশ নাম-সিন্ধু রাহু উগারল ইন্দু প্রকাশ নাম সিন্ধু ভণিতা বৃন্দাবন দাস কবি বৃন্দাবন দাস এই পদটি আনুমানিক ১৫৬০ খৃষ্টাব্দ নাগাদ, বৃন্দাবন দাস বিরচিত এবং১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১খৃষ্টাব্দ) রাধানাথ কাবাশীদ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত"শ্রীশ্রীচৈতন্য-ভাগবত" গ্রন্থ, আদিখণ্ড, ২য় অধ্যায়, ১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী ॥ রাহু-কবল ইন্দু, প্রকাস নাম-সিন্ধু, কলি-মর্দ্দন বান্ধে বানা। পহুঁ ভেল প্রকাশ, ভুবন চতুর্দ্দশ, জয় জয় পড়িল ঘোষণা॥ হে মাই ! দেখত গৌরচন্দ্র। নদীয়ার লোক, শোক সব নাশল, দিনে দিনে বাঢ়ল আনন্দ॥ দুন্দুভি বাজে, শত শঙ্খ গাজে, বাজে বেণু বিষাণ। শ্রীচৈতন্য ঠাকুর, নিত্যানন্দ প্রভু, বৃন্দাবন দাস রস গান॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২য় তরঙ্গ, ১ম উচ্ছ্বাস, ৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ রাহু উগারল ইন্দু প্রকাশ নাম সিন্ধু কলিমর্দ্দন বাঁধে বানা। পহুঁ ভেল প্রকাশ ভুবন চতুর্দ্দশ জয় জয় পড়িল ঘোষণা॥ মো মাই দেখত গৌরচন্দ্র। নদীয়ার লোক শোক সব নাশন দিনে দিনে বাঢ়য়ে আনন্দ॥ ধ্রু॥ দুন্দুভি বাজে শত শঙ্খ গাজে বাজে বেণু বিষাণ। শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ মোর পহুঁ রসনানন্দ বৃন্দাবনদাস গান॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ফাল্গুন-পূর্ণিমা তিথি নক্ষত্র ফল্গুনী ভণিতা বৃন্দাবন দাস কবি বৃন্দাবন দাস এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২য় তরঙ্গ, ১ম উচ্ছ্বাস, ৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ ফাল্গুন-পূর্ণিমা তিথি নক্ষত্র ফল্গুনী। প্রতিপদ সন্ধি পাঞা রাহু আইলেক ধাঞা গরাসিল উজ্জ্বল নিশামণি ॥ ধ্রু॥ সে চন্দ্রগ্রহণ হেরি নদীয়ার নরনারী হুলুধ্বনি হরিধ্বনি করে। হেন কালে শচীগৃহে জনমিলা গৌরচন্দ্র জয় জয় জগন্নাথ ঘরে॥ চক্রবর্ত্তী নীলাম্বর হইলা হরিষান্তর শুভ ক্ষণ শুভ লগ্ন দেখি। বৃন্দাবনদাসে কয় হেরিয়া জনমলীলা সুর নর হইলেক সুখী॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ বলে উল্লেখ রয়েছে। শ্রীগৌরচন্দ্রের আবির্ভাব ॥ ধানশী॥ ফাল্গুন-পূর্ণিমা তিথি নক্ষত্র ফল্গুনী। প্রতিপদ সন্ধি পাঞা রাহু আইলেক ধাঞা গ্রাসিলা উজ্জ্বল নিশামণি ॥ ধ্রু॥ সে চন্দ্রগ্রহণ হেরি নদীয়ার নরনারী হুলুধ্বনি হরিধ্বনি করে। হেন কালে শচীগৃহে জনমিলা গৌরচন্দ্র জয় জয় জগন্নাথ ঘরে॥ চক্রবর্ত্তী নীলাম্বর হইলা হরিষান্তর শুভ ক্ষণ শুভ লগ্ন দেখি। বৃন্দাবনদাসে কয় হেরিয়া জনমলীলা সুর নর হইলেক সুখী॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৩৪-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে। ফাল্গুন পূর্ণিমা তিথি নক্ষত্র ফল্গুনী। প্রতিপদ সন্ধি পাঞা রাহু আইলেক ধাঞা গ্রাসিলা উজ্জ্বল নিশামণি॥ সে চন্দ্রগ্রহণ হেরি নদীয়ার নরনারী হুলুধ্বনি হরিধ্বনি করে। হেন কালে শচীগৃহে জনমিলা গৌরচন্দ্র জয় জয় জগন্নাথ ঘরে॥ চক্রবর্ত্তী নীলাম্বর হইলা হরিষান্তর শুভ ক্ষণ শুভ লগ্ন দেখি। বৃন্দাবনদাসে কয় হেরিয়া জনমলীলা সুর নর হইলেক সুখী॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নাচে বিশ্বম্ভর সবার ঈশ্বর ভাগিরথীতীরে নাচে বিশ্বম্ভর বৈকুণ্ঠ-ঈশ্বর ভাগিরথীতীরে ভণিতা বৃন্দাবন দাস কবি বৃন্দাবন দাস এই পদটি আনুমানিক ১৫৬০ খৃষ্টাব্দ নাগাদ, বৃন্দাবন দাস বিরচিত এবং১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১খৃষ্টাব্দ) রাধানাথ কাবাশী দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত" শ্রীশ্রীচৈতন্য-ভাগবত" গ্রন্থ, মধ্য খণ্ড, ২৩তম অধ্যায়, ২৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া রাগ ॥ নাচে বিশ্বম্ভর, সবার ঈশ্বর, ভাগীরথী-তীরে-তীরে। যাঁর পদধূলী, হই কুতূহলী, সবেই ধরিল শিরে॥ ( শিব শিব নাচে বিশ্বম্ভর ধ্রু ) অপূর্ব্ব বিকার, নয়নে সুধার, হুঙ্কার গর্জ্জন শুনি। হাসিয়া হাসিয়া, শ্রীভুজ তুলিয়া, বলে ‘হরি হরি’ বাণী॥ মদন-সুন্দর, গৌর কলেবর, দিব্য বাস পরিধান। চাঁচর চিকুরে , মালা মনোহরে, যেন দেখি পাঁচবাণ॥ চন্দন-চর্চ্চিত, শ্রীঅঙ্গ শোভিত, গলে দোলে বনমালা। ঢুলিয়ে পড়য়ে, প্রেমে থির নহে, আনন্দে শচীর বালা॥ কাম-শরাসন, ভ্রূযুগ-পত্তন, ভালে মলয়জ-বিন্দু। মুকুতা-দশন, শ্রীযুত বদন, প্রকৃতি করুণা-সিন্ধু॥ ক্ষণে শত শত, বিকার অদ্ভুত, কত করিব নিশ্চয়। অশ্রু কম্প ঘর্ম্ম, পুলক বৈবর্ণ্য, না জানি কতেক হয়॥ ত্রিভঙ্গ হইয়া, কবহুঁ রহিয়া, অঙ্গুলী-মুরলী বায়। জিনি মত্ত গজ, চলই সহজ, দেখি নয়ন জুড়ায়॥ অতি মনোহর, যজ্ঞসূত্র-ধর, সদয় হৃদয়ে শোভে। এ বুঝি অনন্ত, হই গুণবন্ত, রহিলা পরশ-লোভে॥ নিত্যানন্দ-চাঁদ, মাধব-নন্দন শোভা করে দুই পাশে। যত প্রিয়-গণ, করয়ে কীর্ত্তন, সবা চাহি চাহি হাসে॥ যাঁহার কীর্ত্তন, করি অনুক্ষণ, শিব দিগম্বর ভোলা। সে প্রভু বিহরে, নগরে নগরে, করিয়া কীর্ত্তন-খেলা॥ যে কর যে বেশ, যে অঙ্গ যে কেশ, কমলা লালন করে। সে প্রভু ধুলায়, গড়াগড়ি যায়, প্রতি নগরে নগরে॥ লক্ষ কোটি দীপে, চান্দের আলোকে, না জানি কি ভেল সুখে। সকল সংসার, ‘হরি’ বহি আর, না বোলই কারো মুখে॥ অপূর্ব্ব কৌতুক, দেখি সর্ব্ব লোক, আনন্দে হইল ভোর। সবেই সবার, চাহিয়া বদন, বলে ভাই ‘হরি’ বোল॥ প্রভুর আনন্দ, জানে নিত্যানন্দ, যখন যেরূপ হয়। পড়িবার বেলে, দুই বাহু মেলে, যেন অঙ্গে প্রভু রয়॥ নিত্যানন্দ ধরি, বীরাসন করি, ক্ষণে মহাপ্রভু বৈসে। বাম কক্ষে তালি দিয়া কুতূহলী, ‘হরি হরি’ বলি হাসে॥ অকপটে ক্ষণে, কহয়ে আপনে, মুঞি দেব নারায়ণ। কংসাসুর মারি, মুঞি সে কংসারি, বলি ছলিয়া বামন॥ সেতু বন্ধ করি, রাবণ সংহারি, মুঞি সে রাঘব-রায়। করিয়া হুঙ্কার, তত্ত্ব আপনার, কহি চারিদিগে চায়॥ কে বুঝে সে তত্ত্ব, অচিন্ত্য মহত্ত্ব, সেই ক্ষণে কহে আন। দন্তে তৃণ ধরি, ‘প্রভু প্রভু’ বলি, মাগয়ে ভকতি দান॥ যখনে যে করে, গৌরাঙ্গ সুন্দরে, সব মনোহর লীলা। আপন-বদনে, আপন-চরণে, অঙ্গুলি ধরিয়া খেলা॥ বৈকুন্ঠ-ঈশ্বর, প্রভু বিশ্বম্ভর, সব নবদ্বীপে নাচে। শ্বেতদ্বীপ নাম, নবদ্বীপ গ্রাম, বেদে প্রকাশিব পাছে॥ মন্দিরা মৃদঙ্গ, শঙ্খ করতাল, না জানি কতেক বাজে। মহা হরিধ্বনি, চতুর্দ্দিগে শুনি, মাঝে শোভে দ্বিজরাজে॥ জয় জয় জয়, নগর-কীর্ত্তন, জয় বিশ্বম্ভর-নৃত্য। বিংশ-পদ-গীত, চৈতন্য-চরিত, জয় চৈতন্যের ভৃত্য॥ যেই দিগে চায়, বিশ্বম্ভর-রায়, সেই দিগে প্রেমে ভাসে। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য, ঠাকুর নিত্যানন্দ, গায় বৃন্দাবন দাসে॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৭৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ নাচে বিশ্বম্ভর বৈকুণ্ঠ-ঈশ্বর ভাগিরথীতীরে তীরে। যার পদধূলি হই কুতূহলি অনন্ত ধরেন শিরে॥ অপূর্ব্ব বিকার নয়নে সুধার হুঙ্কার গর্জ্জন শুনি। হাসিয়া হাসিয়া শ্রীভুজ তুলিয়া বলে হরি হরি-ধ্বনি॥ মদন সুন্দর গৌর-কলেবর দিব্য বাস পরিধান। চাঁচর চিকুরে মালা মনোহরে যেন দেখি পাঁচ বাণ॥ চন্দনচর্চ্চিত শ্রীঅঙ্গ শোভিত গলে দোলে বনমালা। ঢুলিয়া পড়য়ে প্রেমে স্থির নহে আনন্দে শচীর বালা॥ কাম-শরাসন ভ্রূযুগ পত্তন ভালে মলয়জ বিন্দু। মুকুতা দশন শ্রীযুত বদন প্রকৃতি করুণাসিন্ধু॥ ক্ষণে শত শত বিকার অদ্ভুত কত করিব নিশ্চয়। অশ্রু কম্প ঘর্ম্ম পুলক বৈবর্ণ্য জানি কতেক হয়॥ ত্রিভঙ্গ হইয়া কবহুঁ বাহিয়া অঙ্গুলী মুরলী বায়। জিনি মত্তগজ চলই সহজ দেখি নয়ান জুড়ায়॥ অতি মনোহর যজ্ঞসূত্রধর সদয় হৃদয় শোভে। যে বুঝি অনন্ত হই গুণবন্ত রহিলা পরশ লোভে॥ নিত্যানন্দচাঁদ মাধব-নন্দন শোভা করে দুই পাশে। যত প্রিয়গণ করয়ে কীর্ত্তন সবা চাহি চাহি হাসে॥ যাহার কীর্ত্তন করি অনুক্ষণ শিব দিগম্বর ভোলা। সে প্রভু বিহরে নগরে নগরে করিয়া নর্ত্তনখেলা॥ যে করয়ে বেশ যে অঙ্গ যে কেশ কমলা লালসা করে। সে প্রভু ধূলায় গড়াগড়ি যায় প্রতি নগরে নগরে॥ যেই দিকে চায় বিশ্বম্ভর রায় সেই দিকে প্রেমে ভাসে। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য ঠাকুর নিত্যানন্দ গায় বৃন্দাবন দাসে॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |