কবি বৃন্দাবন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
রাহু-কবল ইন্দু প্রকাশ নাম-সিন্ধু
রাহু উগারল ইন্দু প্রকাশ নাম সিন্ধু
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৫৬০ খৃষ্টাব্দ নাগাদ, বৃন্দাবন দাস বিরচিত এবং১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১খৃষ্টাব্দ)
রাধানাথ কাবাশীদ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত"শ্রীশ্রীচৈতন্য-ভাগবত" গ্রন্থ, আদিখণ্ড, ২য় অধ্যায়, ১৭-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী ॥

রাহু-কবল ইন্দু,                প্রকাস নাম-সিন্ধু,
কলি-মর্দ্দন বান্ধে বানা।
পহুঁ ভেল প্রকাশ,                 ভুবন চতুর্দ্দশ,
জয় জয় পড়িল ঘোষণা॥
হে মাই ! দেখত গৌরচন্দ্র।
নদীয়ার লোক,                শোক সব নাশল,
দিনে দিনে বাঢ়ল আনন্দ॥
দুন্দুভি বাজে,                  শত শঙ্খ গাজে,
বাজে বেণু বিষাণ।
শ্রীচৈতন্য ঠাকুর,                 নিত্যানন্দ প্রভু,
বৃন্দাবন দাস রস গান॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ
সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২য় তরঙ্গ, ১ম উচ্ছ্বাস, ৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

রাহু উগারল ইন্দু                 প্রকাশ নাম সিন্ধু
কলিমর্দ্দন বাঁধে বানা।
পহুঁ ভেল প্রকাশ                      ভুবন চতুর্দ্দশ
জয় জয় পড়িল ঘোষণা॥
মো মাই দেখত গৌরচন্দ্র।
নদীয়ার লোক                    শোক সব নাশন
দিনে দিনে বাঢ়য়ে আনন্দ॥ ধ্রু॥
দুন্দুভি বাজে                      শত শঙ্খ গাজে
বাজে বেণু বিষাণ।
শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ          মোর পহুঁ রসনানন্দ
বৃন্দাবনদাস গান॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
ফাল্গুন-পূর্ণিমা তিথি নক্ষত্র ফল্গুনী
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি
ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২য় তরঙ্গ, ১ম উচ্ছ্বাস, ৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

ফাল্গুন-পূর্ণিমা তিথি নক্ষত্র ফল্গুনী।
প্রতিপদ সন্ধি পাঞা            রাহু আইলেক ধাঞা
গরাসিল উজ্জ্বল নিশামণি ॥ ধ্রু॥
সে চন্দ্রগ্রহণ হেরি                   নদীয়ার নরনারী
হুলুধ্বনি হরিধ্বনি করে।
হেন কালে শচীগৃহে               জনমিলা গৌরচন্দ্র
জয় জয় জগন্নাথ ঘরে॥
চক্রবর্ত্তী নীলাম্বর                   হইলা হরিষান্তর
শুভ ক্ষণ শুভ লগ্ন দেখি।
বৃন্দাবনদাসে কয়                 হেরিয়া জনমলীলা
সুর নর হইলেক সুখী॥ 
ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ বলে
উল্লেখ রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্রের আবির্ভাব
॥ ধানশী॥

ফাল্গুন-পূর্ণিমা তিথি নক্ষত্র ফল্গুনী।
প্রতিপদ সন্ধি পাঞা                রাহু আইলেক ধাঞা
গ্রাসিলা উজ্জ্বল নিশামণি ॥ ধ্রু॥
সে চন্দ্রগ্রহণ হেরি                       নদীয়ার নরনারী
হুলুধ্বনি হরিধ্বনি করে।
হেন কালে শচীগৃহে                    জনমিলা গৌরচন্দ্র
জয় জয় জগন্নাথ ঘরে॥
চক্রবর্ত্তী নীলাম্বর                        হইলা হরিষান্তর
শুভ ক্ষণ শুভ লগ্ন দেখি।
বৃন্দাবনদাসে কয়                      হেরিয়া জনমলীলা
সুর নর হইলেক সুখী॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২৩৪-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

ফাল্গুন পূর্ণিমা তিথি নক্ষত্র ফল্গুনী।                  
প্রতিপদ সন্ধি পাঞা রাহু আইলেক                  
ধাঞা গ্রাসিলা উজ্জ্বল নিশামণি॥
সে চন্দ্রগ্রহণ হেরি নদীয়ার নরনারী                   
হুলুধ্বনি হরিধ্বনি করে।
হেন কালে শচীগৃহে জনমিলা গৌরচন্দ্র              
জয় জয় জগন্নাথ ঘরে॥
চক্রবর্ত্তী নীলাম্বর হইলা হরিষান্তর                   
শুভ ক্ষণ শুভ লগ্ন দেখি।
বৃন্দাবনদাসে কয় হেরিয়া জনমলীলা                
সুর নর হইলেক সুখী॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
সবে বোলে এমন পাণ্ডিত্য দেখি নাই
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত,
মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২য় তরঙ্গ, ৩য়
উচ্ছ্বাস, ৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

সবে বোলে এমন পাণ্ডিত্য দেখি নাই।
কৃষ্ণ না ভজেন সবে এই দুঃখ পাই॥
অন্যান্যে সবেই সাধেন সেবা প্রীতি।
সবে বোলে উহান হোক কৃষ্ণে রতি॥
দণ্ডবত হই সবে পড়িলা গঙ্গারে।
সর্ব্ব ভাহবত মেলি আশীর্ব্বাদ করে॥
হেন কর কৃষ্ণ জগন্নাথের নন্দন।
তোর রসে মত্ত হয় ছাড়ি অন্যমন॥
নিরবধি প্রেমভাবে ভজুক তোমারে।
হেন সঙ্গ কৃষ্ণ দেহ আমা সবাকারে॥
কেহ বোলে হেন শুন নিমাই পণ্ডিত।
বিদ্যায় কি কাজ কৃষ্ণ ভজহ ত্বরিত॥
পড়ে কেন লোক কৃষ্ণভক্তি জানিবারে।
সে যদি নহিল তবে বিদ্যায় কি করে॥
হাসি বলে প্রভু বড় ভাগ্য যে আমার।
তোমরা শিখাও মোরে কৃষ্ণ ভজিবার॥
তুমি সব যার কর শুভানুসন্ধান।
মোর চিত্তে হেন লয় সেই ভাগ্যবান্॥
কতদিন পড়াইয়া মোর চিত্তে আছে।
চলিনু বুঝিয়া ভাল বৈষ্ণবের কাছে॥
এত বলি হাসে প্রভু সেবকের সনে।
প্রভুর মায়ায় কেহ তাঁহারে না চিনে॥
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নিত্যানন্দচন্দ্র জান।
বৃন্দাবন দাস তছু পদযুগে গান॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
শিষ্য সঙ্গে গঙ্গাতীরে আছেন ঈশ্বর
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত,
মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২য় তরঙ্গ, ৩য়
উচ্ছ্বাস, ৬৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

শিষ্য সঙ্গে গঙ্গাতীরে আছেন ঈশ্বর।
অনন্ত ব্রহ্মাণ্ডরূপ সর্ব্ব মনোহর॥
করিতে আছেন প্রভু শাস্ত্রের ব্যখ্যান।
হয় নয় করে নয় করেন প্রমাণ॥
অপূর্ব্ব দেখিয়া দিগ্বিজয়ী সুবিস্মিত।
মনে ভাবে এই বুঝু নিমাই পণ্ডিত॥
গঙ্গা নমস্কার করি সেই দ্বিজবর।
আইলেন ঈশ্বরের সভার ভিতর॥
তারে দেখি প্রভু কিছু ঈশৎ হাসিয়া।
বসিতে বলিলা অতি আদর করিয়া॥
প্রভু কহে তোমার কবিত্বের নাহি সীমা।
হেন নাহি যাহা তুমি না কর বর্ণনা॥
গঙ্গার মহিমা কিছু করহ পঠন।
শুনিয়া সবার হৌক পাপবিমোচন॥
শুনি সেই দিগ্বিজয়ী প্রভুর বচন।
সেই ক্ষণে করিবারে লাগিলা বর্ণন॥
সহস্র সহস্র যত প্রভুর শিষ্যগণ।
অবাক্ হইলা সবে শুনিয়া বর্ণন॥
পড়ি যদি দিগ্বিজয়ী হৈলা অবসর।
তবে হাসি বলেন শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর॥
তোমার যে শব্দের গ্রন্থন অভিপ্রায়।
তুমি বিনা বুঝাইলে বুঝা নাহি যায়॥
শুনিয়া প্রভুর বাক্য সর্ব্বমনোহর।
ব্যাখ্যা করিবারে লাগিলেন দ্বিজবর॥
ব্যাখ্যা করিলেই মাত্র প্রভু সেই ক্ষণে।
দুষিলেন আদি মধ্য অন্ত তিন স্থানে॥
সকল প্রতিভা পলাইল কোন স্থানে।
আপনে না বুঝে দ্বিজ কি বলে আপনে॥
বেদেও পায়েন মোহ যার দিব্যমানে।
কোন চিত্র সে দ্বিজের মোহ প্রভু স্থানে॥
শিষ্যগণ সহিত চলিলা প্রভু ঘর।
দিগ্বিজয়ী হৈল বড় লজ্জিত অন্তর॥
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নিত্যানন্দচাঁদ জান।
দিগ্বিজয়ী জয় বৃন্দাবন দাস গান॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
বিষ্ণুপ্রীতে কাম্য করি বিষ্ণুপ্রিয়াপিতা
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত,
মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২য় তরঙ্গ, ৪র্থ
উচ্ছ্বাস, ৭৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

বিষ্ণুপ্রীতে কাম্য করি বিষ্ণুপ্রিয়াপিতা।
প্রভুর শ্রীহস্তে সমর্পিলেন দুহিতা॥
তবে দিব্য ধেনু ভূমি শয্যা দাসী দাস।
অনের যৌতুক দিয়া করিলা উল্লাস॥
লক্ষ্মী বসাইলেন প্রভুর বাম পাশে।
হোমকর্ম্ম করিতে লাগিল তবে শেষে॥
ভোজন করিয়া শুভ রাত্র সুমঙ্গলে।
লক্ষ্মী কৃষ্ণ একত্র রহিলা কুতূহলে॥
সনাতন পণ্ডিতের গোষ্ঠীর সহিতে।
যে সুখ হইল তাহা কে পারে কহিতে॥
তবে রাত্রিপ্রভাতে যে ছিল লোকাচার।
সকল করিলা সর্ব্ব-ভূবনের সার॥
অপরাহ্ণে গৃহে আসিবার হৈল কাল।
বাদ্য-নৃত্য-গীত হৈতে লাগিল বিশাল॥
তবে প্রভু নমস্করি সর্ব্ব মান্যগণে।
পত্নী সনে দোলায় করিলা আরোহণে॥
হরি হরি বলি সবে করে জয়ধ্বনি।
চলিলেন নিজ গৃহে দ্বিজকুলমণি॥
পথে যত লোক দেখে ঢলিয়া আসিতে।
ধন্য ধন্য সবেই প্রশংসে ভালমতে॥
স্ত্রীগণে দেখিয়া বলে এই ভাগ্যবতী।
কত জন্ম সেবিলেন কমলা পার্ব্বতী॥
কেহ বলে বুঝি হেন এই হরগৌরী।
কেহ বলে হেন জানি কমলা শ্রীহরি॥
কেহ বলে এই দুই কামদেব রতি।
কেহ বলে ইন্দ্র শচী হেন লয় মতি॥
কেহ বলে হেন বুঝি রামচন্দ্র সীতা।
এই মত বলে সব সুকৃতি বনিতা॥
লক্ষ্মী-নারায়ণের মঙ্গল-দৃষ্টিপাতে।
সুখময় সর্ব্বলোক হৈল নদীয়াতে॥
শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ চাঁদ পহুণ জান।
বৃন্দাবন দাস তছু পদযুগে গান॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
নৃত্য-গীত বাদ্য পুষ্প বর্ষিতে বর্ষিতে
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র
সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২য় তরঙ্গ,
৪র্থ উচ্ছ্বাস, ৭৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥

নৃত্য-গীত বাদ্য পুষ্প বর্ষিতে বর্ষিতে।
পরম আনন্দে পহুঁ আইলা সর্ব্ব পথে॥
তবে শুভক্ষণে পহুঁ সকল মঙ্গলে।
আইলেন গৃহে লক্ষ্মী কৃষ্ণ কুতূহলে॥
তবে আই পতিব্রতাগণে সঙ্গে লৈঞা।
পুত্রবধূ গৃহে আনিলেন হৃষ্ট হৈঞা॥
গৃহে আসি বসিলেন লক্ষ্মী নারায়ণ।
জয়ধ্বনিময় হৈল সকল ভবন॥
কি আনন্দ হৈল সেই অকথ্য কথন।
সে মহিমা কোন জনে করিবে বর্ণন॥
শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ চাঁদ পহুঁ জান।
বৃন্দাবন দাস তছু পদযুগে গান॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন
দাস (১) এর পদ বলে উল্লেখ রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের বিবাহ
॥ তথারাগ॥

নৃত্যগীত বাদ্য পুষ্প বর্ষিতে বর্ষিতে।
পরম আনন্দে পহুঁ আইলা সর্ব্ব পথে॥
তবে শুভক্ষণে পহুঁ সকল মঙ্গলে।
আইলেন গৃহে লক্ষ্মী কৃষ্ণ কুতূহলে॥
তবে আই পতিব্রতাগণে সঙ্গে লৈঞা।
পুত্রবধূ গৃহে আনিলেন হৃষ্ট হৈঞা॥
গৃহে আসি বসিলেন লক্ষ্মী নারায়ণ।
জয়ধ্বনিময় হৈল সকল ভবন॥
কি আনন্দ হৈল সেই অকথ্য কথন।
সে মহিমা কোন জনে করিবে বর্ণন॥
শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ চাঁদ পহুঁ জান।
বৃন্দাবন দাস তছু পদযুগে গান॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২২৬-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

নৃত্যগীত বাদ্য পুষ্প বর্ষিতে বর্ষিতে।
পরম আনন্দে পহুঁ আইলা সর্ব্ব পথে॥
তবে শুভক্ষণে পহুঁ সকল মঙ্গলে।
আইলেন গৃহে লক্ষ্মী কৃষ্ণ কুতূহলে॥
তবে আই পতিব্রতাগণে সঙ্গে লৈঞা।
পুত্রবধূ গৃহে আনিলেন হৃষ্ট হৈঞা॥
গৃহে আসি বসিলেন লক্ষ্মী নারায়ণ।
জয়ধ্বনিময় হৈল সকল ভবন॥
কি আনন্দ হৈল সেই অকথ্য কথন।
সে মহিমা কোন জনে করিবে বর্ণন॥
শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ চাঁদ পহুঁ জান।
বৃন্দাবন দাস তছু পদযুগে গান॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
আজানু-লম্বিত বাহুযুগল কনকপুতলী দেহা
ভণিতা বৃন্দাবনদাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র
সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ৩য় তরঙ্গ,
১ম উচ্ছ্বাস, ৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

আজানু-লম্বিত বাহুযুগল কনকপুতলী দেহা।
অরুণ-অম্বর শোভিত কলেবর উপমা দেওব কাঁহা॥
হাস বিমল বয়ান-কমল পীন হৃদয় সাজে।
উন্নত গীম সিংহ জিনিয়া উদার বিগ্রহ রাজে॥
চরণ-নখর উজোর শশধর কনয়া মঞ্জীর শোহে।
হেরিয়া দিনমণি আপনা নিছিয়া রূপ জগমন মোহে॥
কলিযুগে অবতার চৈতন্য নিতাই পাপ পাষণ্ডী নাহি মানে।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য ঠাকুর নিত্যানন্দ বৃন্দাবনদাস গুণগানে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
মদন মোহন রূপ গৌরাঙ্গ-সুন্দর
মদন মোহন তনু গৌরাঙ্গ সুন্দর
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭০০ সালে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা সংকলিত ও
বিরোচিত এবং ১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”, ত্রয়োদশ ক্ষণদা - কৃষ্ণা ত্রয়োদশী, ৯৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্রস্য।
॥ সুহই॥

মদন-মোহন রূপ গৌরাঙ্গ-সুন্দর।
ললাটে তিলক শোভে ঊর্দ্ধ মনোহর॥
ত্রিকচ্ছ বসন শোভে কুটিল কুন্তল॥
প্রকৃতে নয়ন দুই পরম চঞ্চল॥
শুভ্র যজ্ঞ-সূত্র শোভে বেঢ়িয়া শরীরে।
সূক্ষ্ণরূপে অনন্ত যে হেন কলেবরে॥
অধরে তাম্বূল হাসে শ্রীভুজ তুলিয়া।
যাঙ বৃন্দাবন দাস সে রূপ নিছিয়া॥

ই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“পদকল্পলতিকা”, ৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শোহিনী॥

মদন মোহন তনু গৌরাঙ্গ সুন্দর। ললাটে তিলক
শোভে ঊর্দ্ধমনোহর॥ ত্রিকচ্ছ বসন শোভে কুটিল কুন্তল॥
প্রাকৃত নয়ন দুই পরম চঞ্চল॥ শুক্ল যজ্ঞসূত্র শোভে বেঢ়িয়া
শরীরে। সূক্ষ্ণরূপে অনন্ত যে হেন কলেবরে॥ অধরে তাম্বূল
হাসে শ্রীবর চাহিয়া। যাউ বৃন্দাবন দাস যেরূপ নিছিয়া॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত
এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
১১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মদন মোহন তনু গৌরাঙ্গ সুন্দর। ললাটে তিলক শোভে ঊর্দ্ধ্ব মনোহর॥
ত্রিকচ্ছ বসন শোভে কুটিল কুন্তল॥ প্রাকৃত নয়ান দুই পরম চঞ্চল॥ শুক্ল যজ্ঞ-
সূত্র শোভে বেঢ়িয়া শরীরে। মুখ্যরূপে অনন্ত যে হেন কলেবরে॥ অধরে
তাম্বুল হাসি শ্রীবর চাহিয়া। যাউ বৃন্দাবন দাস নিছনি লইয়া॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত,
মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

মদনমোহন তনু গৌরাঙ্গসুন্দর।
ললাটে তিলকশোভা ঊর্দ্ধে মনোহর॥
ত্রিকচ্ছ বসন শোভে কুটিল কুন্তল॥
প্রাকৃত নয়ন দুই পরম চঞ্চল॥
শুক্লযজ্ঞসূত শোভে বেড়িয়া শরীরে।
সূক্ষ্ণরূপে অনন্ত যে হেন কলেবরে॥
অধরে তাম্বুল হাসে অধর চাপিয়া।
যাঙ বৃন্দাবনদাস সে রূপ নিছিয়া॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী
সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”, ১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী - রূপক॥

মদন-মোহন-রূপ গৌরাঙ্গ সুন্দর,
ললাটে তিলক শোভে ঊর্দ্ধ-মনোহর।
ত্রিকচ্ছ বসন শোভে কুটিল-কুন্তল,
পঙ্কজ নয়ন দুই---পরম চঞ্চল।
শুভ্র যজ্ঞসূত্র শোভে বেঢ়িয়া শরীরে,
সূক্ষ্ণ-রূপে অনন্ত যেহেন কলেবরে॥
অধরে তাম্বুল, হাসে শ্রীভুজ তুলিয়া,
যাঙ বৃন্দাবন দাস সে রূপ নিছিয়া।

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন
দাস (১) এর পদ বলে উল্লেখ রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের রূপ

॥ সুহই॥

মদনমোহন তনু গৌরাঙ্গসুন্দর।
ললাটে তিলকশোভা ঊর্দ্ধে মনোহর॥
ত্রিকচ্ছ বসন শোভে কুটিল কুন্তল॥
আয়ত নয়ন দুই পরম চঞ্চল॥
শুক্লযজ্ঞসূত শোভে বেড়িয়া শরীরে।
সূক্ষ্ণরূপে অনন্ত যে হেন কলেবরে॥
অধরে তাম্বুল হাসে অধর চাপিয়া।
যাঙ বৃন্দাবনদাস সে রূপ নিছিয়া॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২২৮-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

মদনমোহন তনু গৌরাঙ্গসুন্দর।
ললাটে তিলকশোভা ঊর্দ্ধে মনোহর॥
ত্রিকচ্ছ বসন শোভে কুটিল কুন্তল॥
আয়ত নয়ন দুই পরম চঞ্চল॥
শুক্লযজ্ঞসূত শোভে বেড়িয়া শরীরে।
সূক্ষ্ণরূপে অনন্ত যে হেন কলেবরে॥
অধরে তাম্বুল হাসে অধর চাপিয়া।
যাঙ বৃন্দাবনদাস সে রূপ নিছিয়া॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
বিশ্বম্ভর-মূর্ত্তি যেন মদন সমান
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৫৬০ খৃষ্টাব্দ নাগাদ, বৃন্দাবন দাস বিরচিত এবং১৩৩৮ বঙ্গাব্দে
(১৯৩১খৃষ্টাব্দ)রাধানাথ কাবাশীদ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত"শ্রীশ্রীচৈতন্য-ভাগবত" গ্রন্থ, মধ্য
খণ্ড, ৩য় অধ্যায়, ১৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার রাগ ॥

বিশ্বম্ভর-মূর্ত্তি যেন মদন-সামান।
দিব্য গন্ধমাল্য দিব্য বাস পরিধান॥
কি হয় কনক-দ্যুতি সে দেহের আগে।
সে বদন দেখিতে চান্দের সাদ লাগে॥
সে দম্ভ দেখিতে কোথা মুকুতার দাম।
সে কেশ-বন্ধন দেখি না রহে গেয়ান॥
দেখিতে আয়ত দুই অরুণ নয়ান।
আর কি কমল আছে হেন হয় জ্ঞান॥
সে আজানু দুই ভুজ হৃদয় সুপীন।
তাহে শোভে সূক্ষ্ম যজ্ঞসূত্র অতি ক্ষীণ॥
ললাটে বিচিত্র ঊর্দ্ধ-তিলক সুন্দর।
আভরণ বিনা সর্ব্ব অঙ্গ মনোহর॥
কিবা হয় কোটি মণি সে নখ চাহিতে।
সে হাস্য দেখিতে কিবা করিব অমৃতে॥
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নিত্যানন্দ-চাঁদ জান।
বৃন্দাবন দাস তছু পদযুগে গান॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭০০ সালে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা সংকলিত ও
বিরোচিত এবং ১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”, চতুর্থ ক্ষণদা - কৃষ্ণা চতুর্থী, ২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্রস্য।
॥ কেদার॥

বিশ্বম্ভর-মূর্ত্তি যেন মদন সমান।
দিব্য গন্ধ-মাল্য দিব্য বাস পরিধান॥
কি ছার কনক-জ্যোতি সে দেহের আগে।
সে বদন দেখিতে চান্দের সাধ লাগে॥
সে দন্ত দেখিতে কোথা মুকুতার দাম।
সে কেশ-বন্ধন দেখি না রহে গেয়ান॥
দেখিতে আয়ত দুই অরুণ নয়ান।
আর কি কমল আছে হেন হয় জ্ঞান॥
সে আজানু ভুজ দুই হৃদয় সুপীন।
তঁহি শোভে শুভ্র যজ্ঞসূত্র অতি ক্ষীণ॥
ললাটে বিচিত্র ঊর্দ্ধ তিলক সুন্দর।
অভরণ বিনে সর্ব্ব অঙ্গ মনোহর॥
কিবা হয় কোটি মণি সে নখ চাহিতে।
সে হাস দেখিতে কিবা করয়ে অমৃতে॥
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নিত্যানন্দচান্দ জান।
বৃন্দাবন দাস তছু পদ-যুগে গান॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত,
মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

বিশ্বম্ভর-মূর্ত্তি যেন মদন সমান।
দিব্য গন্ধ মাল্য দিব্য বাস পরিধান॥
কি ছার কনক-জ্যোতি সে দেহের আগে।
সে বদন দেখিতে চাঁদের সাধ লাগে॥
সে দন্তের কাছে কোথা মুকুতার দাম।
সে কেশ দেখিয়া মেঘ ভৈগেল মৈলান॥
দেখিয়া আয়ত দুই কমল-নয়ান।
আর কি কমল আছে হেন হয় জ্ঞান॥
সে আজানু ভুজ দুই অতিহুঁ সুন্দর।
সে ভুজ দেখিয়া লাজ পায় করিকর॥
প্রশস্ত গগন মত হৃদয় সুপীন।
ছায়া-পথ যজ্ঞসূত্র তাহে অতি ক্ষীণ॥
ললাটে বিচিত্র ঊর্দ্ধ-তিলক সুন্দর।
আভরণ বিনা সর্ব্ব অঙ্গ মনোহর॥
কিবা হয় কোটি মণি সে নখ চাহিতে।
সে হাস দেখিতে কিবা করিয়ে অমৃতে॥
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নিত্যানন্দচাঁদ জান।
বৃন্দাবনদাস তছু পদযুগে গান॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন
দাস (১) এর পদ বলে উল্লেখ রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের রূপ

॥ কেদার॥

বিশ্বম্ভরমূর্ত্তি যেন মদন সমান।
দিব্য গন্ধ মাল্য দিব্য বাস পরিধান॥
কি ছার কনকজ্যোতি সে দেহের আগে।
সে বদন দেখিতে চাঁদের সাধ লাগে॥
সে দন্তের কাছে কোথা মুকুতার দাম।
সে কেশ দেখিয়া মেঘ ভৈগেল মৈলান॥
দেখিয়া আয়ত দুই কমলনয়ান।
আর কি কমল আছে হেন হয় জ্ঞান॥
সে আজানু ভুজ দুই অতিহুঁ সুন্দর।
সে ভুজ দেখিয়া লাজ পায় করিকর॥
প্রশস্ত গগন মত হৃদয় সুপীন।
ছায়াপথ যজ্ঞসূত্র তাহে অতি ক্ষীণ॥
ললাটে বিচিত্র ঊর্দ্ধতিলক সুন্দর।
আভরণ বিনা সর্ব্ব অঙ্গ মনোহর॥
কিবা হয় কোটি মণি সে নখ চাহিতে।
সে হাস দেখিতে কিবা করিয়ে অমৃতে॥
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নিত্যানন্দচাঁদ জান।
বৃন্দাবনদাস তছু পদযুগে গান॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২২৮-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

বিশ্বম্ভরমূর্ত্তি যেন মদন সমান।
দিব্য গন্ধ মাল্য দিব্য বাস পরিধান॥
কি ছার কনকজ্যোতি সে দেহের আগে।
সে বদন দেখিতে চাঁদের সাধ লাগে॥
সে দন্তের কাছে কোথা মুকুতার দাম।
সে কেশ দেখিয়া মেঘ ভৈগেল মৈলান॥
দেখিয়া আয়ত দুই কমলনয়ান।
আর কি কমল আছে হেন হয় জ্ঞান॥
সে আজানু ভুজ দুই অতিহুঁ সুন্দর।
সে ভুজ দেখিয়া লাজ পায় করিকর॥
প্রশস্ত গগন মত হৃদয় সুপীন।
ছায়াপথ যজ্ঞসূত্র তাহে অতি ক্ষীণ॥
ললাটে বিচিত্র ঊর্দ্ধতিলক সুন্দর।
আভরণ বিনা সর্ব্ব অঙ্গ মনোহর॥
কিবা হয় কোটি মণি সে নখ চাহিতে।
সে হাস দেখিতে কিবা করিয়ে অমৃতে॥
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নিত্যানন্দচাঁদ জান।
বৃন্দাবনদাস তছু পদযুগে গান॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
নাচে বিশ্বম্ভর সবার ঈশ্বর ভাগিরথীতীরে
নাচে বিশ্বম্ভর বৈকুণ্ঠ-ঈশ্বর ভাগিরথীতীরে
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৫৬০ খৃষ্টাব্দ নাগাদ, বৃন্দাবন দাস বিরচিত এবং১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১খৃষ্টাব্দ)
রাধানাথ কাবাশী দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত" শ্রীশ্রীচৈতন্য-ভাগবত" গ্রন্থ, মধ্য খণ্ড, ২৩তম অধ্যায়,
২৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া রাগ ॥

নাচে বিশ্বম্ভর,                      সবার ঈশ্বর,
ভাগীরথী-তীরে-তীরে।
যাঁর পদধূলী,                        হই কুতূহলী,
সবেই ধরিল শিরে॥
( শিব শিব নাচে বিশ্বম্ভর  ধ্রু )
অপূর্ব্ব বিকার,                     নয়নে সুধার,
হুঙ্কার গর্জ্জন শুনি।
হাসিয়া হাসিয়া,                   শ্রীভুজ তুলিয়া,
বলে ‘হরি হরি’ বাণী॥
মদন-সুন্দর,                      গৌর কলেবর,
দিব্য বাস পরিধান।
চাঁচর চিকুরে ,                   মালা মনোহরে,
যেন দেখি পাঁচবাণ॥
চন্দন-চর্চ্চিত,                    শ্রীঅঙ্গ শোভিত,
গলে দোলে বনমালা।
ঢুলিয়ে পড়য়ে,                    প্রেমে থির নহে,
আনন্দে শচীর বালা॥
কাম-শরাসন,                         ভ্রূযুগ-পত্তন,
ভালে মলয়জ-বিন্দু।
মুকুতা-দশন,                          শ্রীযুত বদন,
প্রকৃতি করুণা-সিন্ধু॥
ক্ষণে শত শত,                    বিকার অদ্ভুত,
কত করিব নিশ্চয়।
অশ্রু কম্প ঘর্ম্ম,                     পুলক বৈবর্ণ্য,
না জানি কতেক হয়॥
ত্রিভঙ্গ হইয়া,                        কবহুঁ রহিয়া,
অঙ্গুলী-মুরলী বায়।
জিনি মত্ত গজ,                        চলই সহজ,
দেখি নয়ন জুড়ায়॥
অতি মনোহর,                        যজ্ঞসূত্র-ধর,
সদয় হৃদয়ে শোভে।
এ বুঝি অনন্ত,                        হই গুণবন্ত,
রহিলা পরশ-লোভে॥
নিত্যানন্দ-চাঁদ,                       মাধব-নন্দন
শোভা করে দুই পাশে।
যত প্রিয়-গণ,                       করয়ে কীর্ত্তন,
সবা চাহি চাহি হাসে॥
যাঁহার কীর্ত্তন,                      করি অনুক্ষণ,
শিব দিগম্বর ভোলা।
সে প্রভু বিহরে,                     নগরে নগরে,
করিয়া কীর্ত্তন-খেলা॥
যে কর যে বেশ,              যে অঙ্গ যে কেশ,
কমলা লালন করে।
সে প্রভু ধুলায়,                     গড়াগড়ি যায়,
প্রতি নগরে নগরে॥
লক্ষ কোটি দীপে,              চান্দের আলোকে,
না জানি কি ভেল সুখে।
সকল সংসার,                   ‘হরি’ বহি আর,
না বোলই কারো মুখে॥
অপূর্ব্ব কৌতুক,                 দেখি সর্ব্ব লোক,
আনন্দে হইল ভোর।
সবেই সবার,                        চাহিয়া বদন,
বলে ভাই ‘হরি’ বোল॥
প্রভুর আনন্দ,                    জানে নিত্যানন্দ,
যখন যেরূপ হয়।
পড়িবার বেলে,                    দুই বাহু মেলে,
যেন অঙ্গে প্রভু রয়॥
নিত্যানন্দ ধরি,                     বীরাসন করি,
ক্ষণে মহাপ্রভু বৈসে।
বাম কক্ষে তালি                    দিয়া কুতূহলী,
‘হরি হরি’ বলি হাসে॥
অকপটে ক্ষণে,                     কহয়ে আপনে,
মুঞি দেব নারায়ণ।
কংসাসুর মারি,              মুঞি সে কংসারি,
বলি ছলিয়া বামন॥
সেতু বন্ধ করি,                    রাবণ সংহারি,
মুঞি সে রাঘব-রায়।
করিয়া হুঙ্কার,                      তত্ত্ব আপনার,
কহি চারিদিগে চায়॥
কে বুঝে সে তত্ত্ব,                   অচিন্ত্য মহত্ত্ব,
সেই ক্ষণে কহে আন।
দন্তে তৃণ ধরি,                    ‘প্রভু প্রভু’ বলি,
মাগয়ে ভকতি দান॥
যখনে যে করে,                  গৌরাঙ্গ সুন্দরে,
সব মনোহর লীলা।
আপন-বদনে,                       আপন-চরণে,
অঙ্গুলি ধরিয়া খেলা॥
বৈকুন্ঠ-ঈশ্বর,                      প্রভু বিশ্বম্ভর,
সব নবদ্বীপে নাচে।
শ্বেতদ্বীপ নাম,                      নবদ্বীপ গ্রাম,
বেদে প্রকাশিব পাছে॥
মন্দিরা মৃদঙ্গ,                      শঙ্খ করতাল,
না জানি কতেক বাজে।
মহা হরিধ্বনি,                     চতুর্দ্দিগে শুনি,
মাঝে শোভে দ্বিজরাজে॥
জয় জয় জয়,                       নগর-কীর্ত্তন,
জয় বিশ্বম্ভর-নৃত্য।
বিংশ-পদ-গীত,                     চৈতন্য-চরিত,
জয় চৈতন্যের ভৃত্য॥
যেই দিগে চায়,                     বিশ্বম্ভর-রায়,
সেই দিগে প্রেমে ভাসে।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য,                ঠাকুর নিত্যানন্দ,
গায় বৃন্দাবন দাসে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ
সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৭৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া॥

নাচে বিশ্বম্ভর বৈকুণ্ঠ-ঈশ্বর ভাগিরথীতীরে তীরে।
যার পদধূলি হই কুতূহলি অনন্ত ধরেন শিরে॥
অপূর্ব্ব বিকার নয়নে সুধার হুঙ্কার গর্জ্জন শুনি।
হাসিয়া হাসিয়া শ্রীভুজ তুলিয়া বলে হরি হরি-ধ্বনি॥
মদন সুন্দর গৌর-কলেবর দিব্য বাস পরিধান।
চাঁচর চিকুরে মালা মনোহরে যেন দেখি পাঁচ বাণ॥
চন্দনচর্চ্চিত শ্রীঅঙ্গ শোভিত গলে দোলে বনমালা।
ঢুলিয়া পড়য়ে প্রেমে স্থির নহে আনন্দে শচীর বালা॥
কাম-শরাসন ভ্রূযুগ পত্তন ভালে মলয়জ বিন্দু।
মুকুতা দশন শ্রীযুত বদন প্রকৃতি করুণাসিন্ধু॥
ক্ষণে শত শত বিকার অদ্ভুত কত করিব নিশ্চয়।
অশ্রু কম্প ঘর্ম্ম পুলক বৈবর্ণ্য জানি কতেক হয়॥
ত্রিভঙ্গ হইয়া কবহুঁ বাহিয়া অঙ্গুলী মুরলী বায়।
জিনি মত্তগজ চলই সহজ দেখি নয়ান জুড়ায়॥
অতি মনোহর যজ্ঞসূত্রধর সদয় হৃদয় শোভে।
যে বুঝি অনন্ত হই গুণবন্ত রহিলা পরশ লোভে॥
নিত্যানন্দচাঁদ মাধব-নন্দন শোভা করে দুই পাশে।
যত প্রিয়গণ করয়ে কীর্ত্তন সবা চাহি চাহি হাসে॥
যাহার কীর্ত্তন করি অনুক্ষণ শিব দিগম্বর ভোলা।
সে প্রভু বিহরে নগরে নগরে করিয়া নর্ত্তনখেলা॥
যে করয়ে বেশ যে অঙ্গ যে কেশ কমলা লালসা করে।
সে প্রভু ধূলায় গড়াগড়ি যায় প্রতি নগরে নগরে॥
যেই দিকে চায় বিশ্বম্ভর রায় সেই দিকে প্রেমে ভাসে।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য ঠাকুর নিত্যানন্দ গায় বৃন্দাবন দাসে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর