| কবি বৃন্দাবন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| কনক পূর্ণ চাঁদে কামিনীমোহন ফাঁদে ভণিতা বৃন্দাবন দাস কবি বৃন্দাবন দাস এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কানড়া॥ কনক পূর্ণ চাঁদে কামিনীমোহন ফাঁদে। মদনের মদগর্ব্বচূর্ণ। মৃদু মৃদু আধ ভাষা ঈষৎ উন্নত নাসা দাড়িম্বকুসুম জিনি বর্ণ॥ করে নয়নারবিন্দে পুষ্পক নামক রন্ধ্রে তারক ভ্রমর হরষিত। গভীর গর্জ্জন কভু কভু বলে হাহা প্রভু আপাদমস্তক পুলকিত॥ প্রেমে না দেখিয়া বাট ক্ষণে মারে মালসাট ক্ষণে কৃষ্ণ বলে ক্ষণে রাধা। নাচয়ে গৌরাঙ্গ রায় সবে দেখিবারে যায় কর্ম্মবন্ধে পড়ি গেল বাধা॥ পাই হেন প্রেমধন নাচয়ে বৈষ্ণবগণ আনন্দ-সাগরে নাহি ওর। দেখিয়া মেঘের মেলি চাতক করিয়া কেলি চাঁদ দেখি যৈছন চকোর॥ প্রেমে মাতোয়াল গোরা জগত করিল ভোরা পাইল সব জীবন আশ। জড় অন্ধ মূক মাত্র সভে ভেল প্রেমপাত্র বঞ্চিত এ বৃন্দাবন দাস॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| অলসে অরুণ আঁখি কহ গৌরাঙ্গ এ কি দেখি আলসে অরুণ আঁখি কহ গৌরাঙ্গ এ কি দেখি বৃন্দাবন দাস এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাস-দশকুশী॥ অলসে অরুণ আঁখি কহ গৌরাঙ্গ এ কি দেখি রজনী বঞ্চিলে কোন্ স্থানে। বদন-সরসী-রুহ মলিন যে হইয়াছে সারা নিশি করি জাগরণে॥ তুয়া সনে কিসের পিরীতি। এমন সোনার দেহ পরশ করিল কেহ না জানি সে কেমন রসবতী॥ ধ্রু॥ নদীয়া নাগরী সনে রসিক হৈয়াছে ওহে অবহি পার ছাড়িবারে। সুরধুনীতীরে গিয়া মার্জ্জন করহ হিয়া তবে সে আসিতে দিব ঘরে॥ গৌরাঙ্গ করুণভাষী কহে মৃদু মৃদু হাসি কাহে প্রিয়ে কহ কটুভাষ। হরিনামে জাগি নিশি অমিঞা সাগরে ভাসি গুণ গায় বৃন্দাবন দাস॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ বলে উল্লেখ রয়েছে। খণ্ডিতার গৌরচন্দ্র ॥ বিভাস-দশকুশী॥ আলসে অরুণ আঁখি কহ গৌরাঙ্গ এ কি দেখি রজনী বঞ্চিলে কোন্ স্থানে। বদনসরসীরুহ মলিন যে হইয়াছে সারা নিশি করি জাগরণে॥ তুয়া সনে কিসের পিরীতি। এমন সোনার দেহ পরশ করিল কেহ না জানি সে কেমন রসবতী॥ ধ্রু॥ নদীয়া নাগরী সনে রসিক হৈয়াছে ওহে অবহি কি পার ছাড়িবারে। সুরধুনীতীরে গিয়া মার্জ্জন করহ হিয়া তবে সে আসিতে দিব ঘরে॥ গৌরাঙ্গ করুণভাষী কহে মৃদু মৃদু হাসি কাহে প্রিয়ে কহ কটুভাষ। হরিনামে জাগি নিশি অমিঞা সাগরে ভাসি গুণ গায় বৃন্দাবন দাস॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৩০-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে। আলসে অরুণ আঁখি কহ গৌরাঙ্গ এ কি দেখি রজনী বঞ্চিলে কোন্ স্থানে। বদনসরসীরুহ মলিন যে হইয়াছে সারা নিশি করি জাগরণে॥ তুয়া সনে কিসের পিরীতি। এমন সোনার দেহ পরশ করিল কেহ না জানি সে কেমন রসবতী॥ নদীয়া নাগরী সনে রসিক হৈয়াছে ওহে অবহি কি পার ছাড়িবারে। সুরধুনীতীরে গিয়া মার্জ্জন করহ হিয়া তবে সে আসিতে দিব ঘরে॥ গৌরাঙ্গ করুণভাষী কহে মৃদু মৃদু হাসি কাহে প্রিয়ে কহ কটুভাষ। হরিনামে জাগি নিশি অমিঞা সাগরে ভাসি গুণ গায় বৃন্দাবন দাস॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কাঁদে সব ভক্তগণ হইয়া অচেতন বৃন্দাবন দাস এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারি॥ কাঁদে সব ভক্তগণ হইয়া অচেতন হরি হরি বলি উচ্চৈঃস্বরে। কিবা মোর ধন জন কিবা মোর জীবন প্রভু ছাড়ি গেলা সবাকারে॥ মাথায় দিয়া হাত বুকে মারে নির্ঘাত হরি হরি প্রভু বিশ্বম্ভর। সন্ন্যাস করিতে গেলা আমা সবে না বলিলা কাঁদে ভক্ত ধূলায় ধূসর॥ প্রভুর অঙ্গনে পড়ি কাঁদে মুকুন্দ মুরারি শ্রীধর গদাধর গঙ্গাদাস। শ্রীবাসের গণ যত তারা কাঁদে অবিরত শ্রীআচার্য্য কাঁদে হরিদাস॥ শুনিয়া ক্রন্দন রব নদীয়ার লোক সব দেখিতে আইসে সবে ধাঞা। না দেখি প্রভুর মুখ সবে পায় মহাশোক কাঁদে সবে মাথে হাত দিয়া॥ নগরিয়া ভক্ত যত সব শোকে বিগলিত বালবৃদ্ধ নাহিক বিচার। কাঁদে সব স্ত্রীপুরুষে পাষণ্ডিগণ হাসে বৃন্দাবন করে হাহাকার॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ বলে উল্লেখ রয়েছে। শ্রীগৌরাঙ্গেরর সন্ন্যাস ॥ ভাটিয়ারি॥ কাঁদে সব ভক্তগণ হইয়া অচেতন হরি হরি বলি উচ্চৈঃস্বরে। কিবা মোর ধন জন কিবা মোর জীবন প্রভু ছাড়ি গেলা সবাকারে॥ মাথায় দিয়া হাত বুকে মারে নির্ঘাত হরি হরি প্রভু বিশ্বম্ভর। সন্ন্যাস করিতে গেলা আমা সবে না বলিলা কাঁদে ভক্ত ধূলায় ধূসর॥ প্রভুর অঙ্গনে পড়ি কাঁদে মুকুন্দ মুরারি শ্রীধর গদাধর গঙ্গাদাস। শ্রীবাসের গণ যত তারা কাঁদে অবিরত শ্রীআচার্য্য কাঁদে হরিদাস॥ শুনিয়া ক্রন্দন রব নদীয়ার লোক সব দেখিতে আইসে সবে ধাঞা। না দেখি প্রভুর মুখ সবে পায় মহাশোক কাঁদে সবে মাথে হাত দিয়া॥ নগরিয়া ভক্ত যত সব শোকে বিগলিত বালবৃদ্ধ নাহিক বিচার। কাঁদে সব স্ত্রীপুরুষে পাষণ্ডিগণ হাসে বৃন্দাবন করে হাহাকার॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২২৩-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে। কাঁদে সব ভক্তগণ হইয়া অচেতন হরি হরি বলি উচ্চৈঃস্বরে। কিবা মোর ধন জন কিবা মোর জীবন প্রভু ছাড়ি গেলা সবাকারে॥ মাথায় দিয়া হাত বুকে মারে নির্ঘাত হরি হরি প্রভু বিশ্বম্ভর। সন্ন্যাস করিতে গেলা আমা সবে না বলিলা কাঁদে ভক্ত ধূলায় ধূসর॥ প্রভুর অঙ্গনে পড়ি কাঁদে মুকুন্দ মুরারি শ্রীধর গদাধর গঙ্গাদাস। শ্রীবাসের গণ যত তারা কাঁদে অবিরত শ্রীআচার্য্য কাঁদে হরিদাস॥ শুনিয়া ক্রন্দন রব নদীয়ার লোক সব দেখিতে আইসে সবে ধাঞা। না দেখি প্রভুর মুখ সবে পায় মহাশোক কাঁদে সবে মাথে হাত দিয়া॥ নগরিয়া ভক্ত যত সব শোকে বিগলিত বালবৃদ্ধ নাহিক বিচার। কাঁদে সব স্ত্রীপুরুষে পাষণ্ডিগণ হাসে বৃন্দাবন করে হাহাকার॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নবীন সন্ন্যাসী বেশে বিশ্বম্ভর ঊর্দ্ধশ্বাসে ভণিতা বৃন্দাবন কবি বৃন্দাবন দাস এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কানাড়া॥ নবীন সন্ন্যাসীবেশে বিশ্বম্ভর ঊর্দ্ধশ্বাসে বৃন্দাবন পানেতে ছুটিল। কটিতে করঙ্গ বাঁধা মুখে রব রাধা রাধা উধাউ হইয়া পহুঁ ধাইল॥ দুনয়নে প্রেমধারা বহে। বলে কাঁহা মঝু রাই কাঁহা যশোমতি মাই ললিতা বিশাখা মঝু কাহে॥ ধ্রু॥ কাঁহা গিরি গোবর্দ্ধন কাঁহা সে দ্বাদশবন শ্যামকুণ্ড রাধাকুণ্ড কই। ছিদাম সুবল সখা কাঁহা মুঝে দেও দেখা কই মোর নীপতরু কই॥ কাঁহা নব লক্ষ ধেনু কাঁহা মেরি শিঙ্গা বেণু কাঁহা মোর যমুনা পুলিন। বৃন্দাবন কাঁদি কয় আমার গৌরাঙ্গ রায় কেন হেন হইল মলিন॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ বলে উল্লেখ রয়েছে। শ্রীগৌরচন্দ্রের সন্ন্যাস ॥ কানাড়া॥ নবীন সন্ন্যাসীবেশে বিশ্বম্ভর ঊর্দ্ধশ্বাসে বৃন্দাবন পানেতে ছুটিল। কটিতে করঙ্গ বাঁধা মুখে রব রাধা রাধা উধাউ হইয়া পহুঁ ধাইল॥ দুনয়নে প্রেমধারা বহে। বলে কাঁহা মঝু রাই কাঁহা যশোমতি মাই ললিতা বিশাখা মঝু কাঁহে॥ ধ্রু॥ কাঁহা গিরি গোবর্দ্ধন কাঁহা সে দ্বাদশবন শ্যামকুণ্ড রাধাকুণ্ড কই। ছিদাম সুবল সখা কাঁহা মুঝে দেও দেখা কই মোর নীপতরু কই॥ কাঁহা নব লক্ষ ধেনু কাঁহা মেরি শিঙ্গা বেণু কাঁহা মোর যমুনাপুলিন। বৃন্দাবন কাঁদি কয় আমার গৌরাঙ্গ রায় কেন হেন হইল মলিন॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৩৩-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে। নবীন সন্ন্যাসীবেশে বিশ্বম্ভর ঊর্দ্ধশ্বাসে বৃন্দাবন পানেতে ছুটিল। কটিতে করঙ্গ বাঁধা মুখে রব রাধা রাধা উধাউ হইয়া পহুঁ ধাইল॥ দুনয়নে প্রেমধারা বহে। বলে কাঁহা মঝু রাই কাঁহা যশোমতি মাই ললিতা বিশাখা মঝু কাঁহে॥ কাঁহা গিরি গোবর্দ্ধন কাঁহা সে দ্বাদশবন শ্যামকুণ্ড রাধাকুণ্ড কই। ছিদাম সুবল সখা কাঁহা মুঝে দেও দেখা কই মোর নীপতরু কই॥ কাঁহা নব লক্ষ ধেনু কাঁহা মেরি শিঙ্গা বেণু কাঁহা মোর যমুনাপুলিন। বৃন্দাবন কাঁদি কয় আমার গৌরাঙ্গ রায় কেন হেন হইল মলিন॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |