কবি বৃন্দাবন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
লক্ষ কোটী দীপে চন্দ্রের আলোকে
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র
সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৭৭-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া॥

লক্ষ কোটী দীপে, চন্দ্রের আলোকে না জানি কি ভেল সুখে।
সকল সংসার,  হরি বহি আর,  না বোলই কার মুখে॥
অপূর্ব্ব কৌতুক, দেখি সর্ব্বলোক, আনন্দে হইল ভোর।
সবেই সবার, চাহিয়া বদন, বলে ভাই হরি বোল॥
প্রভুর আনন্দ, জানে নিত্যানন্দ, যখন যেরূপ হয়।
পড়িবার বেলে, দুই বাহু মেলে, যেন অঙ্গে প্রভু রয়॥
নিত্যানন্দ ধরি, বীরাসন কর্, ক্ষণে মহাপ্রভু বৈসে।
বামকক্ষে তালি, দিয়া কুতূহলি, হরি হরি বলি হাসে॥
অকপটে ক্ষণে, কহয়ে আপনে, মুঞি দেব নারায়ণ।
কংসাসুর মারি, মুঞি সে কংসারি, বলি ছলিয়া বামন॥
সেতুবন্ধ করি, রাবণ সংহারি, মুঞি সে রাঘব রায়।
করিয়া হুঙ্কার, তত্ত্ব আপনার, কহে চারি দিকে চায়॥
কে বুঝে সে তত্ত্ব, অচিন্ত্য মহত্ত্ব, সেই ক্ষণে কহে আন।
দন্তে তৃণ ধরি, প্রভু প্রভু করি, মাগয়ে ভকতি দান॥
যখন যে করে, গৌরাঙ্গ সুন্দরে, সব মনোহর লীলা।
আপন বদনে, আপন চরণে, অঙ্গুলি ধরিয়া খেলা॥
বৈকুন্ঠ ঈশ্বর, প্রভু বিশ্বম্ভর, সব নবদ্বীপে নাচে।
শ্বেতদ্বীপ নাম, নবদ্বীপ গ্রাম, বেদে প্রকাশিব পাছে॥
মন্দিরা মৃদঙ্গ শঙ্খাদি মোচঙ্গ না জানি কতেক বাজে।
হরি হরি ধ্বনি, চতুর্দ্দিকে শুনি, মাঝে শোভে দ্বিজরাজে॥
জয় জয় জয় নগরকীর্ত্তন, জয় বিশ্বম্ভর নৃত্য।
বিংশতি পদ গীত, চৈতন্যচরিত, জয় জয় চৈতন্যভৃত্য॥
যেই দিকে চায়, বিশ্বম্ভর রায়, সেই দিকে প্রেমে ভাসে।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য, ঠাকুর নিত্যানন্দ, গায় বৃন্দাবন দাসে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
কনক পূর্ণ চাঁদে কামিনীমোহন ফাঁদে
ভণিতা বৃন্দাবন দাস

কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি
ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কানড়া॥

কনক পূর্ণ চাঁদে                কামিনীমোহন ফাঁদে।
মদনের মদগর্ব্বচূর্ণ।
মৃদু মৃদু আধ ভাষা                ঈষৎ উন্নত নাসা
দাড়িম্বকুসুম জিনি বর্ণ॥
করে নয়নারবিন্দে                পুষ্পক নামক রন্ধ্রে
তারক ভ্রমর হরষিত।
গভীর গর্জ্জন কভু                 কভু বলে হাহা প্রভু
আপাদমস্তক পুলকিত॥
প্রেমে না দেখিয়া বাট            ক্ষণে মারে মালসাট
ক্ষণে কৃষ্ণ বলে ক্ষণে রাধা।
নাচয়ে গৌরাঙ্গ রায়             সবে দেখিবারে যায়
কর্ম্মবন্ধে পড়ি গেল বাধা॥
পাই হেন প্রেমধন                   নাচয়ে বৈষ্ণবগণ
আনন্দ-সাগরে নাহি ওর।
দেখিয়া মেঘের মেলি           চাতক করিয়া কেলি
চাঁদ দেখি যৈছন চকোর॥
প্রেমে মাতোয়াল গোরা           জগত করিল ভোরা
পাইল সব জীবন আশ।
জড় অন্ধ মূক মাত্র              সভে ভেল প্রেমপাত্র
বঞ্চিত এ বৃন্দাবন দাস॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
অলসে অরুণ আঁখি কহ গৌরাঙ্গ এ কি দেখি
আলসে অরুণ আঁখি কহ গৌরাঙ্গ এ কি দেখি
বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ
সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস-দশকুশী॥

অলসে অরুণ আঁখি          কহ গৌরাঙ্গ এ কি দেখি
রজনী বঞ্চিলে কোন্ স্থানে।
বদন-সরসী-রুহ                     মলিন যে হইয়াছে
সারা নিশি করি জাগরণে॥
তুয়া সনে কিসের পিরীতি।
এমন সোনার দেহ                  পরশ করিল কেহ
না জানি সে কেমন রসবতী॥ ধ্রু॥
নদীয়া নাগরী সনে                 রসিক হৈয়াছে ওহে
অবহি পার ছাড়িবারে।
সুরধুনীতীরে গিয়া                  মার্জ্জন করহ হিয়া
তবে সে আসিতে দিব ঘরে॥
গৌরাঙ্গ করুণভাষী                 কহে মৃদু মৃদু হাসি
কাহে প্রিয়ে কহ কটুভাষ।
হরিনামে জাগি নিশি            অমিঞা সাগরে ভাসি
গুণ গায় বৃন্দাবন দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ বলে
উল্লেখ রয়েছে।

খণ্ডিতার গৌরচন্দ্র
॥ বিভাস-দশকুশী॥

আলসে অরুণ আঁখি          কহ গৌরাঙ্গ এ কি দেখি
রজনী বঞ্চিলে কোন্ স্থানে।
বদনসরসীরুহ                        মলিন যে হইয়াছে
সারা নিশি করি জাগরণে॥
তুয়া সনে কিসের পিরীতি।
এমন সোনার দেহ                    পরশ করিল কেহ
না জানি সে কেমন রসবতী॥ ধ্রু॥
নদীয়া নাগরী সনে                  রসিক হৈয়াছে ওহে
অবহি কি পার ছাড়িবারে।
সুরধুনীতীরে গিয়া                   মার্জ্জন করহ হিয়া
তবে সে আসিতে দিব ঘরে॥
গৌরাঙ্গ করুণভাষী                 কহে মৃদু মৃদু হাসি
কাহে প্রিয়ে কহ কটুভাষ।
হরিনামে জাগি নিশি            অমিঞা সাগরে ভাসি
গুণ গায় বৃন্দাবন দাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২৩০-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

আলসে অরুণ আঁখি কহ গৌরাঙ্গ এ কি                   
দেখি রজনী বঞ্চিলে কোন্ স্থানে।
বদনসরসীরুহ মলিন যে হইয়াছে                           
সারা নিশি করি জাগরণে॥
তুয়া সনে কিসের পিরীতি।                                
এমন সোনার দেহ পরশ করিল কেহ                      
না জানি সে কেমন রসবতী॥
নদীয়া নাগরী সনে রসিক হৈয়াছে ওহে                    
অবহি কি পার ছাড়িবারে।
সুরধুনীতীরে গিয়া মার্জ্জন করহ হিয়া                     
তবে সে আসিতে দিব ঘরে॥
গৌরাঙ্গ করুণভাষী কহে মৃদু মৃদু হাসি                     
কাহে প্রিয়ে কহ কটুভাষ।
হরিনামে জাগি নিশি অমিঞা সাগরে                        
ভাসি গুণ গায় বৃন্দাবন দাস॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
করিলেন মহাপ্রভু শিখার মুণ্ডন
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত,
মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ রামকিরি॥

করিলেন মহাপ্রভু শিখার মুণ্ডন।
শিখা সোঙরিয়া কাঁদে ভাগবতগণ॥
কেহ বলে সে সুন্দর চাঁচর-চিকুরে।
আর মালা গাঁথিয়া কি না দিব উপরে॥
কেহ বলে না দেখিয়া সে কেশ বন্ধন।
কি মতে রহিবে এই পাপিষ্ঠ জীবন॥
সে কেশের দিব্য গন্ধ না লইব আর।
এত বলি শিরে কর হানয়ে অপার॥
কেহ বলে সে সুন্দর কেশে আরবার।
আমলকী দিয়া কি করিব সংস্কার॥
হরি হরি বলি কেহ কাঁদে উচ্চস্বরে।
ডুবিলেন ভক্তগণ দুঃখের সাগরে॥
শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দচাঁদ পহুঁ জান।
বৃন্দাবন দাস তছু পদযুগ গান॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন
দাস (১) এর পদ বলে উল্লেখ রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গেরর সন্ন্যাস
॥ রামকিরি॥

করিলেন মহাপ্রভু শিখার মুণ্ডন।
শিখা সোঙরিয়া কাঁদে ভাগবতগণ॥
কেহ বলে সে সুন্দর চাঁচর চিকুরে।
আর মালা গাঁথিয়া কি না দিব উপরে॥
কেহ বলে না দেখিয়া সে কেশ বন্ধন।
কি মতে রহিবে এই পাপিষ্ঠ জীবন॥
সে কেশের দিব্য গন্ধ না লইব আর।
এত বলি শিরে কর হানয়ে অপার॥
কেহ বলে সে সুন্দর কেশে আরবার।
আমলকী দিয়া কি করিব সংস্কার॥
হরি হরি বলি কেহ কাঁদে উচ্চস্বরে।
ডুবিলেন ভক্তগণ দুঃখের সাগরে॥
শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দচাঁদ পহুঁ জান।
বৃন্দাবন দাস তছু পদযুগ গান॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২২৩-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

করিলেন মহাপ্রভু শিখার মুণ্ডন।
শিখা সোঙরিয়া কাঁদে ভাগবতগণ॥
কেহ বলে সে সুন্দর চাঁচর চিকুরে।
আর মালা গাঁথিয়া কি না দিব উপরে॥
কেহ বলে না দেখিয়া সে কেশ বন্ধন।
কি মতে রহিবে এই পাপিষ্ঠ জীবন॥
সে কেশের দিব্য গন্ধ না লইব আর।
এত বলি শিরে কর হানয়ে অপার॥
কেহ বলে সে সুন্দর কেশে আরবার।
আমলকী দিয়া কি করিব সংস্কার॥
হরি হরি বলি কেহ কাঁদে উচ্চস্বরে।
ডুবিলেন ভক্তগণ দুঃখের সাগরে॥
শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দচাঁদ পহুঁ জান।
বৃন্দাবন দাস তছু পদযুগ গান॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
শুষ্ক হিয়া জীবের দেখিয়া গৌরহরি
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত,
মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

শুষ্ক হিয়া জীবের দেখিয়া গৌরহরি।
আচণ্ডালে দিলা নাম বিতরি বিতরি॥
অফুরন্ত নাম প্রেম ক্রমে বাড়ি যায়।
কলসে কলসে সেঁচে তবু না ফুরায়॥
নামে প্রেমে তরি গেল যত জীব ছিল।
পড়ুয়া নাস্তিক আদি পড়িয়া রহিল॥
শাস্ত্রমদে মত্ত হৈয়া নাম না লইল।
অবতারসার তারা স্বীকার না কৈল॥
দেখিয়া দয়াল প্রভু করেন ক্রন্দন।
তাদেরে তরাইতে তার হইল মনন॥
সেই হেতু গোরাচাঁদ লইলা সন্ন্যাস।
মরমে মরিয়া রোয় বৃন্দাবন দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৭৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন
দাস (১) এর পদ বলে উল্লেখ রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গেরর সন্ন্যাস
॥ শ্রীরাগ॥

শুষ্ক হিয়া জীবের দেখিয়া গৌরহরি।
আচণ্ডালে দিলা নাম বিতরি বিতরি॥
অফুরন্ত নাম প্রেম ক্রমে বাড়ি যায়।
কলসে কলসে সেঁচে তবু না ফুরায়॥
নামে প্রেমে তরি গেল যত জীব ছিল।
পড়ুয়া নাস্তিক আদি পড়িয়া রহিল॥
শাস্ত্রমদে মত্ত হৈয়া নাম না লইল।
অবতারসার তারা স্বীকার না কৈল॥
দেখিয়া দয়াল প্রভু করেন ক্রন্দন।
তাদেরে তরাইতে তার হইল মনন॥
সেই হেতু গোরাচাঁদ লইলা সন্ন্যাস।
মরমে মরিয়া রোয় বৃন্দাবন দাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২২৮-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

শুষ্ক হিয়া জীবের দেখিয়া গৌরহরি।
আচণ্ডালে দিলা নাম বিতরি বিতরি॥
অফুরন্ত নাম প্রেম ক্রমে বাড়ি যায়।
কলসে কলসে সেঁচে তবু না ফুরায়॥
নামে প্রেমে তরি গেল যত জীব ছিল।
পড়ুয়া নাস্তিক আদি পড়িয়া রহিল॥
শাস্ত্রমদে মত্ত হৈয়া নাম না লইল।
অবতারসার তারা স্বীকার না কৈল॥
দেখিয়া দয়াল প্রভু করেন ক্রন্দন।
তাদেরে তরাইতে তার হইল মনন॥
সেই হেতু গোরাচাঁদ লইলা সন্ন্যাস।
মরমে মরিয়া রোয় বৃন্দাবন দাস॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
নিন্দুক পাষণ্ডীগণ প্রেমে না মজিল
ভণিতা বৃন্দাবন
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত,
মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

নিন্দুক পাষণ্ডীগণ প্রেমে না মজিল।
অযাচিত হরিনাম গ্রহণ না কৈল॥
না ডুবিল শ্রীগৌরাঙ্গ প্রেমের বাদলে।
তাদের জীবন যায় দেখিয়া বিফলে॥
তাদের উদ্ধার হেতু প্রভুর সন্ন্যাস।
ছাড়িলা যুবতী ভার্য্যা সুখের গৃহবাস॥
বৃদ্ধা জননীর বুকে শোক-শেল দিয়া।
পরিলা কৌপীন ডোর শিখা মুড়াইয়া॥
সর্ব্বজীবে সম দয়া দয়ার ঠাকুর।
বঞ্চিত এ বৃন্দাবন বৈষ্ণবের কুকুর॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৭৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন
দাস (১) এর পদ বলে উল্লেখ রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস
॥ শ্রীরাগ॥

নিন্দুক পাষণ্ডীগণ প্রেমে না মজিল।
অযাচিত হরিনাম গ্রহণ না কৈল॥
না ডুবিল শ্রীগৌরাঙ্গ প্রেমের বাদলে।
তাদের জীবন যায় দেখিয়া বিফলে॥
তাদের উদ্ধার হেতু প্রভুর সন্ন্যাস।
ছাড়িলা যুবতী ভার্য্যা সুখের গৃহবাস॥
বৃদ্ধা জননীর বুকে শোকশেল দিয়া।
পরিলা কৌপীন ডোর শিখা মুড়াইয়া॥
সর্ব্বজীবে সম দয়া দয়ার ঠাকুর।
বঞ্চিত এ বৃন্দাবন বৈষ্ণবের কুকুর॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২২৬-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

নিন্দুক পাষণ্ডীগণ প্রেমে না মজিল।
অযাচিত হরিনাম গ্রহণ না কৈল॥
না ডুবিল শ্রীগৌরাঙ্গ প্রেমের বাদলে।
তাদের জীবন যায় দেখিয়া বিফলে॥
তাদের উদ্ধার হেতু প্রভুর সন্ন্যাস।
ছাড়িলা যুবতী ভার্য্যা সুখের গৃহবাস॥
বৃদ্ধা জননীর বুকে শোকশেল দিয়া।
পরিলা কৌপীন ডোর শিখা মুড়াইয়া॥
সর্ব্বজীবে সম দয়া দয়ার ঠাকুর।
বঞ্চিত এ বৃন্দাবন বৈষ্ণবের কুকুর॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
নিন্দুক পাষণ্ডী আর নাস্তিক দুর্জ্জন
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত,
মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

নিন্দুক পাষণ্ডী আর নাস্তিক দুর্জ্জন।
মদে মত্ত অধ্যাপক পড়ুয়ার গণ॥
প্রভুর সন্ন্যাস শুনি কাঁদিয়া বিকলে।
হায় হায় কি করিনু আমরা সকলে॥
লইল হরির নাম জীব শত শত।
কেবল মোদের হিয়া পাষাণের মত॥
যদি মোরা নাম প্রেম করিতাম গ্রহণ।
না করিত গৌরহরি শিখার মুণ্ডন॥
হায় কেন হেন বুদ্ধি হৈল মো সবার।
পতিতপাবনে কেন কৈনু অস্বীকার॥
এইবার যদি গোরা নবদ্বীপ আসে।
চরণে ধরিব কহে বৃন্দাবন দাসে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৭৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন
দাস (১) এর পদ বলে উল্লেখ রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গেরর সন্ন্যাস
॥ শ্রীরাগ॥

নিন্দুক পাষণ্ডী আর নাস্তিক দুর্জ্জন।
মদে মত্ত অধ্যাপক পড়ুয়ার গণ॥
প্রভুর সন্ন্যাস শুনি কাঁদিয়া বিকলে।
হায় হায় কি করিনু আমরা সকলে॥
লইল হরির নাম জীব শত শত।
কেবল মোদের হিয়া পাষাণের মত॥
যদি মোরা নাম প্রেম করিতাম গ্রহণ।
না করিত গৌরহরি শিখার মুণ্ডন॥
হায় কেন হেন বুদ্ধি হৈল মো সবার।
পতিতপাবনে কেন কৈনু অস্বীকার॥
এইবার যদি গোরা নবদ্বীপ আসে।
চরণে ধরিব কহে বৃন্দাবন দাসে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২২৬-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

নিন্দুক পাষণ্ডী আর নাস্তিক দুর্জ্জন।
মদে মত্ত অধ্যাপক পড়ুয়ার গণ॥
প্রভুর সন্ন্যাস শুনি কাঁদিয়া বিকলে।
হায় হায় কি করিনু আমরা সকলে॥
লইল হরির নাম জীব শত শত।
কেবল মোদের হিয়া পাষাণের মত॥
যদি মোরা নাম প্রেম করিতাম গ্রহণ।
না করিত গৌরহরি শিখার মুণ্ডন॥
হায় কেন হেন বুদ্ধি হৈল মো সবার।
পতিতপাবনে কেন কৈনু অস্বীকার॥
এইবার যদি গোরা নবদ্বীপ আসে।
চরণে ধরিব কহে বৃন্দাবন দাসে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
কাঁদে সব ভক্তগণ হইয়া অচেতন
বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ
সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

কাঁদে সব ভক্তগণ                     হইয়া অচেতন
হরি হরি বলি উচ্চৈঃস্বরে।
কিবা মোর ধন জন                 কিবা মোর জীবন
প্রভু ছাড়ি গেলা সবাকারে॥
মাথায় দিয়া হাত                  বুকে মারে নির্ঘাত
হরি হরি প্রভু বিশ্বম্ভর।
সন্ন্যাস করিতে গেলা           আমা সবে না বলিলা
কাঁদে ভক্ত ধূলায় ধূসর॥
প্রভুর অঙ্গনে পড়ি                কাঁদে মুকুন্দ মুরারি
শ্রীধর গদাধর গঙ্গাদাস।
শ্রীবাসের গণ যত               তারা কাঁদে অবিরত
শ্রীআচার্য্য কাঁদে হরিদাস॥
শুনিয়া ক্রন্দন রব                   নদীয়ার লোক সব
দেখিতে আইসে সবে ধাঞা।
না দেখি প্রভুর মুখ               সবে পায় মহাশোক
কাঁদে সবে মাথে হাত দিয়া॥
নগরিয়া ভক্ত যত                 সব শোকে বিগলিত
বালবৃদ্ধ নাহিক বিচার।
কাঁদে সব স্ত্রীপুরুষে                    পাষণ্ডিগণ হাসে
বৃন্দাবন করে হাহাকার॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ বলে
উল্লেখ রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গেরর সন্ন্যাস
॥ ভাটিয়ারি॥

কাঁদে সব ভক্তগণ                     হইয়া অচেতন
হরি হরি বলি উচ্চৈঃস্বরে।
কিবা মোর ধন জন                কিবা মোর জীবন
প্রভু ছাড়ি গেলা সবাকারে॥
মাথায় দিয়া হাত                 বুকে মারে নির্ঘাত
হরি হরি প্রভু বিশ্বম্ভর।
সন্ন্যাস করিতে গেলা           আমা সবে না বলিলা
কাঁদে ভক্ত ধূলায় ধূসর॥
প্রভুর অঙ্গনে পড়ি                কাঁদে মুকুন্দ মুরারি
শ্রীধর গদাধর গঙ্গাদাস।
শ্রীবাসের গণ যত               তারা কাঁদে অবিরত
শ্রীআচার্য্য কাঁদে হরিদাস॥
শুনিয়া ক্রন্দন রব                  নদীয়ার লোক সব
দেখিতে আইসে সবে ধাঞা।
না দেখি প্রভুর মুখ              সবে পায় মহাশোক
কাঁদে সবে মাথে হাত দিয়া॥
নগরিয়া ভক্ত যত               সব শোকে বিগলিত
বালবৃদ্ধ নাহিক বিচার।
কাঁদে সব স্ত্রীপুরুষে                   পাষণ্ডিগণ হাসে
বৃন্দাবন করে হাহাকার॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২২৩-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

কাঁদে সব ভক্তগণ হইয়া অচেতন                
হরি হরি বলি উচ্চৈঃস্বরে।
কিবা মোর ধন জন কিবা মোর জীবন           
প্রভু ছাড়ি গেলা সবাকারে॥
মাথায় দিয়া হাত বুকে মারে নির্ঘাত             
হরি হরি প্রভু বিশ্বম্ভর।
সন্ন্যাস করিতে গেলা আমা সবে না                
বলিলা কাঁদে ভক্ত ধূলায় ধূসর॥
প্রভুর অঙ্গনে পড়ি কাঁদে মুকুন্দ মুরারি            
শ্রীধর গদাধর গঙ্গাদাস।
শ্রীবাসের গণ যত তারা কাঁদে অবিরত            
শ্রীআচার্য্য কাঁদে হরিদাস॥
শুনিয়া ক্রন্দন রব নদীয়ার লোক সব                
দেখিতে আইসে সবে ধাঞা।
না দেখি প্রভুর মুখ সবে পায় মহাশোক             
কাঁদে সবে মাথে হাত দিয়া॥
নগরিয়া ভক্ত যত সব শোকে বিগলিত             
বালবৃদ্ধ নাহিক বিচার।
কাঁদে সব স্ত্রীপুরুষে পাষণ্ডিগণ হাসে                
বৃন্দাবন করে হাহাকার॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
নবীন সন্ন্যাসী বেশে বিশ্বম্ভর ঊর্দ্ধশ্বাসে
ভণিতা বৃন্দাবন
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ
সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কানাড়া॥

নবীন সন্ন্যাসীবেশে                বিশ্বম্ভর ঊর্দ্ধশ্বাসে
বৃন্দাবন পানেতে ছুটিল।
কটিতে করঙ্গ বাঁধা               মুখে রব রাধা রাধা
উধাউ হইয়া পহুঁ ধাইল॥
দুনয়নে প্রেমধারা বহে।
বলে কাঁহা মঝু রাই             কাঁহা যশোমতি মাই
ললিতা বিশাখা মঝু কাহে॥ ধ্রু॥
কাঁহা গিরি গোবর্দ্ধন                কাঁহা সে দ্বাদশবন
শ্যামকুণ্ড রাধাকুণ্ড কই।
ছিদাম সুবল সখা              কাঁহা মুঝে দেও দেখা
কই মোর নীপতরু কই॥
কাঁহা নব লক্ষ ধেনু             কাঁহা মেরি শিঙ্গা বেণু
কাঁহা মোর যমুনা পুলিন।
বৃন্দাবন কাঁদি কয়               আমার গৌরাঙ্গ রায়
কেন হেন হইল মলিন॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ বলে
উল্লেখ রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্রের সন্ন্যাস
॥ কানাড়া॥

নবীন সন্ন্যাসীবেশে                  বিশ্বম্ভর ঊর্দ্ধশ্বাসে
বৃন্দাবন পানেতে ছুটিল।
কটিতে করঙ্গ বাঁধা               মুখে রব রাধা রাধা
উধাউ হইয়া পহুঁ ধাইল॥
দুনয়নে প্রেমধারা বহে।
বলে কাঁহা মঝু রাই              কাঁহা যশোমতি মাই
ললিতা বিশাখা মঝু কাঁহে॥ ধ্রু॥
কাঁহা গিরি গোবর্দ্ধন                কাঁহা সে দ্বাদশবন
শ্যামকুণ্ড রাধাকুণ্ড কই।
ছিদাম সুবল সখা               কাঁহা মুঝে দেও দেখা
কই মোর নীপতরু কই॥
কাঁহা নব লক্ষ ধেনু             কাঁহা মেরি শিঙ্গা বেণু
কাঁহা মোর যমুনাপুলিন।
বৃন্দাবন কাঁদি কয়                আমার গৌরাঙ্গ রায়
কেন হেন হইল মলিন॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২৩৩-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

নবীন সন্ন্যাসীবেশে বিশ্বম্ভর ঊর্দ্ধশ্বাসে                 
বৃন্দাবন পানেতে ছুটিল।
কটিতে করঙ্গ বাঁধা মুখে রব রাধা রাধা                
উধাউ হইয়া পহুঁ ধাইল॥
দুনয়নে প্রেমধারা বহে।                                
বলে কাঁহা মঝু রাই কাঁহা যশোমতি                    
মাই ললিতা বিশাখা মঝু কাঁহে॥
কাঁহা গিরি গোবর্দ্ধন কাঁহা সে দ্বাদশবন                
শ্যামকুণ্ড রাধাকুণ্ড কই।
ছিদাম সুবল সখা কাঁহা মুঝে দেও দেখা                
কই মোর নীপতরু কই॥
কাঁহা নব লক্ষ ধেনু কাঁহা মেরি শিঙ্গা                   
বেণু কাঁহা মোর যমুনাপুলিন।
বৃন্দাবন কাঁদি কয় আমার গৌরাঙ্গ রায়                
কেন হেন হইল মলিন॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
করি বৃন্দাবন ভান নিত্যানন্দ রায়
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত,
মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

করি বৃন্দাবন ভান নিত্যানন্দ রায়।
পহুঁকে লইয়া আচার্য্যের গৃহে যায়॥
অদ্বৈত অচৈতন্য ছিল প্রভুর বিরহে।
চাঁদমুখ হেরি প্রাণ পাইল মৃতদেহে॥
কাঁদিয়া কাঁদিয়া পহু কহে সীতাপতি।
কি জানি নিদয় হৈলা মোসবার প্রতি॥
কহ প্রভু কি দোষে ছাড়িয়া সবে গেলে।
তোমার সুখের হাট কেন বা ভাঙ্গিলে॥
প্রভু কহে মোরে নাড়া অনুযোগ দেহ।
তুমি ত নাটের গুরু নহে আর কেহ॥
হাতে তুড়ি দিয়া যেন পায়রা নাচায়।
তুই কিনা সেইরূপ নাচাস্ আমায়॥
সুখেতে গোলোকে ছিনু তুই ত আনিলি।
সব ছাড়াইয়া মোরে কাঙ্গাল করিলি॥
বৃন্দাবন দাস কহে কি দোষ নাড়ার।
নতু কৈছে হবে সব জীবের উদ্ধার॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন
দাস (২) এর পদ বলে উল্লেখ রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্রের সন্ন্যাস
॥ সুহই॥

করি বৃন্দাবন ভান নিত্যানন্দ রায়।
পহুঁকে লইয়া আচার্য্যের গৃহে যায়॥
অদ্বৈত অচৈতন্য ছিল প্রভুর বিরহে।
চাঁদমুখ হেরি প্রাণ পাইল মৃতদেহে॥
কাঁদিয়া কাঁদিয়া পহু কহে সীতাপতি।
কি জানি নিদয় হৈলা মোসবার প্রতি॥
কহ প্রভু কি দোষে ছাড়িয়া সবে গেলে।
তোমার সুখের হাট কেন বা ভাঙ্গিলে॥
প্রভু কহে মোরে নাড়া অনুযোগ দেহ।
তুমি ত নাটের গুরু নহে আর কেহ॥
হাতে তুড়ি দিয়া যেন পায়রা নাচায়।
তুই কিনা সেইরূপ নাচাস্ আমায়॥
সুখেতে গোলোকে ছিনু তুই ত আনিলি।
সব ছাড়াইয়া মোরে কাঙ্গাল করিলি॥
বৃন্দাবন দাস কহে কি দোষ নাড়ার।
নতু কৈছে হবে সব জীবের উদ্ধার॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২৩০-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

করি বৃন্দাবন ভান নিত্যানন্দ রায়।
পহুঁকে লইয়া আচার্য্যের গৃহে যায়॥
অদ্বৈত অচৈতন্য ছিল প্রভুর বিরহে।
চাঁদমুখ হেরি প্রাণ পাইল মৃতদেহে॥
কাঁদিয়া কাঁদিয়া পহু কহে সীতাপতি।
কি জানি নিদয় হৈলা মোসবার প্রতি॥
কহ প্রভু কি দোষে ছাড়িয়া সবে গেলে।
তোমার সুখের হাট কেন বা ভাঙ্গিলে॥
প্রভু কহে মোরে নাড়া অনুযোগ দেহ।
তুমি ত নাটের গুরু নহে আর কেহ॥
হাতে তুড়ি দিয়া যেন পায়রা নাচায়।
তুই কিনা সেইরূপ নাচাস্ আমায়॥
সুখেতে গোলোকে ছিনু তুই ত আনিলি।
সব ছাড়াইয়া মোরে কাঙ্গাল করিলি॥
বৃন্দাবন দাস কহে কি দোষ নাড়ার।
নতু কৈছে হবে সব জীবের উদ্ধার॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর