কবি বৃন্দাবন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
না যাইহ ওরে বাপ মায়েরে ছাড়িয়া
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত,
মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ৫ম তরঙ্গ, ৩য়
উচ্ছ্বাস, ২৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারী রাগ॥

না যাইহ ওরে বাপ মায়েরে ছাড়িয়া।
পাপিনী আছে যে সবে তোর মুখ চাইয়া॥
কমলনয়ন তোমার শ্রীচন্দ্রবদন।
অধর সুন্দর কুন্দ মুকুতা দশন॥
অমিয়া বরিখে যেন সুন্দর বচন।
না দেখি বাঁচিব কিসে গজেন্দ্রগমন॥
অদ্বৈত শ্রীবাসাদি যত অনুচর।
নিত্যানন্দ আছে তোর প্রাণের সোসর॥
পরম বান্ধব গদাধর আদি সঙ্গে।
গৃহে রাখি সংকীর্ত্তন কর তুমি রঙ্গে॥
ধর্ম্ম বুঝাইতে বাপ তব অবতার।
জননী ছাড়িবা কোন্ ধর্ম্মের বিচার॥
তুমি ধর্ম্মময় যদি জননী ছাড়িবা।
কেমনে জগতে তুমি ধর্ম্ম বুঝাইবা॥
তোমার অগ্রজ আমা ছাড়িয়া চলিলা।
বৈকুন্ঠে তোমার বাপ গমন করিলা॥
তোমা দেখি সকল সন্তাপ পাসরিনু।
তুমি গেলে জীবন ত্যজিব তোমা বিনু॥
প্রেমশোকে কহে শচী বিশ্বম্ভর পাশ।
প্রেমেতে রোধিতকন্ঠ বৃন্দাবন দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন
দাস (১) এর পদ বলে উল্লেখ রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস
॥ ভাটিয়ারী রাগ॥

না যাইহ ওরে বাপ মায়েরে ছাড়িয়া।
পাপিনী আছে যে সবে তোর মুখ চাইয়া॥
কমলনয়ন তোমার শ্রীচন্দ্রবদন।
অধর সুন্দর কুন্দ মুকুতা দশন॥
অমিয়া বরিখে যেন সুন্দর বচন।
না দেখি বাঁচিব কিসে গজেন্দ্রগমন॥
অদ্বৈত শ্রীবাসাদি যত অনুচর।
নিত্যানন্দ আছে তোর প্রাণের সোসর॥
পরম বান্ধব গদাধর আদি সঙ্গে।
গৃহে থাকি সংকীর্ত্তন কর তুমি রঙ্গে॥
ধর্ম্ম বুঝাইতে বাপ তব অবতার।
জননী ছাড়িবা কোন্ ধর্ম্মের বিচার॥
তুমি ধর্ম্মময় যদি জননী ছাড়িবা।
কেমনে জগতে তুমি ধর্ম্ম বুঝাইবা॥
তোমার অগ্রজ আমা ছাড়িয়া চলিলা।
বৈকুন্ঠে তোমার বাপ গমন করিলা॥
তোমা দেখি সকল সন্তাপ পাসরিনু।
তুমি গেলে জীবন ত্যজিব তোমা বিনু॥
প্রেমশোকে কহে শচী বিশ্বম্ভর পাশ।
প্রেমেতে রোধিতকন্ঠ বৃন্দাবন দাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২২৬-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

না যাইহ ওরে বাপ মায়েরে ছাড়িয়া।
পাপিনী আছে যে সবে তোর মুখ চাইয়া॥
কমলনয়ন তোমার শ্রীচন্দ্রবদন।
অধর সুন্দর কুন্দ মুকুতা দশন॥
অমিয়া বরিখে যেন সুন্দর বচন।
না দেখি বাঁচিব কিসে গজেন্দ্রগমন॥
অদ্বৈত শ্রীবাসাদি যত অনুচর।
নিত্যানন্দ আছে তোর প্রাণের সোসর॥
পরম বান্ধব গদাধর আদি সঙ্গে।
গৃহে থাকি সংকীর্ত্তন কর তুমি রঙ্গে॥
ধর্ম্ম বুঝাইতে বাপ তব অবতার।
জননী ছাড়িবা কোন্ ধর্ম্মের বিচার॥
তুমি ধর্ম্মময় যদি জননী ছাড়িবা।
কেমনে জগতে তুমি ধর্ম্ম বুঝাইবা॥
তোমার অগ্রজ আমা ছাড়িয়া চলিলা।
বৈকুন্ঠে তোমার বাপ গমন করিলা॥
তোমা দেখি সকল সন্তাপ পাসরিনু।
তুমি গেলে জীবন ত্যজিব তোমা বিনু॥
প্রেমশোকে কহে শচী বিশ্বম্ভর পাশ।
প্রেমেতে রোধিতকন্ঠ বৃন্দাবন দাস॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
প্রাণের গৌরাঙ্গ হের বাপ
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৫৬০ খৃষ্টাব্দ নাগাদ, বৃন্দাবন দাস বিরচিত এবং১৩৩৮ বঙ্গাব্দে
(১৯৩১খৃষ্টাব্দ)রাধানাথ কাবাশীদ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত"শ্রীশ্রীচৈতন্য-ভাগবত" গ্রন্থ, মধ্য
খণ্ড, ২৬শ অধ্যায়, ৩০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারী রাগ॥

প্রাণের গৌরাঙ্গ হের বাপ।
.             অনাথিনী ছাড়িতে না জুয়ায়॥
সবা লঞা কর নিজ-অঙ্গনে কীর্ত্তন।
.             নিত্যানন্দ আছয়ে সহায়॥ ধ্রু॥

( তোমার ) প্রেমময় দুই আঁখি,
.             দীর্ঘ ভুজ দুই দেখি,
.                বচনেতে অমিয়া বরিষে।

বিনা দীপে ঘর মোর,
.              তোর অঙ্গে উজোর,
.                রাঙ্গা পায়ে কত মধু বৈসে॥”

প্রেম-শোকে কহে শচী, বিশ্বম্ভর শুনে বসি,
.     ( যেন ) রঘুনাথে কৌশল্যা বুঝায়।
শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ-        চান্দ প্রভু সদানন্দ,
.        বৃন্দাবন দাস রস গায়॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত,
মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারী রাগ॥

প্রাণের গৌরাঙ্গ হের বাপ
.           অনাথিনী মায়েরে ছাড়িতে না জুয়ায়।
সবা লৈয়া কর তুমি অঙ্গনে কীর্ত্তন
.           তোমার নিত্যানন্দ আছয়ে সহায়॥ ধ্রু॥
তোমার প্রেমময় দুই আঁখি দীর্ঘভুজ দুই দেখি
.           বচনেতে অমিয়া বরিষে।
বিনা দীপে ঘর মোর তোর অঙ্গে উজোর
.           রাঙ্গা পায় কত মধু বরিষে॥
প্রেমশোকে কহে শচী বিশ্বম্ভর শুনে বসি
.           যেন রঘুনাথে কৌশল্যা বুঝায়।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
.           বৃন্দাবন দাস রস গায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন
দাস (১) এর পদ বলে উল্লেখ রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস
॥ ভাটিয়ারী রাগ॥

প্রাণের গৌরাঙ্গ হের বাপ
.           অনাথিনী মায়েরে ছাড়িতে না জুয়ায়।
সবা লৈয়া কর তুমি অঙ্গনে কীর্ত্তন
.           তোমার নিত্যানন্দ আছয়ে সহায়॥ ধ্রু॥
তোমার প্রেমময় দুই আঁখি দীর্ঘভুজ দুই দেখি
.           বচনেতে অমিয়া বরিষে।
বিনা দীপে ঘর মোর তোর অঙ্গে উজোর
.           রাঙ্গা পায় কত মধু বরিষে॥
প্রেমশোকে কহে শচী বিশ্বম্ভর শুনে বসি
.           যেন রঘুনাথে কৌশল্যা বুঝায়।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
.           বৃন্দাবন দাস রস গায়॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২২৭-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (১) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

প্রাণের গৌরাঙ্গ হের বাপ
অনাথিনী মায়েরে ছাড়িতে না জুয়ায়।
সবা লৈয়া কর তুমি অঙ্গনে কীর্ত্তন
.           তোমার নিত্যানন্দ আছয়ে সহায়॥
তোমার প্রেমময় দুই আঁখি দীর্ঘভুজ
.        দুই দেখি বচনেতে অমিয়া বরিষে।
বিনা দীপে ঘর মোর তোর অঙ্গে উজোর
.           রাঙ্গা পায় কত মধু বরিষে॥
প্রেমশোকে কহে শচী বিশ্বম্ভর শুনে বসি
.           যেন রঘুনাথে কৌশল্যা বুঝায়।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
.           বৃন্দাবন দাস রস গায়॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
ঠমকে ঠমকে চলে পদভরে ধরা টলে
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ
সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

ঠমকে ঠমকে চলে                পদভরে ধরা টলে
যেন ভেল ভূমিকম্প প্রায়।
আধ আধ বাণী কহে              মুখের বাহির নহে
নিজ পারিষদে গুণ গায়॥
দেখ ভাই অবনীমণ্ডলে নিত্যানন্দ।
গোরা মুখ দেখি কত বাঢ়য়ে আনন্দ॥ ধ্রু॥
পরিধান নীল  টী                 আটনি না রহে কটি
অভ্যন্তর বাহ্য নাহি জানে।
হেলিয়া দুলিয়া চলে            মুখে ভায়া ভায়া বলে
দিগ বিদিগ নাহি মানে॥
যুগে যুগে পহু মোর                 স্বজন প্রতিপালক
অবিশ্বাসী পাষণ্ডীর নাশে।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য                        ঠাকুর নিত্যানন্দ
গুণ গায় বৃন্দাবন দাসে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
জয় জয় দ্বিজকুলদীপ গৌরচন্দ্র
ভণিতাহীন পদ
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ
সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১ম তরঙ্গ, ২য় উচ্ছ্বাস, ১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে। ভণিতাহীন এই পদটি, বৃন্দাবন দাসের পরবর্তি সময়কালে, তাঁরই বিরচিত
“শ্রীচৈতন্যভাগবত” এর একাধিক স্থান থেকে কয়েকটি করে কলি জুড়ে নিয়ে একটি পদ রচনা করে
গীত হতো বলে আমরা মনে করছি। পদের রাগও পরবর্তী কালের কীর্তনিয়াদের দেওয়া।

॥ গুর্জ্জরী॥

জয় জয় দ্বিজকুলদীপ গৌরচন্দ্র।
জয় জয় ভক্তগোষ্ঠী-হদয়-আনন্দ॥
জয় জয় শ্রীগোপাল গোবিন্দের নাথ।
জীব প্রতি কর প্রভু শুভ দৃষ্টিপাত॥
জয় অধ্যাপকশিরোরত্ন দ্বিজরাজ।
জয় জয় চৈতন্যের ভকতসমাজ॥  (এই পর্যন্ত আদিখণ্ড, ১১শ অধ্যায় থেকে নেওয়া)
জয় জয় শ্রীপ্রদ্যুম্ন মিশ্রের জীবন।
জয় শ্রীপরমানন্দ পুরীর প্রাণধন॥ (এই দুটি কলি আদিখণ্ড, ১১শ অধ্যায়ের অন্যত্র থেকে নেওয়া)
জয় জয় দীনবন্ধু শ্রীগৌরসুন্দর।
জয় জয় লক্ষ্মীকান্ত সবার ঈশ্বর॥
জয় জয় ভক্তরক্ষা হেতু অবতার।
জয় সর্ব্বকালসত্য কীর্ত্তন বিহার॥ (এই চারটি কলি আদিখণ্ড, ১৪শ অধ্যায় থেকে নেওয়া)
জয় গৌরচন্দ্র ধর্ম্মসেতু মহাবীর।
জয় সংকীর্ত্তনময় সুন্দর শরীর॥
জয় নিত্যানন্দের বান্ধব ধন প্রাণ।
জয় গদাধর অদ্বৈতের প্রেমধাম॥
জয় শ্রীজগদানন্দপ্রিয় অতিশয়।
জয় বক্রেশ্বর কাশীশ্বরের হৃদয়॥
জয় জয় শ্রীবাসাদি প্রিয়বন্ধু নাথ।
জীব প্রতি কর প্রভু শুভ দৃষ্টিপাত॥ (এই পর্যন্ত মধ্যখণ্ড, ১ম অধ্যায় থেকে নেওয়া)

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
নাগর পীতবাস দিয়ে গলে
ভণিতা বৃন্দাবন
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ বলে
উল্লেখ রয়েছে।

খণ্ডিতা
॥ তথা রাগ॥

নাগর পীতবাস দিয়ে গলে।
চরণে ধরিয়া                        মিনতি করিয়া
কান্দিতে কান্দিতে বলে॥
শুনহ সুন্দরী                        না কর চাতুরী
এ দুঃখ কহিয়ে তোরে।
ক্ষম অপরাধ                        না করহ বাদ
দাসখত দেহ মোরে॥
তুয়া অনুগত                     তোমার আশ্রিত
সখীগণ তার সাখী।
ধরম করম                            ভরম সরম
তোমারি চরণে লিখি॥
কিঞ্চিত লোচনে                    চাহ আমাপনে
পুরাও মনের আশ।
শুনহে কিশোরী                      চরণে তুহারি
আমি ত অধম দাস॥
শুনি কহে ধনী                        সে চাঁদবদনী
তুমিত লম্পটরাজ।
বৃন্দাবন কহে                        যাও নিজ গৃহে
হোথা তোমা কিবা কাজ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২৩৩-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

নাগর পীতবাস দিয়ে গলে।                        
চরণে ধরিয়া মিনতি করিয়া                        
কান্দিতে কান্দিতে বলে॥
শুনহ সুন্দরী না কর চাতুরী                        
এ দুঃখ কহিয়ে তোরে।
ক্ষম অপরাধ না করহ বাদ                        
দাসখত দেহ মোরে॥
তুয়া অনুগত তোমার আশ্রিত                    
সখীগণ তার সাখী।
ধরম করম ভরম সরম                           
তোমারি চরণে লিখি॥
কিঞ্চিত লোচনে চাহ আমাপনে                    
পুরাও মনের আশ।
শুনহে কিশোরী চরণে তুহারি                      
আমি ত অধম দাস॥
শুনি কহে ধনী সে চাঁদবদনী                        
তুমিত লম্পটরাজ।
বৃন্দাবন কহে যাও নিজ গৃহে                        
হোথা তোমা কিবা কাজ॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
তুমি ত নাগর রসের সাগর
ভণিতা বৃন্দাবন
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ বলে উল্লেখ রয়েছে


খণ্ডিতা
॥ তথা রাগ॥

তুমি ত নাগর                        রসের সাগর
কথায় নাহিক পারি।
চরণে ধরিয়ে                        মিনতি করিয়ে
কুঞ্জ হতে যাও হরি॥
ক্রোধে কহে বিনোদিনী।
আমি ত অবলা                        হৃদয় সরলা
ভালমন্দ নাহি জানি॥
এতেক চাতুরী                      কেনে কর হরি
ধূর্ত্তপনা গেল জানা।
তোমার পিরীত                        হইল বেকত
না করহ টিটপনা॥
নবীন রসের                          রসিক হয়েছ
চন্দ্রাবলী যার নাম।
তাহার নিকট                          করহ চাতুরী
মোর কাছে কিবা কাম॥
শুন সখীগণ                            আমার বচন
ধরিয়া শ্যামের করে।
কুঞ্জ হতে মোর                        বাহির করহ
বৃন্দাবন কহে ধীরে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২৩৩-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

তুমি ত নাগর রসের সাগর                 
কথায় নাহিক পারি।
চরণে ধরিয়ে মিনতি করিয়ে                
কুঞ্জ হতে যাও হরি॥
ক্রোধে কহে বিনোদিনী।                     
আমি ত অবলা হৃদয় সরলা                
ভালমন্দ নাহি জানি॥
এতেক চাতুরী কেনে কর হরি               
ধূর্ত্তপনা গেল জানা।
তোমার পিরীত হইল বেকত                
না করহ টিটপনা॥
নবীন রসের রসিক হয়েছ                   
চন্দ্রাবলী যার নাম।
তাহার নিকট করহ চাতুরী                  
মোর কাছে কিবা কাম॥
শুন সখীগণ আমার বচন                     
ধরিয়া শ্যামের করে।
কুঞ্জ হতে মোর বাহির করহ                
বৃন্দাবন কহে ধীরে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
একদিন ধনী নিকুঞ্জে বসিয়া
ভণিতা বৃন্দাবন
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৮৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ বলে উল্লেখ রয়েছে


বলরামবেশে মিলন
বাসকসজ্জা-দূতী প্রেরণ
॥ তথা রাগ॥

একদিন ধনী                        নিকুঞ্জে বসিয়া
গাঁথয়ে ফুলের হার।
মল্লিকা মালতী                   পুষ্প নানা জাতি
নাম লব কত তার॥
শ্যামে না দেখিয়া                  মনেতে ভাবিয়া
দূতীরে কহিছে বাণী।
শ্যামচান্দ বিনে                        মিছাই সকল
বন্ধুরে আন গা তুমি॥
মদনে পীড়িত                        তনু জর জর
সে শ্যাম নাগর বিনে।
মাথে হাত দিয়ে                     দূতীরে কহয়ে
মিলাও শ্যামের সনে॥
মধুর বচনে                        রাইকে তুষিয়ে
গমন করিলা দূতী।
কহে বৃন্দাবন                        আনন্দে মগন
চলিলা ত্বরিত গতি॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২৩০-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

একদিন ধনী নিকুঞ্জে বসিয়া                
গাঁথয়ে ফুলের হার।
মল্লিকা মালতী পুষ্প নানা জাতি           
নাম লব কত তার॥
শ্যামে না দেখিয়া মনেতে ভাবিয়া          
দূতীরে কহিছে বাণী।
শ্যামচান্দ বিনে মিছাই সকল              
বন্ধুরে আন গা তুমি॥
মদনে পীড়িত তনু জর জর                
সে শ্যাম নাগর বিনে।
মাথে হাত দিয়ে দূতীরে কহয়ে            
মিলাও শ্যামের সনে॥
মধুর বচনে রাইকে তুষিয়ে                
গমন করিলা দূতী।
কহে বৃন্দাবন আনন্দে মগন                
চলিলা ত্বরিত গতি॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
পথেতে যাইতে চন্দ্রাবলী সাথে
ভণিতা বৃন্দাবন
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৮৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ বলে
উল্লেখ রয়েছে।

শ্রীরাধার প্রতি দূতী
॥ তথা রাগ॥

পথেতে যাইতে                     চন্দ্রাবলী সাথে
দেখিনু নাগর কানু।
মদনে বিভোর                      সে শ্যাম নাগর
তা দেখি আকুল তনু॥
ভাল দেখিলাম                        আপন নয়নে
কি আর বলিব মুখে।
শঠ জন সনে                        পিরীতি করিয়া
সদাই থাকয়ে দুখে॥
চন্দ্রাবলী সনে                          যত সখিগণে
আনন্দে মগন তায়।
কেহ সে তাম্বুল                         সুগন্ধি চন্দন
দিছেন শ্যামের গায়॥
এসব দেখিয়া                        মনেতে ভাবিয়া
ফিরিয়া আইল দূতী।
কহে বৃন্দাবন                           বড়ই কঠিন
কেমনে পোহাবে রাতি॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৩৪-পৃষ্ঠায়
বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

পথেতে যাইতে চন্দ্রাবলী সাথে             
দেখিনু নাগর কানু।
মদনে বিভোর সে শ্যাম নাগর              
তা দেখি আকুল তনু॥
ভাল দেখিলাম আপন নয়নে                
কি আর বলিব মুখে।
শঠ জন সনে পিরীতি করিয়া               
সদাই থাকয়ে দুখে॥
চন্দ্রাবলী সনে যত সখীগণে                  
আনন্দে মগন তায়।
কেহ সে তাম্বুল সুগন্ধি চন্দন                 
দিছেন শ্যামের গায়॥
এসব দেখিয়া মনেতে ভাবিয়া               
ফিরিয়া আইল দূতী।
কহে বৃন্দাবন বড়ই কঠিন                   
কেমনে পোহাবে রাতি॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
ভাল যে কহিলে দূতী
ভণিতা বৃন্দাবন
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৮৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ বলে
উল্লেখ রয়েছে।

শ্রীরাধার প্রতি দূতী
॥ তথা রাগ॥

ভাল যে কহিলে দূতী।
পাঁজর ঝাঁজর                        হইল আমার
শুনিয়া শ্যামের রীতি॥
আজু হাম তথি                     দেখিব যুবতী
কেমন তাহার জোর।
যাব তার ঘরে                  আনব করে ধরে
শ্যাম নাগর মোর॥
কোপে কাঁপে ধনী                  ঝলকে মুখানি
উদয় পূর্ণিমার শশী।
বেণীর দোলনি                    জিনিয়া সাপিনী
মুখে মৃদু মৃদু হাসি॥
কনয়া সুন্দর                        মাণিক বেশর
নাসার আগেতে দোলে।
সিন্দুরের বিন্দু                   ভানু কোলে ইন্দু
শোভিয়াছে তাহে ভালে॥
মদন মোহিনী                       সাজিল অমনি
গমন কুঞ্জরগতি।
বৃন্দাবন বলে                      যাবে কোন্ ছলে
নাগর আছয়ে মাতি॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২৩৫-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

ভাল যে কহিলে দূতী।                        
পাঁজর ঝাঁজর হইল আমার                    
শুনিয়া শ্যামের রীতি॥
আজু হাম তথি দেখিব যুবতী                  
কেমন তাহার জোর।
যাব তার ঘরে আনব করে ধরে                
শ্যাম নাগর মোর॥
কোপে কাঁপে ধনী ঝলকে মুখানি                
উদয় পূর্ণিমার শশী।
বেণীর দোলনি জিনিয়া সাপিনী                 
মুখে মৃদু মৃদু হাসি॥
কনয়া সুন্দর মাণিক বেশর                    
নাসার আগেতে দোলে।
সিন্দুরের বিন্দু ভানু কোলে ইন্দু                
শোভিয়াছে তাহে ভালে॥
মদন মোহিনী সাজিল অমনি                   
গমন কুঞ্জরগতি।
বৃন্দাবন বলে যাবে কোন্ ছলে                
নাগর আছয়ে মাতি॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
শুনিয়া কহয়ে গোরী বলরামের বেশ ধরি
ভণিতা দাস বৃন্দাবন
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৮৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ বলে
উল্লেখ রয়েছে।

শ্রীরাধার বলরামের বেশধারণ
॥ তথা রাগ॥

শুনিয়া কহয়ে গোরী                        বলরামের বেশ ধরি
যাই তবে তা সবার মাঝে।
ধরিয়া শ্যামের হাতে                        লইয়া আসিব সাথে
সাধব নিজের মন কাজে॥
এতেক ভাবিয়া মনে                        আজ্ঞা দিল সখীগণে
বলরামবেশ হব আমি।
চন্দন মাখাও অঙ্গে                        চূড়া বান্ধ নানা রঙ্গে
শিঙ্গা বেণু আনি দেহ তুমি॥
রাধিকার কথা শুনে                        সখিগণ ভাবে মনে
এ সময় শিঙ্গা কোথা পাব।
মনে জানি পৌর্ণমাসী                      তথা মিলিলেন আসি
বলিলেন শিঙ্গা আমি দিব॥
এত বলি পৌর্ণমাসী                        শীঘ্র নিজালয়ে আসি
শিঙ্গা লয়ে আনন্দিত মনে।
হাসিতে হাসিতে গিয়ে                      সখীগণে শিঙ্গা দিয়ে
বলিলেন রাখিও যতনে॥
শিঙ্গা পেয়ে সখীগণ                   (রাই) অঙ্গে মাথায় চন্দন
সাজাইল নানাবিধ বেশে।
চূড়াটি বান্ধিল মাথে                       শিঙ্গা লয়ে দিল হাতে
আপনাকে দেখি রাই হাসে॥
বলরামের বেশ ধরি                        আনন্দে চলিল গোরী
দক্ষিণ পদ আগে বাড়াইল।
দাস বৃন্দাবন কয়                                হইল আনন্দময়
ধীরে ধীরে গমন করিল॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২৩৬-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

শুনিয়া কহয়ে গৌরী বলরামের বেশ ধরি                
যাই তবে তা সবার মাঝে।
ধরিয়া শ্যামের হাতে লইয়া আসিব সাথে                 
সাধব নিজের মন কাজে॥
এতেক ভাবিয়া মনে আজ্ঞা দিল সখীগণে                 
বলরামবেশ হব আমি।
চন্দন মাখাও অঙ্গে চূড়া বান্ধ নানা রঙ্গে                  
শিঙ্গা বেণু আনি দেহ তুমি॥
রাধিকার কথা শুনে সখিগণ ভাবে মনে                    
এ সময় শিঙ্গা কোথা পাব।
মনে জানি পৌর্ণমাসী তথা মিলিলেন আসি                
বলিলেন শিঙ্গা আমি দিব॥
এত বলি পৌর্ণমাসী শীঘ্র নিজালয়ে আসি                   
শিঙ্গা লয়ে আনন্দিত মনে।
হাসিতে হাসিতে গিয়ে সখীগণে শিঙ্গা                        
দিয়ে বলিলেন রাখিও যতনে॥
শিঙ্গা পেয়ে সখীগণ অঙ্গে মাথায়                            
চন্দন সাজাইল নানাবিধ বেশে।
চূড়াটি বান্ধিল মাথে শিঙ্গা লয়ে দিল                        
হাতে আপনাকে দেখি রাই হাসে॥
বলরামের বেশ ধরি আনন্দে চলিল                          
গোরী দক্ষিণ পদ আগে বাড়াইল।
দাস বৃন্দাবন কয় হইল আনন্দময়                           
ধীরে ধীরে গমন করিল॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর