শ্রীচৈতন্য, নারায়ণী ও বৃন্দাবন দাস -                                                  পাতার উপরে . . .  
চৈতন্যদেবের অপ্রকট হবার কিছুকাল পরে প্রভু নিত্যানন্দের আদেশে বৃন্দাবন দাস, শ্রীচৈতন্যের জীবনী লেখা
শুরু করেন যা প্রথমে চৈতন্যমঙ্গল ও পরে চৈতন্যভাগবত নামে খ্যাতি লাভ করে। এই কবি-পদকর্তাকে  
মহাভারতের রচয়িতা ব্যাসদেবের সঙ্গে তুলনা করা হয়। সে কি কেবল তাঁর জ্ঞান ও মেধার জন্যই, নাকি
তাঁর জন্মের-ইতিহাসেও সমতা রয়েছে? বৃন্দাবন দাসের নিজের লেখা চৈতন্যভাগবতে, নিজের পরিচয়ে  
কেবল তাঁর মাতা নারায়ণীর উল্লেখ পাওয়া যায়। পিতার কোনো উল্লখ তিনি নিজে করে যান নি। . . .

শ্রীচৈতন্যরসে সভে পরম উদ্দাম।
সভার চৈতন্য নিত্যানন্দ---ধনপ্রাণ॥
কিছুমাত্র আমি লিখিলাঙ জানি যাঁরে।
সকল বিদিত হৈব বেদব্যাস-দ্বারে॥
সর্বশেষ ভৃত্য তান---বৃন্দাবন দাস।
অবশেষ পাত্র-নারায়ণী-গর্ব্ভজাত॥ (অবশেষ নারায়ণী গর্ভে পরকাশ॥ ---পাদটীকায় দেওয়া ভিন্ন রূপ। )
অদ্যাপিহ বৈষ্ণবমণ্ডলে যাঁর ধ্বনি।
চৈতন্যের অবশেষপাত্র নারায়ণী॥
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নিত্যানন্দচান্দ জান।
বৃন্দাবনদাস তছু পদযুগে গান॥ ---বৃন্দাবন দাস, চৈতন্যভাগবত, অন্ত্যখণ্ড, ৬ষ্ঠ অধ্যায়, পৃষ্ঠা-৪৭৫।

বিশ্বম্ভরের প্রথমা স্ত্রী লক্ষ্মীদেবী মারা যাবার পর ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। নিমাইয়ের
তখনও দ্বিতীয় বিবাহ হয়নি এবং তখনও তিনি সন্ন্যাস গ্রহণ করেন নি। নারায়ণী, বিধবা অবস্থায় সন্তান
বৃন্দাবন দাসের জন্ম দেন।

জগবন্ধু ভদ্র তাঁর গৌরপদ-তরঙ্গিণী গ্রন্থে অসমর্থিত সূত্র থেকে লিখেছেন যে প্রভু নিত্যানন্দ নাকি নারায়ণীর
বিধবা অবস্থাতেই তাঁকে পুত্রবতী হবার আশীর্বাদ করেন। সেটা কি ভাবে সম্ভব হবে এই প্রশ্নের  উত্তরে  
তিনি বলেন যে
শ্রীচৈতন্যের প্রসাদে সে সম্ভব হবে এবং তিনি পুণ্যবতীই থাকবেন। এই নিয়ে সেকাল থেকেই
একটি বিতর্কের সূত্রপাত হয় যা আজও চলে আসছে। (জগবন্ধু ভদ্র, গৌরপদ-তরঙ্গিণী, ১৩৪১বঙ্গাব্দের  
সংস্করণ (১৯৩৪), পদকর্ত্তৃগণের পরিচয়, বৃন্দাবনদাস, পৃষ্টা-২১৪)।

নারায়ণী ছিলেন শ্রীবাসের ভ্রাতুষ্পুত্রী। তাঁকে নিয়ে একটি গল্প রয়েছে। সে সময় সুলতানের চর বৈষ্ণবদের
ধরতে আসার খবর হয়েছিল। সেই ভয়ে সবাই টথস্থ ছিলেন। শ্রীবাসের গৃহে, বিশ্বম্ভর তাঁর নিজ মহিমা ও
বিভূতি প্রকাশ করে উড়িয়ে দিলেন রাজভীতি। বললেন “মোর শক্তি দেখ্ এবে নয়ন ভরিয়া”। বললেন আমি
রাজার সমক্ষে হাতী ঘোড়া মৃগ পাখী প্রভৃতি প্রাণীদে এবং রাজার সঙ্গে যত পরিষদ, তাঁদের ‘শ্রীকৃষ্ণ’ ব’লে
কাঁদিয়ে ছাড়বো। যদি বিশ্বাস না হয় তবে এই দেখ ব’লে তিনি মাত্র চার বছর বয়সের নারায়ণী কে সামনে
দেখতে পেয়ে, তাঁকে তাঁর অলৌকিক শক্তির প্রভাবে, কৃষ্ণ কৃষ্ণ ব’লে কাঁদিয়ে দিলেন।

মোর শক্তি দেখ্ এবে নয়ন ভরিয়া।
এত বলি মত্ত-হস্তী আনিব ধরিয়া॥
হস্তী, ঘোড়া, মৃগ, পাখী একত্র করিয়া।
সেইখানে কান্দাইমু ‘শ্রীকৃষ্ণ’ বলিয়া॥
রাজার যতেক গণ --- রাজার সহিতে।
সভা’ কান্দাইমু ‘কৃষ্ণ’ বলি ভাল-মতে॥
ইহাতে বা অপ্রত্যয় তুমি বাস’ মনে।
সাক্ষাতেই করোঁ দেখ আপন-নয়নে॥
সম্মুখে দেখয়ে এক বালিকা আপনি।
শ্রীবাসের ভাতৃসুতা---নাম ‘নারায়ণী’॥
অদ্যপিহ বৈষ্ণব-মণ্ডলে যাঁর ধ্বনি।
‘চৈতন্যের অবশেষ-পাত্র নারায়ণী’॥
সর্ব্ব-ভূত-অন্তর্যামী---প্রভু গৌরচান্দ।
আজ্ঞা কৈলা “নারায়ণি! কৃষ্ণ বলি কান্দ॥”
চারি-বত্সরের সেই উন্মত্ত-চরিত।
‘হা কৃষ্ণ!’ বলিয়া কান্দে, নাহিক সম্বিত॥
অঙ্গ বাহি পড়ে ধারা পৃথিবীর তলে।
পরিপূর্ণ হৈল স্থল নয়নের জলে॥
হাসিয়াহাসিয়া বোলে প্রভু বিশ্বম্ভর।
“এখন তোমার সব ঘুচিল কি ডর?” ---বৃন্দাবন দাস, চৈতন্যভাগবত, মধ্যখণ্ড, ২য় অধ্যায়, পৃষ্ঠা-১৭০।

এই ঘটনার বিবরণ চৈতন্যভাগবতের আরেক যায়গায় এভাবে দেওয়া রয়েছে। এখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে
বিশ্বম্ভরের চর্বিত তাম্বুল অর্থাৎ পান, সব ভক্তের মধ্যেই বন্টন করা হয়েছিল। শেষ টুকু বালিকা নারায়ণীর
ভাগে পড়ে। সে তা খেয়ে ধন্য হয় এবং তারপরে বিশ্বম্ভরের আদেশে কৃষ্ণ নাম বলে কাঁদতে শুরু করে।
এখানে কোথাও বলা নেই যে এই বালিকা তখন বিধবা ছিল কি না!

দেখায় আপনে শিখায় সভাকারে।
“এ সকল কথা ভাই! শুনে পাছে আরে॥
জন্ম জন্ম তোমরা পাইবে মোর সঙ্গ।
তোমা’ সভার ভৃত্যেও দেখিব মোর রঙ্গ॥”
আপন গলার মালা দিলা সভাকারে।
চর্ব্বিত-তাম্বুল আজ্ঞা হইল সভারে॥
মহানন্দে খায় সভে হরষিত হৈয়া।
কোটি-চান্দ-শারদ-মুখের দ্রব্য পায়্যা॥
ভোজনের অবশেষে যতেক আছিল।
নারায়ণী পুণ্যবতী তাহা সে পাইল॥
শ্রীবাসের ভাতৃসুতা---বালিকা অজ্ঞান।
তাহারে ভোজনশেষ প্রভু করে দান॥
পরম আনন্দে খায় প্রভুর প্রসাদ।
সকল বৈষ্ণব তাঁরে করে আশীর্ব্বদ॥
“ধন্যধন্য এই সে সেবিলা নারায়ণ।
বালিকাস্বভাবে ধন্য ইহার জীবন॥”
খাইলে প্রভুর আজ্ঞা হয়ে “নারায়ণি!
কৃষ্ণের পরমানন্দে কান্দ দেখি শুনি॥”
হেন প্রভু চৈতন্যের আজ্ঞার প্রভাব।
‘কৃষ্ণ’ বলি কান্দে অতি বালিকাস্বভাব॥
অদ্যপিহ বৈষ্ণব মণ্ডলে যার ধ্বনি।
‘গৌরাঙ্গের অবশেষপাত্র নারায়ণী’॥
যারে যেন আজ্ঞা করে ঠাকুর চৈতন্য।
সে আসিয়া অবিলম্বে হয় উপসন্ন॥
এ সব বচনে যার নাহিক প্রতীত।
সত্য অধঃপাত তার জানিহ নিশ্চিত॥ ---বৃন্দাবন দাস, চৈতন্যভাগবত, মধ্যখণ্ড, ১০ম অধ্যায়, পৃষ্ঠা-২৩৯।

উপরোক্ত পদের শেষ দুটি পংক্তি সম্বন্ধে অনেকেই বিরূপ মত পোষণ করেন।  “নিজে কবি বৃন্দাবন দাস
তাঁর নিজের জন্ম বিবরণ বর্ণনা করে ধৈর্য হারিয়ে এর পরেই অবিশ্বাসীদের গালি দিয়েছেন --- যা বৈষ্ণব-
বিনয় ও নমনীয়তার ঘোর বিরোধী”---মালীবুড়ো, শ্রীচৈতন্যের অন্তর্ধান রহস্য, পৃষ্ঠা-২০১।
এতে আরও মনে হতে শুরু করে যে তাঁর জন্ম রহস্যাবৃত!

১৫২২ শকাব্দ অর্থাৎ ১৬০০ খৃষ্টাব্দে, নিত্যানন্দ দাস রচিত শ্রীপ্রেমবিলাস গ্রন্থে বৃন্দাবন দাসের জন্মবৃত্তান্ত
এভাবে দেওয়া রয়েছে, যেখানে স্পষ্ট করে বৃন্দাবনদাসের পিতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ---

শ্রীবাসের জ্যেষ্ঠ ভাই ছিল নলিন পণ্ডিত।
নারায়ণী তাঁর কন্যা জগতে বিদিত॥
নারায়ণী যবে এক বত্সরের হৈল।
মাতা পিতা তাঁর পরলোকে চলি গেল॥
শ্রীবাসের পত্নী তারে করয়ে পালন।
নারায়ণী হৈল প্রভুর উচ্ছিষ্ট-ভাজন॥
শ্রীগৌরাঙ্গে আজ্ঞা-কৃপায় নারায়ণী।
হা কৃষ্ণ বলিয়া কান্দে পড়য়ে ধরণী॥
চারি বত্সরের শিশু বালিকা অজ্ঞান।
প্রভু তাঁরে ভুক্ত শেষ করিলেন দান॥
বৃন্দাবনে কৃষ্ণোচ্ছিষ্ট যে কৈলা ভোজন।
সেই কিলিম্বিকা এবে নারায়ণী হন॥
সন্ন্যাস করি মহাপ্রভু নীলাচলে রৈল।
শ্রীবাস শ্রীরাম কুমারহট্টে চলি গেল॥
কুমারহট্টবাসী বিপ্র বৈকুণ্ঠদাস যেঁহো।
তাঁর সহিত নারায়ণীর হইল বিবাহ॥
তাঁর গর্ব্ভে জন্মিলা বৃন্দাবন দাস।
তিঁহো হন শ্রীল বেদব্যাসের প্রকাশ॥
বৃন্দাবন দাস যবে আছিলেন গর্ব্ভে।
তাঁর পিতা বৈকুণ্ঠদাস চলি গেল স্বর্গে॥
ভ্রাতৃ-কন্যা গর্ব্ভবতী পতিহীনা দেখি।
আনিয়া শ্রীবাস নিজ গৃহে দিল রাখি॥
পঞ্চবত্সরের শিশু বৃন্দাবন দাস।
মাতামহ মামগাছি করিলা নিবাস॥
বাসুদেব দত্ত প্রভুর কৃপার ভাজন।
মাতাসহ বৃন্দাবনের করে ভরণ পোষণ॥
বাসুদেব দত্তের ঠাকুর বাড়ীতে বাস কৈল।
নানাশাস্ত্র বৃন্দাবন পড়িতে লাগিল॥
নানাশাস্ত্র পড়ি হৈল পরম পণ্ডিত।
চৈতন্যমঙ্গল গ্রন্থ যাহার রচিত॥
ভাগবতের অনুরূপ চৈতন্য মঙ্গল।
দেখিয়া বৃন্দাবনবাসী ভকত সকল॥
চৈতন্য ভাগবত নাম দিল তাঁর।
যাহা পাঠ করি ভক্তের আনন্দ অপার॥ ---নিত্যানন্দ দাস, প্রেমবিলাস, ত্রয়োবিংশ বিলাস, পৃ-২২২॥

এখানে আমরা বৃন্দাবন দাসের পিতার নাম পাচ্ছি। জানা যাচ্ছে যে, নারায়ণী, মাত্র চার বছর বয়সে, কাকা
শ্রীবাসের গৃহে, শ্রীগৌরাঙ্গের উচ্ছিষ্ট ভাজন হয়ে, কৃষ্ণ নাম নিয়ে কেঁদেছিলেন। এই ঘটনাটিপ্রায় সব গ্রন্থেই
রয়েছে। এও জানা যাচ্ছে যে গর্ভবতী অবস্থাতেই নারায়ণীর স্বামী অর্থাৎ বৃন্দাবন দাসের  পিতা, বৈকুণ্ঠ
দাসের মৃত্যু হয়। এই বর্ণনায় আরও মনে হচ্ছে যে নারায়ণীর বিয়ে হয়েছিল, উচ্ছিষ্ট-ভাজন  হবার পরে
এবং বিশ্বম্ভরের নীলাচলে যাবার পরে। নারায়ণীর প্রতি কবি নিত্যানন্দ আরও বলেছেন যে শ্রীকৃষ্ণের
ব্রজলীলায় যিনি কৃষ্ণোচ্ছিষ্টভোজী কিলিম্বা নাম্নী অম্বিকাভগ্নী ছিলেন, তিনিই শ্রীগৌরাঙ্গের নবদ্বীপলীলায়
নারায়ণী।

বিমানবিহারী মজুমদার, হারাধন দত্ত ভক্তিনিধির মতো মনে করতেন যে প্রেম-বিলাস গ্রন্থটিতে অনেক  
প্রক্ষিপ্ত অংশ রয়েছে, যা  পরবর্তীতে যোগ করা হয়েছিল। তবুও বৃ
ন্দাবন দাসের পিতার নাম থাকলেও এর
বিরুদ্ধে কোনও সোচ্চার প্রতিবাদ সম্বন্ধে আমরা কিছু জানতে পারি না।

নিত্যানন্দ দাসের প্রেম-বিলাসে বৃন্দাবনদাসের পিতার নাম থাকলেও, বৃন্দাবনদাস স্বয়ং তাঁর পিতার নাম
একবারও উল্লেখ করেন নি। আসল পিতার পুত্র হবার থেকে
শ্রীচৈতন্যের মানসপুত্র হয়ে জীবন কাটিয়ে  
দেওয়াটায় কি তাঁর নিজের কোনই ইচ্ছা ছিল না?

শ্রীচৈতন্যের “উচ্ছিষ্টের” প্রভাব ধরলে তো নারায়ণীর মাত্র পাচ-ছ বছরে মা হবার কথা। তা নিশ্চয়ই অসম্ভব
এবং অবিশ্বাস্য।

সুদূর বেথলেহেমে, ভগবান-পুত্র যীশুখৃষ্টকেও প্রাপ্তবয়স্কা (শিশুর জন্ম দিতে সমর্থ) মাতা মেরীর গর্ভে জন্ম  
নিতে হয়েছিল! মহাভারতের যে বেদব্যাস ঋষির সঙ্গে বৃন্দাবনদাসের তুলনা করা হয়, সেই ব্যাস ঋষির
জন্মও প্রাপ্তবয়স্কা অর্থাত সন্তানের জন্ম দিতে সমর্থা সত্যবতী বা মত্সগন্ধা বা পদ্মগন্ধার গর্ভে হয়েছিল।  
সেখানে পরাশর মুনির পিতৃপরিচয় গোপনই রেখছিলেন জননী সত্যবতী, যতক্ষণ না তা প্রকাশ্যে আনার  
প্রয়োজন পড়েছিল।
শ্রীচৈতন্য, নারায়ণী ও বৃন্দাবন দাস       
বৃন্দাবন দাসের জন্ম নিয়ে প্রচলিত অলৌকিক কাহিনী    
বৃন্দাবন দাস ঠাকুরের জন্ম ও মৃত্যর সময়কাল নিয়ে মতানৈক্য   
বৃন্দাবন দাসের জন্মস্থান ও পাট   
একাধিক বৃন্দাবন দাস   
ব্যাসাবতার বৃন্দাবন দাস   
চৈতন্যভাগবতের রচনাকাল   
বৃন্দাবনদাস, লোচনদাস, চৈতন্যভাগবত ও চৈতন্যমঙ্গল   
বৃন্দাবন দাসের কবিত্ব ও সাহিত্য নিয়ে বিদ্বজ্জনদের উদ্ধৃতি   
বৃন্দাবন দাসের রচনা সম্ভার   
বৃন্দাবন দাসের জন্ম সম্বন্ধে খগেন্দ্রনাথ মিত্রের উদ্ধৃতি   
বৃন্দাবন দাসের জন্ম সম্বন্ধে নীলরতন সেনের উদ্ধৃতি    
বৃন্দাবন দাস সম্বন্ধে দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্ধৃতি    
বৈষ্ণব পদাবলী নিয়ে মিলনসাগরের ভূমিকা     
বৈষ্ণব পদাবলীর "রাগ"      
কৃতজ্ঞতা স্বীকার ও উত্স গ্রন্থাবলী     
মিলনসাগরে কেন বৈষ্ণব পদাবলী ?     
আলেখ্যের “শ্রীচৈতন্য, নারায়ণী ও বৃন্দাবন দাস” অনুচ্ছেদে আরও বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

“গৌরপদতরঙ্গিণীর” সংকলক ও সম্পাদক জগদ্বন্ধু ভদ্রের মতে ১৮ মাস গর্ভাবস্থার পরে (জনশ্রুতি) বৃন্দাবন
দাস শ্রীহট্টে তাঁর মাতুলালয়ে, ১৪২৯ শকে (১৫০৭ খৃষ্টাব্দে) বৈশাখী কৃষ্ণদ্বাদশীতে জন্মগ্রহণ করেন।  

শিশুর দেড় বছর বয়সে নারায়ণী দেবী শ্রীহট্ট থেকে নবদ্বীপের কাছে মামগাছি গ্রামে বসবাস শুরু করেন।  
মামগাছিতে নারায়ণীর পাট রয়েছে। সেই সময়ে
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীর সঙ্গে তাঁর
সখ্যতা হয় এবং যে দিন
শ্রীচৈতন্য সন্ন্যাসের জন্য গৃহত্যাগ করেন, নারায়ণী দেবী সেই দিন সেই গৃহে ছিলেন।
(“গৌরপদতরঙ্গিণী”-র পদকর্ত্তৃগণের পরিচয়ের ২১৫-পৃষ্ঠা)।

এরপর বৃন্দাবনদাস প্রভু নিত্যানন্দের মন্ত্রশিষ্য হন এবং তাঁরই আদেশে, ১৪৪৩ - ১৪৪৪ শকে (১৫২১ - ১৫২২
খৃষ্টাব্দে), মাত্র ১৪-১৫ বছর বয়সে, দেলুর (দেনুর বা দেনুড়) গ্রামে
শ্রীচৈতন্যের জীবনী লেখা আরম্ভ করেন।
এবং ১৫৭৫
খৃষ্টাব্দের মধ্যে তা লেখা সম্পূর্ণ হয় (চৈতন্যভাগবতের রচনাকাল নামক অনুচ্ছেদ দৃষ্টব্য)।

বৃন্দাবন দাসের উল্লেখ আমরা পাই খেতরির মহোত্সবে, রায়বাহাদুর দীনেশচন্দ্র সেনের মতে যা ১৫০৪ শকে
অনুষ্ঠিত হয়েছিল (বঙ্গভাষা ও সাহিত্য, ৬ষ্ঠ সংস্করণ, ৩৪৩-পৃষ্ঠা)। অর্থাত ১৫৮২ খৃষ্টাব্দে। এই সময়ে তাঁর
বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

গৌরপদতরঙ্গিনীর সংকলক জগবন্ধু ভদ্র মনে করতেন যে ১৫৮২ খৃষ্টাব্দেই তিনি পরলোক গমন করেন, কিন্তু
৮২ বছর বয়সে।

বৃন্দাবনদাসের জন্ম-মৃত্যু ও চৈতন্যভাগবতের রচনার সময়কাল নিয়ে আমরা একটি চার্ট তৈরী করেছি,
তাতে বিভিন্ন ব্যক্তির লেখা থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন সময়কাল লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এঁদের মধ্যে হারাধন দত্ত
ভক্তিনিধির দেওয়া, বিভিন্ন ঘটনাবলীর সময়কাল, ভক্তি দিগ্দর্শিনীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে সেটাকেই
আমাদের সঠিক বলে মনে হয়েছে। তাঁর দেওয়া সময়কালগুলি আমরা পেয়েছি, নব্যভারত পত্রিকায়
প্রকাশিত তাঁর “বঙ্গের বৈষ্ণব কবি” নামে ধারাবাহিক প্রবন্ধগুলি থেকে।
বৃন্দাবনদাসের জন্ম-মৃত্যু ও চৈতন্যভাগবতের রচনার সময়কাল নিয়ে চার্ট-টি দেখতে এখানে ক্লিক করুন . . .
.
বৃন্দাবন দাসের জন্ম নিয়ে প্রচলিত অলৌকিক কাহিনী -                            পাতার উপরে . . .  
“শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া”-পত্রিকার ৪১৩গৌরাব্দের পৌষ সংখ্যায় (ডিসেম্বর ১৯০০) প্রকাশিত, অচ্যুতচরণ চৌধুরী
তত্ত্বনীধির শ্রীবৃন্দাবন দাস প্রবন্ধের ৫৪০-পৃষ্ঠায় এ বিষয়ে তিনি লিখেছেন . . .
বৃন্দাবন দাসের জন্ম সম্বন্ধে অনেক অলৌকিক কাহিনী শ্রুত হওয়া যায়। একদা নিত্যানন্দ প্রভুকে প্রণাম
করিলে তিনি নারায়ণীকে “পুত্রবতী হও” এই আশীর্ব্বাদ করেন। নারায়ণী বিধবা তিনি এই অসম্ভব   
আশীর্ব্বাদের পারিণাম জানাইলে, নিত্যানন্দ প্রভু বলেন, “শ্রীমহাপ্রভুর চর্ব্বিত তাম্বূলের প্রভাবে তোমার  
কবিশ্রেষ্ঠ এক পুত্র নিশ্চয়ই হইবে, এবং সেই পুত্র হইতেই তোমার কলঙ্কক্ষালিত হইবে”। এই ঘটনার পরই
নারায়ণী মাতুলালয় গমন করেন।

কথিত আছে, বৃন্দাবন দাস অষ্টাদশ মাস গর্ব্ভে ছিলেন। নারায়ণীর গর্ভ-লক্ষণ প্রকাশ হইলে তদীয় মাতুল
উত্যক্ত হইয়া শ্রীবাস পণ্ডিতকে পত্রীযোগে একথা জানাইলে, তিনি প্রভুর কৃপাপ্রসঙ্গ স্মরণ পূর্ব্বক কৃষ্ণাবেশে
বলিয়া পাঠাইলেন যে, গর্ভস্থ শিশুকে জিজ্ঞাসা করিলেই সকল সন্দেহ দূর হইবে!! এতদনুসারে প্রশ্ন
করা গেলে, সমাগত সম্ভ্রান্তবর্গ যে গর্ব্ভ হইতেই এই ধ্বনি শুনিতে পাইলেন, যেন কে বলিতে লাগিলঃ---
“চৈতন্যের দাস মুঞি চৈতন্যের দাস। চৈতন্যের কৃপাবলে করি গর্ব্ভবাস
॥”

এই অদ্ভুত ঘটনায় সকলেই আশ্চর্য্যান্বিত হন, এবং নারায়ণীকে পবিত্র বলিয়া জ্ঞান করেন। এই  ঘটনা  
হইতেই বৃন্দাবন দাস শ্রীমহাপ্রভুর সাক্ষাৎ বরপুত্র বলিয়া পরিগণিত হন

.
বৃন্দাবন দাস ঠাকুরের জন্ম ও মৃত্যর সময়কাল নিয়ে মতানৈক্য -               পাতার উপরে . . .  
১৯৩১সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর ৫ম খণ্ডের ভূমিকার ১৯৮-পৃষ্ঠায়, বৃন্দাবন
দাসের মৃত্যু নিয়ে তিনি লিখেছেন . . .
জগবন্ধুবাবু লিখিয়াছেন,--- ১৫১১শকে (১৫৮৯খৃষ্টাব্দে) ৮২ বত্সর বয়ঃক্রমে বৃন্দাবন দাসের অন্তর্দ্ধান হয়।
কিন্তু আমাদের বিবেচনায় তদপেক্ষা অধিক সম্ভবপর ক্ষীরোদবাবুর প্রদত্ত জন্ম-সময় ধরিলে ১৫৪১ শকেই
(১৬১৯খৃষ্টাব্দে) তাঁহার মৃত্যু হইয়াছিল বলিয়া সিদ্ধান্ত করিতে হইবে।”

“নব্যভারত” পত্রিকার ১৩০৯ বঙ্গাব্দের পৌষ সংখ্যায় (ডিসেম্বর ১৯০২) প্রকাশিত, তরণীকান্ত চক্রবর্তীর
“ভক্তকবি শ্রীবৃন্দাবনদাস ঠাকুর” প্রবন্ধের ৪৯২-৯৩-পৃষ্ঠায় তিনি লিখেছেন . . .
“বৃন্দাবন দাস ঠাকুর অত্যন্ত দীর্ঘজীবী ছিলেন। শ্রীনরোত্তম ঠাকুরের বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে নিমন্ত্রিত হইয়া
এই বিজ্ঞবর বৃন্দাবন দাস শ্রীজাহ্নবা দেবীর সঙ্গে খেতরী গ্রামে গিয়েছিলেন। উত্সবের পর জাহ্নবা দেবীর
বৃন্দাবন গমনের সময়ে, দেবীর আদেশে মীনকেতন রামদাস কমলাকর পিপলাই প্রভৃতি মহান্তগণের সঙ্গে
তিনি খরদহ গ্রামে গমন করেন। তত্পর আর তাঁহার সম্বন্ধে কিছুই জানা যায় না।
তিনি বিবাহ করিয়াছিলেন কি না এবং কোনে সময়ে, কোন্ স্থানে তিনি লোকলীলা সমাপন করেন, তাঁহার
রচিত আর কোন গ্রন্থ আছে কি না, ইত্যাদি সম্বন্ধে আমরা প্রামাণিক গ্রন্থে কিছুই পাই নাই
।”

রায়বাহাদুর দীনেশচন্দ্র সেনের মতে খেতরির মহোত্সব ১৫০৪ শকে অনুষ্ঠিত হয়েছিল (বঙ্গভাষা ও সাহিত্য,
৬ষ্ঠ সংস্করণ, ৩৪৩-পৃষ্ঠা)। অর্থাত ১৫৮২খৃষ্টাব্দে।

উপরোক্ত ঘটনাটি নরহরি চক্রবর্তী রচিত নরোত্তমবিলাস গ্রন্থের অষ্টম বিলাসে (কিশোরী দাস বাবাজী  
সম্পাদিত সংকলনের ৬৬-পৃষ্ঠায়) রয়েছে এইরূপে . . .
ঐছে মহাব্যাকুল মহান্ত জনে জনে।
বিদায় হইয়া গেলা প্রভুর প্রাঙ্গণে॥ ১৫২
শ্রীমীনকেতন রামদাস বৃন্দাবন।
কমলাকর পিপলাই আদি কথোজন॥ ১৫৩
এ লভে ঈশ্বরী আজ্ঞা খড়দহ যাইতে।
হইয়া বিদায় কেহ নারে স্থির হৈতে॥ ১৫৪

নরহরি চক্রবর্তী রচিত ভক্তিরত্নাকর গ্রন্থে খেতরি মহোত্সবে আগতদের মধ্যেও উপরোক্ত সবারই নাম
রয়েছে। শ্রীজাহ্নবী দেবীর সঙ্গে যাঁরা খেতরিতে গিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন . . .
শ্রীমীনকেতন রামদাস মনোহর।
মররি চৈতন্য জ্ঞানদাস মহীধর॥
শ্রীশঙ্কর শ্রীকমলাকর পিপ্পলাই।
নৃসিংহ চৈতন্য জীব পণ্ডিত কানাই॥
*        *        *        *        *
শ্রীমুকুন্দ দাসবৃন্দাবন আদি করি।
এসবার সহ সুখে চলয়ে ঈশ্বরী॥---নরহরি চক্রবর্তী, ভক্তিরত্নাকর, ১০ম তরঙ্গ, ৬৩৩-পৃষ্ঠা (রামদেব মিশ্র
সংকলন)॥

এরপরে আর বৃন্দাবন দাসের কোনও উল্লেখ পাওয়া যায় না।
.
বৃন্দাবন দাসের জন্মস্থান ও পাট -                                                       পাতার উপরে . . .  
বৃন্দাবন দাসের জন্মস্থান নিয়েও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃন্দাবন দাসের জন্মস্থান সম্বন্ধে “নব্যভারত” পত্রিকার ১৩০৯ সালের পৌষ সংখ্যায় (ডিসেম্বর ১৯০২)  
প্রকাশিত, তরণীকান্ত চক্রবর্তীর “ভক্তকবি শ্রীবৃন্দাবনদাস ঠাকুর” প্রবন্ধের ৪৯০-পৃষ্ঠায়  লিখেছেন . . .

তবে নবদ্বীপের অন্তর্গত মামগাছি গ্রামে শ্রীনারায়ণী-সেবা নামে একটা সেবা ও তন্নিকটবর্ত্তী ৫।৬ ক্রোশ
পশ্চিমে দেলুড় গ্রামই বৃন্দাবনদাস ঠাকুরের শ্রীপাট বাটী অদ্যাপি বর্ত্তমান আছে দেখিয়া, মামগাছি অথবা
দেলুড় গ্রামই বৃন্দাবন দাস ঠাকুরের জন্মভূমি বলিয়া কেহ কেহ অনুমান করেন
।”

অচ্যুতচরণ চৌধুরী তত্ত্বনীধির শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া-পত্রিকার ৪১৩গৌরাব্দের পৌষ সংখ্যায় (ডিসেম্বর ১৯০০)
প্রকাশিত, শ্রীবৃন্দাবন দাস প্রবন্ধের ৫৪২-পৃষ্ঠায় তিনি বৃন্দাবন দাস ও দেলুর গ্রাম সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি শ্রীল
অম্বিকাচরণ ব্রহ্মচারী কে উদ্ধৃত করে লিখেছেন . . .

শ্রীল অম্বিকাচরণ ব্রহ্মচারী মহাশয় লিখিয়াছেন---“শ্রীনিত্যানন্দ প্রভু গৌরভক্তগণ সহ নীলাচলে শ্রীচৈতন্যের
সহিত সাক্ষাৎ করিতে গমন করেন। * * এই সঙ্গে বৃন্দাবন দাসও গমন করিতেছিলেন এবং নবদ্বীপ হইতে
দেলুড়ে আসিয়া স্নান ভোজনাদি সমাপনান্তে নিত্যানন্দ প্রভুর মুখশুদ্ধির জন্য কিছু প্রার্থনা করায় বৃন্দাবন
ঠাকুর একটী হরীতকী দিয়া কহিয়াছিলেন যে গত কল্যের একটীমাত্র ছিল। নিত্যানন্দ প্রভু ইহা শ্রবণ করিয়া
কহিয়াছিলেন ‘তুমি সঞ্চয়ী, এই গ্রামে থাকিয়া মহাপ্রভুর মূর্ত্তি প্রকাশ ও লীলাবর্ণন কর’।” বৃন্দাবনদাস সেই
হইতেই নাকি দেলুড়বাসী হন। দেলুড়ে বৃন্দাবনদাসের পাটবাটী অদ্যাপি আছে
।”
.
একাধিক বৃন্দাবন দাস -                                                                   পাতার উপরে . . .  
বিশেষজ্ঞগণ  মনে  করেন  যে বৃন্দাবন দাস  নামে  চৈতন্যপরবর্তী  সময়কালে আরও বৈষ্ণব পদকর্তা
এসেছিলেন। এমনকি বৈষ্ণবদাস সংকলিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরুতে উদ্ধৃত বৃন্দাবন ভণিতার ৩৪টি পদের মধ্যেও
অপর কোনও বৃন্দাবন দাসের পদ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হয়।

বৃন্দাবন দাসের নামে একটি নয় দুটি “বৈষ্ণব বন্দনা” রয়েছে! শ্রাবণ ৪২৪ শ্রীচৈতন্যাব্দে (১৯১১ সালে)  
প্রকাশিত, শ্রীঅতুলকৃষ্ণ গোস্বামী সম্পাদিত “শ্রীশ্রীবৈষ্ণব-বন্দনা” গ্রন্থে, দৈবকীনন্দনের রচিত বৈষ্ণব-বন্দনার
সঙ্গে রয়েছে “শ্রীমদ্বৃন্দাবনদাসঠক্কুর বিরচিত” একটি বৈষ্ণব-বন্দনা এবং “শ্রীবৃন্দাবনদাস” রচিত একটি বৈষ্ণব-
বন্দনা।

গ্রন্থের শেষে নিবেদন বা ভূমিকা বা সম্পাদকীয়তে অতুলকৃষ্ণ গোস্বামী মহাশয় লিখেছেন যে দ্বিতীয় বৈষ্ণব-
বন্দনাটি অন্য কোনও বৃন্দাবন দাসের রচিত। তিনি লিখেছেন . . .
“ . . .
বৈষ্ণব-বন্দনার এই নূতন সংস্করণ প্রকাশিত হইলেন। বাজারে শ্রীদৈবকীনন্দনদাস-বিরচিত বন্দনা
ব্যতীত অন্যান্য বন্দনা পাওয়া যায় না। বর্তমান সংস্করণে শ্রীচৈতন্যভাগবতকার শ্রীল ঠাকুর  বৃন্দাবনদাস,
শ্রীল দৈবকীনন্দন দাস এবং অন্য একজন শ্রীল বৃন্দাবনদাসের রচিত তিনটি বাংলা বন্দনা, আর ঐ  
দৈবকীনন্দনেরই “বৈষ্ণবাভিধানম্” নামক একটি সংস্কৃত বন্দনা প্রকাশিত হইয়াছেন
। . . .”

১৯৩১সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর ৫ম খণ্ডের ভূমিকার ১৭৮-পৃষ্ঠায়,  
পদকল্পতরুতে উদ্ধৃত বৃন্দাবনদাস ভণিতার “প্রাত সহচরি সঙ্গহি বৈঠলি” পদের শেষ কলিটি উল্লেখ  করে  
তিনি একাধিক বৃন্দাবন দাসের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছেন . . .
বৃন্দাবন দাসের ৫৭৩ সংখ্যক পদের ভণিতায় আছে.---
“রায় রঘুপতি                বল্লভ সঙ্গতি
.        বৃন্দাবন দাস ভাষই॥”

এই ‘রঘুপতি রায়’ ও ‘বল্লভ’ কে? ‘বৃন্দাবন’ ভণিতার পদাবলীর মধ্যে একাধিক বৃন্দাবন দাসের পদ সংগৃহীত
হয় নাই ত আমরা বৈষ্ণব-সাহিত্যসেবীদিগকে ‘রঘুপতি রায়’ নামক ব্যক্তির দেশ ও কালের খোঁজ  করার  
জন্য অনুরোধ করি। আমরা সেই নামের কোনও উল্লেখ পাই নাই।

বৃন্দাবন দাসের রচিত অন্যান্য গ্রন্থের নাম,---‘তত্ত্ব-বিলাস’, ‘দধিখণ্ড, ‘বৈষ্ণব-বন্দনা’ ও ‘ভক্তিচিন্তামণি’। এই  
গ্রন্থগুলির মধ্যে অন্য কোনও বৃন্দাবনের রচিত গ্রন্থ স্থান পাইয়াছে কি না, তাহাও অনুসন্ধেয় বটে
।”

একাধিক বৃন্দাবনের নাম রয়েছে শ্রীনিবাস আচার্য্যের কন্যা হেমলতা দেবীর মন্ত্রশিষ্য পদকর্তা  যদুনন্দন  
দাসের “কর্ণানন্দ” গ্রন্থে। পদকল্পতরু এবং অন্যান্য গ্রন্থে সংকলিত বৃন্দাবনদাস ভণিতার পদের মধ্যে  তাই  
অন্য বৃন্দাবন দাসের পদ থাকা এরেবারেই অসম্ভব নয়।

আশ্বিন ১২৯৮ বঙ্গাব্দে (সেপ্টেম্বর ১৮৯১) প্রকাশিত রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন সম্পাদিত কর্ণানন্দ গ্রন্থের, ১ম  
নির্যাস, শ্রীনিবাস আচার্য্যের শাখাবর্ণনায় ৮-পৃষ্ঠায় রয়েছে . . .

এবে কহি শ্রীআচার্য্য প্রভুর শাখাগণ।
যা সবার নাম স্মৃতে প্রেম উদ্দীপন॥
*        *        *        *        *   
জ্যেষ্ঠপুত্র শ্রীবৃন্দাবন আচার্য্য হয় নাম। ---শ্রীনিবাস আচার্য্যের জ্যেষ্ঠপুত্র, ৮-পৃষ্ঠা।
তাহারে করিলা দয়া প্রভু গুণধাম॥
*        *        *        *        *
প্রভুর পরম প্রিয় সেবক প্রধান।
বৃন্দাবন চট্টরাজ প্রিয় ভৃত্য প্রাণ॥---শ্রীনিবাস আচার্য্যের শাখা, ১১-পৃষ্ঠা।
*        *        *        *        *
বৃন্দাবনবাসী হয় মহা সুখরাশি।
বৃন্দাবনদাস নাম মহাগুণরাশি॥---শ্রীনিবাস আচার্য্যের শাখা, ২৪-পৃষ্ঠা।
তাহারে করিল দয়া প্রভু গুণনিধি।
তার গুণ কি কহিব মুঞি হীনবুদ্ধি॥

কর্ণানন্দ গ্রন্থের, ২য় নির্যাস, শ্রীনিবাস আচার্য্যের উপশাখা বর্ণনায় ২৭-পৃষ্ঠায় রয়েছে . .
রাধাবল্লভ চক্রবর্ত্তী আর বৃন্দাবন।
চক্রবর্ত্তী মহাশয় ভকত প্রধান॥
*        *        *        *        *
প্রসাদ বিশ্বাস পুত্র বৃন্দাবন দাস।
প্রভুপদে নিষ্ঠারতি পরম বিশ্বাস॥---শ্রীনিবাস আচার্য্যের উপশাখা, ২৮-পৃষ্ঠা।
*        *        *        *        *
শ্রীআচার্য্য প্রভুর কন্যা শ্রীল হেমলতা।
প্রেমকল্পবল্লী কিবা নিরমিল ধাতা॥
সেই দুই চরণপদ্ম হৃদয়ে বিলাসে।
কর্ণানন্দ রস কহে যদুনন্দন দাসে॥
.
ব্যাসাবতার বৃন্দাবন দাস -                                                               পাতার উপরে . . .  
১৯৩৯ সালে প্রকাশিত (৮৫২ চৈতন্যাব্দ) অতুলকৃষ্ণ গোস্বামী সম্পাদিত শ্রীচৈতন্যভাগবত গ্রন্থের পরিশিষ্টে  
দেওয়া শ্রীল ঠাকুর বৃন্দাবনদাস নামক লেখকের জীবনীতে রয়েছে যে
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আশীর্বাদ ও তাঁর
প্রদত্ত নামে ধন্য কবি কর্ণপুর বা পরমানন্দ সেন তাঁর গৌরগণোদ্দেশদীপিকায় কবি বৃন্দাবন দাসকে  
মহাভারতের বেদব্যাস ঋষির সঙ্গে তুলনা করেছেন এইভাবে . . .

বৈষ্ণবগণ বৃন্দাবনদাস ঠাকুরকে পরম পুজনীয় বলিয়া স্থির করিবেন,---করিবেন না বা কেন, যখন
কবিকুলতিলক শ্রীমৎ কবিকর্ণপুর নারায়ণীনন্দনের তত্ত্ব এরূপে গৌরগণোদ্দেশে বর্ণন করিয়াছেন,---
বেদব্যাসো য এবাসীদ্দাসবৃন্দাবনেহধুনা। সখা চঃ কুসুমাপীড়ঃ কার্য্যতন্তং সমাবিশৎ॥
তত্পর্য্য এই যে, যিনি দ্বাপরে বেদব্যাস ছিলেন, তিনি গৌরাঙ্গলীলায় দাস বৃন্দাবন হইয়া অবতীর্ণ হন। আবার
যিনি ব্রজের কুসুমাপীড় কৃষ্ণসখা, কার্য্যবশত বৃন্দাবনদাসঠাকুরে প্রবেশ করিয়াছিলেন
।”

কৃষ্ণদাস কবিরাজ তাঁর চৈতন্যচরিতামৃতের আদিলীলা, ৮ম পরিচ্ছেদে লিখেছেন . . .
বৃন্দাবন দাসের পাদপদ্ম করি ধ্যান ;
তাঁর আজ্ঞা লৈয়া লিখি যাহাতে কল্যাণ।
চৈতন্য লীলাতে ব্যাস বৃন্দাবনদাস ;
তাঁর কৃপা বিনা অন্যে না হয় প্রকাশ।
.
চৈতন্যভাগবতের রচনাকাল -                                                              পাতার উপরে . . .  
বৃন্দাবন দাসের জন্মের মতো তাঁর চৈতন্যভাগবত রচনার সময়কাল নিয়েও বিতর্কের অন্ত নেই!  গৌরপদ-
তরঙ্গিণীর সংকলক জদদ্বন্ধু ভদ্রের মতে বৃন্দাবন দাসের ১৮ মাস গর্ভাবস্থার পরে জন্ম হয় ১৪২৯ শকাব্দে বা
১৫০৭ খৃষ্টাব্দে এবং গুরু প্রভু নিত্যানন্দের আদেশে  ১৪৪৩ - ৪৪ শকে (১৫২১ - ২২ খৃষ্টাব্দে), মাত্র ১৪-১৫
বছর বয়সে, দেনুর গ্রামে
শ্রীচৈতন্যের জীবনী লেখা  আরম্ভ করেন। গুরু নিত্যানন্দ
তখন
মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যের সাথে দেখা করতে নীলাচলে যাচ্ছিলেন। আহারান্তে মুখশুদ্ধি চাইতে তাঁকে
বিগতদিনের সঞ্চিত একটি পুরানো হরীতুকী দেবার ফলে তিনি শিষ্য বৃন্দাবনদাসকে  সঞ্চয়ী হবার কারণে
তাঁর সন্ন্যাসের অধিকার জন্মায় নি এই বলে তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করে দেনুড় গ্রামেই থেকে
মহাপ্রভুর লীলা-বর্ণন
করতে বলেন। গৌরপদ-তরঙ্গিণী, ২য় সংস্করণ ১৯৩৩, ২১৫-পৃষ্ঠা।

অতুলকৃষ্ণ গোস্বামী সম্পাদিত শ্রীচৈতন্যভাগবত গ্রন্থের পরিশিষ্টে দেওয়া “শ্রীল ঠাকুর বৃন্দাবনদাস” নামক  
লেখকের জীবনীর পাদটীকায় রয়েছে যে চৈতন্যভাগবতের রচনাকাল রামগতি ন্যায়রত্নের মতে ১৪৭০শকে
(১৫৪৮খৃষ্টাব্দ), অচ্যুতচরণ চৌধুরী তত্ত্বনীধি ও দীনেশচন্দ্র সেন রায়বাহাদুরের মতে ১৪৫৭  শকে  
(১৫৩৫খৃষ্টাব্দ), অম্বিকাচরণ ব্রহ্মচারীর মতে ১৪৯৭ শকে (১৫৭৫ খৃষ্টাব্দ)।

জগদীশ্বর গুপ্ত সম্পাদিত, জৈষ্ঠ ১২৯৬ বঙ্গাব্দে (মে ১৮৮৯খৃষ্টাব্দে) প্রকাশিত, কৃষ্ণদাস কবিরাজের  
“চৈতন্যচরিতামৃত” গ্রন্থের, “গ্রন্থকারের সংক্ষিপ্ত জীবনী”-তে লিখেছেন . . .
“তিনি নিজে লিখিয়া গিয়াছেন যে ১৫৩৭ শকের জ্যৈষ্ঠ মাসে (১৬১৫ খৃষ্টাব্দের জুন মাসে) চৈতন্য চরিতামৃত
গ্রন্থরচনা সম্পূর্ণ হইয়াছিল * ; এবং সে সময় তিনি অতিশয় বৃদ্ধ ও জরাগ্রস্থ হইয়া ছিলেন।”

ঐ পাতারই পাদটীকায় লিখেছেন ---
* শাকে সিন্ধাগ্নি বাণেন্দৌ জ্যৈষ্ঠে বৃন্দাবনান্তরে ; সূর্য্যাহেহসিতপঞ্চম্যাং গ্রন্থোহয়ং পূর্ণতাং গতঃ।”

জগদীশ্বর গুপ্ত সম্পাদিত উপরোক্ত গ্রন্থের শেষে, “গ্রন্থ পরিশিষ্টম্” এ উপরোক্ত শ্লোকটি রয়েছে গ্রন্থ রচনার
সমাপ্তির ঘোষণায়।  
শাকে সিন্ধৃগ্নিবাণেন্দৌ জ্যৈষ্ঠে বৃন্দাবনান্তরে।
সূর্য্যাহেহসিতপঞ্চম্যাং গ্রন্থোহয়ং পূর্ণতাং গতঃ॥ (বানানে কিছু গড়মিলও আছে)

এর থেকে রচনার সময়কাল - সিন্ধু (৭) অগ্নি (৩) বাণ (৫) ইন্দু (১) অঙ্কস্য  বামাগতিঃ  রীতিতে  যা দাঁড়ায়
১৫৩৭। ১৫০৪ শকাব্দে (১৫৮২ খৃষ্টাব্দ) কৃষ্ণদাস কবিরাজের মৃত্যুর পরবর্তিতে চৈতন্যচরিতামৃতের
রচনার এই তারিখটি এই জন্য ভুল। ভক্ত দিগ্দর্শিনীতে কৃষ্ণদাস কবিরাজের মৃত্যুর সময়কাল ১৫০৮ শকাব্দ
দেওয়া রয়েছে।

হারাধন দত্ত ভক্তিনিধির লেখা, নব্যভারত” পত্রিকার ১৩০০ বঙ্গাব্দের ভাদ্র সংখ্যায় (অগাস্ট ১৮৯৩ খৃষ্টাব্দ),
ধারাবাহিক প্রবন্ধ “বঙ্গের বৈষ্ণব কবি (২)”-তে, কারো নাম না করে, তিনি জানিয়েছেন যে উপরোক্ত  ঐ  
গ্রন্থের সম্পাদক সঠিকভবে শ্লোকটি উদ্ধৃত করেন নি। ভক্ত দিগ্দর্শিনীর সঙ্গে এর মিল নেই। তিনি সঠিক  
শ্লোকটি, যা দিগ্দর্শিনীর সঙ্গে মিলে যায়, যা ১৫০৫ শকাব্দে অনুলিখিত, বনবিষ্ণুপুরের রাইপুরস্থ রাজধানীর
গ্রন্থভাণ্ডারে রক্ষিত চৈতন্যচরিতামৃতের শেষে দেওয়া আছে, সেই শ্লোকটি উদ্ধৃত করেছেন . . .

শাকাগ্নি বিন্দু বাণেন্দৌ জৈষ্ঠে বৃন্দাবনান্তরে।
সূর্য্যাহসিতপঞ্চম্যাং গ্রন্থোহং পূর্ণতাং গতা॥
এর অর্থ - অগ্নি (৩) বিন্দু (০) বাণ (৫) ইন্দু (১) অঙ্কস্য বামাগতিঃ রীতিতে যা দাঁড়ায় ১৫০৩ শকাব্দ।

১৫০৫ শকাব্দে (১৫৮৩ খৃষ্টাব্দ)  অনুলিখিত, বনবিষ্ণুপুরের রাইপুরস্থ রাজধানীর গ্রন্থভাণ্ডারে রক্ষিত  
চৈতন্যচরিতামৃতে আমরা পাই যে ১৫০৪ শকাব্দ (১৫৮২ খৃষ্টাব্দ) নাগাদ আমরা দেখি যে বৃন্দাবন থেকে,  
কৃষ্ণদাস কবিরাজ রচিত চৈতন্যচরিতামৃত গ্রন্থ সহ বেশ কিছু মূল্যবান গ্রন্থ নিয়ে শ্রীনিবাস আচার্য্য, নরোত্তম
ঠাকুর এবং শ্যামানন্দ, নবদ্বীপে ফেরার পথে বনবিষ্ণুপুরের কাছে লুণ্ঠিত হন মল্লরাজ বীর হাম্বীরের  দস্যু
দলের দ্বারা (১৯৩১ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর ৫ম খণ্ডের ভূমিকার ১৭৪-
পৃষ্ঠায়)। চৈতন্যচরিতামৃত রচনার পূর্বেই বৃন্দাবনদাসের চৈতন্যভাগবত রচনা হয়ে গিয়েছিল এবং তা যথেষ্ট
প্রচারিতও হয়ে গিয়েছিল। কৃষ্ণদাস কবিরাজ তাঁর গ্রন্থে স্বয়ং লিখেছেন যে তিনি বৃন্দাবন দাসের  
চৈতন্যভাগবতকেই অনুসরণ করেছেন।  

কৃষ্ণদাস কবিরাজ তাঁর চৈতন্যচরিতামৃতের আদিলীলা, ৮ম পরিচ্ছেদে লিখেছেন . . .
বৃন্দাবন দাসের পাদপদ্ম করি ধ্যান ;
তাঁর আজ্ঞা লৈয়া লিখি যাহাতে কল্যাণ।
চৈতন্য লীলাতে ব্যাস বৃন্দাবনদাস ;
তাঁর কৃপা বিনা অন্যে না হয় প্রকাশ। ---এই গ্রন্থে বহুবার এমন লেখা রয়েছে।

সুতরাং বৃন্দাবন দাসের চৈতন্যভাগবত নিশ্চিতভাবে ১৫৮২ খৃষ্টাব্দের পূর্বে রচিত হয়েছিস। হারাধন দত্ত  
ভক্তিনিধির লেখা, নব্যভারত” পত্রিকার ১৩০০ বঙ্গাব্দের ভাদ্র সংখ্যায় (অগাস্ট ১৮৯৩ খৃষ্টাব্দ), ধারাবাহিক
প্রবন্ধ “বঙ্গের বৈষ্ণব কবি (২)”-তে তিনি লিখেছেন যে ভক্ত দিগ্দর্শিনীর অনুযায়ী বৃন্দাবন দাসের   
চৈতন্যভাগবতের রচনাকাল ১৪৯৭ শকাব্দ বা ১৫৭৫ খৃষ্টাব্দ।
.
বৃন্দাবনদাস, লোচনদাস, চৈতন্যভাগবত ও চৈতন্যমঙ্গল -                           পাতার উপরে . . .  
বৃন্দাবন দাসের লেখা
শ্রীচৈতন্য-জীবনী চৈতন্যভাগবতের নাম প্রথমে তিনি রেখেছিলেন চৈতন্যমঙ্গল। এর
কিছুকাল পরেই লোচন দাসও তাঁর চৈতন্য-জীবনী গ্রন্থ চৈতন্যমঙ্গল লেখেন। বৃন্দাবন দাসের মাতা নারায়ণীর
হস্তক্ষেপে হোক বা বৃন্দাবনের গোস্বামীদের হস্তক্ষেপে হোক, বৃন্দাবন দাসের রচনাটির নতুন নামকরণ করা
হয় চৈতন্যভাগবত।

বৃন্দাবন দাসের অল্প পরে লেখা কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্যচরিতামৃত গ্রন্থে এর উল্লেখ রয়েছে। তিনি
বৃন্দাবন দাসের রচনাকে চৈতন্যমঙ্গল নামে সম্বোধন করছেন এবং তাঁকে বেদব্যাসের সঙ্গে তুলনা করছেন . . .

আরে মূঢ় লোক শুন চৈতন্যমঙ্গল।
চৈতন্য মহিমা যাতে জানিবা সকল॥
কৃষ্ণলীলা ভাগবতে কহে বেদব্যাস।

হারাধন দত্তর লেখা “নব্যভারত” পত্রিকার ১৩০০ বঙ্গাব্দের কার্তিক সংখ্যায় (১৮৯৩ সাল), ধারাবাহিক প্রবন্ধ
“বঙ্গের বৈষ্ণব কবি”-তে ত্রিলোচন দাস এবং বৃন্দাবন দাসের চৈতন্যমঙ্গল গ্রন্থের নামকরণ সম্বন্ধে তিনি
লিখেছেন . . .

“. . .
শ্রীসরকার ঠাকুর (নরহরি সরকার) বাল্যকাল হইতেই শ্রীলোচনকে ভাল বাসিতেন এবং শ্রদ্ধা করিয়া
সকল বিষয় শিক্ষা দিতেন। সরকার ঠাকুরের আদেশেই শ্রীলোচন কর্ত্তৃক শ্রীচৈতন্যমঙ্গল গ্রন্থ লিখিত হয়। যে
সময়ে শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ মহাপ্রভুর আদেশে শ্রীশ্রীবৃন্দাবন দাস ঠাকুর, শ্রীশ্রীচৈতন্যমঙ্গল গ্রন্থ লিখিয়াছিলেন, সেই
সময়ের কিছু দিন পরেই শ্রীলোচন শ্রীগ্রন্থ লেখেন।

একদা উভয় গ্রন্থ লইয়া শ্রীবৃন্দাবন এবং শ্রীলোচনে যে তর্ক হয়, শ্রীবৃন্দাবনের গর্ভধারিণী শ্রীশ্রীনারায়ণী মধ্যস্থ
হইয়া পরস্পর বিবাদ মিটাইয়া দেন। এবং শ্রীলোচনের মতে মত স্থাপন করিয়া বৃন্দাবন কৃত
শ্রীশ্রীচাতন্যমঙ্গলের মঙ্গল শব্দ রহিত করিয়া “ভাগবত” শব্দ বসাইয়া দেন
।”
.
বৃন্দাবন দাসের কবিত্ব ও সাহিত্য নিয়ে বিদ্বজ্জনদের উদ্ধৃতি -                    পাতার উপরে . . .  
বৃন্দাবন দাসের ব্যক্তিগত জীবনই এত বিতর্কিত যে তাঁর রচনার সাহিত্য-মূল্য নিয়ে চর্চা, কখনই সর্বাগ্রে
উল্লেখিত বিষয় হয়ে দাঁড়ায় না। আমরা তাঁর সাহিত্য নিয়ে বিদ্বজ্জনদের কিছু মতামত এখানে তুলে দিচ্ছি...

অচ্যুতচরণ চৌধুরী তত্ত্বনীধির লেখা, শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া-পত্রিকার ৪১৩গৌরাব্দের পৌষ সংখ্যায় (ডিসেম্বর
১৯০০) প্রকাশিত, “শ্রীবৃন্দাবন দাস” প্রবন্ধের ৫৪৫-পৃষ্ঠায় তিনি বৃন্দাবন দাসের কবিত্ব নিয়ে লিখেছেন . . .
চৈতন্যভাগবত রচনা না করিলেও বৃন্দাবন দাস একজন শ্রেষ্ঠ কবি বলিয়া গণ্য হইতে পারিতেন, তত্কৃত
সুমধুর পদাবলীতে তাঁহার অসাধারণ কবিত্বের পরিচয় প্রাপ্ত গওয়া যায়। পদকল্পতরুতে তাঁর প্রায়
৩০টী পদ আছে
।”

তরণীকান্ত চক্রবর্তীর “নব্যভারত” পত্রিকার ১৩০৯ সালের পৌষ সংখ্যায় (ডিসেম্বর ১৯০২) প্রকাশিত,
“ভক্তকবি শ্রীবৃন্দাবনদাস ঠাকুর” প্রবন্ধের ৪৯১-পৃষ্ঠায়  লিখেছেন . . .
বৃন্দাবন দাস যে সময় শ্রীচৈতন্য মঙ্গল রচনা করেন, তখন বঙ্গভাষায় গ্রন্থ লেখার নিয়ম প্রচলিত ছিল না।
সকলেই সংস্কৃতে গ্রন্থ লিখিতেন। স্রীমুরারি গুপ্ত ও শ্রীপুরীদাস কবিকর্ণপূর শ্রীগৌরাঙ্গলীলা বিষয়ক শ্রীচৈতন্য
চরিতামৃত কাব্য এবং শ্রীচৈতন্য মহাকাব্য নামক যে দুইখা গ্রন্থ লিখিয়াছিলেন, সে দুই খানাই সংস্কৃতে।
কিন্তু বৃন্দাবন দাস সে প্রণালী অনুসরণ করেন নাই। তিনি নিত্যানন্দ প্রভুর শিষ্য। যখন মহাপ্রভু
শ্রীনিত্যানন্দকে প্রেমভক্তি প্রচারার্থ গৌড়দেশে পাঠান, তখন অধম পতিতাদির কখাই পুনঃ পুনঃ
বলিয়াদিয়াছিলেন। নিত্যানন্দ প্রভু ও মহাপ্রভুর আদেশ প্রতিপালন করিতে বিন্দুমাত্র ত্রুটী করেন ; নাই যত
দীন হীন, অধম ও নীচ জাতির মধ্যে প্রেম-ভক্তির অধিক প্রচার করিয়াছিলেন। বৃন্দাবনদাস ঠাকুরও
ইষ্টদেবের পদানুসরণ করিয়াছেন। সংস্কৃত গ্রন্থ লিখিলে পণ্ডিত ভিন্ন অপরের বোধগম্য হইবে না। যাহাতে
আপামর সকলেই বুঝিতে পারে, এজন্য অতি সরল বঙ্গভাষাতে শ্রীচৈতন্য মঙ্গল রচনা করেন। . . . . . . বঙ্গ-
সাহিত্যের ধ্রুবতারা শ্রীবৃন্দাব দাস ঠাকুর বঙ্গের আদি কবি, ঐতিহাসিক কাব্যের আদি লেখক।
মহামহোপাধ্যায় পণ্ডিতমণ্ডলীর মধ্যে তিনি ব্যাসাবতার বলিয়া পূজিত
।”

সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর ১৯৩১সালে প্রকাশিত ৫ম খণ্ডের ভূমিকার ১৭৮-পৃষ্ঠায় তিনি
বৃন্দাবন দাসের সাহিত্য নিয়ে লিখেছেন . . .
বৃন্দাবন দাসের জন্ম যে ভাবেই হইয়া থাকুক, তাঁহার পূত চরিত্র ও বৈষ্ণব-সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ
রচনার কৃতিত্ব হেতু তিনি চিরকাল পূজিত হইবেন। তাঁহার বর্ণনশক্তি প্রশংসনীয়। পদকল্পতরুর ৩২৫ (বিমল
হেম জিনি তনু অনুপাম রে), ৫৭৩ (প্রাত সহচরি সঙ্গহি বৈঠলি), ২১৪৭ (অপরূপ নিতাইচাঁদের অভিষেকে)
ইত্যাদি পদগুলি পড়িলেই পাঠক উহার পরিচয় পাইবেন
।”

রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র তাঁর ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত “শ্রীপদামৃত-মাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, পদ-সংকলনের ৫২-
পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাসের সাহিত্য নিয়ে লিখেছেন . . .
চৈতন্যভাগবত চৈতন্যজীবনী সম্বন্ধে একখানি অতি উত্কৃষ্ট ও প্রামাণিক গ্রন্থ। বৈষ্ণব সমাজে ইহার আদরও
অত্যন্ত বেশি। বৃন্দাবনদাস নিত্যানন্দ প্রভুর শিষ্য ছিলেন। সেইজন্য চৈতন্যভাগবতে নিত্যানন্দচরিত্র অতি
বিস্তৃত ভাবে বর্ণিত হইয়াছে।
বৃন্দাবন শুধু চরিতকার ছিলেন না, তিনি একজন পদকর্ত্তাও বটেন। তাঁহার রচিত পদে নিত্যানন্দ-চরিত্র
যেরূপ বিকাশ প্রাপ্ত হইয়াছে, তাহা বৈষ্ণব সাহিত্যকে চিরদিন উজ্জ্বল করিয়া রাখিবে
।”

বিমানবিহারী মজুমদার তাঁর ১৯৬১ সালে প্রকাশিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য” পদ-সংকলনের
৭৬-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাসের সাহিত্য নিয়ে লিখেছেন . . .
এই পর্য্যায়ের কবিদের মধ্যে (গ্রন্থের ৩য় অধ্যায় - জ্ঞানদাসের যুগ) একমাত্র বৃন্দাবন দাসের নাম
গৌরগণোদ্দেশ-দীপিকায় উল্লিখিত হইয়াছে। বৃন্দাবনদাস শ্রীচৈতন্যভাগবতের মধ্যে এমন কয়েকটি পদ  
সন্নিবিষ্ট করিয়াছেন, যাহা গীতিকবিতার লক্ষণাক্রান্ত।  এগুলি ছাড়া  আরও  কয়েকটি  পদও তিনি
লিখিয়াছিলেন। কিন্তু বৃন্দাবন দাস-ভণিতায় যত পদ দেখা যায় সব ইঁহার রচনা নহে। পদকল্পতরুতে
বৃন্দাবনদাস-ভণিতার ৩৪টি পদ ও গৌরপদ-তরঙ্গিণীতে ৬৩টি পদ ধৃত হইয়াছে। বৃন্দাবনদাসের আন্তরিকতা
ও সুদৃঢ় বিশ্বাস তাঁহার রচনার ছত্রে ছত্রে ফুটিয়া উঠিয়াছে
।”
.
বৃন্দাবন দাসের রচনা সম্ভার -                                                           পাতার উপরে . . .  
বৃন্দাবন দাসের প্রধান কীর্তি “শ্রীশ্রীচৈতন্যভাগবত”, যার প্রথমে নাম ছিল “শ্রীচৈতন্যমঙ্গল”। গ্রন্থটি শ্রীচৈতন্য
মহাপ্রভুর মূল ও প্রামাণিক জীবনী-গ্রন্থ বলে ধরা হয়। এছাড়া রয়েছে “ভক্তি চিন্তামণি”, “নারদ সংবাদ”,  
“তত্ত্ববিলাস”, “ভাবাবেশ গ্রন্থ”, “লীলামৃতসার”, “তত্ত্বনিরূপণ”, “আনন্দলহরী”, “পাষণ্ডদলন”, সংস্কৃতে   
“শ্রীনিত্যানন্দের ঐশ্বর্য্যামৃত স্তোত্র” গ্রন্থ, সংস্কৃতে “নিত্যানন্দাষ্টক” প্রভৃতি। এই পুথিগুলি বীরভূমের রতন
লাইব্রেরীতে সংগৃহীত রয়েছে। ১৯১৯ সালে প্রকাশিত, শিবরতন মিত্র সম্পাদিত ও সংকলিত “বাঙ্গালা প্রাচীন
পুথির বিবরণ”, ২য় খণ্ড, ১ম সংখ্যায় এর উল্লেখ রয়েছে। ১৪৫৯ শকে (১৫৩৭) রচনা করেন নিত্যানন্দের
বংশবিস্তার গ্রন্থ। শোনা যায় যে চৈতন্যলীলামৃত  নামে তাঁর আর একটি রচনা রয়েছে। “দধিখণ্ড” নামেও
বৃন্দাবনদাসের একটি রচনা রয়েছে।

বৃন্দাবন দাসের নামে একটি নয় দুটি “বৈষ্ণব বন্দনা” রয়েছে! ১৯১১সালে প্রকাশিত, শ্রীঅতুলকৃষ্ণ গোস্বামী
সম্পাদিত “শ্রীশ্রীবৈষ্ণব-বন্দনা” গ্রন্থে, দৈবকীনন্দনের রচিত বৈষ্ণব-বন্দনার সঙ্গে রয়েছে শ্রীমদ্বৃন্দাবনদাসঠক্কুর
বিরচিত একটি বৈষ্ণব-বন্দনা এবং শ্রীবৃন্দাবনদাস রচিত একটি বৈষ্ণব-বন্দনা।
.
বৃন্দাবন দাসের জন্ম সম্বন্ধে খগেন্দ্রনাথ মিত্রের উদ্ধৃতি -                              পাতার উপরে . . .  
১৯৫৫ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র সংকলিত পদামৃত মাধুরী ৪র্থ
খণ্ডের ৫১-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস সম্বন্ধে লিখেছেন . . .
“‘
চৈতন্যভাগবত’কার শ্রীবৃন্দাবন দাস কবে জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন, তাহা নিশ্চয় করিয়া বলা যায় না।
সম্ভবতঃ মহাপ্রভুর তিরোধানের পরেই তিনি জন্মগ্রহণ করেন।ইঁহার মাতা নারায়ণী দেবী শ্রীবাসের ভ্রাতার
কন্যা ছিলেন। এই নারায়ণী অতি ভক্তিমতী রমণী ছিলেন। ইঁহার সম্বন্ধে মুরারিগুপ্ত তাঁহার করচায়
লিখিয়াছেন যে শ্রীগৌরহরির প্রসাদ খাইয়া নারায়ণী হা কৃষ্ণ বলিয়া কাঁদিয়াছিলেন :

হরেঃ প্রাশ্য প্রসাদঞ্চ রৌতি নারায়ণী শুভা।
বৃন্দাবন স্বয়ং তাঁহার জননী সম্বন্ধে লিখিয়াছেন :
সর্ব্বভূত অন্তর্যামী শ্রীগৌরাঙ্গ চাঁদ।
আজ্ঞা কৈল নারায়ণী কৃষ্ণ বলি কাঁদ॥
চারি বত্সররে সেই উন্মত্ত চরিত।
হা কৃষ্ণ বলিয়া মাত্র পড়িল ভূমিত॥

সম্ভবতঃ নারায়ণীর সদ্য বৈধব্যাবস্থায় বৃন্দাবন ভূমিষ্ঠ হইয়াছিলেন। ইহা লইয়া অনেক অলৌকিক কাহিনী
প্রচলিত হইয়াছে
।”
.
বৃন্দাবন দাসের জন্ম সম্বন্ধে নীলরতন সেনের উদ্ধৃতি -                              পাতার উপরে . . .  
১৯৬৭ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত (১৩৭৪ বঙ্গাব্দ) নীলরতন সেনের “বৈষ্ণব পদাবলী পরিচয়” গ্রন্থের ৩৭০-পৃষ্ঠায়
বৃন্দাবন দাস সম্বন্ধে তিনি লিখেছেন . . .

বাংলা চরিত গ্রন্থগুলির মধ্যে বৃন্দাবনদালের গ্রন্থটিই প্রাচীনতম এবং সাধারণ বৈষ্ণব সমাজে সর্বপেক্ষা
জনপ্রিয় বলা যেতে পারে। লোচন এবং কবিরাজ গোস্বামী তাঁদের গ্রন্থে সশ্রদ্ধভাবে বৃন্দাবনদাসের
চৈতন্যভাগবতের উল্লখ করেছেন, বৃন্দাবনদাস চৈতন্যভাগবত গ্রন্থে আত্মপরিচয় দিতে গিয়ে লিখেছেন,

সর্বশেষ ভৃত্য তান বৃন্দাবনদাস।
অবশেষে নারায়ণী গর্ভে পরকাশ॥
অদ্যপিও বৈষ্ণব মণ্ডলে যাঁর ধ্বনি।
চৈতন্যের অবশেষ পাত্র নারায়ণী॥ [ অন্ত্যখণ্ড : ৬ অধ্যায় ]

বৃন্দাবনদাস সম্বভতঃ শ্রীবাসের ভ্রাতুস্পুত্রীর পুত্র ছিলেন। পিতৃপরিচয় না দিয়ে তিনি মাতৃ-পরিচয় দিয়েছেন।
কথিত আছে, মাতা নারায়ণীর বৈধব্য জীবনে চৈতন্যদেবের সাক্ষাৎ কৃপাপ্রার্থী অবস্থায় বৃন্দাবনের জন্ম হয়।
ডঃ বিমানবিহারী মজুমদার ১৫১৮ খৃঃ এর কাছাকাছি কোনও সময়ে বৃন্দাবনের জন্মকাল স্থির করেছেন।  
তিনি চৈতন্যদেবকে যে সাক্ষাৎ দর্শন করেননি একাধিকবার সে সম্পর্কে আক্ষেপ করেছেন।---

গঙ্গাতীরে শিষ্যসঙ্গে মণ্ডলী করিয়া।
বৈকুণ্ঠের চূড়ামণি আছেন বসিয়া॥
চতুর্দিগে দেখে সব ভাগ্যবন্ত লোক।
সর্ব নবদ্বীপ প্রভু-প্রভাবে অশোক॥
*        *        *        *        *
সে আনন্দ দেখিলেক যে সুকৃতী জন।
তাহা দেখিলেও খণ্ডে সংসার বন্ধন॥
হইল পাপিষ্ঠ জন্ম নহিল তখনে।
হইলাঙ বঞ্চিত সে সুখ দরশনে॥ [ আদিখণ্ড : ১০ অধ্যায় ]

সম্ভবতঃ কবির জন্মের পর চাতন্য আর বাংলা দেশে আসেননি এবং কবির নীলাচলে মহাপ্রভুকে দর্শনের
জন্য ভ্রমণের উপযুক্ত বয়স হবার আগেই তাঁর তিরোধান ঘটেছে ;--- সেজন্যই এই আক্ষেপ।
বৃন্দাবনদাসের গ্রন্থটির পূর্বনাম, চৈতন্যমঙ্গল। নিত্যানন্দদাস প্রেমবিলাসে সংবাদ দিয়েছেন,

চৈতন্যভাগবতের নাম চাতন্যমঙ্গল ছিল।
বৃন্দাবনের মহান্তেরা ভাগবত আখ্যা দিল॥

তাহলে বৃন্দাবনের গোস্বামীদের কাছে বৃন্দাবনদাসের চৈতন্যজীবনীটি বিশেষভাবে সমাদৃত হয়েছিল মনে হয়।
কবিরাজ গোস্বামী কর্তৃক বৃন্দাবনদাসের গ্রন্থকে অবশ্য চৈতন্যমঙ্গল নামেই অভিহিত করেছেন

.
বৃন্দাবন দাস সম্বন্ধে দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্ধৃতি -                             পাতার উপরে . . .  
দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সম্পাদিত ১৯৭৭ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত “বৈষ্ণব পদসঙ্কলন” গ্রন্থে বৃন্দাবন দাস সম্বন্ধে
লিখেছেন . . .
শ্রীচৈতন্যের অনুচর শ্রীবাসের ভ্রাতুষ্পুত্রী নারায়ণীর পুত্র বৃন্দাবনদাসের পিতৃপরিচয় অজ্ঞাত। আনুমানিক
১৫২০-২২ খৃস্টাব্দে কবির জন্ম। নবদ্বীপের নিকটবর্তী মামগাছি গ্রামে তাঁর প্রথম জীবন কাটে। শেষ জীবনে
তিনি বর্ধমানের দেনুড় গ্রামে থাকেন। চৈতন্যের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে না এলেও কবি নিত্যানন্দের ঘনিষ্য শিষ্য
ছিলেন। আঃ ১৫৫০ খৃস্টাব্দে সুবিখ্যাত চৈতন্য ভাগবত রচনা করেন। খেতুরি উত্সবকালে তিনি জীবিত
ছিলেন। এঁর অন্যান্য গ্রন্থ তত্ত্ববিলাস, বৈষ্ণববন্দনা, ভক্তিচিন্তামণি
।”
.
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
আমরা মিলনসাগরে  কবি বৃন্দাবন দাসের পদাবলী তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই
প্রচেষ্টাকে সফল মনে করবো। কবি বৃন্দাবন দাসের এই পাতা, তাঁর প্রতি মিলনসাগরের শ্রদ্ধার্ঘ্য।



কবি বৃন্দাবন দাসের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন

আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ৭.৭.২০১১
আমূল পরিবর্তনপূর্বক পাতার ১০০টি পদ সহ পরিবর্ধিত সংস্করণ - ৭.১১.২০১৯
এই পাতার কবিতার ভণিতা -
বৃন্দাবন, বৃন্দাবন দাস
বৃন্দাবনদাসের জন্ম-মৃত্যু ও
চৈতন্যভাগবতের রচনার
সময়কাল নিয়ে একটি চার্ট . . .
কবি বৃন্দাবন দাস - জন্মগ্রহণ করেন
শ্রীহট্টে। পিতা বৈকুণ্ঠ দাস ও মাতা নারায়ণী
দেবী। বৃন্দাবন দাস ছিলেন
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর
অন্তরঙ্গ পার্ষদ শ্রীবাস পণ্ডিতের ভ্রাতুষ্পুত্রির
পুত্র। প্রচলিত রয়েছে যে নারায়ণী দেবীর
শৈশবে, বিধবা অবস্থায়, একবার তিনি
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ভুক্তাবশেষ খেয়েছিলেন।
প্রভু  নিত্যানন্দের আশীর্বাদে তিনি তাই খেয়ে
গর্ভবতী হন। আমরা এই বিষয়টি নিয়ে এই