কবি গুণরাজ খান (মালাধর বসু)-র কবিতা
*
পূর্ণিমার চান্দ জিনি বদন কমল
কবি গুণরাজ খান বা মালাধর বসু

শ্রী কৃষ্ণের রূপ

পূর্ণিমার চান্দ জিনি বদন কমল |
খঞ্জনে জিনিয়া শোভে নয়ন যুগল ||
হিরা মণি  মাণিকেতে কর্ণের কুন্ডল |
ময়ূরের পুচ্ছে শোভে কুটিল কুন্তল ||
নানা বর্ণের পুষ্প মালা হৃদয় উপরে |
সুবর্ণ অঙ্গুরী শোভে বলয়া দুই করে ||
নর্ত্তকের বেশ ধরে মুকুট শোভে মাথে |
বালকের সঙ্গে  খেলে দেব জগন্নাথ ||
পীতবস্ত্র পরিধান  দেব বনমালী |
নূতন মেঘেতে যেন খেলিছে বিজুরী |
নীলমণি জিনি তার মুখ অনুপাম |
তার মাঝে শোভা করে বিন্দু বিন্দু ঘাম ||
চিত্র গতি চলে যেন নাটুয়া খঞ্জন |
দেখিয়া যুবতিগণ স্থির নহে মন ||১||

.          ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
কুবোল বাহির হৈল আমার বদনে
কবি গুণরাজ খান বা মালাধর বসু

রাসে শ্রীরাধার খেদ

কুবোল বাহির হৈল আমার বদনে |
তে কারণে ছাড়ি গেল নন্দের নন্দেনে ||
হরি হরি প্রাণ মোর কেন নাহি যায় |
যথা গেলে গোবিন্দের দরশন পায় ||
কে হরিয়া নিল আজি মোর প্রাণ নাথ |
কান্দিতে কান্দিতে বলি আইস জগন্নাথ ||
সহজে অবলা আমি বুদ্ধি যে পাতল |
কি বলিতে কি বলিল পাল্য তার ফল ||
এত বলি কান্দে গোপী অচেতন হইয়া |
শ্যামল সুন্দর কৃষ্ণ মনেতে ভাবিয়া ||২||

.          ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
কানাই বিরহে বুলে সকল গোপিনী
কবি গুণরাজ খান বা মালাধর বসু

বিরহিণী গোপীগণের বনভ্রমণ

কানাই বিরহে বুলে সকল গোপিনী |
হেন বেলে কোকিলের কলরব শুনি||
কৃষ্ণের বিরহে গোপী বুলে অচেতন|
বজ্রাঘাত শব্দ হেন শুনিল শ্রবণে ||
জৈমিনি জৈমিনি গোপী করয়ে স্মরণ |
দুহাতে চাপিয়া গোপী রহিল শ্রবণ ||
কোকিলের নাদে তারা বজ্রাঘাত মানি |
হেন বেলে হৈল তথা চাতকের ধ্বনি ||
চৌদিকে চাতকপাখী ডাকে পিউ পিউ |
তা শুনিয়া গোপীগণ নাহি ধরে জীউ ||
কৃষ্ণের বিরহে গোপী হইলা আবেশ |
কৃষ্ণ লীলা রচে গোপী ধরি তার বেশ || ৩||

.          ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
বৃন্দাবন মাঝে যবে বংশীনাদ পুরে
কবি গুণরাজ খান বা মালাধর বসু

শ্রীকৃষ্ণের বংশীধ্বনি

বৃন্দাবন মাঝে যবে বংশীনাদ পুরে |
অকালে ফুটয়ে ফুল সব তরুবরে ||
বত্সগণ সঙ্গে ইসে বেণু বাজাইয়া |
গোকুলের রমণীর চিত্ত যে হরিয়া||
যমুনার কূলে যবে বাঁশীতে দেই সান |
ফিরিয়া যমুনা নদী বহয়ে উজান ||
দরবে পাষাণ সব বংশীনাদ শুনি |
যাহাত শুনিয়া তপ ছাড়ে সব মুনি ||
কদম্বের তলে যবে বংশীনাদ দিল |
তা শুনি ময়ূর পক্ষ নাচিতে লাগিল ||
শুখান যতেক বৃক্ষ ছিল বৃন্দাবনে |
বংশীনাদ ফুল ফল ধরে তরুগণে ||
যত পক্ষীগণ থাকে এই বৃন্দাবনে |
কৃষ্ণের বংশীর নাদ শুনে এক মনে ||৪||

.          ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আজি শূন্য হইল মোর গোকুল নগরী
কবি গুণরাজ খান বা মালাধর বসু
ভবন বিরহ--গোপীবিলাপ

.                এক

আজি শূন্য হইল মোর গোকুল নগরী |
গোকুলের রঁত্ন কৃষ্ণ যায মধুপুরী ||
আজি শূন্যহইল মোর রসের বৃন্দাবন |
শিশু সঙ্গে কেবা আর রাখিবে গোধন ||
অনাথ হইল আজি সব ব্রজবাসী |
সব সুখ নিল বিধি দিয়া দুখরাশি ||
আর না যাইব সখী চিন্তামণি ঘরে |
আলিঙ্গন না করিব দেব গদাধরে ||
আর না দেখিব সখী সে চান্দবদন |
আব না করিব সখী সে মুখ চুম্বন ||
আর না যাইব সখী কল্পতরু মূলে |
আর কানুসঙ্গে সখী না গাঁথিব ফুলে ||৫||
                  

.                দুই

কৃষ্ণ গেলে মরিব সখী তাহে কিবা কাজ |
কৃষ্ণের সাক্ষাতে মৈলে কৃষ্ণ পাবে লাজ ||
অল্প ধন লোভ লোকে এড়াইতে পারে |
কানু হেন ধন সখী ছাড়ি দিব কারে ||
কা আর ঘুচাব সখী বিরহ আকুলে ||
কেমনে ধরিব প্রাণ কানু না দেখিয়া |
রথে চড়ি যান কৃষ্ণ না আসিবে হেথা |
নানা রূপে গুণেতে সুন্দরী আছে তথা ||
তাহা সনে ক্রীড়া যবে করিব মুরারি |
পাসরিব আমা হেন সব বনচারী ||
যত দূর যায় অক্রূর কানাই লইয়া |
ততদূর চাহে গোপী একদৃষ্টি হইয়া||৬||

.          ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর