কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
শ্রীকৃষ্ণের জন্ম লীলা
কবি জ্ঞানদাস
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, শ্রীকৃষ্ণের বন্দনা, ৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
আমরা মিলনসাগরে এই পদগুলি একত্রে এই পাতা সহ আলাদা আলাদা পদ হিসেবেও সূচীপত্রে যুক্ত করে দিয়েছি।
আমরা মিলনসাগরে এই পদগুলি একত্রে এই পাতা সহ আলাদা আলাদা পদ হিসেবেও সূচীপত্রে যুক্ত করে দিয়েছি।
জ্ঞানদাস রচিত
শ্রীকৃষ্ণের জন্ম লীলা
অথ বাৎসল্য লিখ্যতে
ক
ভাদ্রমাস কৃষ্ণপক্ষ অর্দ্ধেক যামিনী
অষ্টমী মিলিত তাহে নক্ষত্র রোহিণী॥
ঘোরতর অন্ধকার ঘন ঘোর ঘটা।
ক্ষণে ক্ষণে প্রকাশিত বিদ্যুতের ছটা॥
ঘন ঘন গরজন ঘন ঘন বরিষণ।
দেবকী উদরে হইলা কৃষ্ণের জনম॥
হইল আকাশপথে দুন্দুভির ধ্বনি।
শঙ্খবাদ্য করে যত দেবতা-রমণী॥
নৃত্য করে অপ্সরা কিন্নরে গায় গীত।
বসুদেব কৃষ্ণরূপ দেখিয়া মোহিত॥
শঙ্খ চক্র গদা পদ্ম পীতাম্বরধারী।
জ্ঞানদাস করে স্তব পদযুগ বেড়ি॥
(পাঁচথুপির -ঁরামগোপাল আচার্যের পুঁথি, পদ ১৩২৯, থেকে প্রাপ্ত।)
টীকা ---
ভাগবতের ১|৩|১---৯ অবলম্বনে রচিত।
*********************
শ্রীকৃষ্ণের জন্ম লীলা
অথ বাৎসল্য লিখ্যতে
ক
ভাদ্রমাস কৃষ্ণপক্ষ অর্দ্ধেক যামিনী
অষ্টমী মিলিত তাহে নক্ষত্র রোহিণী॥
ঘোরতর অন্ধকার ঘন ঘোর ঘটা।
ক্ষণে ক্ষণে প্রকাশিত বিদ্যুতের ছটা॥
ঘন ঘন গরজন ঘন ঘন বরিষণ।
দেবকী উদরে হইলা কৃষ্ণের জনম॥
হইল আকাশপথে দুন্দুভির ধ্বনি।
শঙ্খবাদ্য করে যত দেবতা-রমণী॥
নৃত্য করে অপ্সরা কিন্নরে গায় গীত।
বসুদেব কৃষ্ণরূপ দেখিয়া মোহিত॥
শঙ্খ চক্র গদা পদ্ম পীতাম্বরধারী।
জ্ঞানদাস করে স্তব পদযুগ বেড়ি॥
(পাঁচথুপির -ঁরামগোপাল আচার্যের পুঁথি, পদ ১৩২৯, থেকে প্রাপ্ত।)
টীকা ---
ভাগবতের ১|৩|১---৯ অবলম্বনে রচিত।
*********************
জ্ঞানদাস রচিত
শ্রীকৃষ্ণের জন্ম লীলা
খ
কারাগারে বসুদেব ভাবে মনে মনে।
কি করি বালক রক্ষা হইবে কেমনে॥
দেবকীর মুখ চাহি কহে বার বার।
দুনয়নে বারিধারা বহে অনিবার॥
পুত্রমুখ চাহি দেবী রহি অনিমিখে।
হায় বিধি হেন পুত্র দিল সে আমাকে॥
এমন সোনার চাঁদ এহেন রতন।
এখনি শুনিলে কংস বধিবে জীবন॥
বসুদেব দেবকী পুত্র লইয়া কোলে।
মুখপানে চাঞা ভাসে নয়নের জলে॥
হেন কালে বসুদেব শুনে দৈববাণী।
ব্রজে যশোদার ঘরে হয়্যাছে নন্দিনী॥
বালক লইয়া যাও নন্দের ভবনে।
পুত্র তুল্য কন্যা এক দেখিবে নয়নে॥
যশোদার পাশে তুয়া বালক রাখিয়ে।
ফিব়্যা অ্যাস মথুরায় সেই কন্যা লয়ে॥
দৈববাণী শুনি বসুদেব আনন্দিত।
জ্ঞান কহে বালক লয়ে চলহ তুরিত॥
(পাঁচথুপির -ঁরামগোপাল আচার্যের পুঁথি, পদ ১৩৩০, থেকে প্রাপ্ত।)
*********************
জ্ঞানদাস রচিত
শ্রীকৃষ্ণের জন্ম লীলা
গ
দেবকীরে বসুদেব কহয়ে বচন।
‘দাও পুত্র’ শুনি দেবী ভাসে দুনয়ন॥
দেবকী বলয়ে আমি আগে প্রাণ ছাড়ি।
যাক প্রাণ তবু পুত্র দিতে আমি নারি॥
মা হইয়া পুত্রধনে দিব বিসর্জ্জন।
এমত তোমার আজ্ঞা অতি নিদারুণ॥
দশমাস দশদিন ধরিয়া জঠরে।
এমত সোনার পুত্র দিব কোথাকারে॥
বসুদেব বলে দেবী না কর রোদন।
এখনি শুনিলে কংস বধিবে জীবন॥
পাষাণেতে বুক বাঁধি কাঁদিতে কাঁদিতে।
‘এই প্রাথ লহ’ বলি দিল বসু হাতে॥
জ্ঞানদাসেতে কহে থির কর হিয়া।
রাখি এস পুত্র তব কোলেতে করিয়া॥
(পাঁচথুপির -ঁরামগোপাল আচার্যের পুঁথি, পদ ১৩৩১, থেকে প্রাপ্ত।)
*********************
জ্ঞানদাস রচিত
শ্রীকৃষ্ণের জন্ম লীলা
ঘ
পুত্র কোলে করি বসু ভাবে মনে মনে।
কারাগার হৈতে বাহির হইব কেমনে॥
দ্বারীগণ নিদ্রাগত দ্বার বিমোচন।
দূরে গেল দুষ্ট দৈত্য-দারুণ-বন্ধন॥
বাহির হইল বসু কোলে করি হরি।
চলিল ব্রজের পথে নারায়ণ স্মরি॥
ঘোর অন্ধকার পথ দেখিতে না পায়।
বিদ্যুতে কিঞ্চিৎ আলো অনুসারে যায়॥
জ্ঞানদাসেতে বলে কি চিন্তা তাহার।
বিরিঞ্চি-বাঞ্ছিত চিন্তামণি কোলে যার॥
(পাঁচথুপির -ঁরামগোপাল আচার্যের পুঁথি, পদ ১৩৩২, থেকে প্রাপ্ত।)
*********************
জ্ঞানদাস রচিত
শ্রীকৃষ্ণের জন্ম লীলা
ঙ
কারাগারে দেবকী কাঁদয়ে উভরায়।
হায় হত-বিধি মোয় এত দুঃখ তায়॥
কারাগারে অনাহারে পায় কত দুঃখ।
সব দুঃখ ভুলেছিনু দেখি পুত্র-মুখ॥
অবলা বলিয়া কি এতেক দুঃখ সয়।
দিয়া নিধি ওরে বিধি হরি নিলা তুই॥
ওরে নিদারুণ বিধি তোর লাগি পাই।
মার প্রাণ কেমন করে তোরে দেখাই॥
আর না কান্দিহ দেবী হও তুমি স্থির।
পুত্র লাগি চক্ষে তুমি না ফেলাহ নীর॥
জ্ঞানদাসেতে কহে থির কর হিয়া।
এখনি আসিবে বসু কন্যাটি লইয়া।
(পাঁচথুপির -ঁরামগোপাল আচার্যের পুঁথি, পদ ১৩৩৩, থেকে প্রাপ্ত।)
*********************
জ্ঞানদাস রচিত
শ্রীকৃষ্ণের জন্ম লীলা
চ
পুত্র কোলে বসু যায় বারিধারা পড়ে তায়
আঁধারেতে নাহি পায় পথ।
কোলেতে করিয়া হরি দু’নয়নে বহে বারি
মনে মনে ভাবিতেছে কত॥
শ্রীঅনস্ত হেন কালে দূতপ্রায় হেন চলে
ধীরে ধীরে করয়ে গমন।
অন্তরে দারুণ ব্যথা কেমনে যাইব তথা
মনে মনে স্মরে নায়ায়ণ॥
যার নাম ম্মরি যায় সেই হরি কোলে যার
তাহাতে তাহার কিবা ভয়।
জ্ঞানদাসেতে কয় সামান্য বালক নয়
নদীতীরে উপনীত হয়॥
(পাঁচথুপির -ঁরামগোপাল আচার্যের পুঁথি, পদ ১৩৩৪, থেকে প্রাপ্ত।)
*********************
জ্ঞানদাস রচিত
শ্রীকৃষ্ণের জন্ম লীলা
ছ
যমুনা গভীর নদী যেন গঙ্গা বিষ্ণুপদী
বিশাল তরঙ্গ ভয়ঙ্কর।
সে ভাদ্রমাসের জল কলকল টলমল
ডুবে উঠে কুম্ভীর মকর॥
বাসুদেব পায়্যা ভয় মনে স্তব্ধ হয়্যা রয়
কেমনে হইব নদী পার।
হইল বিষম কথা কেমনে যাইব তথা
নাহি নৌকা নাহি কর্ণধার॥
হেনকালে মহামায়া ধরিয়া শৃগাল কায়া
নদী জলে করে বিচরণ॥
দেখি শৃগালের গতি বসুদেব হৃষ্টমতি
যমুনাতে নামিল তখন॥
স্নান করিবার ছলে যমুনা নদীর জলে
কোল হৈতে পড়িল কুমার।
করাঘাত হানি শিরে ভাসে নয়নের নীরে
বসুদেব করে হাহাকার॥
খোঁজে জলে দিয়া হাত পাইল সে জগন্নাথ
বসুদেব পুলকে পূরিল।
জ্ঞানদাস কহে হরি আইলা গোলক ছাড়ি
বিরজার বাঞ্ছাপূর্ণ কৈল॥
(পাঁচথুপির -ঁরামগোপাল আচার্যের পুঁথি, পদ ১৩৩৫, থেকে প্রাপ্ত।)
*********************
জ্ঞানদাস রচিত
শ্রীকৃষ্ণের জন্ম লীলা
জ
যমুনা হইয়া পার গেলা নন্দের আগার
নিদ্রাগত যত পুরবাসী।
দুর্গা যশোদার কাছে অমনি পড়িয়া আছে
অকলঙ্ক যেন পূর্ণশশী॥
বসুদেব দেখি কন্যা যশোদারে কহে ধন্যা
এ কন্যা সামান্যা কভু নয়।
অখিল ব্রন্ধাণ্ড কর্ত্রী সনাতনী জগদ্ধাত্রী
মহামায়া হেন জ্ঞান হয়।
ভাবে মনে কি করিব কাহারে লইয়া যাব
দুইরূপ দেখি অপরূপ॥
কন্যাটি লইয়া যাই দেখি কি করে গোঁসাই
কন্যা না মারিবে কংসভূপ।
পুত্ররে রাখিয়া তথা কন্যারে লইয়া যায়
রূপে পথ হৈল আলোময়।
যমুনা হইয়া পার মথুরায় পুনর্ব্বার
উপনীত কংসের আলয়॥
রূপ দেখি মাতার মনে হৈল চমৎকার
কারাগার হৈল হেমময়।
কিবা সে রূপের ঘটা অপূর্ব্ব তাহার ছটা
জ্ঞানদাস ভাবিয়ে বিস্ময়॥
(পাঁচথুপির -ঁরামগোপাল আচার্যের পুঁথি, পদ ১৩৩৬, থেকে প্রাপ্ত।)
*********************
জ্ঞানদাস রচিত
শ্রীকৃষ্ণের জন্ম লীলা
ঝ
দ্বার রুদ্ধ দ্বারিগণ নিদ্রাভঙ্গ ততক্ষণ
গৃহমধ্যে বালিকা রোদন।
পোহাইল বিভাবরী উঠিল যত প্রহরী
কারাগারে তেমনি বন্ধন॥
অস্ত্র হাতে ধ্যায়া যায় কন্যাটি দেখিতে পায়
কারাগারে কাঞ্চন-বালিকা।
গিয়া কংস-নিকেতন দ্বারী করে নিবেদন
দেবকীর হয়েছে বালিকা॥
শুনি মথুরার পতি দেখে গিয়া দ্রুতগতি
কারাগার হয়্যাছে আলোক।
অত্যন্ত পাইয়া ভয় বালিকা মারিব কয়
দেবকীর প্রকাশিল শোক॥
কৃতাঞ্জলি করি কয় ক্ষমা কর মহাশয়
কন্যাতে নাহিক তব ভয়।
অনেক বালক নষ্ট করিয়া দিয়াছ কষ্ট
কন্যা দেহ হইয়া সদয়॥
দুষ্টমতি রাজা কংস দয়ার নাহিক অংশ
বলে লইয়া গেল সুকুমারী।
ধরিয়ে দুই চরণ শিরে করায় ভ্রমণ
আঘাত করিল শিলা'পরি।
অভয়ার কোন ভয় কি ভয় কংসের ভয়
যার নামে যায় ভব ভয়।
ভবের ভবানী ভীমা বেদাগমে নাহি সীমা
হাস্যমুখে কংসরাজে কয়॥
ওরে কংস দুষ্টমতি না জান দৈবের গতি
কি হইবে আমারে ঘুরালে।
ব্রহ্মাণ্ড ঘুরায়ে যেই. তোমারে ঘুরাবে সেই
জানিতে পারিবে সেই কালে॥
এত বলি ভগবতী আকাশে করিলা গতি
অষ্টভুজা হইলা তখনি।
জ্ঞান কহে মহামায়া কে বুঝিতে পারে মায়া
যোগমায়া জগত জননী॥
(পাঁচথুপির -ঁরামগোপাল আচার্যের পুঁথি, পদ ১৩৩৭, থেকে প্রাপ্ত।)
*********************
