কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
কবি জ্ঞানদাস
কবি জ্ঞানদাস
১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের পরিশিষ্টে, ৩১৭-পৃষ্ঠায় দেওয়া “জ্ঞানদাস রচিত যশোদার বাৎসল্য-লীলা” -তে তাঁরা লিখেছেন . . .
“১৩৪৭ সালে (১৯৪০) শ্রীসুকুমার ভট্টাচার্য এম.এ, জ্ঞানদাসের 'যশোদার বাৎসল্য-লীলা' নামে একটি পালাপুঁখি বাঁকুড়া জেলা হইতে আবিষ্কার করিয়া প্রকাশিত করিয়াছেন। এই পালাপুঁথিটি পদাবলী-সাহিত্যের জ্ঞানদাসের রচিত কি না, তাহা আভ্যন্তরীণ প্রমাণের সাহায্যে নিশ্চিত করিয়া বলা যায় না। বৈষ্ণবজগতে দ্বিতীয় কোন জ্ঞানদাসের কথা শোনা যায় নাই --- জ্ঞানদাসও পদাবলী ছাড়া ঠিক আখ্যানকাব্য রচনা করিয়াছিলেন কি না তাহাও অজ্ঞাত। অবশ্য তাঁহার পদাবলীর মধ্যেই কিছু কিছু আখ্যানমূলক রচনা আছে, কিন্তু গীতিকবিরূপেই তাঁহার প্রধান পরিচয়। অন্য কোন অখ্যাতনামা কৰি নিজের পদ যে জ্ঞানদাসের নামে চালাইতে চেষ্টা করিবেন তাহা একেবারে অচিন্তনীয় নয় --- বৈষ্ণবকাব্যে এইরূপ রীতির প্রমাণও আছে। তবে বৈষ্ণবকবির ভক্তিরস এত সর্বতোমুখী ও এত বিচিত্র উপায়ে ইহা কাব্যে আত্মপ্রকাশ করে যে, জ্ঞানদাস যে রাধাকৃষ্ণলীলা লইয়া দীন চণ্ডীদাসের মতো একটা ধারাবাহিক আখ্যায়িকা লিখিতে পারেন তাহাও অসম্ভব নয়। সেইজন্য এই পালার অন্তর্ভূক্ত পদগুলিকে জ্ঞানদাসের পদাবলীর পরিশিষ্টে সন্নিবেশ করা হইল। ভবিষ্যতে যদি ইহাদের প্রামাণিকতার আর কোনও প্রমাণ পাওয়া যায় তবে ইহারা পরিশিষ্ট হইতে কবির মূল রচনার স্থানাস্তরিত হইতে পারে।”
আমরা মিলনসাগরে এই পদগুলি একত্রে এই পাতা সহ আলাদা আলাদা পদ হিসেবেও সূচীপত্রে যুক্ত করে দিয়েছি।
“১৩৪৭ সালে (১৯৪০) শ্রীসুকুমার ভট্টাচার্য এম.এ, জ্ঞানদাসের 'যশোদার বাৎসল্য-লীলা' নামে একটি পালাপুঁখি বাঁকুড়া জেলা হইতে আবিষ্কার করিয়া প্রকাশিত করিয়াছেন। এই পালাপুঁথিটি পদাবলী-সাহিত্যের জ্ঞানদাসের রচিত কি না, তাহা আভ্যন্তরীণ প্রমাণের সাহায্যে নিশ্চিত করিয়া বলা যায় না। বৈষ্ণবজগতে দ্বিতীয় কোন জ্ঞানদাসের কথা শোনা যায় নাই --- জ্ঞানদাসও পদাবলী ছাড়া ঠিক আখ্যানকাব্য রচনা করিয়াছিলেন কি না তাহাও অজ্ঞাত। অবশ্য তাঁহার পদাবলীর মধ্যেই কিছু কিছু আখ্যানমূলক রচনা আছে, কিন্তু গীতিকবিরূপেই তাঁহার প্রধান পরিচয়। অন্য কোন অখ্যাতনামা কৰি নিজের পদ যে জ্ঞানদাসের নামে চালাইতে চেষ্টা করিবেন তাহা একেবারে অচিন্তনীয় নয় --- বৈষ্ণবকাব্যে এইরূপ রীতির প্রমাণও আছে। তবে বৈষ্ণবকবির ভক্তিরস এত সর্বতোমুখী ও এত বিচিত্র উপায়ে ইহা কাব্যে আত্মপ্রকাশ করে যে, জ্ঞানদাস যে রাধাকৃষ্ণলীলা লইয়া দীন চণ্ডীদাসের মতো একটা ধারাবাহিক আখ্যায়িকা লিখিতে পারেন তাহাও অসম্ভব নয়। সেইজন্য এই পালার অন্তর্ভূক্ত পদগুলিকে জ্ঞানদাসের পদাবলীর পরিশিষ্টে সন্নিবেশ করা হইল। ভবিষ্যতে যদি ইহাদের প্রামাণিকতার আর কোনও প্রমাণ পাওয়া যায় তবে ইহারা পরিশিষ্ট হইতে কবির মূল রচনার স্থানাস্তরিত হইতে পারে।”
আমরা মিলনসাগরে এই পদগুলি একত্রে এই পাতা সহ আলাদা আলাদা পদ হিসেবেও সূচীপত্রে যুক্ত করে দিয়েছি।
জ্ঞানদাস রচিত
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
অথ বাৎসল্য লিখ্যতে
১
একদিন বিহানে উঠিঞা১ নন্দরাণী।
যাদুরে লইয়া কোলে মথিছে নবনী॥
হেনকালে ধরে কৃষ্ণ মন্থনের ডারি।
নুনী দে মা বল্যা কর পাতএ মুরারি॥
জঞ্জাল না কর গোপাল খেল গিঞা নাছে২।
হাণ্ডির ভিতরে এক কানা লাগা আছে॥
অসাধনে পান্যু তোমা মরি বালাই লঞা।
হাসিতে মিলায় শশী৩ চাঁদ মুখ দিঞা॥
যশোদার বোলে৪ কৃষ্ণ উকি দিঞা চায়।
নিরখিঞা নিজ ছায়া হাসে যদুরায়॥
শুন্যাছি সকল কথা শ্রীদাম-বদনে।
তুমি কিনা নাচ৫ ভাল গিরি৬ গোবর্দ্ধনে॥
নাচ্যা নাচ্যা৭ কোলে আয় মনের হরিষে।
তোর নৃত্য দেখিতে কি দেবাদেবী আস্যে॥
নবনী-লম্পট কৃষ্ণ মোর প্রাণধন।
বৃদ্ধকালে পাল্যে নন্দ জ্ঞানদাসে কন॥
পুথিতে যে রূপে প্রাপ্ত ---
১ – উঁঠিঞা। ২ – লাছে। ৩ – সষী। ৪ – বেলে। ৫ – লাচ। ৬ – গিঋ। ৭ – লাচ্যা লাচ্যা।
*********************
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
অথ বাৎসল্য লিখ্যতে
১
একদিন বিহানে উঠিঞা১ নন্দরাণী।
যাদুরে লইয়া কোলে মথিছে নবনী॥
হেনকালে ধরে কৃষ্ণ মন্থনের ডারি।
নুনী দে মা বল্যা কর পাতএ মুরারি॥
জঞ্জাল না কর গোপাল খেল গিঞা নাছে২।
হাণ্ডির ভিতরে এক কানা লাগা আছে॥
অসাধনে পান্যু তোমা মরি বালাই লঞা।
হাসিতে মিলায় শশী৩ চাঁদ মুখ দিঞা॥
যশোদার বোলে৪ কৃষ্ণ উকি দিঞা চায়।
নিরখিঞা নিজ ছায়া হাসে যদুরায়॥
শুন্যাছি সকল কথা শ্রীদাম-বদনে।
তুমি কিনা নাচ৫ ভাল গিরি৬ গোবর্দ্ধনে॥
নাচ্যা নাচ্যা৭ কোলে আয় মনের হরিষে।
তোর নৃত্য দেখিতে কি দেবাদেবী আস্যে॥
নবনী-লম্পট কৃষ্ণ মোর প্রাণধন।
বৃদ্ধকালে পাল্যে নন্দ জ্ঞানদাসে কন॥
পুথিতে যে রূপে প্রাপ্ত ---
১ – উঁঠিঞা। ২ – লাছে। ৩ – সষী। ৪ – বেলে। ৫ – লাচ। ৬ – গিঋ। ৭ – লাচ্যা লাচ্যা।
*********************
জ্ঞানদাস রচিত
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
২
রাণী বলে আরে মোর ইন্দ্রনীলমণি১।
বহু ভাগ্যে তোমা পুত্রে বিধি দিল আনি॥
না যায়্য গোপীর পাড়া চঞ্চল কানাই।
বড় হইলে দিব তোরে চরাইতে গাই॥
যত সব গোয়ালিনী২ আছে ব্রজপুরে।
পাইলে রতন পাছে গলে হার করে॥
গোকুলেৰ মাঝে এক হৈল্য মহাভয়।
আস্যাছে দারুণ হাঁউ লোকে জনে কয়॥
কৃষ্ণ কহে একখা শুনিলে কার ঠাঞি।
হাঁউ কেমন মা যশোদা আমি দেখি নাঞি॥
অবোধ ছাওয়াল মোর কি পুছিস মোকে।
বলবান হাঁউ এক ঝাউবনে খাকে॥
কানু বলে ধেনু রাখি যমুনারি কূলে।
বধিনু অনেক দৈত্য নিজ বাহুবলে॥
পুতনা প্রলম্ব আদি বক বৎসাসুর৩।
নিজ হস্তে কেশীকে পাঠাল্যাঙ যমপুর॥
অবশেষে বধি আসি কংস নরপতি।
রাখিনু ধরণী ভার শুন যশোমতী॥
রাণী বলে তা নয় রে জান নাঞি পারা।
আচম্বিতে নগরে আইল ছাল্যাধরা॥
চাঁদমুখে মা বল রে নন্দদূলালিঞা।
শুনুক গোকুলের লোক বাহির হইঞা॥
ইহা বলি কোলে তুলি চুম্ব দেই মুখে।
মায়ায় মোহিত রাণী কৃষ্ণ নিল বুকে॥
জ্ঞানদাসেতে বলে আনন্দিত মনে।
সুখের অবধি নাঞ্রি নন্দের ভবনে॥
পুথিতে যে রূপে প্রাপ্ত ---
১ – ইন্দনিলমনী। ২ - গোওাঁলিনী। ৩ - ঘবচর্ছাসুর।
*********************
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
২
রাণী বলে আরে মোর ইন্দ্রনীলমণি১।
বহু ভাগ্যে তোমা পুত্রে বিধি দিল আনি॥
না যায়্য গোপীর পাড়া চঞ্চল কানাই।
বড় হইলে দিব তোরে চরাইতে গাই॥
যত সব গোয়ালিনী২ আছে ব্রজপুরে।
পাইলে রতন পাছে গলে হার করে॥
গোকুলেৰ মাঝে এক হৈল্য মহাভয়।
আস্যাছে দারুণ হাঁউ লোকে জনে কয়॥
কৃষ্ণ কহে একখা শুনিলে কার ঠাঞি।
হাঁউ কেমন মা যশোদা আমি দেখি নাঞি॥
অবোধ ছাওয়াল মোর কি পুছিস মোকে।
বলবান হাঁউ এক ঝাউবনে খাকে॥
কানু বলে ধেনু রাখি যমুনারি কূলে।
বধিনু অনেক দৈত্য নিজ বাহুবলে॥
পুতনা প্রলম্ব আদি বক বৎসাসুর৩।
নিজ হস্তে কেশীকে পাঠাল্যাঙ যমপুর॥
অবশেষে বধি আসি কংস নরপতি।
রাখিনু ধরণী ভার শুন যশোমতী॥
রাণী বলে তা নয় রে জান নাঞি পারা।
আচম্বিতে নগরে আইল ছাল্যাধরা॥
চাঁদমুখে মা বল রে নন্দদূলালিঞা।
শুনুক গোকুলের লোক বাহির হইঞা॥
ইহা বলি কোলে তুলি চুম্ব দেই মুখে।
মায়ায় মোহিত রাণী কৃষ্ণ নিল বুকে॥
জ্ঞানদাসেতে বলে আনন্দিত মনে।
সুখের অবধি নাঞ্রি নন্দের ভবনে॥
পুথিতে যে রূপে প্রাপ্ত ---
১ – ইন্দনিলমনী। ২ - গোওাঁলিনী। ৩ - ঘবচর্ছাসুর।
*********************
শ্লোক
গতং জন্ম গতং জন্ম গতং জন্ম নিরর্থক
কৃষ্ণচন্দ্রপদদ্বন্দ্বভজনং ভাবনা১ বিনা॥ ১॥
পুথিতে যে রূপে প্রাপ্ত ---
১ – আবনা।
*********************
গতং জন্ম গতং জন্ম গতং জন্ম নিরর্থক
কৃষ্ণচন্দ্রপদদ্বন্দ্বভজনং ভাবনা১ বিনা॥ ১॥
পুথিতে যে রূপে প্রাপ্ত ---
১ – আবনা।
*********************
জ্ঞানদাস রচিত
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
৩
শ্রীকৃষ্ণভজনে এই সবে অধিকারী।
কিবা১ বিপ্র কিম্বা শুদ্র কিন্বা পুরুষনারী॥
যার গৃহে বহু ভাগ্যে গুরু আগমন।
ধরে বস্যা পায় সে গোলক বৃন্দাবন॥
গ্রামমধ্যে শুঁড়ি২ মদ বিক্রয় করে।
যারে পায় তারে দেয় ভু@য় সংসারে।
ব্যাস হৈল্য মদের হাঁড়ি শুক৩ শুঁড়ি আর।
হরিরসমদিবাতে মাতাল সংসার॥
তোমবা যত ভাই সব ব্রজবাসীর জন।
এস্থান হঞ্যাছে যেন শ্রীবৃন্দাবন॥
হরিকখাশ্রবণে অনন্ত পায় ফল।
মনের যাতনা যত মিটএ সকল॥
রাগানুগা প্রেমভক্তি যখনে হইবে।
ব্রজে রাধাকৃষ্ণ ধন অনায়াসে পাবে॥
গুরুপাদপদ্ম কর একান্তে ভজন।
অন্তরে দেখিতে পাবে শ্রীবৃন্দাবন॥
আসিয়া সংসারে জীব কি কাজ করিলে।
মায়াজালে পড়্যা কেন কৃষ্ণে পাসরিলে॥
শ্রবণ-আনন্দ হবে করিলে শ্রবণ।
পাইবে পরম সুখ জ্ঞানদাসে কন॥
পুথিতে যে রূপে প্রাপ্ত ---
১ - কিব্যা। ২ - সুড়ি। ৩ - সুক।
*********************
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
৩
শ্রীকৃষ্ণভজনে এই সবে অধিকারী।
কিবা১ বিপ্র কিম্বা শুদ্র কিন্বা পুরুষনারী॥
যার গৃহে বহু ভাগ্যে গুরু আগমন।
ধরে বস্যা পায় সে গোলক বৃন্দাবন॥
গ্রামমধ্যে শুঁড়ি২ মদ বিক্রয় করে।
যারে পায় তারে দেয় ভু@য় সংসারে।
ব্যাস হৈল্য মদের হাঁড়ি শুক৩ শুঁড়ি আর।
হরিরসমদিবাতে মাতাল সংসার॥
তোমবা যত ভাই সব ব্রজবাসীর জন।
এস্থান হঞ্যাছে যেন শ্রীবৃন্দাবন॥
হরিকখাশ্রবণে অনন্ত পায় ফল।
মনের যাতনা যত মিটএ সকল॥
রাগানুগা প্রেমভক্তি যখনে হইবে।
ব্রজে রাধাকৃষ্ণ ধন অনায়াসে পাবে॥
গুরুপাদপদ্ম কর একান্তে ভজন।
অন্তরে দেখিতে পাবে শ্রীবৃন্দাবন॥
আসিয়া সংসারে জীব কি কাজ করিলে।
মায়াজালে পড়্যা কেন কৃষ্ণে পাসরিলে॥
শ্রবণ-আনন্দ হবে করিলে শ্রবণ।
পাইবে পরম সুখ জ্ঞানদাসে কন॥
পুথিতে যে রূপে প্রাপ্ত ---
১ - কিব্যা। ২ - সুড়ি। ৩ - সুক।
*********************
জ্ঞানদাস রচিত
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
৪
গোপালের মুখ হেরি বলে নন্দরাণী।
না নাচিলে মোর ঠাঞ্রি না পাবে নবনী॥
কৃষ্ণ কহে ক্ষুধায়১ নাচিতে নাঞি পারি।
আগে নুনী দে মা মোকে বলয়ে মুরারি॥
নইলে নগরে যাই ব্রজবাসী ঠাঞি।
না বলিলে নুনীর অভাব মোর নাঞি॥
হে যশোমতী মাই শ্যামনগরকো যাই।
এক এক ব্রজমাকো মা কহি উদর২ পুরাই॥
নবনীর ছারে কিরে আছে গিরিধারী।
প্রাণ যদি চায় গোপাল প্রাণ দিতে পারি।
এ বোল শুনিঞা রাণী মূর্চ্ছিত হইল।
যত নূনী গৃহে ছিল কৃষ্ণে আন্যে দিল॥
নবনী অভাব যাদু নাঞি মোর ঘরে।
ধর রে লালন বল্যা দিল তার করে॥
উদর না পুরে কৃষ্ণের খায়্যা ক্ষীর সব।
মনে মনে হাসিতে লাগিলা দামোদর॥
সারি সারি ভাণ্ডে যত নুনী রাখ্যাছিল।
শতেক হাণ্ডির সব সব শূন্য৩ কৈল॥
খাওয়াতে৪ নারিলে নূনী কহে যদুরায়।
সব হেতু যশোদা গোপীর পাড়া যায়॥
চন্দ্রাবলী-গৃহে আগে করিলা গমন।
তথাহ না পায় ননী জ্ঞানদাসে কন॥
পুথিতে যে রূপে প্রাপ্ত ---
১ – খুধায়। ২ – উদঁর। ৩ – সুর্ণ্যা। ৪ – খাওাঁতে।
*********************
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
৪
গোপালের মুখ হেরি বলে নন্দরাণী।
না নাচিলে মোর ঠাঞ্রি না পাবে নবনী॥
কৃষ্ণ কহে ক্ষুধায়১ নাচিতে নাঞি পারি।
আগে নুনী দে মা মোকে বলয়ে মুরারি॥
নইলে নগরে যাই ব্রজবাসী ঠাঞি।
না বলিলে নুনীর অভাব মোর নাঞি॥
হে যশোমতী মাই শ্যামনগরকো যাই।
এক এক ব্রজমাকো মা কহি উদর২ পুরাই॥
নবনীর ছারে কিরে আছে গিরিধারী।
প্রাণ যদি চায় গোপাল প্রাণ দিতে পারি।
এ বোল শুনিঞা রাণী মূর্চ্ছিত হইল।
যত নূনী গৃহে ছিল কৃষ্ণে আন্যে দিল॥
নবনী অভাব যাদু নাঞি মোর ঘরে।
ধর রে লালন বল্যা দিল তার করে॥
উদর না পুরে কৃষ্ণের খায়্যা ক্ষীর সব।
মনে মনে হাসিতে লাগিলা দামোদর॥
সারি সারি ভাণ্ডে যত নুনী রাখ্যাছিল।
শতেক হাণ্ডির সব সব শূন্য৩ কৈল॥
খাওয়াতে৪ নারিলে নূনী কহে যদুরায়।
সব হেতু যশোদা গোপীর পাড়া যায়॥
চন্দ্রাবলী-গৃহে আগে করিলা গমন।
তথাহ না পায় ননী জ্ঞানদাসে কন॥
পুথিতে যে রূপে প্রাপ্ত ---
১ – খুধায়। ২ – উদঁর। ৩ – সুর্ণ্যা। ৪ – খাওাঁতে।
*********************
জ্ঞানদাস রচিত
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
৫
নব লক্ষ গোয়ালিনী আছে ব্রজপুরে।
নবনী চাহিয়্যা রাণী বুলে ঘরে ঘরে॥
ললিতা বিশাখা যে রাধার অষ্ট সখী।
জনে জনে নুনী মাগে মনে হয়া দুঃখী॥
যে গোপীর গৃহে যান বলে নাঞি সর।
রাজা কংসে প্রাতে আজি দিয়া আনু কর॥
নবনী না পাঞা রাণী শুখাইল হিয়া১।
কি বল্যা বলিব কৃষ্ণে মোর মাথা খাঞা॥
ব্রজবধূগণ কেহ নবনী না দিল।
রাধার মন্দিরে গিয়া উপনীত হৈল্য॥
কি কর গো রসবতী ডাকে নন্দরাণী।
আজিকার মত কিছু ধার দিবে নুনী॥
বিহানে আমার কৃষ্ণ ক্ষুধায় লোটায়।
বাসি নুনী বল্যা যাদু নবনী না খায়॥
নিজ করের সাজ২ নুনী দেহ গোপালেরে।
জনমের মত তুমি কিনহ আমারে॥
গুরুজন মাঝে রাই গৃহকর্মে ছিল।
যশোদার সাড়া পায়্যা বাহির হইল॥
মন্দির মার্জনা করি শ্রীমতী দাণ্ডায়।
কৃষ্ণের মা যশোদাকে দেখিবারে পায়॥
আস্য আস্য বস্য বস্য নন্দের গৃহিণী।
দুদিনের সর আছে মথ্যা দিব নুনী।
এত বলি দিল আনি কনক-আসন।
হর্ষচিত্ত৩ কিশোরীর জ্ঞানদাসে কন॥
পুথিতে যে রূপে প্রাপ্ত ---
১ - সুখাইল হৃয়্যা। ২ - সাজ --- সাঁজা --- দম্বল অর্থাৎ নিজের হাতে সাঁজা বা দম্বল দিয়া বসানো সরের নবনী দাও। বীরভূমে দম্বলকে সাঁজা বলে।
৩ – হর্ষচির্ত্ত।
*********************
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
৫
নব লক্ষ গোয়ালিনী আছে ব্রজপুরে।
নবনী চাহিয়্যা রাণী বুলে ঘরে ঘরে॥
ললিতা বিশাখা যে রাধার অষ্ট সখী।
জনে জনে নুনী মাগে মনে হয়া দুঃখী॥
যে গোপীর গৃহে যান বলে নাঞি সর।
রাজা কংসে প্রাতে আজি দিয়া আনু কর॥
নবনী না পাঞা রাণী শুখাইল হিয়া১।
কি বল্যা বলিব কৃষ্ণে মোর মাথা খাঞা॥
ব্রজবধূগণ কেহ নবনী না দিল।
রাধার মন্দিরে গিয়া উপনীত হৈল্য॥
কি কর গো রসবতী ডাকে নন্দরাণী।
আজিকার মত কিছু ধার দিবে নুনী॥
বিহানে আমার কৃষ্ণ ক্ষুধায় লোটায়।
বাসি নুনী বল্যা যাদু নবনী না খায়॥
নিজ করের সাজ২ নুনী দেহ গোপালেরে।
জনমের মত তুমি কিনহ আমারে॥
গুরুজন মাঝে রাই গৃহকর্মে ছিল।
যশোদার সাড়া পায়্যা বাহির হইল॥
মন্দির মার্জনা করি শ্রীমতী দাণ্ডায়।
কৃষ্ণের মা যশোদাকে দেখিবারে পায়॥
আস্য আস্য বস্য বস্য নন্দের গৃহিণী।
দুদিনের সর আছে মথ্যা দিব নুনী।
এত বলি দিল আনি কনক-আসন।
হর্ষচিত্ত৩ কিশোরীর জ্ঞানদাসে কন॥
পুথিতে যে রূপে প্রাপ্ত ---
১ - সুখাইল হৃয়্যা। ২ - সাজ --- সাঁজা --- দম্বল অর্থাৎ নিজের হাতে সাঁজা বা দম্বল দিয়া বসানো সরের নবনী দাও। বীরভূমে দম্বলকে সাঁজা বলে।
৩ – হর্ষচির্ত্ত।
*********************
জ্ঞানদাস রচিত
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
৬
গৃহকর্ম সমর্পিয়া নিজ সখিগণে।
মথনের ভাণ্ড রাই বারি কব়্যা আনে॥
যতবার টানে ধনী মন্থনের ডুরি।
কঙ্কণের শবদে সঘনে বলে হরি॥
রাধা কানু এক তনু জানএ সংসারে।
শ্যামরূপ দেখে রাই ঘোলের ভিতরে॥
আকাশে চাহিতে বেলা উছর১ দেখিল।
মথিলে না উঠে নুনী ঘোলে মিল্যা গেল॥
কাতর হইয়া রাই রাণী পানে চায়।
আজিকার নুনী দিতে নারিনু তোমায়।
তোমার কৃষ্ণের মায়া বুঝিতে না পারি।
প্রতিবিম্বে ঘোলময় দেখা দিলা হরি॥
গোকুল ভ্রমিঞা রাণী আকুল হইল।
রাধার মন্দিরে ছাড়ি গৃহেতে চলিল॥
না পাইয়া ক্ষীর সর কিশোরীর ঘরে।
পথমধ্যে যান একা ভাবিত অন্তরে॥
এথা আঙ্গিনায় কৃষ্ণ আছেন বসিঞা।
মনে মনে যুক্তি করে নন্দদুলালিয়া॥
ননী লঞা মা যশোদা এখন না আল্য।
দণ্ডকের মত মোরে লুকাইতে হল্য॥
এত বলি অধিক চঞ্চল যদুরায়।
নন্দালয় ছাড়িয়া ব্রজের পথে ধায়॥
চূড়া বাঁশী পেলিয়া কালিন্দী হৈল্য পার।
দাণ্ডাইয়া রহে একা যমুনার ধার॥
শ্রীদাম সুদাম কেহ সঙ্গে নাঞি সখা।
লুকাল্য তরুর ছায় বামে হয়্যা বাঁকা॥
যশোদা মাএর কৃষ্ণ বুঝিবারে মন।
মায়া করি বহে কানু জ্ঞানদাসে কন॥
পুথিতে যে রূপে প্রাপ্ত ---
১ - উজুর।
*********************
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
৬
গৃহকর্ম সমর্পিয়া নিজ সখিগণে।
মথনের ভাণ্ড রাই বারি কব়্যা আনে॥
যতবার টানে ধনী মন্থনের ডুরি।
কঙ্কণের শবদে সঘনে বলে হরি॥
রাধা কানু এক তনু জানএ সংসারে।
শ্যামরূপ দেখে রাই ঘোলের ভিতরে॥
আকাশে চাহিতে বেলা উছর১ দেখিল।
মথিলে না উঠে নুনী ঘোলে মিল্যা গেল॥
কাতর হইয়া রাই রাণী পানে চায়।
আজিকার নুনী দিতে নারিনু তোমায়।
তোমার কৃষ্ণের মায়া বুঝিতে না পারি।
প্রতিবিম্বে ঘোলময় দেখা দিলা হরি॥
গোকুল ভ্রমিঞা রাণী আকুল হইল।
রাধার মন্দিরে ছাড়ি গৃহেতে চলিল॥
না পাইয়া ক্ষীর সর কিশোরীর ঘরে।
পথমধ্যে যান একা ভাবিত অন্তরে॥
এথা আঙ্গিনায় কৃষ্ণ আছেন বসিঞা।
মনে মনে যুক্তি করে নন্দদুলালিয়া॥
ননী লঞা মা যশোদা এখন না আল্য।
দণ্ডকের মত মোরে লুকাইতে হল্য॥
এত বলি অধিক চঞ্চল যদুরায়।
নন্দালয় ছাড়িয়া ব্রজের পথে ধায়॥
চূড়া বাঁশী পেলিয়া কালিন্দী হৈল্য পার।
দাণ্ডাইয়া রহে একা যমুনার ধার॥
শ্রীদাম সুদাম কেহ সঙ্গে নাঞি সখা।
লুকাল্য তরুর ছায় বামে হয়্যা বাঁকা॥
যশোদা মাএর কৃষ্ণ বুঝিবারে মন।
মায়া করি বহে কানু জ্ঞানদাসে কন॥
পুথিতে যে রূপে প্রাপ্ত ---
১ - উজুর।
*********************
জ্ঞানদাস রচিত
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
৭
এথা বাণী যশোমতী গৃহেতে আইল।
কৃষ্ণে না আঙ্গিনাতে দেখি মূর্চ্ছিত হইল॥
উন্মত্ত পাগলি যেন কেশ নাঞি বান্ধে।
কোথা নীলমণি বলি ভূম্যে পড়ি কান্দে॥
কর পুব়্যা নুনী দিতে না পারিনু তোরে।
এই অভিমানে তুমি মা বলিলে কারে॥
সাত পাঁচ তোমা বিনু মোর কেহ নাঞি।
সবে দু-আঁখ্যের তারা পরাণ-কানাঞ্রি॥
মুরলী মোহনচূড়া গলায় বান্ধিয়া।
হা কৃষ্ণ বলিয়া কান্দে ধুলায় লোটায়্যা॥
শিরে করাঘাত হানি করে হায় হায়।
দেখা দে গোকুলচাঁদ প্রাণ মোর যায়॥
কি ছার নূনীর লাগ্যা ছাড়িলে জননী।
জনম সফল করি মা বলিলে তুমি॥
বিহানে তোমার ক্ষুধা জানি আমি মনে।
ভোকছানি পাল্যে নুনী না দিব বদনে॥
শ্রীদাম সুদাম যদি ডাকে গোঠে যাত্যে।
কেমনে কহিব কথা আল্যে আঙ্গিনাতে॥
যদি বলে কানু কোথা সাজাহ তাহারে।
কি বল্যা বলিব গেছে ব্রজবাসী-ঘরে॥
নন্দ গেলা বাথানে তোমারে সমপিয়া।
ঘরে আল্যে কি কহিব মোর মাথা খায়্যা॥
এতেক ভাবিয়া রাণী করিছে রোদন।
যশোদাবিষাদ কিছু জ্ঞানদাসে কন॥
*********************
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
৭
এথা বাণী যশোমতী গৃহেতে আইল।
কৃষ্ণে না আঙ্গিনাতে দেখি মূর্চ্ছিত হইল॥
উন্মত্ত পাগলি যেন কেশ নাঞি বান্ধে।
কোথা নীলমণি বলি ভূম্যে পড়ি কান্দে॥
কর পুব়্যা নুনী দিতে না পারিনু তোরে।
এই অভিমানে তুমি মা বলিলে কারে॥
সাত পাঁচ তোমা বিনু মোর কেহ নাঞি।
সবে দু-আঁখ্যের তারা পরাণ-কানাঞ্রি॥
মুরলী মোহনচূড়া গলায় বান্ধিয়া।
হা কৃষ্ণ বলিয়া কান্দে ধুলায় লোটায়্যা॥
শিরে করাঘাত হানি করে হায় হায়।
দেখা দে গোকুলচাঁদ প্রাণ মোর যায়॥
কি ছার নূনীর লাগ্যা ছাড়িলে জননী।
জনম সফল করি মা বলিলে তুমি॥
বিহানে তোমার ক্ষুধা জানি আমি মনে।
ভোকছানি পাল্যে নুনী না দিব বদনে॥
শ্রীদাম সুদাম যদি ডাকে গোঠে যাত্যে।
কেমনে কহিব কথা আল্যে আঙ্গিনাতে॥
যদি বলে কানু কোথা সাজাহ তাহারে।
কি বল্যা বলিব গেছে ব্রজবাসী-ঘরে॥
নন্দ গেলা বাথানে তোমারে সমপিয়া।
ঘরে আল্যে কি কহিব মোর মাথা খায়্যা॥
এতেক ভাবিয়া রাণী করিছে রোদন।
যশোদাবিষাদ কিছু জ্ঞানদাসে কন॥
*********************
জ্ঞানদাস রচিত
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
৮
রোহিণীর১ কাছে বলাই নুনী খাত্যেছিল।
ক্রন্দনের ধ্বনি২ শুনি আঙ্গিনায় আল্য॥
দেখিল যশোদা পড়্যা ধূলার উপর।
হেন দশা কেন গো মা পুছে হলধর॥
দু-করের নুনী পেল্যা আনু ধায়াধাই।
কি কারণে কান্দ তুমি কোখা কানু ভাই॥
রাণী বলে কে রে বাপু রাম আলি কাছে।
বিহানে না পায়্যা নুনী কৃষ্ণ ছাড়্যা গেছে॥
হাতে ধরি তোলে বলাই উঠ গো জননী।
এখনি তোমার কৃষ্ণে আনি দিব আমি॥
যদ্যপি তোমার গোপাল আনিতে না পারি।
হলধর নাম তবে অকারণে ধরি॥
গোকুলের মাঝে দর্প কি হেতু আমার।
বলাই বলিয়্যা কেহ না বলিবে আর॥
সাক্ষাতে দেখিবে মোর এই বাহুবল।
স্বর্গ মর্ত পাতাল করাব টলাটল॥
মোর নাম বলরাম রোহিণীনন্দন।
পদভরে কাঁপে মহী ই তিন ভুবন॥
আপনার শক্তি রাম আপুনি বাখানে।
জ্ঞানদাসেতে কন আনন্দিত মনে॥
পুথিতে যে রূপে প্রাপ্ত ---
১ – রূহিনীর। ২ – র্দ্ধনি।
*********************
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
৮
রোহিণীর১ কাছে বলাই নুনী খাত্যেছিল।
ক্রন্দনের ধ্বনি২ শুনি আঙ্গিনায় আল্য॥
দেখিল যশোদা পড়্যা ধূলার উপর।
হেন দশা কেন গো মা পুছে হলধর॥
দু-করের নুনী পেল্যা আনু ধায়াধাই।
কি কারণে কান্দ তুমি কোখা কানু ভাই॥
রাণী বলে কে রে বাপু রাম আলি কাছে।
বিহানে না পায়্যা নুনী কৃষ্ণ ছাড়্যা গেছে॥
হাতে ধরি তোলে বলাই উঠ গো জননী।
এখনি তোমার কৃষ্ণে আনি দিব আমি॥
যদ্যপি তোমার গোপাল আনিতে না পারি।
হলধর নাম তবে অকারণে ধরি॥
গোকুলের মাঝে দর্প কি হেতু আমার।
বলাই বলিয়্যা কেহ না বলিবে আর॥
সাক্ষাতে দেখিবে মোর এই বাহুবল।
স্বর্গ মর্ত পাতাল করাব টলাটল॥
মোর নাম বলরাম রোহিণীনন্দন।
পদভরে কাঁপে মহী ই তিন ভুবন॥
আপনার শক্তি রাম আপুনি বাখানে।
জ্ঞানদাসেতে কন আনন্দিত মনে॥
পুথিতে যে রূপে প্রাপ্ত ---
১ – রূহিনীর। ২ – র্দ্ধনি।
*********************
জ্ঞানদাস রচিত
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
৯
এত বলি দম্ফ করি এক ডাক দিল।
অবনীমণ্ডল সবে কাঁপিতে লাগিল॥
নাগলোক চমৎকার বাসুকি অস্থির।
পীড়া১ পায়্যা ধুব়্যা বুলে অনন্তের শির॥
হাজার হুস্তীর তেজ একা রাম ধরে।
রসাতল যায় ক্ষিতি বলাএর ডরে॥
সপ্তদ্বীপা পৃথিবী২ কূর্মের পৃষ্ঠে ছিল।
সসিন্ধুগগনগিরি কাঁপিতে লাগিল॥
অনন্তের ফণা টলে বলে মরি মরি।
ধরণীর ভার আর না সহিতে পারি॥
আকাশে থাকিয়া চিন্তা করে দেবগণ।
কোনমতে রক্ষা পায় অমরভুবন॥
ইন্দ্র বলে আর কি করিব প্রজাপতি।
প্রমাদ হইল রসাতল যায় ক্ষিতি॥
ব্রহ্মা বলে ভয় নাঞি সহস্রলোচন।
জ্ঞানদাসেতে কন আনন্দিত-মন॥
পুথিতে যে রূপে প্রাপ্ত ---
১ – পীড়্যা। ২ – প্রথিবি।
*********************
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
৯
এত বলি দম্ফ করি এক ডাক দিল।
অবনীমণ্ডল সবে কাঁপিতে লাগিল॥
নাগলোক চমৎকার বাসুকি অস্থির।
পীড়া১ পায়্যা ধুব়্যা বুলে অনন্তের শির॥
হাজার হুস্তীর তেজ একা রাম ধরে।
রসাতল যায় ক্ষিতি বলাএর ডরে॥
সপ্তদ্বীপা পৃথিবী২ কূর্মের পৃষ্ঠে ছিল।
সসিন্ধুগগনগিরি কাঁপিতে লাগিল॥
অনন্তের ফণা টলে বলে মরি মরি।
ধরণীর ভার আর না সহিতে পারি॥
আকাশে থাকিয়া চিন্তা করে দেবগণ।
কোনমতে রক্ষা পায় অমরভুবন॥
ইন্দ্র বলে আর কি করিব প্রজাপতি।
প্রমাদ হইল রসাতল যায় ক্ষিতি॥
ব্রহ্মা বলে ভয় নাঞি সহস্রলোচন।
জ্ঞানদাসেতে কন আনন্দিত-মন॥
পুথিতে যে রূপে প্রাপ্ত ---
১ – পীড়্যা। ২ – প্রথিবি।
*********************
জ্ঞানদাস রচিত
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
১০
এক হাকে কৃষ্ণে বলাই আনিতে নারিল।
আরবার রোহিণীনন্দন ডাক দিল॥
আয় রে কানাঞিলাল বলি আয় ভাই।
তোমা বিনে মা যশোদার প্রাণ বাঁচে নাঞি॥
কোপভরে মুষল ফেলিল ভূমিতলে।
কাঁপিতে লাগিল কৃষ্ণ যমুনার জলে॥
শ্রীদাম সুদাম আদি ব্রজের রাখাল।
ভয় পায়্যা আইল যত গোপের ছাওয়াল॥
করি করে লাল লাঠি সম্মুখে দাণ্ডাল্য।
তারে দেখি হলধর দ্বিগুণ কোপিল॥
ক্রোধভরে ডাকে রাম আলি রে শ্রীদাম।
বল দেখি কোথা কৃষ্ণ যশোদার প্রাণ॥
শ্রীদাম বলেন স্থির হও১ রাম ভাই।
তোর কিব়্যা করি আমি কৃষ্ণে জানি নাঞি॥
নহিলে সুদামে পুছ ডাকিয়া সাক্ষাতে।
তার সঙ্গে দেখা নাঞি বিহান হইতে॥
এত শুনি বলরাম মত্ত হইয়্যা বুলে।
পরাণ বধিব তোর এইতো মুষলে॥
দশ হাজার হস্তী তেজ ধরে হলধর।
ক্রোধে দুই চক্ষু ঘুরে কাঁপে কলেবর॥
কৃষ্ণের নফর তুঞি থাক কৃষ্ণ কাছে।
সত্য কব়্যা বল রে কানাঞি কোথা গেছে॥
তোমা ছাড়া নয় কৃষ্ণ তার ছাড়া তুমি।
রাখালে রাখালে প্রেম ইহা আমি জানি॥
গোপকুলে জন্ম লইলে তুমি কিনা জান।
কোথা গেছে ভাই কৃষ্ণ ঝট খুজ্যা আন॥
অহর্নিশি কৃষ্ণ সঙ্গে ধেনু রাখ বনে।
সখা বই তার মর্ম আর কেবা জানে॥
কান্ধে কর কান্ধে চড় বও২ কান্ধে করি।
আধ্যা খায় আধ্যা দেয় কোখা সে মুরারি॥
শ্রীদাম বলেন ভাল মন্দ নাঞ্রি জানি।
মিছা কথা কহিলে পাষাণ হব আমি॥
হলধর বলে তবে গেল কোনখানে।
হাথে ধব়্যা আন রে আমার বিদ্যমানে॥
রামের বচনে শ্রীদাম অধোমুখ হল্য।
বলরামের পায়ে ধব়্যা কান্দিতে লাগিল॥
এত শুনি কাঁপিতে লাগিলা শিশুগণ।
পাইব কৃষ্ণের দেখা জ্ঞানদাসে কন॥
পুথিতে যে রূপে প্রাপ্ত ---
১ - হয়। ২ – বয়।
*********************
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
১০
এক হাকে কৃষ্ণে বলাই আনিতে নারিল।
আরবার রোহিণীনন্দন ডাক দিল॥
আয় রে কানাঞিলাল বলি আয় ভাই।
তোমা বিনে মা যশোদার প্রাণ বাঁচে নাঞি॥
কোপভরে মুষল ফেলিল ভূমিতলে।
কাঁপিতে লাগিল কৃষ্ণ যমুনার জলে॥
শ্রীদাম সুদাম আদি ব্রজের রাখাল।
ভয় পায়্যা আইল যত গোপের ছাওয়াল॥
করি করে লাল লাঠি সম্মুখে দাণ্ডাল্য।
তারে দেখি হলধর দ্বিগুণ কোপিল॥
ক্রোধভরে ডাকে রাম আলি রে শ্রীদাম।
বল দেখি কোথা কৃষ্ণ যশোদার প্রাণ॥
শ্রীদাম বলেন স্থির হও১ রাম ভাই।
তোর কিব়্যা করি আমি কৃষ্ণে জানি নাঞি॥
নহিলে সুদামে পুছ ডাকিয়া সাক্ষাতে।
তার সঙ্গে দেখা নাঞি বিহান হইতে॥
এত শুনি বলরাম মত্ত হইয়্যা বুলে।
পরাণ বধিব তোর এইতো মুষলে॥
দশ হাজার হস্তী তেজ ধরে হলধর।
ক্রোধে দুই চক্ষু ঘুরে কাঁপে কলেবর॥
কৃষ্ণের নফর তুঞি থাক কৃষ্ণ কাছে।
সত্য কব়্যা বল রে কানাঞি কোথা গেছে॥
তোমা ছাড়া নয় কৃষ্ণ তার ছাড়া তুমি।
রাখালে রাখালে প্রেম ইহা আমি জানি॥
গোপকুলে জন্ম লইলে তুমি কিনা জান।
কোথা গেছে ভাই কৃষ্ণ ঝট খুজ্যা আন॥
অহর্নিশি কৃষ্ণ সঙ্গে ধেনু রাখ বনে।
সখা বই তার মর্ম আর কেবা জানে॥
কান্ধে কর কান্ধে চড় বও২ কান্ধে করি।
আধ্যা খায় আধ্যা দেয় কোখা সে মুরারি॥
শ্রীদাম বলেন ভাল মন্দ নাঞ্রি জানি।
মিছা কথা কহিলে পাষাণ হব আমি॥
হলধর বলে তবে গেল কোনখানে।
হাথে ধব়্যা আন রে আমার বিদ্যমানে॥
রামের বচনে শ্রীদাম অধোমুখ হল্য।
বলরামের পায়ে ধব়্যা কান্দিতে লাগিল॥
এত শুনি কাঁপিতে লাগিলা শিশুগণ।
পাইব কৃষ্ণের দেখা জ্ঞানদাসে কন॥
পুথিতে যে রূপে প্রাপ্ত ---
১ - হয়। ২ – বয়।
*********************
জ্ঞানদাস রচিত
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
১১
শ্রীদামে ভাবিত দেখি বলাই রুষিল।
এইক্ষণে আন কৃষ্ণে গর্জিয়া বলিল॥
গোপীদের ঘরে কিম্বা যমুনার ধার।
নইলে বধের ভাগী হবে যশোদার॥
এত শুনি শ্রীদাম সুবলে বলে ভাই।
বল দেখি কোথা কৃষ্ণ খুঁজিবারে যাই॥
যত গোপ গোয়ালিনী আছে ব্রজপুরে।
সবাকারে পুছে কৃষ্ণ গেছে তোর ঘরে॥
তারা বলে মোর গৃহে না আস্যে কানাঞি।
কান্দিয়া শ্রীদাম বলে কি হইল ভাই॥
চন্দ্রাবলী আদি করি রাধার ভবন।
কোথাহ না পাল্য কৃষ্ণ ব্রজশিশুগণ॥
গোপের ছাওয়াল যত ভয়েতে কম্পিত।
কালিন্দীর তটে গিয়া হইল উপনীত॥
কদম্বতরুর মূলে সভে দাণ্ডাইল।
আয় ভাই কানাঞি বল্যা ডাকিতে লাগিল॥
তো বিনু যশোদা মায়ের প্রাণ বাঁচে নাঞ্রি।
কোনখানে লুকায়্যাছ দেখা দে রে ভাই॥
এত বলি অনেক খুঁজিলা বৃন্দাবন।
না পায় কৃষ্ণের দেখা জ্ঞানদাসে কন॥
*********************
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
১১
শ্রীদামে ভাবিত দেখি বলাই রুষিল।
এইক্ষণে আন কৃষ্ণে গর্জিয়া বলিল॥
গোপীদের ঘরে কিম্বা যমুনার ধার।
নইলে বধের ভাগী হবে যশোদার॥
এত শুনি শ্রীদাম সুবলে বলে ভাই।
বল দেখি কোথা কৃষ্ণ খুঁজিবারে যাই॥
যত গোপ গোয়ালিনী আছে ব্রজপুরে।
সবাকারে পুছে কৃষ্ণ গেছে তোর ঘরে॥
তারা বলে মোর গৃহে না আস্যে কানাঞি।
কান্দিয়া শ্রীদাম বলে কি হইল ভাই॥
চন্দ্রাবলী আদি করি রাধার ভবন।
কোথাহ না পাল্য কৃষ্ণ ব্রজশিশুগণ॥
গোপের ছাওয়াল যত ভয়েতে কম্পিত।
কালিন্দীর তটে গিয়া হইল উপনীত॥
কদম্বতরুর মূলে সভে দাণ্ডাইল।
আয় ভাই কানাঞি বল্যা ডাকিতে লাগিল॥
তো বিনু যশোদা মায়ের প্রাণ বাঁচে নাঞ্রি।
কোনখানে লুকায়্যাছ দেখা দে রে ভাই॥
এত বলি অনেক খুঁজিলা বৃন্দাবন।
না পায় কৃষ্ণের দেখা জ্ঞানদাসে কন॥
*********************
জ্ঞানদাস রচিত
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
১২
দ্বাদশ কানন মাঝে ভ্রমণ করিল।
আর বার কৃষ্ণ বল্যা ডাকিতে লাগিল॥
গোকুল মজালি প্রায় আর কি বাঁচিব।
বলাএর হাথে আজি সবাই মরিব॥
গহন কানন মাঝে কত দেহ দুঃখ।
দেখা দিয়া প্রাণ রাখ হেরি চাঁদমুখ॥
বিহানে হারায়্যা তোর এই দশা হল্য।
ধবলী শাঙলী সব ঘরেতে রহিল॥
যতবার শিশু সব কানু বল্যা ডাকে।
উত্তর না দেন কৃষ্ণ খরহরি কাঁপে॥
যমুনা ধারে কৃষ্ণ দাণ্ডাইয়া ছিল।
ধাষি১ ভাঙ্গা জলে পড়্যা পাষাণ হইল॥
কে বুঝিতে পারে এই গোবিন্দের লীলা।
মায়া করি শালগ্রাম২ রূপে প্রকাশিলা৩॥
তা দেখিল কুলেতে দাণ্ডাইয়া শিশুগণ।
পাইবে পরমানন্দ জ্ঞানদাসে কন॥
১ – ধাষি – এভাবেই এই গ্রন্থে দেওয়া রয়েছে।
পুথিতে যে রূপে প্রাপ্ত ---
২ - @@সাগে (অপাঠ্য)। ২ – “প্রকাশিলা” হইবে কি?
*********************
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
১২
দ্বাদশ কানন মাঝে ভ্রমণ করিল।
আর বার কৃষ্ণ বল্যা ডাকিতে লাগিল॥
গোকুল মজালি প্রায় আর কি বাঁচিব।
বলাএর হাথে আজি সবাই মরিব॥
গহন কানন মাঝে কত দেহ দুঃখ।
দেখা দিয়া প্রাণ রাখ হেরি চাঁদমুখ॥
বিহানে হারায়্যা তোর এই দশা হল্য।
ধবলী শাঙলী সব ঘরেতে রহিল॥
যতবার শিশু সব কানু বল্যা ডাকে।
উত্তর না দেন কৃষ্ণ খরহরি কাঁপে॥
যমুনা ধারে কৃষ্ণ দাণ্ডাইয়া ছিল।
ধাষি১ ভাঙ্গা জলে পড়্যা পাষাণ হইল॥
কে বুঝিতে পারে এই গোবিন্দের লীলা।
মায়া করি শালগ্রাম২ রূপে প্রকাশিলা৩॥
তা দেখিল কুলেতে দাণ্ডাইয়া শিশুগণ।
পাইবে পরমানন্দ জ্ঞানদাসে কন॥
১ – ধাষি – এভাবেই এই গ্রন্থে দেওয়া রয়েছে।
পুথিতে যে রূপে প্রাপ্ত ---
২ - @@সাগে (অপাঠ্য)। ২ – “প্রকাশিলা” হইবে কি?
*********************
জ্ঞানদাস রচিত
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
১৩
যখনি পড়িল কৃষ্ণ যমুনার জলে।
চমৎকার যত ব্রজবালক সকলে॥
হায় হায় করে যত রঙ্গিয়া রাখাল।
কি কর্ম করিল আজি নন্দের গোপাল॥
শ্রীদাম বলে(ন) ভাই পরমাদ হল্য।
রাখালের প্রাণ কৃষ্ণ জলেতে ডুবিল॥
এত শুনি সবাই কালিন্দী হইল পার।
ধায়াধাই কব়্যা বুলে যমুনার ধার॥
শোকাবেশে শিশু সব আকুল হইল।
সভে মিলি যমুনার জলেতে নাম্বিল॥
প্রলয় কালিন্দী জল নারে হামাড়িতে।
হেনকালে পাষাণ তুলিল একহাতে॥
শ্রীদাম বলেন সুবল কানু হেথা নাঞি।
অপূর্ব্ব পাষাণ এক জলে পানু ভাই॥
শ্রমযুক্ত হয়্যা সভে কূলেতে উঠিল।
না পায়্যা কৃষ্ণের দেখা কান্দিতে লাগিল॥
কেহ বলে ভাই সব কর অনুমান।
বলাএর ভয়ে কৃষ্ণ হয়্যাছে পাষাণ॥
গোকুলে নন্দের ঘরে জন্মিলা কানাঞি।
সাত পাঁচ যশোদা মাএর আর নাঞি॥
গৃহে গেলে জননী আসিব সভার কাছে।
জিজ্ঞাসিব আমার গোপাল কোথা গেছে॥
কি বল্যা বলিব সুবল যুক্তি বল ভাই।
কালীদহে ডুবিয়্যাছে তোমার কানাঞি॥
মাথায় হাত দিয়া বৈসে গোপশিশুগণ।
পরাণ ধরিতে নারে জ্ঞানদাসে কন॥
*********************
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
১৩
যখনি পড়িল কৃষ্ণ যমুনার জলে।
চমৎকার যত ব্রজবালক সকলে॥
হায় হায় করে যত রঙ্গিয়া রাখাল।
কি কর্ম করিল আজি নন্দের গোপাল॥
শ্রীদাম বলে(ন) ভাই পরমাদ হল্য।
রাখালের প্রাণ কৃষ্ণ জলেতে ডুবিল॥
এত শুনি সবাই কালিন্দী হইল পার।
ধায়াধাই কব়্যা বুলে যমুনার ধার॥
শোকাবেশে শিশু সব আকুল হইল।
সভে মিলি যমুনার জলেতে নাম্বিল॥
প্রলয় কালিন্দী জল নারে হামাড়িতে।
হেনকালে পাষাণ তুলিল একহাতে॥
শ্রীদাম বলেন সুবল কানু হেথা নাঞি।
অপূর্ব্ব পাষাণ এক জলে পানু ভাই॥
শ্রমযুক্ত হয়্যা সভে কূলেতে উঠিল।
না পায়্যা কৃষ্ণের দেখা কান্দিতে লাগিল॥
কেহ বলে ভাই সব কর অনুমান।
বলাএর ভয়ে কৃষ্ণ হয়্যাছে পাষাণ॥
গোকুলে নন্দের ঘরে জন্মিলা কানাঞি।
সাত পাঁচ যশোদা মাএর আর নাঞি॥
গৃহে গেলে জননী আসিব সভার কাছে।
জিজ্ঞাসিব আমার গোপাল কোথা গেছে॥
কি বল্যা বলিব সুবল যুক্তি বল ভাই।
কালীদহে ডুবিয়্যাছে তোমার কানাঞি॥
মাথায় হাত দিয়া বৈসে গোপশিশুগণ।
পরাণ ধরিতে নারে জ্ঞানদাসে কন॥
*********************
জ্ঞানদাস রচিত
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
১৪
মায়ার সাগর কৃষ্ণ কত মায়া জানে।
রাখালের রোদন শুনিলা সেই স্থানে।
একরূপ শিলামূর্তি ছাওয়ালের১ হাতে।
গোপবেশ নটবব দেখা দিলা পথে॥
নবজলধর জিনি কৃষ্ণের বরণ।
চূড়ায় মখুরপুচ্ছ ভুবনমোহন॥
ঝলমল করে রূপ দুই করে বাঁশী।
যেই পাদপদ্মেতে কমলা হল্য দাসী॥
কত দূরে থাকিয়্যা শ্রীদাম বল্যা ডাকে।
চমৎকার যত শিশু বাক্য নাঞ্রি মুখে॥
শ্রীদাম সুবলে বলে কে ডাকে রে ভাই।
ধেনু লঞা গোঠে বুঝি আস্যাছে কানাঞ্রি॥
এত বলি যমুনার কুলি পানে চায়।
রাখালের মাঝে কৃষ্ণে দেখিবারে পায়॥
গলা ধব়্যা কান্দে শ্রীদাম কোথা ছিলি ভাই।
তোমা বিনে নন্দ যশোদার কেহো নাঞি॥
খুঁজিনু দ্বাদশ কুঞ্জ দ্বাদশ কানন।
বংশীবট যমুনা গোকুল বৃন্দাবন॥
রাখালে প্রধান তুমি ঠাকুর কানাই।
মল্যে যেন যুগলচরণ দুটি পাই॥
কত দুঃখ পাল্যে ডেকে ভাই কান্দে আয়।
ও রাঙ্গা চরণধূলি লাগু মোর গায়॥
ব্রজের রতন মোর হারান্যু বিহানে।
বিধাতা আনিঞা পুন মিলাল্য এখানে॥
তোমা বিনে মা যশোদা ভূম্যে পড়্যা আছে।
এতক্ষণে নন্দরাণী বাঁচে কি মব়্যাছে॥
বলাএর কোপ বড় বাড়িল শরীরে।
মুষলে সভার প্রাণ চায় বধিবারে॥
এত বলি পায় ধব়্যা রহে শিশুগণ।
বিপদে বাঁচাও২ কৃষ্ণ জ্ঞানদাসে কন॥
পুথিতে যে রূপে প্রাপ্ত ---
১ - ছায়ালের। ২ – বাঁচায়।
*********************
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
১৪
মায়ার সাগর কৃষ্ণ কত মায়া জানে।
রাখালের রোদন শুনিলা সেই স্থানে।
একরূপ শিলামূর্তি ছাওয়ালের১ হাতে।
গোপবেশ নটবব দেখা দিলা পথে॥
নবজলধর জিনি কৃষ্ণের বরণ।
চূড়ায় মখুরপুচ্ছ ভুবনমোহন॥
ঝলমল করে রূপ দুই করে বাঁশী।
যেই পাদপদ্মেতে কমলা হল্য দাসী॥
কত দূরে থাকিয়্যা শ্রীদাম বল্যা ডাকে।
চমৎকার যত শিশু বাক্য নাঞ্রি মুখে॥
শ্রীদাম সুবলে বলে কে ডাকে রে ভাই।
ধেনু লঞা গোঠে বুঝি আস্যাছে কানাঞ্রি॥
এত বলি যমুনার কুলি পানে চায়।
রাখালের মাঝে কৃষ্ণে দেখিবারে পায়॥
গলা ধব়্যা কান্দে শ্রীদাম কোথা ছিলি ভাই।
তোমা বিনে নন্দ যশোদার কেহো নাঞি॥
খুঁজিনু দ্বাদশ কুঞ্জ দ্বাদশ কানন।
বংশীবট যমুনা গোকুল বৃন্দাবন॥
রাখালে প্রধান তুমি ঠাকুর কানাই।
মল্যে যেন যুগলচরণ দুটি পাই॥
কত দুঃখ পাল্যে ডেকে ভাই কান্দে আয়।
ও রাঙ্গা চরণধূলি লাগু মোর গায়॥
ব্রজের রতন মোর হারান্যু বিহানে।
বিধাতা আনিঞা পুন মিলাল্য এখানে॥
তোমা বিনে মা যশোদা ভূম্যে পড়্যা আছে।
এতক্ষণে নন্দরাণী বাঁচে কি মব়্যাছে॥
বলাএর কোপ বড় বাড়িল শরীরে।
মুষলে সভার প্রাণ চায় বধিবারে॥
এত বলি পায় ধব়্যা রহে শিশুগণ।
বিপদে বাঁচাও২ কৃষ্ণ জ্ঞানদাসে কন॥
পুথিতে যে রূপে প্রাপ্ত ---
১ - ছায়ালের। ২ – বাঁচায়।
*********************
জ্ঞানদাস রচিত
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
১৫
কৃষ্ণ বলে জলেতে লুকায়্যাছিনু ভাই।
বিহানে বলিয়া নুনী মা দিলেক নাঞি॥
এই অভিমান বড় হৈল্য মোর মনে।
হইনু পাষাণতুল্য দেখিলেন জনে॥
করে ধরি শ্রীদাম বলেন কানু ভাই।
যে হবার সেই হল্য বল গৃহে যাই॥
কানাঞি কহেন আমি না যাইব ঘরে।
গেলে দাদা হলধর মারিবেক মোরে॥
হাস্যমুখে ডাকে যদি বলরাম ভাই।
তবে শ্রীদাম মায়ের সাক্ষ্যাতে আমি যাই॥
রামকে হাসাতে আজি তুমি যদি পার।
তোমার সংহতি যাই বিলম্ব না কর॥
এত শুনি শ্রীদাম গোপাল হর্ষ হৈল্য।
পার হয়্যা যমুনা বলাই কাছে গেল॥
করযোড়ে দাণ্ডাইল হলধর আগে।
কানাঞের যত দোষ ক্ষেমা কর মোকে॥
শ্রীদাম বলেন যদি তুমি হাস ভাই।
যশোদা মায়ের কোলে আন্যা দি কানাঞি॥
বল্যা কয়্যা রেখ্যা আল্যাঙ রাখালের কাছে।
যমুনার জলে কৃষ্ণ দাণ্ডাইয়্যা আছে॥
এত বলি শ্রীদামের ঝুরে দু-নয়ন।
জ্ঞানদাসেতে কহে আনন্দিত মন॥
*********************
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
১৫
কৃষ্ণ বলে জলেতে লুকায়্যাছিনু ভাই।
বিহানে বলিয়া নুনী মা দিলেক নাঞি॥
এই অভিমান বড় হৈল্য মোর মনে।
হইনু পাষাণতুল্য দেখিলেন জনে॥
করে ধরি শ্রীদাম বলেন কানু ভাই।
যে হবার সেই হল্য বল গৃহে যাই॥
কানাঞি কহেন আমি না যাইব ঘরে।
গেলে দাদা হলধর মারিবেক মোরে॥
হাস্যমুখে ডাকে যদি বলরাম ভাই।
তবে শ্রীদাম মায়ের সাক্ষ্যাতে আমি যাই॥
রামকে হাসাতে আজি তুমি যদি পার।
তোমার সংহতি যাই বিলম্ব না কর॥
এত শুনি শ্রীদাম গোপাল হর্ষ হৈল্য।
পার হয়্যা যমুনা বলাই কাছে গেল॥
করযোড়ে দাণ্ডাইল হলধর আগে।
কানাঞের যত দোষ ক্ষেমা কর মোকে॥
শ্রীদাম বলেন যদি তুমি হাস ভাই।
যশোদা মায়ের কোলে আন্যা দি কানাঞি॥
বল্যা কয়্যা রেখ্যা আল্যাঙ রাখালের কাছে।
যমুনার জলে কৃষ্ণ দাণ্ডাইয়্যা আছে॥
এত বলি শ্রীদামের ঝুরে দু-নয়ন।
জ্ঞানদাসেতে কহে আনন্দিত মন॥
*********************
জ্ঞানদাস রচিত
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
১৬
বলাই বলেন শ্রীদাম কি বলিস মোরে।
সংসারে না দেখি হেন হাসায় আমারে॥
গহনে সদাই থাকি ধবলী চরাই।
রাখালে রাখালে খেলা কভু হাসি নাঞি॥
আনন্দে বাজাই শিঙ্গা পূরিয়া অধরে।
জনমিয়া নাঞি হাসি গোকুলনগরে॥
শ্রীদাম বলেন কোপ ছাড় হলধারী।
আমার শকতি কৃষ্ণে আনিতে কি পারি॥
নফরের কথা রাখ না হাসিলে ভাই।
তোমার নিকটে কৃষ্ণ ভয়ে আস্যে নাঞি॥
এত শুনি মনে গুণি রোহিণীতনয়।
কৃষ্ণ না আইলে ধরে কর্ম ভাল নয়॥
এ শোকসমুদ্রে পড়্যা রাণী যদি মরে।
মাতৃহত্যা বধ আজি লাগিবে আমারে।
ইহা বলি হলধর কোপ নিবারিল১।
আন রে কানাঞি বলি ঈষৎ হাসিল॥
তা দেখিয়্যা শ্রীদাম যমুনাজলে যাই।
আস্য বল্যা নাম ধব়্যা ডাকিছে কানাঞি॥
গোপশিশু-পরিকর২ হইয়্যা নির্ভয়।
হাসায়্যাছি রাম দাদা আর কারে ভয়॥
এবোল শুনিঞা শ্রীদাম চঞ্চল হইল।
সখাগণ সহিত যমুনা পার হল্য॥
আগে পিছে বেড়িলেক দ্বাদশ রাখাল।
শ্রীদামের কাঁধে ধরি চলিল গোপাল॥
পীত ধড়া পরিধান শিখি-পুচ্ছ মাথে।
মধুলোভে মাতি অলি উড়্যা পড়ে তাতে॥
হাস্যমুখে শ্রীদাম আঙ্গিনা মাঝে গেল।
বলাএর কাছে গিয়্যা কৃষ্ণে লঞা দিল॥
তা দেখি হরিষচিত্ত রোহিণীনন্দন।
জ্ঞানদাসেতে কহে আনন্দিত মন॥
পুথিতে যে রূপে প্রাপ্ত ---
১ - নিব্যারিল। ২ – পারিকর।
*********************
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
১৬
বলাই বলেন শ্রীদাম কি বলিস মোরে।
সংসারে না দেখি হেন হাসায় আমারে॥
গহনে সদাই থাকি ধবলী চরাই।
রাখালে রাখালে খেলা কভু হাসি নাঞি॥
আনন্দে বাজাই শিঙ্গা পূরিয়া অধরে।
জনমিয়া নাঞি হাসি গোকুলনগরে॥
শ্রীদাম বলেন কোপ ছাড় হলধারী।
আমার শকতি কৃষ্ণে আনিতে কি পারি॥
নফরের কথা রাখ না হাসিলে ভাই।
তোমার নিকটে কৃষ্ণ ভয়ে আস্যে নাঞি॥
এত শুনি মনে গুণি রোহিণীতনয়।
কৃষ্ণ না আইলে ধরে কর্ম ভাল নয়॥
এ শোকসমুদ্রে পড়্যা রাণী যদি মরে।
মাতৃহত্যা বধ আজি লাগিবে আমারে।
ইহা বলি হলধর কোপ নিবারিল১।
আন রে কানাঞি বলি ঈষৎ হাসিল॥
তা দেখিয়্যা শ্রীদাম যমুনাজলে যাই।
আস্য বল্যা নাম ধব়্যা ডাকিছে কানাঞি॥
গোপশিশু-পরিকর২ হইয়্যা নির্ভয়।
হাসায়্যাছি রাম দাদা আর কারে ভয়॥
এবোল শুনিঞা শ্রীদাম চঞ্চল হইল।
সখাগণ সহিত যমুনা পার হল্য॥
আগে পিছে বেড়িলেক দ্বাদশ রাখাল।
শ্রীদামের কাঁধে ধরি চলিল গোপাল॥
পীত ধড়া পরিধান শিখি-পুচ্ছ মাথে।
মধুলোভে মাতি অলি উড়্যা পড়ে তাতে॥
হাস্যমুখে শ্রীদাম আঙ্গিনা মাঝে গেল।
বলাএর কাছে গিয়্যা কৃষ্ণে লঞা দিল॥
তা দেখি হরিষচিত্ত রোহিণীনন্দন।
জ্ঞানদাসেতে কহে আনন্দিত মন॥
পুথিতে যে রূপে প্রাপ্ত ---
১ - নিব্যারিল। ২ – পারিকর।
*********************
জ্ঞানদাস রচিত
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
১৭
আর কি রে রামদাদা তোরে মোর ভয়।
আন্যাছি কানাঞি নে রে রোহিণীতনয়॥
গোকুল রাখিল্যা যেবা গোবর্দ্ধন ধরি।
হেন ভাই সঙ্গে মোর দেখ হলধারী॥
করি করে লাল লাঠি ফুলহার গলে।
সভে মেলি পড়িল বলাই পদতলে॥
কানাঞি রামের আগে নিল পদধূলি।
দুটি ভাই আঙ্গিনার মাঝে কোলাকুলি॥
হাতে ধরি বলাই শ্রীকৃষ্ণে কাখে তোলে।
বধিয়া যশোদার প্রাণ কোনখানে ছিলে॥
বিহানে তেজিয়া (মায়) কি হেতু না জানি।
মলিন হইয়্যা গেছে চাঁদমুখখানি॥
এত বলি নীলবন্বে বদন মুছিল।
হাসিতে নাচিতে বলাই রাণী কাছে গেল॥
উঠ উঠ বল্যা রাম ডাকে যশোদারে।
ধর গো জননী তোর কৃষ্ণ আল্য ঘরে॥
একথা শুনিঞা রাণী ধড়ে প্রাণ পাল্য।
ভূম্যে হৈত্যে উঠ্যা বলে কই রে গোপাল॥
মব়্যা ছিনু না দেখিয়্যা পাইনু চেতন।
জ্ঞানদাসেতে বলে আনন্দিত মন॥
*********************
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
১৭
আর কি রে রামদাদা তোরে মোর ভয়।
আন্যাছি কানাঞি নে রে রোহিণীতনয়॥
গোকুল রাখিল্যা যেবা গোবর্দ্ধন ধরি।
হেন ভাই সঙ্গে মোর দেখ হলধারী॥
করি করে লাল লাঠি ফুলহার গলে।
সভে মেলি পড়িল বলাই পদতলে॥
কানাঞি রামের আগে নিল পদধূলি।
দুটি ভাই আঙ্গিনার মাঝে কোলাকুলি॥
হাতে ধরি বলাই শ্রীকৃষ্ণে কাখে তোলে।
বধিয়া যশোদার প্রাণ কোনখানে ছিলে॥
বিহানে তেজিয়া (মায়) কি হেতু না জানি।
মলিন হইয়্যা গেছে চাঁদমুখখানি॥
এত বলি নীলবন্বে বদন মুছিল।
হাসিতে নাচিতে বলাই রাণী কাছে গেল॥
উঠ উঠ বল্যা রাম ডাকে যশোদারে।
ধর গো জননী তোর কৃষ্ণ আল্য ঘরে॥
একথা শুনিঞা রাণী ধড়ে প্রাণ পাল্য।
ভূম্যে হৈত্যে উঠ্যা বলে কই রে গোপাল॥
মব়্যা ছিনু না দেখিয়্যা পাইনু চেতন।
জ্ঞানদাসেতে বলে আনন্দিত মন॥
*********************
জ্ঞানদাস রচিত
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
১৮
কাখে হৈত্যে হলধর কৃষ্ণে দিল কোলে।
চাঁদমুখ হেরি রাণী ভাসে অশ্রুজলে॥
নুনীর লাগিয়্যা এত মায় দিলে দুঃখ।
কার ঘরে ছিলে কৃষ্ণ বিদরএ বুক॥
কড়াকল বলি তারে আরে নীলমণি।
কেমনে পরের মাকে মা বলিলে তুমি॥
পরাণপুতুলী মোর দু-আঁখ্যের তারা।
দিনে শতবার আমি করি তোরে হারা॥
কৃষ্ণ বলে ছিনু আমি ব্রজবাসী-ঘরে।
মা বলিতে তারা সব নুনী দিল করে॥
রাণী বলে ব্রজবাসী-গৃহে১ ছিলে তুমি।
মলিন হয়েছে কেন চাঁদমুখখানি॥
এত বলি বিধুমুখে লক্ষ চুম্ব খাল্য।
ক্ষীর সর নুনী আন্যা অধরেতে দিল॥
হারাধন পায়্যা রাণী জুড়াল্য পরাণ।
জ্ঞানদাসেতে কহে বড় ভাগ্যবান॥
পুথিতে যে রূপে প্রাপ্ত ---
১ - গ্রীহে।
*********************
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
১৮
কাখে হৈত্যে হলধর কৃষ্ণে দিল কোলে।
চাঁদমুখ হেরি রাণী ভাসে অশ্রুজলে॥
নুনীর লাগিয়্যা এত মায় দিলে দুঃখ।
কার ঘরে ছিলে কৃষ্ণ বিদরএ বুক॥
কড়াকল বলি তারে আরে নীলমণি।
কেমনে পরের মাকে মা বলিলে তুমি॥
পরাণপুতুলী মোর দু-আঁখ্যের তারা।
দিনে শতবার আমি করি তোরে হারা॥
কৃষ্ণ বলে ছিনু আমি ব্রজবাসী-ঘরে।
মা বলিতে তারা সব নুনী দিল করে॥
রাণী বলে ব্রজবাসী-গৃহে১ ছিলে তুমি।
মলিন হয়েছে কেন চাঁদমুখখানি॥
এত বলি বিধুমুখে লক্ষ চুম্ব খাল্য।
ক্ষীর সর নুনী আন্যা অধরেতে দিল॥
হারাধন পায়্যা রাণী জুড়াল্য পরাণ।
জ্ঞানদাসেতে কহে বড় ভাগ্যবান॥
পুথিতে যে রূপে প্রাপ্ত ---
১ - গ্রীহে।
*********************
জ্ঞানদাস রচিত
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
১৯
যশোদার সম কেহ নাঞি পুণ্যবতী।
পৃত্রস্নেহ১ করি পাল্য কমলার পতি॥
শিব সুর ব্রহ্মা যাবে ভাবে যোগী ঋষি।
ব্রহ্মচারী দণ্ডী আদি জটিল তপস্বী২॥
পর্বতে পর্বতে কত শৈলে নাঞি পায়।
চিনিতে না পারে রাণী কৃষ্ণের মায়ায়॥
জগতবল্লভ কৃষ্ণে কাধিকার প্রাণ।
প্রেমে বশ কৈল্যা রাণী করি পূত্রজ্ঞান॥
শ্রীদামে ডাকিয়্যা কাছে পুছে নন্দরাণী।
কার ঘরে খুজ্যা পাল্যে মোর নীলমণি॥
নফর শ্রীদাম বলে কি জিজ্ঞাস মোরে।
লুকাইয়্যা ছিল কৃষ্ণ যমুনার তীরে॥
কত মায়া জানে কানু কমলনঙান।
কালিন্দীর জলে মধ্যে হইল পাষাণ॥
একথা শুনিঞা রাণী জন্মিল বিস্ময়।
কৃষ্ণ কি পাঘাণ হয় মনে নাঞি লয়॥
শ্রীদাম বলেন মিথ্যা নাঞি কই আমি।
সাক্ষাতে পাষাণ নৈল্যে হত্যে বল তুমি॥
রাণী বলে ই কি শুনি কাঁদে মোর প্রাণ।
সম্মুখে আমার দেখি হও ত৩ পাষাণ॥
যশোদার বাক্য কৃষ্ণ এড়াত্যে নারিল।
মূর্তিমন্ত শিলা এক ততক্ষণে হৈল্য॥
পাষাণ দেখিয়া রাণী ভাবে মনে মন।
এ কভু মানুষ নয় শ্রীনন্দনন্দন॥
সকল জীবের কর্তা ভ্রম এ সংসারে।
মায়া করি হরি বুঝি আল্যা মোর ঘরে॥
এত বলি প্রেমে অশ্রু বহে ঘনে ঘন।
গোবিন্দের বাল্যলীলা জ্ঞানদাসে কন॥
পুথিতে যে রূপে প্রাপ্ত ---
১ - শ্রেহঁ। ২ – তপসি। ৩ – হয়ত।
*********************
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
১৯
যশোদার সম কেহ নাঞি পুণ্যবতী।
পৃত্রস্নেহ১ করি পাল্য কমলার পতি॥
শিব সুর ব্রহ্মা যাবে ভাবে যোগী ঋষি।
ব্রহ্মচারী দণ্ডী আদি জটিল তপস্বী২॥
পর্বতে পর্বতে কত শৈলে নাঞি পায়।
চিনিতে না পারে রাণী কৃষ্ণের মায়ায়॥
জগতবল্লভ কৃষ্ণে কাধিকার প্রাণ।
প্রেমে বশ কৈল্যা রাণী করি পূত্রজ্ঞান॥
শ্রীদামে ডাকিয়্যা কাছে পুছে নন্দরাণী।
কার ঘরে খুজ্যা পাল্যে মোর নীলমণি॥
নফর শ্রীদাম বলে কি জিজ্ঞাস মোরে।
লুকাইয়্যা ছিল কৃষ্ণ যমুনার তীরে॥
কত মায়া জানে কানু কমলনঙান।
কালিন্দীর জলে মধ্যে হইল পাষাণ॥
একথা শুনিঞা রাণী জন্মিল বিস্ময়।
কৃষ্ণ কি পাঘাণ হয় মনে নাঞি লয়॥
শ্রীদাম বলেন মিথ্যা নাঞি কই আমি।
সাক্ষাতে পাষাণ নৈল্যে হত্যে বল তুমি॥
রাণী বলে ই কি শুনি কাঁদে মোর প্রাণ।
সম্মুখে আমার দেখি হও ত৩ পাষাণ॥
যশোদার বাক্য কৃষ্ণ এড়াত্যে নারিল।
মূর্তিমন্ত শিলা এক ততক্ষণে হৈল্য॥
পাষাণ দেখিয়া রাণী ভাবে মনে মন।
এ কভু মানুষ নয় শ্রীনন্দনন্দন॥
সকল জীবের কর্তা ভ্রম এ সংসারে।
মায়া করি হরি বুঝি আল্যা মোর ঘরে॥
এত বলি প্রেমে অশ্রু বহে ঘনে ঘন।
গোবিন্দের বাল্যলীলা জ্ঞানদাসে কন॥
পুথিতে যে রূপে প্রাপ্ত ---
১ - শ্রেহঁ। ২ – তপসি। ৩ – হয়ত।
*********************
জ্ঞানদাস রচিত
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
২০
যশোদারে শিলা১ মূর্তি দিয়্যা দরশন।
প্রকট বালকরূপ হৈল্যা নারায়ণ॥
মনে মনে হাসে কৃষ্ণ জননীর কোলে।
মা মোরে চিনিতে নারে পড়ি গৃহজালে॥
শ্রীদাম বলেন আজি জনম সফল।
যে কথা কহিনু রাণী দেখিলে সকল॥
মরিলে বাঁচাতে পারে তোমার কানাঞি।
বনে গেলে খাত্যে খাত্যে মুখে দেই ভাই॥
একদিন যত শিশু খান্যু বিষজল।
প্রাণদান দিলা কৃষ্ণ রাখাল-সকল॥
বার মাস ধেনু রাখি গহনে কাননে।
একদিন দাবাগ্নি বেড়িল গোপগণে॥
চৌদিগেতে অগ্নিময় রাখিল দৈত্য দ [ ] রি।
আকুল সভার প্রাণ ভয়ে কান্দ্যা মরি॥
হেনকালে কৃষ্ণ আসি অগ্নি কৈল্য পান।
বনমাঝে রাখালে জীবন দিলা দান॥
স্তন পান দিয়া কৃষ্ণে না পার চিনিতে।
মাঅ২ -ভাবে পুত্তনা চলিল বৈকুণ্ঠেতে॥
সখাভাবে গোধন লইয়্যা সঙ্গে ফিরি।
কৃষ্ণের চাতুরি কত বুঝিতে না পারি॥
রাণী বলে ধন্য শ্রীদাম ধন্য রে তোমায়।
কি গুণে কব়্যাছ বশ মোর যাদূরায়॥
কালিন্দী যমুনা ধন্য যতেক গোপিকা।
কোকিল ময়ূর কুঞ্জে শুক যে সারিকা॥
ভ্রমরা ভ্রমরী ধন্য পুষ্পের উদ্যান৩।
অহর্ন্নিশি ফুলে যার মধু করে পান॥
ধবলি সাওলি ধন্য আর বৎস ধেনু।
গহনের মাঝে গেলে পিছা ফিরে কানু॥
এত বলি যশোদা পড়িলা পুন ভোলে।
কৃষ্ণেরে করাল্য স্নান৪ যমুনার জলে॥
মায়ায় মোহিত হৈলা যশোদার মন।
অনন্ত কৃষ্ণের লীলা জ্ঞানদাসে কন॥
ইতি শ্রীকৃষ্ণের বাৎসল্য-লীলা৫ সমাপ্ত।
পুথিতে যে রূপে প্রাপ্ত ---
১ - সিল্যা। ২ – মাহ। ৩ – উদ্যাঁন। ৪ – শ্রান। ৫ – বাচ্ছল্য লিলা।
*********************
যশোদার বাৎসল্য-লীলা
২০
যশোদারে শিলা১ মূর্তি দিয়্যা দরশন।
প্রকট বালকরূপ হৈল্যা নারায়ণ॥
মনে মনে হাসে কৃষ্ণ জননীর কোলে।
মা মোরে চিনিতে নারে পড়ি গৃহজালে॥
শ্রীদাম বলেন আজি জনম সফল।
যে কথা কহিনু রাণী দেখিলে সকল॥
মরিলে বাঁচাতে পারে তোমার কানাঞি।
বনে গেলে খাত্যে খাত্যে মুখে দেই ভাই॥
একদিন যত শিশু খান্যু বিষজল।
প্রাণদান দিলা কৃষ্ণ রাখাল-সকল॥
বার মাস ধেনু রাখি গহনে কাননে।
একদিন দাবাগ্নি বেড়িল গোপগণে॥
চৌদিগেতে অগ্নিময় রাখিল দৈত্য দ [ ] রি।
আকুল সভার প্রাণ ভয়ে কান্দ্যা মরি॥
হেনকালে কৃষ্ণ আসি অগ্নি কৈল্য পান।
বনমাঝে রাখালে জীবন দিলা দান॥
স্তন পান দিয়া কৃষ্ণে না পার চিনিতে।
মাঅ২ -ভাবে পুত্তনা চলিল বৈকুণ্ঠেতে॥
সখাভাবে গোধন লইয়্যা সঙ্গে ফিরি।
কৃষ্ণের চাতুরি কত বুঝিতে না পারি॥
রাণী বলে ধন্য শ্রীদাম ধন্য রে তোমায়।
কি গুণে কব়্যাছ বশ মোর যাদূরায়॥
কালিন্দী যমুনা ধন্য যতেক গোপিকা।
কোকিল ময়ূর কুঞ্জে শুক যে সারিকা॥
ভ্রমরা ভ্রমরী ধন্য পুষ্পের উদ্যান৩।
অহর্ন্নিশি ফুলে যার মধু করে পান॥
ধবলি সাওলি ধন্য আর বৎস ধেনু।
গহনের মাঝে গেলে পিছা ফিরে কানু॥
এত বলি যশোদা পড়িলা পুন ভোলে।
কৃষ্ণেরে করাল্য স্নান৪ যমুনার জলে॥
মায়ায় মোহিত হৈলা যশোদার মন।
অনন্ত কৃষ্ণের লীলা জ্ঞানদাসে কন॥
ইতি শ্রীকৃষ্ণের বাৎসল্য-লীলা৫ সমাপ্ত।
পুথিতে যে রূপে প্রাপ্ত ---
১ - সিল্যা। ২ – মাহ। ৩ – উদ্যাঁন। ৪ – শ্রান। ৫ – বাচ্ছল্য লিলা।
*********************
