কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
সাজ সাজ বলিয়া পড়িয়া গেল সাড়া
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২১শ পল্লব, সখ্য-রস—গোষ্ঠে গমন, ১১৯০- নং পদসংখ্যা, ২৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

সাজ সাজ বলিয়া পড়িয়া গেল সাড়া।
বলরামের শিঙ্গাতে সাজিল গোয়াল-পাড়া॥
হাম্বা হাম্বা রব যে উঠিল ঘরে ঘরে।
সাজিয়া কাচিয়া সভে হইলা বাহিরে॥
আজি বড় গোকুলের রঙ্গ রাজপথে।
গোধন চালাঞা সভে চলিলা এক সাথে॥ ধ্রু॥
চারি দিকে সব শিশু মধ্যে রাম কানু।
কাঁচনী পাঁচনী কারু হাতে শিঙ্গা বেণু॥
সভার সমান বেশ বয়স এক ছান্দ।
তারাগণ বেঢ়িয়া চলিলা শ্যামচান্দ॥
ধাইয়া যাইয়া কেহ ধেনু বাহুড়ায়।
জ্ঞানদাস এক ভিতে দাঁড়াইয়া চায়॥

ই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠবিহার
॥ ভাটিয়ারী॥

সাজ সাজ বলিয়া পড়িয়া গেল সাড়া।
বলরামের শিঙ্গাতে সাজিল গোয়ালপাড়া॥
হাম্বা হাম্বা রব যে উঠিল ঘরে দ্বারে।
সাজিয়া কাচিয়া সভে হইলা বাহিরে॥
আজি বড় গোকুলের রঙ্গ রাজ পথে।
গোধন লইয়া সবে চলিলা এক সাথে॥ ধ্রু
চারি দিগে সব শিশু মধ্যে রাম কানু।
কাঁচনী পাঁচনী কার হাতে শিঙ্গা বেণু॥
সভার সমান বেশ বয়স এক ছান্দ।
তারাগণ বেড়িয়া চলিলা শ্যাম চান্দ॥
ধাইয়া যাইয়া কেহ ধেনু বাহুড়ায়।
জ্ঞান দাস এক ভিতে দাঁড়াইয়া চায়॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) প্রকাশিত অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ১৮০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠ।
॥ ভাটিয়ারী॥

সাজ সাজ বলিয়া পড়িয়া গেল সাড়া।
বলরামের শিঙ্গাতে
       সাজিল গোয়ালপাড়া॥
হাম্বা হাম্বা রব যে উঠিল ঘরে দ্বারে।
সাজিয়া কাচিয়া সভে হইলা বাহিরে॥
আজি বড় গোকুলের রঙ্গ রাজ পথে।
গোধন লইয়া সবে চলিলা এক সাথে॥
চারি দিগে সব শিশু মধ্যে রাম কানু।
কাঁচনী পাঁচনী কার হাতে শিঙ্গা বেণু॥
সভার সমান বেশ বয়স এক ছান্দ।
তারাগণ বেড়িয়া চলিলা শ্যাম চান্দ॥
ধাইয়া যাইয়া কেহ ধেনু বাহুড়ায়।
জ্ঞান দাস এক ভিতে দাঁড়াইয়া চায়॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১২৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠ
॥ ভাটিয়ারী॥

সাজ সাজ বলিয়া পড়িয়া গেল সাড়া।
বলরামের শিঙ্গাতে সাজিল গোয়ালপাড়া॥
হাম্বা হাম্বা রব যে উঠিল ঘরে দ্বারে।
সাজিয়া কাচিয়া সভে হইলা বাহিরে॥
আজি বড় গোকুলের রঙ্গ রাজপথে। গোধন
লইয়া সবে চলিলা এক সাথে॥ চারি-
দিকে সব শিশু মধ্যে রাম কানু। কাঁচনি
পাঁচনি কার হাতে শিঙ্গা বেণু॥ সবার
সমান বেশ বয়স এক ছান্দ। তারাগণ
বেড়িয়া চলিলা শ্যাম চান্দ॥ ধাইয়া যাইয়া
কেহ ধেনু বাহুড়ায়। জ্ঞানদাস এক ভিতে
দাঁড়াইয়া চায়॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ১৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠ-লীলা।
॥ ভাটিয়ারী॥

সাজ সাজ বলিয়া পড়িয়া গেল সাড়া।
বলরামের শিঙ্গাতে সাজিল গোয়ালপাড়া॥
হাম্বা হাম্বা রব যে উঠিল ঘরে দ্বারে।
সাজিয়া কাচিয়া সভে হইলা বাহিরে॥
আজি বড় গোকুলের রঙ্গ রাজপথে।
গোধন লইয়া সবে চলিলা এক সাথে॥
চারি দিগে সব শিশু মধ্যে রাম কানু।
কাঁচনী পাঁচনী কার হাতে শিঙ্গা বেণু॥
সভার সমান বেশ বয়স এক ছান্দ।
তারাগণ বেড়িয়া চলিলা শ্যাম চান্দ॥
ধাইয়া যাইয়া কেহ ধেনু বাহুড়ায়।
জ্ঞানদাস এক ভিতে দাঁড়াইয়া চায়॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, ১০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। গোষ্ঠলীলা, সখ্য ও বাত্সল্য রসের পদ।

সাজ সাজ বলিয়া পড়িয়া গেল সাড়া।
বলরামের শিঙ্গাতে সাজিল গোয়াল পাড়া॥
হাম্বা হাম্বা রব যে উঠিল ঘরে ঘরে।
সাজিয়া কাচিয়া সভে হইলা বাহিরে॥
আজি বড় গোকুলের রঙ্গ রাজপথে।
গোধন চালাঞা সভে চলিলা একসাথে॥
চারি দিকে সব শিশু মধ্যে রাম কানু।
কাঁচনী পাঁচনী কারু হাতে শিঙ্গা বেনু ॥
সভার সমান বেশ বয়স এক ছান্দ ।
তারাগণ বেঢ়িয়া চলিলা শ্যামচান্দ॥
ধাইয়া যাইয়া কেহ ধেনু বাহুড়ায়।
জ্ঞানদাস এক ভিতে দাঁড়াইয়া চায়॥

টীকা --
কাঁচনী পাঁচনী---- কাঁচনী মানে সজ্জা, রাখালের হাতে লাঠি, লাঠিই হইয়াছে সজ্জা যাহাদের ; বাহুড়ায়---ফিরায়।

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ৩য় খণ্ড এর ১৬৮ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের গোষ্ঠলীলা
॥ ধানশী মিশ্র সারঙ্গ - মধ্যম ডাঁসপাহিড়া॥


সাজ সাজ বলিয়া পড়িয়া গেল সাড়া।
বলরামের শিঙ্গাতে সাজিল গোয়াল পাড়া॥
হাম্বা হাম্বা রব যে উঠিল ঘরে ঘরে।
সাজিয়া কাছিয়া সবে হইল বাহিরে॥
আজ বড় গোকুলের রঙ্গ রাজপথে।
গোধন চালাঞা সভে চলিলা একসাথে॥
চারি দিকে সব শিশু মধ্যে রাম কানু।
কাঁচনী পাঁচনী কারু হাতে শিঙ্গাবেনু ॥
সভার সমান বেশ বয়স একছান্দ।
তারাগণ বেড়িয়া চলিলা শ্যামচান্দ॥
ধাইয়া যাইয়া কেহ ধেনু বাহুড়ায়।
জ্ঞানদাস এক ভিতে দাঁড়াইয়া চায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪০২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠলীলা
॥ ভাটিয়ারি॥

সাজ সাজ বলিয়া পড়িয়া গেল সাড়া।
বলরামের শিঙ্গাতে সাজিল গোয়ালপাড়া॥
হাম্বা হাম্বা রব যে উঠিল ঘরে ঘরে।
সাজিয়া কাচিয়া সভে হইলা বাহিরে॥
আজি বড় গোকুলের রঙ্গ রাজপথে।
গোধন চালাঞা সভে চলিল এক সাথে॥ ধ্রু॥
চারি দিকে সব শিশু মধ্যে রাম কানু।
কাঁচনী পাঁচনী কারু হাতে শিঙ্গা বেণু॥
সভার সমান বেশ বয়স এক ছান্দ।
তারাগণ বেঢ়িয়া চলিলা শ্যামচান্দ॥
ধাইয়া যাইয়া কেহ ধেনু বাহুড়ায়।
জ্ঞানদাস এক ভিতে দাঁড়াইয়া চায়॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠযাত্রা
॥ ভাটিয়ারি॥

সাজ সাজ বলিয়া পড়িয়া গেল সাড়া।
বলরামের শিঙ্গাতে সাজিল গোয়াল-পাড়া॥
হাম্বা হাম্বা রব যে উঠিল ঘরে ঘরে।
সাজিয়া কাচিয়া সভে হইলা বাহিরে॥
আজি বড় গোকুলের রঙ্গ রাজপথে।
গোধন চালাঞা সভে চলিল এক সাথে॥ ধ্রু॥
চারি দিকে সব শিশু মধ্যে রাম কানু।
কাঁচনী পাঁচনী কারু হাতে শিঙ্গা বেণু॥
সভার সমান বেশ বয়স এক ছান্দ।
তারাগণ বেঢ়িয়া চলিলা শ্যামচান্দ॥
ধাইয়া যাইয়া কেহ ধেনু বাহুড়ায়।
জ্ঞানদাস এক ভিতে দাঁড়াইয়া চায়॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমানবিহারী মজুমদার সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন "পাঁচশত বত্সরের পদাবলী ১৪১০-১৯১০" এর ৭৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

সাজ সাজ বলিয়া পড়িয়া গেল সাড়া।
বলরামের শিঙ্গাতে সাজিল গোয়ালপাড়া॥
হাম্বা হাম্বা রব সে উঠিল ঘরে ঘরে।
সাজিয়া কাচিয়া সভে হইলা বাহিরে॥
আজি বড় গোকুলের রঙ্গ রাজপথে।
গোধন চালাঞা সভে চলিলা একসাথে॥
চারি দিকে সব শিশু মধ্যে রাম কানু।
কাঁচনী পাঁচনী কারু হাতে শিঙ্গা বেণু॥
সভার সমান বেশ বয়স এক ছান্দ।
তারাগণ বেঢ়িয়া চলিলা শ্যামচান্দ॥
ধাইয়া যাইয়া কেহ ধেনু বাহুড়ায়।
জ্ঞানদাস এক ভিতে দাঁড়াইয়া চায়॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য” এর ৩৪১ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

উত্তর-গোষ্ঠ।

সাজ সাজ বলিয়া পড়িয়া গেল সাড়া।
বলরামের শিঙ্গাতে সাজিল গোয়ালপাড়া॥
হাম্বা হাম্বা রব সে উঠিল ঘরে ঘরে।
সাজিয়া কাচিয়া সভে হইলা বাহিরে॥
আজি বড় গোকুলের রঙ্গ রাজপথে।
গোধন চালাঞা সভে চলিলা একসাথে॥
চারি দিকে সব শিশু মধ্যে রাম কানু।
কাঁচনী পাঁচনী কারু হাতে শিঙ্গা বেণু॥
সভার সমান বেশ বয়স এক ছান্দ।
তারাগণ বেঢ়িয়া চলিলা শ্যামচান্দ॥
ধাইয়া যাইয়া কেহ ধেনু বাহুড়ায়।
জ্ঞানদাস এক ভিতে দাঁড়াইয়া চায়॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৬৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সাজ সাজ বলিয়া পড়িয়া গেল সাড়া।
বলরামের শিঙ্গাতে সাজিল গোয়ালপাড়া॥
হাম্বা হাম্বা রব সে উঠিল ঘরে ঘরে।
সাজিয়া কাচিয়া সভে হইলা বাহিরে॥
আজি বড় গোকুলের রঙ্গ রাজপথে।
গোধন চালাঞা সভে চলিল একসাথে॥
চারি দিকে সব শিশু মধ্যে রাম কানু।
কাঁচনী পাঁচনী কারু হাতে শিঙ্গা বেণু॥
সভার সমান বেশ বয়স এক ছান্দ।
তারাগণ বেঢ়িয়া চলিলা শ্যামচান্দ॥
ধাইয়া যাইয়া কেহ ধেনু বাহুড়ায়।
জ্ঞানদাস এক ভিতে দাঁড়াইয়া চায়॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^