কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
চন্দন চান্দ কুসুম নব কিশলয়
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৪শ পল্লব, শরত্কালীয় মহারাস, ১২৮৩-নং পদসংখ্যা, ৩২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

চন্দন চান্দ     কুসুম নব কিশলয়
মন্দ পবন পিকু-রাব।
বরিহা কপোত     জোরে জোরে নাচত
চীতক নিজ পরথাব॥
ভালি রে ভালি অভিনব মদন-সমাজে।
রাধা রসবতি     অতি রসে আরতি
কানু রসিক-বর রাজে॥ ধ্রু॥
কুসুমিত কুঞ্জহি     রঞ্জন মনসিজ
নব নব রঙ্গিণি মেলি।
রসময় ভৃঙ্গ     কতহুঁ রস মধুকরি
ভ্রমি ভ্রমি করু রস-কেলি॥
ধনি রে ধনি রে ধনি     দুহুঁ রুপ লাবণি
ধনি বৈদগধি কত ভাতি।
আর কে কহুঁ কত     দুহুঁ রসে উনমত
জ্ঞান কহে নাহি দিন রাতি॥

ই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাসলীলা
॥ কামোদ॥

চন্দন চান্দ,     কুসুম নব কিশলয়,
মন্দ পবন পিক রাব।
বরিহা কপোত,     জোরে জোরে নাচত,
চিতক নিজ পরথাব॥
ভালি রে ভালি     অভিনব
মদন সমাজে।
রাধা রসবতী,     অতি রসে আরতি,
কানু রসিকবররাজে॥ ধ্রু।
কুসুমিত কুঞ্জহি,     রঞ্জন মনসিজ,
নব নব রঙ্গিণী মেলি।
রসময় ভৃঙ্গ,     কতহুঁ রস মধুকরি,
ভ্রমি ভ্রমি করু রস কেলি॥
ধনিরে ধনিরে ধনি,     দুহুঁ রুপ লাবনী,
ধনি বৈদগধি কত ভাঁতি।
আর কে কহু কত,     দুহুঁ রসে উনমত,
জ্ঞান কহে নাহি দিন রাতি॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২০৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাসোৎসব।
॥ কামোদ॥

চন্দন চান্দ,     কুসুম নব কিশলয়,
মন্দ পবন পিক রাব।
বরিহা কপোত,     জোড়ে জোড়ে নাচত,
চিতক নিজ পরথাব॥
ভালিরে ভালি অভিনব মদন সমাজে।
রাধা রসবতী,     অতি রসে আরতি,
কানু রসিকবররাজে॥
কুসুমিত কুঞ্জহি,     রঞ্জন মনসিজ,
নব নব রঙ্গিণী মেলি।
রসময় ভৃঙ্গ,     কতহুঁ রস মধুকরি,
ভ্রমি ভ্রমি করু রস কেলি॥
ধনিরে ধনিরে ধনি,     দুহুঁ রুপ লাবনী,
ধনি বৈদগধি কত ভাঁতি।
আর কে কহু কত,     দুহুঁ রসে উনমত,
জ্ঞান কহে নাহি দিন রাতি॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৫০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাসোৎসব
॥ কামোদ॥

চন্দন চান্দ, কুসুম নব কিশলয়, মন্দ
পবন পিক রাব। বরিহা কপোত, যোড়ে
যোড়ে নাচত, চিতক নিজ পরথাব॥
ভালিরে ভালি অভিনব মদন সমাজে।
রাধা রসবতী, অতি রসে আরতি, কানু
রসিকবররাজে॥ কুসুমিত কুঞ্জহি, রঞ্জন
মনসিজ, নব নব রঙ্গিণী মেলি। রসময়
ভৃঙ্গ, কতহুঁ রস মধুকরি, ভ্রমি ভ্রমি করু রস
কেলি॥ ধনিরে ধনিরে ধনি, দুহুঁ রূপ লাবণী,
ধনি বৈদগধি কত ভাঁতি। আর কে কহু
কত, দুহুঁ রসে উনমত, জ্ঞান কহে নাহি
দিন রাতি॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাসোৎসব।
॥ কামোদ॥

চন্দন চান্দ,     কুসুম নব কিশলয়,
মন্দ পবন পিকরাব।
বরিহা কপোত,     জোরে জোরে নাচত,
চিতক নিজ পরথাব॥
ভালি রে ভালি,     অভিনব অভিনব,
মদন-সমাজে।
রাধা রসবতী,     অতি রসে আরতি,
কানু রসিকবররাজে॥
কুসুমিত কুঞ্জহি,     রঞ্জন মনসিজ,
নব নব রঙ্গিণী মেলি।
রসময় ভৃঙ্গ,     কতহুঁ রস মধুকীর,
ভ্রমি ভ্রমি করু রস-কেলি॥
ধনিরে ধনিরে ধনি,     দুহুঁ রুপ লাবনী,
ধনি বৈদগধি কত ভাঁতি।
আর কে কহুঁ কত,     দুহুঁ রসে উনমত,
জ্ঞান কহে নাহি দিন-রাতি॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, রাস, ২১৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

চন্দন চান্দ     কুসুম নব কিশলয়
মন্দ পবন পিকু-রাব।
বরিহা কপোত     জোরে জোরে নাচত
চীতক নিজ পরথাব॥
ভালিরে ভালি অভিনব মদন-সমাজে।
রাধা রসবতি     অতি রসে আরতি
কানু রসিক-বর রাজে॥
কুসুমিত কুঞ্জহি     রঞ্জন মনসিজ
নব নব রঙ্গিনি মেলি।
রসময় ভৃঙ্গ     কতহুঁ রস মধুকরি
ভ্রমি ভ্রমি করু রস-কেলি॥
ধনিরে ধনিরে ধনি     দুহুঁ রূপ লাবণি
ধনি বৈদগধি কত ভাতি।
আর কে কহুঁ কত     দুহুঁ রসে উনমত
জ্ঞান কহে নাহি দিন রাতি॥

টীকা ---
কুঞ্জে চন্দনের গন্ধ, চন্দ্রের জ্যোত্স্না, কুসুমদল, নব পল্লব রহিয়াছে, সেখানে মৃদুমন্দ বায়ু বহিতেছে, কোকিল গাহিতেছে এবং ময়ূর ও কপোত যুগলে নাচিতেছে। তাহাদের চিত্তে নিজ হইতেই (পরথাব--প্রসঙ্গ) আনন্দ হইয়াছে।

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২১১ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রাসোৎসব
॥ কামোদ॥

চন্দন চান্দ     কুসুম নব কিশলয়
মন্দ পবন পিকরাব।
বরিহা কপোত     জোরে জোরে নাচত
চিতক নিজ পরথাব॥
ভালি রে ভালি     অভিনব অভিনব
মদন-সমাজে।
রাধা রসবতী     অতি রসে আরতি
কানু রসিকবররাজে॥
কুসুমিত কুঞ্জহি     রঞ্জন মনসিজ
নব নব রঙ্গিণী মেলি।
রসময় ভৃঙ্গ     কতহুঁ রস মধুকরী
ভ্রমি ভ্রমি করু রস-কেলি॥
ধনিরে ধনিরে ধনি     দুহুঁ রুপ লাবনী
ধনি বৈদগধি কত ভাঁতি।
আর কে কহুঁ কত     দুহুঁ রসে উনমত
জ্ঞান কহে নাহি দিন রাতি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪৪০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শারদ রাস
॥ কামোদ॥

চন্দন চান্দ     কুসুম নব কিশলয়
মন্দ পবন পিকুরাব।
বরিহা কপোত     জোরে জোরে নাচত
চীতক নিজ পরথাব॥
ভালি রে ভালি অভিনব মদনসমাজে।
রাধা রসবতি     অতি রসে আরতি
কানু রসিকবর রাজে॥ ধ্রু॥
কুসুমিত কুঞ্জহি     রঞ্জন মনসিজ
নব নব রঙ্গিণি মেলি।
রসময় ভৃঙ্গ     কতহুঁ রসমধুকরি
ভ্রমি ভ্রমি করু রসকেলি॥
ধনি রে ধনি রে ধনি     দুহুঁ রুপলাবণি
ধনি বৈদগধি কত ভাতি।
আর কে কহুঁ কত     দুহুঁ রসে উনমত
জ্ঞান কহে নাহি দিনরাতি॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শারদ রাস
॥ কামোদ॥

চন্দন চান্দ     কুসুম নব কিশলয়
মন্দ পবন পিকু-রাব।
বরিহা কপোত     জোরে জোরে নাচত
চীতক নিজ পরথাব॥
ভালি রে ভালি অভিনব মদন-সমাজে।
রাধা রসবতি     অতি রসে আরতি
কানু রসিক-বর রাজে॥ ধ্রু॥
কুসুমিত কুঞ্জহি     রঞ্জন মনসিজ
নব নব রঙ্গিণি মেলি।
রসময় ভৃঙ্গ     কতহুঁ রস-মধুকরি
ভ্রমি ভ্রমি করু রস-কেলি॥
ধনি রে ধনি রে ধনি     দুহুঁ রুপ-লাবণি
ধনি বৈদগধি কত ভাতি।
আর কে কহুঁ কত     দুহুঁ রসে উনমত
জ্ঞান কহে নাহি দিন-রাতি॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬১৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

চন্দন চান্দ কুসুম নব কিশলয়
      মন্দ পবন পিকুরাব।
বরিহা কপোত জোরে জোরে নাচত
      চীতক নিজ পরথাব॥
ভালি রে ভালি অভিনব মদনসমাজে।
রাধা রসবতি অতি রসে আরতি
      কানু রসিকবর রাজে॥
কুসুমিত কুঞ্জহি রঞ্জন মনসিজ
      নব নব রঙ্গিণি মেলি।
রসময় ভৃঙ্গ কতহুঁ রসমধুকরি
      ভ্রমি ভ্রমি করু রসকেলি॥
ধনি রে ধনি রে ধনি দুহুঁ রূপলাবণি
      ধনি বৈদগধি কত ভাতি।
আর কে কহুঁ কত দুহুঁ রসে উনমত
      জ্ঞান কহে নাহি দিন-রাতি॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^