কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
অবনত-বয়নী না কহে কিছু বাণী
অবনত-বয়নি না কহে কিছু বাণি
অবনতবয়নি না কহে কিছু বাণী
অবনত বয়নে না কহে কিছু বাণী
অবনত বয়ানে না কহে কিছু বাণী
অবনত নয়নী না কহে কিছু বাণী
অবনত বদনে না কহে কিছু বাণী
কবি জ্ঞানদাস
অবনত-বয়নি না কহে কিছু বাণি
অবনতবয়নি না কহে কিছু বাণী
অবনত বয়নে না কহে কিছু বাণী
অবনত বয়ানে না কহে কিছু বাণী
অবনত নয়নী না কহে কিছু বাণী
অবনত বদনে না কহে কিছু বাণী
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭০০ খৃষ্টাব্দে, হরিবল্লভ বা বল্লভ ভণিতার পদকর্তা বিশ্বনাথ চক্রবর্তী দ্বারা সংকলিত এবং ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯৩৮ খৃষ্টাব্দ) রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত "শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি" গ্রন্থের, ৮ম ক্ষণদা---কৃষ্ণা অষ্টমী, ৬৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ ভূপালী॥
অবনত-বয়নী না কহে কিছু বাণী।
পরশিতে তরসি ঠেলই পহুঁ পাণি॥
সুচতুর নাহ করয়ে অনুরোধ।
অভিমানী রাই না মানয়ে বোধ॥
পিরীতি-বচন কছু কহল বিশেষ।
রাইকো হৃদয়ে দেখল রস-লেশ॥
পহিরণ-বাস ধরল যব্ হাত।
তব্ ধনী দীব্ দেওল নিজ মাথ॥
রস-পরসঙ্গে করয়ে বহু রঙ্গ।
নিজ পরথাব নামে দেই ভঙ্গ॥
নাহক আদর বহুত বাঢ়ায়।
জ্ঞান দাস কহে এত না জুয়ায়॥
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে গোকুলানন্দ সেন (বৈষ্ণবদাস) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের ( ১৯১৫ সাল ) ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৮ম পল্লব, শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ----প্রকারান্তর, ২২৩-নং পদসংখ্যায়, ১৪৯-নং পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ কেদার॥
অবনত-বয়নি না কহে কিছু বাণি।
পরশিতে বিহসি ঠেলই পহুঁ-পাণি॥
সুচতুর নাহ করয়ে অনুরোধ।
অভিনব নায়রি না মানয়ে বোধ॥
পিরিতি-বচন পুন কহল বিশেষ।
রাইক হৃদয়ে দেখয়ে লবলেশ॥
পহিরণ বসন ধয়ল যব হাতে।
তব ধনি দীব দেই নিজ মাথে॥
রস-পরসঙ্গে কয়ল কত রঙ্গ।
নিজ পরথাব নামে দেই ভঙ্গ॥
নাহক আদর অধিক বাঢ়ায়।
জ্ঞান দাস কহ এহ না যুয়ায়॥
এই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতী বাংলা-পুথিশালার "রতন লাইব্রেরী সংগ্রহ"-র অন্তর্ভুক্ত ও সংরক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ” পুথির ১৯৮২ সালে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত এবং তপনকুমার মুখোপাধ্যায়, অণিমা মুখোপাধ্যায় ও পরমেশ্বর মাহাতা দ্বারা সহ-সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন গ্রন্থের ৩৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
অবনতবয়নি না কহে কিছু বাণী। পরশিতে বিহসি ঠেলই পহুঁপাণি॥
সুচতুর নাহ করএ অনুরোধ। অভিনব নায়রি না মানই বোধ॥
পিরিতি-বচন পুন কহল বিশেষ। রাইক হৃদএ দেখয়ে নবলেশ॥
পহিরল বসন ধয়ল যব হাথে। তব ধনি দিব দেই নিজমাথে॥
রস পরসঙ্গ কয়ল কত রঙ্গ। নিজ পরথারে নামে দেই ভঙ্গ॥
না হক আদর অধিক বাড়ায়। জ্ঞানদাস কহ এহ না জুয়ায়॥
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সম্ভোগ মিলন।
॥ কেদার॥
অবনত বয়নে না কহে কিছু বাণী।
পরশিতে বিহসি ঠেলই পহুঁ পাণি॥
সুচতুর নাহ করয়ে অনুরোধ।
অভিনব নায়রী না মানয়ে বোধ॥
পিরীতি বচন পুনঃ কহল বিশেষ।
রাইক হৃদয়ে দেখয়ে নবলেশ॥
পহিরণ বসন ধরিল যব হাতে।
তব ধনী দিব দেই নিজ মাথে॥
রস পরসঙ্গে কয়ল কত রঙ্গ।
নিজ পরথাব নামে দেই ভঙ্গ॥
নাহক আদর অধিক বাঢ়য়।
জ্ঞানদাস কহ এহ না জুয়ায়॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) প্রকাশিত অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ১৯১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সম্ভোগ মিলন।
॥ কেদার॥
অবনত বয়নে না কহে কিছু বাণী।
পরশিতে বিহসি ঠেলই পহুঁ পাণি॥
সুচতুর নাহ করয়ে অনুরোধ।
অভিনব নায়রী না মানয়ে বোধ॥
পিরীতি বচন পুনঃ কহল বিশেষ।
রাইক হৃদয়ে দেখয়ে নবলেশ॥
পহিরণ বসন ধরল যব হাতে।
তব ধনী দিব দেই নিজ মাথে॥
রস পরসঙ্গে কয়ল কত রঙ্গ।
নিজ পরথাব নামে দেই ভঙ্গ॥
নাহক আদর অধিক বাঢ়য়।
জ্ঞানদাস কহ এহ না জুয়ায়॥
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৩৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সম্ভোগ মিলন।
॥ কেদার॥
অবনত বয়নে না কহে কিছু বাণী।
পরশিতে বিহসি ঠেলই পহুঁ পাণি॥ সুচ-
তুর নাহ করয়ে অনুরোধ। অভিনব
নায়রী না মানয়ে বোধ॥ পিরীতি বচন
পুনঃ কহল বিশেষ। রাইক হৃদয়ে দেখয়ে
নবলেশ॥ পহিরণ বসন ধরল যব হাতে।
তব ধনী দিব দেই নিজ মাথে॥ রস
পরসঙ্গে কয়ল কত রঙ্গ। নিজ পরথাব
নামে দেই ভঙ্গ॥ নাহক আদর অধিক
বাঢ়য়। জ্ঞানদাস কহে এহ না জুয়ায়॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সম্ভোগ মিলন।
॥ কেদার॥
অবনত বয়নে না কহে কিছু বাণী।
পরশিতে বিহসি ঠেলহ পহুঁ পাণি॥
সুচতুর নাহ করয়ে অনুরোধ।
অভিনব নায়রী না মানয়ে বোধ॥
পিরীতি বচন পুনঃ কহল বিশেষ।
রাইক হৃদয়ে দেখয়ে নবলেশ॥
পহিরণ বসন ধয়ল যব হাতে।
তব ধনী দিব দেই নিজ মাথে॥
রস পরসঙ্গে কয়ল কত রঙ্গ।
নিজ পরথাব নামে দেই ভঙ্গ॥
নাহক আদর অধিক বাঢ়য়।
জ্ঞানদাস কহে এহ না জুয়ায়॥
এই পদটি ১৩১৭ বঙ্গাব্দে (১৯১০ সালে) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ১ম খণ্ড এর ৩৭১ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ
॥ কেদার মিশ্র বেহাগ - তেওট॥
অবনত-বয়নী না কহে কিছু বাণী।
পরশিতে বিহসি ঠেলই বহু পানি॥
সুচতুর নাহ করয়ে অনুরোধ।
অভিনব নায়রী না মানয়ে বোধ॥
পিরীতি বচন পুন কহল বিশেষ।
রাইক হৃদয়ে দেখয়ে নবলেশ॥
পহিরণ বসন ধরল যব হাতে।
তব ধনি দীব দেই নিজ মাথে॥
রস-পরসঙ্গ কয়ল কত রঙ্গ।
নিজ পরখাব নামে দেই ভঙ্গ॥
নাহক আদর অধিক বাঢ়ায়।
জ্ঞানদাস কহে ঐছে না যুয়ায়॥
এই পদটি ১৩১৭ বঙ্গাব্দে (১৯১০ সালে) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ১ম খণ্ড এর ৪৪৫ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
অভিসার ও মিলন।
॥ বিহাগড়া - দুঠুকী॥
অবনত বয়ানে না কহে কিছু বাণী।
পরশিতে বিহসি ঠেলই পহুঁ পাণি॥
সুচতুর নাহ করয়ে অনুরোধ।
অভিনব নায়রী না মানয়ে বোধ॥
পিরীতি বচন পুন কহল বিশেষ।
রাইক হৃদয়ে দেখয়ে লব লেশ॥
পহিরণ বসন ধরল যব হাতে।
তব ধনি দীব দেই নিজ মাথে॥
রস পরসঙ্গ করল কত রঙ্গ।
নিজ পরথাব নামে দেই ভঙ্গ॥
নাহক আদর অধিক বাড়ায়।
জ্ঞানদাস কহে ঐছে না জুয়ায়॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, ১৪৪পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
যুগল মিলন।
অবনত নয়নী না কহে কিছু বাণী।
পরশিতে তরসি ঠেলই পহুঁ পাণি॥
সুচতুর নাহ করয়ে অনুরোধ।
অভিনব রাই না মানয়ে বোধ॥
পিরিতি বচন কছু কহ যে বিশেষ।
রাইকো হৃদয়ে দেখয়ে রস-লেশ॥
পহিরণ বাস ধরল যব হাত।
তব ধনী দিব দেওল নিজ মাথ॥
রস পরসয়ে করয়ে বহু রঙ্গ।
নিজ পরথাব নামে দেই ভঙ্গ॥
নাহক আদর বহুত বাড়ায়।
জ্ঞানদাস কহে এত না জুয়ায়॥
টীকা ---
প্রথম সঙ্গমভীতা রাধিকা চোখ নীচু করিয়া থাকেন, কিছু কথা বলেন না। প্রভু তাঁহাকে স্পর্শ করিতে গেলে তিনি ভয়ে তাঁহার হাত ঠেলিয়া দেন। সুচতুর নাথ তাঁহাকে অনুরোধ করেন, রাই প্রবোধ মানেন না। কান্ত তখন তাঁহাকে কিছু ভালবাসার কথা বলিলেন। তাহাতে তিনি বুঝিতে পারিলেন যে রাধার হৃদয়ে কিঞ্চিত রসের সঞ্চার হইয়াছে। তিনি যখন তাঁহার পরিধেয় বস্ত্র হাতে ধরিলেন তখন সুন্দরী নিজের মাথার দিব্য দিলেন। রসের প্রস্তাবের প্রসঙ্গে অনেক রঙ্গ করিলেন কিন্তু আসল প্রস্তাবের বেলায় কাজে ভঙ্গ দিলেন। এইরূপে নাথের আদর খুব বাড়াইলেন, জ্ঞানদাস বলেন এতটা করা যুক্তিসঙ্গত নহে।
এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা তাঁর সারা জীবন ধরে, আনুমানিক ১৮৮০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত ও সংকলিত এবং তাঁর মৃত্যুর প্রায় ৫০ বছর পরে তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন "শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু" এর ২০৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ কেদার॥
অবনত বদনে না কহে কিছু বাণী। পরশিতে রহসি ঠেলই পহু পাণি॥
সুচতুর নাহ করয়ে অনুরোধ। অভিনব নায়রি না মানয়ে বোধ॥ পিরীতি
বচন পুন কহল বিশেষ। রাইক হৃদয়ে দেখয়ে নবলেশ॥ পহিরল বসন
ধয়ল যব হাতে। তব ধনি দিব্য দেই নিজ মাথে॥ রস পরসঙ্গ করল কত
রঙ্গ। নিজ পরথাব নামে দেই ভঙ্গ॥ নাহক আদর অধিক বাঢ়ায়। জ্ঞান
দাস কহে এই না যুয়ায়॥
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ১৯৫ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
সম্ভোগ মিলন।
॥ কেদার॥
অবনত বয়নে না কহে কিছু বাণী।
পরশিতে বিহসি ঠেলই পহুঁ পাণি॥
সুচতুর নহ করয়ে অনুরোধ।
অভিনব নায়রী না মানয়ে বোধ॥
পিরীতি বচন পুনঃ কহল বিশেষ।
রাইক হৃদয়ে দেখয়ে নবলেশ॥
পহিরণ বসন ধরিল যব হাতে?
তব ধনী দিব দেই নিজ মাথে॥
রস পরসঙ্গে কয়ল কত রঙ্গ।
নিজ পরথাব নামে দেই ভঙ্গ॥
নাহক আদর অধিক বাঢ়য়।
জ্ঞানদাস কহে এহ না জুয়ায়॥
*********************
॥ ভূপালী॥
অবনত-বয়নী না কহে কিছু বাণী।
পরশিতে তরসি ঠেলই পহুঁ পাণি॥
সুচতুর নাহ করয়ে অনুরোধ।
অভিমানী রাই না মানয়ে বোধ॥
পিরীতি-বচন কছু কহল বিশেষ।
রাইকো হৃদয়ে দেখল রস-লেশ॥
পহিরণ-বাস ধরল যব্ হাত।
তব্ ধনী দীব্ দেওল নিজ মাথ॥
রস-পরসঙ্গে করয়ে বহু রঙ্গ।
নিজ পরথাব নামে দেই ভঙ্গ॥
নাহক আদর বহুত বাঢ়ায়।
জ্ঞান দাস কহে এত না জুয়ায়॥
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে গোকুলানন্দ সেন (বৈষ্ণবদাস) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের ( ১৯১৫ সাল ) ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৮ম পল্লব, শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ----প্রকারান্তর, ২২৩-নং পদসংখ্যায়, ১৪৯-নং পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ কেদার॥
অবনত-বয়নি না কহে কিছু বাণি।
পরশিতে বিহসি ঠেলই পহুঁ-পাণি॥
সুচতুর নাহ করয়ে অনুরোধ।
অভিনব নায়রি না মানয়ে বোধ॥
পিরিতি-বচন পুন কহল বিশেষ।
রাইক হৃদয়ে দেখয়ে লবলেশ॥
পহিরণ বসন ধয়ল যব হাতে।
তব ধনি দীব দেই নিজ মাথে॥
রস-পরসঙ্গে কয়ল কত রঙ্গ।
নিজ পরথাব নামে দেই ভঙ্গ॥
নাহক আদর অধিক বাঢ়ায়।
জ্ঞান দাস কহ এহ না যুয়ায়॥
এই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতী বাংলা-পুথিশালার "রতন লাইব্রেরী সংগ্রহ"-র অন্তর্ভুক্ত ও সংরক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ” পুথির ১৯৮২ সালে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত এবং তপনকুমার মুখোপাধ্যায়, অণিমা মুখোপাধ্যায় ও পরমেশ্বর মাহাতা দ্বারা সহ-সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন গ্রন্থের ৩৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
অবনতবয়নি না কহে কিছু বাণী। পরশিতে বিহসি ঠেলই পহুঁপাণি॥
সুচতুর নাহ করএ অনুরোধ। অভিনব নায়রি না মানই বোধ॥
পিরিতি-বচন পুন কহল বিশেষ। রাইক হৃদএ দেখয়ে নবলেশ॥
পহিরল বসন ধয়ল যব হাথে। তব ধনি দিব দেই নিজমাথে॥
রস পরসঙ্গ কয়ল কত রঙ্গ। নিজ পরথারে নামে দেই ভঙ্গ॥
না হক আদর অধিক বাড়ায়। জ্ঞানদাস কহ এহ না জুয়ায়॥
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সম্ভোগ মিলন।
॥ কেদার॥
অবনত বয়নে না কহে কিছু বাণী।
পরশিতে বিহসি ঠেলই পহুঁ পাণি॥
সুচতুর নাহ করয়ে অনুরোধ।
অভিনব নায়রী না মানয়ে বোধ॥
পিরীতি বচন পুনঃ কহল বিশেষ।
রাইক হৃদয়ে দেখয়ে নবলেশ॥
পহিরণ বসন ধরিল যব হাতে।
তব ধনী দিব দেই নিজ মাথে॥
রস পরসঙ্গে কয়ল কত রঙ্গ।
নিজ পরথাব নামে দেই ভঙ্গ॥
নাহক আদর অধিক বাঢ়য়।
জ্ঞানদাস কহ এহ না জুয়ায়॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) প্রকাশিত অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ১৯১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সম্ভোগ মিলন।
॥ কেদার॥
অবনত বয়নে না কহে কিছু বাণী।
পরশিতে বিহসি ঠেলই পহুঁ পাণি॥
সুচতুর নাহ করয়ে অনুরোধ।
অভিনব নায়রী না মানয়ে বোধ॥
পিরীতি বচন পুনঃ কহল বিশেষ।
রাইক হৃদয়ে দেখয়ে নবলেশ॥
পহিরণ বসন ধরল যব হাতে।
তব ধনী দিব দেই নিজ মাথে॥
রস পরসঙ্গে কয়ল কত রঙ্গ।
নিজ পরথাব নামে দেই ভঙ্গ॥
নাহক আদর অধিক বাঢ়য়।
জ্ঞানদাস কহ এহ না জুয়ায়॥
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৩৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সম্ভোগ মিলন।
॥ কেদার॥
অবনত বয়নে না কহে কিছু বাণী।
পরশিতে বিহসি ঠেলই পহুঁ পাণি॥ সুচ-
তুর নাহ করয়ে অনুরোধ। অভিনব
নায়রী না মানয়ে বোধ॥ পিরীতি বচন
পুনঃ কহল বিশেষ। রাইক হৃদয়ে দেখয়ে
নবলেশ॥ পহিরণ বসন ধরল যব হাতে।
তব ধনী দিব দেই নিজ মাথে॥ রস
পরসঙ্গে কয়ল কত রঙ্গ। নিজ পরথাব
নামে দেই ভঙ্গ॥ নাহক আদর অধিক
বাঢ়য়। জ্ঞানদাস কহে এহ না জুয়ায়॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সম্ভোগ মিলন।
॥ কেদার॥
অবনত বয়নে না কহে কিছু বাণী।
পরশিতে বিহসি ঠেলহ পহুঁ পাণি॥
সুচতুর নাহ করয়ে অনুরোধ।
অভিনব নায়রী না মানয়ে বোধ॥
পিরীতি বচন পুনঃ কহল বিশেষ।
রাইক হৃদয়ে দেখয়ে নবলেশ॥
পহিরণ বসন ধয়ল যব হাতে।
তব ধনী দিব দেই নিজ মাথে॥
রস পরসঙ্গে কয়ল কত রঙ্গ।
নিজ পরথাব নামে দেই ভঙ্গ॥
নাহক আদর অধিক বাঢ়য়।
জ্ঞানদাস কহে এহ না জুয়ায়॥
এই পদটি ১৩১৭ বঙ্গাব্দে (১৯১০ সালে) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ১ম খণ্ড এর ৩৭১ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ
॥ কেদার মিশ্র বেহাগ - তেওট॥
অবনত-বয়নী না কহে কিছু বাণী।
পরশিতে বিহসি ঠেলই বহু পানি॥
সুচতুর নাহ করয়ে অনুরোধ।
অভিনব নায়রী না মানয়ে বোধ॥
পিরীতি বচন পুন কহল বিশেষ।
রাইক হৃদয়ে দেখয়ে নবলেশ॥
পহিরণ বসন ধরল যব হাতে।
তব ধনি দীব দেই নিজ মাথে॥
রস-পরসঙ্গ কয়ল কত রঙ্গ।
নিজ পরখাব নামে দেই ভঙ্গ॥
নাহক আদর অধিক বাঢ়ায়।
জ্ঞানদাস কহে ঐছে না যুয়ায়॥
এই পদটি ১৩১৭ বঙ্গাব্দে (১৯১০ সালে) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ১ম খণ্ড এর ৪৪৫ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
অভিসার ও মিলন।
॥ বিহাগড়া - দুঠুকী॥
অবনত বয়ানে না কহে কিছু বাণী।
পরশিতে বিহসি ঠেলই পহুঁ পাণি॥
সুচতুর নাহ করয়ে অনুরোধ।
অভিনব নায়রী না মানয়ে বোধ॥
পিরীতি বচন পুন কহল বিশেষ।
রাইক হৃদয়ে দেখয়ে লব লেশ॥
পহিরণ বসন ধরল যব হাতে।
তব ধনি দীব দেই নিজ মাথে॥
রস পরসঙ্গ করল কত রঙ্গ।
নিজ পরথাব নামে দেই ভঙ্গ॥
নাহক আদর অধিক বাড়ায়।
জ্ঞানদাস কহে ঐছে না জুয়ায়॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, ১৪৪পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
যুগল মিলন।
অবনত নয়নী না কহে কিছু বাণী।
পরশিতে তরসি ঠেলই পহুঁ পাণি॥
সুচতুর নাহ করয়ে অনুরোধ।
অভিনব রাই না মানয়ে বোধ॥
পিরিতি বচন কছু কহ যে বিশেষ।
রাইকো হৃদয়ে দেখয়ে রস-লেশ॥
পহিরণ বাস ধরল যব হাত।
তব ধনী দিব দেওল নিজ মাথ॥
রস পরসয়ে করয়ে বহু রঙ্গ।
নিজ পরথাব নামে দেই ভঙ্গ॥
নাহক আদর বহুত বাড়ায়।
জ্ঞানদাস কহে এত না জুয়ায়॥
টীকা ---
প্রথম সঙ্গমভীতা রাধিকা চোখ নীচু করিয়া থাকেন, কিছু কথা বলেন না। প্রভু তাঁহাকে স্পর্শ করিতে গেলে তিনি ভয়ে তাঁহার হাত ঠেলিয়া দেন। সুচতুর নাথ তাঁহাকে অনুরোধ করেন, রাই প্রবোধ মানেন না। কান্ত তখন তাঁহাকে কিছু ভালবাসার কথা বলিলেন। তাহাতে তিনি বুঝিতে পারিলেন যে রাধার হৃদয়ে কিঞ্চিত রসের সঞ্চার হইয়াছে। তিনি যখন তাঁহার পরিধেয় বস্ত্র হাতে ধরিলেন তখন সুন্দরী নিজের মাথার দিব্য দিলেন। রসের প্রস্তাবের প্রসঙ্গে অনেক রঙ্গ করিলেন কিন্তু আসল প্রস্তাবের বেলায় কাজে ভঙ্গ দিলেন। এইরূপে নাথের আদর খুব বাড়াইলেন, জ্ঞানদাস বলেন এতটা করা যুক্তিসঙ্গত নহে।
এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা তাঁর সারা জীবন ধরে, আনুমানিক ১৮৮০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত ও সংকলিত এবং তাঁর মৃত্যুর প্রায় ৫০ বছর পরে তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন "শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু" এর ২০৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ কেদার॥
অবনত বদনে না কহে কিছু বাণী। পরশিতে রহসি ঠেলই পহু পাণি॥
সুচতুর নাহ করয়ে অনুরোধ। অভিনব নায়রি না মানয়ে বোধ॥ পিরীতি
বচন পুন কহল বিশেষ। রাইক হৃদয়ে দেখয়ে নবলেশ॥ পহিরল বসন
ধয়ল যব হাতে। তব ধনি দিব্য দেই নিজ মাথে॥ রস পরসঙ্গ করল কত
রঙ্গ। নিজ পরথাব নামে দেই ভঙ্গ॥ নাহক আদর অধিক বাঢ়ায়। জ্ঞান
দাস কহে এই না যুয়ায়॥
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ১৯৫ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
সম্ভোগ মিলন।
॥ কেদার॥
অবনত বয়নে না কহে কিছু বাণী।
পরশিতে বিহসি ঠেলই পহুঁ পাণি॥
সুচতুর নহ করয়ে অনুরোধ।
অভিনব নায়রী না মানয়ে বোধ॥
পিরীতি বচন পুনঃ কহল বিশেষ।
রাইক হৃদয়ে দেখয়ে নবলেশ॥
পহিরণ বসন ধরিল যব হাতে?
তব ধনী দিব দেই নিজ মাথে॥
রস পরসঙ্গে কয়ল কত রঙ্গ।
নিজ পরথাব নামে দেই ভঙ্গ॥
নাহক আদর অধিক বাঢ়য়।
জ্ঞানদাস কহে এহ না জুয়ায়॥
*********************
