কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
নাগরি নাগর শ্যাম রসরাজে
নাগরী নাগর শ্যাম রাজে
নাগরী নাগর রাই রসরাজে
নাগরি নাগর রাই রসরাজে
কবি জ্ঞানদাস
নাগরী নাগর শ্যাম রাজে
নাগরী নাগর রাই রসরাজে
নাগরি নাগর রাই রসরাজে
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৪শ পল্লব, শরত্কালীয় মহারাস, ১২৮৫- নং পদসংখ্যা, ৩২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ সুহই॥
নাগরি নাগর শ্যাম রসরাজে।
রঙ্গে মিলল দুহুঁ মণ্ডলি মাঝে॥
অতিরসে পুলকিত অঙ্গ।
উপজত কত কত মদন-তরঙ্গ॥
বিগলিত কেশ-বেশ ভেল অঙ্গ।
রতি-রস-আবেশে বাঢ়ল দুহুঁ রঙ্গ॥
রাসে রসিকবর বিলসই রাধা।
গৌর আধ তনু শ্যামর আধা॥ ধ্রু॥
দুহুঁ সুখে আপনে নাহি রস-ওর।
হেম মরকত জনু লাগল জোর॥
ভুজে ভুজে বেঢ়ি অধর-রস নেল।
দুহুঁ মুখ-চাঁদে দুহুঁ চুম্বন দেল॥
দুহুঁক মরম দুহুঁ জানল ভাল।
জ্ঞানদাস কহে মদন দালাল॥
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
রাসলীলা
॥ সুহই॥
নাগরী নাগর শ্যাম রাজে।
রঙ্গে মিলল দুহুঁ মণ্ডলী মাঝে॥
অতি রসে পুলকিত অঙ্গ।
উপজত কত কত মদন তরঙ্গ॥
বিগলিত কেশ বেশ ভেল অঙ্গ।
রতি রসে আবেশে বাঢ়ল দুই রঙ্গ॥
রাসে রসিকবর বিলসই রাধা।
গৌর আধ তনু শ্যামর আধা॥ ধ্রু।
দুহুঁ সুখে আপনে নাহি রস ওর।
হেম মরকত জনু লাগল জোর॥
ভুজে ভুজে বেঢ়ি অধর রস নেল।
দুহুঁ মুখ-চান্দে দুহুঁ চুম্বন দেল॥
দুহুঁক মরম দুহুঁ জানল ভাল।
জ্ঞানদাস কহে মদন দালাল॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২১৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
রাসোৎসব।
নাগরী নাগর শ্যাম রাজে।
রঙ্গে মিলল দুহুঁ মণ্ডলী মাঝে॥
অতি রসে পুলকিত অঙ্গ।
উপজল কত কত মদন তরঙ্গ॥
বিগলিত কেশ বেশ ভেল ভঙ্গ।
রতি রসে আবেশে বাঢ়ল দুই রঙ্গ॥
রাসে রসিকবর বিলসই রাধা।
গৌর আধ তনু শ্যামর আধা॥
দুহুঁ সুখে আপনে নাহি রস ওর।
হেম মরকত জনু লাগল জোর॥
ভুজে ভুজে বেঢ়ি অধর রস নেল।
দুহুঁ মুখ চান্দে দুহুঁ চুম্বন দেল॥
দুহুঁক মরম দুহুঁ জানল ভাল।
জ্ঞানদাস কহে মদন দালাল॥
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৫৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
রাসোৎসব
॥ সুহই॥
নাগরী নাগর শ্যামরাজে। রঙ্গে
মিলল দুহুঁ মণ্ডলী মাঝে॥ অতি রসে পুল-
কিত অঙ্গ। উপজল কত কত মদন
তরঙ্গ॥ বিগলিত কেশ বেশ ভেল ভঙ্গ।
রতি রসে আবেশে বাঢ়ল দুই রঙ্গ॥ রাসে
রসিকবর বিলাসই রাধা। গৌর আধ তনু
শ্যামর আধা॥ দুহুঁ সুখে আপনে নাহি রস
ওর। হেম মরকত জনু লাগল জোর॥
ভুজে ভুজে বেঢ়ি অধর রস নেল। দুহুঁ মুখ
চান্দে দুহুঁ চুম্বন দেল॥ দুহুঁক মরম
দুহুঁ জানল ভাল। জ্ঞানদাস কহে মদন
দালাল॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
রাসোৎসব
॥ সুহই॥
নাগরী নাগর শ্যামরাজে।
রঙ্গে মিলল দুহুঁ মণ্ডলীমাঝে॥
অতি রসে পুলকিত অঙ্গ।
উপজল কত কত মদনতরঙ্গ॥
বিগলিত কেশ বেশ ভেল অঙ্গ।
রতি রসে আবেশে বাঢ়ল দুই রঙ্গ॥
রাসে রসিকবর বিলসই রাধা।
গৌর আধ তনু শ্যামর আধা॥
দুহুঁ সুখে আপনে নাহি রস ওর।
হেম মরকত জনু লাগল জোর॥
ভুজে ভুজে বেঢ়ি অধররস নেল।
দুহুঁ মুখচান্দে দুহুঁ চুম্বন দেল॥
দুহুঁক মরম দুহুঁ জানল ভাল।
জ্ঞানদাস কহে মদন-দালাল॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, রাস, ২১২ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নাগরি নাগর শ্যাম রসরাজে।
রঙ্গে মিলল দুহুঁ মণ্ডলি মাঝে॥
অতিরসে পুলকিত অঙ্গ।
উপজত কত কত মদন-তরঙ্গ॥
বিগলিত কেশ বেশ ভেল ভঙ্গ।
রতি-রস-আবেশে বাঢ়ল দুহুঁ রঙ্গ॥
রাসে রসিকবর বিলসই রাধা।
গৌর আধ তনু শ্যামর আধা॥
দুহুঁ সুখে আপনে নাহি রস-ওর।
হেম মরকত জনু লাগল জোর॥
ভুজে ভুজে বেঢ়ি অধর-রস নেল।
দুহুঁ মুখ-চাঁদে দুহুঁ চুম্বন দেল॥
দুহুঁক মরম দুহুঁ জানল ভাল।
জ্ঞানদাস কহে মদন দালাল॥
এই পদটি ১৩২৭ সালে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, বিবিধ, ২৬০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নাগরী নাগর শ্যাম রাজে।
রঙ্গে মিলল দোঁহে মণ্ডলী মাঝে॥
রতি রসে পুলকিত অঙ্গ।
উপজল কত কত মদন তরঙ্গ॥
বিগলিত কেশ বেশ ভেল ভঙ্গ।
রতি রসে আবেশে বাড়ল দুহু অঙ্গ॥
রাস রসিকবর বিলসই রাধা।
গৌর আধতনু শ্যামরু আধা॥
দুহুঁ সুখে আপনে নাহি রস ভোর।
হেম মরকত জনু নাগর জোর॥
ভুজে ভুজে বেড়ি অধররস লেল।
দুহুঁ মুখ চাঁদ দুহু চুম্বন দেল॥
দুহুক মরম দুহু জানল ভাল।
জ্ঞানদাস কহে মদন রসাল॥
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, “কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২১৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
রাসোৎসব
॥ সুহই॥
নাগরী নাগর শ্যামরাজে।
রঙ্গে মিলল দুহুঁ মণ্ডলীমাঝে॥
অতি রসে পুলকিত অঙ্গ।
উপজল কত কত মদন তরঙ্গ॥
বিগলিত কেশ বেশ ভেল ভঙ্গ।
রতিরসে আবেশে বাঢ়ল দুই রঙ্গ॥
রাসে রসিকবর বিলসই রাধা।
গৌর আধ তনু শ্যামর আধা॥
দুহুঁ সুখে আপনে নাহি রস ওর।
হেম মরকত জনু লাগল জোর॥
ভুজে ভুজে বেঢ়ি অধর-রস নেল।
দুহুঁ মুখচান্দে দুহুঁ চুম্বন দেল॥
দুহুঁক মরম দুহুঁ জানল ভাল।
জ্ঞানদাস কহে মদন দালাল॥
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪৪০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শারদ রাস
॥ সুহই॥
নাগরী নাগর রাই রসরাজে।
রঙ্গে মিলল দুহুঁ মণ্ডলিমাঝে॥
অতি রসে পুলকিত অঙ্গ।
উপজত কত কত মদনতরঙ্গ॥
বিগলিত কেশ বেশ ভেল ভঙ্গ।
রতিরস আবেশে বাঢ়ল দুহুঁ রঙ্গ॥
রাসে রসিকবর বিলসই রাধা।
গৌর আধ তনু শ্যামর আধা॥
দুহুঁ সুখে আপনে নাহি রস ওর।
হেম মরকত জনু লাগল জোর॥
ভুজে ভুজে বেঢ়ি অধররস নেল।
দুহুঁ মুখচান্দে দুহুঁ চুম্বন কেল॥
দুহুঁক মরম দুহুঁ জানল ভাল।
জ্ঞানদাস কহে মদন দালাল॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
শারদ রাস
॥ সুহই॥
নাগরি-নাগর রাই-রসরাজে।
রঙ্গে মিলল দুহুঁ মণ্ডলি-মাঝে॥
অতি রসে পুলকিত অঙ্গ।
উপজত কত কত মদন-তরঙ্গ॥
বিগলিত কেশ বেশ ভেল ভঙ্গ।
রতি-রস-আবেশে বাঢ়ল দুহুঁ রঙ্গ॥
রাসে রসিকবর বিলসই রাধা।
গৌর আধ তনু শ্যামর আধা॥
দুহুঁ সুখে আপনে নাহি রস-ওর।
হেম-মরকত জনু লাগল জোর॥
ভুজে ভুজে বেঢ়ি অধর-রস নেল।
দুহু মুখ-চান্দে দুহু চুম্বন কেল॥
দুহুঁক মরম দুহুঁ জানল ভাল।
জ্ঞানদাস কহে মদন দালাল॥
টীকা---
নাগরী-নাগর --- শ্রীমতী রাধা ও রসরাজ শ্রীকৃষ্ণ দুইজনে রঙ্গে রাসমণ্ডলী-মাঝে মিলিত হইল। অতি-রসে অঙ্গ পুলকিত, কত কত মদন-তরঙ্গ আবির্ভূত হইতেছে। কেশ বিগলিত ও বেশ বিপর্যস্ত হইল। রতি-রস-আবেশে দুইজনের রঙ্গ বাড়িল। রসিকপ্রবর শ্রীকৃষ্ণ ও রসময়ী রাধা রাসে বিলাস করিতেছে। (এমনভাবে মিলিত হইয়াছে যে দেখিয়া মনে হইতেছে একই দেহের) আধ গৌর ও আধ শ্যাম। দুইজনেরই আপন আপন সুখে রসের শেষ নাই। যেন স্বর্ণে এবং মরকতে জোর লাগিয়াছে। ভুজে ভুজে জড়াইয়া অধররস পান করিল। দুইজনের চান্দমুখে দুইজনে চুম্বন করিল, দুইজনের মর্ম দুইজনেই ভাল জানিল। জ্ঞানদাস বলিতেছেন, মদন দালাল (রসের আদানপ্রদানে উভয়ের মধ্যস্থ)।
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৩১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নাগরি নাগর রাই রসরাজে।
রঙ্গে মিলল দুহুঁ মণ্ডলিমাঝে॥
অতি রসে পুলকিত অঙ্গ।
উপজত কত কত মদনতরঙ্গ॥
বিগলিত কেশ বেশ ভেল ভঙ্গ।
রতিরস আবেশে বাঢ়ল দুহুঁ রঙ্গ॥
রাসে রসিকবর বিলসই রাধা।
গৌর আধ তনু শ্যামর আধা॥
দুহুঁ সুখে আপনে নাহি রস ওর।
হেম মরকত জনু লাগল জোর॥
ভুজে ভুজে বেঢ়ি অধররস নেল। @
দুহুঁক মরম দুহুঁ জানল ভাল॥
জ্ঞানদাস কহে মদন দালাল॥
@ - এখানে একটি পংক্তি বাদ গিয়েছে।
*********************
নাগরি নাগর শ্যাম রসরাজে।
রঙ্গে মিলল দুহুঁ মণ্ডলি মাঝে॥
অতিরসে পুলকিত অঙ্গ।
উপজত কত কত মদন-তরঙ্গ॥
বিগলিত কেশ-বেশ ভেল অঙ্গ।
রতি-রস-আবেশে বাঢ়ল দুহুঁ রঙ্গ॥
রাসে রসিকবর বিলসই রাধা।
গৌর আধ তনু শ্যামর আধা॥ ধ্রু॥
দুহুঁ সুখে আপনে নাহি রস-ওর।
হেম মরকত জনু লাগল জোর॥
ভুজে ভুজে বেঢ়ি অধর-রস নেল।
দুহুঁ মুখ-চাঁদে দুহুঁ চুম্বন দেল॥
দুহুঁক মরম দুহুঁ জানল ভাল।
জ্ঞানদাস কহে মদন দালাল॥
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
রাসলীলা
॥ সুহই॥
নাগরী নাগর শ্যাম রাজে।
রঙ্গে মিলল দুহুঁ মণ্ডলী মাঝে॥
অতি রসে পুলকিত অঙ্গ।
উপজত কত কত মদন তরঙ্গ॥
বিগলিত কেশ বেশ ভেল অঙ্গ।
রতি রসে আবেশে বাঢ়ল দুই রঙ্গ॥
রাসে রসিকবর বিলসই রাধা।
গৌর আধ তনু শ্যামর আধা॥ ধ্রু।
দুহুঁ সুখে আপনে নাহি রস ওর।
হেম মরকত জনু লাগল জোর॥
ভুজে ভুজে বেঢ়ি অধর রস নেল।
দুহুঁ মুখ-চান্দে দুহুঁ চুম্বন দেল॥
দুহুঁক মরম দুহুঁ জানল ভাল।
জ্ঞানদাস কহে মদন দালাল॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২১৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
রাসোৎসব।
নাগরী নাগর শ্যাম রাজে।
রঙ্গে মিলল দুহুঁ মণ্ডলী মাঝে॥
অতি রসে পুলকিত অঙ্গ।
উপজল কত কত মদন তরঙ্গ॥
বিগলিত কেশ বেশ ভেল ভঙ্গ।
রতি রসে আবেশে বাঢ়ল দুই রঙ্গ॥
রাসে রসিকবর বিলসই রাধা।
গৌর আধ তনু শ্যামর আধা॥
দুহুঁ সুখে আপনে নাহি রস ওর।
হেম মরকত জনু লাগল জোর॥
ভুজে ভুজে বেঢ়ি অধর রস নেল।
দুহুঁ মুখ চান্দে দুহুঁ চুম্বন দেল॥
দুহুঁক মরম দুহুঁ জানল ভাল।
জ্ঞানদাস কহে মদন দালাল॥
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৫৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
রাসোৎসব
॥ সুহই॥
নাগরী নাগর শ্যামরাজে। রঙ্গে
মিলল দুহুঁ মণ্ডলী মাঝে॥ অতি রসে পুল-
কিত অঙ্গ। উপজল কত কত মদন
তরঙ্গ॥ বিগলিত কেশ বেশ ভেল ভঙ্গ।
রতি রসে আবেশে বাঢ়ল দুই রঙ্গ॥ রাসে
রসিকবর বিলাসই রাধা। গৌর আধ তনু
শ্যামর আধা॥ দুহুঁ সুখে আপনে নাহি রস
ওর। হেম মরকত জনু লাগল জোর॥
ভুজে ভুজে বেঢ়ি অধর রস নেল। দুহুঁ মুখ
চান্দে দুহুঁ চুম্বন দেল॥ দুহুঁক মরম
দুহুঁ জানল ভাল। জ্ঞানদাস কহে মদন
দালাল॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
রাসোৎসব
॥ সুহই॥
নাগরী নাগর শ্যামরাজে।
রঙ্গে মিলল দুহুঁ মণ্ডলীমাঝে॥
অতি রসে পুলকিত অঙ্গ।
উপজল কত কত মদনতরঙ্গ॥
বিগলিত কেশ বেশ ভেল অঙ্গ।
রতি রসে আবেশে বাঢ়ল দুই রঙ্গ॥
রাসে রসিকবর বিলসই রাধা।
গৌর আধ তনু শ্যামর আধা॥
দুহুঁ সুখে আপনে নাহি রস ওর।
হেম মরকত জনু লাগল জোর॥
ভুজে ভুজে বেঢ়ি অধররস নেল।
দুহুঁ মুখচান্দে দুহুঁ চুম্বন দেল॥
দুহুঁক মরম দুহুঁ জানল ভাল।
জ্ঞানদাস কহে মদন-দালাল॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, রাস, ২১২ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নাগরি নাগর শ্যাম রসরাজে।
রঙ্গে মিলল দুহুঁ মণ্ডলি মাঝে॥
অতিরসে পুলকিত অঙ্গ।
উপজত কত কত মদন-তরঙ্গ॥
বিগলিত কেশ বেশ ভেল ভঙ্গ।
রতি-রস-আবেশে বাঢ়ল দুহুঁ রঙ্গ॥
রাসে রসিকবর বিলসই রাধা।
গৌর আধ তনু শ্যামর আধা॥
দুহুঁ সুখে আপনে নাহি রস-ওর।
হেম মরকত জনু লাগল জোর॥
ভুজে ভুজে বেঢ়ি অধর-রস নেল।
দুহুঁ মুখ-চাঁদে দুহুঁ চুম্বন দেল॥
দুহুঁক মরম দুহুঁ জানল ভাল।
জ্ঞানদাস কহে মদন দালাল॥
এই পদটি ১৩২৭ সালে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, বিবিধ, ২৬০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নাগরী নাগর শ্যাম রাজে।
রঙ্গে মিলল দোঁহে মণ্ডলী মাঝে॥
রতি রসে পুলকিত অঙ্গ।
উপজল কত কত মদন তরঙ্গ॥
বিগলিত কেশ বেশ ভেল ভঙ্গ।
রতি রসে আবেশে বাড়ল দুহু অঙ্গ॥
রাস রসিকবর বিলসই রাধা।
গৌর আধতনু শ্যামরু আধা॥
দুহুঁ সুখে আপনে নাহি রস ভোর।
হেম মরকত জনু নাগর জোর॥
ভুজে ভুজে বেড়ি অধররস লেল।
দুহুঁ মুখ চাঁদ দুহু চুম্বন দেল॥
দুহুক মরম দুহু জানল ভাল।
জ্ঞানদাস কহে মদন রসাল॥
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, “কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২১৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
রাসোৎসব
॥ সুহই॥
নাগরী নাগর শ্যামরাজে।
রঙ্গে মিলল দুহুঁ মণ্ডলীমাঝে॥
অতি রসে পুলকিত অঙ্গ।
উপজল কত কত মদন তরঙ্গ॥
বিগলিত কেশ বেশ ভেল ভঙ্গ।
রতিরসে আবেশে বাঢ়ল দুই রঙ্গ॥
রাসে রসিকবর বিলসই রাধা।
গৌর আধ তনু শ্যামর আধা॥
দুহুঁ সুখে আপনে নাহি রস ওর।
হেম মরকত জনু লাগল জোর॥
ভুজে ভুজে বেঢ়ি অধর-রস নেল।
দুহুঁ মুখচান্দে দুহুঁ চুম্বন দেল॥
দুহুঁক মরম দুহুঁ জানল ভাল।
জ্ঞানদাস কহে মদন দালাল॥
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪৪০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শারদ রাস
॥ সুহই॥
নাগরী নাগর রাই রসরাজে।
রঙ্গে মিলল দুহুঁ মণ্ডলিমাঝে॥
অতি রসে পুলকিত অঙ্গ।
উপজত কত কত মদনতরঙ্গ॥
বিগলিত কেশ বেশ ভেল ভঙ্গ।
রতিরস আবেশে বাঢ়ল দুহুঁ রঙ্গ॥
রাসে রসিকবর বিলসই রাধা।
গৌর আধ তনু শ্যামর আধা॥
দুহুঁ সুখে আপনে নাহি রস ওর।
হেম মরকত জনু লাগল জোর॥
ভুজে ভুজে বেঢ়ি অধররস নেল।
দুহুঁ মুখচান্দে দুহুঁ চুম্বন কেল॥
দুহুঁক মরম দুহুঁ জানল ভাল।
জ্ঞানদাস কহে মদন দালাল॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
শারদ রাস
॥ সুহই॥
নাগরি-নাগর রাই-রসরাজে।
রঙ্গে মিলল দুহুঁ মণ্ডলি-মাঝে॥
অতি রসে পুলকিত অঙ্গ।
উপজত কত কত মদন-তরঙ্গ॥
বিগলিত কেশ বেশ ভেল ভঙ্গ।
রতি-রস-আবেশে বাঢ়ল দুহুঁ রঙ্গ॥
রাসে রসিকবর বিলসই রাধা।
গৌর আধ তনু শ্যামর আধা॥
দুহুঁ সুখে আপনে নাহি রস-ওর।
হেম-মরকত জনু লাগল জোর॥
ভুজে ভুজে বেঢ়ি অধর-রস নেল।
দুহু মুখ-চান্দে দুহু চুম্বন কেল॥
দুহুঁক মরম দুহুঁ জানল ভাল।
জ্ঞানদাস কহে মদন দালাল॥
টীকা---
নাগরী-নাগর --- শ্রীমতী রাধা ও রসরাজ শ্রীকৃষ্ণ দুইজনে রঙ্গে রাসমণ্ডলী-মাঝে মিলিত হইল। অতি-রসে অঙ্গ পুলকিত, কত কত মদন-তরঙ্গ আবির্ভূত হইতেছে। কেশ বিগলিত ও বেশ বিপর্যস্ত হইল। রতি-রস-আবেশে দুইজনের রঙ্গ বাড়িল। রসিকপ্রবর শ্রীকৃষ্ণ ও রসময়ী রাধা রাসে বিলাস করিতেছে। (এমনভাবে মিলিত হইয়াছে যে দেখিয়া মনে হইতেছে একই দেহের) আধ গৌর ও আধ শ্যাম। দুইজনেরই আপন আপন সুখে রসের শেষ নাই। যেন স্বর্ণে এবং মরকতে জোর লাগিয়াছে। ভুজে ভুজে জড়াইয়া অধররস পান করিল। দুইজনের চান্দমুখে দুইজনে চুম্বন করিল, দুইজনের মর্ম দুইজনেই ভাল জানিল। জ্ঞানদাস বলিতেছেন, মদন দালাল (রসের আদানপ্রদানে উভয়ের মধ্যস্থ)।
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৩১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নাগরি নাগর রাই রসরাজে।
রঙ্গে মিলল দুহুঁ মণ্ডলিমাঝে॥
অতি রসে পুলকিত অঙ্গ।
উপজত কত কত মদনতরঙ্গ॥
বিগলিত কেশ বেশ ভেল ভঙ্গ।
রতিরস আবেশে বাঢ়ল দুহুঁ রঙ্গ॥
রাসে রসিকবর বিলসই রাধা।
গৌর আধ তনু শ্যামর আধা॥
দুহুঁ সুখে আপনে নাহি রস ওর।
হেম মরকত জনু লাগল জোর॥
ভুজে ভুজে বেঢ়ি অধররস নেল। @
দুহুঁক মরম দুহুঁ জানল ভাল॥
জ্ঞানদাস কহে মদন দালাল॥
@ - এখানে একটি পংক্তি বাদ গিয়েছে।
*********************
