কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
কুঞ্জ কুটীর কুসুম নব পল্লব
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৪শ পল্লব, শরৎকালীয় মহারাস, ১২৯৫- নং পদসংখ্যা, ৩২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

কুঞ্জ-কুটীর     কুসুম নব পল্লব
ভ্রমরা ভ্রমরি কত রঙ্গে।
সারি নারি শুক     পুরুখ যোড়ে যোড়ে
মউর মউরি কত সঙ্গ॥
ভুবনে অনুপ রাস-     রস অতি মোহন
ষড়-ঋতু নব নিতি নিতি।
রাই কানু তাহে     নিতি নব নিরবাহে
খেনে খেনে নবিন পিরিতি॥
নয়নে নয়নে রস     পরশিতে গুণ দশ
বিহসিতে শত গুণ রঙ্গ।
খেনে খেনে হৃদয়ে     হৃদয় পরশাইতে
ভাবে ভরয়ে দুহুঁ অঙ্গ॥
নাচত গাওত     কোই কোই বাওত
বিলসিতে বিগলিত বেশ।
জ্ঞানদাস কহ     আবেশে অবশ তনু
তাহে কত কেলি-বিশেষ॥

ই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাসলীলা।
॥ কেদার॥

কুঞ্জ কুটীর,     কুসুম নব পল্লব,
ভ্রমরা ভ্রমরী কত রঙ্গে।
সারী নারী, শুক     পুরুখ জোড়ে জোড়ে,
ময়ূর ময়ূরীক সঙ্গে॥
ভুবনে অনুপ রাস,     রস অতি মোহন,
ষড়ঋতু নব নিতি নিতি।
রাই কানু তাহে,     নিতি নব নিরবাহে,
খেনে খেনে নবীন পিরীতি॥
নয়নে নয়নে রস,     পরশিতে গুণ দশ,
বিহসিতে শত গুণ রঙ্গ।
খেনে খেনে হৃদয়ে,     হৃদয় পরশাইতে,
ভাবে ভরয়ে দুহুঁ অঙ্গ॥
নাচত গাওত,     কোই কোই বাওত,
বিলসিতে বিগলিত বেশ।
জ্ঞানদাস কহ,     আবেশে অবশ তনু,
তাহে কত কেলি বিশেষ॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২১২ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাসোৎসব।
॥ কেদার॥

কুঞ্জ কুটীর,     কুসুম নব পল্লব,
ভ্রমরা ভ্রমরী কত রঙ্গে।
সারী নারী, শুক     পুরুখ জোড়ে জোড়ে,
ময়ূর ময়ূরীক সঙ্গে॥
ভুবনে অনুপ রাস,     রস অতি মোহন,
ষড়ঋতু নব নিতি নিতি।
রাই কানু তাহে,     নিতি নব নিরবাহে,
খেনে খেনে নবীন পিরীতি॥
নয়নে নয়নে রস,     পরশিতে গুণ দশ,
বিহসিতে শত গুণ রঙ্গ।
খেনে খেনে হৃদয়ে,     হৃদয় পরশাইতে,
ভাবে ভরয়ে দুহুঁ অঙ্গ॥
নাচত গাওত,     কোই কোই বাওত,
বিলসিতে বিগলিত বেশ।
জ্ঞানদাস কহ,     আবেশে অবশ তনু,
তাহে কত কেলি বিশেষ॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৫২ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাসোৎসব।
॥ কেদার॥

কুঞ্জ কুটীর, কুসুম নব পল্লব, ভ্রমরা
ভ্রমরী কত রঙ্গে। সারী নারী, শুক পুরুখ
যোড়ে যোড়ে, ময়ূর ময়ূরীক সঙ্গে॥ ভুবনে
অনুপ রাস, রস অতি মোহন, ষড়ঋতু নব
নিতি নিতি। রাই কানু তাহে, নিতি নব
নিরবাহে, খেনে খেনে নবীন পিরীতি॥
নয়নে নয়নে রস, পরশিতে গুণ দশ, বিহ-
সিতে শত গুণ রঙ্গ। খেনে খেনে হৃদয়ে,
হৃদয় পরশাইতে, ভাবে ভরয়ে দুহুঁ অঙ্গ॥
নাচত গাওত, কোই কোই বাওত, বিল-
সিতে বিগলিত বেশ। জ্ঞানদাস কহ,
আবেশে অবশ তনু, তাহে কত কেলি
বিশেষ॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাসোৎসব।
॥ কেদার॥

কুঞ্জ-কুটীর,     কুসুম নবপল্লব,
ভ্রমরা ভ্রমরী কত রঙ্গে।
সারী নারী শুক,     পুরুখ জোড়ে জোড়ে,
ময়ূর ময়ূরীক সঙ্গে॥
ভুবনে অনুপ রাস,     রস অতি মোহন,
ষড়ঋতু নব নিতি নিতি।
রাই কানু তাহে,     নিতি নব নিরবাহে,
খেনে খেনে নবীন পিরীতি॥
নয়নে নয়নে রস,     পরশিতে গুণ দশ,
বিহসিতে শত গুণ রঙ্গ।
খেণে খেণে হৃদয়ে,     হৃদয় পরশাইতে,
ভাবে ভরয়ে দুহুঁ অঙ্গ॥
নাচত গাওত,     কোই কোই বাওত,
বিলসিতে বিগলিত বেশ।
জ্ঞানদাস কহ,     আবেশে অবশ তনু,
তাহে কত কেলি-বিশেষ॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, রাস, ২১১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কুঞ্জ-কুটীর     কুসুম নব পল্লব
ভ্রমরা ভ্রমরি কত বঙ্গে।
সারি নারি শুক     পুরুখ যোড়ে যোড়ে
মউর মউরি কত সঙ্গ॥
ভুবনে অনুপ রাস     রস অতি মোহন
ষড় ঋতু নব নিতি নিতি।
রাই কানু তাহে     নিতি নব নিরবাহে
খেনে খেনে নবিন পিরিতি॥
নয়নে নয়নে রস     পরশিতে গুণ দশ
বিহসিতে শত গুণ রঙ্গ।
খেনে খেনে হৃদয়ে     হৃদয় পরশাইতে
ভাবে ভরবে দুহুঁ অঙ্গ॥
নাচত গাওত     কোই কোই বাওত
বিলসিতে বিগলিত বেশ।
জ্ঞানদাস কহ     আবেশ অবশ তনু
তাহে কত কেলি-বিশেষ॥

টীকা ---
ষড়ঋতু নব নিতি নিতি --- রাসের সময় যেন ছয়ঋতু নিত্য নূতন হইয়া উপস্থিত হইল।

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, “কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২১৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রাসোৎসব
॥ কেদার॥

কুঞ্জ-কুটীর,     কুসুম নবপল্লব,
ভ্রমরা ভ্রমরী কত রঙ্গে।
সারী নারী শুক,     পুরুখ জোড়ে জোড়ে,
ময়ূর ময়ূরীক সঙ্গে॥
ভুবনে অনুপ রাস,     রস অতি মোহন,
ষড়ঋতু নব নিতি নিতি।
রাই কানু তাহে,     নিতি নব নিরবাহে,
খেণে খেণে নবীন পিরীতি॥
নয়নে নয়নে রস,     পরশিতে গুণ দশ,
বিহসিতে শত গুণ রঙ্গ।
খেণে খেণে হৃদয়ে,     হৃদয় পরশাইতে,
ভাবে ভরয়ে দুহুঁ অঙ্গ॥
নাচত গাওত,     কোই কোই বাওত,
বিলসিতে বিগলিত বেশ।
জ্ঞানদাস কহ,     আবেশে অবশ তনু,
তাহে কত কেলি-বিশেষ॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শারদ রাস
॥ সুহই॥

কুঞ্জ-কুটীর     কুসুম নব পল্লব
ভ্রমরা ভ্রমরি কত রঙ্গে।
সারি নারি শুক     পুরুখ যোড়ে যোড়ে
মউর মউরি কত সঙ্গ॥
ভুবনে অনুপ রাস-     রস অতি মোহন
ষড়-ঋতু নব নিতি নিতি।
রাই কানু তাহে     নিতি নব নিরবাহে
খেনে খেনে নবিন পিরিতি॥
নয়নে নয়নে রস     পরশিতে গুণ দশ
বিহসিতে শত গুণ রঙ্গ।
খেনে খেনে হৃদয়ে     হৃদয় পরশাইতে
ভাবে ভরয়ে দুহুঁ অঙ্গ॥
নাচত গাওত     কোই কোই বায়ত
বিলসিতে বিগলিত বেশ।
জ্ঞানদাস কহ     অলসে অবশ তনু
তাহে কত কেলি-বিশেষ॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^