কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
আইস বৈস তরুমূলে শশিমুখি রাই
আইস ব'স তরু মূলে শশীমুখি রাই
আইস বৈস তরুতলে শশীমুখী রাই
আইস বৈস তরুতলে শশিমুখি রাই

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৫শ পল্লব, দান-লীলা, ১৩৫৭-নং পদসংখ্যা, ৩৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তথা রূপোল্লাস।
॥ সিন্ধুড়া॥

আইস বৈস তরু-মূলে শশি-মুখি রাই।
তোমার বদন-শোভার বলিহারি যাই॥
ঢর ঢর কষিল-কাঞ্চন-তনু গোরি।
ধরণী পড়িছে নব-যৌবন-হিলোরি॥
বদন শরদ-সুধানিধি অকলঙ্ক।
মনমথ-মথন অলপ দিঠি বঙ্ক॥
আলো রাই কি বলিব আর।
ভুবনে দিবার নাহি তুলনা তোমার॥ ধ্রু॥
কুটিল কুন্তল বেঢ়ি কুসুমের জাদ।
সুরঙ্গ সিন্দুর সিথে বড় পরমাদ॥
উন্নত উরজ কিবা কনক-মহেশ।
মুঠে ধরিয়ে কিবা খিণ মাঝ-দেশ॥
উলটি-কদলি উরু গুরুয়া নিতম্ব।
জ্ঞানদাসের পহু জীয়ে এই অবলম্ব॥

এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা তাঁর সারা জীবন ধরে, আনুমানিক ১৮৮০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত ও সংকলিত এবং তাঁর মৃত্যুর প্রায় ৫০ বছর পরে তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন "শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু" এর ৬৫ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা॥

আইস বৈস তরুতলে শশীমুখী রাই। তোমার বদন-শোভা বলিহারি
যাই॥ ঢর ঢর কসিল কাঞ্চন তনু গৌরী। ধরণী পড়িছে নব যৌবনহি-
লোরি॥ বদন শরদ সুধানিধি অকলঙ্ক। মনমথমথন অলপ দিঠি বঙ্ক॥
আলো রাই কি বলিব আর। ভুবনে দিবার নাই তুলনা তোমার॥ কুটিল
কুন্তল বেঢ়ি কুসুমের জাদ। সুরঙ্গ সিন্দূর সীঁথে বড় পরমাদ॥ উন্নত উজোর
কিবা কনক মহেশ। মুঠে ধরিয়ে কিবা ক্ষীণ মাঝদেশ॥ উলটি কদলি
উরু গুরুয়া নিতম্ব। জ্ঞানদাসের পহু জিয়ে এই অবলম্ব॥

এই পদটি আনুমানিক ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত লহরী”, এর ৫৬ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

পুনশ্চ দানলীলা
॥ রাগিণী ভুপালী মিশ্র --- তাল ধামালী॥

আইস ব'স তরু মূলে শশীমুখি রাই। তোমার বদন শোভায়
বলিহারি যাই॥ ঢল ঢল কষিল কাঞ্চন তনু গৌরী। ধরণী
পড়িছে নব যৌবন হিলোরী॥ বদন শরদ সুধানিধি অকলঙ্ক।
মনমথ মথন অলপ দিঠি বঙ্ক॥ আলো রাই কি বলিব আর।
ভুবনে দিবার নাহি তুলনা তোমার॥ কুটিল কুন্তল বেড়ি
কুসুমেরি জাদ। সুরঙ্গ সিন্দূর সিথে বড় পরমাদ॥ উনত উজোর
কিবা কনক মহেশ। মুঠে ধরিয়ে কিবা ক্ষীণ কটি দেশ॥
উলটি কদলী তরু গুরুয়া নিতম্ব। জ্ঞান দাসের পহু জীউ
অবলম্ব॥

এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ৩য় খণ্ড এর ৩৭০ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

দানলীলা।
॥ মালসী - তেওট॥

আইস বৈস তরুতলে শশীমুখী রাই।
তোমার বদন শোভার বলিহারি যাই॥
ঢর ঢর কষিল কাঞ্চন তনু গোরী।
ধরণী পড়িছে নব যৌবন-হিলোরি॥
বদন শরদ সুধানিধি অকলঙ্ক।
মনমথ-মথন অলপ দিঠি বঙ্ক॥
আলো রাই কি বলিব আর।
ভুবনে দিবার নাহি তুলনা তোমার॥ ধ্রু॥
কুটিল কুন্তল বেড়ি কুসুমের জাদ।
সুরঙ্গ সিন্দূর সিঁথে বড় পরমাদ॥
উন্নত উরজ কিবা কনক মহেশ।
মুঠে ধরিয়ে কিবা খীন মাঝাদেশ॥
উলটি কদলি উরু গুরুয়া নিতম্ব।
জ্ঞানদাসের পহু জীয়ে এই অবলম্ব॥

এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের কন্যা অপর্ণা রায় সম্পাদিত “কীর্ত্তন পদাবলী” বৈষ্ণব পদ সংকলনের ২৯২ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

দানখণ্ড।
॥ মালসী - তেওট॥

আইস বৈস তরুতলে শশিমুখি রাই।
তোমার বদন-শোভার বলিহারি যাই॥
ঢর ঢর কষিল-কাঞ্চন-তনু গোরী।
ধরণী পড়িছে নব-যৌবন-হিলোরি॥
বদন শরদ-সুধানিধি অকলঙ্ক।
মনমথ-মথন অলপ দিঠি বঙ্ক॥
আলো রাই কি বলিব আর।
ভুবনে দিবার নাহি তুলনা তোমার॥ ধ্রু॥
কুটিল কুন্তল বেড়ি কুসুমের জাদ।
সুরঙ্গ সিন্দূর সিঁথে বড় পরমাদ॥
উন্নত উরজ কিবা কনক-মহেশ।
মুঠে ধরয়ে কিবা খীন মাঝাদেশ॥
উলটি-কদলি উরু গুরুয়া নিতম্ব।
জ্ঞানদাসের পহুঁ জীয়ে এই অবলম্ব॥

এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪০৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

দানখণ্ড ও নৌকাখণ্ড
দানলীলা
শ্রীকৃষ্ণের উক্তি
॥ সিন্ধুড়া॥

আইস বৈস তরুমূলে শশিমুখি রাই।
তোমার বদনশোভার বলিহারি যাই॥
ঢর ঢর কষিল কাঞ্চনতনু গোরি।
ধরণী পড়িছে নবযৌবন হিলোরি॥
বদন শরদ সুধানিধি অকলঙ্ক।
মনমথ মথন অলপ দিঠি বঙ্ক॥
আলো রাই কি বলিব আর।
ভুবনে দিবার নাহি তুলনা তোমার॥ ধ্রু॥
কুটিল কুম্তল বেঢ়ি কুসুমের জাদ।
সুরঙ্গ সিন্দুর সিঁথে বড় পরমাদ॥
উন্নত উরজ কিবা কনকমহেশ।
মুঠে ধরিয়ে কিবা খিণ মাঝদেশ॥
উলটিকদলি উরু গুরুয়া নিতম্ব।
জ্ঞানদাসের পহু জীয়ে ওই অবলম্ব॥

এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দানখণ্ড ও নৌকাখণ্ড
(ক) দানলীলা
তথা রূপোল্লাস
॥ সিন্ধুড়া॥

আইস বৈস তরু-মূলে শশিমুখি রাই।
তোমার বদন-শোভার বলিহারি যাই॥
ঢর ঢর কষিল-কাঞ্চন-তনু গোরি।
ধরণী পড়িছে নব-যৌবন-হিলোরি॥
বদন শরদ সুধানিধি অকলঙ্ক।
মনমথ-মথন অলপ দিঠি বঙ্ক॥
আলো রাই কি বলিব আর।
ভুবনে দিবার নাহি তুলনা তোমার॥ ধ্রু॥
কুটিল কুম্তল বেঢ়ি কুসুমের জাদ।
সুরঙ্গ সিন্দুর সিঁথে বড় পরমাদ॥
উন্নত উরজ কিবা কনক-মহেশ।
মুঠে ধরিয়ে কিবা খিণ মাঝ-দেশ॥
উলটি-কদলী উরু গুরুয়া নিতম্ব।
জ্ঞানদাসের পহু জীয়ে এই অবলম্ব॥

এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৫৯৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আইস বৈস তরুমূলে শশিমুখি রাই।
তোমার বদনশোভার বলিহারি যাই॥
ঢর ঢর কষিল কাঞ্চনতনু গোরি।
ধরণী পড়িছে নবযৌবন হিলোরি॥
বদন শরদ সুধানিধি অকলঙ্ক।
মনমথ মথন অলপ দিঠি বঙ্ক॥
আলো রাই কি বলিব আর।
ভুবনে দিবার নাহি তুলনা তোমার॥
কুটিল কুম্তল বেঢ়ি কুসুমের জাদ।
সুরঙ্গ সিন্দুর সিঁথে বড় পরমাদ॥
উন্নত উরজ কিবা কনকমহেশ।
মুঠিতে ধরিয়ে তব খিণ মাঝদেশ॥
উলটকদলী ঊরু গুরুয়া নিতম্ব।
জ্ঞানদাসের পহু জীয়ে এই অবলম্ব॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^