কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
নিতি নিতি দেখিয়ে না কহি লাজে
নিতি নিতি দেখিএ নাহিক লাজ
নিতি নিতি দেখিয়ে না কহি লোকলাজে
কবি জ্ঞানদাস
নিতি নিতি দেখিএ নাহিক লাজ
নিতি নিতি দেখিয়ে না কহি লোকলাজে
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক সপ্তদশ শতকের মধ্যভাগে, নরহরি (ঘনশ্যাম) চক্রবর্তী প্রণীত এবং ৪৬২ গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় (পূর্ব্বরাগ) গ্রন্থের, ২৭০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ।
॥ ধানশী॥
নিতি নিতি দেখিয়ে না কহি লাজে। অনুভবে জানলু অদভুত কাজে॥
তুহুঁ বরনারি চতুরবর কান। মরকতে মিলল কনক দশবাণ॥
এ ধনি এ ধনি! বহু পরিহার। নিজজন জানি কাহে না কহ বেভার॥
খেণে খেণে অলসে মুদসি আধ আঁখি। নিজ তনুছাহে চাহি কর সাখী॥
জলধর হেরইতে ভেলি চমকিত। শ্যামরচান্দে চোরায়ল চিত॥
খেণে পুলকিত তনু রহসি সম্ভারি। মৃগমদ উরুজে যতনে চীরে বারি'॥
ফুয়ল কবরী উরহি উলটায়। জ্ঞানদাস কহে কাহে লুকায়॥
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে গোকুলানন্দ সেন (বৈষ্ণবদাস) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের ( ১৯১৫ সাল ) ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৯ম পল্লব, সংক্ষিপ্ত রসোদগার, ২২৮নং পদসংখ্যায়, ১৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ ধানশী॥
নিতি নিতি দেখিয়ে না কহি লাজে।
অনুভবে জানলুঁ অদভুত কাজে॥
তুহুঁ বর-নারি চতুর বর-কান।
মরকতে মিলল কনক দশবান॥
এ ধনি এ ধনি বহু পরিহার।
নিজজন জানি না কহ বেভার॥ ধ্রু॥
খেনে খেনে আলসে মুদসি আধ আঁখি।
নিজ তনু-ছাহে চাহি কর সাখী॥
জলধর হেরি ভেলি চমকিত।
শ্যামর-ছান্দে চোরায়ল চিত॥
খেনে পুলকিত তনু রহসি সাঁভারি।
মৃগমদ উরজে যতনে চিরে বারি॥
ফুয়ল কবরী উরহি লোটায়।
জ্ঞানদাস কহে কাহে লুকায়॥
এই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতী বাংলা-পুথিশালার "রতন লাইব্রেরী সংগ্রহ"-র অন্তর্ভুক্ত ও সংরক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ” পুথির ১৯৮২ সালে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত এবং তপনকুমার মুখোপাধ্যায়, অণিমা মুখোপাধ্যায় ও পরমেশ্বর মাহাতা দ্বারা সহ-সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন গ্রন্থের ৫১ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ ধানশী॥
নিতি নিতি দেখিএ নাহিক লাজ। অনুভবে জানলু অদভুত কাজ॥
তুহু বরনারী চতুর বরকান। মরকতে মিলল কনক দশবান॥
এ ধনি এ ধনি বহু পরিহার। নিজজন জানি না কহ বেভার॥ ধ্রু॥
খেনে খেনে আলসে মুদসি আধ আঁখি। নিজ তনু ছাহে চাহি কর সাখি॥
জলধর হেরি ভেলি চমকিত। শ্যামর চান্দে চোরা অনুচিত॥
খেনে পুলকিত তনু রহসি সাম্ভারি। মৃগমদ উরজে জতনে চিরে বারি॥
ফুয়ল কবরী উরহি উলটায়। জ্ঞানদাস কহ কাহে লুকায়॥
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
রসোদ্গার।
॥ ধানশী॥
নিতি নিতি দেখিয়ে না কহি লাজে।
অনুভবে জানলু অদভুত কাযে॥
তুহুঁ বরনারি চতুর বরকান।
মরকতে মিলল কনক দশবান॥
এ ধনি এ ধনি বহু পরিহার।
নিজ জন জানি না কহ বেভার॥ ধ্রু॥
ক্ষণে ক্ষণে অলসে মুদসি দুটী আঁখি।
নিজ তনু ছাহে চাহি করি সাখী॥
জলধর হেরি ভেলি চমকিত।
শ্যামর চান্দে চোরায়ল চিত॥
ক্ষণে পুলকিত তনু বহসি সাভারি।
মৃগমদ উরজে যতনে চীরে বারি॥
ফুয়ল কবরী উরহি লোটায়।
জ্ঞানদাস কহে কাহে লুকায়॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২০২ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
রসোদ্গার।
॥ ধানশী॥
নিতি নিতি দেখিয়ে না কহি লাজে।
অনুভবে জানলু অদভুত কাযে॥
তুহুঁ বরনারী চতুর বরকান।
মরকতে মিলল কনক দশবাণ॥
এ ধনি এ ধনি বহু পরিহার।
নিজ জন জানি না কহ বেভার॥
ক্ষণে ক্ষণে অলসে মুদসি দুটী আঁখি।
নিজ তনু ছাহে চাহি করি সাখী॥
জলধর হেরি ভেলি চমকিত।
শ্যামর চান্দে চোরায়ল চিত॥
ক্ষণে পুলকিত তনু বহসি সাভারি।
মৃগমদ উরজে যতনে চীরে বারি॥
ফুয়ল কবরী উরহি লোটায়।
জ্ঞানদাস কহে কাহে লুকায়॥
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৪৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
রসোদ্গার।
॥ ধানশী॥
নিতি নিতি দেখিয়ে না কহি লাজে।
অনুভবে জানলু অদভুত কাযে॥ তুহুঁ
বরনারী চতুর বরকান। মরকতে মিলল
কনক দশবান॥ এ ধনি এ ধনি বহু পরি-
হার। নিজ জন জানি না কহ বেভার॥
ক্ষণে ক্ষণে অলসে মুদসি দুটী আঁখি। নিজ
তনু ছাহে চাহি করি সাখী॥ জলধর হেরি
ভেলি চমকিত। শ্যামর চান্দে চোরায়ল
চিত॥ ক্ষণে পুলকিত তনু বহসি সাভারি।
মৃগমদ উরজে যতনে চীরে বারি॥ ফুয়ল
কবরী উরহি লোটায়। জ্ঞানদাস কহে
কাহে লুকায়॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
রসোচ্ছ্বাস।
॥ ধানশী॥
নিতি নিতি দেখিয়ে না কহি লাজে।
অনুভবে জানলু অদভুত কাজে॥
তুহুঁ বরনারী চতুর বরকান।
মরকতে মিলল কনক দশবান॥
এ ধনি এ ধনি বহু পরিহার।
নিজ জন জানি না কহ বেভার॥
ক্ষণে ক্ষণে অলসে মুদসি দুটী আঁখি।
নিজ তনু ছাহে চাহি করি সাখী॥
জলধর হেরি ভেলি চমকিত।
শ্যামর চান্দে চোরায়ল চিত॥
ক্ষণে পুলকিত তনু বহসি সাম্ভারি।
মৃগমদ উরজে যতনে চীরে বারি॥
ফুয়ল কবরী উরহি লোটায়।
জ্ঞানদাস কহে কাহে লুকায়॥
এই পদটি ১৩১৭ বঙ্গাব্দে (১৯১০ সালে) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ১ম খণ্ড এর ৩৭৭ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ।
॥ রামকেলি - আড়া দুঠুকী॥
নিতি নিতি দেখিয়ে না কহি লাজে।
অনুভবে জানলুঁ অদভুত কাজে॥
তুহুঁ বর নারী চতুরবর কান।
মরকতে মিলল কনক দশবাণ॥
এধনি এধনি বহু পরিহার।
নিজ জন জানি না কহ বেভার॥
খেনে খেনে আলসে মুদসি আধ আঁখি।
নিজ তনু-ছাহে চাহি কর সাখি॥
জলধর হেরি ভেলি চমকিত।
শ্যামর চাঁদে চোরায়ল চিত॥
খেনে পুলকিত তনু রহসি সাঁভারি।
মৃগমদ উরজে যতনে চিরে বারি॥
ফুয়ল কবরী উরহি লোটায়।
জ্ঞানদাস কহে কাহে লুকায়॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, রসোদ্গার, ১৫৯ পৃষ্টায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নিতি নিতি দেখিয়ে না কহি লাজে।
অনুভবে জানলু অদভুত কাজে॥
তুহুঁ বরনারী চতুরবর কান।
মরকত মিলল কনক দশবান॥
এ ধনি ! এ ধনি ! বহু পরিহার।
নিজজন জানি কাহে না কহ বেভার॥
খেণে খেণে অলসে মুদসি আধ আঁখি।
নিজ তনুছাহে চাহি কর সাখী॥
জলধর হেরইতে ভেলি চমকিত।
শ্যামরচান্দে চোরায়ল চিত॥
খেণে পুলকিত তনু রহসি সম্ভারি।
মৃগমদ উরুজে যতনে চীরে বারি॥
ফুয়ল কবরি উরহি উলটায়।
জ্ঞানদাস কহে কাহে লুকায়॥
টীকা ---
সখী রাধাকে বলিতেছেন --- রোজ রোজই দেখিতে পাই, কিন্তু লজ্জায় কিছু বলি না। আজ অনুভবে বুঝিলাম। তুমি নারীশ্রেষ্ঠা, আর কানাই চতুরের শিরোমণি, মরকতের (শ্যামবর্ণের) সহিত যেন দশবার বিশোধিত সোনার ( রাধার অঙ্গকান্তি ) মিলন হইল। সুন্দরী , ওগো সুন্দরী, বারবার মিনতি ( পরিহার ) জানাইতেছি, আমরা তো তোমার নিজ জন, আমাদিগকে ব্যাপারটা বল না কেন ? তুমি ক্ষণে ক্ষণে আলস্য বশত চোখ একটু বন্ধ করিতেছ। নিজের তনুর ছায়া যদি আয়নায় দেখ তাহা হইলেই সব ধরা পড়িবে (দেহের ছায়াকে যদি সাক্ষী কর, অর্থাত্ প্রতিবিম্ব দেখ)। এখন তুমি মেঘ দেখিলেই চমকিয়া উঠ, (তাহাতেই তো বুঝিতেছি) শ্যামচন্দ্র তোমার চিত্ত চুরি করিলেন ! কখন বা তোমার দেহের পুলকরোমাঞ্চ সম্বরণ করিয়া থাক। আবার বুকের কস্তুরী লেপন (কৃষ্ণ-বর্ণের) দেখিয়া মন পাছে আকুল হয় তাই উহা কাপড় দিয়া সযতনে ঢাকিয়া রাখ। বুকের উপর কবরী উলটিয়া পড়িয়াছে তাহা লুকাইবার জন্য এত ব্যগ্রতা কেন জ্ঞানদাস এই কথা জিজ্ঞাসা করিতেছেন।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২০৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
রসোচ্ছাস
॥ ধানশী॥
নিতি নিতি দেখিয়ে না কহি লাজে।
অনুভবে জানলু অদভুত কাজে॥
তুহুঁ বরনারী চতুর বর কান।
মরকতে মিলল কনক দশবাণ॥
এ ধনি এ ধনি বহু পরিহার।
নিজ জন জানি না কর বেভার॥
ক্ষণে ক্ষণে অলসে মুদসি দুটী আঁখি।
নিজ তনু ছাহে চাহি কর সাখী॥
জলধর হেরি ভেলি চমকিত।
শ্যামর চান্দে চোরায়ল চিত॥
ক্ষণে পুলকিত তনু বহসি সাভারি।
মৃগমদ উরজে যতনে চীরে বারি॥
ফুয়ল কবরী উরহি লোটায়।
জ্ঞানদাস কহে কাহে লুকায়॥
এই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, রসোদ্গার, সংক্ষিপ্ত-সম্ভোগ, ১৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ ধানশী॥
নিতি নিতি দেখিয়ে না কহি লাজে।
অনুভবে জানলুঁ অদভূত কাজে॥
তুহুঁ বর-নারী চতুর বর-কান।
মরকতে মিলল কনক দশবাণ॥
এ ধনি এ ধনি বহু পরিহার।
নিজ জন জানি না কর বেভার॥
খেনে খেনে আলসে মুদসি আধ আঁখি।
নিজ তনু-ছাহে চাহি কর সাখী॥
জলধর হেরি ভেলি চমকিত।
শ্যামর-চান্দে চোরায়ল চিত॥
খেনে পুলকিত তনু রহসি সাঁভারি।
@
ফুয়ল কবরী উরহি লোটায়।
জ্ঞানদাস কহে কাহে লুকায়॥
@ - এখানে “মৃগমদ উরজে যতনে চীরে বারি॥” এই পঙ্কতিটি দেওয়া নেই।
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
রসোদ্গার
॥ ধানশী॥
নিতি নিতি দেখিয়ে না কহি লোকলাজে।
অনুভবে জানলুঁ অদভুত কাজে॥
তুহুঁ বরনারি চতুরবর কান।
মরকতে মিলল কনক দশবান॥
এ ধনি এ ধনি বহু পরিহার।
নিজ জন জানিয়ে না কর বেভার॥
খেনে খেনে আলসে মুদ আধ আঁখি।
নিজ তনু-ছাহে চাহি কর সাখী॥
জলধর হেরি ভেলি চমকিত।
শ্যামরচান্দে চোরায়ল চিত॥
খেনে পুলকিত তনু রহসি সাঁভারি।
মৃগমদ উরজে যতনে চিরে বারি॥
ফুয়ল কবরী উরহি লোটাই।
জ্ঞানদাস কহে কাহে লুকাই॥
*********************
শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ।
॥ ধানশী॥
নিতি নিতি দেখিয়ে না কহি লাজে। অনুভবে জানলু অদভুত কাজে॥
তুহুঁ বরনারি চতুরবর কান। মরকতে মিলল কনক দশবাণ॥
এ ধনি এ ধনি! বহু পরিহার। নিজজন জানি কাহে না কহ বেভার॥
খেণে খেণে অলসে মুদসি আধ আঁখি। নিজ তনুছাহে চাহি কর সাখী॥
জলধর হেরইতে ভেলি চমকিত। শ্যামরচান্দে চোরায়ল চিত॥
খেণে পুলকিত তনু রহসি সম্ভারি। মৃগমদ উরুজে যতনে চীরে বারি'॥
ফুয়ল কবরী উরহি উলটায়। জ্ঞানদাস কহে কাহে লুকায়॥
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে গোকুলানন্দ সেন (বৈষ্ণবদাস) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের ( ১৯১৫ সাল ) ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৯ম পল্লব, সংক্ষিপ্ত রসোদগার, ২২৮নং পদসংখ্যায়, ১৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ ধানশী॥
নিতি নিতি দেখিয়ে না কহি লাজে।
অনুভবে জানলুঁ অদভুত কাজে॥
তুহুঁ বর-নারি চতুর বর-কান।
মরকতে মিলল কনক দশবান॥
এ ধনি এ ধনি বহু পরিহার।
নিজজন জানি না কহ বেভার॥ ধ্রু॥
খেনে খেনে আলসে মুদসি আধ আঁখি।
নিজ তনু-ছাহে চাহি কর সাখী॥
জলধর হেরি ভেলি চমকিত।
শ্যামর-ছান্দে চোরায়ল চিত॥
খেনে পুলকিত তনু রহসি সাঁভারি।
মৃগমদ উরজে যতনে চিরে বারি॥
ফুয়ল কবরী উরহি লোটায়।
জ্ঞানদাস কহে কাহে লুকায়॥
এই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতী বাংলা-পুথিশালার "রতন লাইব্রেরী সংগ্রহ"-র অন্তর্ভুক্ত ও সংরক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ” পুথির ১৯৮২ সালে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত এবং তপনকুমার মুখোপাধ্যায়, অণিমা মুখোপাধ্যায় ও পরমেশ্বর মাহাতা দ্বারা সহ-সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন গ্রন্থের ৫১ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ ধানশী॥
নিতি নিতি দেখিএ নাহিক লাজ। অনুভবে জানলু অদভুত কাজ॥
তুহু বরনারী চতুর বরকান। মরকতে মিলল কনক দশবান॥
এ ধনি এ ধনি বহু পরিহার। নিজজন জানি না কহ বেভার॥ ধ্রু॥
খেনে খেনে আলসে মুদসি আধ আঁখি। নিজ তনু ছাহে চাহি কর সাখি॥
জলধর হেরি ভেলি চমকিত। শ্যামর চান্দে চোরা অনুচিত॥
খেনে পুলকিত তনু রহসি সাম্ভারি। মৃগমদ উরজে জতনে চিরে বারি॥
ফুয়ল কবরী উরহি উলটায়। জ্ঞানদাস কহ কাহে লুকায়॥
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
রসোদ্গার।
॥ ধানশী॥
নিতি নিতি দেখিয়ে না কহি লাজে।
অনুভবে জানলু অদভুত কাযে॥
তুহুঁ বরনারি চতুর বরকান।
মরকতে মিলল কনক দশবান॥
এ ধনি এ ধনি বহু পরিহার।
নিজ জন জানি না কহ বেভার॥ ধ্রু॥
ক্ষণে ক্ষণে অলসে মুদসি দুটী আঁখি।
নিজ তনু ছাহে চাহি করি সাখী॥
জলধর হেরি ভেলি চমকিত।
শ্যামর চান্দে চোরায়ল চিত॥
ক্ষণে পুলকিত তনু বহসি সাভারি।
মৃগমদ উরজে যতনে চীরে বারি॥
ফুয়ল কবরী উরহি লোটায়।
জ্ঞানদাস কহে কাহে লুকায়॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২০২ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
রসোদ্গার।
॥ ধানশী॥
নিতি নিতি দেখিয়ে না কহি লাজে।
অনুভবে জানলু অদভুত কাযে॥
তুহুঁ বরনারী চতুর বরকান।
মরকতে মিলল কনক দশবাণ॥
এ ধনি এ ধনি বহু পরিহার।
নিজ জন জানি না কহ বেভার॥
ক্ষণে ক্ষণে অলসে মুদসি দুটী আঁখি।
নিজ তনু ছাহে চাহি করি সাখী॥
জলধর হেরি ভেলি চমকিত।
শ্যামর চান্দে চোরায়ল চিত॥
ক্ষণে পুলকিত তনু বহসি সাভারি।
মৃগমদ উরজে যতনে চীরে বারি॥
ফুয়ল কবরী উরহি লোটায়।
জ্ঞানদাস কহে কাহে লুকায়॥
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৪৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
রসোদ্গার।
॥ ধানশী॥
নিতি নিতি দেখিয়ে না কহি লাজে।
অনুভবে জানলু অদভুত কাযে॥ তুহুঁ
বরনারী চতুর বরকান। মরকতে মিলল
কনক দশবান॥ এ ধনি এ ধনি বহু পরি-
হার। নিজ জন জানি না কহ বেভার॥
ক্ষণে ক্ষণে অলসে মুদসি দুটী আঁখি। নিজ
তনু ছাহে চাহি করি সাখী॥ জলধর হেরি
ভেলি চমকিত। শ্যামর চান্দে চোরায়ল
চিত॥ ক্ষণে পুলকিত তনু বহসি সাভারি।
মৃগমদ উরজে যতনে চীরে বারি॥ ফুয়ল
কবরী উরহি লোটায়। জ্ঞানদাস কহে
কাহে লুকায়॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
রসোচ্ছ্বাস।
॥ ধানশী॥
নিতি নিতি দেখিয়ে না কহি লাজে।
অনুভবে জানলু অদভুত কাজে॥
তুহুঁ বরনারী চতুর বরকান।
মরকতে মিলল কনক দশবান॥
এ ধনি এ ধনি বহু পরিহার।
নিজ জন জানি না কহ বেভার॥
ক্ষণে ক্ষণে অলসে মুদসি দুটী আঁখি।
নিজ তনু ছাহে চাহি করি সাখী॥
জলধর হেরি ভেলি চমকিত।
শ্যামর চান্দে চোরায়ল চিত॥
ক্ষণে পুলকিত তনু বহসি সাম্ভারি।
মৃগমদ উরজে যতনে চীরে বারি॥
ফুয়ল কবরী উরহি লোটায়।
জ্ঞানদাস কহে কাহে লুকায়॥
এই পদটি ১৩১৭ বঙ্গাব্দে (১৯১০ সালে) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ১ম খণ্ড এর ৩৭৭ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ।
॥ রামকেলি - আড়া দুঠুকী॥
নিতি নিতি দেখিয়ে না কহি লাজে।
অনুভবে জানলুঁ অদভুত কাজে॥
তুহুঁ বর নারী চতুরবর কান।
মরকতে মিলল কনক দশবাণ॥
এধনি এধনি বহু পরিহার।
নিজ জন জানি না কহ বেভার॥
খেনে খেনে আলসে মুদসি আধ আঁখি।
নিজ তনু-ছাহে চাহি কর সাখি॥
জলধর হেরি ভেলি চমকিত।
শ্যামর চাঁদে চোরায়ল চিত॥
খেনে পুলকিত তনু রহসি সাঁভারি।
মৃগমদ উরজে যতনে চিরে বারি॥
ফুয়ল কবরী উরহি লোটায়।
জ্ঞানদাস কহে কাহে লুকায়॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, রসোদ্গার, ১৫৯ পৃষ্টায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নিতি নিতি দেখিয়ে না কহি লাজে।
অনুভবে জানলু অদভুত কাজে॥
তুহুঁ বরনারী চতুরবর কান।
মরকত মিলল কনক দশবান॥
এ ধনি ! এ ধনি ! বহু পরিহার।
নিজজন জানি কাহে না কহ বেভার॥
খেণে খেণে অলসে মুদসি আধ আঁখি।
নিজ তনুছাহে চাহি কর সাখী॥
জলধর হেরইতে ভেলি চমকিত।
শ্যামরচান্দে চোরায়ল চিত॥
খেণে পুলকিত তনু রহসি সম্ভারি।
মৃগমদ উরুজে যতনে চীরে বারি॥
ফুয়ল কবরি উরহি উলটায়।
জ্ঞানদাস কহে কাহে লুকায়॥
টীকা ---
সখী রাধাকে বলিতেছেন --- রোজ রোজই দেখিতে পাই, কিন্তু লজ্জায় কিছু বলি না। আজ অনুভবে বুঝিলাম। তুমি নারীশ্রেষ্ঠা, আর কানাই চতুরের শিরোমণি, মরকতের (শ্যামবর্ণের) সহিত যেন দশবার বিশোধিত সোনার ( রাধার অঙ্গকান্তি ) মিলন হইল। সুন্দরী , ওগো সুন্দরী, বারবার মিনতি ( পরিহার ) জানাইতেছি, আমরা তো তোমার নিজ জন, আমাদিগকে ব্যাপারটা বল না কেন ? তুমি ক্ষণে ক্ষণে আলস্য বশত চোখ একটু বন্ধ করিতেছ। নিজের তনুর ছায়া যদি আয়নায় দেখ তাহা হইলেই সব ধরা পড়িবে (দেহের ছায়াকে যদি সাক্ষী কর, অর্থাত্ প্রতিবিম্ব দেখ)। এখন তুমি মেঘ দেখিলেই চমকিয়া উঠ, (তাহাতেই তো বুঝিতেছি) শ্যামচন্দ্র তোমার চিত্ত চুরি করিলেন ! কখন বা তোমার দেহের পুলকরোমাঞ্চ সম্বরণ করিয়া থাক। আবার বুকের কস্তুরী লেপন (কৃষ্ণ-বর্ণের) দেখিয়া মন পাছে আকুল হয় তাই উহা কাপড় দিয়া সযতনে ঢাকিয়া রাখ। বুকের উপর কবরী উলটিয়া পড়িয়াছে তাহা লুকাইবার জন্য এত ব্যগ্রতা কেন জ্ঞানদাস এই কথা জিজ্ঞাসা করিতেছেন।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২০৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
রসোচ্ছাস
॥ ধানশী॥
নিতি নিতি দেখিয়ে না কহি লাজে।
অনুভবে জানলু অদভুত কাজে॥
তুহুঁ বরনারী চতুর বর কান।
মরকতে মিলল কনক দশবাণ॥
এ ধনি এ ধনি বহু পরিহার।
নিজ জন জানি না কর বেভার॥
ক্ষণে ক্ষণে অলসে মুদসি দুটী আঁখি।
নিজ তনু ছাহে চাহি কর সাখী॥
জলধর হেরি ভেলি চমকিত।
শ্যামর চান্দে চোরায়ল চিত॥
ক্ষণে পুলকিত তনু বহসি সাভারি।
মৃগমদ উরজে যতনে চীরে বারি॥
ফুয়ল কবরী উরহি লোটায়।
জ্ঞানদাস কহে কাহে লুকায়॥
এই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, রসোদ্গার, সংক্ষিপ্ত-সম্ভোগ, ১৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ ধানশী॥
নিতি নিতি দেখিয়ে না কহি লাজে।
অনুভবে জানলুঁ অদভূত কাজে॥
তুহুঁ বর-নারী চতুর বর-কান।
মরকতে মিলল কনক দশবাণ॥
এ ধনি এ ধনি বহু পরিহার।
নিজ জন জানি না কর বেভার॥
খেনে খেনে আলসে মুদসি আধ আঁখি।
নিজ তনু-ছাহে চাহি কর সাখী॥
জলধর হেরি ভেলি চমকিত।
শ্যামর-চান্দে চোরায়ল চিত॥
খেনে পুলকিত তনু রহসি সাঁভারি।
@
ফুয়ল কবরী উরহি লোটায়।
জ্ঞানদাস কহে কাহে লুকায়॥
@ - এখানে “মৃগমদ উরজে যতনে চীরে বারি॥” এই পঙ্কতিটি দেওয়া নেই।
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
রসোদ্গার
॥ ধানশী॥
নিতি নিতি দেখিয়ে না কহি লোকলাজে।
অনুভবে জানলুঁ অদভুত কাজে॥
তুহুঁ বরনারি চতুরবর কান।
মরকতে মিলল কনক দশবান॥
এ ধনি এ ধনি বহু পরিহার।
নিজ জন জানিয়ে না কর বেভার॥
খেনে খেনে আলসে মুদ আধ আঁখি।
নিজ তনু-ছাহে চাহি কর সাখী॥
জলধর হেরি ভেলি চমকিত।
শ্যামরচান্দে চোরায়ল চিত॥
খেনে পুলকিত তনু রহসি সাঁভারি।
মৃগমদ উরজে যতনে চিরে বারি॥
ফুয়ল কবরী উরহি লোটাই।
জ্ঞানদাস কহে কাহে লুকাই॥
*********************
