কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
শুন শুন শুন সুজন কানাই
শুন শুন সুজন কানাই
শুন শুন ওহে সুজন কানাই

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৫শ পল্লব, দান-লীলা, ১৩৭৫-নং পদসংখ্যা, ৩৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

শুন শুন শুন     সুজন কানাই
তুমি সে নূতন দানী।
বিকি কিনির দান     গো-রসে মানিয়ে
বেশের দান কভু নাহি শুনি॥
সিঁথায় সিন্দুর     নয়ানে কাজর
রঙ্গণ আলতা পায়।
(ই কি) বিকি কিনির ধন   নারীর যৌবন
ইথে কার কি বা দায়॥
মণি-অভরণ     সুরঙ্গ শাড়ী
জাদ কেবা নাহি পরে।
যদি দানের এ গতি   তুমি ত গোকুল-পতি
দান সাধহ ঘরে ঘরে॥
আমরা চলিতে না জানি,   কহিতে না জানি
তোমারে কেনে বা বাজে।
জ্ঞানদাস কহে     কেমনে জানিব
পরের মনের কাজে॥

ই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দানলীলা
॥ সিন্ধুড়া॥

শুন শুন সুজন কানাই তুমি সে নূতন দানী।
বিকি কিনির দান,     গোরস মানি যে,
বেশর দান নাহি শুনি॥
সীঁথায় সিন্দূর,     নয়নে কাজর,
রঙ্গণ আলতা পায়।
একি বিকি কিনির ধন,     নারীর যৌবন,
ইথে কার কি বা দায়॥
মণি আভরণ,     সুরঙ্গ শাড়ী,
জাদ কেবা নাহি পরে।
যদি দানের এ গতি,     তুমি ত গোলক পতি,
দান সাধহ ঘরে ঘরে॥
আমরা চলিতে না জানি,     কহিতে না জানি
তোমারে কেন সে বাজে।
জ্ঞানদাস কহে,     কেমনে জানিব
পরের মনের কাজে॥ @

@ - প্রাচীন কাব্য সংগ্রহে এই পদটী গোবিন্দ দাসের ভণিতা যুক্ত দৃষ্ট হয়। পদকল্পতরু পদার্ণব সারাবলী ওবং গীতকল্পতরু গ্রন্থে জ্ঞানদাসের ভণিতা আছে।

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দানলীলা
॥ সিন্ধুড়া॥

শুন শুন সুজন কানাই, তুমি সে নূতন দানী।
বিকি-কিনির দান,     গোরস মানি যে,
বেশর দান নাহি শুনি॥
সীঁথায় সিন্দূর,     নয়নে কাজর,
রঙ্গণ আলতা পায়।
একি বিকি-কিনির ধন,     নারীর যৌবন,
ইথে কার কি বা দায়॥
মণি আভরণ,     সুরঙ্গ শাড়ী,
জাদ কেবা নাহি পরে।
যদি দানের এ গতি,     তুমি ত গোলকপতি,
দান সাধহ ঘরে ঘরে॥
আমরা চলিতে না জানি,     কহিতে না জানি
তোমারে কেন সে বাজে।
জ্ঞানদাস কহে,     কেমনে জানিব,
পরের মনের কাজে॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, সন্দিগ্ধ, ২৭৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শুন শুন শুন     সুজন কানাই
তুমি সে নূতন দানী।
বিকি কিনির দাম     গো রসে মানিয়ে
বেশের দান (কভু) নাহি শুনি॥
সিঁথায় সিন্দুর     নয়ানে কাজর
রঙ্গণ আলতা পায়।
ইকি বিকি-কিনির ধন     নারীর যৌবন
ইথে কার কি বা দায়॥
মণি অভরণ     সুরঙ্গ শাড়ী
জাদ কেবা নাহি পরে।
যদি দানের এ গতি     তুমি ত গোকুল-পতি
দান সাধহ ঘরে ঘরে॥
(আমরা) চলিতে না জানি,     কহিতে না জানি
তোমারে কেনে বা বাজে।
জ্ঞানদাস কহে     কেমনে জানিবা
পরের মনের কাজে॥

টীকা ---
জাদ --- বেণীর আগায় ঝুলাইবার থোপা।
পরের মনের কাজে --- পরের মনে কি ভাবে উঠে কেমন করিয়া জানিবা।

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২২১ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

দানলীলা
॥ সিন্ধুড়া॥

শুন শুন সুজন কানাই, তুমি সে নূতনদানী।
বিকি-কিনির দাম     গোরস মানি যে
বেশের দান নাহি শুনি॥
সীঁথার সিন্দূর     নয়নে কাজর
রঙ্গন আলতা পায়।
একি বিকি-কিনির ধন     নারীর যৌবন
ইথে কার কিবা দায়॥
মণি আভরণ     সুরঙ্গ শাড়ী
জাদ কেবা নাহি পরে।
যদি দানের এ গতি     তুমি ত গোলকপতি
দান সাধহ ঘরে ঘরে॥
আমরা চলিতে না জানি     কহিতে না জানি
তোমারে কেন সে বাজে।
জ্ঞানদাস কহে     কেমনে জানিব
পরের মনের কাজে॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ৩য় খণ্ড এর ৩৭২ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

দানলীলা
॥ শ্রীরাগ - জপতাল॥

শুন শুন শুন,     সুজন কানাই
তুমি সে নূতন দানী।
বিকি কিনির দান,     গোরস মানিয়ে,
বেশের দান কভু নাহি শুনি॥
সিঁথার সিন্দূর,     নয়ান কাজর
রঙ্গণ আলতা পায়।
(একি) বিকি কিনির ধন,     নারীর যৌবন,
ইথে কার কি বা দায়॥
মণি অভরণ,     সুরঙ্গ শাড়ি,
জাদ কেবা নাহি পরে।
দানের এ গতি,     তুমি ত গোকুলপতি,
দান সাধ ঘরে ঘরে॥
@ চলিতে না জানি,     বলিতে না জানি,
তোমারে কেনে সে বাজে।
জ্ঞানদাস কহে,     কেমনে জানিব,
পরের মনের কাজে॥

@ - অপাঠ্য অক্ষর।

ই পদটি ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে (১৯৪১ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, চাঁদপুর ও মেছড়া স্কুলের ভূতপূর্ব্ব হেডমাস্টার মহাশয় হরিলাল চট্টোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্নমালা” ৪র্থ সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৩২৩ বঙ্গাব্দ বা ১৯১৬ খৃষ্টাব্দ) গ্রন্থের ৩০১ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

দানলীলা
॥ সিন্ধুড়া॥

শুন শুন ওহে     সুজন কানাই
তুমি সে নূতন দানী।
বিকি কিনির দান     গোরস মানিয়ে
বেশের দান কভু নাহি শুনি॥
সিঁথায় সিন্দুর     নয়নে কাজর
রঙ্গন আলতা পায়।
বিকি কিনির ধন     নারীর যৌবন
ইথে কার কি বা দায়॥
মণি অভরণ     সুরঙ্গ শাড়ী
জদি কেহ নাহি পরে।
যদি দানের এ গতি     তুমি ত গোকুল পতি
দান সাধহ ঘরে ঘরে॥
চলিতে না জানি     কহিতে না জানি
তোমারে কেন বা বাজে।
জ্ঞান দাস কহে     কেমনে জানিব
পরের মনের কাজে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪০৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

দানখণ্ড ও নৌকাখণ্ড
দানলীলা
শ্রীকৃষ্ণের উক্তি
॥ সিন্ধুড়া॥

শুন শুন শুন     সুজন কানাই
তুমি সে নূতন দানী।
বিকি কিনির দান     গোরস মানিয়ে
বেশের দান নাহি শুনি॥
সিঁথায় সিন্দুর     নয়ানে কাজর
রঙ্গণ আলতা পায়।
(ই কি) বিকিকিনির ধন     নারীর যৌবন
ইথে কার কি বা দায়॥
মণিআভরণ     সুরঙ্গ শাড়ী
জাদ কেবা নাহি পরে।
যদি দানের এ গতি     তুমি ত গোকুলপতি
দান সাধ ঘরে ঘরে॥ চলিতে না জানি,     কহিতে না জানি
তোমার কেনে বা বাজে।
জ্ঞানদাস কহে     কেমনে জানিব-
পরের মনের কাজে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দানখণ্ড ও নৌকাখণ্ড
॥ সিন্ধুড়া॥

শুন শুন শুন     সুজন কানাই
তুমি সে নূতন দানী।
বিকি কিনির দান     গো-রসে মানিয়ে
বেশের দান কভু নাহি শুনি॥
সিঁথায় সিন্দুর     নয়ানে কাজর
রঙ্গণ আলতা পায়।
(ই কি) বিকি-কিনির ধন     নারীর যৌবন
ইথে কার কি বা দায়॥
মণি-অভরণ     সুরঙ্গ শাড়ী
জাদ কেবা নাহি পরে।
যদি দানের এ গতি     তুমি ত গোকুল-পতি
দান সাধ ঘরে ঘরে॥
চলিতে না জানি,     কহিতে না জানি
তোমারে কেনে বা বাজে।
জ্ঞানদাস কহে     কেমনে জানিব
পরের মনের কাজে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৫৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শুন শুন শুন সুজন কানাই
      তুমি সে নূতন দানী।
বিকি কিনির দান গোরস মানিয়ে
      বেশের দান নাহি শুনি॥
সিঁথায় সিন্দুর নয়ানে কাজর
      রঙ্গণ আলতা পায়।
বিকিকিনির ধন নারীর যৌবন
      ইথে কার কিবা দায়॥
মণিআভরণ সুরঙ্গ শাড়ী
      জাদ কেবা নাহি পরে।
যদি দানের এ গতি তুমি গোকুলপতি
      দান সাধ ঘরে ঘরে॥
চলিতে না জানি কহিতে না জানি
      তোমার কেনে বা বাজে।
জ্ঞানদাস কহে কেমনে জানিব
      পরের মনের কাজে॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^