কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
নিতি নিতি যাও রাই মথুরা নগরে
কবি জ্ঞানদাস
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৫শ পল্লব, দান-লীলা, ১৩৯৫-নং পদসংখ্যা, ৩৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ পঠমঞ্জরী॥
নিতি নিতি যাও রাই মথুরা নগরে।
ঘৃত দধি দুধ ঘোলে সাজাঞা পসারে॥
আমি পথে মহাদানী বিদিত সংসারে।
কার বোলে কোন ছলে যাও অবিচারে॥
দেহ মহাদান রাই বসিয়া নিকটে।
এক পণ অধিক কাহণ প্রতি ঘটে॥
চির দিন আছে দান সমুখে আসাড়ি।৮
অঙ্গে বহু-মূল ধন আর নীল শাড়ী॥
সিথাঁর সিন্দুর দান কহনে না যায়।
নয়ানে কাজল-রেখে ধরণী বিকায়॥
কি বলিবে বল রাই না সহে বেয়াজ।
তুমি ধনী আমি দানী ইথে কিবা লাজ॥
ঈষত চাহনি হাসি আধ কথা।
জ্ঞানদাস কহে দানী বিষম বিধাতা॥
পাঠান্তর---
৮ - "চির দিন আছে" ইত্যাদি স্থলে "সমুখে আছয়ে" ইত্যাদি ক,খ,ঘ,চ। অর্থাৎ পদকল্পতরুর ক,খ,ঘ,চ পুথিতে যে পাঠান্তর রয়েছে তা কেবল "সমুখে আছয়ে" কথাটি কে নিয়ে। শেষের "আসাড়ি" শব্দটি সব কটি পুথিতে "আসাড়ি"-ই রয়েছে। ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১০৮-পৃষ্ঠায় এই পদের টীকায় "আসাড়ি" শব্দটি লিপিকর প্রমাদের কারণে হওয়া নিয়ে লেখাটি নীচে দেওয়া রয়েছে।---মিলন সেনগুপ্ত। মিলনসাগর॥
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
দানলীলা
॥ পঠমঞ্জরী॥
নিতি নিতি যাও রাই মথুরা নগরে।
ঘৃত দধি দুগ্ধ ঘোলে সাজাঞা পসারে॥
আমি পথে মহাদানী বিদিত সংসারে।
কার বোলে কোন ছলে যাও অবিচারে॥
দেহ মহাদান রাই বসিয়া নিকটে।
এক পণ অধিক কাহন প্রতি ঘটে॥
সমুখ আছয়ে দান সমুখে আমারি।
অঙ্গে বহুমূলধন আর নীল শাড়ী॥
সীঁথার সিন্দূর দান কহনে না যায়।
নয়ন কাজর দেখে ধরণী বিকায়॥
কি বলিবে বল রাই না সহে বেয়াজ।
তুমি ধনি আমি দানী ইথে কিবা লাজ॥
ঈষৎ চাহনি হাসি আধ আধ কথা।
জ্ঞানদাস কহে দানী বিষম বিধাতা॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২১৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
দান।
॥ পঠমঞ্জরী॥
নিতি নিতি যাও রাই মথুরা নগরে।
ঘৃত দধি দুগ্ধ ঘোলে সাজাঞা পসারে॥
আমি পথে মহাদানী বিদিত সংসারে।
কার বোলে কোন ছলে যাও অবিচারে॥
দেহ মহাদান রাই বসিয়া নিকটে।
একপণ অধিক কাহন প্রতি ঘটে॥
সমুখ আছয়ে দান সমুখে আমারি।
অঙ্গে বহুমূলধন আর নীল শাড়ী॥
সীঁথার সিন্দূর দান কহনে না যায়।
নয়ন কাজর দেখে ধরণী বিকায়॥
কি বলিবে বল রাই না সহে বেয়াজ।
তুমি ধনি আমি দানী ইথে কিবা লাজ॥
ঈষৎ চাহনি হাসি আধ আধ কথা।
জ্ঞানদাস কহে দানী বিষম বিধাতা॥
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১২১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
দান।
নিতি নিতি যাও রাই মথুরা নগরে।
ঘৃত দধি দুগ্ধ ঘোলে সাজাঞা পসারে॥
আমি পথে মহাদানী বিদিত সংসারে।
কার বোলে কোন ছলে যাও অবিচারে॥
দেহ মহাদান রাই বসিয়া নিকটে। একপণ
অধিক কাহন প্রতি ঘটে॥ সমুখ আছয়ে
দান সমুখে আমারি। অঙ্গে বহুমূলধন আর
নীল শাড়ী॥ সীঁথার সিন্দূর দান কহনে
না যায়। নয়ন কাজর দেখে ধরণী বিকায়॥
কি বলিবে বল রাই না সহে বেয়াজ।
তুমি ধনি আমি দানী ইথে কিবা লাজ॥
ঈষৎ চাহনি হাসি আধ আধ কথা। জ্ঞান-
দাস কহে দানী বিষম বিধাতা॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
দানলীলা
॥ পঠমঞ্জরী॥
নিতি নিতি যাও রাই মথুরা নগরে।
ঘৃত দধি দুগ্ধ ঘোলে সাজাঞা পসারে॥
আমি পথে মহাদানী বিদিত সংসারে।
কার বোলে কোন ছলে যাও অবিচারে॥
দেহ মহাদান রাই বসিয়া নিকটে।
একপণ অধিক কাহন প্রতি ঘটে॥
সমুখ আছয়ে দান সমুখে আমারি।
অঙ্গে বহুমূলধন আর নীল শাড়ী॥
সীঁথার সিন্দূর দান কহনে না যায়।
নয়ন কাজর দেখে ধরণী বিকায়॥
কি বলিবে বল রাই না সহে বেয়াজ।
তুমি ধনি আমি দানী ইথে কিবা লাজ॥
ঈষৎ চাহনি হাসি আধ আধ কথা।
জ্ঞানদাস কহে দানী বিষম বিধাতা॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, দানলীলা, ১৯৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নিতি নিতি যাও রাই মথুরা নগরে।
ধৃত দধি দুধ ঘোলে সাঝাঞা পসারে॥
আমি পথে মহাদানী বিদিত সংসারে।
কার বোলে কোন ছলে যাও অবিচারে॥
দেহ মহাদান রাই বসিয়া নিকটে।
এক পণ অধিক কাহন প্রতি ঘটে॥
চিরদিন আছে দান সমুখে আমারি।
অঙ্গে বহু-মূল ধন আর নীল শাড়ী॥
সিঁথার সিন্দূর দান কহনে না যায়।
নয়ানে কাজল রেখে ধরণী বিকায়॥
কি বলিবে বল যাই না সহে বেয়াজ।
তুমি ধনী আমি দানী ইথে কিবা লাজ॥
ঈষত চাহনি হাসি আধ আধ কথা।
জ্ঞানদাস কহে দানী বিষম বিধাতা॥
টীকা ---
এক পণ অধিক কাহন প্রতি ঘটে --- প্রতি ঘটের জন্য কুড়ি গণ্ডা কড়ি প্রতি কাহনে অধিক দিতে হইবে। ১৬পণে, ৩২০ গণ্ডায় বা ১২৮০ টায় এক কাহণ।
নয়ানে কাজল রেখে ধরণী বিকায় --- তোমার চোখের কজ্জল রেখার এমনই শোভা যে উহার মূল্যে পৃথিবী বিক্রীত হইয়া যায়।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২২০ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
দানলীলা
॥ পঠমঞ্জরী॥
নিতি নিতি যাও রাই মথুরানগরে।
ঘৃত দধি দুগ্ধ ঘোলে সাজাঞা পসারে॥
আমি পথে মহাদানী বিদিত সংসারে।
কার বোলে কোন্ ছলে যাও অবিচারে॥
দেহ মহাদান রাই বসিয়া নিকটে।
একপণ অধিক কাহণ প্রতি ঘটে॥
সমুখ আছয়ে দান সমুখে আমারি।
অঙ্গে বহুমূল্যধন আর নীল শাড়ী॥
সীঁথায় সিন্দূর দান কহনে না যায়।
নয়ন কাজয় দেখে ধরণী বিকায়॥
কি বলিবে বল রাই না সহে বেয়াজ।
তুমি ধনী আমি দানী ইথে কিবা লাজ॥
ঈষৎ চাহনি হাসি আধ আধ কথা।
জ্ঞানদাস কহে দানী বিষম বিধাতা॥
এই পদটি ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে (১৯৪১ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, চাঁদপুর ও মেছড়া স্কুলের ভূতপূর্ব্ব হেডমাস্টার মহাশয় হরিলাল চট্টোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্নমালা” ৪র্থ সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৩২৩ বঙ্গাব্দ বা ১৯১৬ খৃষ্টাব্দ) গ্রন্থের ২৯৬ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
দানলীলা
॥ পঠ মঞ্জরী॥
নিতি নিতি যাও রাই মথুরা নগরে।
দধি দুগ্ধ ঘৃত ঘোল সাজাঞা পসারে॥
আমি পথে মহাদানী বিদিত সংসারে।
কার বোলে কোন ছলে যাও অবিচারে॥
দেহ মহাদান রাই বসিয়া নিকটে।
এক পণ অধিক কাহণ প্রতি ঘটে॥
চির দিন আছে দান সম্মুখে হামারি।
অঙ্গে বহু মূল ধন আর নীল শাড়ী॥
সীঁথায় সিন্দূর দান কহনে না যায়।
নয়ন কাজর দেখে ধরণী বিকায়॥
কি বলিবে বল রাই না সহে বিয়াজ।
তুমি ধনী আমি দানী ইথে কিবা লাজ॥
ঈষদ্ চাহনি হাসি আধ আধ কথা।
জ্ঞান দাস কহে দানী বিষম বিধাতা॥
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪০৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
দানখণ্ড ও নৌকাখণ্ড
দানলীলা
শ্রীকৃষ্ণের উক্তি
॥ পঠমঞ্জরী॥
নিতি নিতি যাও রাই মথুরা নগরে।
ঘৃত দধি দুধ ঘোলে সাজাঞা পসারে॥
আমি পথে মহাদানী বিদিত সংসারে।
কার বোলে কোন ছলে যাও অবিচারে॥
দেহ মহাদান রাই বসিয়া নিকটে।
এক পণ অধিক কাহণ প্রতি বটে॥
চিরদিন আছে দান সমুখে আমারি।
অঙ্গে বহু-মূল ধন আর নীল শাড়ী॥
সিথাঁয় সিন্দুর দান কহনে না যায়।
নয়ানে কাজলরেখে ধরণী বিকায়॥
কি বলিবে বল রাই না সহে বেয়াজ।
তুমি ধনী আমি দানী ইথে কিবা লাজ॥
ঈষত চাহনি হাসি আধ আধ কথা।
জ্ঞানদাস কহে ধনি বাঁধ প্রেমলতা॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
দানখণ্ড ও নৌকাখণ্ড
॥ পঠমঞ্জরী॥
নিতি নিতি যাও রাই মথুরা নগরে।
ঘৃত দধি দুধ ঘোলে সাজাঞা পসারে॥
আমি পথে মহাদানী বিদিত সংসারে।
কার বোলে কোন ছলে যাও অবিচারে॥
দেহ মহাদান রাই বসিয়া নিকটে।
এক পণ অধিক কাহণ প্রতি ঘটে॥
চিরদিন আছে দান সমুখে আমারি।
অঙ্গে বহু-মূল ধন আর নীল শাড়ী॥
সিথাঁয় সিন্দুর দান কহনে না যায়।
নয়ানে কাজল-রেখে ধরণী বিকায়॥
কি বলিবে বল রাই না সহে বেয়াজ।
তুমি ধনী আমি দানী ইথে কিবা লাজ॥
ঈষত চাহনি হাসি আধ আধ কথা।
জ্ঞানদাস কহে ধনি বাঁধ প্রেমলতা॥১
টীকা---
পদকল্পতরুতে ৭ম পংক্তির পাঠ ছিল --- “চিরদিন আছে দান সম্মুখে আসাড়ি”। “আঘাড়" অর্থে দণ্ড আসাড়ি বা আঘাড়ি দণ্ডধারী। সম্ভবতঃ আমারি লিপিকর প্রমাদে আসাড়ি হইয়াছে। গৃহীত পাঠের অর্থ--- চিরদিনের (প্রাপ্য) দান আমার সম্মুখেই রহিয়াছে। অঙ্গে বহুমুল্য অলঙ্কার আর নীলশাড়ী হইতেই দান-মুল্য আদায় হইবে। পরবর্তী পংক্তিগুলি হইতে এই অর্থ আরো সুস্পষ্ট হইতেছে। নবম ও দশম পংক্তির অর্থ--- সিঁথির সিন্দুরের দানের কথা বলা যায় না, নয়নের কাজলরেখায় (কাজলরেখার মুল্যে) পৃথিবী বিকাইয়া যায়।
১ --- তথাকথিত দানীর হাব-ভাব-ভঙ্গী সমস্তই প্রেমব্যঞ্জক ; সুতরাং কবি বলিতেছেন যে, তাহাকে প্রেম-বন্ধনে আবদ্ধ করাই সমীচীন।
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৩২ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নিতি নিতি যাও রাই মথুরা নগরে।
ঘৃত দধি দুধ ঘোলে সাজাঞা পসারে॥
আমি পথে মহাদানী বিদিত সংসারে।
কার বোলে কোন ছলে যাও অবিচারে॥
দেহ মহাদান রাই বসিয়া নিকটে।
এক পণ অধিক কাহণ প্রতি বটে॥
চিরদিন আছে দান সমুখে আমারি।
অঙ্গে বহুমূল ধন আর নীল শাড়ী॥
সিথাঁয় সিন্দুর দান কহনে না যায়।
নয়ানে কাজলরেখে ধরণী বিকায়॥
কি বলিবে বল রাই না সহে বেয়াজ।
তুমি ধনী আমি দানী ইথে কিবা লাজ॥
ঈষত চাহনি হাসি আধ আধ কথা।
জ্ঞানদাস কহে ধনি বাঁধ প্রেমলতা॥
*********************
নিতি নিতি যাও রাই মথুরা নগরে।
ঘৃত দধি দুধ ঘোলে সাজাঞা পসারে॥
আমি পথে মহাদানী বিদিত সংসারে।
কার বোলে কোন ছলে যাও অবিচারে॥
দেহ মহাদান রাই বসিয়া নিকটে।
এক পণ অধিক কাহণ প্রতি ঘটে॥
চির দিন আছে দান সমুখে আসাড়ি।৮
অঙ্গে বহু-মূল ধন আর নীল শাড়ী॥
সিথাঁর সিন্দুর দান কহনে না যায়।
নয়ানে কাজল-রেখে ধরণী বিকায়॥
কি বলিবে বল রাই না সহে বেয়াজ।
তুমি ধনী আমি দানী ইথে কিবা লাজ॥
ঈষত চাহনি হাসি আধ কথা।
জ্ঞানদাস কহে দানী বিষম বিধাতা॥
পাঠান্তর---
৮ - "চির দিন আছে" ইত্যাদি স্থলে "সমুখে আছয়ে" ইত্যাদি ক,খ,ঘ,চ। অর্থাৎ পদকল্পতরুর ক,খ,ঘ,চ পুথিতে যে পাঠান্তর রয়েছে তা কেবল "সমুখে আছয়ে" কথাটি কে নিয়ে। শেষের "আসাড়ি" শব্দটি সব কটি পুথিতে "আসাড়ি"-ই রয়েছে। ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১০৮-পৃষ্ঠায় এই পদের টীকায় "আসাড়ি" শব্দটি লিপিকর প্রমাদের কারণে হওয়া নিয়ে লেখাটি নীচে দেওয়া রয়েছে।---মিলন সেনগুপ্ত। মিলনসাগর॥
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
দানলীলা
॥ পঠমঞ্জরী॥
নিতি নিতি যাও রাই মথুরা নগরে।
ঘৃত দধি দুগ্ধ ঘোলে সাজাঞা পসারে॥
আমি পথে মহাদানী বিদিত সংসারে।
কার বোলে কোন ছলে যাও অবিচারে॥
দেহ মহাদান রাই বসিয়া নিকটে।
এক পণ অধিক কাহন প্রতি ঘটে॥
সমুখ আছয়ে দান সমুখে আমারি।
অঙ্গে বহুমূলধন আর নীল শাড়ী॥
সীঁথার সিন্দূর দান কহনে না যায়।
নয়ন কাজর দেখে ধরণী বিকায়॥
কি বলিবে বল রাই না সহে বেয়াজ।
তুমি ধনি আমি দানী ইথে কিবা লাজ॥
ঈষৎ চাহনি হাসি আধ আধ কথা।
জ্ঞানদাস কহে দানী বিষম বিধাতা॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২১৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
দান।
॥ পঠমঞ্জরী॥
নিতি নিতি যাও রাই মথুরা নগরে।
ঘৃত দধি দুগ্ধ ঘোলে সাজাঞা পসারে॥
আমি পথে মহাদানী বিদিত সংসারে।
কার বোলে কোন ছলে যাও অবিচারে॥
দেহ মহাদান রাই বসিয়া নিকটে।
একপণ অধিক কাহন প্রতি ঘটে॥
সমুখ আছয়ে দান সমুখে আমারি।
অঙ্গে বহুমূলধন আর নীল শাড়ী॥
সীঁথার সিন্দূর দান কহনে না যায়।
নয়ন কাজর দেখে ধরণী বিকায়॥
কি বলিবে বল রাই না সহে বেয়াজ।
তুমি ধনি আমি দানী ইথে কিবা লাজ॥
ঈষৎ চাহনি হাসি আধ আধ কথা।
জ্ঞানদাস কহে দানী বিষম বিধাতা॥
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১২১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
দান।
নিতি নিতি যাও রাই মথুরা নগরে।
ঘৃত দধি দুগ্ধ ঘোলে সাজাঞা পসারে॥
আমি পথে মহাদানী বিদিত সংসারে।
কার বোলে কোন ছলে যাও অবিচারে॥
দেহ মহাদান রাই বসিয়া নিকটে। একপণ
অধিক কাহন প্রতি ঘটে॥ সমুখ আছয়ে
দান সমুখে আমারি। অঙ্গে বহুমূলধন আর
নীল শাড়ী॥ সীঁথার সিন্দূর দান কহনে
না যায়। নয়ন কাজর দেখে ধরণী বিকায়॥
কি বলিবে বল রাই না সহে বেয়াজ।
তুমি ধনি আমি দানী ইথে কিবা লাজ॥
ঈষৎ চাহনি হাসি আধ আধ কথা। জ্ঞান-
দাস কহে দানী বিষম বিধাতা॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
দানলীলা
॥ পঠমঞ্জরী॥
নিতি নিতি যাও রাই মথুরা নগরে।
ঘৃত দধি দুগ্ধ ঘোলে সাজাঞা পসারে॥
আমি পথে মহাদানী বিদিত সংসারে।
কার বোলে কোন ছলে যাও অবিচারে॥
দেহ মহাদান রাই বসিয়া নিকটে।
একপণ অধিক কাহন প্রতি ঘটে॥
সমুখ আছয়ে দান সমুখে আমারি।
অঙ্গে বহুমূলধন আর নীল শাড়ী॥
সীঁথার সিন্দূর দান কহনে না যায়।
নয়ন কাজর দেখে ধরণী বিকায়॥
কি বলিবে বল রাই না সহে বেয়াজ।
তুমি ধনি আমি দানী ইথে কিবা লাজ॥
ঈষৎ চাহনি হাসি আধ আধ কথা।
জ্ঞানদাস কহে দানী বিষম বিধাতা॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, দানলীলা, ১৯৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নিতি নিতি যাও রাই মথুরা নগরে।
ধৃত দধি দুধ ঘোলে সাঝাঞা পসারে॥
আমি পথে মহাদানী বিদিত সংসারে।
কার বোলে কোন ছলে যাও অবিচারে॥
দেহ মহাদান রাই বসিয়া নিকটে।
এক পণ অধিক কাহন প্রতি ঘটে॥
চিরদিন আছে দান সমুখে আমারি।
অঙ্গে বহু-মূল ধন আর নীল শাড়ী॥
সিঁথার সিন্দূর দান কহনে না যায়।
নয়ানে কাজল রেখে ধরণী বিকায়॥
কি বলিবে বল যাই না সহে বেয়াজ।
তুমি ধনী আমি দানী ইথে কিবা লাজ॥
ঈষত চাহনি হাসি আধ আধ কথা।
জ্ঞানদাস কহে দানী বিষম বিধাতা॥
টীকা ---
এক পণ অধিক কাহন প্রতি ঘটে --- প্রতি ঘটের জন্য কুড়ি গণ্ডা কড়ি প্রতি কাহনে অধিক দিতে হইবে। ১৬পণে, ৩২০ গণ্ডায় বা ১২৮০ টায় এক কাহণ।
নয়ানে কাজল রেখে ধরণী বিকায় --- তোমার চোখের কজ্জল রেখার এমনই শোভা যে উহার মূল্যে পৃথিবী বিক্রীত হইয়া যায়।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২২০ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
দানলীলা
॥ পঠমঞ্জরী॥
নিতি নিতি যাও রাই মথুরানগরে।
ঘৃত দধি দুগ্ধ ঘোলে সাজাঞা পসারে॥
আমি পথে মহাদানী বিদিত সংসারে।
কার বোলে কোন্ ছলে যাও অবিচারে॥
দেহ মহাদান রাই বসিয়া নিকটে।
একপণ অধিক কাহণ প্রতি ঘটে॥
সমুখ আছয়ে দান সমুখে আমারি।
অঙ্গে বহুমূল্যধন আর নীল শাড়ী॥
সীঁথায় সিন্দূর দান কহনে না যায়।
নয়ন কাজয় দেখে ধরণী বিকায়॥
কি বলিবে বল রাই না সহে বেয়াজ।
তুমি ধনী আমি দানী ইথে কিবা লাজ॥
ঈষৎ চাহনি হাসি আধ আধ কথা।
জ্ঞানদাস কহে দানী বিষম বিধাতা॥
এই পদটি ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে (১৯৪১ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, চাঁদপুর ও মেছড়া স্কুলের ভূতপূর্ব্ব হেডমাস্টার মহাশয় হরিলাল চট্টোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্নমালা” ৪র্থ সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৩২৩ বঙ্গাব্দ বা ১৯১৬ খৃষ্টাব্দ) গ্রন্থের ২৯৬ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
দানলীলা
॥ পঠ মঞ্জরী॥
নিতি নিতি যাও রাই মথুরা নগরে।
দধি দুগ্ধ ঘৃত ঘোল সাজাঞা পসারে॥
আমি পথে মহাদানী বিদিত সংসারে।
কার বোলে কোন ছলে যাও অবিচারে॥
দেহ মহাদান রাই বসিয়া নিকটে।
এক পণ অধিক কাহণ প্রতি ঘটে॥
চির দিন আছে দান সম্মুখে হামারি।
অঙ্গে বহু মূল ধন আর নীল শাড়ী॥
সীঁথায় সিন্দূর দান কহনে না যায়।
নয়ন কাজর দেখে ধরণী বিকায়॥
কি বলিবে বল রাই না সহে বিয়াজ।
তুমি ধনী আমি দানী ইথে কিবা লাজ॥
ঈষদ্ চাহনি হাসি আধ আধ কথা।
জ্ঞান দাস কহে দানী বিষম বিধাতা॥
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪০৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
দানখণ্ড ও নৌকাখণ্ড
দানলীলা
শ্রীকৃষ্ণের উক্তি
॥ পঠমঞ্জরী॥
নিতি নিতি যাও রাই মথুরা নগরে।
ঘৃত দধি দুধ ঘোলে সাজাঞা পসারে॥
আমি পথে মহাদানী বিদিত সংসারে।
কার বোলে কোন ছলে যাও অবিচারে॥
দেহ মহাদান রাই বসিয়া নিকটে।
এক পণ অধিক কাহণ প্রতি বটে॥
চিরদিন আছে দান সমুখে আমারি।
অঙ্গে বহু-মূল ধন আর নীল শাড়ী॥
সিথাঁয় সিন্দুর দান কহনে না যায়।
নয়ানে কাজলরেখে ধরণী বিকায়॥
কি বলিবে বল রাই না সহে বেয়াজ।
তুমি ধনী আমি দানী ইথে কিবা লাজ॥
ঈষত চাহনি হাসি আধ আধ কথা।
জ্ঞানদাস কহে ধনি বাঁধ প্রেমলতা॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
দানখণ্ড ও নৌকাখণ্ড
॥ পঠমঞ্জরী॥
নিতি নিতি যাও রাই মথুরা নগরে।
ঘৃত দধি দুধ ঘোলে সাজাঞা পসারে॥
আমি পথে মহাদানী বিদিত সংসারে।
কার বোলে কোন ছলে যাও অবিচারে॥
দেহ মহাদান রাই বসিয়া নিকটে।
এক পণ অধিক কাহণ প্রতি ঘটে॥
চিরদিন আছে দান সমুখে আমারি।
অঙ্গে বহু-মূল ধন আর নীল শাড়ী॥
সিথাঁয় সিন্দুর দান কহনে না যায়।
নয়ানে কাজল-রেখে ধরণী বিকায়॥
কি বলিবে বল রাই না সহে বেয়াজ।
তুমি ধনী আমি দানী ইথে কিবা লাজ॥
ঈষত চাহনি হাসি আধ আধ কথা।
জ্ঞানদাস কহে ধনি বাঁধ প্রেমলতা॥১
টীকা---
পদকল্পতরুতে ৭ম পংক্তির পাঠ ছিল --- “চিরদিন আছে দান সম্মুখে আসাড়ি”। “আঘাড়" অর্থে দণ্ড আসাড়ি বা আঘাড়ি দণ্ডধারী। সম্ভবতঃ আমারি লিপিকর প্রমাদে আসাড়ি হইয়াছে। গৃহীত পাঠের অর্থ--- চিরদিনের (প্রাপ্য) দান আমার সম্মুখেই রহিয়াছে। অঙ্গে বহুমুল্য অলঙ্কার আর নীলশাড়ী হইতেই দান-মুল্য আদায় হইবে। পরবর্তী পংক্তিগুলি হইতে এই অর্থ আরো সুস্পষ্ট হইতেছে। নবম ও দশম পংক্তির অর্থ--- সিঁথির সিন্দুরের দানের কথা বলা যায় না, নয়নের কাজলরেখায় (কাজলরেখার মুল্যে) পৃথিবী বিকাইয়া যায়।
১ --- তথাকথিত দানীর হাব-ভাব-ভঙ্গী সমস্তই প্রেমব্যঞ্জক ; সুতরাং কবি বলিতেছেন যে, তাহাকে প্রেম-বন্ধনে আবদ্ধ করাই সমীচীন।
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৩২ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নিতি নিতি যাও রাই মথুরা নগরে।
ঘৃত দধি দুধ ঘোলে সাজাঞা পসারে॥
আমি পথে মহাদানী বিদিত সংসারে।
কার বোলে কোন ছলে যাও অবিচারে॥
দেহ মহাদান রাই বসিয়া নিকটে।
এক পণ অধিক কাহণ প্রতি বটে॥
চিরদিন আছে দান সমুখে আমারি।
অঙ্গে বহুমূল ধন আর নীল শাড়ী॥
সিথাঁয় সিন্দুর দান কহনে না যায়।
নয়ানে কাজলরেখে ধরণী বিকায়॥
কি বলিবে বল রাই না সহে বেয়াজ।
তুমি ধনী আমি দানী ইথে কিবা লাজ॥
ঈষত চাহনি হাসি আধ আধ কথা।
জ্ঞানদাস কহে ধনি বাঁধ প্রেমলতা॥
*********************
