কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
এনা ছান্দে কে না বান্ধে চুল
এত ছান্দে কেনা বান্ধে চুল
বন্ধু এনা ছাঁদে কে না বাঁধে চুল
এত ছন্দে কেনা বান্ধে চুল

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৬শ পল্লব, নৌকা-বিলাস, ১৪০৭-নং পদসংখ্যা, ৩৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

এনা ছান্দে কে না বান্ধে চুল।
চূড়ায় মজাল্যে জাতি কুল॥
কেবা নাহি পরে বন-মালা।
মালার এতেক কেন জ্বালা॥
কেনা থাকে ত্রিভঙ্গ হইয়া।
প্রাণ কান্দে এ রূপ দেখিয়া॥
কেবা না এতেক জানে কলা।
যাহা দেখি ভুলল অবলা॥
কেবা নাহি কহে কথা খানি।
চাঁদ-মুখে সুধা খসে জানি॥
কেবা নাহি ধরে রূপ কালা।
তোমার রূপে ত্রিভুবন আলা॥
তোমা বিনে মনে নাহি লয়।
জ্ঞানদাস কহে ভাল হয়॥

ই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দানলীলা
॥ ধানশী॥

এত ছান্দে কেনা বান্ধে চুল।
তোমার চূড়ায় মজাইলে জাতি কুল॥
এইত চন্দনের ফোটা কেবা নাহি পরে।
তোমার কপালগুণে ঝলমল করে॥
কেবা নাহি পরে বনমালা।
তোমার মালায় সে এতেক কেন জ্বালা॥
কে না থাকে ত্রিভঙ্গ হইয়া।
প্রাণ কান্দে এরূপ দেখিয়া॥
কেবা না এতেক জানে কলা।
যাহা দেখি ভুলয়ে অবলা॥
কেবা নাহি কহে কথাখানি।
তোমার চাঁদ মুখে সুধা খসে জানি॥
কেবা নাহি ধরে রূপ কালা।
তোমার রূপে সে ভুবন কৈলা আলা॥
তোমা বিনে মনে নাহি লয়।
জ্ঞানদাস কহে ভাল হয়॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দানলীলা
॥ ধানশী॥

এত ছান্দে কেনা বান্ধে চুল।
তোমার চূড়ায় মজাইলে জাতি কুল॥
এইত চন্দনের ফোটা কেবা নাহি পরে।
তোমার কপালগুণে ঝলমল করে॥
কেবা নাহি পরে বনমালা।
তোমার মালায় সে এতেক কেন জ্বালা॥
কে না থাকে ত্রিভঙ্গ হইয়া।
প্রাণ কান্দে এরূপ দেখিয়া॥
কেবা না এতেক জানে কলা।
যাহা দেখি ভুলয়ে অবলা॥
কেবা নাহি কহে কথাখানি।
তোমার চাঁদমুখে সুধা খসে জানি॥
কেবা নাহি ধরে রূপ কালা।
তোমার রূপে সে ভুবন কৈলা আলা॥
তোমা বিনে মনে নাহি লয়।
জ্ঞানদাস কহে ভাল হয়॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, অনুরাগ ও আক্ষেপানুরাগ, ১৭৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বন্ধু১ এনা ছাঁদে কে না বাঁধে চুল।
তোমার চূড়ায় মজাইলে জাতি কুল॥
(এই চন্দনের ফোঁটা কেবা নাহি পরে।
তোমার কপাল গুণে ঝলমল করে॥৩)
কেবা নাহি পরে বনমালা।
(তোমার)৪ মালায় এতেক কেনে জ্বালা॥
কেনা থাকে ত্রিভঙ্গী হইয়া।
প্রাণ কাঁন্দে এরূপ দেখিয়া॥
কেবা বা এতেক জানে কলা।
যাহা দেখি ভুলয়ে অবলা॥
কেবা নাহি কহে কথা খানি।
(তোমার) চাঁদমুখে সুধা খসে জানি॥
কেবা নাহি ধরে রূপ কালা।
তোমার রূপে ভুবন করিয়াছে আলা॥
তোমা বিনে মনে নাহি লয়।
জ্ঞান কহে ভাল হয়॥

পাঠান্তর --- তরু (পদকল্পতরু)
১ - বন্ধু শব্দ তরুতে নাই।
৩ - বন্ধনীর ভিতরের অংশ তরুতে নাই।

টীকা---
শ্রীরাধা শ্রীকৃষ্ণের রূপের ও বেশের অসাধারণত্ব কোথায় তাহাই বাহির করিতে চেষ্টা করিতেছেন।

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, “কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২২৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

দানলীলা
॥ ধানশী॥

এত ছন্দে কেনা বান্ধে চুল।
তোমার চুড়ায় মজাইলে জাতি কুল॥
এইত চন্দনের ফোটা কেবা নাহি পরে।
তোমার কপালগুণে ঝলমল করে॥
কেবা নাহি পরে বনমালা।
তোমার মালায় সে এতক কেন জ্বালা॥
কেনা থাকে ত্রিভঙ্গ হইয়া।
প্রাণ কান্দে এরূপ দেখিয়া॥
কেবা না এতেক জানে কলা।
যাহা দেখি ভুলয়ে অবলা॥
কেবা নাহি কহে কথাখানি।
তোমার চাঁদমুখে সুধা খসে জানি॥
কেবা নাহি ধরে রূপ কালা।
তোমার রূপে সে ভুবন কৈল আলা॥
তোমা বিনে মনে নাহি লয়।
জ্ঞানদাস কহে ভাল হয়॥

ই পদটি ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে (১৯৪১ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, চাঁদপুর ও মেছড়া স্কুলের ভূতপূর্ব্ব হেডমাস্টার মহাশয় হরিলাল চট্টোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্নমালা” ৪র্থ সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৩২৩ বঙ্গাব্দ বা ১৯১৬ খৃষ্টাব্দ) গ্রন্থের ৩১৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

দানলীলা (প্রকারান্তর)
॥ ধানশী॥

এত ছান্দে কেনা বান্ধে চুল।
তোমার চূড়ায় মজাইল জাতি কুল॥
এইত চন্দনের ফোটা কেবা নাহি পরে।
তোমার কপালগুণে ঝলমল করে॥
কেবা নাহি পরে বনমালা।
তোমার মালায় এত কেন জ্বালা॥
কেনা থাকে ত্রিভঙ্গ হইয়া।
প্রাণ কান্দে সে রূপ দেখিয়া॥
কেবা না এতেক জানে কলা।
যাহা দেখি ভুলল অবলা॥
কেবা নাহি কহে কথা খানি।
তোমার চাঁদ মুখে সুধা খসে জানি॥
কেবা নাহি ধরে রূপ কালা।
তোমার রূপে সে ভুবন কৈল আলা॥
তোমা বিনে মনে নাহি লয়।
জ্ঞান দাস কহে ভাল হয়॥

ই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, নিকুঞ্জ-মিলন, ৪৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

এ না ছান্দে কে না বান্ধে চুল।
তোমার চূড়ায় মজাইলে জাতি কুল॥
এইত চন্দনের ফোঁটা কে বা নাহি পরে।
তোমার কপাল গুণে ঝলমল করে॥
কেবা নাহি পরে বনমালা।
তোমার মালায় সে এতেক কেন জ্বালা॥
কে না থাকে ত্রিভঙ্গ হইয়া।
প্রাণ কান্দে এরূপ দেখিয়া॥
কে বা না এতেক জানে কলা।
যাহা দেখি ভুলয়ে অবলা॥
কে বা নাহি কহে কথা খানি।
তোমার চান্দ-মুখে সুধা খসে জানি॥
কে বা নাহি ধরে রূপ কালা।
তোমার রূপে সে ভুবন কৈলা আলা॥
তোমা বিনা মনে নাহি লয়।
জ্ঞানদাস কহে ভাল হয়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪০৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

দানখণ্ড ও নৌকাখণ্ড
শ্রীরাধার উক্তি
॥ ধানশী॥

এনা ছান্দে কে না বান্ধে চুল।
চূড়ায় মজাল্যে জাতি কুল॥
কেবা নাহি পরে বনমালা।
মালার এতেক কেন জ্বালা॥
কেনা থাকে ত্রিভঙ্গ হইয়া।
প্রাণ কান্দে এ রূপ দেখিয়া॥
কেবা না এতেক জানে কলা।
যাহা দেখি ভুলল অবলা॥
কেবা নাহি কহে কথাখানি।
চাঁদমুখে সুধা খসে জানি॥
কেবা নাহি ধরে রূপ কালা।
তোমার রূপে ত্রিভুবন আলা॥
তোমা বিনে মনে নাহি লয়।
জ্ঞানদাস কহে ভাল হয়॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দানখণ্ড ও নৌকাখণ্ড
॥ ধানশী॥

এত ছান্দে কে না বান্ধে চুল।
চূড়ায় মজাল্যে জাতি কুল॥
কেবা নাহি পরে বন-মালা।
মালার এতেক কেন জ্বালা॥
কেনা থাকে ত্রিভঙ্গ হইয়া।
প্রাণ কান্দে এ রূপ দেখিয়া॥
কেবা না এতেক জানে কলা।
যাহা দেখি ভুলল অবলা॥
কেবা নাহি কহে কথাখানি।
চাঁদ-মুখে সুধা খসে জানি॥
কেবা নাহি ধরে রূপ কালা।
তোমার রূপে ত্রিভুবন আলা॥
তোমা বিনে মনে নাহি লয়।
জ্ঞানদাস কহে ভাল হয়॥

ই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত সঙ্গীতাচার্য্য দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন "কীর্ত্তন-পদাবলী" এর ১৪৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

এত ছান্দে কে না বান্ধে চুল।
তোমার চূড়ায় মজাইল জাতি কুল॥
কেবা নাহি পরে বনমালা।
তোমার মালায় এত কেন জ্বালা॥
কে না থাকে ত্রিভঙ্গ হইয়া।
প্রাণ কান্দে এ রূপ দেখিয়া॥
কেবা না এতেক জানে কলা।
যাহা দেখি ভুলল অবলা॥
কেবা নাহি কহে কথা খানি।
তোমার চাঁদ মুখে সুধা খসে জানি॥
কেবা নাহি ধরে রূপ কালা।
তোমার রূপে ভুবন কৈল আলা॥
তোমা বিনে মনে নাহি লয়।
জ্ঞানদাস কহে ভাল হয়॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬০৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

এনা ছান্দে কে না বান্ধে চুল।
চূড়ায় মজাল্যে জাতি কুল॥
কেবা নাহি পরে বনমালা।
মালার এতেক কেন জ্বালা॥
কেনা থাকে ত্রিভঙ্গ হইয়া।
প্রাণ কান্দে এ রূপ দেখিয়া॥
কেবা না এতেক জানে কলা।
যাহা দেখি ভুলল অবলা॥
কেবা নাহি কহে কথাখানি।
চাঁদমুখে সুধা খসে জানি॥
কেবা নাহি ধরে রূপ কালা।
তোমার রূপে ত্রিভুবন আলা॥
তোমা বিনে মনে নাহি লয়।
জ্ঞানদাস কহে ভাল হয়॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^