কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
সবহুঁ সখীগণ চলু ঘর মাই
সবহু সখীগণ চলু ঘর যাই

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৬শ পল্লব, নৌকা বিলাস, ১৪১০-নং পদসংখ্যা, ৩৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মল্লার॥

সবহুঁ সখীগণ চলু ঘর মাই।
নব নব রঙ্গিণি রসবতি রাই॥
মানস-সুরধুনি দু কুল পাথার।
কৈছনে সহচরি হোয়ব পার॥
প্রাবৃট সময়ে গরজে ঘন ঘোর।
খরতর পবন বহই তহিঁ জোর॥
দুরহি নেহারত নাগর শ্যাম।
তরণী লেই মিলল সোই ঠাম॥
হাসি হাসি কহয়ে নাবিকবর কান।
চঢ় সভে পার উতারব হাম॥
শুনি সুবদনি ধনি হরষিত ভেলি।
চঢ়ল তরণি পর সহচরি মেলি॥
নৌতুন নাবিক কছু নাহি জান।
বেগেত তরণি লেই করল পয়ান॥
টূটি তরণি হেরি ভেল তরাস।
সিঞ্চয়ে পানি করে জ্ঞানদাস॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, নৌকা বিলাস, ২০৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সবহুঁ সখীগণ চলু ঘর মাই।
নব নব রঙ্গিণি রসবতী রাই॥
মানস-সুরধুনি দু-কূল পাথার।
কৈছনে সহচরি হোয়ব পার॥
প্রাবৃট সময়ে গরজে ঘন ঘোর।
খরতর পবন বহই তহি জোর॥
দুরহি নেহারত নাগর শ্যাম।
তরণী লেই মিলল সোই ঠাম॥
হাসি হাসি কহয়ে নাবিকবর কান।
চঢ় সভে পারে উতারব হাম॥
শুনি সুবদনি ধনি হরষিত ভেলি।
চঢ়ল তরণী পর সহচরি মেলি॥
নৌতুন নাবিক কছু নাহি জান।
বেগেত তরণী সেই করল পয়ান॥
টুটি তরণি হেরি ভেল তরাস।
সিঞ্চয়ে পাণি কবি জ্ঞানদাস॥

টীকা ---
মানস সুরধুনি --- মানসগঙ্গা, গোবর্দ্ধন গ্রামস্থ সুবৃহৎ সরোবর।
টুটি তরণি --- ভাঙ্গা নৌকা।

ই পদটি ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে (১৯৪১ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, চাঁদপুর ও মেছড়া স্কুলের ভূতপূর্ব্ব হেডমাস্টার মহাশয় হরিলাল চট্টোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্নমালা” ৪র্থ সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৩২৩ বঙ্গাব্দ বা ১৯১৬ খৃষ্টাব্দ) গ্রন্থের ৩২৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীশ্রীমানস গঙ্গায় নৌকা-বিলাস
॥ মল্লার॥

সবহু সখীগণ চলু ঘর যাই।
নব নব রঙ্গিণী রসবতী রাই॥
মানস সুরধুনী দুকুল পাথার।
কৈছনে সহচরি হোয়ব পার॥
প্রাবৃট সময়ে গরজে ঘন ঘোর।
খরতর পবন বহই তহিঁ জোর॥
দূরহি নেহারত নাগর শ্যাম।
তরণী লেই মিলল সোই ঠাম॥
হাসি হাসি কহয়ে নাবিক বর কান।
চর সবে পার উতারব হাম॥
শুনি সুবদিনী ধনী হরষিত ভেলি।
চরল তরণী পর সহচরী মেলি॥
নৌতুন নাবিক কছু নাহি জান।
বেগেতে তরণী লেই করিল পয়ান॥
টুটল তরণী হেরি ভেল তরাস।
সিঞ্চয়ে পানী কহে কবি জ্ঞানদাস॥

ই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত সঙ্গীতাচার্য্য দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন "কীর্ত্তন-পদাবলী" এর ১৫১ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

সবহুঁ সখীগণ চলু ঘর যাই।
নব নব রঙ্গিণী রসবতী রাই॥
মানস-সুরধনী দুকূল পাথার।
কৈছনে সহচরী হোয়ব পার॥
প্রাবৃট সময়ে গরজে ঘন ঘোর।
খরতর পবন বহই তহিঁ জোর॥
দূরহি নেহারত নাগর শ্যাম।
তরণী লেই মিলল সেই ঠাম॥
হাসি হাসি কহয়ে নাবিকবর কান।
চড় সভে পার উতারব হাম॥
শুনি সুবদনী ধনী হরষিত ভেল।
চরল তরণীপর সহচরী মেল॥
নৌতুন নাবিক কছু নাহি জান।
বেগেতে তরণী লেই করল পয়ান॥
টুটল তরণী হেরি ভেল তরাস।
সিঞ্চয়ে পানি করে কবি জ্ঞানদাস॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^