কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
মধুবনে মাধব দোলত রঙ্গে
কবি জ্ঞানদাস
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৭শ পল্লব, হোরি-রসোদ্ গার, ১৪৫১-নং পদসংখ্যা, ৩৯৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ তথা রাগ॥
মধুবনে মাধব দোলত রঙ্গে।
ব্রজ-বনিতা ফাগু দেই শ্যাম-অঙ্গে॥
কানু ফাগু দেয়ল সুন্দরি-অঙ্গে।
মুখ মোড়ল ধনি করি কত ভঙ্গে॥
ফাগু-রঙ্গে গোপী সব চৌদিগে বেড়িয়া।
শ্যাম-অঙ্গে ফাগু দেই অঞ্জলি ভরিয়া॥
ফাগু খেলাইতে ফাগু উঠিল গগনে।
বৃন্দাবন-তরু-লতা রাতুল বরণে॥
রাঙ্গা ময়ূর নাচে কাছে রাঙ্গা কোকিল গায়।
রাঙ্গা ফুলে রাঙ্গা ভ্রমর রাঙ্গা মধু খায়॥
রাঙ্গা বায়ে রাঙ্গা হৈল কালিন্দীর পানী।
গগন ভুবন দিগ বিদিগ না জানি॥
রতি জয় রতি জয় দ্বিজকুলে গায়।
জ্ঞানদাস চিত নয়ন জুড়ায়॥
এই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতী বাংলা-পুথিশালার "রতন লাইব্রেরী সংগ্রহ"-র অন্তর্ভুক্ত ও সংরক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ” পুথির ১৯৮২ সালে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত এবং তপনকুমার মুখোপাধ্যায়, অণিমা মুখোপাধ্যায় ও পরমেশ্বর মাহাতা দ্বারা সহ-সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন গ্রন্থের ২৮৬ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ তথাহি রাগ তালাভ্যাং॥
মধুবনে মাধব দোলত রঙ্গে। ব্রজবনিতা ফাগু দেয়ত রঙ্গে॥
কানু ফাগু দেওল সুন্দরী অঙ্গে। মুখ মোড়ল ধনি করি কত ভঙ্গে॥
ফাগু রঙ্গে গোপী সব চৌদিগে বেঢ়িয়া। শ্যাম অঙ্গে ফাগু দেই অঞ্জলি ভরিয়া॥
ফাগু খেলাইতে ফাগু উঠিল গগনে। বৃন্দাবনের তরুলতা রাতুল বরণে॥
রাঙ্গা ময়ূর নাচে কাছে রাঙা কোকিল গায়। রাঙ্গা ফুলে রাঙ্গা ভ্রমর রাঙ্গা মধু খায়॥
রাঙ্গা রাএ রাঙ্গা হইল কালিন্দীর পানী। গগন ডুবল দিক্ বিদিক্ না জানি॥
রতি রতি জয় জয় দ্বিজকুলে গায়। জ্ঞানদাস চিত নয়ান জুড়ায়॥
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
বসন্ত লীলা
॥ বসন্ত॥
মধুবনে মাধব দোলত রঙ্গে।
ব্রজ বনিতা ফাগু দেই শ্যাম অঙ্গে॥
কানু ফাগু দেয়ল সুন্দরী অঙ্গে।
মুখ মোড়ল ধনী করি কত ভঙ্গে॥
ফাগু রঙ্গে গোপী সব চৌদিগে বেঢ়িয়া।
শ্যাম অঙ্গে ফাগু দেই অঞ্জলি ভরিয়া॥
ফাগু খেলাইতে ফাগু উঠিল গগনে।
বৃন্দাবন তরুলতা রাতুল বরণে॥
রাঙ্গা ময়ুর নাচে, কাছে রাঙ্গা কোকিল গায়।
রাঙ্গা ফুলে রাঙ্গা ভ্রমর রাঙ্গা মধু খায়॥
রাঙ্গা বায় রাঙ্গা হৈল কালিন্দীর পানি।
গগন ভুবন দিগ বিদিগ না জানি॥
রতি জয় জয় দ্বিজ কুলে গায়।
জ্ঞানদাস চিত নয়ন জুড়ায়॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২০৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
বসন্ত-লীলা।
॥ বসন্ত॥
মধুবনে মাধব দোলত রঙ্গে।
ব্রজ বনিতা ফাগু দেই শ্যাম অঙ্গে॥
কানু ফাগু দেয়ল সুন্দরী অঙ্গে।
মুখ মোড়ল ধনী করি কত ভঙ্গে॥
ফাগু রঙ্গে গোপী সব চৌদিগে বেঢ়িয়া।
শ্যাম অঙ্গে ফাগু দেই অঞ্জলি ভরিয়া॥
ফাগু খেলাইতে ফাগু উঠিল গগনে।
বৃন্দাবন তরুলতা রাতুল বরণে॥
রাঙ্গা ময়ুর নাচে, কাছে রাঙ্গা কোকিল গায়।
রাঙ্গা ফুলে রাঙ্গা ভ্রমর রাঙ্গা মধু খায়॥
রাঙ্গা বায় রাঙ্গা হৈল কালিন্দীর পানি।
গগন ভুবন দিগ বিদিগ না জানি॥
রতি জয় জয় দ্বিজ কুলে গায়।
জ্ঞানদাস চিত নয়ন জুড়ায়॥
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৪৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
বসন্ত-লীলা
॥ বসন্ত॥
মধুবনে মাধব দোলত রঙ্গে। ব্রজ-
বনিতা ফাগু দেই শ্যাম অঙ্গে॥ কানু ফাগু
দেয়ল সুন্দরী অঙ্গে। মুখ মোড়ল ধনী করি
কত ভঙ্গে॥ ফাগু রঙ্গে গোপী সব চৌদিগে
বেরিয়া। শ্যাম অঙ্গে ফাগু দেই অঞ্জলি
ভরিয়া॥ ফাগু খেলাইতে ফাগু উঠিল
গগনে। বৃন্দাবন তরুলতা রাতুল বরণে॥
রাঙ্গা ময়ুর নাচে, কাছে রাঙ্গা কোকিল
গায়। রাঙ্গা ফুলে রাঙ্গা ভ্রমর রাঙ্গা মধু
খায়॥ রাঙ্গা বায় রাঙ্গা হৈল কালিন্দীর
পানি। গগন ভুবন দিগ বিদিগ না জানি॥
রতি জয় জয় দ্বিজ কুলে গায়। জ্ঞানদাস
চিত নয়ন জুড়ায়॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
বসন্ত বিহার।
॥ বসন্ত॥
মধুবনে মাধব দোলত রঙ্গে।
ব্রজ বনিতা ফাগু দেই শ্যাম-অঙ্গে॥
কানু ফাগু দেয়ল সুন্দরী-অঙ্গে।
মুখ মোড়ল ধনী করি কত ভঙ্গে॥
ফাগুরঙ্গে গোপী সব চৌদিগে বেঢ়িয়া।
শ্যাম-অঙ্গে ফাগু দেই অঞ্জলি ভরিয়া॥
ফাগু খেলাইতে ফাগু উঠিল গগনে।
বৃন্দাবন তরু-লতা রাতুল বরণে॥
রাঙ্গা ময়ুর নাচে কাছে রাঙ্গা কোকিল গায়।
রাঙ্গা ফুলে রাঙ্গা ভ্রমর রাঙ্গা মধু খায়॥
রাঙ্গা বায় রাঙ্গা হৈল কালিন্দীর পানি।
গগন ভুবন দিগ বিদিগ না জানি॥
রতি জয় জয় দ্বিজ কুলে গায়।
জ্ঞানদাস চিত নয়ন জুড়ায়॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, বসন্ত বিহার ও হোলি, ২২৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
মধুবনে মাধব দোলত রঙ্গে।
ব্রজ-বনিতা ফাগু দেই শ্যাম-অঙ্গে॥
কানু ফাগু দেয়ল সুন্দরি-অঙ্গে।
মুখ মোড়ল ধনি করি কত ভঙ্গে॥
ফাগু-রঙ্গে গোপী সব চৌদিগে বেড়িয়া।
শ্যাম-অঙ্গে ফাগু দেই অঞ্জলি ভরিয়া॥
ফাগু খেলাইতে ফাগু উঠিল গগনে।
বৃন্দাবন-তরু-লতা রাতুল বরণে॥
রাঙ্গা ময়ূর নাচে কাছে রাঙ্গা কোকিল গায়।
রাঙ্গা ফুলে রাঙ্গা ভ্রমর রাঙ্গা মধু খায়॥
রাঙ্গা বায়ে রাঙ্গা হৈল কালিন্দীর পানি।
গগন ভুবন দিগ বিদিগ না জানি॥
রতি জয় রতি জয় দ্বিজকুলে গায়।
জ্ঞানদাস চিত নয়ন জুড়ায়॥
টীকা ---
হোলিখেলায় পশুপক্ষী কীটপতঙ্গ তরুলতা সবাই লাল হইয়া গিয়াছে।
দ্বিজকুলে গায় --- পাখীরা গান করে।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, “কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২০৯ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
বসন্ত-বিহার।
॥ বসন্ত॥
মধুবনে মাধব দোলত রঙ্গে।
ব্রজবনিতা ফাগু দেই শ্যাম অঙ্গে॥
কানু ফাগু দেয়ল সুন্দরী অঙ্গে।
মুখ মোড়ল ধনী করি কত ভঙ্গে॥
ফাগু রঙ্গে গোপী সব চৌদিগে বেঢ়িয়া।
শ্যাম অঙ্গে ফাগু দেই অঞ্জলি ভরিয়া॥
ফাগু খেলাইতে ফাগু উঠিল গগনে।
বৃন্দাবন তরুলতা রাতুল বরণে॥
রাঙ্গা ময়ূর নাচে কাছে রাঙ্গা কোকিল গায়।
রাঙ্গা ফুলে রাঙ্গা ভ্রমর রাঙ্গা মধু খায়॥
রাঙ্গা বায় রাঙ্গা হৈল কালিন্দীর পানি।
গগন ভুবন দিগ বিদিগ না জানি॥
রতি জয় জয় দ্বিজকুলে গায়।
জ্ঞানদাস চিত নয়ন জুড়ায়॥
এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত লহরী”, এর ১৩৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
অথ দোল লীলা
॥ রাগিণী বসন্ত - তাল দোঠুকি॥
মধু বনে দোলত মাধব রঙ্গে। ব্রজবনিতা ফাগু দেই শ্যাম
অঙ্গে॥ কানু ফাগু দেয়ই সুন্দরী অঙ্গে। মুখ মোড়ল ধনী
করি কত ভঙ্গে॥ রসে গোপী সব চৌদিগে বেড়িয়া। শ্যাম
অঙ্গে ফাগু দেই অঞ্জলি ভরিয়া॥ ফাগু খেলাইতে ফাগু উঠিল
গগনে। বৃন্দাবনে তরুলতা রাতুল বরণে॥ রাঙ্গা ময়ূর নাচে
কাছে রাঙ্গা কোকিল গায়। রাঙ্গা ফুলে রাঙ্গা ভ্রমর রাঙ্গা মধু
খায়॥ রাঙ্গা বায়ে রাঙ্গা হলো কালিন্দীর পানি। গগন ভুবন
দিক বিদিক না মানি॥ রতি জয় রতি জয় দ্বিজকুল গায়।
জ্ঞানদাস চিত নয়ন জুড়ায়॥
এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ৩য় খণ্ড এর ৬৫৭ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
দোললীলা
॥ বসন্তরাগ - দুঠুকী॥
মধুবনে মাধব দোলত রঙ্গে।
ব্রজ-বনিতা ফাগু দেই শ্যাম অঙ্গে॥
কানু ফাগু দেয়ল সুন্দরী অঙ্গে।
মুখ মোড়ল ধনি করি কত ভঙ্গে॥
ফাগু রঙ্গে গোপী সব চৌদিগে বেড়িয়া।
শ্যাম অঙ্গে ফাগু দেই অঞ্জলি ভরিয়া॥
ফাগু খেলাইতে ফাগু উঠিল গগনে।
বৃন্দাবন-তরুলতা রাতুল বরণে॥
রাঙ্গা ময়ূর নাচে গাছে রাঙ্গা কোকিল গায়।
রাঙ্গা ফুলে রাঙ্গা ভ্রমর রাঙ্গা মধু খায়॥
রাঙ্গা বায়ে রাঙ্গা হইল কালিন্দির পানি।
গগন ভুবন দিগ-বিদিগ না জানি॥
রতি জয় রতি জয় দ্বিজকুলে গায়।
জ্ঞান দাস চিত নয়ন জুড়ায়॥
এই পদটি ১৯৪০ সালে চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত এবং হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সাহিত্য-বত্ন দ্বারা পরিদৃষ্ট ও সংশোধিত “বিদ্যাপতি চণ্ডীদাস ও অন্যান্য বৈষ্ণব মহাজন গীতিকা” সংকলনের ১৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
মধুবনে মাধব দোলত রঙ্গে।
ব্রজ-বনিতা ফাগু দেই শ্যাম-অঙ্গে॥
কানু ফাগু দেয়ল সুন্দরী-অঙ্গে।
মুখ মোড়ল ধনি করি কত ভঙ্গে॥
ফাগু-রঙ্গে গোপী-সব চৌদিগে বেড়িয়া।
শ্যাম-অঙ্গে ফাগু দেই অঞ্জলি ভরিয়া॥
ফাগু খেলাইতে ফাগু উঠিল গগনে।
বৃন্দাবন তরুলতা রাতুল বরণে॥
রাঙ্গা ময়ূর নাচে কাছে, রাঙ্গা কোকিল গায়।
রাঙ্গা ফুলে রাঙ্গা ভ্রমর রাঙ্গা মধু খায়॥
রাঙ্গা বায়ে রাঙ্গা হৈল কালিন্দীর পানী।
গগন ভুবন দিগ বিদিগ না জানি॥
রতি জয় রতি জয় দ্বিজকুলে গায়।
জ্ঞানদাস-চিত-নয়ন জুড়ায়॥
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪৪৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
হোরিলীলা
॥ তথারাগ॥
মধুবনে মাধব দোলত রঙ্গে।
ব্রজবনিতা ফাগু দেই শ্যাম-অঙ্গে॥
কানু ফাগু দেয়ল সুন্দরি-অঙ্গে।
মুখ মোড়ল ধনি করি কত ভঙ্গে॥
ফাগুরঙ্গে গোপী সব চৌদিকে বেড়িয়া।
শ্যামঅঙ্গে ফাগু দেই অঞ্জলি ভরিয়া॥
ফাগু খেলাইতে ফাগু উঠিল গগনে।
বৃন্দাবন তরুলতা রাতুল বরণে॥
রাঙ্গা ময়ূর নাচে কাছে রাঙ্গা কোকিল গায়।
রাঙ্গা ফুলে রাঙ্গা ভ্রমর রাঙ্গা মধু খায়॥
রাঙ্গা বায়ে রাঙ্গা হৈল কালিন্দীর পানী।
গগন ভুবন দিগ্ বিদিগ না জানি॥
রতি জয় রতি জয় দ্বিজকুলে গায়।
জ্ঞানদাস চিত নয়ন জুড়ায়॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
হোরি লীলা
॥ রাগ॥
মধুবনে মাধব দোলত রঙ্গে।
ব্রজ-বনিতা ফাগু দেই শ্যাম-অঙ্গে॥
কানু ফাগু দেয়ল সুন্দরি-অঙ্গে।
মুখ মোড়ল ধনি করি কত ভঙ্গে॥
ফাগু-রঙ্গে গোপী সব চৌদিকে বেড়িয়া।
শ্যাম-অঙ্গে ফাগু দেই অঞ্জলি ভরিয়া॥
ফাগু খেলাইতে ফাগু উঠিল গগনে।
বৃন্দাবন-তরু-লতা রাতুল বরণে॥
রাঙ্গা ময়ুর নাচে কাছে রাঙ্গা কোকিল গায়।
রাঙ্গা ফুলে রাঙ্গা ভ্রমর রাঙ্গা মধু খায়॥
রাঙ্গা বায়ে রাঙ্গা হৈল কালিন্দীর পানী।
গগন ভুবন দিগ বিদিগ না জানি॥
রতি জয় রতি জয় দ্বিজকুলে গায়।
জ্ঞানদাস চিত নয়ন জুড়ায়॥
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৪৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
মধুবনে মাধব দোলত রঙ্গে।
ব্রজবনিতা ফাগু দেই শ্যামঅঙ্গে॥
কানু ফাগু দেয়ল সুন্দরি অঙ্গে।
মুখ মোড়ল ধনি করি কত ভঙ্গে॥
ফাগুরঙ্গে গোপী সব চৌদিকে বেড়িয়া।
শ্যামঅঙ্গে ফাগু দেই অঞ্জলি ভরিয়া॥
ফাগু খেলাইতে ফাগু উঠিল গগনে।
বৃন্দাবন তরুলতা রাতুল বরণে॥
রাঙ্গা ময়ুর নাচে কাছে রাঙ্গা কোকিল গায়।
রাঙ্গা ফুলে রাঙ্গা ভ্রমর রাঙ্গা মধু খায়॥
রাঙ্গা বায়ে রাঙ্গা হৈল কালিন্দীর পানি।
গগন ভুবন দিগ্ বিদিগ না জানি॥
রতি জয় রতি জয় দ্বিজকুলে গায়।
জ্ঞানদাস চিত নয়ন জুড়ায়॥
*********************
মধুবনে মাধব দোলত রঙ্গে।
ব্রজ-বনিতা ফাগু দেই শ্যাম-অঙ্গে॥
কানু ফাগু দেয়ল সুন্দরি-অঙ্গে।
মুখ মোড়ল ধনি করি কত ভঙ্গে॥
ফাগু-রঙ্গে গোপী সব চৌদিগে বেড়িয়া।
শ্যাম-অঙ্গে ফাগু দেই অঞ্জলি ভরিয়া॥
ফাগু খেলাইতে ফাগু উঠিল গগনে।
বৃন্দাবন-তরু-লতা রাতুল বরণে॥
রাঙ্গা ময়ূর নাচে কাছে রাঙ্গা কোকিল গায়।
রাঙ্গা ফুলে রাঙ্গা ভ্রমর রাঙ্গা মধু খায়॥
রাঙ্গা বায়ে রাঙ্গা হৈল কালিন্দীর পানী।
গগন ভুবন দিগ বিদিগ না জানি॥
রতি জয় রতি জয় দ্বিজকুলে গায়।
জ্ঞানদাস চিত নয়ন জুড়ায়॥
এই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতী বাংলা-পুথিশালার "রতন লাইব্রেরী সংগ্রহ"-র অন্তর্ভুক্ত ও সংরক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ” পুথির ১৯৮২ সালে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত এবং তপনকুমার মুখোপাধ্যায়, অণিমা মুখোপাধ্যায় ও পরমেশ্বর মাহাতা দ্বারা সহ-সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন গ্রন্থের ২৮৬ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ তথাহি রাগ তালাভ্যাং॥
মধুবনে মাধব দোলত রঙ্গে। ব্রজবনিতা ফাগু দেয়ত রঙ্গে॥
কানু ফাগু দেওল সুন্দরী অঙ্গে। মুখ মোড়ল ধনি করি কত ভঙ্গে॥
ফাগু রঙ্গে গোপী সব চৌদিগে বেঢ়িয়া। শ্যাম অঙ্গে ফাগু দেই অঞ্জলি ভরিয়া॥
ফাগু খেলাইতে ফাগু উঠিল গগনে। বৃন্দাবনের তরুলতা রাতুল বরণে॥
রাঙ্গা ময়ূর নাচে কাছে রাঙা কোকিল গায়। রাঙ্গা ফুলে রাঙ্গা ভ্রমর রাঙ্গা মধু খায়॥
রাঙ্গা রাএ রাঙ্গা হইল কালিন্দীর পানী। গগন ডুবল দিক্ বিদিক্ না জানি॥
রতি রতি জয় জয় দ্বিজকুলে গায়। জ্ঞানদাস চিত নয়ান জুড়ায়॥
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
বসন্ত লীলা
॥ বসন্ত॥
মধুবনে মাধব দোলত রঙ্গে।
ব্রজ বনিতা ফাগু দেই শ্যাম অঙ্গে॥
কানু ফাগু দেয়ল সুন্দরী অঙ্গে।
মুখ মোড়ল ধনী করি কত ভঙ্গে॥
ফাগু রঙ্গে গোপী সব চৌদিগে বেঢ়িয়া।
শ্যাম অঙ্গে ফাগু দেই অঞ্জলি ভরিয়া॥
ফাগু খেলাইতে ফাগু উঠিল গগনে।
বৃন্দাবন তরুলতা রাতুল বরণে॥
রাঙ্গা ময়ুর নাচে, কাছে রাঙ্গা কোকিল গায়।
রাঙ্গা ফুলে রাঙ্গা ভ্রমর রাঙ্গা মধু খায়॥
রাঙ্গা বায় রাঙ্গা হৈল কালিন্দীর পানি।
গগন ভুবন দিগ বিদিগ না জানি॥
রতি জয় জয় দ্বিজ কুলে গায়।
জ্ঞানদাস চিত নয়ন জুড়ায়॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২০৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
বসন্ত-লীলা।
॥ বসন্ত॥
মধুবনে মাধব দোলত রঙ্গে।
ব্রজ বনিতা ফাগু দেই শ্যাম অঙ্গে॥
কানু ফাগু দেয়ল সুন্দরী অঙ্গে।
মুখ মোড়ল ধনী করি কত ভঙ্গে॥
ফাগু রঙ্গে গোপী সব চৌদিগে বেঢ়িয়া।
শ্যাম অঙ্গে ফাগু দেই অঞ্জলি ভরিয়া॥
ফাগু খেলাইতে ফাগু উঠিল গগনে।
বৃন্দাবন তরুলতা রাতুল বরণে॥
রাঙ্গা ময়ুর নাচে, কাছে রাঙ্গা কোকিল গায়।
রাঙ্গা ফুলে রাঙ্গা ভ্রমর রাঙ্গা মধু খায়॥
রাঙ্গা বায় রাঙ্গা হৈল কালিন্দীর পানি।
গগন ভুবন দিগ বিদিগ না জানি॥
রতি জয় জয় দ্বিজ কুলে গায়।
জ্ঞানদাস চিত নয়ন জুড়ায়॥
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৪৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
বসন্ত-লীলা
॥ বসন্ত॥
মধুবনে মাধব দোলত রঙ্গে। ব্রজ-
বনিতা ফাগু দেই শ্যাম অঙ্গে॥ কানু ফাগু
দেয়ল সুন্দরী অঙ্গে। মুখ মোড়ল ধনী করি
কত ভঙ্গে॥ ফাগু রঙ্গে গোপী সব চৌদিগে
বেরিয়া। শ্যাম অঙ্গে ফাগু দেই অঞ্জলি
ভরিয়া॥ ফাগু খেলাইতে ফাগু উঠিল
গগনে। বৃন্দাবন তরুলতা রাতুল বরণে॥
রাঙ্গা ময়ুর নাচে, কাছে রাঙ্গা কোকিল
গায়। রাঙ্গা ফুলে রাঙ্গা ভ্রমর রাঙ্গা মধু
খায়॥ রাঙ্গা বায় রাঙ্গা হৈল কালিন্দীর
পানি। গগন ভুবন দিগ বিদিগ না জানি॥
রতি জয় জয় দ্বিজ কুলে গায়। জ্ঞানদাস
চিত নয়ন জুড়ায়॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
বসন্ত বিহার।
॥ বসন্ত॥
মধুবনে মাধব দোলত রঙ্গে।
ব্রজ বনিতা ফাগু দেই শ্যাম-অঙ্গে॥
কানু ফাগু দেয়ল সুন্দরী-অঙ্গে।
মুখ মোড়ল ধনী করি কত ভঙ্গে॥
ফাগুরঙ্গে গোপী সব চৌদিগে বেঢ়িয়া।
শ্যাম-অঙ্গে ফাগু দেই অঞ্জলি ভরিয়া॥
ফাগু খেলাইতে ফাগু উঠিল গগনে।
বৃন্দাবন তরু-লতা রাতুল বরণে॥
রাঙ্গা ময়ুর নাচে কাছে রাঙ্গা কোকিল গায়।
রাঙ্গা ফুলে রাঙ্গা ভ্রমর রাঙ্গা মধু খায়॥
রাঙ্গা বায় রাঙ্গা হৈল কালিন্দীর পানি।
গগন ভুবন দিগ বিদিগ না জানি॥
রতি জয় জয় দ্বিজ কুলে গায়।
জ্ঞানদাস চিত নয়ন জুড়ায়॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, বসন্ত বিহার ও হোলি, ২২৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
মধুবনে মাধব দোলত রঙ্গে।
ব্রজ-বনিতা ফাগু দেই শ্যাম-অঙ্গে॥
কানু ফাগু দেয়ল সুন্দরি-অঙ্গে।
মুখ মোড়ল ধনি করি কত ভঙ্গে॥
ফাগু-রঙ্গে গোপী সব চৌদিগে বেড়িয়া।
শ্যাম-অঙ্গে ফাগু দেই অঞ্জলি ভরিয়া॥
ফাগু খেলাইতে ফাগু উঠিল গগনে।
বৃন্দাবন-তরু-লতা রাতুল বরণে॥
রাঙ্গা ময়ূর নাচে কাছে রাঙ্গা কোকিল গায়।
রাঙ্গা ফুলে রাঙ্গা ভ্রমর রাঙ্গা মধু খায়॥
রাঙ্গা বায়ে রাঙ্গা হৈল কালিন্দীর পানি।
গগন ভুবন দিগ বিদিগ না জানি॥
রতি জয় রতি জয় দ্বিজকুলে গায়।
জ্ঞানদাস চিত নয়ন জুড়ায়॥
টীকা ---
হোলিখেলায় পশুপক্ষী কীটপতঙ্গ তরুলতা সবাই লাল হইয়া গিয়াছে।
দ্বিজকুলে গায় --- পাখীরা গান করে।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, “কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২০৯ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
বসন্ত-বিহার।
॥ বসন্ত॥
মধুবনে মাধব দোলত রঙ্গে।
ব্রজবনিতা ফাগু দেই শ্যাম অঙ্গে॥
কানু ফাগু দেয়ল সুন্দরী অঙ্গে।
মুখ মোড়ল ধনী করি কত ভঙ্গে॥
ফাগু রঙ্গে গোপী সব চৌদিগে বেঢ়িয়া।
শ্যাম অঙ্গে ফাগু দেই অঞ্জলি ভরিয়া॥
ফাগু খেলাইতে ফাগু উঠিল গগনে।
বৃন্দাবন তরুলতা রাতুল বরণে॥
রাঙ্গা ময়ূর নাচে কাছে রাঙ্গা কোকিল গায়।
রাঙ্গা ফুলে রাঙ্গা ভ্রমর রাঙ্গা মধু খায়॥
রাঙ্গা বায় রাঙ্গা হৈল কালিন্দীর পানি।
গগন ভুবন দিগ বিদিগ না জানি॥
রতি জয় জয় দ্বিজকুলে গায়।
জ্ঞানদাস চিত নয়ন জুড়ায়॥
এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত লহরী”, এর ১৩৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
অথ দোল লীলা
॥ রাগিণী বসন্ত - তাল দোঠুকি॥
মধু বনে দোলত মাধব রঙ্গে। ব্রজবনিতা ফাগু দেই শ্যাম
অঙ্গে॥ কানু ফাগু দেয়ই সুন্দরী অঙ্গে। মুখ মোড়ল ধনী
করি কত ভঙ্গে॥ রসে গোপী সব চৌদিগে বেড়িয়া। শ্যাম
অঙ্গে ফাগু দেই অঞ্জলি ভরিয়া॥ ফাগু খেলাইতে ফাগু উঠিল
গগনে। বৃন্দাবনে তরুলতা রাতুল বরণে॥ রাঙ্গা ময়ূর নাচে
কাছে রাঙ্গা কোকিল গায়। রাঙ্গা ফুলে রাঙ্গা ভ্রমর রাঙ্গা মধু
খায়॥ রাঙ্গা বায়ে রাঙ্গা হলো কালিন্দীর পানি। গগন ভুবন
দিক বিদিক না মানি॥ রতি জয় রতি জয় দ্বিজকুল গায়।
জ্ঞানদাস চিত নয়ন জুড়ায়॥
এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ৩য় খণ্ড এর ৬৫৭ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
দোললীলা
॥ বসন্তরাগ - দুঠুকী॥
মধুবনে মাধব দোলত রঙ্গে।
ব্রজ-বনিতা ফাগু দেই শ্যাম অঙ্গে॥
কানু ফাগু দেয়ল সুন্দরী অঙ্গে।
মুখ মোড়ল ধনি করি কত ভঙ্গে॥
ফাগু রঙ্গে গোপী সব চৌদিগে বেড়িয়া।
শ্যাম অঙ্গে ফাগু দেই অঞ্জলি ভরিয়া॥
ফাগু খেলাইতে ফাগু উঠিল গগনে।
বৃন্দাবন-তরুলতা রাতুল বরণে॥
রাঙ্গা ময়ূর নাচে গাছে রাঙ্গা কোকিল গায়।
রাঙ্গা ফুলে রাঙ্গা ভ্রমর রাঙ্গা মধু খায়॥
রাঙ্গা বায়ে রাঙ্গা হইল কালিন্দির পানি।
গগন ভুবন দিগ-বিদিগ না জানি॥
রতি জয় রতি জয় দ্বিজকুলে গায়।
জ্ঞান দাস চিত নয়ন জুড়ায়॥
এই পদটি ১৯৪০ সালে চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত এবং হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সাহিত্য-বত্ন দ্বারা পরিদৃষ্ট ও সংশোধিত “বিদ্যাপতি চণ্ডীদাস ও অন্যান্য বৈষ্ণব মহাজন গীতিকা” সংকলনের ১৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
মধুবনে মাধব দোলত রঙ্গে।
ব্রজ-বনিতা ফাগু দেই শ্যাম-অঙ্গে॥
কানু ফাগু দেয়ল সুন্দরী-অঙ্গে।
মুখ মোড়ল ধনি করি কত ভঙ্গে॥
ফাগু-রঙ্গে গোপী-সব চৌদিগে বেড়িয়া।
শ্যাম-অঙ্গে ফাগু দেই অঞ্জলি ভরিয়া॥
ফাগু খেলাইতে ফাগু উঠিল গগনে।
বৃন্দাবন তরুলতা রাতুল বরণে॥
রাঙ্গা ময়ূর নাচে কাছে, রাঙ্গা কোকিল গায়।
রাঙ্গা ফুলে রাঙ্গা ভ্রমর রাঙ্গা মধু খায়॥
রাঙ্গা বায়ে রাঙ্গা হৈল কালিন্দীর পানী।
গগন ভুবন দিগ বিদিগ না জানি॥
রতি জয় রতি জয় দ্বিজকুলে গায়।
জ্ঞানদাস-চিত-নয়ন জুড়ায়॥
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪৪৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
হোরিলীলা
॥ তথারাগ॥
মধুবনে মাধব দোলত রঙ্গে।
ব্রজবনিতা ফাগু দেই শ্যাম-অঙ্গে॥
কানু ফাগু দেয়ল সুন্দরি-অঙ্গে।
মুখ মোড়ল ধনি করি কত ভঙ্গে॥
ফাগুরঙ্গে গোপী সব চৌদিকে বেড়িয়া।
শ্যামঅঙ্গে ফাগু দেই অঞ্জলি ভরিয়া॥
ফাগু খেলাইতে ফাগু উঠিল গগনে।
বৃন্দাবন তরুলতা রাতুল বরণে॥
রাঙ্গা ময়ূর নাচে কাছে রাঙ্গা কোকিল গায়।
রাঙ্গা ফুলে রাঙ্গা ভ্রমর রাঙ্গা মধু খায়॥
রাঙ্গা বায়ে রাঙ্গা হৈল কালিন্দীর পানী।
গগন ভুবন দিগ্ বিদিগ না জানি॥
রতি জয় রতি জয় দ্বিজকুলে গায়।
জ্ঞানদাস চিত নয়ন জুড়ায়॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
হোরি লীলা
॥ রাগ॥
মধুবনে মাধব দোলত রঙ্গে।
ব্রজ-বনিতা ফাগু দেই শ্যাম-অঙ্গে॥
কানু ফাগু দেয়ল সুন্দরি-অঙ্গে।
মুখ মোড়ল ধনি করি কত ভঙ্গে॥
ফাগু-রঙ্গে গোপী সব চৌদিকে বেড়িয়া।
শ্যাম-অঙ্গে ফাগু দেই অঞ্জলি ভরিয়া॥
ফাগু খেলাইতে ফাগু উঠিল গগনে।
বৃন্দাবন-তরু-লতা রাতুল বরণে॥
রাঙ্গা ময়ুর নাচে কাছে রাঙ্গা কোকিল গায়।
রাঙ্গা ফুলে রাঙ্গা ভ্রমর রাঙ্গা মধু খায়॥
রাঙ্গা বায়ে রাঙ্গা হৈল কালিন্দীর পানী।
গগন ভুবন দিগ বিদিগ না জানি॥
রতি জয় রতি জয় দ্বিজকুলে গায়।
জ্ঞানদাস চিত নয়ন জুড়ায়॥
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৪৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
মধুবনে মাধব দোলত রঙ্গে।
ব্রজবনিতা ফাগু দেই শ্যামঅঙ্গে॥
কানু ফাগু দেয়ল সুন্দরি অঙ্গে।
মুখ মোড়ল ধনি করি কত ভঙ্গে॥
ফাগুরঙ্গে গোপী সব চৌদিকে বেড়িয়া।
শ্যামঅঙ্গে ফাগু দেই অঞ্জলি ভরিয়া॥
ফাগু খেলাইতে ফাগু উঠিল গগনে।
বৃন্দাবন তরুলতা রাতুল বরণে॥
রাঙ্গা ময়ুর নাচে কাছে রাঙ্গা কোকিল গায়।
রাঙ্গা ফুলে রাঙ্গা ভ্রমর রাঙ্গা মধু খায়॥
রাঙ্গা বায়ে রাঙ্গা হৈল কালিন্দীর পানি।
গগন ভুবন দিগ্ বিদিগ না জানি॥
রতি জয় রতি জয় দ্বিজকুলে গায়।
জ্ঞানদাস চিত নয়ন জুড়ায়॥
*********************
