কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
দোলত রাধা মাধব সঙ্গে
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৭শ পল্লব, হোরি-রসোদ্ গার, ১৪৫২-নং পদসংখ্যা, ৩৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

দোলত রাধা মাধব সঙ্গে।
দোলায়ত সব সখিগণ বহু রঙ্গে॥
ডারত ফাগু দুহুঁ-জন-অঙ্গে।
হেরইতে দুহুঁ-রূপ মুরুছে অনঙ্গে॥
বাওত কত কত যন্ত্র সুতান।
কত কত রাগ-মাল করু গান॥
চন্দন কুঙ্কুম ভরি পিচকারি।
দুহুঁ অঙ্গে কোই কোই দেওত ডারি॥
বিগলিত অরুণ বসন দুহুঁ-গায়।
শ্রম-জল বিন্দু বিন্দু শোভে তায়॥
হেম-মরকতে জনু জড়িত পঙার।
তাহে বেঢ়ল গজমোতিম-হার॥
দোলোপরি দুহুঁ নিবিড় বিলাস।
জ্ঞানদাস হেরি পূরয়ে আশ॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতী বাংলা-পুথিশালার "রতন লাইব্রেরী সংগ্রহ"-র অন্তর্ভুক্ত ও সংরক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ” পুথির ১৯৮২ সালে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত এবং তপনকুমার মুখোপাধ্যায়, অণিমা মুখোপাধ্যায় ও পরমেশ্বর মাহাতা দ্বারা সহ-সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন গ্রন্থের ২৮৬ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ তাল পরিমিত॥

দোলত রাধামাধব সঙ্গে। দোলায়ত সব সখীগণ রঙ্গে॥
ডারত ফাগু দুহুঁ জন অঙ্গে। হেরইতে দুহুঁ জন মুরূছি অনঙ্গে॥
বাওত কত কত জন্ত সুতান। কত কত রাগ মান করূ গান॥
চন্দন কুঙ্কুম ভরি পিচকারি। দুহুঁ অঙ্গে কোই দেয়ত ডারি॥
বিগলিত অরুণ বসন দোহ গায়। শ্রমজল বিন্দু বিন্দু শোভে তায়॥
হেম মরকতে জনু জড়িত পঙার। তাহে বেড়ল গজমতিম হার॥
দোল পরি দুহুঁ নিবিড় বিলাস। জ্ঞানদাস হেরি পূরএ আশ॥

ই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বসন্ত লীলা
॥ বসন্ত॥

দোলত রাধা মাধব সঙ্গে।
দোলায়ত সব সখীগণ বহু রঙ্গে॥
ডারত ফাগু দুহুঁ জন অঙ্গে।
হেরইতে দুহুঁ রূপ মূরুছে অনঙ্গে॥
বাজত কত কত যন্ত্র সুতান।
কত কত রাগ মান করু গান॥
চন্দন কুঙ্কুম ভরি পিচকারি।
দুহুঁ অঙ্গে কোই কোই দেওত ডারি॥
বিগলিত অরুণ বসন দুহুঁ গায়।
শ্রম জল বিন্দু বিন্দু শোভে তায়॥
হেম মরকতে জনু জড়িত পঙার।
তাহে বেঢ়ল গজ মোতিম হার॥
দোলাপরি দুহুঁ নিবিড় বিলাস।
জ্ঞানদাস হেরি পূরয়ে আশ॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২০৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বসন্ত-লীলা।
॥ বসন্ত॥

দোলত রাধা মাধব সঙ্গে।
দোলায়ত সব সখীগণ বহু রঙ্গে॥
ডারত ফাগু দুহুঁ জন অঙ্গে।
হেরইতে দুহুঁ রূপ মূরুছে অনঙ্গে॥
বাজত কত কত যন্ত্র সুতান।
কত কত রাগ মান করু গান॥
চন্দন কুঙ্কুম ভরি পিচকারি।
দুহুঁ অঙ্গে কোই কোই দেওত ডারি॥
বিগলিত অরুণ বসন দুহুঁ গায়।
শ্রম জল বিন্দু বিন্দু শোভে তায়॥
হেম মরকতে জনু জড়িত পঙার।
তাহে বেঢ়ল গজ মোতিম হার॥
দোলাপরি দুহুঁ নিবিড় বিলাস।
জ্ঞানদাস হেরি পূরয়ে আশ॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৪৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বসন্ত-লীলা
॥ বসন্ত॥

দোলত রাধা মাধব সঙ্গে। দোলায়ত
সব সখীগণ বহু রঙ্গে॥ ডারত ফাগু দুহুঁ
জন অঙ্গে। হেরইতে দুহুঁ রূপ মূরুছে
অনঙ্গে॥ বাজত কত কত যন্ত্র সুতান।
কত কত রাগ মান করু গান॥ চন্দন কুঙ্কুম
ভরি পিচকারি। দুহুঁ অঙ্গে কোই কোই
দেওত ডারি॥ বিগলিত অরুণ বসন দুহুঁ
গায়। শ্রম জল বিন্দু বিন্দু শোভে তায়॥
হেম মরকতে জনু জড়িত পঙার। তাহে
বেঢ়ল গজ মোতিম হার॥ দোলাপরি দুহুঁ
নিবিড় বিলাস। জ্ঞানদাস হেরি পূরয়ে আশ॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বসন্ত বিহার।
॥ বসন্ত॥

দোলত রাধা মাধব সঙ্গে।
দোলায়ত সব সখীগণ বহু রঙ্গে॥
ডারত ফাগু দুহুঁ জন অঙ্গে।
হেরইতে দুহুঁ রূপ মূরুছে অনঙ্গে॥
বাজত কত কত যন্ত্র সুতান।
কত কত রাগ মান করু গান॥
চন্দন কুঙ্কুম ভরি পিচকারি।
দুহুঁ অঙ্গে কোই কোই দেওত ডারি॥
বিগলিত অরুণ বসন দুহুঁ গায়।
শ্রম জল বিন্দু বিন্দু শোভে তায়॥
হেম-মরকতে জনু জড়িত পঙার।
তাহে বেঢ়ল গজমোতিম হার॥
দোলাপরি দুহুঁ নিবিড় বিলাস।
জ্ঞানদাস হেরি পূরয়ে আশ॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, বসন্ত বিহার ও হোলি, ২২২ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দোলত রাধা মাধব সঙ্গে।
দোলায়ত সব সখিগণ বহু রঙ্গে॥
ডারত ফাগু দুহু জন অঙ্গে।
হেরইতে দুহুঁ রূপ মুরুছে অনঙ্গে॥
বাওত কত কত যন্ত্র সুতান।
কত কত রাগ-মাল করু গান॥
চন্দন কুঙ্কুম ভরি পিচকারি।
দুহুঁ অঙ্গে কোই কোই দেওত ডারি॥
বিগলিত অরুণ বসন দুহুঁ গায়।
শ্রমজল বিন্দু বিন্দু শোভে তায়॥
হেম-মরকতে জনু জড়িত পঙার।
তাহে বেঢ়ল গজমোতিম-হার॥
দোলোপরি দুহুঁ নিবিড় বিলাস।
জ্ঞানদাস হেরি পূরয়ে আশ॥

টীকা ---
হেম মরকত জনু জড়িত পঙার --- সবুজবর্ণের পান্নার নাম মরকত মণি, সুবর্ণজড়িত পান্নায় যেন আবার প্রবাল জড়াইয়া দেওয়া হইয়াছে।

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, “কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২০৯ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

বসন্ত-বিহার।
॥ বসন্ত॥

দোলত রাধা মাধব সঙ্গে।
দোলায়ত সব সখীগণ বহু রঙ্গে॥
ডারত ফাগু দুহুঁ জন অঙ্গে।
হেরইতে দুহুঁ রূপ মূরুছে অনঙ্গে॥
বাজত কত কত যন্ত্র সুতান।
কত কত রাগ মান করু গান॥
চন্দন কুঙ্কুম ভরি পিচকারি।
দুহুঁ অঙ্গে কোই কোই দেওত ডারি॥
বিগলিত অরুণ বসন দুহুঁ গায়।
শ্রমজল বিন্দু বিন্দু শোভে তায়॥
হেম-মরকতে জনু জড়িত পঙার।
তাহে বেঢ়ল গজমোতিম হার॥
দোলাপরি দুহুঁ নিবিড় বিলাস।
জ্ঞানদাস হেরি পূরয়ে আশ॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত লহরী”, এর ১৩৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ দোল লীলা
॥ রাগিণী ধানশী - তাল একতালী॥

দোলত রাধা মাধব সঙ্গে। দোলায়ত সব সখীগণ বহু রঙ্গে॥
ডারত ফাগু দুহুঁ জন অঙ্গে। হেরইতে দুহুঁ রূপ মূরছে অনঙ্গে॥
বায়ত কত কত যন্ত্র সুতান। কত কত রাগ মাল করু গান॥
চন্দন কুম্ কুম ভরি পিচকারী। দুহুঁ অঙ্গে কোই কোই দেওত
ডারি॥ বিগলিত অরুণ বসন দুহুঁ গায়। শ্রম জল বিন্দু বিন্দু
শোভে তায়॥ হেম মরকতে জনু মিলিত পঙার। তাহে বেঢ়িল
গজ মোতিম হার॥ দোলা পরি দুহুঁ নিবিড় বিলাস। জ্ঞান দাস
হেরি পূরল আশ॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ৩য় খণ্ড এর ৬৫৭ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

দোললীলা
॥ বসন্ত - একতালা॥

দোলত রাধা মাধব সঙ্গে।
দোলায়ত সখী সব বহু তরঙ্গে॥
ডারত ফাগু দুহুঁ জন অঙ্গে।
হেরইতে দুহুঁ রূপ মুরছে অনঙ্গে॥
বাওত কত কত যন্ত্র সুতান।
কত কত রাগ মান করু গান॥
চন্দন কুঙ্কুম ভরি পিচকারি।
দুহুঁ অঙ্গে কোই কোই দেওত ডারি॥
বিগলিত অরুণ বসন দুহুঁ গায়।
শ্রমজল বিন্দু বিন্দু শোভয়ে তায়॥
হেম মরকত জনু জড়িত পঙার।
তাহে বেঢ়ল গজ মোতিম হার॥
দোলোপরি দুহুঁ নিবিড় বিলাস।
জ্ঞান দাস হেরি পূরয়ে আশ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪৪৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

হোরিলীলা
॥ রাগ॥

দোলত রাধা মাধব সঙ্গে।
দোলায়ত সব সখিগণ বহু রঙ্গে॥
ডারত ফাগু দুহুঁজন অঙ্গে।
হেরইতে দুহুঁরূপ মুরুছে অনঙ্গে॥
বাওত কত কত যন্ত্র সুতান।
কত কত রাগমাল করু গান॥
চন্দন কুঙ্কুম ভরি পিচকারি।
দুহুঁ অঙ্গে কোই কোই দেওত ডারি॥
বিগলিত অরুণ বসন দুহুঁগায়।
শ্রমজলে বিন্দু বিন্দু শোভে তায়॥
হেমমরকতে জনু জড়িত পঙার।
তাহে বেঢ়ল গজমোতিম হার॥
দোলোপরি দুহুঁ নিবিড় বিলাস।
জ্ঞানদাস হেরি পূরয়ে আশ॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বসন্ত লীলা
হোরি লীলা ॥ রাগ॥

দোলত রাধা মাধব সঙ্গে।
দোলায়ত সব সখিগণ বহু রঙ্গে॥
ডারত ফাগু দুহুঁ-জন-অঙ্গে।
হেরইতে দুহুঁ-রূপ মুরুছে অনঙ্গে॥
বাওত কত কত যন্ত্র সুতান।
কত কত রাগ-মাল করু গান॥
চন্দন কুঙ্কুম ভরি পিচকারি।
দুহুঁ অঙ্গে কোই কোই দেওত ডারি॥
বিগলিত অরুণ বসন দুহুঁ-গায়।
শ্রম-জল বিন্দু বিন্দু শোভে তায়॥
হেম-মরকতে জনু জড়িত পঙার।
তাহে বেঢ়ল গজমোতিম হার॥
দোলোপরি দুহুঁ নিবিড় বিলাস।
জ্ঞানদাস হেরি পূরয়ে আশ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬২৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দোলত রাধা মাধব সঙ্গে।
দোলায়ত সব সখিগণ বহু রঙ্গে॥
ডারত ফাগু দুহুঁজন অঙ্গে।
হেরইতে দুহুঁরূপ মুরুছে অনঙ্গে॥
বাওত কত কত যন্ত্র সুতান।
কত কত রাগমাল করু গান॥
চন্দন কুঙ্কুম ভরি পিচকারি।
দুহুঁ অঙ্গে কোই কোই দেওত ডারি॥
বিগলিত অরুণ বসন দুহুঁগায়।
শ্রমজলে বিন্দু বিন্দু শোভে তায়॥
হেমমরকতে জনু জড়িত পঙার।
তাহে বেড়ল গজমোতি হার॥
দোলাপরি দুহুঁ নিবিড় বিলাস।
জ্ঞানদাস হেরি পূরয়ে আশ॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^