কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
ওরে কালা ভ্রমরা তোমার মুখেতে নাহি লাজ
আরে কালা ভ্রমরা তোমার মুখেতে নাহি লাজ
ওরে কাল ভ্রমরা, তোমার মুখে নাহি লাজ
ওরে কালাভ্রমরা তোমার মুখে নাহি লাজ

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের ( ১৯২৩ সাল ) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ৫ম পল্লব, অর্দ্ধ-বাহ্য দশায় প্রলাপ, ১৬৫৭ নং পদসংখ্যা, ৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

ওরে কালা ভ্রমরা তোমার মুখেতে নাহি লাজ।
যাও তুমি মধুপুরী     যথা নিদারুণ হরি
আমার মন্দিরে কিবা কাজ॥ ধ্রু॥
ব্রজ-বাসিগণ দেখি     নিবারিতে নারি আঁখি
তাহে তুমি দেখা দিলে অলি।
বিরহ-অনল একে     তনু খীণ শ্যাম-শোকে
নিভান আনল দিলা জ্বালি॥
মথুরায় কর বাস     থাকহ শ্যামের পাশ
চূড়ার ফুলের মধু খাও।
সেথা ছাড়ি এথা কেনে     দুখ দিতে মোর প্রাণে
মন্দির ছাড়িয়া ঝাট যাও॥
সে সুখ-সম্পদ মোর     তুমি জান মধুকর
এবে সে আমার দুখ দেখ।
কহিয় কানুর ঠাম     ইহ বিরহিণী নাম
জ্ঞানদাস কহে না উপেখ॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতী বাংলা-পুথিশালার "রতন লাইব্রেরী সংগ্রহ"-র অন্তর্ভুক্ত ও সংরক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ” পুথির ১৯৮২ সালে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত এবং তপনকুমার মুখোপাধ্যায়, অণিমা মুখোপাধ্যায় ও পরমেশ্বর মাহাতা দ্বারা সহ-সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন গ্রন্থের ৩৬৬ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী সুহই॥ তাল সমুচিত॥

আরে কালা ভ্রমরা তোমার মুখেতে নাহি লাজ।
জাও তুমি মধুপুরী জাহা নিদারুণ হরি আমার মন্দিরে কিবা কাজ॥
ব্রজবাসিগণ দেখি নিবারিতে নারি আখি তাহে তুমি দেখা দিলে অলি।
বিরহ আনল একে তনু ঘনশ্যাম শোকে নিভান আনল দিলে জ্বালি॥
মথুরায় কর বাস থাকহ শ্যামের পাস চূড়ার ফুলের মধু খাও।
সেথা ছাড়ি হেথা কেনে দুখ দিতে মোর প্রাণে মন্দির ছাড়িয়া ঝাট যাও॥
সে সুখ সম্পদ মোর সব জান মধুকর এবে সে আমার দুখ দেখ।
কহিও শ্যামের ঠাম ইহ বিরহিণীর নাম জ্ঞানদাস কহো না উপেখ॥

ই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ২৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রবাস
॥ সুহই॥

ওরে কালা ভ্রমরা তোমার মুখে নাহি লাজ।
যাও তুমি মধুপুরী,     যথা নিদারুণ হরি,
আমার মন্দিরে কিবা কাজ॥ ধ্রু।
ব্রজবাসীগণ দেখি,     নিবারিতে নারি আঁখি,
তাহে তুমি দেখা দিলে অলি।
বিরহ অনল একে,     তনু ক্ষীণ শ্যাম শোকে,
নিভান আগুনি দিলা জ্বালি॥
মথুরায় কর বাস,     থাকহ শ্যামের পাশ,
চূড়ার ফুলের মধু খাও।
সেথা ছাড়ি এথা কেনে,     দুঃখ দিতে মোর প্রাণে,
মন্দির ছাড়িয়া ঝাট যাও॥
সে সুখ-সম্পদ মোর,     তুমি জান মধুকর,
এবে সে আমার দুঃখ দেখ।
কহিও কানুর ঠাম,     ইহ বিরহিণী নাম,
জ্ঞানদাস কহে না উপেখ॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২৫০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রবাস।
॥ সুহই॥

ওরে কালা ভ্রমরা তোমার
          মুখে নাহি লাজ।
যাও তুমি মধুপুরী,
যথা নিদারুণ হরি,
আমার মন্দিরে কিবা কাজ॥
ব্রজবাসীগণ দেখি,
নিবারিতে নারি আঁখি,
তাহে তুমি দেখা দিলে অলি।
বিরহ অনল একে,
তনু ক্ষীণ শ্যাম শোকে,
নিভান আগুনি দিলা জ্বালি॥
মথুরায় কর বাস,
থাকহ শ্যামের পাশ,
চূড়ার ফুলের মধু খাও।
সেথা ছাড়ি এথা কেনে,
দুঃখ দিতে মোর প্রাণে,
মন্দির ছাড়িয়া ঝাট যাও॥
সে সুখ সম্পদ মোর,
তুমি জান মধুকর,
এবে সে আমার দুঃখ দেখ।
কহিও কানুর ঠাম,
ইহ বিরহিণী নাম,
জ্ঞানদাস কহে না উপেখ॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৮০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রবাস।
॥ সুহই॥

ওরে কালা ভ্রমরা তোমার মুখে নাহি
লাজ। যাও তুমি মধুপুরী, যথা নিদারুণ
হরি, আমার মন্দিরে কিবা কাজ॥ ব্রজ-
বাসীগণ দেখি, নিবারিতে নারি আঁখি, তাহে
তুমি দেখা দিলে অলি। বিরহ অনল একে,
তনু ক্ষীণ শ্যামশোকে, নিভান আগুনি
দিলা জ্বালি॥ মথুরায় কর বাস, থাকহ
শ্যামের পাশ, চূড়ার ফুলের মধু খাও।
সেথা ছাড়ি এথা কেনে, দুঃখ দিতে মোর
প্রাণে, মন্দির ছাড়িয়া ঝাট যাও॥ সে সুখ
সম্পদ মোর, তুমি জান মধুকর, এবে সে
আমার দুঃখ দেখ। কহিও কানুর ঠাম,
ইহ বিরহিণী নাম, জ্ঞানদাস কহে না
উপেখ॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

ওরে কালা ভ্রমরা তোমার মুখে নাহি লাজ।
যাও তুমি মধুপুরী,     যথা নিদারুণ হরি,
আমার মন্দিরে কিবা কাজ॥
ব্রজবাসীগণ দেখি,     নিবারিতে নারি আঁখি,
তাহে তুমি দেখা দিলে অলি।
বিরহ-অনল একে,     তনু ক্ষীণ শ্যাম-শোকে,
নিভান আগুনি দিলা জ্বালি॥
মথুরায় কর বাস,     থাকহ শ্যামের পাশ,
চূড়ার ফুলের মধু খাও।
সেথা ছাড়ি এথা কেনে,
দুঃখ দিতে মোর প্রাণে,
মন্দির ছাড়িয়া ঝাট যাও॥
সে সুখ সম্পদ মোর,     তুমি জান মধুকর,
এবে সে আমার দুঃখ দেখ।
কহিও কানুর ঠাম,     ইহ বিরহিণী নাম,
জ্ঞানদাস কহে না উপেখ॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, প্রবাস, ২৫৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ওরে কালা ভ্রমরা তোমার মুখেতে নাহি লাজ।
যাও তুমি মধুপুরী     যথা নিদারুণ হরি
আমার মন্দিরে কিবা কাজ॥ ধ্রু॥
ব্রজ-বাসিগণ দেখি     নিবারিতে নারি আঁখি
তাহে তুমি দেখা দিলে অলি।
বিরহ-অনল একে     তনু খীণ শ্যাম-শোকে
নিভান আনল দিলা জ্বালি॥
মথুরায় কর বাস     থাকহ শ্যামের পাশ
চূড়ার ফুলের মধু খাও।
সেথা ছাড়ি এথা কেনে     দুখ দিতে মোর প্রাণে
মন্দির ছাড়িয়া ঝাট যাও॥
সে সুখ-সম্পদ মোর     তুমি জান মধুকর
এবে সে আমার দুখ দেখ।
কহিয় কানুর ঠাম     ইহ বিরহিণী নাম
জ্ঞানদাস কহে না উপেখ॥

টীকা ---
পূর্ব্বের শ্লোকের ভাব লইয়া এটি মৌলিক রচনা। এখানে শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার যে শ্লোকটির কথা বলেছেন তা আমরা এখানে তুলে দিয়েছি . . .

ভ্রমরগীতার প্রথম শ্লোকের ভাব লইয়া এই পদটি লিখিত। শ্লোকটি এই ---

মধুপ কিতর্ববন্ধো মা পশাঙ্গিবং স্পৃশাঙ্ঘ্রিংসপত্ন্যাঃ
কুচবিলুলিত মালা কুঙ্কুমশ্মশ্রুভির্ণঃ।
বহতু মধুপতিস্তন্মানিণীনাং প্রাসাদং
যদুসদসি বিড়ম্ব্যং যস্য দূতস্তমীদৃক্‌॥

হে মধুপ ( মধুকর, মাতাল ) তুমি ধূর্ত্তের (কপটের) বন্ধু, তুমি আমাদের পা ছুঁইও না, নমস্কার করিয়া প্রার্থনা করিও না। তোমার মুখের লোম রাঙ্গা কেন? ও কিসের রং? আমাদের সপত্নীর বুকে শ্রীকৃষ্ণের মালা মর্দিত হইয়াছে ; সেই মালার কুম্কুমের রং তোমার মুখে লাগিয়াছে। তুমি আর আমাদের চরণ ছুঁইও না। মধুরার রাজা কৃষ্ণ, সেই সব মানিনীদের প্রসন্নতা বিধান করুন। তুমি তাঁহার দূত। তোমার জন্য (তুমি আমাদের কাছে আসিয়া মিনতি করিয়াছ বলিয়া) তিনি যাদবদের সভায় বিড়ম্বিত হইবেন।

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৫২ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

কলহান্তরিতা।
॥ সুহই॥

ওরে কালাভ্রমরা তোমার মুখে নাহি লাজ।
যাও তুমি মধুপুরী,     যথা নিদারুণ হরি
আমার মন্দিরে কিবা কাজ॥
ব্রজবাসিগণ দেখি,     নিবারিতে নারি আঁখি
তাহে তুমি দেখা দিলে অলি।
বিরহ-অনল একে     তনু ক্ষীণ শ্যামশোকে
নিভান আগুনি দিলা জ্বালি॥
মথুরায় কর বাস     থাকহ শ্যামের পাশ
চূড়ায় ফুলের মধু খাও।
সেথা ছাড়ি এথা কেনে,
দুঃখ দিতে মোর প্রাণে,
মন্দির ছাড়িয়া ঝাট যাও॥
সে সুখ সম্পদ মোর     তুমি জান মধুকর
এবে সে আমার দুঃখ দেখ।
কহিয় কানুর ঠাম     ইহ বিরহিণী নাম
জ্ঞানদাস কহে না উপেখ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, শ্রীগৌরচন্দ্র, ৪৪৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

ভ্রমরদূত
॥ সুহই॥

ওরে কালা ভ্রমরা তোমার মুখেতে নাহি লাজ।
যাও তুমি মধুপুরী     যথা নিদারুণ হরি
আমার মন্দিরে কিবা কাজ॥ ধ্রু॥
ব্রজবাসিগণ দেখি     নিবারিতে নারি আঁখি
তাহে তুমি দেখা দিলে অলি।
বিরহঅনল একে     তনু খীণ শ্যামশোকে
নিভান আনল দিলা জ্বালি॥
মথুরায় কর বাস     থাকহ শ্যামের পাশ
চূড়ার ফুলের মধু খাও।
সেথা ছাড়ি এথা কেনে     দুখ দিতে মোর প্রাণে
মন্দির ছাড়িয়া ঝাট যাও॥
সে সুখসম্পদ মোর     তুমি জান মধুকর
এবে সে আমার দুখ দেখ।
কহিয় কানুর ঠাম     ইহ বিরহিণী নাম
জ্ঞানদাস কহে না উপেখ॥

ই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ৪র্থ খণ্ড এর ২৬২ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। গ্রন্থটি আমাদের দিয়েছিলেন রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্রর দৌহিত্রী শ্রীমতী মঞ্জু মিত্র, ৫.১.২০১৮ তারিখে।

॥ সুহই - একতালা॥

ওরে কালা ভ্রমরা তোমার মুখেতে নাহি লাজ।
যাও তুমি মধুপুরী     যথা নিদারুণ হরি
আমার মন্দিরে কিবা কাজ॥
ব্রজবাসিগণ দেখি     নিবারিতে নারি আঁখি
তাহে তুমি দেখা দিলে অলি।
বিরহ অনল একে     তনু খীণ শ্যাম-শোকে
নিভান আনল দিলা জ্বালি॥
মথুরায় কর বাস     থাকহ শ্যামের পাশ
চূড়ার ফুলের মধু খাও।
সেথা ছাড়ি এথা কেনে     দুখ দিতে মোর প্রাণে
মন্দির ছাড়িয়া ঝাট যাও॥
সে সুখ সম্পদ মোর     তুমি জান মধুকর
এবে যে আমার দুখ দেখ।
কহিয় কানুর ঠাম     ইহ বিরহিণী নাম
জ্ঞান দাস কহে না উপেখ॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ২৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর
॥ সুহই॥

ওরে কালা ভ্রমরা তোমার মুখেতে নাহি লাজ।
যাও তুমি মধুপুরী     যথা নিদারুণ হরি
আমার মন্দিরে কিবা কাজ॥ ধ্রু॥
ব্রজ-বাসিগণ দেখি     নিবারিতে নারি আঁখি
তাহে তুমি দেখা দিলে অলি।
বিরহ-অনল একে     তনু খীণ শ্যাম-শোকে
নিভান আনল দিলা জ্বালি॥
মথুরায় কর বাস     থাকহ শ্যামের পাশ
চূড়ার ফুলের মধু খাও।
সেথা ছাড়ি এথা কেনে     দুখ দিতে মোর প্রাণে
মন্দির ছাড়িয়া ঝাট যাও॥
সে সুখ-সম্পদ মোর     তুমি জান মধুকর
এবে সে আমার দুখ দেখ।
কহিয় কানুর ঠাম     ইহ বিরহিণী নাম
জ্ঞানদাস কহে না উপেখ॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমানবিহারী মজুমদার সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন "পাঁচশত বত্সরের পদাবলী ১৪১০-১৯১০" এর ১৮৯ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

ওরে কাল ভ্রমরা, তোমার মুখে নাহি লাজ।
যাও তুমি মধুপুরী     যথা নিদারুণ হরি
আমার মন্দিরে কিবা কাজ॥
ব্রজবাসিগণ দেখি     নিবারিতে নারি আঁখি
তাহে তুমি দেখা দিলে অলি।
বিরহ অনল একে     তনু ক্ষীণ শ্যাম-শোকে
নিভান আনল দিলা জ্বালি॥
মথুরায় কর বাস     থাকহ শ্যামের পাশ
চূড়ার ফুলের মধু খাও।
সেথা ছাড়ি এথা কেনে     দুঃখ দিতে মোর প্রাণে
মন্দির ছাড়িয়া ঝাট যাও॥
সে সুখ সম্পদ মোর     তুমি জান মধুকর
এবে সে আমার দুঃখ দেখ।
কহিও কানুর ঠাম     ইহ বিরহিণী নাম
জ্ঞানদাস কহে না উপেখ॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য” এর ৫১৯ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

দিব্যোন্মাদ।

ওরে কাল ভ্রমরা, তোমার মুখে নাহি লাজ।
যাও তুমি মধুপুরী     যথা নিদারুণ হরি
আমার মন্দিরে কিবা কাজ॥
ব্রজবাসিগণ দেখি     নিবারিতে নারি আঁখি
তাহে তুমি দেখা দিলে অলি।
বিরহ অনল একে     তনু ক্ষীণ শ্যাম-শোকে
নিভান আনল দিলা জ্বালি॥
মথুরায় কর বাস     থাকহ শ্যামের পাশ
চূড়ার ফুলের মধু খাও।
সেথা ছাড়ি এথা কেনে     দুঃখ দিতে মোর প্রাণে
মন্দির ছাড়িয়া ঝাট যাও॥
সে সুখ সম্পদ মোর     তুমি জান মধুকর
এবে সে আমার দুঃখ দেখ।
কহিও কানুর ঠাম     ইহ বিরহিণী নাম
জ্ঞানদাস কহে না উপেখ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬০৪ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ওরে কাল ভ্রমরা তোমার মুখেতে নাহি লাজ।
যাও তুমি মধুপুরী যথা নিদারুণ হরি
      আমার মন্দিরে কিবা কাজ॥
ব্রজবাসিগণ দেখি নিবারিতে নারি আঁখি
      তাহে তুমি দেখা দিলে অলি।
বিরহঅনল একে তনু খীণ শ্যামশোকে
      নিভান আনল দিলা জ্বালি॥
মথুরায় কর বাস থাকহ শ্যামের পাশ
      চূড়ার ফুলের মধু খাও।
সেথা ছাড়ি এথা কেনে দুখ দিতে
মোর প্রাণে মন্দির ছাড়িয়া ঝাট যাও॥
সে সুখ সম্পদ মোর তুমি জান মধুকর
      এবে সে আমার দুখ দেখ।
কহিয় কানুর ঠাম ইহ বিরহিণী নাম
      জ্ঞানদাস কহে না উপেখ॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^