কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
আঘণ মাসে আশ বহু আছিল
আঘণ মাসে আশ আবহু আছিল

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের ( ১৯২৩ সাল ) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ৮ম পল্লব, হেমন্ত-শিশিরোচিত বিরহ, ১৭৪৮ পদসংখ্যা, ৮৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীগান্ধার॥

আঘণ মাসে     আশ বহু আছিল
মিলব করি অনুমানি।
সো সব মনরথ     দুরহিঁ দূরে রহু
জিবইতে সংশয় জানি॥
শুন শুন নিরদয় কান।
ইহ দুখ শুনি তুয়া     চীত না দরবয়ে
কৈছন হৃদয় পাষাণ॥ ধ্রু॥
পৌর-রমণিগণ     বহু গুণ জানত
তাহে বুঝি বারল চীত।
রসময় সদয়-     হৃদয় গুণ বিছুরলি
ভূললি সে হেন পিরীত॥
আগমন সময়ে     যতেক আশোয়াসলি
সো কছু আছয়ে চীত।
শুনইতে তোহারি     নিঠুরপণ গুণগণ
জ্ঞানদাস চিত ভীত॥

এই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতী বাংলা-পুথিশালার "রতন লাইব্রেরী সংগ্রহ"-র অন্তর্ভুক্ত ও সংরক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ” পুথির ১৯৮২ সালে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত এবং তপনকুমার মুখোপাধ্যায়, অণিমা মুখোপাধ্যায় ও পরমেশ্বর মাহাতা দ্বারা সহ-সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন গ্রন্থের ৩৭৭ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী গান্ধার॥ তালোচিত॥

আঘণ মাসে আশ আবহু আছিল মিলব করি অনুমানি।
সো সর মনোরথ দূরহি দূরে রহু জিবইতে সংশয় জানি॥
সুন সুন নিরদয় কান ইহ দুখ সুন তব চিত না দরবয়ে কৈছনে হৃদয় পাষাণ॥ ধ্রু॥
পৌর রমণীগণ বহুগুণ জানত তাহে বুঝি বারণ চিত।
রসময় সদয় হৃদয়গুণ বিছরলি ভূললি সো হেন পিরিতি॥
আগমন সময়ে জতেক আশআসোলি সো কিছু আছয়ে চিতে।
সুনইতে তোহারি নিঠুরপোনা গুণগণ জ্ঞানদাসচিতে ভিতে॥

এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ২৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর
॥ শ্রীগান্ধার॥

আঘন মাসে,     আশ বহু আছিল,
মিলব করি অনুমানি।
সো সব মনরথ     দূরহি দূরে রহ,
জীবইতে সংশয় জানি॥
শুন শুন নিরদয় কান।
ইহ দুখ শুনি তুয়া     চিত না দরবয়ে,
কৈছন হৃদয় পাষাণ॥ ধ্রু।
পৌর রমণীগণ,     বহু গুণ জানত,
তাহে বুঝি বারণ চিত।
রসময় সদয়     হৃদয় গুণ বিছুরলি,
ভুললি সো হেন পিরীত॥
আগমন সময়ে,     যতেক আশোয়াসলি,
সো কছু আছয়ে চিত?
শুনইতে তোহারি,     নিঠুরপণ গুণগণ,
জ্ঞানদাস চিত ভীত॥

এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২৫১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর।
॥ গান্ধার॥

আঘন মাসে,     আশ বহু আছিল,
মিলব করি অনুমানি।
সো সব মনরথ     দূরহি দূরে রহ,
জীবইতে সংশয় জানি॥
শুন শুন নিরদয় কান।
ইহ দুখ শুনি তুয়া     চিত না দরবয়ে,
কৈছন হৃদয় পাষাণ॥
পৌর রমণীগণ,     বহু গুণ জানত,
তাহে বুঝি বারণ চিত।
রসময় সদয়     হৃদয় গুণ বিছুরলি,
ভুললি সো হেন পিরীত॥
আগমন সময়ে,     যতেক আশোয়াসলি,
সো কছু আছয়ে চিত।
শুনইতে তোহারি,     নিঠুরপণ গুণগণ,
জ্ঞানদাস চিত ভীত॥

এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৮১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর।
॥ গান্ধার॥

আঘন মাসে, আশ বহু আছিল, মিলব
করি অনুমানি। সো সব মনরথ দূরহি
দূরে রহ, জীবইতে সংশয় জানি॥ শুন
শুন নিরদয় কান। ইহ দুখ শুনি তুয়া,
চিত না দরবয়ে, কৈছন হৃদয় পাষাণ॥
পৌর রমণীগণ, বহু গুণ জানত, তাহে বুঝি
বারণ চিত। রসময় সদয়, হৃদয় গুণ বিছু-
রলি, ভুললি মোহন পিরীত॥ আগমন
সময়ে, যতেক আশোয়াসলি, সো কছু
আছয়ে চিত। শুনইতে তোহারি, নিঠুরপণ
গুণগণ, জ্ঞানদাস চিত ভীত॥

এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

আঘণ মাসে,     আশ বহু আছিল,
মিলব করি অনুমানি।
সো সব মনোরথ     দূরহি দূরে রহ,
জীবইতে সংশয় জানি॥
শুন শুন নিরদয় কান।
ইহ দুঃখ শুনি তুয়া,     চিত না দরবয়ে,
কৈছন হৃদয় পাষাণ॥ ধ্রু
পৌর রমণীগণ,     বহুগুণ জানত,
তাহে বুঝি বারণ চিত।
রসময় সদয়     হৃদয় গুণ কিছুরলি,
ভুললি সো হেন পিরীত॥
আগমন সময়ে,     যতেক আশোয়াসলি,
সো কছু আছয়ে চিত।
শুনইতে তোহারি,     নিঠুরপণ গুণগণ,
জ্ঞানদাস চিত ভীত॥

এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, প্রবাস, ২৫২ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আঘণ মাসে     আশ বহু আছিল
মিলব করি অনুমানি।
সো সব মনরথ     দূরহিঁ দূরে রহু
জিবইতে সংশয় জানি॥
শুন শুন নিরদয় কান।
ইহ দুখ শুনি তুয়া     চীত না দরবয়ে
কৈছন হৃদয় পাষাণ॥ ধ্রু॥
পৌর রমণিগণ     বহু গুণ জানত
তাহে বুঝি বারল চীত।
রসময় সদয়     হৃদয় গুণ বিছুরলি
ভুললি সে হেন পিরীত।
আগমন সময়ে     যতেক আশোয়াসলি
সো কছু আছয়ে চীত॥
শুনইতে তোহারি     নিঠুরপন গুণগণ
জ্ঞানদাস চিত ভীত॥

টীকা ---
চীত না দরবয়ে --- তোমার হৃদয় গলে না।
পৌর রমণিগণ --- সহরের কামিনীরা অনেক গুণ বা তুক্ তাক্ জানে।
বারল চীত --- চিত্তকে নিবারণ করিলে।

এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৫৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর।
॥ গান্ধার॥

আঘণ মাসে,     আশ বহু আছিল,
মিলব করি অনুমানি।
সো সব মনোরথ     দূরহি দূরে রহ
জীবইতে সংশয় জানি॥
শুন শুন নিরদয় কান।
ইহ দুঃখ শুনি তুয়া     চিত না দরবয়ে
কৈছন হৃদয় পাষাণ॥ ধ্রূ
পৌর রমণীগণ     বহুগুণ জানত
তাহে বুঝি বারণ চিত।
রসময় সদয়     হৃদয় গুণ বিছুরলি
ভুলিল সো হেন পিরীত॥
আগমন সময়ে     যতেক আশোয়াসলি
সো কছু আছয়ে চিত।
শুনইতে তোহারি     নিঠুরপণ গুণগণ
জ্ঞানদাস চিত ভীত॥

এই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ৪র্থ খণ্ড এর ৩১৫ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। গ্রন্থটি আমাদের দিয়েছিলেন রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্রর দৌহিত্রী শ্রীমতী মঞ্জু মিত্র, ৫.১.২০১৮ তারিখে।

॥ শ্রীগান্ধার - ডাঁশপাহিড়া॥

আঘণ মাসে     আশ বহু আছিল
মিলব করি অনুমানি।
সো সব মনরথ     দূরহি দূরে রহু
জিবইতে সংশয় জানি॥
শুন শুন নিরদয় কান।
ইহ দুখ শুনি তুয়া     চিত না দরবয়ে
কৈছন হৃদয় পাষাণ॥
পৌর-রমণিগণ     বহু গুণ জানত
তাহে বুঝি বারল চিত।
রসময় সদয়     হৃদয় গুণ বিছুরলি
ভুললি সে হেন পিরীত।
আগমন সময়ে     যতেক আশোয়াসলি
সো কছু আছয়ে চীত॥
শুনইতে তোহারি     নিঠুরপন গুণ গণ
জ্ঞানদাস চিত ভীত॥

এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত,“জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ২৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর
॥ শ্রীগান্ধার॥

আঘণ মাসে     আশ বহু আছিল
মিলব করি অনুমানি।
সো সব মনরথ     দুরহি দূরে রহু
জিবইতে সংশয় জানি॥
শুন শুন নিরদয় কান।
ইহ দুখ শুনি তুয়া     চীত না দরবয়ে
কৈছন হৃদয় পাষাণ॥ ধ্রু॥
পৌর রমণীগণ     বহু গুণ জানত
তাহে বুঝি বারল চিত।
রসময় সদয়-     হৃদয় গুণ বিছুরলি
ভুললি সে হেন পীরিত॥
আগমন সময়ে     যতেক আশোয়াসলি
সো কছু আছয়ে চিতে।
শুনইতে তোহারি     নিঠুরপণ গুণগণ
জ্ঞানদাস চিতে ভীতে॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^