কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
বন্ধুরে কহিয় মোর কথা
বন্ধুরে কহিব মোর কথা
বন্ধুরে কহিও মোর কথা
কবি জ্ঞানদাস
বন্ধুরে কহিব মোর কথা
বন্ধুরে কহিও মোর কথা
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭২৫ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত, শ্রীনিবাস আচার্য্যর পৌত্র রাধামোহন ঠাকুর রচিত ও সংকলিত, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা ১২৮৫ বঙ্গাব্দে (১৮৭৮ খৃষ্টাব্দ) সম্পাদিত "পদামৃত সমুদ্র", ৩৭৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ পুনর্দূতী প্রেরণং॥
॥ বরাড়ীরাগ রূপকতালাভ্যং॥
বন্ধুরে কহিব মোর কথা। আনলে পশিব যদি নাহি
আইসে এথা॥ মরণ অধিক ভেল এছার জীবন। তোমা
বিনু দগধই যনু দাবে বন॥ নহেত কহএ যেন এ দুখ
এড়াই। সোঙরিয়া চাঁদ মুখ তবে মরি যাই॥ জ্ঞান কহে
এত দুখ না কর ভাবন। এখনি মিলব জান মোর প্রাণ
ধন॥
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের ( ১৯২৩ সাল ) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ৯ম পল্লব, দ্বাদশ মাসিক বিরহ, ১৮২৮ নং পদসংখ্যা, দৌত্য-প্রেষণং, ১১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
দৌত্য-প্রেষণং
॥ তথা রাগ॥
বন্ধুরে কহিয় মোর কথা।
আনলে পশিব যদি না আইসে এথা॥
মরণ-অধিক ভেল এ ছার জীবন।
তোমা বিনু দগ্ধ যেন দাবানলে বন॥
নহেত কহয়ে যেন এ দুখ এড়াই।
সোঙরিয়া চাঁদ-মুখ তবে মরি যাই॥
জ্ঞান দাস কহে দুখ না কর ভাবন।
নিচয়ে মিলব জান তোমার প্রাণ-ধন॥
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের ( ১৯২৩ সাল ) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১৯৬০ নং পদসংখ্যা, অথ পুনর্দূতী-প্রেষণং, ১৬৪ -নং পৃষ্ঠায় ২য়বার দেওয়া রয়েছে, একই রূপে, রাগের উল্লেখ করে।
অথ পুনর্দূতী-প্রেষণং
॥ বরাড়ী॥
বন্ধুরে কহিয় মোর কথা।
আনলে পশিব যদি নাহি আইসে এথা॥
মরণ-অধিক ভেল এ ছার জীবন।
তোমা বিনু দগধই যেন দাবে বন॥
নহে ত কহয়ে যেন এ দুখ এড়াই।
সোঙরিয়া চাঁদ-মুখ তবে মরি যাই॥
জ্ঞান কহে এত দুখ না কর ভাবন।
এখনি মিলাব জান তোমার প্রাণ-ধন॥
এই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতী বাংলা-পুথিশালার "রতন লাইব্রেরী সংগ্রহ"-র অন্তর্ভুক্ত ও সংরক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ” পুথির ১৯৮২ সালে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত এবং তপনকুমার মুখোপাধ্যায়, অণিমা মুখোপাধ্যায় ও পরমেশ্বর মাহাতা দ্বারা সহ-সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন গ্রন্থের ৪১৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ রাগিণী তালোচিত॥
বন্ধুরে কহিয়ো মোর কথা।
আনলে পসিব জদি না আইসে হেথা॥
মরণ অধিক ভেল এ ছার জীবন।
তোমা বিনে দগধে জেন দাবানল বন॥
নহে ত কহয়ে জেন এ দুঃখ এড়াই।
শোঙরিয়া চান্দমুখ তবে মরি জাই॥
সুনিয়া আকুল দূতী চল মধুপুর।
ভেটল জাহা সেই গোকুলশূর॥
কুশল পোছয়ে হরি দূতীমুখ চাই।
কৈছে আছয়ে ধনি রসমই রাই॥
শোঙরি শোঙরি হিয়া থির নাহি হয়।
জ্ঞানদাস বলে তোমার পাষাণ হৃদয়॥
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ২২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
প্রবাস
॥ বরাড়ী॥
বন্ধুরে কহিও মোর কথা।
অনলে পশিব যদি না আইসে এথা॥
মরণ অধিক ভেল এ ছার জীবন।
তো বিনু দগধে যেন দাবানলে বন॥
নহেত কহয়ে যেন এ দুঃখ এড়াই।
সোঙরিয়া চাঁদ মুখ তবে মরি যাই॥
জ্ঞান কহে এত দুঃখ না কর ভাবন।
নিচয়ে মিলব জান তোমার প্রাণধন॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২৪৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
প্রবাস।
॥ বরাড়ী॥
বন্ধুরে কহিও মোর কথা।
অনলে পশিব যদি না আইসে এথা॥
মরণ অধিক ভেল এ ছার জীবন।
তো বিনু দগধে যেন দাবানলে বন॥
নহেত কহয়ে যেন এ দুঃখ এড়াই।
সোঙরিয়া চাঁদ মুখ তবে মরি যাই॥
জ্ঞান কহে এত দুঃখ না কর ভাবন।
নিচয়ে মিলব জান তোমার প্রাণধন॥
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৭৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
প্রবাস।
॥ বরাড়ী॥
বন্ধুরে কহিও মোর কথা। অনলে
পশিব যদি না আইসে এথা॥ মরণ অধিক
ভেল এ ছার জীবন। তো বিনু দগধে
যেন দাবানলে বন॥ নহেত কহয়ে যেন
এ দুঃখ এড়াই। সোঙরিয়া চাঁদ মুখ তবে
মরি যাই॥ জ্ঞান কহে এত দুঃখ না কর
ভাবন। নিচয়ে মিলব জান তোমার
প্রাণধন॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
কলহান্তরিতা
॥ বরাড়ী॥
বন্ধুরে কহিও মোর কথা।
অনলে পশিব যদি না আইসে এথা॥
মরণ অধিক ভেল এ ছার জীবন।
তো বিনু দগধে যেন দাবানলে বন॥
নহেত কহয়ে যেন এ দুঃখে এড়াই।
সোঙরিয়া চাঁদমুখ তবে মরি যাই॥
জ্ঞান কহে এত দুঃখ না কর ভাবন।
নিচয়ে মিলব জান তোমার প্রাণধন॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, প্রবাস, ২৫১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
বন্ধুরে কহিও মোর কথা।
আনলে পশিব যদি নাহি আইসে এথা॥
মরণ অধিক ভেল এছার জীবন।
তোমা বিনু দগধই জনু দাবে বন॥
নহেত কহএ যেন এ দুখ এড়াই।
সোঙরিয়া চাঁদমুখ তবে মরি যাই॥
জ্ঞান কহে এত দুখ না কর ভাবন।
এখনি মিলব জান মোর প্রাণধন॥
টীকা ---
শ্রীরাধা দূতীকে দিয়া মাধবকে বলিয়া পাঠাইতেছেন যে মাধব যদি এখানে না আসেন তবে তিনি আগুনে প্রাণ বিসর্জ্জন দিবেন। কেন না মরণের যন্ত্রণা চেয়েও এই জীবন অধিক দুঃসহ হইয়াছে ---মাধবের বিরহে প্রাণ পুড়িয়া যাইতেছে, বন যেমন দাবানলে দগ্ধ হয়। তিনি যদি বলেন তবে তাঁহার চাঁদমুখ স্মরণ করিতে করিতে আমি মরিয়া এই দুঃখের হাত হইতে অব্যাহতি পাই। জ্ঞানদাস সান্ত্বনা দিয়া বলিতেছেন এত দুঃখ-চিন্তা করিও না, জানিও তোমার প্রাণধন এখনি আসিবেন।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৪৭ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
কলহান্তরিতা।
॥ বরাড়ী॥
বন্ধুরে কহিও মোর কথা।
অনলে পশিব যদি না আইসে এথা॥
মরণ অধিক ভেল এ ছার জীবন।
তো বিনু দগধে যেন দাবানলে বন॥
নহেত কহয়ে যেন এ দুঃখে এড়াই।
সোঙরিয়া চাঁদমুখ তবে মরি যাই॥
জ্ঞান কহে এত দুঃখ না কর ভাবন।
চিয়ে ন মিলব জান তোমার প্রাণধন॥
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, শ্রীগৌরচন্দ্র, ৪৪৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
মথুরায় দূতী প্রেরণ
॥ তথা রাগ॥
বন্ধুরে কহিয় মোর কথা।
আনলে পশিব যদি না আইসে এথা॥
মরণঅধিক ভেল এ ছার জীবন।
তোমা বিনু দগ্ধ যেন দাবানলে বন॥
নহেত কহয়ে যদি এ দুখ এড়াই।
সোঙরিয়া চাঁদমুখ তবে মরি যাই॥
জ্ঞানদাস কহে দুখ না কর ভাবন।
নিচয়ে মিলব জান তোমার প্রাণধন॥
এই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ৪র্থ খণ্ড এর ৬২ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। গ্রন্থটি আমাদের দিয়েছিলেন রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্রর দৌহিত্রী শ্রীমতী মঞ্জু মিত্র, ৫.১.২০১৮ তারিখে।
॥ বরাড়ী - একতালা॥
বন্ধুরে কহিও মোর কথা।
আনলে পশিব যদি না আইসে এথা॥
মরণ-অধিক ভেল এছার জীবন।
তোমা বিনু দগধই যেন দাবে বন॥
নহে ত কহয়ে যেন এ দুখ এড়াই।
সোঙরিয়া চাঁদমুখ তবে মরি যাই॥
জ্ঞান কহে এত দুখ না কর ভাবন।
এখনি মিলাব জান তোমার প্রাণ ধন॥
এই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ৪র্থ খণ্ড এর ১৪৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। গ্রন্থটি আমাদের দিয়েছিলেন রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্রর দৌহিত্রী শ্রীমতী মঞ্জু মিত্র, ৫.১.২০১৮ তারিখে।
॥ বরাড়ী - একতালা॥
বন্ধুরে কহিয় মোর কথা।
অনলে পশিব যদি না আইসে এথা॥
মরণ অধিক ভেল এছার জীবন।
তোমা বিনু দগধই যেন দাবে বন॥
নহে ত কহয়ে যেন এ দুখ এড়াই।
সোঙরিয়া চাঁদ মুখ তবে মরি যাই॥
জ্ঞান কহে এত দুখ না কর ভাবন।
এখনি মিলাব জান তোমার প্রাণ ধন॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ২৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
মাথুর
॥ তথা রাগ॥
বন্ধুরে কহিয় মোর কথা।
আনলে পশিব যদি না আইসে এথা॥
মরণ-অধিক ভেল এ ছার জীবন।
তোমা বিনু দগ্ধ যেন দাবানলে বন॥
নহেত কহয়ে যদি এ দুখ এড়াই।
সোঙরিয়া চাঁদ-মুখ তবে মরি যাই॥
জ্ঞানদাস কহে দুখ না কর ভাবন।
নিচয়ে মিলব জান তোমার প্রাণ-ধন॥
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৩৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
বন্ধুরে কহিয় মোর কথা।
আনলে পশিব যদি না আইসে এথা॥
মরণঅধিক ভেল এ ছার জীবন।
তোমা বিনু দগ্ধ যেন দাবানলে বন॥
নহেত কহয়ে যদি এ দুখ এড়াই।
সোঙরিয়া চাঁদমুখ তবে মরি যাই॥
জ্ঞানদাস কহে দুখ না কর ভাবন।
নিচয়ে মিলব জান তোমার প্রাণধন॥
*********************
॥ বরাড়ীরাগ রূপকতালাভ্যং॥
বন্ধুরে কহিব মোর কথা। আনলে পশিব যদি নাহি
আইসে এথা॥ মরণ অধিক ভেল এছার জীবন। তোমা
বিনু দগধই যনু দাবে বন॥ নহেত কহএ যেন এ দুখ
এড়াই। সোঙরিয়া চাঁদ মুখ তবে মরি যাই॥ জ্ঞান কহে
এত দুখ না কর ভাবন। এখনি মিলব জান মোর প্রাণ
ধন॥
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের ( ১৯২৩ সাল ) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ৯ম পল্লব, দ্বাদশ মাসিক বিরহ, ১৮২৮ নং পদসংখ্যা, দৌত্য-প্রেষণং, ১১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
দৌত্য-প্রেষণং
॥ তথা রাগ॥
বন্ধুরে কহিয় মোর কথা।
আনলে পশিব যদি না আইসে এথা॥
মরণ-অধিক ভেল এ ছার জীবন।
তোমা বিনু দগ্ধ যেন দাবানলে বন॥
নহেত কহয়ে যেন এ দুখ এড়াই।
সোঙরিয়া চাঁদ-মুখ তবে মরি যাই॥
জ্ঞান দাস কহে দুখ না কর ভাবন।
নিচয়ে মিলব জান তোমার প্রাণ-ধন॥
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের ( ১৯২৩ সাল ) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১৯৬০ নং পদসংখ্যা, অথ পুনর্দূতী-প্রেষণং, ১৬৪ -নং পৃষ্ঠায় ২য়বার দেওয়া রয়েছে, একই রূপে, রাগের উল্লেখ করে।
অথ পুনর্দূতী-প্রেষণং
॥ বরাড়ী॥
বন্ধুরে কহিয় মোর কথা।
আনলে পশিব যদি নাহি আইসে এথা॥
মরণ-অধিক ভেল এ ছার জীবন।
তোমা বিনু দগধই যেন দাবে বন॥
নহে ত কহয়ে যেন এ দুখ এড়াই।
সোঙরিয়া চাঁদ-মুখ তবে মরি যাই॥
জ্ঞান কহে এত দুখ না কর ভাবন।
এখনি মিলাব জান তোমার প্রাণ-ধন॥
এই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতী বাংলা-পুথিশালার "রতন লাইব্রেরী সংগ্রহ"-র অন্তর্ভুক্ত ও সংরক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ” পুথির ১৯৮২ সালে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত এবং তপনকুমার মুখোপাধ্যায়, অণিমা মুখোপাধ্যায় ও পরমেশ্বর মাহাতা দ্বারা সহ-সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন গ্রন্থের ৪১৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ রাগিণী তালোচিত॥
বন্ধুরে কহিয়ো মোর কথা।
আনলে পসিব জদি না আইসে হেথা॥
মরণ অধিক ভেল এ ছার জীবন।
তোমা বিনে দগধে জেন দাবানল বন॥
নহে ত কহয়ে জেন এ দুঃখ এড়াই।
শোঙরিয়া চান্দমুখ তবে মরি জাই॥
সুনিয়া আকুল দূতী চল মধুপুর।
ভেটল জাহা সেই গোকুলশূর॥
কুশল পোছয়ে হরি দূতীমুখ চাই।
কৈছে আছয়ে ধনি রসমই রাই॥
শোঙরি শোঙরি হিয়া থির নাহি হয়।
জ্ঞানদাস বলে তোমার পাষাণ হৃদয়॥
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ২২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
প্রবাস
॥ বরাড়ী॥
বন্ধুরে কহিও মোর কথা।
অনলে পশিব যদি না আইসে এথা॥
মরণ অধিক ভেল এ ছার জীবন।
তো বিনু দগধে যেন দাবানলে বন॥
নহেত কহয়ে যেন এ দুঃখ এড়াই।
সোঙরিয়া চাঁদ মুখ তবে মরি যাই॥
জ্ঞান কহে এত দুঃখ না কর ভাবন।
নিচয়ে মিলব জান তোমার প্রাণধন॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২৪৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
প্রবাস।
॥ বরাড়ী॥
বন্ধুরে কহিও মোর কথা।
অনলে পশিব যদি না আইসে এথা॥
মরণ অধিক ভেল এ ছার জীবন।
তো বিনু দগধে যেন দাবানলে বন॥
নহেত কহয়ে যেন এ দুঃখ এড়াই।
সোঙরিয়া চাঁদ মুখ তবে মরি যাই॥
জ্ঞান কহে এত দুঃখ না কর ভাবন।
নিচয়ে মিলব জান তোমার প্রাণধন॥
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৭৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
প্রবাস।
॥ বরাড়ী॥
বন্ধুরে কহিও মোর কথা। অনলে
পশিব যদি না আইসে এথা॥ মরণ অধিক
ভেল এ ছার জীবন। তো বিনু দগধে
যেন দাবানলে বন॥ নহেত কহয়ে যেন
এ দুঃখ এড়াই। সোঙরিয়া চাঁদ মুখ তবে
মরি যাই॥ জ্ঞান কহে এত দুঃখ না কর
ভাবন। নিচয়ে মিলব জান তোমার
প্রাণধন॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
কলহান্তরিতা
॥ বরাড়ী॥
বন্ধুরে কহিও মোর কথা।
অনলে পশিব যদি না আইসে এথা॥
মরণ অধিক ভেল এ ছার জীবন।
তো বিনু দগধে যেন দাবানলে বন॥
নহেত কহয়ে যেন এ দুঃখে এড়াই।
সোঙরিয়া চাঁদমুখ তবে মরি যাই॥
জ্ঞান কহে এত দুঃখ না কর ভাবন।
নিচয়ে মিলব জান তোমার প্রাণধন॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, প্রবাস, ২৫১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
বন্ধুরে কহিও মোর কথা।
আনলে পশিব যদি নাহি আইসে এথা॥
মরণ অধিক ভেল এছার জীবন।
তোমা বিনু দগধই জনু দাবে বন॥
নহেত কহএ যেন এ দুখ এড়াই।
সোঙরিয়া চাঁদমুখ তবে মরি যাই॥
জ্ঞান কহে এত দুখ না কর ভাবন।
এখনি মিলব জান মোর প্রাণধন॥
টীকা ---
শ্রীরাধা দূতীকে দিয়া মাধবকে বলিয়া পাঠাইতেছেন যে মাধব যদি এখানে না আসেন তবে তিনি আগুনে প্রাণ বিসর্জ্জন দিবেন। কেন না মরণের যন্ত্রণা চেয়েও এই জীবন অধিক দুঃসহ হইয়াছে ---মাধবের বিরহে প্রাণ পুড়িয়া যাইতেছে, বন যেমন দাবানলে দগ্ধ হয়। তিনি যদি বলেন তবে তাঁহার চাঁদমুখ স্মরণ করিতে করিতে আমি মরিয়া এই দুঃখের হাত হইতে অব্যাহতি পাই। জ্ঞানদাস সান্ত্বনা দিয়া বলিতেছেন এত দুঃখ-চিন্তা করিও না, জানিও তোমার প্রাণধন এখনি আসিবেন।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৪৭ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
কলহান্তরিতা।
॥ বরাড়ী॥
বন্ধুরে কহিও মোর কথা।
অনলে পশিব যদি না আইসে এথা॥
মরণ অধিক ভেল এ ছার জীবন।
তো বিনু দগধে যেন দাবানলে বন॥
নহেত কহয়ে যেন এ দুঃখে এড়াই।
সোঙরিয়া চাঁদমুখ তবে মরি যাই॥
জ্ঞান কহে এত দুঃখ না কর ভাবন।
চিয়ে ন মিলব জান তোমার প্রাণধন॥
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, শ্রীগৌরচন্দ্র, ৪৪৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
মথুরায় দূতী প্রেরণ
॥ তথা রাগ॥
বন্ধুরে কহিয় মোর কথা।
আনলে পশিব যদি না আইসে এথা॥
মরণঅধিক ভেল এ ছার জীবন।
তোমা বিনু দগ্ধ যেন দাবানলে বন॥
নহেত কহয়ে যদি এ দুখ এড়াই।
সোঙরিয়া চাঁদমুখ তবে মরি যাই॥
জ্ঞানদাস কহে দুখ না কর ভাবন।
নিচয়ে মিলব জান তোমার প্রাণধন॥
এই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ৪র্থ খণ্ড এর ৬২ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। গ্রন্থটি আমাদের দিয়েছিলেন রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্রর দৌহিত্রী শ্রীমতী মঞ্জু মিত্র, ৫.১.২০১৮ তারিখে।
॥ বরাড়ী - একতালা॥
বন্ধুরে কহিও মোর কথা।
আনলে পশিব যদি না আইসে এথা॥
মরণ-অধিক ভেল এছার জীবন।
তোমা বিনু দগধই যেন দাবে বন॥
নহে ত কহয়ে যেন এ দুখ এড়াই।
সোঙরিয়া চাঁদমুখ তবে মরি যাই॥
জ্ঞান কহে এত দুখ না কর ভাবন।
এখনি মিলাব জান তোমার প্রাণ ধন॥
এই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ৪র্থ খণ্ড এর ১৪৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। গ্রন্থটি আমাদের দিয়েছিলেন রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্রর দৌহিত্রী শ্রীমতী মঞ্জু মিত্র, ৫.১.২০১৮ তারিখে।
॥ বরাড়ী - একতালা॥
বন্ধুরে কহিয় মোর কথা।
অনলে পশিব যদি না আইসে এথা॥
মরণ অধিক ভেল এছার জীবন।
তোমা বিনু দগধই যেন দাবে বন॥
নহে ত কহয়ে যেন এ দুখ এড়াই।
সোঙরিয়া চাঁদ মুখ তবে মরি যাই॥
জ্ঞান কহে এত দুখ না কর ভাবন।
এখনি মিলাব জান তোমার প্রাণ ধন॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ২৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
মাথুর
॥ তথা রাগ॥
বন্ধুরে কহিয় মোর কথা।
আনলে পশিব যদি না আইসে এথা॥
মরণ-অধিক ভেল এ ছার জীবন।
তোমা বিনু দগ্ধ যেন দাবানলে বন॥
নহেত কহয়ে যদি এ দুখ এড়াই।
সোঙরিয়া চাঁদ-মুখ তবে মরি যাই॥
জ্ঞানদাস কহে দুখ না কর ভাবন।
নিচয়ে মিলব জান তোমার প্রাণ-ধন॥
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৩৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
বন্ধুরে কহিয় মোর কথা।
আনলে পশিব যদি না আইসে এথা॥
মরণঅধিক ভেল এ ছার জীবন।
তোমা বিনু দগ্ধ যেন দাবানলে বন॥
নহেত কহয়ে যদি এ দুখ এড়াই।
সোঙরিয়া চাঁদমুখ তবে মরি যাই॥
জ্ঞানদাস কহে দুখ না কর ভাবন।
নিচয়ে মিলব জান তোমার প্রাণধন॥
*********************
