কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
সোণার গৌরাঙ্গ চাঁদে
গৌরাঙ্গ হে গৌরাঙ্গ হে সোনার গৌরাঙ্গচান্দে
সোণার গৌর চাঁদে

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের ( ১৯২৩ সাল ) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১১শ পল্লব, দশ দশা, ১৮৯১ নং পদসংখ্যা, ১৩৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

। --॥
অথ উদ্বেগ-দশা।
তদ্ভাবাক্রান্তঃ শ্রীগৌরচন্দ্রো যথা।


সোণার গৌরাঙ্গ চাঁদে।
উরে কর ধরি     ফুকরি ফুকরি
হা নাথ বলিয়া কান্দে॥
গদাধর-মুখে     ছল ছল আঁখে
চাহয়ে নিশ্বাস ছাড়ি।
ঘামে তিতি গেল     সব কলেবর
থির নয়নে নেহারি॥
বিরহ-অনলে     দহয়ে অন্তর
ভসম না হয় দেহ।
কি বুদ্ধি করিব     কোথা না যাইব
কিছু না বোলয়ে কেহ॥
কহে হরিদাস     কি বলিব ভাষ
কেনে হেন হৈল গোরা।
জ্ঞানদাস কহে     রাধার পিরিতে
সতত সে রসে ভোরা॥

এই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতী বাংলা-পুথিশালার "রতন লাইব্রেরী সংগ্রহ"-র অন্তর্ভুক্ত ও সংরক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ” পুথির ১৯৮২ সালে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত এবং তপনকুমার মুখোপাধ্যায়, অণিমা মুখোপাধ্যায় ও পরমেশ্বর মাহাতা দ্বারা সহ-সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন গ্রন্থের ৪২২ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ অথ উদ্বেগ দশা তদুচিত মহাপ্রভু॥
॥ রাগিণী তালোচিত॥

গৌরাঙ্গ হে গৌরাঙ্গ হে সোনার গৌরাঙ্গচান্দে।
উরে কর ধরি ফুকুরি ফুকুরি হা নাথ বলিয়ে কান্দে॥
গদাধরমুখে ছলছল আখি চাহয়ে নিশ্বাস ছাড়ি।
ঘামেতে ভিজল সব কলেবর থীর নয়নে নেহারি॥
বিরহআনলে দহয়ে অন্তর ভসম না হয় দেহ।
কি বুদ্ধি করিব কোথা না জাইব কিছু বোলে একেহ॥
কহে হরিদাস কি বলিব ভাষ কেনে হেন হৈল গোরা।
জ্ঞানদাস কহে রাধার পিরিতি সতত সে রসে ভোরা॥

এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ২৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্র
॥ ধানশী॥

সোণার গৌর চাঁদে।
উরে কর ধরি,     ফুকরি ফুকরি,
হা নাথ বলিয়া কান্দে॥
গদাধর মুখে     ছল ছল আঁখে,
চাহয়ে নিশ্বাস ছাড়ি।
ঘামে তিতি গেল,     সব কলেবর,
থির নয়নে নেহারি॥
বিরহ আনলে,     দহয়ে অন্তর,
ভস্ম না হয় দেহ।
কি বুদ্ধি করিব,     কোথা বা যাইব,
কিছু না বোলয়ে কেহ॥
কহে হরিদাস,     কি বলিব ভাষ,
কিসে হেন হৈল গোরা।
জ্ঞানদাস কহে,     রাধার পিরীতে,
সতত সে রসে ভোরা॥

এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্র
॥ ধানশী॥

সোণার গৌর চাঁদে।
উরে কর ধরি,     ফুকরি ফুকরি,
হা নাথ বলিয়া কান্দে॥
গদাধর মুখে     ছল ছল আঁখে,
চাহয়ে নিশ্বাস ছাড়ি।
ঘামে তিতি গেল,     সব কলেবর,
থির নয়নে নেহারি॥
বিরহ আনলে,     দহয়ে অন্তর,
ভস্ম না হয় দেহ।
কি বুদ্ধি করিব,     কোথা বা যাইব,
কিছু না বোলয়ে কেহ॥
কহে হরিদাস,     কি বলিব ভাষ,
কিসে হেন হৈল গোরা।
জ্ঞানদাস কহে,     রাধার পিরীতে,
সতত সে রসে ভোরা॥

এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, প্রবাস, ২৪৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সোনার গৌর চাঁদে।
উরে কর ধরি,     ফুকরি ফুকরি,
হা নাথ বলিয়া কান্দে॥
গদাধর মুখে,     ছল ছল আঁখে,
চাহয়ে নিশ্বাস ছাড়ি।
ঘামে তিতি গেল,     সব কলেবর,
থির নয়ানে নেহারি॥
বিরহ আনলে,     দহয়ে অন্তর,
ভস্ম না হয় দেহ।
কি বুদ্ধি করিব,     কোথা বা যাইব
কিছু না বোলয়ে কেহ॥
কহে হরিদাস,     কি বলিব ভাষ,
কিসে হেন হৈল গোরা।
জ্ঞানদাস কহে,     রাধার পিরীতে,
সতত যে রসে ভোরা॥

টীকা ---
শ্রীগৌরাঙ্গ রাধাভাবে বিভাবিত হইয়া শ্রীকৃষ্ণ বিরহে বিলাপ করিতেছেন।
উরে কর ধরি --- বুকে হাত দিয়া।

এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৪র্থ তরঙ্গ, ৪র্থ উচ্ছ্বাস, পূর্বরাগ ও অনুরাগ-এর ১৮৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

সোনার গৌরাঙ্গচাঁদে।
উরে কর ধরি ফুকরি ফুকরি, হা নাথ বলিয়া কাঁদে॥ ধ্রু॥
গদাধর মুখে ছল ছল চোকে, চাহয়ে নিশ্বাস ছাড়ি।
ঘামে তিতি গেল, সব কলেবর, থির নয়নে নেহারি॥
বিরহ অনলে, দহয় অন্তর, ভসম না হয় দেহ।
কি বুদ্ধি করিব, কোথা বা যাইব, কিছু নাহি বোলে কেহ
কহে হরিদাস, কি বলিব ভাষ, কেন হেন হৈল গোরা।
জানদাস কহে, রাধার পীরিতে, সতত সে রসে ভোরা॥

এই পদটি ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে (১৯৪১ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, চাঁদপুর ও মেছড়া স্কুলের ভূতপূর্ব্ব হেডমাস্টার মহাশয় হরিলাল চট্টোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্নমালা” ৪র্থ সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৩২৩ বঙ্গাব্দ বা ১৯১৬ খৃষ্টাব্দ) গ্রন্থের ৪২৬ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর
উদ্বেগ-দশা।
তস্য গৌরচন্দ্র।
॥ যথারাগ॥

সোণার গৌরাঙ্গ চাঁদে।
উরে করে ধরি     ফুকরি ফুকরি
হা নাথ বলিয়া কান্দে॥
গদাধর মুখে     ছল ছল আঁখে
চাহয়ে নিশ্বাস ছাড়ি।
ঘামে তিতি গেল     সব কলেবর
থির নয়নে নেহারি॥
বিরহ অনলে     দহয়ে অন্তর
ভসম না হয় দেহ।
কি বুদ্ধি করিব     কোথা না যাইব
কিছু না বোলয়ে কেহ॥
কহে হরিদাস     কি বলিব ভাষ
কেনে হেন হৈল গোরা।
জ্ঞানদাস কহে     রাধার পিরীতি
সতত সে রসে ভোরা॥

এই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ৪র্থ খণ্ড এর ২০৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। গ্রন্থটি আমাদের দিয়েছিলেন রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্রর দৌহিত্রী শ্রীমতী মঞ্জু মিত্র, ৫.১.২০১৮ তারিখে।

॥ সুহই - জপতাল॥

সোনার গৌরাঙ্গ চাঁদে।
উরে কর ধরি,     ফুকরি ফুকরি,
হা নাথ বলিয়া কাঁদে॥
গদাধর মুখে,     ছল ছল আঁখে,
চাহয়ে নিশ্বাস ছাড়ি।
ঘামে তিতি গেল,     সব কলেবর,
থির নয়ানে নেহারি॥
বিরহ অনলে,     দহই অন্তর,
ভসম না হয় দেহ।
কি বুদ্ধি করিব,     কোথা বা যাইব
কিছু না বোলয়ে কেহ॥
কহে হরিদাস,     কি বলিব ভাষ,
কিসে হেন হইল গোরা।
জ্ঞান দাস কহে,     রাধার পীরিতে,
সতত সে রসে ভোরা॥

এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ উদ্বেগ-দশা।
তদ্ ভাবাক্রান্তঃ শ্রীগৌরচন্দ্রো যথা।

সোণার গৌরাঙ্গ চাঁদে।
উরে কর ধরি     ফুকরি ফুকরি
হা নাথ বলিয়া কান্দে॥
গদাধর-মুখে     ছল ছল আঁখে
চাহয়ে নিশ্বাস ছাড়ি।
ঘামে তিতি গেল     সব কলেবর
নয়নে থির নেহারি॥
বিরহ-অনলে     দহয়ে অন্তর
ভসম না হয় দেহ।
কি বুদ্ধি করিব     কোথা না যাইব
কিছু না বোলয়ে কেহ॥
কহে হরিদাস     কি বলিব ভাষ
কেনে হেন হৈল গোরা।
জ্ঞানদাস কহে     রাধার পিরিতে
সতত সে রসে ভোরা॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^