কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
সহচর অঙ্গে গোরা অঙ্গ হেলাইয়া
সহচর সঙ্গে গোরা অঙ্গ হেলাইয়া
কবি জ্ঞানদাস
সহচর সঙ্গে গোরা অঙ্গ হেলাইয়া
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১১শ পল্লব, দশ দশা, ১৮৯৭ নং পদসংখ্যা, ১৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
অথ তানব-দশা।
তত্র শ্রীগৌরচন্দ্রো যথা।
॥ সুহই॥
সহচর-অঙ্গে গোরা অঙ্গ হেলাইয়া।
চলিতে না পারে খেণে পড়ে মূরছিয়া॥
অতি দুরবল দেহ ধরণে না যায়।
ক্ষিতি-তলে পড়ি সহচর-মুখ চায়॥
কোথায় পরাণ-নাথ বলি খেণে কান্দে।
পুরব বিরহ-জ্বরে থির নাহি বান্ধে॥
কেনে হেন হৈল গোরা বুঝিতে না পারি।
জ্ঞানদাস কহে নিছনি লৈয়া মরি॥
এই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতী বাংলা-পুথিশালার "রতন লাইব্রেরী সংগ্রহ"-র অন্তর্ভুক্ত ও সংরক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ” পুথির ১৯৮২ সালে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত এবং তপনকুমার মুখোপাধ্যায়, অণিমা মুখোপাধ্যায় ও পরমেশ্বর মাহাতা দ্বারা সহ-সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন গ্রন্থের ৪২৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ অথ তানবং তদুচিত মহাপ্রভু॥
॥ রাগিণী তালোচিত॥
সহচর অঙ্গে গোরা অঙ্গ হেলাইয়া। চলিতে না পারে খেনে পড়ে মূরছিয়া॥
অতি দুরবল দেহ ধরণে না জায়। ক্ষিতিতলে পড়ি সহচর মুখ চায়॥
কোথায় পরাণনাথ বলি খেনে কান্দে। পুরূব বিরহজ্বরে থীর নাহি বান্ধে॥
কেনে হেন হইল গোরা বুঝিতে না পারি। জ্ঞানদাস কহই নিছনি লয়ে মরি॥
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ২৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীগৌরচন্দ্র
॥ সুহই॥
সহচর অঙ্গে গৌর অঙ্গ হেলাইয়া।
চলিতে না পারে খেনে পড়ে মূরছিয়া॥
অতি দুরবল দেহ ধরণে না যায়।
ক্ষিতিতলে পড়ি সহচর মুখ চায়॥
কোথায় পরাণ নাথ বলি খেনে কান্দে।
পূরব বিরহ জ্বরে থির নাহি বান্ধে॥
কেনে হেন হৈল গোরা বুঝিতে না পারি।
জ্ঞানদাস কহে নিছনি লৈয়া মরি॥
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৪র্থ তরঙ্গ, ৭ম উচ্ছ্বাস, বিরহ-এর ২০৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ সুহই॥
সহচর-অঙ্গে গোরা অঙ্গ হেলাইয়া।
চলিতে না পারে খেনে পড়ে মুরছিয়া॥
অতি দুরবল দেহ ধরণে না যায়।
ক্ষিতিতলে পড়ি সহচর মুখ চায়॥
কোথায় পরাণনাথ বলি খেনে কাঁদে।
পুরুব বিরহ জ্বরে থির নাহি বান্ধে॥
কেনে হেন হৈল গোরা বুঝিতে না পারি।
জ্ঞনদাস কহে নিছনি লৈয়া মরি॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীগৌরচন্দ্র
॥ সুহই॥
সহচর অঙ্গে গৌর অঙ্গ হেলাইয়া।
চলিতে না পারে খেণে পড়ে মূরছিয়া॥
অতি দুরবল দেহ ধরণে না যায়।
ক্ষিতিতলে পড়ি সহচর মুখ চায়॥
কোথায় পরাণ নাথ বলি খেণে কান্দে।
পূরব বিরহ জ্বরে থির নাহি বান্ধে॥
কেনে হেন হৈল গোরা বুঝিতে না পারি।
জ্ঞানদাস কহে নিছনি লৈয়া মরি॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, প্রবাস, ২৪৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সহচর অঙ্গে গৌর অঙ্গ হেলাইয়া।
চলিতে না পারে খেনে পড়ে মুরছিয়া॥
অতি দুরবল দেহ ধরণে না যায়।
ক্ষিতিতলে পড়ি সহচর মুখে চায়॥
কোথায় পরাণ নাথ বলি খেনে কান্দে।
পূরব বিরহ জ্বরে থির নাহি বান্ধে॥
কেনে হেন হৈল গোরা বুঝিতে না পারি।
জ্ঞানদাস কহে নিছনি লৈয়া মরি॥
টীকা ---
শ্রীকৃষ্ণের বিরহ-ভাবের আবেগে শ্রীগৌরাঙ্গের দেহ অত্যন্ত দুর্ব্বল হইয়া পড়িয়াছে। তাই তিনি সহচরের অঙ্গে অঙ্গ হেলাইয়া চলিতে যাইতেছেন। কিন্তু চলিতে না পারিয়া ক্ষণে ক্ষণে মূর্চ্ছিত হইয়া পড়িতেছেন। আবার সংজ্ঞা লাভ করিয়া সহচরের মুখের প্রতি চাহিতেছেন।
মন্তব্য ---
প্রত্যক্ষদর্শী কবিরা সহচরদের নাম করিয়াছেন। জ্ঞানদাস নিজের চোখে গৌরাঙ্গলীলা যে দেখেন নাই তাহার প্রমাণ কোন সহচরের নাম উল্লেখ না করা হইতে পাওয়া যায়।
এই পদটি ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে (১৯৪১ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, চাঁদপুর ও মেছড়া স্কুলের ভূতপূর্ব্ব হেডমাস্টার মহাশয় হরিলাল চট্টোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্নমালা” ৪র্থ সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৩২৩ বঙ্গাব্দ বা ১৯১৬ খৃষ্টাব্দ) গ্রন্থের ৪২৭ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
মাথুর
তানব-দশা।
তস্য গৌরচন্দ্র।
॥ সুহই॥
সহচর সঙ্গে গোরা অঙ্গ হেলাইয়া।
চলিতে না পারে খেনে পড়ে মুরছিয়া॥
অতি দুরবল দেহ ধরণে না যায়।
ক্ষিতিতলে পড়ি সহচর মুখে চায়॥
কোথায় পরাণ নাথ বলি খেনে কান্দে।
পূরব বিরহ জ্বরে থির নাহি বান্ধে॥
কেনে হেন হৈল গোরা বুঝিতে না পারি।
জ্ঞানদাস কহে নিছনি লৈয়া মরি॥
এই পদটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত, খগেন্দ্রনাথ মিত্র, সুকুমার সেন, বিশ্বপতি চৌধুরী ও শ্যামাপদ চৌধুরী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী (চয়ন)”, ৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
গৌরাঙ্গ-বিষয়ক
সহচর সঙ্গে গোরা অঙ্গ হেলাইয়া।
চলিতে না পারে খেণে পড়ে মুরছিয়া॥
অতি দুরবল দেহ ধরণে না যায়।
ক্ষিতিতলে পড়ি সহচর-মুখ চায়॥
কোথায় পরাণনাথ বলি খেণে কান্দে।
পূরব বিরহ-জ্বরে থির নাহি বান্ধে॥
কেনে হেন হৈল গোরা বুঝিতে না পারি।
জ্ঞানদাস কহে নিছনি লৈয়া মরি॥
এই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ৪র্থ খণ্ড এর ২১৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। গ্রন্থটি আমাদের দিয়েছিলেন রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্রর দৌহিত্রী শ্রীমতী মঞ্জু মিত্র, ৫.১.২০১৮ তারিখে।
পুনশ্চ শ্রীগৌরচন্দ্র
॥ সুহই - একতালা॥
সহচর অঙ্গে গোরা অঙ্গ হেলাইয়া।
চলিতে না পারে খেনে পড়ে মূরছিয়া॥
অতি দুরবল দেহ ধরণে না যায়।
ক্ষিতিতলে পড়ি সহচর মুখে চায়॥
কোথায় পরাণনাথ বলি খেনে কান্দে।
পূরব বিরহ জ্বরে থির নাহি বান্ধে॥
কেনে হেন হইল গোরা বুঝিতে না পারি।
জ্ঞানদাস কহে নিছনি লইয়া মরি॥
এই পদটি ১৯৭৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পরিষদ দ্বারা প্রকাশিত, ডঃ দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদসঙ্কলন" গ্রন্থের এর ২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
গৌরাঙ্গ পদাবলী
সহচর অঙ্গে গৌর অঙ্গ হেলাইয়া।
চলিতে না পারে খেনে পড়ে মুরছিয়া॥
অতি দুরবল দেহ ধরণে না যায়।
ক্ষিতিতলে পড়ি সহচর মুখ চায়॥
কোথায় পরাণনাথ বলি খেনে কান্দে।
পূরব বিরহ-জ্বরে থির নাহি বান্ধে॥
কেনে হেন হৈল গোরা বুঝিতে না পারি।
জ্ঞানদাস কহে নিছনি লৈয়া মরি॥
টীকা---
পদটিতে গৌরাঙ্গের রাধাভাব বর্ণিত। এটি "ব্যাধি" অবস্থাক গৌর-চন্দ্রিকা।
*********************
তত্র শ্রীগৌরচন্দ্রো যথা।
॥ সুহই॥
সহচর-অঙ্গে গোরা অঙ্গ হেলাইয়া।
চলিতে না পারে খেণে পড়ে মূরছিয়া॥
অতি দুরবল দেহ ধরণে না যায়।
ক্ষিতি-তলে পড়ি সহচর-মুখ চায়॥
কোথায় পরাণ-নাথ বলি খেণে কান্দে।
পুরব বিরহ-জ্বরে থির নাহি বান্ধে॥
কেনে হেন হৈল গোরা বুঝিতে না পারি।
জ্ঞানদাস কহে নিছনি লৈয়া মরি॥
এই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতী বাংলা-পুথিশালার "রতন লাইব্রেরী সংগ্রহ"-র অন্তর্ভুক্ত ও সংরক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ” পুথির ১৯৮২ সালে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত এবং তপনকুমার মুখোপাধ্যায়, অণিমা মুখোপাধ্যায় ও পরমেশ্বর মাহাতা দ্বারা সহ-সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন গ্রন্থের ৪২৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ অথ তানবং তদুচিত মহাপ্রভু॥
॥ রাগিণী তালোচিত॥
সহচর অঙ্গে গোরা অঙ্গ হেলাইয়া। চলিতে না পারে খেনে পড়ে মূরছিয়া॥
অতি দুরবল দেহ ধরণে না জায়। ক্ষিতিতলে পড়ি সহচর মুখ চায়॥
কোথায় পরাণনাথ বলি খেনে কান্দে। পুরূব বিরহজ্বরে থীর নাহি বান্ধে॥
কেনে হেন হইল গোরা বুঝিতে না পারি। জ্ঞানদাস কহই নিছনি লয়ে মরি॥
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ২৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীগৌরচন্দ্র
॥ সুহই॥
সহচর অঙ্গে গৌর অঙ্গ হেলাইয়া।
চলিতে না পারে খেনে পড়ে মূরছিয়া॥
অতি দুরবল দেহ ধরণে না যায়।
ক্ষিতিতলে পড়ি সহচর মুখ চায়॥
কোথায় পরাণ নাথ বলি খেনে কান্দে।
পূরব বিরহ জ্বরে থির নাহি বান্ধে॥
কেনে হেন হৈল গোরা বুঝিতে না পারি।
জ্ঞানদাস কহে নিছনি লৈয়া মরি॥
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৪র্থ তরঙ্গ, ৭ম উচ্ছ্বাস, বিরহ-এর ২০৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ সুহই॥
সহচর-অঙ্গে গোরা অঙ্গ হেলাইয়া।
চলিতে না পারে খেনে পড়ে মুরছিয়া॥
অতি দুরবল দেহ ধরণে না যায়।
ক্ষিতিতলে পড়ি সহচর মুখ চায়॥
কোথায় পরাণনাথ বলি খেনে কাঁদে।
পুরুব বিরহ জ্বরে থির নাহি বান্ধে॥
কেনে হেন হৈল গোরা বুঝিতে না পারি।
জ্ঞনদাস কহে নিছনি লৈয়া মরি॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীগৌরচন্দ্র
॥ সুহই॥
সহচর অঙ্গে গৌর অঙ্গ হেলাইয়া।
চলিতে না পারে খেণে পড়ে মূরছিয়া॥
অতি দুরবল দেহ ধরণে না যায়।
ক্ষিতিতলে পড়ি সহচর মুখ চায়॥
কোথায় পরাণ নাথ বলি খেণে কান্দে।
পূরব বিরহ জ্বরে থির নাহি বান্ধে॥
কেনে হেন হৈল গোরা বুঝিতে না পারি।
জ্ঞানদাস কহে নিছনি লৈয়া মরি॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, প্রবাস, ২৪৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সহচর অঙ্গে গৌর অঙ্গ হেলাইয়া।
চলিতে না পারে খেনে পড়ে মুরছিয়া॥
অতি দুরবল দেহ ধরণে না যায়।
ক্ষিতিতলে পড়ি সহচর মুখে চায়॥
কোথায় পরাণ নাথ বলি খেনে কান্দে।
পূরব বিরহ জ্বরে থির নাহি বান্ধে॥
কেনে হেন হৈল গোরা বুঝিতে না পারি।
জ্ঞানদাস কহে নিছনি লৈয়া মরি॥
টীকা ---
শ্রীকৃষ্ণের বিরহ-ভাবের আবেগে শ্রীগৌরাঙ্গের দেহ অত্যন্ত দুর্ব্বল হইয়া পড়িয়াছে। তাই তিনি সহচরের অঙ্গে অঙ্গ হেলাইয়া চলিতে যাইতেছেন। কিন্তু চলিতে না পারিয়া ক্ষণে ক্ষণে মূর্চ্ছিত হইয়া পড়িতেছেন। আবার সংজ্ঞা লাভ করিয়া সহচরের মুখের প্রতি চাহিতেছেন।
মন্তব্য ---
প্রত্যক্ষদর্শী কবিরা সহচরদের নাম করিয়াছেন। জ্ঞানদাস নিজের চোখে গৌরাঙ্গলীলা যে দেখেন নাই তাহার প্রমাণ কোন সহচরের নাম উল্লেখ না করা হইতে পাওয়া যায়।
এই পদটি ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে (১৯৪১ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, চাঁদপুর ও মেছড়া স্কুলের ভূতপূর্ব্ব হেডমাস্টার মহাশয় হরিলাল চট্টোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্নমালা” ৪র্থ সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৩২৩ বঙ্গাব্দ বা ১৯১৬ খৃষ্টাব্দ) গ্রন্থের ৪২৭ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
মাথুর
তানব-দশা।
তস্য গৌরচন্দ্র।
॥ সুহই॥
সহচর সঙ্গে গোরা অঙ্গ হেলাইয়া।
চলিতে না পারে খেনে পড়ে মুরছিয়া॥
অতি দুরবল দেহ ধরণে না যায়।
ক্ষিতিতলে পড়ি সহচর মুখে চায়॥
কোথায় পরাণ নাথ বলি খেনে কান্দে।
পূরব বিরহ জ্বরে থির নাহি বান্ধে॥
কেনে হেন হৈল গোরা বুঝিতে না পারি।
জ্ঞানদাস কহে নিছনি লৈয়া মরি॥
এই পদটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত, খগেন্দ্রনাথ মিত্র, সুকুমার সেন, বিশ্বপতি চৌধুরী ও শ্যামাপদ চৌধুরী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী (চয়ন)”, ৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
গৌরাঙ্গ-বিষয়ক
সহচর সঙ্গে গোরা অঙ্গ হেলাইয়া।
চলিতে না পারে খেণে পড়ে মুরছিয়া॥
অতি দুরবল দেহ ধরণে না যায়।
ক্ষিতিতলে পড়ি সহচর-মুখ চায়॥
কোথায় পরাণনাথ বলি খেণে কান্দে।
পূরব বিরহ-জ্বরে থির নাহি বান্ধে॥
কেনে হেন হৈল গোরা বুঝিতে না পারি।
জ্ঞানদাস কহে নিছনি লৈয়া মরি॥
এই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ৪র্থ খণ্ড এর ২১৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। গ্রন্থটি আমাদের দিয়েছিলেন রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্রর দৌহিত্রী শ্রীমতী মঞ্জু মিত্র, ৫.১.২০১৮ তারিখে।
পুনশ্চ শ্রীগৌরচন্দ্র
॥ সুহই - একতালা॥
সহচর অঙ্গে গোরা অঙ্গ হেলাইয়া।
চলিতে না পারে খেনে পড়ে মূরছিয়া॥
অতি দুরবল দেহ ধরণে না যায়।
ক্ষিতিতলে পড়ি সহচর মুখে চায়॥
কোথায় পরাণনাথ বলি খেনে কান্দে।
পূরব বিরহ জ্বরে থির নাহি বান্ধে॥
কেনে হেন হইল গোরা বুঝিতে না পারি।
জ্ঞানদাস কহে নিছনি লইয়া মরি॥
এই পদটি ১৯৭৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পরিষদ দ্বারা প্রকাশিত, ডঃ দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদসঙ্কলন" গ্রন্থের এর ২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
গৌরাঙ্গ পদাবলী
সহচর অঙ্গে গৌর অঙ্গ হেলাইয়া।
চলিতে না পারে খেনে পড়ে মুরছিয়া॥
অতি দুরবল দেহ ধরণে না যায়।
ক্ষিতিতলে পড়ি সহচর মুখ চায়॥
কোথায় পরাণনাথ বলি খেনে কান্দে।
পূরব বিরহ-জ্বরে থির নাহি বান্ধে॥
কেনে হেন হৈল গোরা বুঝিতে না পারি।
জ্ঞানদাস কহে নিছনি লৈয়া মরি॥
টীকা---
পদটিতে গৌরাঙ্গের রাধাভাব বর্ণিত। এটি "ব্যাধি" অবস্থাক গৌর-চন্দ্রিকা।
*********************
