কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
আজু পরভাতে কাক কলকলি
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের ( ১৯২৩ সাল ) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১২শ পল্লব, ভাবোল্লাস, ১৯৭৭ নং পদসংখ্যা, ১৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

আজু পরভাতে     কাক-কলকলি
আহার বাঁটিয়া খায়।
বন্ধু আসিবার     নাম সোধাইতে
উড়িয়া বৈসয়ে তায়॥
সখি হে কুদিন সুদিন ভেল।
তুরিতে মাধব     মন্দির আওব
কপালি কহিয়া গেল॥
সুচারু বদন     দেখিলুঁ স্বপন
গিরির উপরে শশী।
মালতীর মালা     দধির ডালা
নিকটে মিলিল আসি॥
গণক আনিয়া     পুন গণাইলুঁ
সুদশা কহিল মোরে।
অন্তরে বাহিরে     যতেক গণিল
সুখের নাহিক ওরে॥
মোর একাদশ     গৃহে বৈসে পাঁচ
সপ্তমে বৈসয়ে গুরু।
ভৃগু-ভানু-সুত     দ্বিতীয়ে বৈসয়ে
প্রভাতে শিখি বিচারু॥
দেয়াশিনী আনি     দেব আরাধিলুঁ
পড়িল মাথার ফুল।
বন্ধুর নামে     আগ তোলাইলুঁ
কোলে মিলাওল কূল॥
কুল-পুরোহিত     আশীষ করিল
সুপতি মিলিবে পাশে।
তোর দুরদিন     সব দূর গেল
কহই সে জ্ঞানদাসে॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতী বাংলা-পুথিশালার "রতন লাইব্রেরী সংগ্রহ"-র অন্তর্ভুক্ত ও সংরক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ” পুথির ১৯৮২ সালে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত এবং তপনকুমার মুখোপাধ্যায়, অণিমা মুখোপাধ্যায় ও পরমেশ্বর মাহাতা দ্বারা সহ-সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন গ্রন্থের ৪৩৫ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী সুহই॥ তালোচিত॥

আজু পরভাতে কাক কলকলী আহার বাটীয়া খায়।
বন্ধু আসিবার নাম সুধাইতে উড়িয়া বহিসে তায়॥
সখী হে কুদিনে সুদিন ভেল।
তুরিতে মাধব মন্দিরে আওব কাপালি কহিয়া গেল॥
সুচান্দ বদন দেখিল সপন গিরির উপরে শশী।
মালতীর মালা দধির ডালা নিকটে মিলব আসি॥
গণক আনিয়ে পুনু গুনায়লু সুদশা কহল মোর।
অন্তরে বাহির জতেক গণিল সুখের নাহিক ওর॥
মোর একাসন গ্রহ বৈসে পাচ সপ্তমে বৈসে গুরু।
ভৃগুভানুসুত দ্বিতীয়ে বৈসয়ে প্রভাতে নিরখি চারু॥
দেয়াসিনি আনি দেব আরাধিনু পড়িল মাথার ফুল।
বন্ধুর নামে আগে তোলায়ল কুলে মিলায়ল কুল॥
কুল বরহিত আশিস করত সুপতি মিলিবে পাশে।
তোর দুরদিন সব দূরে গেল কহই সে জ্ঞানদাসে॥

ই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ২৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর
॥ সুহই॥

আজু পরভাতে,     কাক কলকলি,
আহার বাটিয়া খায়।
বন্ধু আসিবার,     নাম সুধাইতে,
উড়িয়া বৈসয়ে তায়॥
সখিহে কুদিন সুদিন ভেল।
তুরিতে মাধব,     মন্দির আওব,
কপালে কহিয়া গেল॥
সুচারু বদন,     দেখিনু স্বপন,
গিরির উপরে শশি।
মালতীর মালা,     দধির ডালা,
নিকটে মিলল আসি॥
গণক আনিয়া,     পুনঃ গুণাইনু,
সুদশা কহিল মোরে।
অন্তরে বাহিরে,     যতেক গণিল,
সুখের নাহিক ওরে॥
মোরে একাদশ,     গৃহে বৈসে পাঁচ,
সপ্তমে বৈসয়ে গুরু।
ভৃগু ভানু সুত,     দ্বিতীয়ে বৈসয়ে,
প্রভাতে শিখি বিচারু॥
দেয়াসিনী আনি,     দেব আরাধিনু,
পড়িল মাথার ফুল।
বন্ধুর নামেতে,     আগ তুলাইনু,
কোলে মিলাওল কূল॥
কুল পুরোহিত,     আশীষ করিল,
সুপতি মিলিবে পাশে।
তোর দুরদিন,     সব দূরে গেল,
কহই সে জ্ঞানদাসে।

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২৫২ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর।
॥ সুহই॥

আজু পরভাতে,     কাক কলকলি,
আহার বাটিয়া খায়।
বন্ধু আসিবার,     নাম সুধাইতে,
উড়িয়া বৈসয়ে তায়॥
সখিহে কুদিন সুদিন ভেল।
তুরিতে মাধব,     মন্দির আওব,
কপালে কহিয়া গেল॥
সুচারু বদন,     দেখিনু স্বপন,
গিরির উপরে শশী।
মালতীর মালা,     দধির ডালা,
নিকটে মিলল আসি॥
গণক আনিয়া,     পুনঃ গুণাইনু,
সুদশা কহিল মোরে।
অন্তরে বাহিরে,     যতেক গণিল,
সুখের নাহিক ওরে॥
মোরে একাদশ,     গৃহে বৈসে পাঁচ,
সপ্তমে বৈসয়ে গুরু।
ভৃগু ভানুসুত,     দ্বিতীয়ে বৈসয়ে,
প্রভাতে শিখি বিচারু॥
দেয়াসিনী আনি,     দেব আরাধিনু,
পড়িল মাথার ফুল।
বন্ধুর নামেতে,     আগ তুলাইনু,
কোলে মিলাওল কূল॥
কুল পুরোহিত,     আশীষ করিল,
সুপতি মিলিবে পাশে।
তোর দুরদিন,     সব দূরে গেল,
কহই সে জ্ঞানদাসে।

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৮১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর।
॥ সুহই ॥

আজু পরভাতে, কাক কলকলি, আহার
বাটিয়া খায়। বন্ধু আসিবার, নাম সুধা-
ইতে, উড়িয়া বৈসয়ে তায়॥ সখিহে কুদিন
সুদিন ভেল। তুরিতে মাধব, মন্দির আওব,
কপালে কহিয়া গেল॥ সুচারু বদন, দেখিনু
স্বপন, গিরির উপরে শশী। মালতীর মালা,
দধির ডালা, নিকটে মিলল আসি॥ গণক
আনিয়া, পুনঃ গুণাইনু, সুদশা কহিল
মোরে। অন্তরে বাহিরে, যতেক গণিল,
সুখের নাহিক ওরে॥ মোরে একাদশ,
গৃহে বৈসে পাঁচ, সপ্তমে বৈসয়ে গুরু।
ভৃগু ভানুসুত, দ্বিতীয়ে বৈসয়ে, প্রভাতে
শিখি বিচারু॥ দেয়াসিনী আনি, দেব
আরাধিনু, পড়িল মাথার ফুল। বন্ধুর
নামেতে, আগ তুলাইনু, কোলে মিলাওল
কূল॥ কুল-পুরোহিত, আশীস করিল,
সুপতি মিলিবে পাশে। তোর দুরদিন,
সব দূরে গেল, কহই সে জ্ঞানদাসে।

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই ॥

আজু পরভাতে,     কাক কলকলি,
আহার বাঁটিয়া খায়।
বন্ধু আসিবার,     নাম সুধাইতে,
উড়িয়া বৈসয়ে তায়॥
সখিহে, কুদিন সুদিন ভেল।
তুরিতে মাধব,     মন্দির আওব,
কপালে কহিয়া গেল॥
সুচারু বদন,     দেখিনু স্বপন,
গিরিবর উপরে শশী।
মালতীর মালা,     দধির ডালা,
নিকটে মিলল আসি॥
গণক আনিয়া,     পুন গুণাইনু,
সুদশা কহিল মোরে।
অন্তরে বাহিরে,     যতেক গণিল,
সুখের নাহিক ওরে॥
মোরে একাদশ,     গৃহে বৈসে পাঁচ,
সপ্তমে বৈসয়ে গুরু।
ভৃগু ভানু সুত,     দ্বিতীয়ে বৈসয়ে,
প্রভাতে শিখি বিচারু॥
দেয়ালিনী আনি,     দেব আরাধিনু,
পড়িল মাথার ফুল।
বন্ধু নামেতে,     আগ তুলাইতে,
কোলে মিলাওল কূল॥
কুল পুরোহিত,     আশীষ করিল,
সুপতি মিলিবে পাশে।
তোর দুরদিন,     সব দূরে গেল,
কহইছে জ্ঞানদাসে।

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, সন্দিগ্ধ, ২৮৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আজু পরভাতে     কাক-কলকলি
আহার বাঁটিয়া খায়।
বন্ধু আসিবার     নাম শোধাইতে
উড়িয়ে বৈসয়ে তায়॥
সখি হে কুদিন সুদিন ভেল।
তুরিতে মাধব     মন্দির আওব
কপালি কহিয়া গেল॥
সুচারু বদন     দেখিলুঁ স্বপন
গিরির উপরে শশী।
মালতীর মালা     দধির ডালা
নিকটে মিলিল আসি॥
গণক আনিয়া     পুন গণাইলুঁ
সুদশা কহিল মোরে।
অন্তরে বাহিরে     যতেক গণিল
সুখের নাহিক ওরে॥
মোর একাদশ     গৃহে বৈসে পাঁচ
সপ্তমে বৈসয়ে গুরু।
ভৃগু ভানু-সুত     দ্বিতীয়ে বৈসয়ে
প্রভাতে শিখি বিচারু॥
দেয়াশিনী আনি     দেব আরাধিলুঁ
পড়িল মাথার ফুল।
বন্ধুর নামে     আগ তোলাইলুঁ
কোলে মিলাওল কূল॥
কূল-পুরোহিত     আশীষ করিল
সুপতি মিলিবে পাশে।
তোর দুরদিন     সব দূর গেল
কহই সে জ্ঞানদাসে॥

টীকা ---
কপালি --- কপাল দেখিয়া যাহারা ভাগ্য গণনা করে।
মোর একাদশ গৃহে ইত্যাদি --- আমার জন্মরাশি হইতে গণনায় একাদশ গৃহে অর্থাত্ লাভের স্থানে পাঁচটি গ্রহ ( রবি, চন্দ্র, মঙ্গল, বুধ, ও রাহু ) অবস্থান করিতেছে। গুরু বা বৃহস্পতি সপ্তম গৃহে এবং ভৃগু বা শুক্র, ভানুর পুত্র বা শনি, ও শিখী বা কেতু দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করিতেছে ইহা প্রভাতে বিচার করিয়া দেখিলাম।
দেয়াশিনী --- দেব আরাধনা করিয়া যে রমণী সিদ্ধিলাভ করিয়াছেন।
বন্ধুর নামে আগ তোলাইলুঁ --- বন্ধুর নাম করিয়া অর্থাত্ তাঁহার মঙ্গলের জন্য বান্ধা ভোলাইলাম।
কোলে মিলাওল কূল --- বিপদসমুদ্রের কূলে অর্থাত্ পরপারে কোলে করিয়া পৌঁছাইয়া দিল।

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৫৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর।
॥ সুহই॥

আজু পরভাতে     কাক কলকলি
আহার বাঁটিয়া খায়।
বন্ধু আসিবার     নাম সুধাইতে
উঠিয়া বৈশয়ে তায়॥
সখিহে, কুদিন সুদিন ভেল।
তুরিতে মাধব     মন্দির আওব
কপালে কহিয়া গেল॥
সুচারু বদন     দেখিনু স্বপন
গিরিবর উপরে শশী।
মালতীর মালা     দধির ডালা
নিকটে মিলিল আসি॥
গণক আনিয়া     পুন গুণাইনু
সুদশা কহিল মোরে।
অন্তরে বাহিরে     যতেক গণিল
সুখের নাহিক ওরে॥
মোরে একাদশ     গৃহে বৈসে পাঁচ
সপ্তমে বৈসয়ে গুরু।
ভৃগু ভানু সুত     দ্বিতীয়ে বৈসয়ে
প্রভাতে শিখি বিচারু॥
দোয়ালিনী আনি     দেব আরাধিনু
পড়িল মাথার ফুল।
বন্ধুর নামেতে     আগ তুলাইতে
কোলে মিলাওল কুল॥
কুল পুরোহিত     আশীষ করিল
সুপতি মিলিবে পাশে।
ভোর দুরদিন     সব দূর গেল
কহইছে জ্ঞানদাসে॥

ই পদটি ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে (১৯৪১ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, চাঁদপুর ও মেছড়া স্কুলের ভূতপূর্ব্ব হেডমাস্টার মহাশয় হরিলাল চট্টোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্নমালা” ৪র্থ সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৩২৩ বঙ্গাব্দ বা ১৯১৬ খৃষ্টাব্দ) গ্রন্থের ৪৫৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

ভাব সম্মিলন।
॥ সুহই॥

আজু পরভাতে     কাক কলকলি
আহার বাটিয়া খায়।
বন্ধু আসিবার     নাম সুধাইতে
উঠিয়া বৈসয়ে তায়॥
সখিহে কুদিন সুদিন ভেল।
তুরিতে মাধব     মন্দিরে আওব
কপালে কহিয়া গেল॥
সুচারু বদন     দেখিনু স্বপনে
গিরির উপরে শশী।
মালতীর মালা     দধির ডালা
নিকটে মিলিল আসি॥
গণক আনিয়া     পুনঃ গণাইনু
সুদশা কহিল মো রে।
অন্তরে বাহিরে     যতেক গণিল
সুখের নাহিক ওরে॥
মোর একাদশ     গৃহে বৈসে পাঁচ
সপ্তমে বৈসয়ে গুরু।
ভৃগু ভানুসুত     দ্বিতীয়ে বৈসয়ে
প্রভাতে লিখি বিচারু॥
দেয়াশিনী আনি     দেব আরাধিনু
পড়িল মাথার ফুলে।
বন্ধুর নামেতে     আগ তোলাইনু
কুলে মিলাওল কুল॥
কুল পুরোহিত     আশীষ করিল
সুপতি মিলিবে পাশে।
তোর দুরদিন     সব দূর গেল
কহইছে জ্ঞানদাসে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, শ্রীগৌরচন্দ্র, ৪৫২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

ভাবোল্লাস
॥ সুহই॥

আজু পরভাতে     কাক কলকলি
আহার বাঁটিয়া খায়।
বন্ধু আসিবার     নাম সোধাইতে
উড়িয়া বৈঠল ঠায়॥
সখি হে কুদিন সুদিন ভেল।
তুরিতে মাধব     মন্দির আওব
কপালি কহিয়া গেল॥
সুচারু বদন     দেখিলুঁ স্বপন
গিরির উপরে শশী।
মালতীর মালা     দধির ডালা
নিকটে মিলিল আসি॥
গণক আনিয়া     পুন গণাইলুঁ
সুদশা কহিল মোরে।
অন্তরে বাহিরে     যতেক গণিল
সুখের নাহিক ওরে॥
মোর একাদশ     গৃহে বৈসে পাঁচ
সপ্তমে বৈসয়ে গুরু।
ভৃগু ভানুসুত     শিখি সে দ্বিতীয়ে
বৈসয়ে দেখি বিচারু॥
দেয়াসিনী আনি     দেব আরাধিলুঁ
পড়িল মাথায় ফুল।
বন্ধুর নামে     আগ তোলাইলুঁ
কোলে মিলাওল কূল॥
কুল-পুরোহিত     আশীস্ করিল
সুপতি মিলিবে পাশে।
তোর দুরদিন     সব দূর গেল
কহই সে জ্ঞানদাসে॥

ই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ৪র্থ খণ্ড এর ১৮১ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। গ্রন্থটি আমাদের দিয়েছিলেন রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্রর দৌহিত্রী শ্রীমতী মঞ্জু মিত্র, ৫.১.২০১৮ তারিখে।

॥ সুহই বিভাস - একতালা॥

আজু পরভাতে,     কাক কলকলি,
আহার বাঁটিয়া খায়।
বন্ধু আসিবার,     কথা সুধাইতে,
উড়িয়া বৈসয়ে তায়॥
সখী হে কুদিন সুদিন ভেল।
তুরিতে মাধব,     মন্দিরে আয়ব,
কপালি কহিয়া গেল॥
সুচারু বদন,     দেখিল স্বপন,
গিরির উপরে শশী।
মালতীর মালা,     দধির ডালা,
নিকটে মিলল আসি॥
গণক আনিয়া,     পুন গণাইলুঁ,
সুদশা কহিল মোর।
অন্তরে বাহিরে,     যতেক কহিল,
সুখের নাহিক ওর॥
মোরে একাদশ,     গৃহে বৈসে পাঁচ,
সপ্তমে বৈসয়ে গুরু।
ভৃগু ভানু সুত,     দ্বিতীয়ে বৈসয়ে,
প্রভাতে শিখি বিচারু॥
দেয়াশিনী আনি,     দেব আরাধিলুঁ,
পড়িল মাথার ফুল।
বঁধুর নামেতে,     আঁক তোলাইলুঁ,
কুলে মিলাওল কূল॥
কুল পুরোহিত,     আশিস করিল,
সুপতি মিলিবে পাশে।
তোর দুরদিন,     সব দূরে গেল,
কহই সে জ্ঞান দাসে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ২৯২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর
॥ সুহই॥

আজু পরভাতে     কাক-কলকলি
আহার বাঁটিয়া খায়।
বন্ধু আসিবার     নাম সোধাইতে
উড়িয়া বৈঠল ঠায়॥
সখি হে কুদিন সুদিন ভেল।
তুরিতে মাধব     মন্দির আওব
কপালি কহিয়া গেল॥
সুচারু সদন     দেখিলুঁ স্বপন
গিরির উপরে শশী।
মালতীর মালা     দধির ডালা
নিকটে মিলিল আসি॥
গণক আনিয়া     পুন গণাইলুঁ
সুদশা কহিল মোরে।
অন্তরে বাহিরে     যতেক গণিল
সুখের নাহিক ওরে॥
মোর একাদশ     গৃহে বৈসে পাঁচ
সপ্তমে বৈসয়ে গুরু।
ভৃগু-ভানু-সুত     শিখি সে দ্বিতীয়ে
বৈসয়ে দেখি বিচারু॥
দেয়াশিনী আনি     দেব আরাধিলুঁ
পড়িল মাথায় ফুল।
বন্ধুর নামে     আগ তোলাইলুঁ
কোলে মিলাওল কূল॥
কুল-পুরোহিত     আশীষ করিল
সুপতি মিলিবে পাশে।
তোর দুরদিন     সব দূর গেল
কহই সে জ্ঞানদাসে॥

ই পদটি ১৩৬৮ বঙ্গাব্দে (১৯৬১ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত, এবং পূর্ণেন্দুশেখর পত্রী দ্বারা সজ্জিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদরত্নাবলী” ১ম সংস্করণের ২৩৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

আজু পরভাতে     কাক কলকলি
আহার বাঁটিয়া খায়।
বন্ধু আসিবার     নাম শোধাইতে
উড়িয়া বৈঠল তায়॥
সখি হে কুদিন সুদিন ভেল।
তুরিতে মাধব     মন্দির আওব
কপালি কহিয়া গেল॥
সুচারু বদন     দেখিলুঁ স্বপন
গিরির উপরে শশী।
মালতীর মালা     দধির ডালা
নিকটে মিলিল আসি॥
গণক আনিয়া     পুন গণাইলুঁ
সুদশা কহিল মোরে।
অন্তরে বাহিরে     যতেক গণিল
সুখের নাহিক ওরে॥
মোর একাদশ     গৃহে বৈসে পাঁচ
সপ্তমে বৈসয়ে গুরু।
ভৃগু-ভানু-সুত     শিখি সে দ্বিতীয়ে
বৈসয়ে দেখি বিচারু॥
দেয়াসিনী আনি     দেব আরাধিলুঁ
পড়িল মাথায় ফুল।
বন্ধুর নামে     আগ তোলাইলুঁ
কোলে মিলাওল কূল॥
কুল-পুরোহিত     আশিস করিল
সুপতি মিলিবে পাশে।
তোর দুরদিন     সব দূর গেল
কহই সে জ্ঞানদাসে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৫৯৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আজু পরভাতে কাক কলকলি
      আহার বাঁটিয়া খায়।
বন্ধু আসিবার নাম শোধাইতে
      উড়িয়া বৈঠল ঠায়॥
সখি হে কুদিন সুদিন ভেল।
তুরিতে মাধব মন্দির আওব
      কপালি কহিয়া গেল॥
সুচারু বদন দেখিলুঁ স্বপন
      গিরির উপরে শশী।
মালতীর মালা দধির ডালা
      নিকটে মিলিল আসি॥
গণক আনিয়া পুন গণাইলুঁ
      সুদশা কহিল মোরে।
অন্তরে বাহিরে যতেক গণিল
      সুখের নাহিক ওরে॥
মোর একাদশ গৃহে বৈসে পাঁচ
      সপ্তমে বৈসয়ে গুরু।
ভৃগু ভানুসুত শিখি সে দ্বিতীয়ে
      বৈসয়ে দেখি বিচারু॥
দেয়াসিনী আনি দেব আরাধিলুঁ
      পড়িল মাথায় ফুল।
বন্ধুর নামে আগ তোলাইলুঁ
      কোলে মিলাওল কুল॥
কুল পুরোহিত আশিস্ করিল
      সুপতি মিলিবে পাশে।
তোর দুরদিন সব দূর গেল
      কহই সে জ্ঞানদাসে॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^