কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
সুবলিত বলিত ললিত পুলকায়িত
সুবলন বলিত ললিত পুলকায়িত

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১৭শ পল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি লীলা, ২০৬১ নং পদসংখ্যা, ২০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বেলোয়ার॥

সুবলিত বলিত ললিত পুলকায়িত
      মুরতি পিতিতিময় @ কাঞ্চন-কাঁতি।
শারদ-চাঁদ ছাঁদ-মুখ-মণ্ডল
      লীলা-গতি রতি-পতিকো ভাতি॥
      গৌর মোহনিয়া বনি নাচে।
অরুণ চরণে মণি-মঞ্জির রঞ্জিত
      অঙ্গে অঙ্গে কত কাচনি কাচে॥ ধ্রু॥
গদগদ ভাষ হাস রসে রোয়ত
      অরুণ নয়নে কত ঢরকত লোর।
নটন-রঙ্গে কত অঙ্গ-বিভঙ্গিম
      আনন্দে মগন সঘনে হরি বোল॥
বনি মনমাল লাল উর-উপর
      কনয়াশিখরে কিরণাবলি-ভাতি।
জ্ঞানদাস-আস ওই অহনিশি
      গাওই গোরাগুণ ইহ দিনরাতি॥

@ - পিতিতিময় - সম্ভবত পিরীতিময় হবে, মুদ্রণপ্রমাদ।

ই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ২৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীনিত্যানন্দচন্দ্র
॥ বেলোয়ার॥

সুবলিত বলিত,     ললিত পুলকায়িত,
মূরতি পিরীতিময় কাঞ্চন কাঁতি।
শারদ চাঁদ ছাঁদ         মুখমণ্ডল,
লীলা গতি রতিপতি কো ভাঁতি॥
গৌর মোহনিয়া বলি নাচে।
অরুণ চরণে,     মণি মঞ্জীর রঞ্জিত,
অঙ্গে ভঙ্গে কত কাঁচনি কাঁচে॥ ধ্রু।
গদ গদ ভাষ,     হাস রসে রোয়ত,
অরুণ নয়ানে কত ঢরকত লোর।
নটন রঙ্গে,     কত রঙ্গ বিভঙ্গিম,
আনন্দে মগন সঘনে হরিবোল॥
বনি বনমাল,     উর উপর
কনয়া শিখরে কিরণাবলি ভাঁতি।
জ্ঞানদাস আশই,     অহনিশি গাওই,
গৌর গুণ ইহ দিন রাতি॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩য় তরঙ্গ, ১ম উচ্ছ্বাস, রূপ-এর ১০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বেলোয়ার ॥

সুবলিত বলিত ললিত পুলকাইত
      যুবতী পীরিতিময় কাঞ্চন-কাঁতি।
শরদচাঁদ চাঁদ মুখমণ্ডল,
      লীলাগতি রতিপতিক ভাতি॥
গৌর মোহনিয়া বলি নাচে।
অরুণ চরণে মণিমঞ্জীর রঞ্জিত,
      @@@ কত কাঁচলি কাচে॥ ধ্রু॥
গদ গদ @@ হাস রসে রোয়ত,
      অরুণ নয়নে কত ঢরকত নোর।
নটন রঙ্গে কত অঙ্গ বিভিঙ্গিম
      আনন্দে মগন ঘন হরি বোল॥
বনি বনমাল লাল উর পর,
      কনয়াশিখরে কিরণাবলী ভাতি।
জ্ঞান দাস আশ অই অহর্নিশি
      গাওই, গৌরগুণ ইহা দিন রাতি॥

@@ - অপাঠ্য অক্ষর।

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীনিত্যানন্দচন্দ্র
॥ বেলোয়ার॥

সুবলিত বলিত,     ললিত পুলকাইত,
মুরতি পিরীতিময় কাঞ্চন কাঁতি।
শারদ চাঁদ ছাঁদ         মুখমণ্ডল,
লীলা গতি রতিপতি কো ভাঁতি॥
গৌর মোহনিয়া বলি নাচে।
অরুণ চরণে,     মণি মঞ্জীর রঞ্জিত,
অঙ্গে ভঙ্গে কত কাঁচনি কাঁচে॥ ধ্রু
গদ গদ ভাষ,     হাস রসে রোয়ত,
অরুণ নয়ানে কত ঢরকত লোর।
নটন রঙ্গে,     কত রঙ্গ বিভঙ্গিম,
আনন্দে মগন সঘনে হরিবোল॥
বনি বনমাল,     ঊর উপর,
কনয়া শিখরে কিরণাবলি ভাঁতি।
জ্ঞানদাস আশই,     অহনিশি গাওই,
গৌর গুণ ইহ দিন রাতি॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, বিদ্যাপতির অনুসরণে জ্ঞানদাস, ৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সুবলিত বলিত ললিত পুলকায়িত
 মুরতি পিরিতিময় কাঞ্চন-কাঁতি।
শারদ-চাঁদ ছাঁদ-মুখ-মণ্ডল
 লীলা-গতি রতি-পতিকো ভাতি॥
 গৌর মোহনিয়া বনি নাচে।
অরুণ চরণে মণি-মঞ্জির রঞ্জিত
 অঙ্গে অঙ্গে কত কাচনি কাচে॥ ধ্রু॥
গদগদ ভাষ হাস রসে রোয়ত
 অরুণ নয়নে কত ঢরকত লোর।
নটন-রঙ্গে কত অঙ্গ-বিভঙ্গিম
 আনন্দে মগন সঘনে হরি বোল॥
বনি বনমাল লাল উর-উপর
 কনয়া শিখরে কিরণাবলি-ভাতি।
জ্ঞানদাস-আশ ওই অহনিশি
 গাওই গোরাগুণ ইহ দিনরাতি॥

টীকা ---
শ্রীগৌরাঙ্গের মূর্ত্তি সুগঠিত (সুবলিত), সুন্দর, আনদময় (পুলকায়িত), প্রেমময়, এবং কাঞ্চনের কান্তিযুক্ত (বলিত-যুক্ত)। তাঁহার মুখমণ্ডলের ছাঁদ শরতের চাঁদের মতন, এবং লীলাভরে গমনগতি মদনের ন্যায়। গৌরাঙ্গ মন মোহন বেশে সাজিয়া (বনিয়া) নাচিতেছেন। তাঁহার অরুণবর্ণের চরণে মণিময় নূপুর শোভা পাইতেছে। তিনি প্রতি অঙ্গে কত না সাজই ধরিয়াছেন (কাচনি কাচে)। তিনি ভাবাবেশে গদগদস্বরে কথা বলেন, হাসেন, আবার কি রসে যেন ক্রন্দন করেন, তাঁহার অরুণ নয়নে কত অশ্রুই উছলিয়া পড়ে। নৃত্যের রঙ্গে তাঁহার কত অঙ্গভঙ্গী (অঙ্গ-বিভঙ্গিম) তিনি আনন্দে মগ্ন হইয়া ঘন ঘন হরিবোল বলেন। তাঁহার আরক্ত বক্ষের উপরে বনমালা সাজানো রহিয়াছে, দেখিয়া মনে হয় যেন স্বর্ণের পর্ব্বতের চূড়ায় আলোকমালা শোভা পাইতেছে। জ্ঞানদাস এই দিনরাত্রি আশা করিতেছেন যে, দিনরাত্রি যেন গৌরগুণ গাই।

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, শ্রীগৌরচন্দ্র, ৩৬৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বেলোয়ার॥

সুবলন বলিত     ললিত পুলকায়িত
যুবতী পিরিতিময় কাঞ্চনকাঁতি।
শারদচাঁদ         ফাঁদ মুখমণ্ডল
লীলাগতি রতিপতিক ভাঁতি॥
গৌর মোহনিয়া বনি নাচে।
অরুণ চরণে মনি-     মঞ্জীর রঞ্জিত
অঙ্গে অঙ্গে কত কাচনি কাচে॥ ধ্রু॥
গদ গদ ভাষ     হাস রসে রোয়ত
অরুণ নয়নে কত ঢরকত লোর।
নটন রঙ্গে কত     অঙ্গ বিভঙ্গিম
আনন্দে মগন ঘন হরি বোল॥
বনি বনমাল     লাল উর পর
কনয়াশিখরে কিরণাবলী ভাতি।
জ্ঞানদাস আশ     রহই অহর্নিশ
গাওই গৌরগুণ ইহ দিনরাতি॥

টীকা---
(শ্রীগৌরাঙ্গের) সুবলন বলিত (সুগঠিত) ললিত (লাবণ্যপূর্ণ) পুলকাঞ্চিত যুবতিগণের পিরীতিময় কাঞ্চনকান্তি। শারদচন্দ্রের ফাঁদস্বরূপ মুখমণ্ডল ; লীলায়িত গতি রতিপতির মত। মোহনীয়া গৌরাঙ্গ নাচিতেছেন। অরুণ চরণে রঞ্জিত মণিমঞ্জীর। অঙ্গে অঙ্গে কত সজ্জাই না প্রকাশ করিতেছেন। গদগদ ভাষা ; (ক্ষণে) হাসিতেছেন, (ক্ষণে) রসভরে রোদন করিতেছেন। অরুণ আঁখি যুগলে কত অশ্রু ঝরিতেছে। নৃত্যরঙ্গে কত নানা অঙ্গভঙ্গী করিয়া আনন্দে মগ্ন হইয়া ঘন ঘন হরিবোল বলিতেছেন। শ্রীগৌরাঙ্গের আরক্ত বক্ষে বনমালার শোভা যেন কনকাচলে কিরণাবলীর প্রকাশ। জ্ঞানদাস অহর্নিশ আশা করিয়া রহিয়াছেন, যেন দিবারাত্রি গৌরগুণ গান করিতে পারেন।

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্র
॥ বেলোয়ার॥

সুবলিত বলিত,     ললিত পুলকায়িত,
মুরতি পিরিতিময় কাঞ্চন কাঁতি।
শারদ চাঁদ         ছাঁদ মুখমণ্ডল,
লীলা গতি রতিপতিকো ভাঁতি॥
গৌর মোহনিয়া বনি নাচে।
অরুণ চরণে মণি-মঞ্জির রঞ্জিত
অঙ্গে অঙ্গে কত কাচনি কাচে॥
গদ গদ ভাষ হাস রসে রোয়ত,
অরুণ নয়নে কত ঢরকত লোর।
নটন রঙ্গে কত রঙ্গ বিভঙ্গিম
আনন্দে মগন সঘনে হরি বোল॥
বনি বনমাল লাল উর উপর
কনয়া শিখরে কিরণাবলি ভাতি।
জ্ঞানদাস আশ ওহি নিরবধি
গাওই গোরাগুণ ইহ দিনরাতি॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৬৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সুবলন বলিত ললিত পুলকায়িত
      যুবতী পিরীতিময় কাঞ্চনকাঁতি।
শারদচাঁদ ফাঁদ মুখমণ্ডল
      লীলাগতি রতিপতিক ভাঁতি॥
গৌর মোহনিয়া বনি নাচে।
অরুণ চরণে মণি মঞ্জীর রঞ্জিত
      অঙ্গে অঙ্গে কত কাচনি কাচে॥
গদ গদ ভাষ হাস রসে রোয়ত
      অরুণ নয়নে কত ঢরকত লোর।
নটন রঙ্গে কত অঙ্গ বিভঙ্গিম
      আনন্দে মগন ঘন হরি বোল॥
বনি বনমাল লাল উর পর
      কনয়াশিখরে কিরণাবলী ভাতি।
জ্ঞানদাস আশ রহই অহর্নিশ
      গাওই গৌরগুণ ইহ দিন রাতি॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^