কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
কি মোহন নন্দ কিশোর
কে মোহন নন্দকিশোর

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের ( ১৯২৭ সাল ) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২৯শ পল্লব, শ্রীরাধার রূপ, ২৪৫৬ নং পদসংখ্যা, ২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

কি মোহন নন্দ-কিশোর।
হেরইতে রূপ মদন-মন ভোর॥
অঙ্গহি অঙ্গ তরঙ্গ বিথার।
জলদ-পটল বরিখত রস-ধার॥
মুখে হাসি মিশা বাঁশি বায়।
বমিয়া অমিয়া বিধু জগত মাতায়॥
গলে গজ-মোতিম-মাল।
করিবর-কর কিয়ে বাহু বিশাল॥
কুলবতি পরশ না পাই।
অনুখণ চঞ্চল থির নহ তাই॥
শুনিতে বচন-সুধা খানি।
জ্ঞানদাস আশ করত সোই বাণী॥

ই পদটি বৈশাখ ১২৯২ বঙ্গাব্দে (১৮৮৫ সালে) প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী, অর্থাৎ মহাজন পদাবলীর মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট কবিতাগুলির একত্র সংকলন” এর ৩৭ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ইমন॥

কি মোহন নন্দকিশোর।
হেরইতে রূপ মদন মন ভোর॥
অঙ্গহি অঙ্গ তরঙ্গ বিথার।
জলদ পটল বরিখত রসধার॥
মুখে হাসিমিশা বাঁশী বায়।
রমিয়া অমিয়া বিধু জগৎ মাতায়॥
গলে গজ মোতিম মাল।
করিবর কর কিয়ে বাহু বিশাল॥
কুলবতী পরশন পাই।
অনুখন চঞ্চল থির নাহি তাই॥
শুনিতে বচন সুধাখানি।
জ্ঞান দাস আশ করত সোই বাণী॥

ই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নায়িকার পূর্ব্বরাগ
॥ ইমন॥

কি মোহন নন্দ কিশোর।
হেরইতে রূপ মদন মন ভোর॥
অঙ্গহি অঙ্গ তরঙ্গ বিথার।
জলদ-পটল বরিখত রসধার॥
মুখে হাসি মিশা বাঁশী বায়।
রমিয়া অমিয়া বিধু জগত মাতায়॥
গলে গজ মোতিম মাল।
করিবর কর কিয়ে বাহু বিশাল॥
কুলবতী পরশ না পাই।
অনুখন চঞ্চল থির নাহি তাই॥
শুনিতে বচন সুধা খানি।
জ্ঞানদাস আশ করত সেই বাণী॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) প্রকাশিত অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ১৭৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নায়িকার পূর্ব্বরাগ
॥ ইমন॥

কি মোহন নন্দ কিশোর।
হেরইতে রূপ মদন মন ভোর॥
অঙ্গহি অঙ্গ তরঙ্গ বিথার।
জলদ-পটল বরিখত রসধার॥
মুখে হাসি মিশা বাঁশী বায়।
রামিয়া অমিয়া বিধু জগত মাতায়॥
গলে গজ মোতিম মাল।
করিবর কর কিয়ে বাহু বিশাল॥
কুলবতী পরশ না পাই।
অনুখন চঞ্চল থির নাহি তাই॥
শুনিতে বচন সুধা খানি।
জ্ঞানদাস আশ করত সেই বাণী॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১২৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নায়িকার পূর্ব্বরাগ
॥ ইমন॥

কি মোহন নন্দকিশোর। হেরইতে
রূপ মদন মন ভোর॥ অঙ্গহি অঙ্গ তরঙ্গ
বিথার। জলদ-পটল বরিখত রসধার॥
মুখে হাসি মিশা বাঁশী বায়। রামিয়া
অমিয়া বিধু জগত মাতায়॥ গলে গজ
মোতিম মাল। করিবর কর কিয়ে বাহু
বিশাল॥ কুলবতী পরশ না পাই। অনু-
খন চঞ্চল থির নাহি তাই॥ শুনিতে বচন
সুধা খানি। জ্ঞানদাস আশ করত সেই
বাণী॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২০৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ইমন॥

কি মোহন নন্দকিশোর।
হেরইতে রূপ মদন-মন ভোর॥
অঙ্গহি অঙ্গ তরঙ্গ-বিথার।
জলদ-পটল বরিখত রসধার॥
মুখে হাসি মিশা বাঁশী বায়।
রমিয়া অমিয়া বিধু জগত মাতায়॥
গলে গজমোতিম মাল।
করিবর-কর কিয়ে বাহু বিশাল॥
কুলবতী পরশ না পাই।
অনুখন চঞ্চল থির নাহি তাই॥
শুনিতে বচন সুধাখানি।
জ্ঞানদাস আশ করত সেই বাণী॥

ই পদটি ১৩১৭ বঙ্গাব্দে (১৯১০ সালে) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ১ম খণ্ড এর ১৭৫ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ
॥ শ্রীমায়ুর - তেওট॥

কি মোহন নন্দকিশোর।
হেরইতে রূপ মদন-মন ভোর॥
অঙ্গহি অঙ্গ অনঙ্গ বিথার।
জলদ-পটল বরিখত রসধার॥
মুখে হাসি মিশা বাঁশী বায়।
রমিয়া অমিয়া বিধু জগত মাতায়॥
গলে গজমোতিম-মাল।
করিবর-কর কিয়ে বাহু বিশাল॥
শুনিতে বচন সুধাখানি।
জ্ঞানদাস আশ করত সেই বাণী॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, রূপানুরাগ, ১৩০পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কি মোহন নন্দ কিশোর।
হেরইতে রূপ মদন ভেল ভোর॥
অঙ্গহি অঙ্গ তরঙ্গ বিথার।
জলদ পটল বরিষত রসধার॥
মুখে হাসিমিশা বাঁশী বায়।
অমিয়া বমিয়া বিধু জগত মাতায়॥
গলে গজমোতিম মাল।
করিবর কর কিয়ে বাহু বিশাল॥
কুলবতী পরশ না পাই।
অনুখণ চঞ্চল থির নাহি তাই॥
শুনিতে বচন সুধা খানি।
জ্ঞানদাস আশ করত সেই বাণী ॥

টীকা ---
নন্দকিশোরের কি মনমুগ্ধকারী সৌন্দর্য্য। তাঁহার রূপ দেখিয়া অন্যের কথা দূরে যাক স্বয়ং মদনই উন্মত্ত হইল। তাঁহার প্রতি অঙ্গে যেন লাবণ্যের হিল্লোল বহিয়া যাইতেছে, মনে হয় যেন মেঘসমূহ রসধারা বর্ষণ করিতেছে। তাঁহার হাসিমাখা মুখে তিনি বাঁশীটি বাজান, মনে হয় বুঝি চাঁদ অমৃত উদগীরণ করিয়া জগতকে মাতাইতেছে। তাঁহার গলায় গজমতির মালা, তাঁহার বাহু হস্তীর শুণ্ডের ন্যায় কি বিশাল ! কুলবতী তাঁহার স্পর্শ পায় নাই বলিয়া সে সতত চঞ্চল হইয়া রহিয়াছে, একটু স্থির থাকিতে পারিতেছে না। তাঁহার বাক্য কানে যেন সুধাবর্ষণ করে। জ্ঞানদাস সেই বাণী শুনিবার আশা করেন।

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, “কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ১৯১ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ।
॥ ইমন॥

কি মোহন নন্দকিশোর।
হেরইতে রূপ মদন মন ভোর॥
অঙ্গহি অঙ্গ তরঙ্গ-বিথার।
জলদ-পটল বরিখত রসধার॥
মুখে হাসি মিশা বাঁশী বায়।
রমিয়া অমিয়া বিধু জগত মাতায়॥
গলে গজমোতিম মাল।
করিবর-কর কিয়ে বাহু বিশাল॥
কুলবতী পরশ না পাই।
অনুখন চঞ্চল থির নাহি তাই॥
শুনিতে বচন সুধাখানি।
জ্ঞানদাস আশ করত সেই বাণী॥

ই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, রাধার পূর্ব্ব-রাগ, ৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ইমন॥

কি মোহন নন্দকিশোর।
হেরইতে রূপ মদন-মন ভোর॥
অঙ্গ হি অঙ্গ তরঙ্গ বিথার।
জলদ-পটল বরিখত রসধার॥
মুখে হাসি-মিশা বাঁশী বায়।
রমিয়া অমিয়া বিধু জগত মাতায়॥
গলে গজ-মোতিম মাল।
করিবর-কর কিয়ে বাহু বিশাল॥
শুনিতে বচন সুধা খানি।
জ্ঞানদাস আশ করত সেই বাণী॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪১২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপানুরাগ
শ্রীরাধার উক্তি
॥ তথারাগ॥

কি মোহন নন্দকিশোর।
হেরইতে রূপ মদনমন ভোর॥
অঙ্গহি অঙ্গ তরঙ্গ বিথার।
জলদপটল বরিখত রসধার॥
মুখে হাসি মিশা বাঁশি বায়।
অমিয়া বমিয়া বিধু জগত মাতায়॥
গলে গজমোতিমমাল।
করিবরকর কিঁয়ে বাহু বিশাল॥
কুলবতিপরশ না পাই।
অনুখণ চঞ্চল থির নহ তাই॥
শুনিতে বচন সুধাখানি।
জ্ঞানদাস আশ করত সোই বাণী॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধিকার রূপানুরাগ

কি মোহন নন্দ-কিশোর।
হেরইতে রূপ মদন-মন ভোর॥
অঙ্গহি অঙ্গ তরঙ্গ বিথার।
জলদ-পটল বরিখত রস-ধার॥
মুখে হাসি মিশা বাঁশি বায়।
বমিয়া অমিয়া বিধু জগত মাতায়॥
গলে গজ-মোতিম-মাল।
করিবর-কর কিয়ে বাহু বিশাল॥
কুলবতি-পরশ না পাই।
অনুখণ চঞ্চল থির নহ তাই॥
শুনিতে বচন-সুধাখানি।
জ্ঞানদাস আশ করত সোই বাণী॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমানবিহারী মজুমদার সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন "পাঁচশত বত্সরের পদাবলী ১৪১০-১৯১০" এর ৮৬ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

কি মোহন নন্দকিশোর।
হেরইতে রূপ মদনমন ভোর॥
অঙ্গহি অঙ্গ তরঙ্গ-বিথার।
জলদপটল বরিখত রসধার॥
মুখে হাসি মিশা বাঁশী বায়।
বমিয়া অমিয়া বিধু জগত মাতায়॥
গলে গজমোতিম মাল।
করিবরকর কিয়ে বাহু বিশাল॥
কুলবতি পরশ না পাই।
অনুখন চঞ্চল থির নহ তাই॥
শুনিতে বচন-সুধা খানি।
জ্ঞানদাস আশ করত সোই বাণী॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য” এর ৩৫৮ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

কি মোহন নন্দকিশোর।
হেরইতে রূপ মদনমন ভোর॥
অঙ্গহি অঙ্গ তরঙ্গ-বিথার।
জলদপটল বরিখত রসধার॥
মুখে হাসি মিশা বাঁশী বায়।
বমিয়া অমিয়া বিধু জগত মাতায়॥
গলে গজমোতিম মাল।
করিবরকর কিয়ে বাহু বিশাল॥
কুলবতি পরশ না পাই।
অনুখন চঞ্চল থির নহ তাই॥
শুনিতে বচন-সুধা খানি।
জ্ঞানদাস আশ করত সেই বাণী॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬১৪ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কে মোহন নন্দকিশোর।
হেরইতে রূপ মদনমন ভোর॥
অঙ্গহি অঙ্গ তরঙ্গ বিথার।
জলদপটল বরিখত রসধার॥
মুখে হাসি মিশা বাঁশী বায়।
অমিয় বমিয়া বিধু জগত মাতায়॥
গলে গজমোতিমমাল।
করিবরকর কিঁয়ে বাহু বিশাল॥
কুলবতিপরশ না পাই।
অনুখন চঞ্চল থির নহ তাই॥
শুনিতে বচন সুধাখানি।
জ্ঞানদাস আশ করত সেই বাণী॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^