কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
খেলত না খেলত লোক দেখি লাজ
খেলত ন খেলত লোক দেখি লাজ

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক সপ্তদশ শতকের মধ্যভাগে, নরহরি (ঘনশ্যাম) চক্রবর্তী প্রণীত এবং ৪৬২ গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় (পূর্ব্বরাগ) গ্রন্থের, ৪১১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ
॥ ধানশী॥

খেলত না খেলত লোক দেখি লাজ।   হেরত না হেরত সহচরী-মাঝ॥
বোলইতে বচন অলপ অবগাই।   হাসত না হাসত মুখ মুচুকাই॥
এ সখি এ সখি! পেখলুঁ নারী।   হেরইতে হরখি রহল যুগচারি॥ ধ্রু॥
উলটি উলটি চলু পদ দুই চারি।   কলসে কলসে জনু অমিয়া উভারি॥
মনমথ মন্ত্রি আগোরল বাট।   চকিত চরিত পড়ু কত রসহাট॥
কিয়ে ধনী ধাতা নিরমিল তাই।   জগমাহা উপমা করই না পাই॥
পরখে পুছলুঁ হাম তাকর নাম।   জ্ঞানদাস কহ---রসিক সুজান॥

ই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

খেলত না খেলত লোক দেখি লাজ।
হেরত না হেরত সহচরী মাঝ॥
বোলইতে বচন অলপ অবগাই।
হাসত না হাসত মুখ মুচুকাই॥
এ সখি এ সখি দেখলু নারী।
হেরইতে হরখে হরল যুগ চারি॥ ধ্রু
উলটি উলটি চলু পদ দুই চারি।
কলসে কলসে জনু অমিয়া উঘারি॥
মনমথ মন্ত্রি আগোরল বাট।
চকিত চরিত পঁহু বহু রসহাট॥
কিয়ে ধনী ধাতা নিরমিল তাই।
জগমাহা উপমা কবহুঁ না পাই॥
পরসে পুছলুঁ হাম তাকর নাম।
জ্ঞান দাস কহব রসিক সুজান॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) প্রকাশিত অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ১৭৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নায়কের পূর্ব্বরাগ
॥ ধানশী॥

খেলত না খেলত লোক দেখি লাজ।
হেরত না হেরত সহচরী মাঝ॥
বোলইতে বচন অলপ অবগাই।
হাসত না হাসত মুখ মুচুকাই॥
এ সখি এ সখি দেখলু নারী।
হেরইতে হরখে হরল যুগ চারি॥
উলটি উলটি চলু পদ দুই চারি।
কলসে কলসে জনু অমিয়া উঘারি॥
মনমথ মন্ত্রি আগোরল বাট।
চকিত চরিত পঁহু বহু রসহাট॥
কিয়ে ধনী ধাতা নিরমিল তাই।
জগমাহা উপমা কবহুঁ না পাই॥
পরসে পুছলুঁ হাম তাকর নাম।
জ্ঞান দাস কহব রসিক সুজান॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১২৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নায়কের পূর্ব্বরাগ
॥ ধানশী॥

খেলত না খেলত লোক দেখি লাজ।
হেরত না হেরত সহচরী মাঝ॥ বোলইতে
বচন অলপ অবগাই। হাসত না হাসত
মুখ মুচুকাই॥ এ সখি এ সখি দেখলু
নারী। হেরইতে হরখে হরল যুগ চারি॥
উলটি উলটি জলু পদ দুই চারি। কলসে
কলসে যনু অমিয়া উঘারি॥ মনমথ মন্ত্রি
আগোরল বাট। চকিত চরিত পঁহু বহু
রসহাট॥ কিয়ে ধনী ধাতা নিরমিল তাই।
জগমাহা উপমা কবহুঁ না পাই॥ পরসে
পুছলু হাম তারক নাম। জ্ঞান দাস কহব
রসিক সুজান॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২০০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ।
॥ ধানশী॥

খেলত না খেলত লোক দেখি লাজ।
হেরত না হেরত সহচরীমাঝ॥
বোলইতে বচন অলপ অবগাই।
হাসত না হাসত মুখ মুচুকাই॥
এ সখি এ সখি দেখলু নারী।
হেরইতে হরখে হরল যুগ চারি॥
উলটি উলটি জলু পদ দুই চারি।
কলসে কলসে যনু অমিয়া উঘারি॥
মনমথ মন্ত্রি আগোরল বাট।
চকিত চরিত পঁহু বহু রসহাট॥
কিয়ে ধনী ধাতা নিরমিল তাই।
জগমাহা উপমা কবহুঁ না পাই॥
পরসে পুছলুঁ হাম তাকর নাম।
জ্ঞানদাস কহিব রসিক সুজান॥

ই পদটি ১৩১৭ বঙ্গাব্দে (১৯১০ সালে) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ১ম খণ্ড এর ২৪৮ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ
॥ বালা ধানশী - জপতাল॥

খেলত না খেলত লোক দেখি লাজ।
হেরত না হেরত সহচরী মাঝ॥
বোলইতে বচন অলপ অবগাই।
হাসত না হাসত মুখ মুচকাই॥
এ সখি এ সখি দেখলুঁ নারী।
হেরইতে হরখে হরল যুগচারি॥
উলটি উলটি চলু পদ দুই চারি।
কলসে কলসে জনু অমিয়া উঘারি॥
মনমথ মন্ত্রি আগোরল বাট।
চকিত চরিত পঁহু বহু রস হাট॥
কিয়ে ধনী ধাতা নিরমিল তাই।
জগ মাহা উপমা কবহু না পাই॥
পরছে পুছলুঁ হাম তাকর নাম।
জ্ঞান দাস কহ রসিক সুজান॥

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, “কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ১৮২ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ।
॥ ধানশী॥

খেলত না খেলত লোক দেখি লাজ।
হেরত না হেরত সহচরী মাঝ॥
বোলইতে বচন অলপ অবগাই।
হাসত না হাসত মুখ মুচকাই॥
এ সখি এ সখি দেখলু নারী।
হেরইতে হরখে হরল যুগ চারি॥
উলটি উলটি বলু পদ দুই চারি।
কলসে কলসে জনু অমিয়া উঘারি॥
মনমথ মন্ত্রি আগোরল বাট।
চকিত চরিত পঁহু রহু রসহাট॥
কিয়ে ধনী ধাতা নিরমিল তাই।
জগমাহা উপমা কবহুঁ না পাই॥
পরছে পুছলু হাম তাকর নাম।
জ্ঞানদাস কহিব রসিক সুজান॥

ই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, কৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ, ১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

খেলত না খেলত লোক দেখি লাজ।
হেরত না হেরত সহচরী মাঝ॥
বোলইতে বচন অলপ অবগাই।
হাসত না হাসত মুখ মু চুকাই॥
এ সখি এ সখি কি দেখলু নারী।
হেরইতে হরখে হরল যুগ চারি॥
উলটি উলটি চলু পদ দুই চারি।
কলসে কলসে জনু অমিয়া উঘারি॥
মনমথ মন্ত্রী আগোরল বাট।
চকিত চরিত পঁহু কত রসহাট॥
কিয়ে ধনী ধাতা নিরমিল তাই।
জগমাহা উপমা করহুঁ না পাই॥
পর্ ছে পুছলুঁ হাম তাকর নাম।
জ্ঞানদাস কহব রসিক সুজান॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৪৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথিতে এই রূপে।

শ্রীকৃষ্ণের উক্তি
॥ ধানশী॥

খেলত ন খেলত লোক দেখি লাজ।
হেরত ন হেরত সহচরি মাঝ॥
বোলইতে বচন অলপ অবগাই।
হসত ন হসত মুখ মুচুকাই॥
এ সখি এ সখি দেখলুঁ নারি।
হেরইতে হরখ রহল যুগ চারি॥ ধ্রু॥
উলটি উলটি চলু পদ দুই চারি।
কলসে কলসে জনু অমিয় উভারি॥
মননথ-মন্ত্রি অগোরল বাট।
থকিতে চকিতে পড়ু কত রস-নাট॥
কিয়ে ধনি ধাতা নিরমিল তাই।
জগ মাহ উপমা কবহুঁ ন পাই॥
পরখে পুছলুঁ হম তাকর নাম।
জ্ঞানদাস কহ রসিক সুজান॥

ই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত “কাব্য-রত্নমালা” গ্রন্থের, শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ, ২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

খেলত না খেলত লোক দেখি লাজ।
হেরত না হেরত সহচরীমাঝ॥
বোলইতে বচন অলপ অবগাই।
হাসত না হাসত মুখ মুচুকাই॥
এ সখি এ সখি কি দেখলু নারী।
হেরইতে হরখে হরল যুগ চারি॥
উলটি উলটি চলু পদ দুই চারি।
কলসে কলসে জনু অমিয়া উগারি॥
মনমথ মন্ত্রী আগোরল বাট।
চকিত চরিত পঁহু কত রসহাট॥
কিয়ে ধনী ধাতা নিরমিল তাই।
জগমাহা উপমা করহুঁ না পাই॥
পরশে পুছলু হাম তাকর নাম।
জ্ঞানদাস কহ রসিক সুজান॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, শ্রীরাধার বাল্যলীলা, বয়ঃসন্ধি ও পূর্বরাগ, ৩৭৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের উক্তি
॥ ধানশী॥

খেলত না খেলত লোক দেখি লাজ।
হেরত না হেরত সহচরী মাঝ॥
বোলইতে বচন অলপ অবগাই।
হসত না হসত মুখ মুচুকাই॥
এ সখি এ সখি কি পেখলুঁ নারী।
হেরইতে হরখে হরল যুগ চারি॥
উলটি উলটি চলু পদ দুই চারি।
কলসে কলসে জনু অমিয়া উঘারি॥
মনমথ মন্ত্র অগোরল বাট।
থকিতে চকিত পড়ু কত রস-হাট॥
কিয়ে ধনী ধাতা নিরমিল তাই।
জগমাহা উপমা করই না পাই॥
পরখি পুছলোঁ হাম তাকর নাম।
জ্ঞানদাস কহ তুহুঁ রসিক সুজান॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের, শ্রীরাধার বাল্যলীলা, বয়ঃসন্ধি ও পূর্বরাগ, ৩৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের উক্তি
॥ ধানশী॥

খেলত না খেলত লোক দেখি লাজ।   হেরত না হেরত সহচরী মাঝ॥
বোলইতে বচন অলপ অবগাই।   হসত না হসত মুখ মুচুকাই॥
এ সখি এ সখি কি পেখলুঁ নারী।   হেরইতে হরখে হরল যুগ চারি॥
উলটি উলটি চলু পদ দুই চারি।   কলসে কলসে জনু অমিয়া উঘারি॥
মনমথ মন্ত্র অগোরল বাট।   থকিতে চকিত পড়ু কত রস-হাট॥
কিয়ে ধনী ধাতা নিরমিল তাই।   জগমাহা উপমা করই না পাই॥
পরখি পুছলোঁ হাম তাকর নাম।   জ্ঞানদাস কহ তুহুঁ রসিক সুজান॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, বিদ্যাপতির অনুসরণে জ্ঞানদাস, ৬৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

খেলত ন খেলত লোক দেখি লাজ।
হেরত ন হেরত সহচরি মাঝ॥
বোলইতে বচন অলপ অবগাই।
হাসত না হাসত মুখ মুচুকাই॥
এ সখি এ সখি পেখলুঁ নারি।
হেরইতে হরখি রহল যুগ চারি॥
উলটি উলটি চলু পদ দুই চারি।
কলসে কলসে জনু অমিয় উভারি॥
মনমথ-মন্ত্রি অগোরল বাট।
চকিত চকিত পড়ু কত রস-নাট॥
কিয়ে ধনি ধাতা নিরমিল তাই।
জগ মাহ উপমা করই না পাই॥
পরখে পুছলুঁ হম তাকর নাম।
জ্ঞানদাস কহ রসিক সুজান॥

টীকা ---
শ্রীকৃষ্ণ শ্রীরাধাকে প্রথম দেখিয়া কোন সখীকে বলিতেছেন, কখনও খেলে কখনও খেলে না, সহসা লোক দেখিলে লজ্জা পায় (এদিকে ছেলেমানুষের মতন দেখাও আছে, আবার নবীনার মতন লজ্জা পাওয়াও আছে)। সখীদের মধ্যে দেখিয়াও দেখে না (নয়ন অন্য কিছু খুঁজিয়া বেড়ায়)। কথা বলিলে তাহার অল্পই প্রণিধান করে (অবগাই) (মন যে অন্যদিকে গিয়াছে)। মুখে একটু খানি হাসি যেন খেলিয়া যায়। সখি ওগো সখি, আজ সেই নারীকে দেখিলাম ; দেখিতেই আনন্দ যেন চারযুগ ধরিয়া রহিল। ফিরিয়া ফিরিয়া দেখিতে দেখিতে দুই চার পা চলিতে লাগিল তাহা দেখিয্বা মনে হইল যেন ঘড়াঘড়া অমৃত উছলিয়া পড়িতেছে। মন্মথ মন্ত্রী হইয়া এখন পথ আগলাইতেছে। ক্ষণে ক্ষণে সে কত রসকলা দেখাইল। বিধাতা কি সুন্দরী তৈয়ারী করিলেন। জগতে তাহার উপমা নাই। পরীক্ষা করার জন্য তাহার নাম জিজ্ঞাসা করিলাম। জ্ঞানদাস বলিতেছেন বেশ করিয়াছ, তুমি খুব রসিক সুজন।

তুলনীয় --- বিদ্যাপতি (৬১১)

খেলত না খেলত লোক দেখি লাজ।
হেরত না হেরত সহচরি মাঝ॥
সুন সুন মাধব তোহারি দোহাই।
বড় অপরূপ আজু পেখলি যাই॥

বিদ্যাপতি নানা উপমা দিয়া শুধু দেহের নব যৌবনেরই বর্ণনা করিয়াছেন। জানদাস নায়ক-নায়িকার প্রথম মিলনের চিত্রটি মনস্তাত্ত্বিকের নিপুণতার সহিত অঙ্কিত করিয়াছেন।

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬১৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

খেলত না খেলত লোক দেখি লাজ।
হেরত না হেরত সহচরী মাঝ॥
বোলইতে বচন অলপ অবগাই।
হসত না হসত মুখ মুচুকাই॥
এ সখি এ সখি কি পেখলুঁ নারী।
হেরইতে হরখে হরল যুগ চারি॥
উলটি উলটি চলু পদ দুই চারি।
কলসে কলসে জনু অমিয়া উঘারি॥
মনমথ মন্ত্র অগোরল বাট।
থকিতে চকিত পড়ু কত রস হাট॥
কিয়ে ধনী ধাতা নিরমিল তাই।
জগমাহা উপমা করই না পাই॥
পরখি পুছলোঁ হাম তাকর নাম।
জ্ঞানদাস কহ তুহুঁ রসিক সুজান॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^