কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
পহিলহিঁ দরশনে সোঁপবি সেবা
পহিলহি দরশনে সোঁপবি সেবা
কবি জ্ঞানদাস
পহিলহি দরশনে সোঁপবি সেবা
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, যুগল মিলন, ১৪৪পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
পহিলহিঁ দরশনে সোঁপবি সেবা।
পুছইতে কুশল উতর নহি দেবা॥
শুন শুন সজনী-তু বড়ি সিয়ানি।
কহিব ন কহিব রাখব নিজ মানি॥
সহজেই সুচতুর গোপ কানাই।
অবসর বুঝই করিব চতুরাই॥
যব চিতে বুঝবি বড় অনুরাগ।
তৈখনে কহিব হৃদয়ে জনি লাগ॥
সঙ্কেত জানায়বি আখর চারি।
সো দিন অবধি রহব পতি আশে॥
জ্ঞানদাস কহ গুরুয় পিয়াসে।
টীকা--
সোঁপবি সেবা --- পূজা করিবে, প্রণাম করিবে।
তৈখনে কহিব হৃদয়ে জনি লাগ --- তখন এমন কথা কহিবে যাহাতে তাহার হৃদয় স্পর্শ করে।
আঁখর চারি --- চারিটি অক্ষরে সঙ্কেত জানাইবে। ঐ সঙ্কেত নিশ্চই কাল বাচক, কেননা পরের চরণে আছে “দিন অবধি রহব পতিয়াশে” সেই দিন পর্য্যন্ত কানু প্রত্যাশয়ে থাকিবে। চারি অক্ষর কথাটি একাদশী, ত্রয়োদশী বা চতুর্দশী হইতে পারে।
এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৪৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন সাহিত্য পরিষদের ২০১ সংখ্যক পুথিতে এই রূপে।
শ্রীরাধার আপ্ত-দূতী
সখী-শিক্ষা
॥ সুহই॥
পহিলহিঁ দরশনে সোঁপবি সেবা।
পুছইতে কুশল উতর নহি দেবা ॥
শুন শুন সজনী তু বড়ি সিয়ানি।
কহবি ন কহবি রাখব নিজ মানি॥
সহজই সুচতুর গোপ কানাই।
অবসর বুঝই করবি চতুরাই॥
যব চিতে বূঝবি বড় অনুরাগ।
তৈখনে কহবি হৃদয়ে জনি লাগ॥
জানিয়ে তুহু বড় বিদগধ নারি।
সঙ্কেত জানায়বি আঁখর চারি @॥
সো দিন অবধি রহব পতিআশে।
জ্ঞানদাস কহ গুরুয় পিয়াসে॥
@ "সঙ্কেত" ইত্যাদি --- চারিটি অক্ষর অর্থাৎ “বৃন্দাবন” সঙ্কেত স্থান --- ইহা সঙ্কেতে অর্থাৎ চারিটি আঙ্গুল দেখাইয়া জানাইবে। এ স্থলে “সঙ্কেত” শব্দটি দ্ব্যর্থক।
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৩৮৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
নবোঢ়া-মিলন
সখীশিক্ষা
শ্রীরাধার প্রতি
॥ সুহই॥
পহিলহি দরশনে সোঁপবি সেবা।
পুছইতে কুশল উতর নাহি দেবা॥
শুন শুন সজনি তু বরি সিয়ানি।
কহবি ন কহবি রাখব নিজ মানি॥
সহজই সুচতুর গোপ কানাই।
অবসর বুঝই করবি চতুরাই॥
যব চিতে বুঝবি বড় অনুরাগ।
তৈখনে কহবি হৃদয়ে জনু লাগ॥
জানিয়ে তুহু বড় বিদগধ নারি।
সঙ্কেতে জানায়বি আখর চারি॥ @
সো দিন অবধি রহব পতিআশে।
জ্ঞানদাস কহ গুরুয় পিয়াসে॥
@ - চারি অক্ষর অর্থাৎ অনুরাগ, সঙ্কেতে অনুরাগ জানাইবে।
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নবোঢ়া-মিলন @
সখীশিক্ষা
শ্রীরাধার প্রতি
॥ সুহই॥
পহিলহি দরশনে সোঁপবি সেবা। পুছইতে কুশল উতর নাহি দেবা॥
শুন শুন সজনি তু বরি সিয়ানি। কহবি ন কহবি রাখব নিজ মানি॥
সহজই সুচতুর গোপ কানাই। অবসর বুঝই করবি চতুরাই॥
যব চিতে বুঝবি বড় অনুরাগ। তৈখনে কহবি হৃদয়ে জনি লাগ॥
জানিয়ে তুহু বড় বিদগধ নারি। সঙ্কেতে জানায়বি আখর চারি॥
সো দিন অবধি রহব পতিআশে। জ্ঞানদাস কহ গুরুয় পিয়াসে॥
@ - এই পর্যায়ের পদগুলির উপর ভাবে ও ভাষায় বিদ্যাপতির প্রভাব সুস্পষ্ট।
---হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়॥
টীকা---
প্রথম দর্শনে সেবা সমর্পণ করিবি ; কুশল জিজ্ঞাসা করিলে উত্তর দিবি না। সজনি, শোন্, শোন্, তুই বড়ই চতুর। কথা কহিবি বা না কহিবি, নিজের মান যেন ঠিক রাখিবি। গোপ কানাই স্বভাব-চতুর ; অবসর বুঝিয়া তাহার সঙ্গে চাতুর্য দেখাইবি। যখন (নায়কের) মনে অনুরাগের প্রাবল্য অনুভব করিবি, তখনই কথা বলিবি, যেন সে কথা হৃদয়ে বদ্ধমূল হয়। জানি তুই অতি কামকেলিরসে অভিজ্ঞা নারী ; চারি অক্ষর (বাক্যে নয়), সঙ্কেতে জানাইবি। সেইদিন অবধি সে প্রত্যাশায় রহিবে। জ্ঞানদাস বলে যে, গুরুতর তৃষ্ণার্ত ব্যক্তির ন্যায় তাহার লোলুপতা বৃদ্ধি পাইবে।
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৩৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
পহিলহি দরশনে সোঁপবি সেবা।
পুছইতে কুশল উতর নাহি দেবা॥
শুন শুন সজনি তু বরি সিয়ানি।
কহবি ন কহবি রাখব নিজ মানি॥
সহজই সুচতুর গোপ কানাই।
অবসর বুঝই করবি চতুরাই॥
যব চিতে বুঝবি বড় অনুরাগ।
তৈখনে কহবি হৃদয়ে জনু লাগ॥
জানিয়ে তুহু বড় বিদগধ নারি।
সঙ্কেতে জানায়বি আখর চারি॥
সো দিন অবধি রহব পতিআশে।
জ্ঞানদাস কহ গুরুয় পিয়াসে॥
*********************
পুছইতে কুশল উতর নহি দেবা॥
শুন শুন সজনী-তু বড়ি সিয়ানি।
কহিব ন কহিব রাখব নিজ মানি॥
সহজেই সুচতুর গোপ কানাই।
অবসর বুঝই করিব চতুরাই॥
যব চিতে বুঝবি বড় অনুরাগ।
তৈখনে কহিব হৃদয়ে জনি লাগ॥
সঙ্কেত জানায়বি আখর চারি।
সো দিন অবধি রহব পতি আশে॥
জ্ঞানদাস কহ গুরুয় পিয়াসে।
টীকা--
সোঁপবি সেবা --- পূজা করিবে, প্রণাম করিবে।
তৈখনে কহিব হৃদয়ে জনি লাগ --- তখন এমন কথা কহিবে যাহাতে তাহার হৃদয় স্পর্শ করে।
আঁখর চারি --- চারিটি অক্ষরে সঙ্কেত জানাইবে। ঐ সঙ্কেত নিশ্চই কাল বাচক, কেননা পরের চরণে আছে “দিন অবধি রহব পতিয়াশে” সেই দিন পর্য্যন্ত কানু প্রত্যাশয়ে থাকিবে। চারি অক্ষর কথাটি একাদশী, ত্রয়োদশী বা চতুর্দশী হইতে পারে।
এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৪৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন সাহিত্য পরিষদের ২০১ সংখ্যক পুথিতে এই রূপে।
শ্রীরাধার আপ্ত-দূতী
সখী-শিক্ষা
॥ সুহই॥
পহিলহিঁ দরশনে সোঁপবি সেবা।
পুছইতে কুশল উতর নহি দেবা ॥
শুন শুন সজনী তু বড়ি সিয়ানি।
কহবি ন কহবি রাখব নিজ মানি॥
সহজই সুচতুর গোপ কানাই।
অবসর বুঝই করবি চতুরাই॥
যব চিতে বূঝবি বড় অনুরাগ।
তৈখনে কহবি হৃদয়ে জনি লাগ॥
জানিয়ে তুহু বড় বিদগধ নারি।
সঙ্কেত জানায়বি আঁখর চারি @॥
সো দিন অবধি রহব পতিআশে।
জ্ঞানদাস কহ গুরুয় পিয়াসে॥
@ "সঙ্কেত" ইত্যাদি --- চারিটি অক্ষর অর্থাৎ “বৃন্দাবন” সঙ্কেত স্থান --- ইহা সঙ্কেতে অর্থাৎ চারিটি আঙ্গুল দেখাইয়া জানাইবে। এ স্থলে “সঙ্কেত” শব্দটি দ্ব্যর্থক।
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৩৮৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
নবোঢ়া-মিলন
সখীশিক্ষা
শ্রীরাধার প্রতি
॥ সুহই॥
পহিলহি দরশনে সোঁপবি সেবা।
পুছইতে কুশল উতর নাহি দেবা॥
শুন শুন সজনি তু বরি সিয়ানি।
কহবি ন কহবি রাখব নিজ মানি॥
সহজই সুচতুর গোপ কানাই।
অবসর বুঝই করবি চতুরাই॥
যব চিতে বুঝবি বড় অনুরাগ।
তৈখনে কহবি হৃদয়ে জনু লাগ॥
জানিয়ে তুহু বড় বিদগধ নারি।
সঙ্কেতে জানায়বি আখর চারি॥ @
সো দিন অবধি রহব পতিআশে।
জ্ঞানদাস কহ গুরুয় পিয়াসে॥
@ - চারি অক্ষর অর্থাৎ অনুরাগ, সঙ্কেতে অনুরাগ জানাইবে।
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নবোঢ়া-মিলন @
সখীশিক্ষা
শ্রীরাধার প্রতি
॥ সুহই॥
পহিলহি দরশনে সোঁপবি সেবা। পুছইতে কুশল উতর নাহি দেবা॥
শুন শুন সজনি তু বরি সিয়ানি। কহবি ন কহবি রাখব নিজ মানি॥
সহজই সুচতুর গোপ কানাই। অবসর বুঝই করবি চতুরাই॥
যব চিতে বুঝবি বড় অনুরাগ। তৈখনে কহবি হৃদয়ে জনি লাগ॥
জানিয়ে তুহু বড় বিদগধ নারি। সঙ্কেতে জানায়বি আখর চারি॥
সো দিন অবধি রহব পতিআশে। জ্ঞানদাস কহ গুরুয় পিয়াসে॥
@ - এই পর্যায়ের পদগুলির উপর ভাবে ও ভাষায় বিদ্যাপতির প্রভাব সুস্পষ্ট।
---হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়॥
টীকা---
প্রথম দর্শনে সেবা সমর্পণ করিবি ; কুশল জিজ্ঞাসা করিলে উত্তর দিবি না। সজনি, শোন্, শোন্, তুই বড়ই চতুর। কথা কহিবি বা না কহিবি, নিজের মান যেন ঠিক রাখিবি। গোপ কানাই স্বভাব-চতুর ; অবসর বুঝিয়া তাহার সঙ্গে চাতুর্য দেখাইবি। যখন (নায়কের) মনে অনুরাগের প্রাবল্য অনুভব করিবি, তখনই কথা বলিবি, যেন সে কথা হৃদয়ে বদ্ধমূল হয়। জানি তুই অতি কামকেলিরসে অভিজ্ঞা নারী ; চারি অক্ষর (বাক্যে নয়), সঙ্কেতে জানাইবি। সেইদিন অবধি সে প্রত্যাশায় রহিবে। জ্ঞানদাস বলে যে, গুরুতর তৃষ্ণার্ত ব্যক্তির ন্যায় তাহার লোলুপতা বৃদ্ধি পাইবে।
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৩৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
পহিলহি দরশনে সোঁপবি সেবা।
পুছইতে কুশল উতর নাহি দেবা॥
শুন শুন সজনি তু বরি সিয়ানি।
কহবি ন কহবি রাখব নিজ মানি॥
সহজই সুচতুর গোপ কানাই।
অবসর বুঝই করবি চতুরাই॥
যব চিতে বুঝবি বড় অনুরাগ।
তৈখনে কহবি হৃদয়ে জনু লাগ॥
জানিয়ে তুহু বড় বিদগধ নারি।
সঙ্কেতে জানায়বি আখর চারি॥
সো দিন অবধি রহব পতিআশে।
জ্ঞানদাস কহ গুরুয় পিয়াসে॥
*********************
