কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
কমল-বয়নি কুসুম-কাঁতি
কমলবয়নি কনককাঁতি

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭০০ খৃষ্টাব্দে, হরিবল্লভ বা বল্লভ ভণিতার পদকর্তা বিশ্বনাথ চক্রবর্তী দ্বারা সংকলিত এবং ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯৩৮ খৃষ্টাব্দ) রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত "শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি" গ্রন্থের, অষ্টার্বিংশ ক্ষণদা---শুক্লা ত্রয়োদশী, ২২৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মল্লার॥

কমল-বয়নি কুসুম-কাঁতি।
মুকুতা-নিকর দশন-পাঁতি॥
নাসা তিল-মৃদু-কুসুম তুল।
কাজরে মাজল দিঠি-দু কূল॥
চললি হরিণ-নয়নি রাই।
ত্রিভুবন জিনি উপমা নাই॥
অরুণ-অধরে হসন-ইন্দু।
চিবুকে মধুর শামর-বিন্দু॥
উচ কুচ যুগ কনয়-গিরি।
হিয়ার মাঝারে মাণিক-ছিরি॥
পবন-তরল বসন মেলি।
দামিনি বেঢ়লি চাঁদনি বেলি॥
বিদ্রুম-সারি রসময় সাজ।
রবি সিনায়ত তটিনি মাঝ॥
বোম লতাবলি ভূজগি ভান।
নাভি-সরবরে করু পয়াণ॥
কেশরি-সোসরি মাঝরি অঙ্গ।
ত্রিবলি যৌবন-জল তরঙ্গ॥
মদন-বিমান-চাক নিতম্ব।
উলট-কদলি উরু-আরম্ভ॥
বেণিয়ে বান্ধল বেনন জাদ।
উলট কমল ফুটল আধ॥
কটির উপরে কিঙ্কিণি-নাদ।
রতন-মঞ্জির করু বিবাদ॥
চরণ-কমল-শীতল-ছায়।
জ্ঞানদাস-মন জুড়ায় তায়॥

ই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধিকার রূপ
॥ মল্লার॥

কমল বয়ান কনক কাঁতি।
মুকুতা নিকর দশন পাঁতি॥
নাসা তিল মৃদু কুসুম তুল।
কাজরে মাজল দিঠি দুকূল॥
চললি হরিণ নয়নী রাই।
ত্রিভুবন জিনি উপমা নাই॥
অরুণ অধরে হসন ইন্দু।
চিবুকে মধুর শ্যামর বিন্দু॥
উচ কুচ যুগ কনক গিরি।
হিয়ার মাঝারে মাণিক ছিরি॥
পবন তরল বসন মেলি।
দামিনী বেঢ়লি চাঁদনি বেলি॥
বিভ্রম সারিম সময় সাজ।
রবিশিলা যত তটনী মাঝ॥
রোমলতাবলী ভূজগী ভাণ।
নাভি সরোবরে করু পয়ান॥
কেশরী সোসরি মাঝারি অঙ্গ।
ত্রিবলি যৌবন জনি তরঙ্গ॥
মদন বিমান চাক নিতম্ব।
উলট কদলী উরু আরম্ভ॥
নীবী যে বান্ধল বেঢ়ল যাদ।
উলট কমল ফুটল আধ॥
কটির উপরে কিঙ্কিনী নাদ।
রতন মঞ্জীর কর বিবাদ॥
চরণ কমল শীতল ছায়।
জ্ঞানদাস মন জুড়াও তায়॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) প্রকাশিত অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ১৮৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধিকার রূপ।
॥ মল্লার॥

কমল বয়ান কনক কাঁতি।
মুকুতা নিকর দশন পাঁতি॥
নাসা তিল মৃদু কুসুম তুল।
কাজরে মাজল দিঠি দুকূল॥
চললি হরিণ নয়নী রাই।
ত্রিভুবন জিনি উপমা নাই॥
অরুণ অধরে হসন ইন্দু।
চিবুকে মধুর শ্যামর বিন্দু॥
উচ কুচ যুগ কনক গিরি।
হিয়ার মাঝারে মাণিক ছিরি॥
পবন তরল বসন মেলি।
দামিনী বেঢ়লি চাঁদনি বেলি॥
বিভ্রম সারিম সময় সাজ।
রবিশিলা যত তটনী মাঝ॥
রোমলতাবলী ভূজগী ভাণ।
নাভি সরোবরে করু পয়ান॥
কেশরী সোসরি মাঝারি অঙ্গ।
ত্রিবলি যৌবন জনি তরঙ্গ॥
মদন বিমান চাক নিতম্ব।
উলট কদলী উরু আরম্ভ॥
নীবী যে বান্ধল বেঢ়ল যাদ।
উলট কমল ফুটল আধ॥
কটির উপরে কিঙ্কিণী নাদ।
রতন মঞ্জীর কর বিবাদ॥
চরণ কমল শীতল ছায়।
জ্ঞানদাস মন জুড়াও তায়॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৩৪ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধিকার রূপ
॥ মল্লার॥

কমল বয়ান কনক কাঁতি। মুকুতা
নিকর দশন পাঁতি॥ নাসা তিল মৃদু কুসুম
তুল। কাজরে মাজল দিঠি দুকূল॥ চললি
হরিণ নয়নী রাই। ত্রিভুবন জিনি উপমা
নাই॥ অরুণ অধরে হসন ইন্দু। চিবুকে
মধুর শ্যামর বিন্দু॥ উচ কুচ যুগ কনক
গিরি। হিয়ার মাঝারে মাণিক ছিরি॥
পবন তরল বসন মেলি। দামিনী বেঢ়লি
চাঁদনি বেলি॥ বিভ্রম সারিম সময় সাজ।
রবিশিলা যত তটিনী মাঝ॥ রোমলতাবলী
ভুজগী ভাণ। নাভি সরোবরে করু পয়ান॥
কেশরী সোসরি মাঝারি অঙ্গ। ত্রিবলি
যৌবন জনি তরঙ্গ॥ মদন বিমান চাক
নিতম্ব। উলট কদলী উরু আরম্ভ॥ নীবী
যে বান্ধল বেঢ়ল যাদ। উলট কমল ফুটল
আধ॥ কটির উপরে কিঙ্কিণী নাদ। রতন
মঞ্জীর @কর বিবাদ॥ চরণ কমল শীতল
ছায়। জ্ঞানদাস মন জুড়াও তায়॥

@ - অন্য গ্রন্থে "মঞ্জীর" থাকলেও এখানে সম্ভবত "মৃঞ্জীর" অথবা "মূঞ্জীর" লেখা রয়েছে, যা অস্পষ্টভাবে ছাপা হয়েছে।

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ১৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধা
॥ মল্লার॥

কনক বয়ান কনক কাঁতি।
মুকুতা নিকর দশন পাঁতি॥
নাসা তিল মৃদু কুসুম তুল।
কাজরে মাজল দিঠি দুকূল॥
চললি হরিণনয়নী রাই।
ত্রিভুন @ জিনি উপমা নাই॥
অরুণ অধরে হসন ইন্দু।
চিবুকে মধুর শ্যামর বিন্দু॥
উচ কুচযুগ কনকগিরি।
হিয়ার মাঝারে মাণিক ছিরি॥
পবন তরল বসন মেলি।
দামিনী বেঢ়লি চাঁদনি বেলি॥
বিভ্রম সারিম সময় সাজ।
রবিশিলা যত তটনী মাঝ॥
রোমলতাবলী ভুজগী ভান।
নাভি সরোবরে করু পয়াণ॥
কেশরী সোসরি মাঝারি অঙ্গ।
ত্রিবলী যৌবন জনি তরঙ্গ॥
মদন বিমান চাক নিতম্ব।
উলট কদলী ঊরু আরম্ভ॥
নীবী যে বান্ধল বেঢ়ল যাদ।
উলট কমল ফুটল আধ॥
কটির উপরে কিঙ্কিণীনাদ।
রতন মঞ্জীর কর বিবাদ॥
চরণ-কমল শীতল ছায়।
জ্ঞানদাস মন জুড়াও তায়॥

@ - ত্রিভুন - ত্রিভুবন হবে, মুদ্রণ প্রমাদ।

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৪৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথিতে এই রূপে।

শ্রীরাধার কুঞ্জে অভিসার
॥ মল্লার॥

কমল-বয়নি কুসুম-কাঁতি।
মুকুতা-নিকর দশন-পাঁতি॥
নাসা তিল-মৃদু-কুসুম তুল।
কাজরে মাজল দিঠি-দু কূল॥
চললি হরিণ-নয়নি রাই।
ত্রিভুবন জিনি উপমা নাই॥
অরুণ-অধরে হসন-ইন্দু।
চিবুকে মধুর শামর-বিন্দু॥
উচ কুচ যুগ কনয়-গিরি।
হিয়ার মাঝারে মাণিক-ছিরি॥
পবন-তরল বসন মেলি।
দামিনি বেঢ়লি চাঁদনি বেলি॥
বিদ্রুম-সারি রসময় সাজ।
রবি সিনায়ত তটিনি মাঝ॥
বোম লতাবলি ভূজগি ভান।
নাভি-সরবরে করু পয়াণ॥
কেশরি-সোসরি মাঝরি অঙ্গ।
ত্রিবলি যৌবন-জল তরঙ্গ॥
মদন-বিমান-চাক নিতম্ব।
উলট-কদলি উরু-আরম্ভ॥
বেণিয়ে বান্ধল বেনন জাদ।
উলট কমল ফুটল আধ॥
কটির উপরে কিঙ্কিণি-নাদ।
রতন-মঞ্জির করু বিবাদ॥
চরণ-কমল-শীতল-ছায়।
জ্ঞানদাস-মন জুড়ায় তায়॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের কন্যা অপর্ণা রায় সম্পাদিত “কীর্ত্তন পদাবলী” বৈষ্ণব পদ সংকলনের ১৪৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপ খণ্ড
॥ সূহিনী - নন্দনতাল॥

কনক-বয়ান কনককাঁতি।
মুকুতানিকর দশনপাঁতি॥
নাসা তিল মৃদু কুসুম তুল।
কাজরে মাজল দিঠি দুকূল॥
চললি হরিণ-নয়নী রাই।
ত্রিভুবন জিনি উপমা নাই॥
অরুণ অধরে হসন ইন্দু।
চিবুকে মধুর শ্যামর বিন্দু॥
উচকুচযুগ কনকগিরি।
হিয়ার মাঝারে মাণিক ছিরি॥
পবন তরল বসন মেলি।
দামিনী বেঢ়ল চাঁদনি বেলি॥
বিভ্রম সারিম সুচারু সাজ।
রবিশিলা যত তটিনী মাঝ॥
রোমলতাবলী ভুজগী ভাণ।
নাভি-সরোবরে করু পয়াণ॥
কেশরী সোসরি মাঝারি অঙ্গ।
ত্রিবলী যৌবন সোপান রঙ্গ॥
মদন বিমান চাক নিতম্ব।
উলট কদলী উরু আরম্ভ॥
নীবী যে বান্ধল বেঢ়ল জাদ।
উলট কমল ফুটল আধ॥
কটির উপরে কিঙ্কিণীনাদ।
রতন-মঞ্জীর করু বিবাদ॥
চরণ কমল শীতল ছায়।
জ্ঞানদাস মন জুড়ায় তায়॥

ই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, অভিসারিকা, ২৬৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মল্লার॥

কমল বয়ান কনক কাঁতি।
মুকুতানি কর দশন পাঁতি॥
নাসা তিল মৃদু কুসুম তুল।
কাজরে মাজল দিঠি দুকূল॥
চললি হরিণ-নয়নি রাই।
ত্রিভুবন জিনি উপমা নাই॥
অরুণ অধরে হসন ইন্দু।
চিবুকে মধুর শ্যামর বিন্দু॥
পবন তরল বসন মেলি।
দামিনী বেঢ়লি চাঁদনি বেলি॥
বিভ্রম সারিম সময় সাজ।
রবিশিলা যত তটিনী মাঝ॥
রোমলতাবলী ভুজগী ভান।
নাভি সরোবরে করু পয়াণ॥
কেশরী সোসরি মাঝারি অঙ্গ।
ত্রিবলি যৌবন জনি তরঙ্গ॥
নীবী যে বান্ধল বেঢ়ল জাদ।
উলট কমল ফুটল আধ॥
কটির উপরে কিঙ্কিণীনাদ।
রতন মঞ্জীর কর বিবাদ॥
চরণ-কমল শীতল ছায়।
জ্ঞানদাস মন জুড়াও তায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৩৯২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিসার
দিনান্তরে
॥ মল্লার॥

কমলবয়ানি কনককাঁতি।
মুকুতানিকর দশনপাঁতি॥
নাসা তিল মৃদু কুসুম তুল।
কাজরে মাজল দিঠি দুকুল॥
চললি হরিণনয়নি রাই।
ত্রিভুবন জিনি উপমা নাই॥
অরুণ অধরে হসন ইন্দু।
চিবুকে মধুর শ্যামল বিন্দু॥
উচ কুচযুগ কনক গিরি।
হিয়ার মাঝারে মাণিকছিরি॥
পবন তরল বসন মেলি।
দামিনি বেঢ়লি চাঁদনি বেলি॥
বিদ্রুমসারি রসের সাজ।
রবিশিলা যত তটনি মাঝ॥
রোমলতাবলি ভূজগি ভাণ।
নাভিসরোবরে করু পয়ান॥
কেশরি সোসরি মাঝরি অঙ্গ।
ত্রিবলি যৌবন জলতরঙ্গ॥
মদনবিমান চারু নিতম্ব।
উলট কদলি ঊরুআরম্ভ॥
বেনিয়ে বান্ধল বেনন জাদ।
উলট কমল ফুটল আধ॥
কটির উপর কিঙ্কিণি নাদ।
রতন মঞ্জির করু বিবাদ॥
চরণকমল শীতল ছায়।
জ্ঞানদাস মন জুড়ায় তায়॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিসার
॥ মল্লার॥

কমল-বয়ান কনক-কাঁতি। মুকুতা-নিকর দশন-পাঁতি॥
নাসা তিল মৃদু কুসুম তুল। কাজরে মাজল দিঠি দুকুল॥
চললি হরিণ-নয়নি রাই। ত্রিভুবন জিনি, উপমা নাই॥
অরুণ অধরে হসল ইন্দু। চিবুকে মধুর শ্যামর বিন্দু॥
উচ কুচযুগ কনক গিরি। হিয়ার মাঝারে মাণিক-ছিরি॥
পবন তরল বসন মেলি। দামিনি বেঢ়লি চাঁদনি বেলি॥
বিভ্রমসারি রসময় সাজ। রবিশিলা যত তটনি মাঝ॥
রোমলতাবলি ভূজগি-ভান। নাভি-সরোবরে করু পয়ান॥
কেশরি-সোসরি মাঝরি অঙ্গ। ত্রিবলি যৌবন-জলতরঙ্গ॥
মদন-বিমান চারু নিতম্ব। উলট কদলি উরু-আরম্ভ॥
বেনিয়ে বান্ধল বেনন জাদ। উলট কমল ফুটল আধ॥
কটির উপর কিঙ্কিণি নাদ। রতন মঞ্জির করু বিবাদ॥
চরণ-কমল শীতল ছায়। জ্ঞানদাস মন জুড়ায় তায়॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, বিদ্যাপতির অনুসরণে জ্ঞানদাস, ৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কমল বয়নি কনককাঁতি।
মুকুতানিকর দশন পাঁতি॥
নাসা তিল মৃদু কুসুমতুল।
কাজরে সাজল দিঠি দুকূল॥
চললি হরিণী-নয়নী রাই।
ত্রিভুবন জন উপমা নাই॥
অরুণ অধরে হসন ইন্দু।
চিবুকে মধুর শ্যামরু বিন্দু॥
উচ কুচযুগ কনকগিরি।
হিয়ার মাঝারে মাণিক-ছিরি॥
পবন-তরল বসন মেলি।
দামিনী বেঢ়ল চান্দনী-বেলী॥
বিদ্রুমসারি রসময় সাজ।
রবি সিনায়ত তটিনী মাঝ॥
লোম-লতাবলী ভুজগী ভাণ।
নাভিবর হ্রদে করু পয়ান॥
কেশরী সোসরি মাঝারি অঙ্গ।
ত্রিবলী যৌবন জল তরঙ্গ॥
মদনবিমান চারু নিতম্ব।
উলটকদলি উরু আরম্ভ॥
বেনিয়ে বান্ধল বেলন-জাদ।
উলট কমল ফুটল আধ॥
কটির উপরে কিঙ্কিনী-নাদ।
রতন-মঞ্জীর করু বিবাদ॥
চরণ কমল শীতল ছায়।
জ্ঞানদাস মন জুড়ায় তায়॥

টীকা ---
কমলমুখী রাধার অঙ্গকান্তি সুবর্ণের তুল্য, তাহার দন্তরাজী মুক্তাসমূহের ন্যায় শুভ্র ; নাসিকা তিলফুলের মতন মৃদু ও সুঠাম, নয়নের প্রান্তদ্বয় যেন কজ্জলে সুরঞ্জিত। মৃগনয়না রাই অভিসারে চলিলেন। ত্রিভুবনে তাঁহার রূপের তুলনা নাই। তাঁহার লাল টুকটুকে ঠোঁটে হাসিটি যেন চাঁদের রেখার মতন শোভা পাইতেছে, আর চিবুকে মৃগমদে অঙ্কিত (অথবা স্বাভাবিক তিল) একটি শ্যাম বিন্দু। তাঁহার কনকগিরিনিভ উচ্চ কুচযুগ, এবং তাহার উপর হারের মাণিকগুলি কি শ্রীসম্পন্ন ! অভিসারিণীর শুভ্রবসন বাতাসে আন্দোলিত হওয়ায় মনে হইতেছে যেন জ্যোত্সনার লতিকাকে (চান্দনি বেলী, --বেলী --বল্লী ) বিদ্যুৎ জড়াইয়াছে। গলার হারের প্রবালশ্রেণীর শোভা দেখিয়া মনে হইতেছে যেন হার-তরঙ্গিণীর মধ্যে (প্রভাত বা সন্ধ্যার রক্তবর্ণ - প্রবালের মতন রং) সূর্য্য স্নান করিতেছে। লোম লতাবলী যেন সর্পিণীর মতন সুগভীর নাভিরূপ হ্রদে গমন করিতেছে। সিংহের মতন (কেশরীসোসরি -- সদৃশ) সুন্দরীর মধ্যদেশ (কটিদেশ) আর ত্রিবলী দেখিয়া মনে হয় যেন যৌবন তরঙ্গিণীর ঢেউ। তাহার সুন্দর নিতম্ব যেন কামদেবের বিমান এবং উরুদেশ যেন কলাগাছ উল্টাইয়া দেওয়া হইয়াছে। নীবিবন্ধের সহিত যে বেলন জাদ বা বুটিদার থোপা বাঁধা রহিয়াছে তাহা দেখিয়া মনে হইতেছে বুঝি আধফোটা কমল উল্টাইয়া দেওয়া হইয়াছে। সুন্দরী সবেগে চলায় তাহার কটির কঙ্কিনী এবং পায়ের রতন নূপুর বাজিতেছে। মনে হয় যেন তাহারা পরস্পরের মধ্যে ঝগড়া করিতেছে। জ্ঞানদাস বলেন যে শ্রীরাধার চরণপদ্মের শীতল ছায়ায় তাঁহার মন জুড়ায়।

পদটীতে বিদ্যাপতির রচনারীতি, এমন কি উপমাগুলির শব্দ পর্য্যন্ত রহিয়াছে। কয়েকটি দৃষ্টান্ত দিতেছি---

দাঁত---
 দশন মুকুতা পাঁতি অধর মিলায়ল (৬২৪)
কুচযুগ ও হার ---
 অমর ভূধর সম পয়োধর মহঘ মোতিম হার।
 হেম-নির্ম্মিত শম্ভুশেখর গঙ্গ নির্ম্মলধার॥ (৩০)
অথবা ---
 গিরিবর গরুঅ পয়োধর পরসিত
 গিম গজমোতিক হারা।
 কামকম্বুভরি কনক সম্ভু পরি
 ঢারত সুরধুনিধারা॥ (৬২৩)
লোমাবলী ---
 নাভি বিবর সঞে লোম লতাবলি
 ভুজগি নিশ্বাস-পিয়াসা (২২)
অথবা ---
 কুপগভীর তরঙ্গিণী তীর।
 জনমূ সেমারলতা বিনু নীর॥ (২৭)
উরু এবং মাজা ---
 কদলি উপর কেসরি দেখল।
 কেসরি মেরু চঢ়লা॥ (২৬)

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬০৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কমলবয়নি কনককাঁতি।
মুকুতানিকর দশনপাঁতি॥
নাসা তিল মৃদু কুসুম তুল।
কাজরে মাজল দিঠি দুকুল॥
চললি হরিণনয়নি রাই।
ত্রিভুবন জিনি উপমা নাই॥
অরুণ অধরে হসন ইন্দু।
চিবুকে মধুর শ্যামল বিন্দু॥
উচ কুচযুগ কনক গিরি।
হিয়ার মাঝারে মাণিকছিরি॥
পবন তরল বসন মেলি।
দামিনি বেঢ়লি চাঁদনি বেলি॥
বিদ্রুমসারি রসময় সাজ।
রবিশিলা যত তটিনি মাঝ॥
রোমলতাবলি ভুজগি ভান।
নাভিসরোবরে করু পয়াণ॥
কেশরি সোসরি মাঝরি অঙ্গ।
ত্রিবলি যৌবন জলতরঙ্গ॥
মদনবিমান চারু নিতম্ব।
উলট কদলি ঊরুআরম্ভ॥
বেনিয়ে বান্ধল বেনন জাদ।
উলট কমল ফুটল আধ॥
কটির উপর কিঙ্কিণি নাদ।
রতন মঞ্জির করু বিবাদ॥
চরণকমল শীতল ছায়।
জ্ঞানদাস মন জুড়ায়ে তায়॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^