কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
দুতিয়াক চান্দ সবহুঁ নহি হেরই
দুতিয়ক চান্দ সবহুঁ নাহি হেরিয়ে
দূতিয়ক চান্দ সবহুঁ নাহি হেরিয়ে

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৪৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন সাহিত্য পরিষদের ২০১ সংখ্যক পুথিতে এই রূপে।

সংক্ষিপ্ত সংম্ভোগ---নবোঢ়া
॥ ধানশী॥

দুতিয়াক চান্দ     সবহুঁ নহি হেরই
পুণিম-সময়ে পরভাব।
ঐছন শ্রম-রস     ন বুঝি পরশ কত
পর এ কত এ সুখ পাব॥
এ হরি এ হরি কি বলিয়ে পারি।
তুহুঁ মত-কুঞ্জর কমলিনি নারি॥ ভ্রু॥
নিতি নিতি রাতি     শীতে যদি অতিশয়
বরিখয়ে লাখ তুষার।
তাপে উতাপিত     তিরপিত নহে খিতি
যব নহে জলধর-ধার॥
কনক-শিলিপ জনু     শারি শরণ বিনু (?)
ঐছন রসবতি-লেহ।
জ্ঞানদাস কহ     বুঝই ন বুঝহ
এ মোহে বড়ই সন্দেহ॥

বিনু (?) --- এই গ্রন্থে এভাবেই দেওয়া রয়েছে। অন্যত্র “রেণু” রয়েছে।

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৩৯০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

নবোঢ়া মিলন
সখীশিক্ষা
শ্রীকৃষ্ণের প্রতি দূতীর উক্তি
॥ ধানশী॥

দুতিয়ক চান্দ     সবহুঁ নাহি হেরিয়ে
পূণিম সময়ে পরভাব।
ঐছন শ্রম রস-     পরশন ঐছন
না জানিয়ে কিয়ে সুখ পাব॥
এ হরি এ হরি কি বলিয়ে পারি।
তুহুঁ মত কুঞ্জর কমলিনী নারী॥ ধ্রু॥
নিতি নিতি রাতি     শীতে যব অতিশয়
বরিখয়ে লাখ তুষার।
তাপে উতাপিত     তিরপিত নহে ক্ষিতি
যব নহে জলধর-ধার॥
কনকশিল্পী জনু     শারি সরণ রেণু
ঐছন রসবতী নেহ।
জ্ঞানদাস কহ     বুঝিয়া না বুঝহ
এ মোহে বড়ই সন্দেহ॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নবোঢ়া মিলন
শ্রীকৃষ্ণের প্রতি দূতীর উক্তি
॥ ধানশী॥

দুতিয়ক চান্দ     সবহুঁ নাহি হেরিয়ে
পুণিম সময়ে পরভাব।
ঐছন শ্রমরস     পরশন ঐছন
না জানিয়ে কিয়ে সুখ পাব॥
এ হরি এ হরি কি বলিয়ে পারি
তুহুঁ মত কুঞ্জর কমলিনী নারী॥ ধ্রু॥
নিতি নিতি রাতি     শীতে যব অতিশয়
বরিখয়ে লাখ তুষার।
তাপে উতাপিত     তিরপিত নহে ক্ষিতি
যব নহে জলধর-ধার॥
কনক-শিল্পী জনু     শারি সরণ-রেণু
ঐছন রসবতী নেহ।
জ্ঞানদাস কহ     বুঝিয়া না বুঝহ
এ মোহে বড়ই সন্দেহ॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, বিদ্যাপতির অনুসরণে জ্ঞানদাস, ৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। রসকলিকা ১৬৪ পৃষ্ঠা থেকে।

দুতিয়ক চান্দ     সবহুঁ নাহি হেরই
পুণিম-সময়ে পরভাব।
ঐছন শ্রম-রস     ন বুঝি পরশ কত
পর এ কত সুখ পাব॥
এ হরি এ হরি কি বলিয়ে পারি।
তুহুঁ মত কুঞ্জর কমলিনি নারি॥
নিতি নিতি রাতি     শীতে যদি অতিশয়
বরিখয়ে লাখ তুষার।
তাপে উতাপিত     তিরপিত নহে খিতি
যব নহে জলধর-ধার॥
কনক-শিলিপ জনু     শারি শরণ বিনু (?)
ঐছন রসবতী লেহ।
জ্ঞানদাস কহ     বুঝই না বুঝহ
এ মোরে বড়ই সন্দেহ॥

টীকা ---
দুতিয়াক চান্দ ইত্যাদি --- দ্বিতীয়ার চাঁদ ক্ষুদ্রাকার ও স্বল্পস্থায়ী বলিয়া সকলে দেখিতে পায় না, সেই চাঁদই আবার পূর্নিমায় নিজের প্রভাব দেখায়, এরূপ এখন বালার সঙ্গে স্পর্শ (সম্ভোগ) শ্রম মাত্র, পরে (পূর্ণিমার মতন যখন ইহার যৌবন হইবে) তখন কতসুখ পাইবে।
মতকুঞ্জর --- মত্তহস্তী।
নিতি নিতি রাতি ইত্যাদি --- অত্যন্ত শীতের রাত্রিতে প্রত্যহ ষদি খুব তুষার পাত হয়, তাহা হইলে তাহাতে ক্ষিতি উত্তপ্তই হয় ; তাহাকে ঠাণ্ডা করিতে হইলে মেঘের জলধারা প্রয়োজন। (বালার নিকট যাইলে তুমি এখন ঠাণ্ডা হইতে পারিবে না)।
কনকশিলিপ --- স্বর্ণ-শিল্পী (ইহার পরে কি আছে ঠিক বুঝা গেল না)।

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬২৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দূতিয়ক চান্দ সবহুঁ নাহি হেরিয়ে
      পূণিম সময়ে পরভাব।
ঐছন শ্রমরস পরশন ঐছন
      না জানিয়ে কিয়ে সুখ পাব॥
এ হরি এ হরি কি বলিয়ে পারি
তুহুঁ মত কুঞ্জর কমলিনী নারী॥
নিতি নিতি রাতি শীতে দেখ অতিশয়
      বরিখয়ে লাখ তুষার।
তাপে উতাপিত তিরপিত নহে ক্ষিতি
      যব নহে জলধর ধার॥
কনকশিল্পী জনু শারি সরণ রেণু
      ঐছন রসবতী নেহ।
জ্ঞানদাস কহ বুঝিয়া না বুঝহ
      এ মোহে বড়ই সন্দেহ॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^