কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
সুরধুনি-তিরে নব ভাণ্ডির-তলে
সুরধুনীতীরে নব ভাণ্ডিরতলে
সুরধনী তীরে নবভাণ্ডীর তলে

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ৫ম পল্লব, হিমকালোচিত বাসকসজ্জা, ৩২৯ নং পদসংখ্যা, ২১৩-নং পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

স্পষ্টরূপেণ যথা
॥ ভূপালী॥

সুরধুনি-তিরে নব ভাণ্ডির-তলে।
বসিয়াছে গোরাচান্দ নিজগণ মেলে॥
রজনি কৌমুদি আর হিম-ঋতু তায়।
হিম সহ পবন বহয়ে মৃদু কায়॥
তাহি রচয়ে পহুঁ ললিত শয়ান।
হেরয়ে ঘন ঘন চকিত নয়ান॥
আপন অঙ্গের ছায়া দেখিয়া উঠয়ে।
বাসক-সজ্জার ভাব জ্ঞানদাস কহে॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতী বাংলা-পুথিশালার "রতন লাইব্রেরী সংগ্রহ"-র অন্তর্ভুক্ত ও সংরক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ” পুথির ১৯৮২ সালে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত এবং তপনকুমার মুখোপাধ্যায়, অণিমা মুখোপাধ্যায় ও পরমেশ্বর মাহাতা দ্বারা সহ-সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন গ্রন্থের ১০৭ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিনী ভূপালী॥

সুরধুনীতীরে নব ভাণ্ডিরতলে। বসিআছে গোরাচান্দ নিজগণ মিলে॥
রজনী কৌমুদি আর হিমঋতু তায়। হিমকর পবন বহই মৃদু বায়॥
তাহে রচএ পহু ললিত শয়ান। হেরএ ঘন ঘন চকিত নয়ান॥
আপনার অঙ্গছায়া দেখিএ উঠএ। বাসকসজ্জার ভাব জ্ঞানদাস কহে॥

ই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ২৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্র
॥ ভূপালী॥

সুরধুনী তীরে নব ভাণ্ডীর তলে।
বসিয়াছে গোরাচাঁদ নিজগণ মেলে ॥
রজনী কৌমুদী আর হিম ঋতু তায়।
হিম সহ পবন বহয়ে মৃদু বায়॥
তাহি রচয়ে পহুঁ ললিত শয়নে।
হেরয়ে ঘন ঘন চকিত নয়ানে॥
আপন অঙ্গের ছায়া দেখিয়া উঠয়ে।
বাসক সজ্জার ভাব জ্ঞানদাস কহে॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্র
॥ ভূপালী॥

সুরধুনী তীরে নব ভাণ্ডীর তলে।
বসিয়াছে গোরাচাঁদ নিজগণ মেলে ॥
রজনী কৌমুদী আর হিম ঋতু তায়।
হিম সহ পবন বহয়ে মৃদু বায়॥
তাহি রচয়ে পহুঁ ললিত শয়নে।
হেরয়ে ঘন ঘন চকিত নয়ানে॥
আপন অঙ্গের ছায়া দেখিয়া উঠয়ে।
বাসক সজ্জার ভাব জ্ঞানদাস কহে॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, বাসকসজ্জা ও খণ্ডিতা, ২২৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সুরধুনি-তীরে নব ভাণ্ডির তলে।
বসিয়াছে গোরাচান্দ নিজগণ মেলে॥
রজনি কৌমুদি আর হিম-ঋতু তায়।
হিম সহ পহন বহয়ে মৃদু বায়॥
তাহি রচয়ে পহুঁ ললিত শয়ান।
হেরয়ে ঘন ঘন চকিত নয়ান॥
আপন অঙ্গের ছায়া দেখিয়া উঠয়ে।
বাসক-সজ্জার ভাব জ্ঞানদাস কহে॥

টীকা ---
ভাণ্ডির তলে --- বটবৃক্ষবিশেষের তলে।
রজনি কৌমুদি --- জ্যোত্স্না রাত্রি।
আপন অঙ্গের ছায়া দেখিয়া উঠযে --- নিজের দেহের ছায়া দেখিয়াই মনে হয় শ্রীকৃষ্ণ বুঝি আসিতেছেন, তাই অভ্যর্থনার জন্য দাঁড়াইয়া উঠেন।

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত লহরী”, এর ৭১ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

বাসকসজ্জা
গৌরচন্দ্র
॥ রাগিণী ভূপালী - তাল বড় দশকুশি॥

সুরধুনী তীরে নব ভাণ্ডীরের তলে। বসিয়াছে গোরাচাঁদ
নিজগণ মেলে॥ রজনী কৌমুদী আর হিম ঋতু তায়। হিমসহ
পবন বহয়ে মৃদু বায়॥ তাহি রচয়ে পহুঁ ললিত শয়নে।
হেরয়ে ঘন ঘন চকিত নয়ানে॥ আপন অঙ্গের ছায়া দেখিয়া
উঠয়ে। বাসকসজ্জার ভাব জ্ঞানদাস কহে॥

ভাবার্থ।
সুরধুনী - গঙ্গা। ভাণ্ডীক - বটবৃক্ষ। কৌমুদী - জ্যোৎস্না।

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, শ্রীগৌরচন্দ্র, ৩৭১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভূপালী॥

সুরধুনীতীরে নব ভাণ্ডীর-তলে।
বসিযাছে গোরাচান্দ নিজগণ মেলে॥
রজনী কৌমুদী আর হিমঋতু তায়।
হিম সহ পবন বহয়ে মৃদু বায়॥
তাহি রচয়ে পহু ললিত শয়ান।
হেরয়ে ঘন ঘন চকিত নয়ান॥
আপন অঙ্গের ছায়া দেখিয়া উঠয়ে।
বাসকসজ্জার ভাব জ্ঞানদাস কহে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভূপালী॥

সুরধুনি-তিরে নব ভাণ্ডির-তলে।
বসিয়াছে গোরাচান্দ নিজগণ মেলে॥
রজনি কৌমুদি আর হিম-ঋতু তায়।
হিম সহ পবন বহয়ে মৃদু বায়॥
তাহি রচয়ে পহু ললিত শয়ান।
হেরয়ে ঘন ঘন চকিত নয়ান॥
আপন অঙ্গের ছায়া দেখিয়া উঠয়ে।
বাসক-সজ্ জার ভাব জ্ঞানদাস কহে॥

ই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত সঙ্গীতাচার্য্য দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন "কীর্ত্তন-পদাবলী" এর ৬৯ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

বাসকসজ্জা
শ্রীগৌরচন্দ্র

সুরধনী তীরে নবভাণ্ডীর তলে।
বসিয়াছে গোরাচাঁদ নিজগণ মেলে॥
রজনী কৌমুদি আর হিম ঋতু তায়।
হিম সহ পবন বহয়ে মৃদুকায়॥
তাহি রচয়ে পহুঁ ললিত শয়নে।
হেরয়ে ঘন ঘন চকিত নয়নে॥
আপন অঙ্গের ছায়া দেখিয়া উঠয়ে।
বাসক সজ্জার ভাব জ্ঞানদাস কহে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৬৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সুরধনী তীরে নবভাণ্ডীর তলে।
বসিয়াছে গোরাচাঁদ নিজগণ মেলে॥
রজনী কৌমুদী আর হিমঋতু তায়।
হিম সহ পবন বহয়ে মৃদু বায়॥
তাহি রচয়ে পহুঁ ললিত শয়ান।
হেরয়ে ঘন ঘন চকিত নয়ান॥
আপন অঙ্গের ছায়া দেখিয়া উঠয়ে।
বাসকসজ্জার ভাব জ্ঞানদাস কহে॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^