কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
তিলেকে তেয়াগিলুঁ পতি খুর-ধার
কবি জ্ঞানদাস
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, অনুরাগ ও আক্ষেপানুরাগ, ১৯১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
তিলেকে তেয়াগিলুঁ পতি খুর-ধার।
শ্রবণে না শূনলুঁ ধরম বিচার॥
অবলা অখল-জাতি ভুলে পর বোলে।
রসের আবেশে দীপ নিভাইল সাঁজ-বেলে॥
সজনী নিবেদিলুঁ তোরে।
কলঙ্ক রহিল মোরা গোকুল নগরে॥
যে লোকের লাগি কৈলুঁ কুলের বঞ্চনা।
কত না সহিব আর গুরুর গঞ্জনা॥
যার লাগি তেজিলুঁ সকল গৃহ-সুখ।
না জানি কি জানি এবে সে জন বিমুখ॥
দুখের উপরে দুখ পরিজন-বোল।
সতীর সমাজে ভাঁড়াইতে হৈলুঁ চোর॥
জ্ঞানদাস কহে ইথে কেমন উপায়।
সুখ-পরাভব দুখ সহনে না যায়॥
টীকা ---
তিলেকে তেয়াগিলুঁ ইত্যাদি --- পতি ক্ষুরের মতন ধারালো (তেজস্বী) হওয়া সত্বেও তাহাতে এক তিল সময়ের মধ্যে ত্যাগ করিলাম।
তুলনীয় কৃষ্ণকীর্তন --- আইহন ক্ষুরের ধার।
অখল জাতি --- তাহারা খলস্বভাব নহে।
রসের আবেশে দীপ ইত্যাদি --- প্রেমরসে মত্ত হইয়া আমার গৃহের দীপ সন্ধ্যাকালেই নিভাইলাম।
গৃহের দীপ দিয়া আর কিছুই দেখিবার সুযোগ রাখিলাম না।
তুলনীয় --- চণ্ডীদাস --- সাঁঝে নিবাইল বাতি, কত পোহাইব রাতি।
এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৪৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন সাহিত্য পরিষদের ২০১ সংখ্যক পুথিতে এই রূপে।
শ্রবণে না শূনলুঁ ধরম বিচার॥
অবলা অখল-জাতি ভুলে পর বোলে।
রসের আবেশে দীপ নিভাইল সাঁজ-বেলে॥
সজনী নিবেদিলুঁ তোরে।
কলঙ্ক রহিল মোরা গোকুল নগরে॥
যে লোকের লাগি কৈলুঁ কুলের বঞ্চনা।
কত না সহিব আর গুরুর গঞ্জনা॥
যার লাগি তেজিলুঁ সকল গৃহ-সুখ।
না জানি কি জানি এবে সে জন বিমুখ॥
দুখের উপরে দুখ পরিজন-বোল।
সতীর সমাজে ভাঁড়াইতে হৈলুঁ চোর॥
জ্ঞানদাস কহে ইথে কেমন উপায়।
সুখ-পরাভব দুখ সহনে না যায়॥
টীকা ---
তিলেকে তেয়াগিলুঁ ইত্যাদি --- পতি ক্ষুরের মতন ধারালো (তেজস্বী) হওয়া সত্বেও তাহাতে এক তিল সময়ের মধ্যে ত্যাগ করিলাম।
তুলনীয় কৃষ্ণকীর্তন --- আইহন ক্ষুরের ধার।
অখল জাতি --- তাহারা খলস্বভাব নহে।
রসের আবেশে দীপ ইত্যাদি --- প্রেমরসে মত্ত হইয়া আমার গৃহের দীপ সন্ধ্যাকালেই নিভাইলাম।
গৃহের দীপ দিয়া আর কিছুই দেখিবার সুযোগ রাখিলাম না।
তুলনীয় --- চণ্ডীদাস --- সাঁঝে নিবাইল বাতি, কত পোহাইব রাতি।
এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৪৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন সাহিত্য পরিষদের ২০১ সংখ্যক পুথিতে এই রূপে।
অনুরাগ
॥ সিন্ধুড়া॥
তিলেকে তেয়াগিলুঁ পতি খুর-ধার।
শ্রবণে না শুনলুঁ ধরম-বিচার॥
অবলা অখল-জাতি ভুলে পর-বোলে।
রসের আবেশে দীপ নিভাইল সাঁজ-বেলে॥
সজনী নিবেদিলুঁ তোরে।
কলঙ্ক রহিল মোর গোকুল-নগরে॥ ধ্রু॥
যে লোকের লাগি কৈলুঁ কুলের বঞ্চনা।
কত না সহিব আর গুরুর গঞ্জনা॥
যার লাগি তেজিলুঁ সকল গৃহ-সুখ।
না জানি কি জানি এবে সে জন বিমুখ॥
দুখের উপরে দুখ পরিজন-বোল।
সতীর সমান ডাঁড়াইতে হৈলুঁ চোর॥
জ্ঞানদাস কহে ইথে কেমন উপায়।
সুখ-পরাভব দুখ সহনে না যায়॥
*********************
॥ সিন্ধুড়া॥
তিলেকে তেয়াগিলুঁ পতি খুর-ধার।
শ্রবণে না শুনলুঁ ধরম-বিচার॥
অবলা অখল-জাতি ভুলে পর-বোলে।
রসের আবেশে দীপ নিভাইল সাঁজ-বেলে॥
সজনী নিবেদিলুঁ তোরে।
কলঙ্ক রহিল মোর গোকুল-নগরে॥ ধ্রু॥
যে লোকের লাগি কৈলুঁ কুলের বঞ্চনা।
কত না সহিব আর গুরুর গঞ্জনা॥
যার লাগি তেজিলুঁ সকল গৃহ-সুখ।
না জানি কি জানি এবে সে জন বিমুখ॥
দুখের উপরে দুখ পরিজন-বোল।
সতীর সমান ডাঁড়াইতে হৈলুঁ চোর॥
জ্ঞানদাস কহে ইথে কেমন উপায়।
সুখ-পরাভব দুখ সহনে না যায়॥
*********************
