কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
তুমি কি না জান সৈ যত পরমাদ
তুমি কি না জান সই যত পরমাদ

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭২৫ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত, শ্রীনিবাস আচার্য্যর পৌত্র রাধামোহন ঠাকুর রচিত ও সংকলিত, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা ১২৮৫ বঙ্গাব্দে (১৮৭৮ খৃষ্টাব্দ) সম্পাদিত "পদামৃত সমুদ্র", ২৪৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথানু রাগঃ॥
॥ সুহই রাগৈকতালী তালাভ্যাং॥

   তুমি কি না জান সৈ যত পরমাদ। কি ঘর বাহির
লোকে বলে পরিবাদ॥ ধ্রু॥ তমু সে বন্ধুরে আমি পাশরিতে
নারি। কি বিধি বিয়াধি দিলে কি বুধি বা করি॥ কি
খেনে দেখিলু সে বিদগধ রায়। পাষাণের রেখ যেন মেটন
না যায়॥ গুরু জন যত বোলে শ্রবণে না শুনি। কি
করিতে কি না হয় কহই না জানি॥ দেখিয়া যতেক লোক
করে পরিহাস। চান্দের উদয়ে যেন তিমির বিনাশ॥ পতির
আরতি যেন জ্বলন্ত আগুনি। বন্ধুর পিরিতি বুকে বহিছে
ত্রিবেণী॥ সোঙরি সে রূপ গুণ পরাণ জুড়ায়। ভালে
জ্ঞান দাস চিতে সোয়াত না পায়॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, অনুরাগ ও আক্ষেপানুরাগ, ১৯০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তুমি কি না জান সৈ যত পরমাদ।
কি ঘর বাহির লোকে বলে পরিবাদ॥ ধ্রু॥
তমু সে বন্ধুরে আমি পাশরিতে নারি।
কি বিধি বিয়াধি দিলে কি বুধি বা করি॥
কি খেনে দেখিলুঁ সে বিদগধ রায়।
পাষানের রেখ যেন মেটন না যায়॥
গুরুজন যত বোলে শ্রবণে না শুনি।
কি করিতে কি না হয় কহই না জানি॥
দেখিয়া যতেক লোক করে পরিহাস।
চান্দের উদয়ে যেন তিমির বিনাশ॥
পতির আরতি যেন জ্বলন্ত আগুনি।
বন্ধুর পিরিতি বুকে বহিছে ত্রিবেণী॥
সোঙরি সে রূপ-গুণ পরাণ জুড়ায়।
ভালে জ্ঞানদাস চিতে সোয়াত না পায়॥

টীকা ---
যত পরমাদ --- যত বিপদ।
পরিবাদ --- কলঙ্ক।
পাষানের রেখ যেন মেটন না যায় --- তাহাকে দেখিয়া যে প্রেমে পড়িলাম, তাহা যেন আঁকা রেখার মতন স্থায়ী, তাহা কিছুতেই মুছিয়া ফেলা যায় না।
চান্দের উদয় যেন তিমির বিনাশ --- লোকের পরিহাস যেন অন্ধকারস্বরূপ আর কানুর প্রেম চন্দ্রস্বরূপ। সেই পরিহাস আমি গ্রাহ্য করি না।
পতির আরতি যেন জ্বলন্ত আগুনি --- আমি মনে প্রাণে কানাইকেই ভালবাসি, তাই স্বামীর ভালবাসা আমার কাছে জ্বলন্ত আগুনের মতন মনে হয়।
বন্ধুর পিরিতি বুকে বহিছে ত্রিবেণী --- বন্ধুর প্রেম যেন গঙ্গা-যমুনা-সরস্বতীরূপে আমার হৃদয়ে প্রবাহিত হইয়া আমাকে শীতল করিতেছে।
‘ক’ (কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৩৬৩ সালে প্রকাশিত জ্ঞানদাসের পদাবলী) এই স্থানে ‘ত্রিবেণী’র পরিবর্তে ‘এমনি’ পাঠ ধরিয়াছেন বলিয়া ব্যাখ্যাতে বিভ্রাট ঘটিয়াছে।
সোয়াত----সোয়াস্তি।

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৪৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথিতে এই রূপে।

অনুরাগ
॥ সুহই॥

তুমি কিনা জান সই যত পরমাদ।
কি ঘরে বাহিরে লোকে বলে পরিবাদ॥
তভু সে বন্ধুরে আমি পাসরিতে নারি।
কি বিধি বেয়াধি দিল কি বুদ্ধি বা করি॥
কি খেণে দেখিলুঁ সই বিদগধ-রায়।
পাষাণের রেখ যেন মিটিলে না যায়॥
গুরুজন যত বোলে শ্রবণে না শুনি।
কি করিতে কিনা হয় একুই না জানি॥
দেখিয়া যতেক লোকে করে উপহাস।
চান্দের উদয়ে যেন তিমির বিনাশ॥
পতির আরতি যেন জ্বলন্ত আগুনি।
বন্ধুর পিরিতি বুকে রহিছে তেমনি॥
সোঙরিতে সব গুণ পরাণ জুড়ায়।
ভালে জ্ঞানদাস চিতে সোয়াস্ত না পায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪১৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ সুহই॥

তুমি কি না জান সই যত পরমাদ।
কি ঘরে বাহিরে লোকে বলে পরিবাদ॥
তভু যে বন্ধুরে আমি পাসরিতে নারি।
কি বিধি বেয়াধি দিল কি বুদ্ধি বা করি॥
কি খেনে দেখিলুঁ সই বিদগধ রায়।
পাষাণের রেখা যেন মিটিলে না যায়॥
গুরুজন যত বলে শ্রবণে না শুনি।
কি করিতে কি না করি একুই না জানি॥
দেখিয়া যতেক লোক করে উপহাস।
চাঁদের উদয়ে যেন তিমির বিনাশ॥
পতির আরতি যেন জলন্ত আগুনি।
বন্ধুর পিরীতি বুকে দহিছে তেমনি॥
সোঙরিতে সব গুণ পরাণ জুড়ায়।
ভালে জ্ঞানদাস চিতে সোয়াথ না পায়॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ
॥ সুহই॥

তুমি কি না জান সই যত পরমাদ।   কি ঘরে বাহিরে লোকে বলে পরিবাদ॥
তভু যে বন্ধুরে আমি পাসরিতে নারি।   কি বিধি বেয়াধি দিল কি বুদ্ধি বা করি॥
কি খেনে দেখিলুঁ সই বিদগধ রায়।   পাষাণের রেখ যেন মিটিলে না যায়॥
গুরুজন যত বলে শ্রবণে না শুনি।   কি করিতে কি না করি একুই না জানি॥
দেখিয়া যতেক লোকে করে উপহাস।   চাঁদের উদয়ে যেন তিমির বিনাশ॥
পতির আরতি যেন জলন্ত আগুনি।   বন্ধুর পিরিতি বুকে বহিছে তেমনি॥
সাওরিতে সব গুণ পরাণ জুড়ায়।   ভালে জ্ঞানদাস চিতে সোরাথ না পায়॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬২৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তুমি কি না জান সই যত পরমাদ।
কি ঘরে বাহিরে লোকে বলে পরিবাদ॥
তভু যে বন্ধুরে আমি পাসরিতে নারি।
কি বিধি বেয়াধি দিল কি বুদ্ধি বা করি॥
কি খেনে দেখিলুঁ সই বিদগধ রায়।
পাষাণের রেখা যেন মিটিলে না যায়॥
গুরুজন যত বলে শ্রবণে না শুনি।
কি করিতে কি না করি একুই না জানি॥
দেখিয়া যতেক লোক করে উপহাস।
চাঁদের উদয়ে যেন তিমির বিনাশ॥
পতির আরতি যেন জ্বলন্ত আগুনি।
বন্ধুর পিরীতি বুকে দহিছে তেমনি॥
সোঙরিতে সব গুণ পরাণ জুড়ায়।
ভালে জ্ঞানদাস চিতে সোয়াথ না পায়॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^