কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
এ ধনি মানিনি কি বোলব তোয়
এই ধনি মানিনি কি বোলব তোয়
কবি জ্ঞানদাস
এই ধনি মানিনি কি বোলব তোয়
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ২২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
মান
॥ ধানশী॥
এ ধনি মানিনি কি বোলব তোয়।
তোহারি পিরীতি মোর জীবন রহয়॥ ধ্রু।
বিবিধ কেলি তুয়া তনু পরকাশ।
তহি লাগি কেলি কদম্বে করি বাস॥
রজনী দিবস করি তুয়া গুণ গান।
তুয়া বিনে মনে মোর নাহি লয়ে আন॥
শয়ন করিয়ে যদি তোমা না পাইয়া।
স্বপনে থাকিয়ে তোমা তনু আলিঙ্গিয়া॥
তোমার অধর রস পানে মোর আশ।
করজ লিখিয়া লহ মুই তুয়া দাস॥
মনমথ কোটি মথন তুয়া মুখ।
তোমার বচন শুনি উঠে কত সুখ॥
জ্ঞানদাস কহ ধনি মোর মুখ চাও।
সরস পরশ দেই কানুরে জীয়াও॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২৪২ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
মান।
॥ ধানশী॥
এ ধনি মানিনি কি বোলব তোয়।
তোহারি পিরীতি মোর জীবন রহয়॥
বিবিধ কেলি তুয়া তনু পরকাশ।
তহি লাগি কেলি কদম্বে করি বাস॥
রজনী দিবস করি তুয়া গুণ গান।
তুয়া বিনে মনে মোর নাহি লয়ে আন॥
শয়ন করিয়ে যদি তোমা না পাইয়া।
স্বপনে থাকিয়ে তোমা তনু আলিঙ্গিয়া॥
তোমার অধর রস পানে মোর আশ।
করজ লিখিয়া লহ মুই তুই @@॥
মনমথ কোটি মথন তুয়া মুখ।
তোমার বচন শুনি উঠে কত সুখ॥
জ্ঞানদাস কহ ধনি মোর মুখ চাও।
সরস পরশ দেই কানুরে জীয়াও॥
@@ - অপাঠ্য শব্দ।
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৭৪ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
মান।
॥ ধানশী॥
এ ধনি মানিনি কি বোলব তোয়।
তোহারি পিরীতি মোর জীবন রহয়॥
বিবিধ কেলি তুয়া তনু পরকাশ। তহি
লাগি কেলিকদম্বে করি বাস॥ রজনী
দিবস করি তুয়া গুণ গান। তুয়া বিনে
মনে মোর নাহি লয়ে আন॥ শয়ন করিয়ে
যদি তোমা না পাইয়া। স্বপনে থাকিয়ে
তোমা তনু আলিঙ্গিয়া॥ তোমার অধর রস
পানে মোর আশ। করজ লিখিয়া লহ মুই
তুয়া দাস॥ মনমথ কোটি মথন তুয়া মুখ।
তোমার বচন শুনি উঠে কত সুখ॥ জ্ঞান-
দাস কহ ধনি মোর মুখ চাও। সরস
পরশ দেই কানুরে জীয়াও॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
মান
॥ ধানশী॥
এ ধনি মানিনি কি বোলব তোয়।
তোহারি পিরীতি মোর জীবন রহয়॥
বিবিধ কেলি তুয়া তনু পরকাশ।
তহি লাগি কেলিকদম্বে করি বাস॥
রজনী দিবস করি তুয়া গুণ গান।
তুয়া বিনে মনে মোর নাহি লয়ে আন॥
শয়ন করিয়ে যদি তোমা না পাইয়া।
স্বপনে থাকিয়ে তোমা তনু আলিঙ্গিয়া॥
তোমার অধর-রস পানে মোর আশ।
করজ লিখিয়া লহ মুই তুয়া দাস॥
মনমথ কোটী মথন তুয়া মুখ।
তোমার বচন শুনি উঠে কত সুখ॥
জ্ঞানদাস কহ ধনি মোর মুখ চাও।
সরস পরশ দেই কানুরে জীয়াও॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, মান, ২৩৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
এ ধনি মানিনি কি বেলোব তোয়।
তুহারি পিরিতি মোর জীবন হোয়॥
বিবিধ কেলি তুয়া তনু পরকাশ।
তথিলাগি কেলি-কদম্ব করি বাস॥
রজনি দিবস করি তুয়া গুণ গান।
তুয়া বিনে মনে মোর নাহি লয়ে আন॥
শয়ন করিয়ে যদি তোমা না পাইয়া।
সপনে থাকিয়ে তোমা তনু আলিঙ্গিয়া॥
তোমার অধর-রস পানে মোর আশ।
কবজ লিখিয়া লহ মুঞি তুয়া দাস॥
মনমথ কোটি-মথন তুয়া মুখ।
তোমার বচন শুনি উঠে কত সুখ॥
জ্ঞানদাস কহ ধনি মোর মুখ চাও।
সরস পরশ দেই কানুরে জিয়াও॥
টীকা ---
কবজ লিখিয়া লহ --- বিক্রয় পত্রের সঙ্গে যে দখলের রসিদ দেওয়া হয় (সেকালে দাস বিক্রয়ের রীতি ছিল)।
মনমথকোটিমথন তুয়া মুখ --- তোমার মুখ যেন কোটি মন্মথকে মথিত করিতে পারে।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৪৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
মান
॥ ধানশী॥
এই ধনি মানিনি কি বোলব তোয়।
তোহারি পিরীতি মোর জীবন রহয়॥
বিবিধ কেলি তুয়া তনু পরকাশ।
তহি লাগি কেলিকদম্বে করি বাস॥
রজনী দিবস করি তুয়া গুণ গান।
তুয়া বিনে মনে মোর নাহি লয়ে আন॥
শয়ন করিয়ে যদি তোমা না পাইয়া।
স্বপনে থাকিয়া তোমা তনু আলিঙ্গিয়া॥
তোমার অধর-রস-পানে মোর আশ।
করজ লিখিয়া লহ মুই তুয়া দাস॥
মনমথ কোটী মথন তুয়া মুখ।
তোমার বচন শুনি উঠে কত সুখ॥
জ্ঞানদাস কহ ধনি মোর মুখ চাও।
সরস পরশ দেই কানুরে জীয়াও॥
এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৫১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথিতে এই রূপে।
শ্রীকৃষ্ণের উক্তি
॥ ধানশী॥
এ ধনি মানিনি কি বোলব তোয়॥
তুহারি পিরিতি মোর জীবন হোয়॥
বিবিধ কেলি তুয়া তনু পরকাশ।
তথি লাগি কেলি-কদম্ব করি বাস॥
রজনি দিবস করি তুয়া গুণ গান।
তুয়া বিনে মনে মোর নাহি লয়ে আন॥
শয়ন করিয়ে যদি তোমা না পাইয়া।
সপনে থাকিয়ে তোমা তনু আলিঙ্গিয়া॥
তোমার অধর-রস-পানে মোর আশ।
কবজ লিখিয়া লহ মুঞি তুয়া দাস।
মনমথ-কোটি-মথন তুয়া মুখ।
তোমার বচন শুনি উঠে কত সুখ॥
জ্ঞানদাস কহ ধনি মোর মুখ চাও।
সরস পরশ দেই কানুরে জিয়াও @॥
@ --- “সরস” ইত্যাদি বাক্যের ব্যঞ্জনা দ্বারা কবি বুঝাইতেছেন যে, কৃষ্ণ রাধার অনুরাগ-যুক্ত স্পর্শ অর্থাং আলিঙ্গনের ভিখারী --- তিনি রস-হীন পরশ-পাথরও চাহেন না।
এই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত “কাব্য-রত্নমালা” গ্রন্থের, মানভঞ্জন, ৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ ধানশী॥
এ ধনি মানিনি কি বোলব তোয়॥
তুহারি পিরীতি মোর জীবন রহয়॥
বিবিধ কেলি তুয়া তনু পরকাশ।
তথি লাগি কেলি কদম্বে করি বাস॥
রজনী দিবস করি তুয়া গুণ গান।
তুয়া বিনে মনে মোর নাহি লয়ে আন॥
শয়ন করিয়ে যদি তোমা না পাইয়া।
স্বপনে থাকিয়ে তোমা তনু আলিঙ্গিয়া॥
তোমার অধররস পানে মোর আশ।
কবজ লিখিয়া লই মুই তুয়া দাস।
মনমথ কোটি মথন তুয়া মুখ।
তোমার বচন শুনি উঠে কত সুখ॥
জ্ঞানদাস কহ ধনি মোর মুখ চাও।
সরস পরশ দেই কানুরে জীয়াও॥
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪৩৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
মান
দূতীর প্রতি শ্রীকৃষ্ণ
॥ ধানশী॥
এ ধনি মানিনি কি বোলব তোয়।
তুয়ার পিরীতি মোর জীবন হোয়॥ ধ্রু॥
বিবিধ কেলি তুয়া তনু পরকাশ।
তথি লাগি কেলিকদম্ব করি বাস॥
রজনিদিবস করি তুয়া গুণ গান।
তুয়া বিনে মনে মোর নাহি লয়ে আন॥
শয়ন করিয়ে যদি তোমা না পাইয়া।
স্বপনে থাকিয়ে তোমা তনু আলিঙ্গিয়া॥
তোমার অধর-রস পানে মোর আশ।
কবজ লিখিয়া লেহ মুঞি তুয়া দাস॥
মনমথ কোটি মথন তুয়া মুখ।
তোমার বচন শুনি উঠে কত সুখ॥
জ্ঞানদাস কহ ধনি মোর মুখ চাও।
সরস পরশ দেই কানুরে জীয়াও॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ২৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
মান
॥ ধানশী॥
এ ধনি মানিনি কি বোলব তোয়। তুয়ার পিরিতি মোর জীবন হোয়॥
বিবিধ কেলি তুয়া তনু পরকাশ। তথি লাগি কেলিকদম্ব করি বাস॥
রজনি-দিবস করি তুয়া গুণ গান। তুয়া বিনে মনে মোর নাহি লয়ে আন॥
শয়ন করিয়ে যদি তোমা না পাইয়া। স্বপনে থাকিয়ে তোমা তনু আলিঙ্গিয়া॥
তোমার অধর-রস পানে মোর আশ। কবজ লিখিয়া লেহ মুঞি তুয়া দাস॥
মনমথ-কোটি-মথন তুয়া মুখ। তোমার বচন শুনি উঠে কত সুখ॥
জ্ঞানদাস কহ ধনি মোর মুখ চাও। সরস পরশ দেই কানুরে জিয়াও॥
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬০৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
এ ধনি মানিনি কি বোলব তোয়।
তুয়ার পিরীতি মোর জীবন হোয়॥
বিবিধ কেলি তুয়া তনু পরকাশ।
তথি লাগি কেলিকদম্ব করি বাস॥
রজনিদিবস করি তুয়া গুণ গান।
তুয়া বিনে মনে মোর নাহি লয়ে আন॥
শয়ন করিয়ে যদি তোমা না পাইয়া।
স্বপনে থাকিয়ে তোমা তনু আলিঙ্গিয়া॥
তোমার অধররস পানে মোর আশ।
কবজ লিখিয়া লেহ মুঞি তুয়া দাস॥
মনমথ কোটি মথন তুয়া মুখ।
তোমার বচন শুনি উঠে কত সুখ॥
জ্ঞানদাস কহ ধনি মোর মুখ চাও।
সরস পরশ দেই কানুরে জীয়াও॥
*********************
॥ ধানশী॥
এ ধনি মানিনি কি বোলব তোয়।
তোহারি পিরীতি মোর জীবন রহয়॥ ধ্রু।
বিবিধ কেলি তুয়া তনু পরকাশ।
তহি লাগি কেলি কদম্বে করি বাস॥
রজনী দিবস করি তুয়া গুণ গান।
তুয়া বিনে মনে মোর নাহি লয়ে আন॥
শয়ন করিয়ে যদি তোমা না পাইয়া।
স্বপনে থাকিয়ে তোমা তনু আলিঙ্গিয়া॥
তোমার অধর রস পানে মোর আশ।
করজ লিখিয়া লহ মুই তুয়া দাস॥
মনমথ কোটি মথন তুয়া মুখ।
তোমার বচন শুনি উঠে কত সুখ॥
জ্ঞানদাস কহ ধনি মোর মুখ চাও।
সরস পরশ দেই কানুরে জীয়াও॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২৪২ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
মান।
॥ ধানশী॥
এ ধনি মানিনি কি বোলব তোয়।
তোহারি পিরীতি মোর জীবন রহয়॥
বিবিধ কেলি তুয়া তনু পরকাশ।
তহি লাগি কেলি কদম্বে করি বাস॥
রজনী দিবস করি তুয়া গুণ গান।
তুয়া বিনে মনে মোর নাহি লয়ে আন॥
শয়ন করিয়ে যদি তোমা না পাইয়া।
স্বপনে থাকিয়ে তোমা তনু আলিঙ্গিয়া॥
তোমার অধর রস পানে মোর আশ।
করজ লিখিয়া লহ মুই তুই @@॥
মনমথ কোটি মথন তুয়া মুখ।
তোমার বচন শুনি উঠে কত সুখ॥
জ্ঞানদাস কহ ধনি মোর মুখ চাও।
সরস পরশ দেই কানুরে জীয়াও॥
@@ - অপাঠ্য শব্দ।
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৭৪ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
মান।
॥ ধানশী॥
এ ধনি মানিনি কি বোলব তোয়।
তোহারি পিরীতি মোর জীবন রহয়॥
বিবিধ কেলি তুয়া তনু পরকাশ। তহি
লাগি কেলিকদম্বে করি বাস॥ রজনী
দিবস করি তুয়া গুণ গান। তুয়া বিনে
মনে মোর নাহি লয়ে আন॥ শয়ন করিয়ে
যদি তোমা না পাইয়া। স্বপনে থাকিয়ে
তোমা তনু আলিঙ্গিয়া॥ তোমার অধর রস
পানে মোর আশ। করজ লিখিয়া লহ মুই
তুয়া দাস॥ মনমথ কোটি মথন তুয়া মুখ।
তোমার বচন শুনি উঠে কত সুখ॥ জ্ঞান-
দাস কহ ধনি মোর মুখ চাও। সরস
পরশ দেই কানুরে জীয়াও॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
মান
॥ ধানশী॥
এ ধনি মানিনি কি বোলব তোয়।
তোহারি পিরীতি মোর জীবন রহয়॥
বিবিধ কেলি তুয়া তনু পরকাশ।
তহি লাগি কেলিকদম্বে করি বাস॥
রজনী দিবস করি তুয়া গুণ গান।
তুয়া বিনে মনে মোর নাহি লয়ে আন॥
শয়ন করিয়ে যদি তোমা না পাইয়া।
স্বপনে থাকিয়ে তোমা তনু আলিঙ্গিয়া॥
তোমার অধর-রস পানে মোর আশ।
করজ লিখিয়া লহ মুই তুয়া দাস॥
মনমথ কোটী মথন তুয়া মুখ।
তোমার বচন শুনি উঠে কত সুখ॥
জ্ঞানদাস কহ ধনি মোর মুখ চাও।
সরস পরশ দেই কানুরে জীয়াও॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, মান, ২৩৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
এ ধনি মানিনি কি বেলোব তোয়।
তুহারি পিরিতি মোর জীবন হোয়॥
বিবিধ কেলি তুয়া তনু পরকাশ।
তথিলাগি কেলি-কদম্ব করি বাস॥
রজনি দিবস করি তুয়া গুণ গান।
তুয়া বিনে মনে মোর নাহি লয়ে আন॥
শয়ন করিয়ে যদি তোমা না পাইয়া।
সপনে থাকিয়ে তোমা তনু আলিঙ্গিয়া॥
তোমার অধর-রস পানে মোর আশ।
কবজ লিখিয়া লহ মুঞি তুয়া দাস॥
মনমথ কোটি-মথন তুয়া মুখ।
তোমার বচন শুনি উঠে কত সুখ॥
জ্ঞানদাস কহ ধনি মোর মুখ চাও।
সরস পরশ দেই কানুরে জিয়াও॥
টীকা ---
কবজ লিখিয়া লহ --- বিক্রয় পত্রের সঙ্গে যে দখলের রসিদ দেওয়া হয় (সেকালে দাস বিক্রয়ের রীতি ছিল)।
মনমথকোটিমথন তুয়া মুখ --- তোমার মুখ যেন কোটি মন্মথকে মথিত করিতে পারে।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৪৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
মান
॥ ধানশী॥
এই ধনি মানিনি কি বোলব তোয়।
তোহারি পিরীতি মোর জীবন রহয়॥
বিবিধ কেলি তুয়া তনু পরকাশ।
তহি লাগি কেলিকদম্বে করি বাস॥
রজনী দিবস করি তুয়া গুণ গান।
তুয়া বিনে মনে মোর নাহি লয়ে আন॥
শয়ন করিয়ে যদি তোমা না পাইয়া।
স্বপনে থাকিয়া তোমা তনু আলিঙ্গিয়া॥
তোমার অধর-রস-পানে মোর আশ।
করজ লিখিয়া লহ মুই তুয়া দাস॥
মনমথ কোটী মথন তুয়া মুখ।
তোমার বচন শুনি উঠে কত সুখ॥
জ্ঞানদাস কহ ধনি মোর মুখ চাও।
সরস পরশ দেই কানুরে জীয়াও॥
এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৫১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথিতে এই রূপে।
শ্রীকৃষ্ণের উক্তি
॥ ধানশী॥
এ ধনি মানিনি কি বোলব তোয়॥
তুহারি পিরিতি মোর জীবন হোয়॥
বিবিধ কেলি তুয়া তনু পরকাশ।
তথি লাগি কেলি-কদম্ব করি বাস॥
রজনি দিবস করি তুয়া গুণ গান।
তুয়া বিনে মনে মোর নাহি লয়ে আন॥
শয়ন করিয়ে যদি তোমা না পাইয়া।
সপনে থাকিয়ে তোমা তনু আলিঙ্গিয়া॥
তোমার অধর-রস-পানে মোর আশ।
কবজ লিখিয়া লহ মুঞি তুয়া দাস।
মনমথ-কোটি-মথন তুয়া মুখ।
তোমার বচন শুনি উঠে কত সুখ॥
জ্ঞানদাস কহ ধনি মোর মুখ চাও।
সরস পরশ দেই কানুরে জিয়াও @॥
@ --- “সরস” ইত্যাদি বাক্যের ব্যঞ্জনা দ্বারা কবি বুঝাইতেছেন যে, কৃষ্ণ রাধার অনুরাগ-যুক্ত স্পর্শ অর্থাং আলিঙ্গনের ভিখারী --- তিনি রস-হীন পরশ-পাথরও চাহেন না।
এই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত “কাব্য-রত্নমালা” গ্রন্থের, মানভঞ্জন, ৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ ধানশী॥
এ ধনি মানিনি কি বোলব তোয়॥
তুহারি পিরীতি মোর জীবন রহয়॥
বিবিধ কেলি তুয়া তনু পরকাশ।
তথি লাগি কেলি কদম্বে করি বাস॥
রজনী দিবস করি তুয়া গুণ গান।
তুয়া বিনে মনে মোর নাহি লয়ে আন॥
শয়ন করিয়ে যদি তোমা না পাইয়া।
স্বপনে থাকিয়ে তোমা তনু আলিঙ্গিয়া॥
তোমার অধররস পানে মোর আশ।
কবজ লিখিয়া লই মুই তুয়া দাস।
মনমথ কোটি মথন তুয়া মুখ।
তোমার বচন শুনি উঠে কত সুখ॥
জ্ঞানদাস কহ ধনি মোর মুখ চাও।
সরস পরশ দেই কানুরে জীয়াও॥
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪৩৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
মান
দূতীর প্রতি শ্রীকৃষ্ণ
॥ ধানশী॥
এ ধনি মানিনি কি বোলব তোয়।
তুয়ার পিরীতি মোর জীবন হোয়॥ ধ্রু॥
বিবিধ কেলি তুয়া তনু পরকাশ।
তথি লাগি কেলিকদম্ব করি বাস॥
রজনিদিবস করি তুয়া গুণ গান।
তুয়া বিনে মনে মোর নাহি লয়ে আন॥
শয়ন করিয়ে যদি তোমা না পাইয়া।
স্বপনে থাকিয়ে তোমা তনু আলিঙ্গিয়া॥
তোমার অধর-রস পানে মোর আশ।
কবজ লিখিয়া লেহ মুঞি তুয়া দাস॥
মনমথ কোটি মথন তুয়া মুখ।
তোমার বচন শুনি উঠে কত সুখ॥
জ্ঞানদাস কহ ধনি মোর মুখ চাও।
সরস পরশ দেই কানুরে জীয়াও॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ২৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
মান
॥ ধানশী॥
এ ধনি মানিনি কি বোলব তোয়। তুয়ার পিরিতি মোর জীবন হোয়॥
বিবিধ কেলি তুয়া তনু পরকাশ। তথি লাগি কেলিকদম্ব করি বাস॥
রজনি-দিবস করি তুয়া গুণ গান। তুয়া বিনে মনে মোর নাহি লয়ে আন॥
শয়ন করিয়ে যদি তোমা না পাইয়া। স্বপনে থাকিয়ে তোমা তনু আলিঙ্গিয়া॥
তোমার অধর-রস পানে মোর আশ। কবজ লিখিয়া লেহ মুঞি তুয়া দাস॥
মনমথ-কোটি-মথন তুয়া মুখ। তোমার বচন শুনি উঠে কত সুখ॥
জ্ঞানদাস কহ ধনি মোর মুখ চাও। সরস পরশ দেই কানুরে জিয়াও॥
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬০৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
এ ধনি মানিনি কি বোলব তোয়।
তুয়ার পিরীতি মোর জীবন হোয়॥
বিবিধ কেলি তুয়া তনু পরকাশ।
তথি লাগি কেলিকদম্ব করি বাস॥
রজনিদিবস করি তুয়া গুণ গান।
তুয়া বিনে মনে মোর নাহি লয়ে আন॥
শয়ন করিয়ে যদি তোমা না পাইয়া।
স্বপনে থাকিয়ে তোমা তনু আলিঙ্গিয়া॥
তোমার অধররস পানে মোর আশ।
কবজ লিখিয়া লেহ মুঞি তুয়া দাস॥
মনমথ কোটি মথন তুয়া মুখ।
তোমার বচন শুনি উঠে কত সুখ॥
জ্ঞানদাস কহ ধনি মোর মুখ চাও।
সরস পরশ দেই কানুরে জীয়াও॥
*********************
