কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
ঢল ঢল কসিত কাঞ্চন তনু গোরী
ঢল ঢল কষিত কাঞ্চনতনু গৌরী
ঢল ঢল কষিত কাঞ্চন তনু গোরী
ঢয় ঢর কষিল-কাঞ্চন তনু গোরি

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধিকার রূপ।
॥ কল্যান॥

ঢল ঢল কসিত কাঞ্চন তনু গোরী।
ধরণী পড়িছে নব যৌবন হিলোলি॥
বয়ন শরদ সুধানিধি নিষ্কলঙ্ক।
মনমথ মথন অলপ দিঠি বঙ্ক॥
রাই কি বলিব আর রাই কি বলিব আর।
ভুবনে কি দিয়ে হেন উপমা তোমার॥ ধ্রু
কুটিল কবরী বেড়ি কুসুমক জাদ।
সুরঙ্গ সিন্দূর ভালে অতি পরমাদ॥
নাসিকার আগে গজ মুকুতা হিলোলে।
পরাণ নিছিয়ে তোমার নয়ান কাজরে॥
ঊর্দ্ধ উরজ কিবা কনক মহেশ।
মুঠিয়ে ধরিলে হয় কটি মাঝ দেশ॥
উলট কদলী উরু গুরুয়া নিতম্ব।
জ্ঞানদাসের পহুঁ জিয়ে তুই অবলম্ব॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) প্রকাশিত অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ১৮৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধিকার রূপ।
॥ কল্যাণ॥

ঢল ঢল কসিত কাঞ্চন তনু গোরী।
ধরণী পড়িছে নব যৌবন হিলোলি॥
বয়ন শরদ সুধানিধি নিষ্কলঙ্ক।
মনমথ মথন অলপ দিঠি বঙ্ক॥
রাই কি বলিব আর রাই কি বলিব আর।
ভুবনে কি দিয়ে হেন উপমা তোমার॥
কুটিল কবরী বেড়ি কুসুমক জাদ।
সুরঙ্গ সিন্দূর ভালে অতি পরমাদ॥
নাসিকার আগে গজ মুকুতা হিলোলে।
পরাণ নিছিয়ে তোমার নয়ান কাজরে॥
ঊর্দ্ধ উরজ কিবা কনক মহেশ।
মুঠিয়ে ধরিলে হয় কটি মাঝ দেশ॥
উলট কদলী উরু গুরুয়া নিতম্ব।
জ্ঞানদাসের পহুঁ জিয়ে তুই অবলম্ব॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৩৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধিকার রূপ
॥ কল্যাণ॥

ঢল ঢল কসিত কাঞ্চন তনু গোরী।
ধরণী পড়িছে নব যৌবন হিলোলি॥
বয়ন শরদ সুধানিধি নিষ্কলঙ্ক। মনমথ
মথন অলপ দিঠি বঙ্ক॥ রাই কি বলিব
আর রাই কি বলিব আর। ভুবনে কি দিয়ে
হেন উপমা তোমার॥ কুটিল কবরী বেড়ী
কুসুমক জাদ। সুরঙ্গ সিন্দূর ভালে অতি
পরমাদ॥ নাসিকার আগে গজ মুকুতা
হিলোলে। পরাণ নিছিয়ে তোমার নয়ান
কাজরে॥ ঊর্দ্ধ উরজ কিবা কনক মহেশ।
মুঠিয়ে ধরিলে হয় কোটি মাঝ দেশ॥ উলট
কদলী ঊরু গুরুয়া নিতম্ব। জ্ঞানদাসের
পহুঁ জিয়ে তুই অবলম্ব॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২০০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ।
॥ কল্যান॥

ঢল ঢল কষিত কাঞ্চন তনু গোরী।
ধরণী পড়িছে নব যৌবন হিলোলি॥
বয়ন শরদসুধানিধি নিষ্কলঙ্ক।
মনমথ-মথন অলপ দিঠি বঙ্ক॥
রাই কি বলিব আর রাই কি বলিব আর।
ভুবনে কি দিয়ে হেন উপমা তোমার॥
কুটিল কবরী বেড়ি কুসুমক জাদ।
সুরঙ্গ সিন্দূর ভালে অতি পরমাদ॥
নাসিকার আগে গদ মুকুতা হিলোলে।
পরাণ নিছিয়ে তোমার নয়ান কাজরে॥
ঊর্দ্ধ উরজ কিবা কনক মহেশ।
মুঠিয়ে ধরিলে হয় কটি মাঝ দেশ॥
উলট কদলী উরু গুরুয়া নিতম্ব।
জ্ঞানদাসের পহু জিয়ে তুই অবলম্ব॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৫১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথিতে এই রূপে।

শ্রীকৃষ্ণের উক্তি
॥ কল্যাণ॥

ঢয় @ ঢর কষিল-কাঞ্চন তনু গোরি।
ধরণী পড়িছে নব যৌবন-হিলোরি॥
বয়ন শরদ-স্ধানিধি নিকলঙ্ক ।
মনমথ-মথন অলপ দিঠি বঙ্ক ॥
কি বলিব আঁর রাই কি বলিব আর।
ভুবনে কি দিব হেন উপম! তোমার ॥ ধ্রু॥
কুটিল কবরী বেটি কুহুমক জাদ।
শুরগ সিন্দুর তালে অতি পরমাদ ॥
নাসিকার আগে গজ-মুকুত। ছিলোরে।
পরাণ নিছিয়ে তোনার নয়ান-কাঁজরে ॥
উন্নত উরজ কিবা! কনক-মহেশ।
মুঠিতে ধারণ হয় তুয়! মাঝ-দেশ ॥
উলট-কদলী উরু গুরু! নিতম্ব
জ্ঞান্দাসের পহ জিয়ে রী অবলম্ব ॥

@ --- “ঢয়”। শব্দটি সম্ভবতঃ ঢর হবে। সম্ভবতঃ মুদ্রণ প্রমাদ। ঢর ঢর অর্থাৎ ঢল ঢল। “ঢর ঢর কষিল-কাঞ্চন তনু গোরি” ।

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, দানলীলা, ১৯৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ঢল ঢল কষিত কাঞ্চন তনু গোরি।
ধরণী পড়িছে নব যৌবন-হিলোরি॥
বয়ন শরদ-সুধানিধি নিরালঙ্ক।
মনমথ-মথন অলপ দিঠি বঙ্ক॥
কি বলিব আর রাই কি বলিব আর।
ভুবনে কি দিব হেন উপমা তোমার॥
কুটিল কবরী বেঢ়ি কুসুমক জাদ।
সুরঙ্গ সিন্দুর ভালে অতি পরমাদ॥
[নাসিকার আগে গজ-মুকুতা হিলোরে।
পরাণ নিছিয়ে তোমার নয়নে কাজরে॥]
উন্নত উরজ কিবা কনক-মহেশ।
মুঠিতে ধারণ হয় তুয়া মাঝ-দেশ॥
উলট-কদলী উরু গুরুয়া নিতম্ব।
জ্ঞানদাসের পহু জিয়ে ঐ অবলম্ব॥

টীকা ---
ধরণী পড়িছে নবযৌবন-হিলোরি --- পৃথিবীর উপর যেন নবযৌবনের হিল্লোল বহিয়া যাইতেছে।
মনমথ-মথন অলপ দিঠি বঙ্ক --- তাহার অল্প কটাক্ষেই মন্মথ মথিত হয়।
জ্ঞানদাসের পহু জিয়ে ঐ অবলম্ব --- উহাতে অবলম্বন করিয়া বা ধরিয়া জ্ঞানদাসের প্রভু শ্রীকৃষ্ণ জীবনধারণ করেন।

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, “কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ১৮২ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ।
॥ কল্যাণ॥

ঢল ঢল কষিত কাঞ্চন তনু গোরী।
ধরণী পড়িছে নব যৌবন হিলোলি॥
বয়ন শরদসুধানিধি নিষ্কলঙ্ক।
মনমথ মথন অলপ দিঠি বঙ্ক॥
রাই কি বলিব আর রাই কি বলিব আর।
ভুবনে কি দিয়ে হেন উপমা তোমার॥
কুটিল কবরী বেড়ি কুসুমক জাদ।
সুরঙ্গ সিন্দূর ভালে অতি পরমাদ॥
নাসিকার আগে গদ মুকুতা হিলোলে।
পরাণ নিছিয়ে তোমার নয়ান কাজরে॥
ঊর্দ্ধ উরজ কিবা কনক মহেশ।
মুঠিয়ে ধরিলে হয় কটি মাঝ দেশ॥
উলটি কদলী উরু গুরুয়া নিতম্ব।
জ্ঞানদাসের পহু জিয়ে তুই অবলম্ব॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের কন্যা অপর্ণা রায় সম্পাদিত “কীর্ত্তন পদাবলী” বৈষ্ণব পদ সংকলনের ১৪৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপ খণ্ড
॥ শ্রীরাগ - ছুটাতাল॥

ঢল ঢল কষিত কাঞ্চনতনু গৌরী।
ধরণী পড়িছে নব যৌবন হিলোরি॥
বয়ন শরদ সুধানিধি অকলঙ্ক।
মনমথমথন অলপ দিঠি বঙ্ক॥
কি বলিব আর রাই কি বলিব আর।
ভুবনে কি দিয়ে হেন উপমা তোমার॥ ধ্রু॥
কুটিল কবরী বেঢ়ি কুসুমের দাম।
সুরঙ্গ সিন্দূর ভালে অতি অনুপাম॥
নাসিকার আগে গজমুকুতা হিলোরে।
পরাণ নিছিয়ে তোমার নয়ান কাজরে॥
উন্নত উরজ কিবা কনক মহেশ।
মুঠিতে ধরিলে হয় কটিমাঝদেশ॥
উলট কদলী ঊরু গুরুয়া নিতম্ব।
জ্ঞানদাসের পঁহু জিয়ে ঐ অবলম্ব॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^
সূচীতে . . .

মিলনসাগর