কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
রতন-মঞ্জরী কিবা কনক-পুতলি
রতনমঞ্জরী কিবা কনক পুতলি

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, মান, ২৩৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রতন-মঞ্জরী কিবা কনক-পুতলি।
সাধে সুধার সাঁচে বিহি নিরমলি॥
তাহে ভূষণ কত রস-পরসঙ্গ।
মানে মলিন দেখি মনমথ ভঙ্গ॥
গোরি নায়রি না পরিখসি আর।
তুয়া আরাধন মোর বিদিত সংসার॥
যজ্ঞ দান জপ তপ সব তুমি মোর।
মোহন-মুরলী আর বয়ানের বোল॥
পীত পিন্ধন মোর তুয়া অভিলাষে।
পরাণ চমকে যদি ছাড়হ নিশ্বাসে॥
তোমার পরশে মোর চিরজীবি তনু।
অতি অন্ধকারে যেন প্রকাশিত ভানু॥
তুমি দুখ তুমি সুখ তুমি গুণরূপ।
জ্ঞানদাস কহে যত কহিলা স্বরূপ॥

টীকা ---
সাধে সুধার সাঁচে বিহি নিরমলি --- বিধাতা বোধ হয় রাধাকে সাধ করিয়া অমৃতের ছাঁচে নির্ম্মান করিয়াছেন।

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৫২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন সাহিত্য পরিষদের ২০১ সংখ্যক পুথিতে এই রূপে।

শ্রীকৃষ্ণের উক্তি
॥ বিভাষ॥

রতন-মঞ্জরী কিবা কনক-পুতলি।
সাধে সুধার সাঁচে বিহি নিরমলি॥
তাহে ভূষণ কত রস পরদঙ্গ।
মানে মলিন দেখি মনমথ ভঙ্গ॥
গোরি নায়রি না পরিখসি আর।
তুয়া আরাধন মোর বিদিত সংসার॥ ধ্রু॥
যজ্ঞ দান জপ তপ সব তুমি মোর।
মোহন-মুরলী আর বয়ানের বোল @।
পীত পিন্ধন মোর তুয়া অভিলাষে।
পরাণ চমকে যদি ছাড়হ নিশ্বাসে॥
তোমার পরশে মোর চির-জীবী তনু।
অতি-অন্ধকারে যেন প্রকাশিত ভানু॥
তুমি দুখ তুমি সুখ তুমি গুণ রূপ।
জ্ঞানদাস কহে যত কহিলা স্বরূপ॥

@ “মোহন” ইত্যাদি --- তোমার মুখের কথা আমার মোহন-মুরলী অর্থাৎ মধুর মুরলী-ধ্বনির ন্যায় তোমার মুখের কথা আমার চিত্ত বিমোহিত করে।

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪৩৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

মান
দূতীর প্রতি শ্রীকৃষ্ণ
॥ বিভাস॥

রতনমঞ্জরী কিবা কনক পুতলি।
সাধে সুধার সাঁচে বিহি নিরমলি॥
তাহে ভূষণ কত রসপরসঙ্গ।
মানে মলিন দেখি মনমথ ভঙ্গ॥
গোরী নায়রি না পরিখসি আর।
তুয়া আরাধন মোর বিদিত সংসার॥
যজ্ঞ দান জপ তপ সব তুমি মোর।
মোহন মুরলী আর বয়ানের বোল॥
পীত পিন্ধন মোর তুয়া অভিলাষে।
পরাণ চমকে যদি ছাড়হ নিশ্বাসে॥
তোমার পরশে মোর চিরজীবি তনু।
অতি অন্ধকারে যেন প্রকাশিত ভানু॥
তুমি দুখ তুমি সুখ তুমি গুণরূপ।
জ্ঞানদাস কহে যত কহিলে স্বরূপ॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ২৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান
॥ বিভাষ॥

রতন-মঞ্জরী কিবা কনক পুতলি।
সাধে সুধার সাঁচে বিহি নিরমলি॥
তাহে ভূষণ কত রস-পরসঙ্গ।
মানে মলিন দেখি মনমথ ভঙ্গ॥
গোরী নায়রি না পরিখসি আর।
তুয়া আরাধন মোর বিদিত সংসার॥
যজ্ঞ দান জপ তপ সব তুমি মোর।
মোহন মুরলী আর বয়ানের বোল॥
পীত পিন্ধন মোর তুয়া অভিলাষে।
পরাণ চমকে যদি ছাড়হ নিশ্বাসে॥
তোমার পরশে মোর চিরজীবি তনু।
অতি অন্ধকারে যেন প্রকাশিত ভানু॥
তুমি দুখ তুমি সুখ তুমি গুণ-রূপ।
জ্ঞানদাস কহে যত কহিলে স্বরূপ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৫০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রতনমঞ্জরী কিবা কনক পুতলি।
সাধে সুধার সাঁচে বিহি নিরমলি॥
তাহে ভূষণ কত রসপরসঙ্গ।
মানে মলিন দেখি মনমথ ভঙ্গ॥
গোরী নায়রি না পরিখসি আর।
তুয়া আব়্যধন @ মোর বিদিত সংসার॥
যজ্ঞ দান জপ তপ সব তুমি মোর।
মোহন মুরলী আর বয়ানের বোল॥
পীত পিন্ধন মোর তুয়া অভিলাষে।
পরাণ চমকে যদি ছাড়হ নিশ্বাসে॥
তোমার পরশে মোর চিরজীবি তনু।
অতি অন্ধকারে যেন প্রকাশিত ভানু॥
তুমি দুখ তুমি সুখ তুমি গুণরূপ।
জ্ঞানদাস কহে যত কহিলে স্বরূপ॥

@ - আব়্যধন – সম্ভবত মুদ্রণপ্রমাদ। আরাধন হবে।

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^