কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
পাঁচ পঞ্চ গুণ সিন্ধু বিন্দু তাহে
পাঁচ পঞ্চ গুণ সিন্ধু বিন্দু তাহা

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ২৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রবাস
॥ গান্ধার॥

পাঁচ পঞ্চ গুণ,     সিন্ধু বিন্দু তাহে,
তিথি তথি হরণই কেল।
এতেক বচন বলি,     মাধব গেয়ল,
পুন তিষ্ঠতি নাহি ভেল॥
সখি সো যদি বিছুরল মোহে।
ব্রজপতি বন্ধু নন্দন     নন্দন তা সুত,
তা সুত হৃদয় মম দাহে॥
ব্যাস সুত যেই জন,     তা সুত মণ্ডলী,
পরিহর গঙ্গজ বিন্দ।
জ্ঞানদাস কহে,     সো মঝু ভখিব,
যদি নাহি আওয়ে গোবিন্দ॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২৪৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রবাস।
॥ গান্ধার॥

পাঁচ পঞ্চ গুণ,     সিন্ধু বিন্দু তাহে,
তিথি তথি হরণই কেল।
এতেক বচন বলি,     মাধব গেয়ল,
পুন তিষ্ঠতি নাহি ভেল॥
সখি সো যদি বিছুরল মোহে।
ব্রজপতি বন্ধু নন্দন,     নন্দন তা সুত,
তা সুত হৃদয় মম দাহে॥
ব্যাস সুত যেই জন,     তা সুত মণ্ডলী,
পরিহর গঙ্গজ বিন্দ।
জ্ঞানদাস কহে,     সো মঝু ভখিব,
যদি নাহি আওয়ে গোবিন্দ॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৭৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রবাস।
॥ গান্ধার॥

পাঁচ পঞ্চ গুণ, সিন্ধু বিন্দু তাহে, তিথি
তথি হরণই কেল। এতেক বচন বলি,
মাধব গেয়ল, পুন তিষ্ঠতি নাহি ভেল॥
সখি সো যদি বিছুরল মোহে। ব্রজপতি
বন্ধু নন্দন, নন্দন তা সুত, তা সুত হৃদয়
মম দাহে॥ ব্যাস সুত যেই জন, তা সুত
মণ্ডলী, পরিহর গঙ্গজ বিন্দ। জ্ঞানদাস
কহে, সো মঝু ভখিব, যদি নাহি আওয়ে
গোবিন্দ॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কলহান্তরিতা
॥ গান্ধার॥

পাঁচ পঞ্চগুণ,     সিন্ধুবিন্দু তাহে,
তিথি তথি হরণই কেল।
এতেক বচন বলি,     মাধব গেয়ল,
পুন তিষ্ঠতি নাহি ভেল॥
সখি, সো যদি বিছুরল মোহে।
ব্রজপতি বন্ধু নন্দন     নন্দন তা সুত,
তা সুত হৃদয় মম দাহে॥
ব্যাসসুত যেই জন,     তা সুত মণ্ডলী,
পরিহর গঙ্গজ বিন্দ।
জ্ঞানদাস কহে,     সো মঝু ভখিব,
যদি নাহি আওয়ে গোবিন্দ॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, ৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পাঁচ পঞ্চগুণ,     সিন্ধু বিন্দু তাহা
তিথি তথি হরণই কেল।
এতেক বচন বলি,     মাধব গেয়ল
পুনতিষ্ঠতি নাহি ভেল॥
সখি সো যদি বিছুরল মোহে।
ব্রজপতি বন্ধু নন্দন নন্দন তা সুত হৃদয় মম দাহে।
ব্যাস সুত যেই জন, তা সুত মণ্ডলী পরিহর
                      গঙ্গজ বিন্দ।
জ্ঞানদাস কহে সো মঝু ভখিব, যদি নাহি আওয়ে গোবিন্দ॥

টীকা ---
পাঁচ পঞ্চগুণ ইত্যাদি --- পাঁচ পঞ্চগুণ হইতেছে পচিশ ; সিন্ধু সাত, বিন্দু তাহে --- সাতে শূন্য সত্তর। ৭০ + ২৫ = ৯৫। তিথি তথি হরণই বোল --- তিথি পনোর। ৯৫ হইতে ১৫ বাদ দিলে ৮০ 'আসি' হয়। মাধব 'আসি' বলিয়া গেল কিন্তু আর ফিরিয়া আসিল না। সখি সে যদি আমাকে ভুলিয়া যায় তাহা হইলে ব্রজপতি বন্ধু হইতেছেন বসুদেব, তাহার নন্দন কৃষ্ণ, নন্দন তা সুত --- তাহাকে আনন্দ দেয় যে পুত্র, কাম। সেই কাম আমার হৃদয় দহন করিতেছে। ব্যাসসুত যেই জন --- ধৃতরাষ্ট্র, তা সুত মণ্ডলী --- একশত পরিহর গঙ্গজবিন্দ --- গঙ্গজ অষ্টবসু, বিন্দু একশত হইতে আশি ৮০ বাদ দিলে বিশ বা বিষ হয়।
জ্ঞানদাস বলিতেছেন যে গোবিন্দ না আসিলে রাধার দুঃখে দুঃখিত হইয়া তিনি বিষ খাইবেন।

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৪৯ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

কলহান্তরিতা।
॥ গান্ধার॥

পাঁচ পঞ্চগুণ     সিন্ধুবিন্দু তাহে
তিথি তথি হরণই কেল।
এতেক বচন বলি     মাধব গেয়ল
পুন তিষ্ঠতি নাহি ভেল॥
সখি, সো যদি বিছুরল মোহে।
ব্রজপতি বন্ধু নন্দন,     নন্দন তা সুত
তা সুত হৃদয় মম দাহে॥
ব্যাসসুত যেই জন,     তা সুত মণ্ডলী
পরিহর গঙ্গজ বিন্দ।
জ্ঞানদাস কহে,     সো মঝু ভখিব
যদি নাহি আওয়ে গোবিন্দ॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^