কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
সখি হে কি পেখনু নীপ মূলে ধন্দ
কি পেখনু নীপমূলে ধন্ধ
কি হেরিলাম নীপমূলে ধন্দ
সখি হে কি পেখনু নীপ মূলে
সখি হে কি পেখলুঁ নীপ-মূলে ধন্দ
সজনি কি পেখলুঁ নীপমূলে ধন্দ
কবি জ্ঞানদাস
কি পেখনু নীপমূলে ধন্ধ
কি হেরিলাম নীপমূলে ধন্দ
সখি হে কি পেখনু নীপ মূলে
সখি হে কি পেখলুঁ নীপ-মূলে ধন্দ
সজনি কি পেখলুঁ নীপমূলে ধন্দ
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ তুড়ি॥
সখিহে কি পেখনু নীপ মূলে ধন্দ।
একে সে বরণ কালা, বিবিধ বিনোদ মালা,
লাবণ্যে ঝুরয়ে মকরন্দ॥
ভবজ অনুজ রথ, তা তলে বিনতা সুত,
কোরে কুমুদ বন্ধু সাজে।
হরি অরি সন্নিধানে, অলি রস পূরে বাণে,
রমণী মুনির মন বান্ধে॥
খগেন্দ্র নিকটে বসি, রসেন্দ্র বাজায় বাঁশী,
যোগীন্দ্র মুনীন্দ্র মূরছায়।
কুন্তির নন্দন মূলে, কশ্যপ নন্দন দোলে,
মনমথ মনমথ তায়॥
জলধি সুতা পতি, তা তলে যার স্থিতি,
সে কেন যমুনার জলে ভাসে।
শচিপতি রিপুসুতা, বাহন বিজুরী লতা,
রূপ নিরখয়ে জ্ঞানদাসে॥
সখিহে কি পেখনু নীপ মূলে ধন্দ।
একে সে বরণ কালা, বিবিধ বিনোদ মালা,
লাবণ্যে ঝুরয়ে মকরন্দ॥
ভবজ অনুজ রথ, তা তলে বিনতা সুত,
কোরে কুমুদ বন্ধু সাজে।
হরি অরি সন্নিধানে, অলি রস পূরে বাণে,
রমণী মুনির মন বান্ধে॥
খগেন্দ্র নিকটে বসি, রসেন্দ্র বাজায় বাঁশী,
যোগীন্দ্র মুনীন্দ্র মূরছায়।
কুন্তির নন্দন মূলে, কশ্যপ নন্দন দোলে,
মনমথ মনমথ তায়॥
জলধি সুতা পতি, তা তলে যার স্থিতি,
সে কেন যমুনার জলে ভাসে।
শচিপতি রিপুসুতা, বাহন বিজুরী লতা,
রূপ নিরখয়ে জ্ঞানদাসে॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) প্রকাশিত অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ১৭৪ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নায়িকার পূর্ব্বরাগ
॥ তুড়ি॥
সখিহে কি পেখনু নীপ মূলে ধন্দ।
একে সে বরণ কালা,
বিবিধ বিনোদ মালা,
লাবণ্যে ঝুরয়ে মকরন্দ॥
ভবজ অনুজ রথ,
তা তলে বিনতা সুত,
কোরে কুমুদ বন্ধু সাজে।
হরি অরি সন্নিধানে,
অলি রস পূরে বাণে,
রমণী মুনির মন বান্ধে॥
খগেন্দ্র নিকটে বসি,
রসেন্দ্র বাজায় বাঁশী,
যোগীন্দ্র মুনীন্দ্র মূরছায়।
কুন্তির নন্দন মূলে,
কশ্যপ নন্দন দোলে,
মনমথ মনমথ তায়॥
জলধি সুতা পতি,
তা তলে যার স্থিতি,
সে কেন যমুনার জলে ভাসে।
শচিপতি রিপুসুতা,
বাহন বিজুরী লতা,
রূপ নিরখয়ে জ্ঞানদাসে॥
॥ তুড়ি॥
সখিহে কি পেখনু নীপ মূলে ধন্দ।
একে সে বরণ কালা,
বিবিধ বিনোদ মালা,
লাবণ্যে ঝুরয়ে মকরন্দ॥
ভবজ অনুজ রথ,
তা তলে বিনতা সুত,
কোরে কুমুদ বন্ধু সাজে।
হরি অরি সন্নিধানে,
অলি রস পূরে বাণে,
রমণী মুনির মন বান্ধে॥
খগেন্দ্র নিকটে বসি,
রসেন্দ্র বাজায় বাঁশী,
যোগীন্দ্র মুনীন্দ্র মূরছায়।
কুন্তির নন্দন মূলে,
কশ্যপ নন্দন দোলে,
মনমথ মনমথ তায়॥
জলধি সুতা পতি,
তা তলে যার স্থিতি,
সে কেন যমুনার জলে ভাসে।
শচিপতি রিপুসুতা,
বাহন বিজুরী লতা,
রূপ নিরখয়ে জ্ঞানদাসে॥
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১২৪ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নায়িকার পূর্ব্বরাগ
॥ তুড়ি॥
সখি হে কি পেখনু নীপ মূলে ধন্দ।
একে সে বরণ কালা, বিবিধ বিনোদমালা,
লাবণ্যে ঝুরয়ে মকরন্দ॥ ভবজ অনুজ রথ,
তা তলে বিনতা সুত, কোরে কুমুদবন্ধু
সাজে। হরি অরি সন্নিধানে, অলি রস পূরে
বাণে, রমণী মুনির মন বান্ধে॥ খগেন্দ্র নিকটে
বসি, রসেন্দ্র বাজায় বাঁশী, যোগীন্দ্র মুনীন্দ্র-
মুরছায়। কুন্তির নন্দন মুলে, কশ্যপনন্দন
দোলে, মনমথ মননথ তায়॥ জলধি সুতা-
পতি, তা তলে যার স্থিতি, সে কেন যমুনার
জলে ভাসে। শচিপতি রিপুসুতা, বাহন
বিজুরী লতা, রূপ নিরখয়ে জ্ঞানদাসে॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নায়িকার পূর্ব্বরাগ
॥ তুড়ি॥
সখি হে কি পেখনু নীপ মূলে ধন্দ।
একে সে বরণ কালা, বিবিধ বিনোদমালা,
লাবণ্যে ঝুরয়ে মকরন্দ॥ ভবজ অনুজ রথ,
তা তলে বিনতা সুত, কোরে কুমুদবন্ধু
সাজে। হরি অরি সন্নিধানে, অলি রস পূরে
বাণে, রমণী মুনির মন বান্ধে॥ খগেন্দ্র নিকটে
বসি, রসেন্দ্র বাজায় বাঁশী, যোগীন্দ্র মুনীন্দ্র-
মুরছায়। কুন্তির নন্দন মুলে, কশ্যপনন্দন
দোলে, মনমথ মননথ তায়॥ জলধি সুতা-
পতি, তা তলে যার স্থিতি, সে কেন যমুনার
জলে ভাসে। শচিপতি রিপুসুতা, বাহন
বিজুরী লতা, রূপ নিরখয়ে জ্ঞানদাসে॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ তুড়ী॥
সখিহে, কি পেখনু নীপমূলে। @
একে সে বরণ কালা, বিবিধ বিনোদ মালা,
লাবণ্যে ঝুরয়ে মকরন্দ॥
ভবজ অনুজ রথ, তা তলে বিনতা সূত,
কোরে কুমুদবন্ধু সাজে।
হরি-অরি সন্নিধানে, অলি রস পূরে বাণে,
রমণী মুনির মন বান্ধে॥
খগেন্দ্র-নিকটে বসি, রসেন্দ্র বাজায় বাঁশী,
যোগীন্দ্র মুনীন্দ্র মূরছায়।
কুন্তির নন্দন-মূলে, কশ্যপনন্দন দোলে,
মনমথ মননথ তায়॥
জলধিসুতা-পতি, তা বলে যার স্থিতি,
সে কেন যমুনার জলে ভাসে।
শচীপতি-রিপুসুতা, বাহন বিজুরী লতা,
রূপ নিরখয়ে জ্ঞানদাসে॥
সখিহে, কি পেখনু নীপমূলে। @
একে সে বরণ কালা, বিবিধ বিনোদ মালা,
লাবণ্যে ঝুরয়ে মকরন্দ॥
ভবজ অনুজ রথ, তা তলে বিনতা সূত,
কোরে কুমুদবন্ধু সাজে।
হরি-অরি সন্নিধানে, অলি রস পূরে বাণে,
রমণী মুনির মন বান্ধে॥
খগেন্দ্র-নিকটে বসি, রসেন্দ্র বাজায় বাঁশী,
যোগীন্দ্র মুনীন্দ্র মূরছায়।
কুন্তির নন্দন-মূলে, কশ্যপনন্দন দোলে,
মনমথ মননথ তায়॥
জলধিসুতা-পতি, তা বলে যার স্থিতি,
সে কেন যমুনার জলে ভাসে।
শচীপতি-রিপুসুতা, বাহন বিজুরী লতা,
রূপ নিরখয়ে জ্ঞানদাসে॥
@ - এই কলির শেষে "ধন্দ" শব্দটি দেওয়া নেই। অন্য সকল গ্রন্থে এই পদের প্রথম কলি -- "সখিহে কি পেখনু নীপ মূলে ধন্দ"। মুদ্রণ প্রমাদ হতে পারে, সম্পাদকের ভুল হয়ে থাকতে পারে অথবা সম্পাদকের প্রাপ্ত কোনো পুথিতে এরকমই তিনি পেয়ে থাকতে পারেন। এ বিষয়ে সেখানে কোনো মন্তব্য বা টীকা দেওয়া নেই।
---মিলন সেনগুপ্ত। মিলনসাগর॥
এই পদটি ১৩১৭ বঙ্গাব্দে (১৯১০ সালে) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ১ম খণ্ড এর ১৬৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
---মিলন সেনগুপ্ত। মিলনসাগর॥
এই পদটি ১৩১৭ বঙ্গাব্দে (১৯১০ সালে) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ১ম খণ্ড এর ১৬৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ
॥ গৌরী - তেওট॥
কি হেরিলাম নীপ মূলে ধন্দ।
একে সে চিকণ কালা, বিবিধ বিনোদ লীলা,
লাবণ্যে ঝরয়ে মকরন্দ॥
ভবজ-অনুজ-রথ, তলে বিনতা-সুত,
করে কুমুদবন্ধু সাজে।
হরি-অরি সন্নিধানে, অবিরত পূরে বাণে,
রমণী জনার মনে বাজে॥
কুন্তির নন্দন মূলে, কশ্যপনন্দন দোলে,
মন্মথের মন মথে তায়।
খগেন্দ্র নিকটে বসি, রসেন্দ্র বাজায় বাঁশী,
যোগীন্দ্র মুনীন্দ্র মুরছায়।
জলধিসুতা পতি, তার উরে যার স্থিতি,
সে কেনে যমুনাজলে ভাসে।
শচীপতি-রিপু-সুতা-, বাহন বিজুরী লতা,
রূপ নিরখয়ে জ্ঞানদাসে॥
॥ গৌরী - তেওট॥
কি হেরিলাম নীপ মূলে ধন্দ।
একে সে চিকণ কালা, বিবিধ বিনোদ লীলা,
লাবণ্যে ঝরয়ে মকরন্দ॥
ভবজ-অনুজ-রথ, তলে বিনতা-সুত,
করে কুমুদবন্ধু সাজে।
হরি-অরি সন্নিধানে, অবিরত পূরে বাণে,
রমণী জনার মনে বাজে॥
কুন্তির নন্দন মূলে, কশ্যপনন্দন দোলে,
মন্মথের মন মথে তায়।
খগেন্দ্র নিকটে বসি, রসেন্দ্র বাজায় বাঁশী,
যোগীন্দ্র মুনীন্দ্র মুরছায়।
জলধিসুতা পতি, তার উরে যার স্থিতি,
সে কেনে যমুনাজলে ভাসে।
শচীপতি-রিপু-সুতা-, বাহন বিজুরী লতা,
রূপ নিরখয়ে জ্ঞানদাসে॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, ৮৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সখি হে, কি পেখনু নীপমূলে ধন্দ।
একে সে বরণ কালা, বিবিধ বিনোদ মালা,
লাবণ্যে ঝুরয়ে মকরন্দ॥
ভবজ অনুজ রথ, তা তলে বিনতা সুত,
কোরে কুমুদ বন্ধু সাজে।
হরি-অরি সন্নিধানে, অলি রথে পুরে বাণে
রমণী মণির মন মাঝে ॥
খগেন্দ্র-নিকটে বসি, রসেন্দ্র বাজায় বাঁশী,
যোগীন্দ্র মুণীন্দ্র মূরছায়।
কুন্তীর নন্দন-মূলে, কশ্যপ নন্দন দোলে,
মনমথ মনমথ তায়॥
জলধি সুতাপতি, তার তলে যার স্থিতি,
সে কেন যমুনার জলে ভাসে।
শচীপতি রিপুযুতা, বাহন বিজুরীলতা,
রূপ নিরখয়ে জ্ঞানদাসে॥
একে সে বরণ কালা, বিবিধ বিনোদ মালা,
লাবণ্যে ঝুরয়ে মকরন্দ॥
ভবজ অনুজ রথ, তা তলে বিনতা সুত,
কোরে কুমুদ বন্ধু সাজে।
হরি-অরি সন্নিধানে, অলি রথে পুরে বাণে
রমণী মণির মন মাঝে ॥
খগেন্দ্র-নিকটে বসি, রসেন্দ্র বাজায় বাঁশী,
যোগীন্দ্র মুণীন্দ্র মূরছায়।
কুন্তীর নন্দন-মূলে, কশ্যপ নন্দন দোলে,
মনমথ মনমথ তায়॥
জলধি সুতাপতি, তার তলে যার স্থিতি,
সে কেন যমুনার জলে ভাসে।
শচীপতি রিপুযুতা, বাহন বিজুরীলতা,
রূপ নিরখয়ে জ্ঞানদাসে॥
টীকা ---
সখি! কদম্বের মূলে কি এক ধাঁধা (প্রহেলিকা) দেখিলাম। একে তাহার কালা বরণ, তাহাতে আবার মনভুলানো মালা (লীলা --- পাঠান্তরে), তাহার লাবণ্য দেখিয়া পুষ্পমধু (পরাজয়ের দুঃখে) কাঁদিতেছে। ভবজ অনুজ --- ভব মানে শিব, তাঁহা হইতে জাত গণেশ, তাহার অনুজ কার্ত্তিক, কার্ত্তিকের রথ বা বাহন হইতেছে ময়ূর --- শ্রীকৃষ্ণের ময়ূরপুচ্ছের চূড়ার নীচে বিনতাসুত --- গরুড়, গরুড়ের তুল্য নাসিকা। কোরে কুমুদবন্ধু সাজে, চূড়া এবং নাসিকার কোরে বা মাঝখানে কুমুদের বন্ধু চন্দ্র --- অর্থাৎ চন্দনে আঁকা চাঁদ (এখানে বদনচন্দ্র হইবে না, কেননা বদন চূড়া ও নাসিকার কোলে বা মাঝখানে থাকে না)।
হরি-অরি সন্নিধান --- হরি মানে ভেক, তাহার অরি সর্প, কাণের কাছের কুঞ্চিত কেশ সর্পের আকার, অথবা ভ্রূকে সর্পের সঙ্গে তুলনা করা হইয়াছে।
অলি রথে পূরে বাণ --- অলির রথ বা বাহন পদ্ম (শ্রীকৃষ্ণের নয়নকমল) --- বঙ্কিম ভ্রূ বা কুঞ্চিত অলকের ন্যায় সর্পের নিকট থাকিয়া নয়নপদ্ম কটাক্ষরূপ বান সন্ধান করিতেছে। তাহাতে রমণীর মণি যাহারা, সতীশ্রেষ্ট যাহারা, তাহাদের মনের মধ্যেও এ কটাক্ষ বিদ্ধ হয়।
খগেন্দ্র নিকটে বসি --- খগেন্দ্র গরুড়, গরুড়ের মতন নাসিকা, নাসার নিকটে বসিয়া রসেন্দ্র অর্থাৎ আরক্ত সরস অধর বাঁশি বাজায়, তাহা শুনিয়া যোগি ও মুনিদের মধ্যে যাঁহারা শ্রেষ্ঠ তাঁহারাও মূর্চ্ছা যান।
কুম্তীর নন্দন মূলে ইত্যাদি --- কুম্ভীর নন্দন কর্ণ, তাহার মূলে কশ্যপের নন্দন সূর্য্য (সূর্য্য তুল্য) কুণ্ডল দুলিতেছে, তাহাতে মন্মথেরও মন মথিত হয়।
জলধিসুতাপতি ইত্যাদি --- জলধিসুতা লক্ষ্মী, তাঁহার পতি নারায়ণ, তার তলে যার স্থিতি --- নারায়ণের পদতলে পদ্ম) সেই পন্ম কেন যমুনার-জলরূপ শ্রীকৃষ্ণের বক্ষে ভাসিতেছে?
(অথবা পাঠান্তরে ‘তার উরে যার স্থিতি'--- নারায়ণের বক্ষে যাহার স্থিতি --- কৌস্তভ মণি) শচীপতি রিপুসুতা ইত্যাদি --- শচীপতি ইন্দ্র। তাহার শত্রু পুলোমা, তাহার সুতা শচী, সেই শচীর (এবং ইন্দ্রের) বাহন মেঘ। জলধর তুল্য শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গে বিজুরিলতা তুল্য পীতধড়া জ্ঞানদাস নিরীক্ষণ করেন অথবা ইন্দ্রের শত্রু পর্ব্বত, তাহার সুতা পার্ব্বতী তাঁহার বাহন সিংহ, সিংহ তুল্য কটিদেশে বিজুরিলতা তুল্য পীতধটি --- এই রূপে জ্ঞানদাস দেখেন।
এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা তাঁর সারা জীবন ধরে, আনুমানিক ১৮৮০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত ও সংকলিত এবং তাঁর মৃত্যুর প্রায় ৫০ বছর পরে তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন "শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু" এর ১২৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
কি পেখনু নীপমূলে ধন্ধ। একে সে বরণ কালা, বিবিধ বিনোদ-লীলা,
লাবণ্যে ঝরয়ে মকরন্দ॥ ভবজ অনুজ রথ, তলে বিনতা সুত, কোরে কুমুদবন্ধু
সাজে। হরি অরি সন্নিধান, অবিরত পূরে বাণ রমণী মুনির মন বান্ধে॥
খগেন্দ্র নিকটে বসি, রসেন্দ্র বাজায় বাঁশী, যোগেন্দ্র মুণীন্দ্র মূরছায়। কুন্তীর
নন্দন মূলে, কশ্যপ নন্দন দোলে, মনমথের মন মথে তায়॥ জলধি সুতাপতি,
তার শিরে যার স্থিতি, সে কেনে যমুনা-জলে ভাসে। শচীপতি রিপুসুতা,
বাহন বিজুরি লতা, রূপ নিরীক্ষণ করে জ্ঞান দাসে॥
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ১৮৭ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
সখি! কদম্বের মূলে কি এক ধাঁধা (প্রহেলিকা) দেখিলাম। একে তাহার কালা বরণ, তাহাতে আবার মনভুলানো মালা (লীলা --- পাঠান্তরে), তাহার লাবণ্য দেখিয়া পুষ্পমধু (পরাজয়ের দুঃখে) কাঁদিতেছে। ভবজ অনুজ --- ভব মানে শিব, তাঁহা হইতে জাত গণেশ, তাহার অনুজ কার্ত্তিক, কার্ত্তিকের রথ বা বাহন হইতেছে ময়ূর --- শ্রীকৃষ্ণের ময়ূরপুচ্ছের চূড়ার নীচে বিনতাসুত --- গরুড়, গরুড়ের তুল্য নাসিকা। কোরে কুমুদবন্ধু সাজে, চূড়া এবং নাসিকার কোরে বা মাঝখানে কুমুদের বন্ধু চন্দ্র --- অর্থাৎ চন্দনে আঁকা চাঁদ (এখানে বদনচন্দ্র হইবে না, কেননা বদন চূড়া ও নাসিকার কোলে বা মাঝখানে থাকে না)।
হরি-অরি সন্নিধান --- হরি মানে ভেক, তাহার অরি সর্প, কাণের কাছের কুঞ্চিত কেশ সর্পের আকার, অথবা ভ্রূকে সর্পের সঙ্গে তুলনা করা হইয়াছে।
অলি রথে পূরে বাণ --- অলির রথ বা বাহন পদ্ম (শ্রীকৃষ্ণের নয়নকমল) --- বঙ্কিম ভ্রূ বা কুঞ্চিত অলকের ন্যায় সর্পের নিকট থাকিয়া নয়নপদ্ম কটাক্ষরূপ বান সন্ধান করিতেছে। তাহাতে রমণীর মণি যাহারা, সতীশ্রেষ্ট যাহারা, তাহাদের মনের মধ্যেও এ কটাক্ষ বিদ্ধ হয়।
খগেন্দ্র নিকটে বসি --- খগেন্দ্র গরুড়, গরুড়ের মতন নাসিকা, নাসার নিকটে বসিয়া রসেন্দ্র অর্থাৎ আরক্ত সরস অধর বাঁশি বাজায়, তাহা শুনিয়া যোগি ও মুনিদের মধ্যে যাঁহারা শ্রেষ্ঠ তাঁহারাও মূর্চ্ছা যান।
কুম্তীর নন্দন মূলে ইত্যাদি --- কুম্ভীর নন্দন কর্ণ, তাহার মূলে কশ্যপের নন্দন সূর্য্য (সূর্য্য তুল্য) কুণ্ডল দুলিতেছে, তাহাতে মন্মথেরও মন মথিত হয়।
জলধিসুতাপতি ইত্যাদি --- জলধিসুতা লক্ষ্মী, তাঁহার পতি নারায়ণ, তার তলে যার স্থিতি --- নারায়ণের পদতলে পদ্ম) সেই পন্ম কেন যমুনার-জলরূপ শ্রীকৃষ্ণের বক্ষে ভাসিতেছে?
(অথবা পাঠান্তরে ‘তার উরে যার স্থিতি'--- নারায়ণের বক্ষে যাহার স্থিতি --- কৌস্তভ মণি) শচীপতি রিপুসুতা ইত্যাদি --- শচীপতি ইন্দ্র। তাহার শত্রু পুলোমা, তাহার সুতা শচী, সেই শচীর (এবং ইন্দ্রের) বাহন মেঘ। জলধর তুল্য শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গে বিজুরিলতা তুল্য পীতধড়া জ্ঞানদাস নিরীক্ষণ করেন অথবা ইন্দ্রের শত্রু পর্ব্বত, তাহার সুতা পার্ব্বতী তাঁহার বাহন সিংহ, সিংহ তুল্য কটিদেশে বিজুরিলতা তুল্য পীতধটি --- এই রূপে জ্ঞানদাস দেখেন।
এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা তাঁর সারা জীবন ধরে, আনুমানিক ১৮৮০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত ও সংকলিত এবং তাঁর মৃত্যুর প্রায় ৫০ বছর পরে তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন "শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু" এর ১২৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
কি পেখনু নীপমূলে ধন্ধ। একে সে বরণ কালা, বিবিধ বিনোদ-লীলা,
লাবণ্যে ঝরয়ে মকরন্দ॥ ভবজ অনুজ রথ, তলে বিনতা সুত, কোরে কুমুদবন্ধু
সাজে। হরি অরি সন্নিধান, অবিরত পূরে বাণ রমণী মুনির মন বান্ধে॥
খগেন্দ্র নিকটে বসি, রসেন্দ্র বাজায় বাঁশী, যোগেন্দ্র মুণীন্দ্র মূরছায়। কুন্তীর
নন্দন মূলে, কশ্যপ নন্দন দোলে, মনমথের মন মথে তায়॥ জলধি সুতাপতি,
তার শিরে যার স্থিতি, সে কেনে যমুনা-জলে ভাসে। শচীপতি রিপুসুতা,
বাহন বিজুরি লতা, রূপ নিরীক্ষণ করে জ্ঞান দাসে॥
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ১৮৭ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ।
॥ তুড়ী॥
সখিহে, কি পেখনু নীপমূলে।
একে সে বরণ কালা, বিবিধ বিনোদ মালা,
লাবণ্যে ঝুরয়ে মকরন্দ॥
ভবজ অনুজ রথ, তা তলে বিনতা সুত,
কোরে কুমুদবন্ধু সাজে।
হরি-অরি সন্নিধানে, অলিরস পূরে বাণে,
রমণী মুনির মন বান্ধে॥
খগেন্দ্র নিকটে বসি, রসেন্দ্র বাজায় বাঁশী,
যোগীন্দ্র মুনীন্দ্র মূরছায়।
কুন্তীর নন্দন-মূলে, কশ্যপনন্দন দোলে,
মনমথ মননথ তায়॥
জলধিসুতা-পতি, তা বলে যার স্থিতি,
সে কেন যমুনার জলে ভাসে।
শচীপতি-রিপুসুতা, বাহন বিজুরীলতা,
রূপ নিরখয়ে জ্ঞানদাসে॥
॥ তুড়ী॥
সখিহে, কি পেখনু নীপমূলে।
একে সে বরণ কালা, বিবিধ বিনোদ মালা,
লাবণ্যে ঝুরয়ে মকরন্দ॥
ভবজ অনুজ রথ, তা তলে বিনতা সুত,
কোরে কুমুদবন্ধু সাজে।
হরি-অরি সন্নিধানে, অলিরস পূরে বাণে,
রমণী মুনির মন বান্ধে॥
খগেন্দ্র নিকটে বসি, রসেন্দ্র বাজায় বাঁশী,
যোগীন্দ্র মুনীন্দ্র মূরছায়।
কুন্তীর নন্দন-মূলে, কশ্যপনন্দন দোলে,
মনমথ মননথ তায়॥
জলধিসুতা-পতি, তা বলে যার স্থিতি,
সে কেন যমুনার জলে ভাসে।
শচীপতি-রিপুসুতা, বাহন বিজুরীলতা,
রূপ নিরখয়ে জ্ঞানদাসে॥
এই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, রাধার পূর্ব্ব-রাগ, ৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ তুড়ী॥
সখি হে কি পেখলুঁ নীপ-মূলে ধন্দ।
একে সে বরণ কালা বিবিধ বিনোদ মালা
লাবণ্য ঝুরয়ে মকরন্দ॥
ভবজ-অনুজ-রথ তা তলে বিনতা-সুত
কোরে কুমুদ-বন্ধু সাজে।
হরি-অরি সন্নিধানে অলি বসি পূরে বাণে
রমণী মুণির মন বান্ধে॥
খগেন্দ্র নিকটে বসি রসেন্দ্র বাজায় বাঁশী
যোগীন্দ্র মুনীন্দ্র মূরছায়।
কুন্তির নন্দন মূলে কশ্যপ-নন্দন দোলে
মনমথ-মনমথ তায়॥
জলধি-সুতা-পতি তা তলে যার স্থিতি
সে কেনে যমুনার জলে ভাসে।
শচী-পতি-রিপু-সুতা বাহন বিজুরী লতা
রূপ নিরখয়ে জ্ঞানদাসে॥
সখি হে কি পেখলুঁ নীপ-মূলে ধন্দ।
একে সে বরণ কালা বিবিধ বিনোদ মালা
লাবণ্য ঝুরয়ে মকরন্দ॥
ভবজ-অনুজ-রথ তা তলে বিনতা-সুত
কোরে কুমুদ-বন্ধু সাজে।
হরি-অরি সন্নিধানে অলি বসি পূরে বাণে
রমণী মুণির মন বান্ধে॥
খগেন্দ্র নিকটে বসি রসেন্দ্র বাজায় বাঁশী
যোগীন্দ্র মুনীন্দ্র মূরছায়।
কুন্তির নন্দন মূলে কশ্যপ-নন্দন দোলে
মনমথ-মনমথ তায়॥
জলধি-সুতা-পতি তা তলে যার স্থিতি
সে কেনে যমুনার জলে ভাসে।
শচী-পতি-রিপু-সুতা বাহন বিজুরী লতা
রূপ নিরখয়ে জ্ঞানদাসে॥
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪১২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
রূপানুরাগ
শ্রীরাধার উক্তি
॥ ধানশী॥
সজনি কি পেখলুঁ নীপমূলে ধন্দ।
এক বরণে কালা বিবিধ বিনোদ লীলা
লাবণ্য ঝরয়ে মকরন্দ॥ ধ্রু॥
ভবজঅনুজ রথ তা তলে বিনতাসুত
কোরে কুমুদবন্ধু সাজে।
হরিঅরি সন্নিধান অলি বসি পুরে বাণ
রমণী মণির মনে বাজে॥
খগেন্দ্র নিকটে বসি রসেন্দ্র বাজায় বাঁশি
যোগীন্দ্র মুনীন্দ্র মুরছায়।
কুন্তীর নন্দন মূলে কশ্যপনন্দন দোলে
মনমথের মন মথে তায়॥
জলধিসুতাপতি তার উরে যার স্থিতি
সে কেনে যমুনাজলে ভাসে।
শচীপতিরিপুসুতা- বাহন বিজুরি লতা
নিরীক্ষণ করে জ্ঞানদাসে॥
শ্রীরাধার উক্তি
॥ ধানশী॥
সজনি কি পেখলুঁ নীপমূলে ধন্দ।
এক বরণে কালা বিবিধ বিনোদ লীলা
লাবণ্য ঝরয়ে মকরন্দ॥ ধ্রু॥
ভবজঅনুজ রথ তা তলে বিনতাসুত
কোরে কুমুদবন্ধু সাজে।
হরিঅরি সন্নিধান অলি বসি পুরে বাণ
রমণী মণির মনে বাজে॥
খগেন্দ্র নিকটে বসি রসেন্দ্র বাজায় বাঁশি
যোগীন্দ্র মুনীন্দ্র মুরছায়।
কুন্তীর নন্দন মূলে কশ্যপনন্দন দোলে
মনমথের মন মথে তায়॥
জলধিসুতাপতি তার উরে যার স্থিতি
সে কেনে যমুনাজলে ভাসে।
শচীপতিরিপুসুতা- বাহন বিজুরি লতা
নিরীক্ষণ করে জ্ঞানদাসে॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীরাধিকার রূপানুরাগ
শ্রীরাধার উক্তি @
॥ ধানশী॥
সজনি কি পেখলুঁ নীপমূলে ধন্দ।
এক বরণে কালা বিবিধ বিনোদ লীলা
লাবণ্য ঝরয়ে মকরন্দ॥ ধ্রু॥
ভবজ-অনুজ রথ তা তলে বিনতাসুত
কোরে কুমুদ-বন্ধু সাজে।
হরি-অরি সন্নিধান অলি বসি পুরে বাণ
রমণী-মণির মনে বাজে॥
খগেন্দ্র নিকটে বসি রসেন্দ্র বাজায় বাঁশি
যোগীন্দ্র মুনীন্দ্র মুরছায়।
কুন্তীর নন্দন মূলে কশ্যপ-নন্দন দোলে
মনমথের মন মথে তায়॥
জলধিসুতাপতি তার উরে যার স্থিতি
যে কেনে যমুনা-জলে ভাসে।
শচীপতি-রিপু-সুতা- বাহন বিজুরি লতা
নিরীক্ষণ করে জ্ঞানদাসে॥
শ্রীরাধার উক্তি @
॥ ধানশী॥
সজনি কি পেখলুঁ নীপমূলে ধন্দ।
এক বরণে কালা বিবিধ বিনোদ লীলা
লাবণ্য ঝরয়ে মকরন্দ॥ ধ্রু॥
ভবজ-অনুজ রথ তা তলে বিনতাসুত
কোরে কুমুদ-বন্ধু সাজে।
হরি-অরি সন্নিধান অলি বসি পুরে বাণ
রমণী-মণির মনে বাজে॥
খগেন্দ্র নিকটে বসি রসেন্দ্র বাজায় বাঁশি
যোগীন্দ্র মুনীন্দ্র মুরছায়।
কুন্তীর নন্দন মূলে কশ্যপ-নন্দন দোলে
মনমথের মন মথে তায়॥
জলধিসুতাপতি তার উরে যার স্থিতি
যে কেনে যমুনা-জলে ভাসে।
শচীপতি-রিপু-সুতা- বাহন বিজুরি লতা
নিরীক্ষণ করে জ্ঞানদাসে॥
টীকা---
সজনি, কদম্বমূলে কি দেখিলাম! ধাঁধা (আশ্চর্য) লাগিল। একজন বর্ণে কাল, তাহার মনোহর লীলার অন্ত নাই। দেহ-লাবণ্যে যেন মধু ঝরিতেছে। দেখিলাম, গণেশের কনিষ্ঠ কার্তিকের রথের (ময়ুরপুচছ চূড়ার) তলে গরুড় (গরুড়ের মত নাসিকা) তাহার কোলে চাঁদ (চাঁদের মত মুখ)। সিংহের শত্রু হরিণের (হরিণের মত চক্ষু) নিকটে অলি (চক্ষু-তারকা) বসিয়া বাণ নিক্ষেপ করিতেছে। সেই বাণ নারীশিরোমণিগণের মনে বাজিতেছে। খগেন্দ্র (নাসিকা) নিকটে রসেন্দ্র (হিঙ্গুলের ন্যায় আরক্ত সরস অধর) বাঁশী বাজায় শুনিয়া যোগি-শ্রেষ্ঠ মুনিশ্রেষ্ঠগণও মুর্চ্ছা যায়। কুন্তীর নন্দন (কর্ণ) মুলে কশ্যপপুত্র (সূর্য সদৃশ উজ্জল কুণ্ডল) দুলিতেছে, তাহা মদনের মনকেও মথিত করে। জলধি-সুতা (লক্ষ্মীর) পতি (নারায়ণ) বক্ষে যাহার বাস (কৌস্তভ) সে আজ যমুনাজলে (যমুনাবারির ন্যায় বর্ণ বিশিষ্ট কৃষ্ণ-বক্ষস্থলে) কি জন্য ভাসিতেছে? ইন্দ্র-শক্র পর্বত, ও তাহার কন্যা পার্বতী, পার্বতীর বাহন সিংহে বিজুরিলতা জড়াইয়াছে (সিংহের ন্যায় কৃশ কটিতে পীতবসন রহিয়াছে)। জ্ঞানদাস তাহাই দেখিতেছেন।
@ - এই প্রহেলিকারক বর্ণনা বিদ্যাপতি হইতে অনুকৃত।
সজনি, কদম্বমূলে কি দেখিলাম! ধাঁধা (আশ্চর্য) লাগিল। একজন বর্ণে কাল, তাহার মনোহর লীলার অন্ত নাই। দেহ-লাবণ্যে যেন মধু ঝরিতেছে। দেখিলাম, গণেশের কনিষ্ঠ কার্তিকের রথের (ময়ুরপুচছ চূড়ার) তলে গরুড় (গরুড়ের মত নাসিকা) তাহার কোলে চাঁদ (চাঁদের মত মুখ)। সিংহের শত্রু হরিণের (হরিণের মত চক্ষু) নিকটে অলি (চক্ষু-তারকা) বসিয়া বাণ নিক্ষেপ করিতেছে। সেই বাণ নারীশিরোমণিগণের মনে বাজিতেছে। খগেন্দ্র (নাসিকা) নিকটে রসেন্দ্র (হিঙ্গুলের ন্যায় আরক্ত সরস অধর) বাঁশী বাজায় শুনিয়া যোগি-শ্রেষ্ঠ মুনিশ্রেষ্ঠগণও মুর্চ্ছা যায়। কুন্তীর নন্দন (কর্ণ) মুলে কশ্যপপুত্র (সূর্য সদৃশ উজ্জল কুণ্ডল) দুলিতেছে, তাহা মদনের মনকেও মথিত করে। জলধি-সুতা (লক্ষ্মীর) পতি (নারায়ণ) বক্ষে যাহার বাস (কৌস্তভ) সে আজ যমুনাজলে (যমুনাবারির ন্যায় বর্ণ বিশিষ্ট কৃষ্ণ-বক্ষস্থলে) কি জন্য ভাসিতেছে? ইন্দ্র-শক্র পর্বত, ও তাহার কন্যা পার্বতী, পার্বতীর বাহন সিংহে বিজুরিলতা জড়াইয়াছে (সিংহের ন্যায় কৃশ কটিতে পীতবসন রহিয়াছে)। জ্ঞানদাস তাহাই দেখিতেছেন।
@ - এই প্রহেলিকারক বর্ণনা বিদ্যাপতি হইতে অনুকৃত।
এই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত সঙ্গীতাচার্য্য দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন "কীর্ত্তন-পদাবলী" এর ৭ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
রূপানুরাগ।
কি হেরিলাম নীপমূলে ধন্দ।
(কি রূপ দেখে যে এলাম গো, যমুনায় জল আনতে গিয়ে কি রূপ দেখে যে এলাম গো, সাঁজের বেলায় কদমতলায় কি রূপ দেখে যে এলাম গো)
কি হেরিলাম নীপমূলে ধন্দ।
এক বিনোদ কালা বিবিধ বিনোদ মালা
লাবণ্যে ঝরয়ে মকরন্দ।
(কত ঢলে যে পড়েছে, ঐ রূপে কত ঢলে যে পড়েছে, ঐ রূপ সুধাপান করবে বলে কত ঢলে যে পড়েছে)
লাবণ্যে ঝরয়ে মকরন্দ।
ভবজ অনুজ রথ তলে বিনতা সুত
কোরে কুমুদ বন্ধু সাজে।
(উদয় যে হয়েছে, পূর্ণশশি আসি উদয় যে হয়েছে, ষোলকলা পূর্ণশশি আসি উদয় হয়েছে)
কোরে কুমুদ বন্ধু সাজে।
হরি অরি সন্নিধানে অলিরথ পুরে বাণে
রমণী মণির মন বাঁধে।
(স্থির মানে না, মন-প্রাণ আর স্থির মানে না, কদমতলায় রূপ দেখে এসে মনজপ্রাণ আর স্থির মানে না)
রমণী মণির মন বাঁধে।
খগেন্দ্র নিকটে আসি রসেন্দ্র বাজায় বাঁশী
যোগীন্দ্র মুনিন্দ্র মূরছায়।
(মূরছা যায় হে, বাঁশীর গানে কত মূরছা যায় হে, যোগী-ঋষি আদি কত মূরছা যায় হে)
যোগীন্দ্র মুনিন্দ্র মূরছায়।
কুন্তীর নন্দনমূলে কশ্যপ নন্দন দোলে
মনমথের মনমথে তায়॥
(মন দোলায় দেয়গো, কতজনার মন দোলায় দেয়গো, আমি বলে কা কথা আমার মত কতজনার মন দোলায় দেয় গো)
মনমথের মনমথে তায়॥
জলধি সুতাপতি তার তলে যার স্থিতি
সে কেন যমুনা জলে ভাসে।
(আমায বলে দাও গো, তোমরা জান যদি আমায় বলে দাও গো, তোমরা কৃষ্ণলীলার সাহাকারী জান যদি আমায় বলে দাও গো)
সে কেন যমুনা জলে ভাসে।
শচীপতি ঋপুসুতা বাহন বিজরী লতা
রূপ নিরখয়ে জ্ঞানদাসে॥
(কভু দেখি নাই সখি, এমন রূপ তো কভু দেখি নাই সখি, জনমিয়ে জগমাঝে এমন রূপ তো কভু দেখি নাই সখি)
রূপ নিরখয়ে জ্ঞানদাসে॥
কি হেরিলাম নীপমূলে ধন্দ।
(কি রূপ দেখে যে এলাম গো, যমুনায় জল আনতে গিয়ে কি রূপ দেখে যে এলাম গো, সাঁজের বেলায় কদমতলায় কি রূপ দেখে যে এলাম গো)
কি হেরিলাম নীপমূলে ধন্দ।
এক বিনোদ কালা বিবিধ বিনোদ মালা
লাবণ্যে ঝরয়ে মকরন্দ।
(কত ঢলে যে পড়েছে, ঐ রূপে কত ঢলে যে পড়েছে, ঐ রূপ সুধাপান করবে বলে কত ঢলে যে পড়েছে)
লাবণ্যে ঝরয়ে মকরন্দ।
ভবজ অনুজ রথ তলে বিনতা সুত
কোরে কুমুদ বন্ধু সাজে।
(উদয় যে হয়েছে, পূর্ণশশি আসি উদয় যে হয়েছে, ষোলকলা পূর্ণশশি আসি উদয় হয়েছে)
কোরে কুমুদ বন্ধু সাজে।
হরি অরি সন্নিধানে অলিরথ পুরে বাণে
রমণী মণির মন বাঁধে।
(স্থির মানে না, মন-প্রাণ আর স্থির মানে না, কদমতলায় রূপ দেখে এসে মনজপ্রাণ আর স্থির মানে না)
রমণী মণির মন বাঁধে।
খগেন্দ্র নিকটে আসি রসেন্দ্র বাজায় বাঁশী
যোগীন্দ্র মুনিন্দ্র মূরছায়।
(মূরছা যায় হে, বাঁশীর গানে কত মূরছা যায় হে, যোগী-ঋষি আদি কত মূরছা যায় হে)
যোগীন্দ্র মুনিন্দ্র মূরছায়।
কুন্তীর নন্দনমূলে কশ্যপ নন্দন দোলে
মনমথের মনমথে তায়॥
(মন দোলায় দেয়গো, কতজনার মন দোলায় দেয়গো, আমি বলে কা কথা আমার মত কতজনার মন দোলায় দেয় গো)
মনমথের মনমথে তায়॥
জলধি সুতাপতি তার তলে যার স্থিতি
সে কেন যমুনা জলে ভাসে।
(আমায বলে দাও গো, তোমরা জান যদি আমায় বলে দাও গো, তোমরা কৃষ্ণলীলার সাহাকারী জান যদি আমায় বলে দাও গো)
সে কেন যমুনা জলে ভাসে।
শচীপতি ঋপুসুতা বাহন বিজরী লতা
রূপ নিরখয়ে জ্ঞানদাসে॥
(কভু দেখি নাই সখি, এমন রূপ তো কভু দেখি নাই সখি, জনমিয়ে জগমাঝে এমন রূপ তো কভু দেখি নাই সখি)
রূপ নিরখয়ে জ্ঞানদাসে॥
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৬১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সজনি কি পেখলুঁ নীপমূলে ধন্দ।
এক বরণে কালা বিবিধ বিনোদ লীলা
লাবণ্য ঝরয়ে মকরন্দ॥
ভবজঅনুজ রথ তা তলে বিনতাসূত
কোরে কুমুদবন্ধু সাজে।
হরিঅরি সন্নিধান অলি বসি পুরে বাণ
রমণীমণির মনে বাজে॥
খগেন্দ্র নিকটে বসি রসেন্দ্র বাজায় বাঁশি
যোগীন্দ্র মুনীন্দ্র মুরছায়।
কুন্তীর নন্দন মূলে কশ্যপনন্দন দোলে
মনমথের মন মথে তায়॥
জলধিসুতাপতি তার উরে যার স্থিতি
সে কেনে যমুনাজলে ভাসে।
শচীপতিরিপুসুতা বাহন বিজুরি লতা
নিরীক্ষণ করে জ্ঞানদাস॥
*********************
সজনি কি পেখলুঁ নীপমূলে ধন্দ।
এক বরণে কালা বিবিধ বিনোদ লীলা
লাবণ্য ঝরয়ে মকরন্দ॥
ভবজঅনুজ রথ তা তলে বিনতাসূত
কোরে কুমুদবন্ধু সাজে।
হরিঅরি সন্নিধান অলি বসি পুরে বাণ
রমণীমণির মনে বাজে॥
খগেন্দ্র নিকটে বসি রসেন্দ্র বাজায় বাঁশি
যোগীন্দ্র মুনীন্দ্র মুরছায়।
কুন্তীর নন্দন মূলে কশ্যপনন্দন দোলে
মনমথের মন মথে তায়॥
জলধিসুতাপতি তার উরে যার স্থিতি
সে কেনে যমুনাজলে ভাসে।
শচীপতিরিপুসুতা বাহন বিজুরি লতা
নিরীক্ষণ করে জ্ঞানদাস॥
*********************
