কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
গুরু দুরজন দূরে তেয়াগিনু
কবি জ্ঞানদাস
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”, গ্রন্থের ৭৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থটির আমাদের সংগ্রহের পি.ডি.এফ. কপিটির প্রায় সব পৃষ্ঠাই অপাঠ্য অথবা দুষ্পাঠ্য।
॥ শোহিণী॥ গুরু দুরজন দূরে তেয়াগিনু পতি ক্ষুরধার তায়।
কানুর পিরীতি কিরীতি করিনু কলঙ্ক এ লোকে গায়॥
সইলো মরম কহিনু তোরে। কানুর পিরীতি সপদি করিতে
যে বলু সে বলু মোরে॥ ধ্রু॥ ধরম বচন মনেতে নালয়
করমে আছিল যে। সে সব আদর ভাদর বাদর কেমনে
ধরিব দে॥ হিয়ার পিরীতি কহিল নাহয় চিতে অবিরত
জাগে। জ্ঞানদাস কহে নব অনুরাগে অমিয়া অধিক
লাগে॥
কানুর পিরীতি কিরীতি করিনু কলঙ্ক এ লোকে গায়॥
সইলো মরম কহিনু তোরে। কানুর পিরীতি সপদি করিতে
যে বলু সে বলু মোরে॥ ধ্রু॥ ধরম বচন মনেতে নালয়
করমে আছিল যে। সে সব আদর ভাদর বাদর কেমনে
ধরিব দে॥ হিয়ার পিরীতি কহিল নাহয় চিতে অবিরত
জাগে। জ্ঞানদাস কহে নব অনুরাগে অমিয়া অধিক
লাগে॥
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
অনুরাগ--সখী সম্বোধনে।
॥ সোহিণী॥
গুরু দুরজন, দূরে তেয়াগিনু,
পতি ক্ষূর ধার তায়।
কানুর পিরীতি, কি রীতি করিনু,
কলঙ্ক এ লোকে গায়॥
সই গো মরম কহিনু তোরে।
কানুর পিরীতি শপতি করিতে,
যে বলু সে বলু মোরে॥ ধ্রু।
ধরম বচন, মনেতে না লয়,
করমে আছিল যে।
সে সব আদর, ভাদর বাদর,
কেমনে ধরিব দে॥
হিয়ার পিরীতি, কহিলে না হয়,
চিতে অবিরত জাগে।
জ্ঞানদাস কহে, নব অনুরাগে,
অমিয়া অধিক লাগে॥
॥ সোহিণী॥
গুরু দুরজন, দূরে তেয়াগিনু,
পতি ক্ষূর ধার তায়।
কানুর পিরীতি, কি রীতি করিনু,
কলঙ্ক এ লোকে গায়॥
সই গো মরম কহিনু তোরে।
কানুর পিরীতি শপতি করিতে,
যে বলু সে বলু মোরে॥ ধ্রু।
ধরম বচন, মনেতে না লয়,
করমে আছিল যে।
সে সব আদর, ভাদর বাদর,
কেমনে ধরিব দে॥
হিয়ার পিরীতি, কহিলে না হয়,
চিতে অবিরত জাগে।
জ্ঞানদাস কহে, নব অনুরাগে,
অমিয়া অধিক লাগে॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২২৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সখী সম্বোধন।
॥ সোহিনী॥
গুরু দুরজন, দূরে তেয়াগিনু,
পতি ক্ষূর ধার তায়।
কানুর পিরীতি, কি রীতি করিনু,
কলঙ্ক এ লোকে গায়॥
সই গো মরম কহিনু তোরে।
কানুর পিরীতি. শপতি করিতে,
যে বলু সে বলু মোরে॥
ধরম বচন, মনেতে না লয়,
করমে আছিল যে।
সে সব আদর, ভাদর বাদর,
কেমনে ধরিব দে॥
হিয়ার পিরীতি, কহিলে না হয়,
চিতে অবিরত জাগে।
জ্ঞানদাস কহে, নব অনুরাগে,
অমিয়া অধিক লাগে॥
॥ সোহিনী॥
গুরু দুরজন, দূরে তেয়াগিনু,
পতি ক্ষূর ধার তায়।
কানুর পিরীতি, কি রীতি করিনু,
কলঙ্ক এ লোকে গায়॥
সই গো মরম কহিনু তোরে।
কানুর পিরীতি. শপতি করিতে,
যে বলু সে বলু মোরে॥
ধরম বচন, মনেতে না লয়,
করমে আছিল যে।
সে সব আদর, ভাদর বাদর,
কেমনে ধরিব দে॥
হিয়ার পিরীতি, কহিলে না হয়,
চিতে অবিরত জাগে।
জ্ঞানদাস কহে, নব অনুরাগে,
অমিয়া অধিক লাগে॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
অনুরাগ।
॥ সোহিণী॥
গুরু দুরজন, দূরে তেয়াগিনু,
পতি ক্ষুরধার তায়।
কানুর পিরীতি, কি রীতি করিনু,
কলঙ্ক এ লোকে গায়॥
সই গো, মরম কহিনু তোরে।
কানুর পিরীতি, শপতি করিতে,
যে বলু সে বলু মোরে॥
ধরম বচন, মনেতে না লয়,
করমে আছিল যে।
সে সব আদর, ভাদর-বাদর,
কেমনে ধরিব দে॥
হিয়ার পিরীতি, কহিলে না হয়,
চিতে অবিরত জাগে।
জ্ঞানদাস কহে, নব অনুরাগে,
অমিয়া-অধিক লাগে॥
॥ সোহিণী॥
গুরু দুরজন, দূরে তেয়াগিনু,
পতি ক্ষুরধার তায়।
কানুর পিরীতি, কি রীতি করিনু,
কলঙ্ক এ লোকে গায়॥
সই গো, মরম কহিনু তোরে।
কানুর পিরীতি, শপতি করিতে,
যে বলু সে বলু মোরে॥
ধরম বচন, মনেতে না লয়,
করমে আছিল যে।
সে সব আদর, ভাদর-বাদর,
কেমনে ধরিব দে॥
হিয়ার পিরীতি, কহিলে না হয়,
চিতে অবিরত জাগে।
জ্ঞানদাস কহে, নব অনুরাগে,
অমিয়া-অধিক লাগে॥
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৬৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সখী-সম্বোধন।
॥ সোহিণী॥
গুরু দুরজন, দূরে তেয়াগিনু, পতি ক্ষুর-
ধার তায়। কানুর পিরীতি, কি রীতি করিনু,
কলঙ্ক এ লোকে গায়॥ সই গো, মরম
কহিনু তোরে। কানুর পিরীতি, শপতি
করিতে, যে বলু সে বলু মোরে॥ ধরম
বচন, মনেতে না লর, করমে আছিল যে।
সে সব আদর, ভাদর বাদর, কেমনে ধরিব
দে॥ হিয়ার পিরীতি, কহিলে না হয়,
চিতে অবিরত জাগে। জ্ঞানদাস কহে,
নব অনুরাগে, অমিয়া অধিক লাগে॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, ৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সখী-সম্বোধন।
॥ সোহিণী॥
গুরু দুরজন, দূরে তেয়াগিনু, পতি ক্ষুর-
ধার তায়। কানুর পিরীতি, কি রীতি করিনু,
কলঙ্ক এ লোকে গায়॥ সই গো, মরম
কহিনু তোরে। কানুর পিরীতি, শপতি
করিতে, যে বলু সে বলু মোরে॥ ধরম
বচন, মনেতে না লর, করমে আছিল যে।
সে সব আদর, ভাদর বাদর, কেমনে ধরিব
দে॥ হিয়ার পিরীতি, কহিলে না হয়,
চিতে অবিরত জাগে। জ্ঞানদাস কহে,
নব অনুরাগে, অমিয়া অধিক লাগে॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, ৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
চণ্ডীদাসের অনুসরণে জ্ঞানদাস।
গুরু দুরজন, দূরে তেয়াগিনু,
পতি ক্ষুরধার তায়।
কানুর পিরীতি, কি রীতি করিনু,
কলঙ্ক এ লোকে গায়॥
সই গো মরম কহিনু তোরে।
কানুর পিরীতি, শপতি করিতে,
যে বলু সে বলু মোরে॥
ধরম বচন, মনেতে না লয়,
করমে আছিল যে।
সে সব আদর, ভাদর-বাদর,
কেমনে ধরিব দে ॥
হিয়ার পিরীতি, কহিলে না হয়,
চিতে অবিরত জাগে।
জ্ঞানদাস কহে, নব অনুরাগে,
অমিয়া-অধিক লাগে॥
গুরু দুরজন, দূরে তেয়াগিনু,
পতি ক্ষুরধার তায়।
কানুর পিরীতি, কি রীতি করিনু,
কলঙ্ক এ লোকে গায়॥
সই গো মরম কহিনু তোরে।
কানুর পিরীতি, শপতি করিতে,
যে বলু সে বলু মোরে॥
ধরম বচন, মনেতে না লয়,
করমে আছিল যে।
সে সব আদর, ভাদর-বাদর,
কেমনে ধরিব দে ॥
হিয়ার পিরীতি, কহিলে না হয়,
চিতে অবিরত জাগে।
জ্ঞানদাস কহে, নব অনুরাগে,
অমিয়া-অধিক লাগে॥
তুলনীয় --- চণ্ডীদাস (পৃঃ ২৫)
সই কিআর বলসি মোরে
কানুর পিরিতি ছাড়িতে নারিব
মরম কহিয়ে তোরে॥
ছাড়িতে নারিব কানুর পিরিতি
আরতি সুখের সার।
নিশ্চয় কহিলুঁ মনের বেদনা
কি আর বলসি আর॥
গুরু পরিজন করাতিয়া গুণ
সে সব সহিতে পারি।
বন্ধুর বিচ্ছেদ জীবন না রহে
বুক বিদরিয়া মরি॥ ইত্যাদি
কানুর পিরিতি ছাড়িতে নারিব
মরম কহিয়ে তোরে॥
ছাড়িতে নারিব কানুর পিরিতি
আরতি সুখের সার।
নিশ্চয় কহিলুঁ মনের বেদনা
কি আর বলসি আর॥
গুরু পরিজন করাতিয়া গুণ
সে সব সহিতে পারি।
বন্ধুর বিচ্ছেদ জীবন না রহে
বুক বিদরিয়া মরি॥ ইত্যাদি
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, “কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৩০ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
অনুরাগ
॥ সোহিণী॥
গুরু দুরজন, দূরে তেয়াগিনু,
পতি ক্ষুরধার তায়।
কানুর পিরীতি, কি রীতি করিনু,
কলঙ্ক এ লোকে গায়॥
সই গো, মরম কহিনু তোরে।
কানুর পিরীতি, শপতি করিতে,
যে বলু সে বলু মোরে॥
ধরম বচন, মনেতে না লয়,
করমে আছিল যে।
সে সব আদর, ভাদর বাদর,
কেমনে ধরিব দে॥
হিয়ার পিরীতি, কহিলে না হয়,
চিতে অবিরত জাগে।
জ্ঞানদাস কহে, নব অনুরাগে,
অমিয়-অধিক লাগে॥
॥ সোহিণী॥
গুরু দুরজন, দূরে তেয়াগিনু,
পতি ক্ষুরধার তায়।
কানুর পিরীতি, কি রীতি করিনু,
কলঙ্ক এ লোকে গায়॥
সই গো, মরম কহিনু তোরে।
কানুর পিরীতি, শপতি করিতে,
যে বলু সে বলু মোরে॥
ধরম বচন, মনেতে না লয়,
করমে আছিল যে।
সে সব আদর, ভাদর বাদর,
কেমনে ধরিব দে॥
হিয়ার পিরীতি, কহিলে না হয়,
চিতে অবিরত জাগে।
জ্ঞানদাস কহে, নব অনুরাগে,
অমিয়-অধিক লাগে॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ২০৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
অনুরাগ।
॥ সোহিনী॥
গুরু দুরজন দূরে তেয়াগিলুঁ পতি ক্ষুরধার তায়।
কানুর পিরিতি কি রিতি করিলুঁ কলঙ্ক এ লোকে গায়॥
সই মরম কহিলুঁ তোরে।
কানুর পিরিতি শপতি করিলুঁ যে বলু সে বলু মোরে॥
ধরম বচন মনেতে না লয় করমে আছিল যে।
সে সব আদর ভাদর বাদর কেমনে ধরিব দে॥
হিয়ার পিরিতি কহিল না হয় চিতে অবিরত জাগে।
জ্ঞানদাস কহ নব অনুরাগ অমিয়া-অধিক লাগে॥
*********************
॥ সোহিনী॥
গুরু দুরজন দূরে তেয়াগিলুঁ পতি ক্ষুরধার তায়।
কানুর পিরিতি কি রিতি করিলুঁ কলঙ্ক এ লোকে গায়॥
সই মরম কহিলুঁ তোরে।
কানুর পিরিতি শপতি করিলুঁ যে বলু সে বলু মোরে॥
ধরম বচন মনেতে না লয় করমে আছিল যে।
সে সব আদর ভাদর বাদর কেমনে ধরিব দে॥
হিয়ার পিরিতি কহিল না হয় চিতে অবিরত জাগে।
জ্ঞানদাস কহ নব অনুরাগ অমিয়া-অধিক লাগে॥
*********************
