কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
শ্যাম রূপ দেখিয়া আকুল হইয়া
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নায়িকার পূর্ব্বরাগ
॥ শ্রীরাগ॥

শ্যাম রূপ দেখিয়া,     আকুল হইয়া,
দুকুল ঠেকিলাম হাতে।
ভুবন ভরিয়া,     অপযশ ঘোষণা,
নিছিয়া লইনু মাথে॥
সজনি কি আর লোকের ভয়।
ও চাঁদ বয়ানে,     নয়ান ভুলল,
আর মনে নাহি লয়॥ ধ্রু
অপযশ ঘোষণা,     যাক দেশে দেশে,
সে মোর চন্দন চুয়া।
শ্যামের রাঙ্গা পায়,     এ তনু সঁপেছি,
তিল তুলসী দল দিয়া॥
কি মোর সরম,     ঘর ব্যবহার,
তিলেক না সহে গায়।
জ্ঞানদাস কহে,     এ তনু নিছিনু,
শ্যামের ও রাঙ্গা পায়॥

এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) প্রকাশিত অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ১৭৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নায়িকার পূর্ব্বরাগ
॥ শ্রীরাগ॥

শ্যাম রূপ দেখিয়া,     আকুল হইয়া,
দুকুল ঠেকিলাম হাতে।
ভুবন ভরিয়া,     অপযশ ঘোষণা,
নিছিয়া লইনু মাথে॥
সজনি কি আর লোকের ভয়।
ও চাঁদ বয়ানে,     নয়ান ভুলল,
আর মনে নাহি লয়॥
অপযশ ঘোষণা,     যাক দেশে দেশে,
সে মোর চন্দন চুয়া।
শ্যামের রাঙ্গা পায়,     এ তনু সঁপেছি,
তিল তুলসী দল দিয়া॥
কি মোর সরম,     ঘর ব্যবহার,
তিলেক না সহে গায়।
জ্ঞানদাস কহে,     এ তনু নিছিনু,
শ্যামের ও রাঙ্গা পায়॥

এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১২৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নায়িকার পূর্ব্বরাগ
॥ শ্রীরাগ॥

শ্যাম রূপ দেখিয়া, আকুল হইয়া, দুকুল
ঠেলিলাম হাতে। ভুবন ভরিয়া, অপযশ
ঘোষণা, নিছিয়া লইনু মাথে॥ সজনি কি
আর লোকের ভয়। ও চাঁদ বয়ানে, নয়ান
ভুলল, আর মনে নাহি লয়॥ অপযশ
ঘোষণা, যাক দেশে দেশে, সে মোর চন্দন
চুয়া। শ্যামের রাঙ্গা পায়, এ তনু সঁপেছি,
তিল তুলসী দল দিয়া॥ কি মোর সরম,
ঘর ব্যবহার, তিলেক না সহে গায়।
জ্ঞানদাস কহে, এ তনু নিছিনু, শ্যামের ও
রাঙ্গা পায়॥

এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ৯২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

শ্যাম রূপ দেখিয়া,     আকুল হইয়া,
দুকুল ঠেলিলাম হাতে।
ভুবন ভরিয়া,     অপযশ-ঘোষণা,
নিছিয়া লইনু মাথে॥
সজনি কি আর লোকের ভয়।
ও চাঁদ বয়ানে,     নয়ান ভুলল,
আর মনে নাহি লয়॥
অপযশ-ঘোষণা,     যাক দেশে দেশে,
সে মোর চন্দন চুয়া।
শ্যামের রাঙ্গা পায়,     এ তনু সঁপেছি,
তিল তুলসীদল দিয়া॥
কি মোর সরম,     ঘর ব্যবহার,
তিলেক না সহে গায়।
জ্ঞানদাস কহে,     এ তনু নিছিনু,
শ্যামের ও রাঙ্গা পায়॥

এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, ৯২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

চণ্ডীদাসের অনুসরণে জ্ঞানদাস।

শ্যাম-রূপ দেখিয়া,     আকুল হইয়া
দুকুল ঠেলিলাম হাতে।
ভুবন ভরিয়া,     অপযশ ঘোষণা,
নিছিয়া লইনু মাথে॥
সজনি, কি আর লোকের ভয়।
ও চাঁদ বয়ানে,     নয়ান-ভূলল,
আর মনে নাহি লয়॥
অপযশ ঘোষণা,     যাক দেশে দেশে
সে মোর চন্দন চুয়া।
শ্যামের রাঙ্গা পায়,     এ তনু সঁপেছি,
তিল তুলসীদল দিয়া ॥
কি মোর সরম,     ঘর ব্যবহার,
তিলেক না সহে গায়।
জ্ঞানদাস কহে,     এ তনু নিছিনু,
শ্যামের ও রাঙ্গা পায়॥

এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ১৮৮ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ।
॥ শ্রীরাগ॥

শ্যাম রূপ দেখিয়া,     আকুল হইয়া,
দুকুল ঠেলিলাম হাতে।
ভুবন ভরিয়া,     অপযশ ঘোষণা,
নিছিয়া লইনু মাথে॥
সজনি, কি আর লোকের ভয়।
ও চাঁদ বয়ানে,     নয়ান ভুলল,
আর মনে নাহি লয়॥
অপযশ ঘোষণা,     যাক দেশে দেশে,
সে মোর চন্দন চুয়া।
শ্যামের রাঙ্গা পায়,     এ তনু সঁপেছি,
তিল তুলসীদল দিয়া॥
কি মোর সরম,     ঘর ব্যবহার,
তিলেক না সহে গায়।
জ্ঞানদাস কহে,     এ তনু নিছিনু,
শ্যামের ও রাঙ্গা পায়॥

এই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, রাধার পূর্ব্ব-রাগ, ৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

শ্যাম রূপ দেখিয়া     আকুল হইয়া
দু কুল @ হাতে।
ভুবন ভরিয়া     অপযশ-ঘোষণা
নিছিয়া লইলুঁ মাথে॥
সজনি, কি আর লোকের ভয়।
ও চাঁদ-বয়ানে     নয়ান ভুলল
আন্ মনে নাহি লয়॥
অপযশ-ঘোষণা     যাক দেশে দেশে
সে মোর চন্দন চুয়া।
শ্যামের রাঙা পায়     এ তনু সোপিলুঁ
তিল তুলসী-দল দিয়া॥
কি মোর সরম     ঘর ব্যবহার
তিলেক না সহে গায়।
জ্ঞানদাস কহে     এ তনু নিছিলুঁ
শ্যামের ও রাঙা পায়॥

@ - এখানে “ঠেকিলাম” শব্দটি মুদ্রিত হয়নি।

এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১৯৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ।
॥ শ্রীরাগ॥

শ্যামরূপ দেখিয়া   আকুল হইয়া   দুকুল ঠেলিলুঁ হাতে।
ভুবন ভরিয়া   অযশ ঘোষণা   নিছিয়া লইলুঁ মাথে॥
সজনি কি আর লোকের ভয়।
ও চাঁদ বয়ানে   নয়ান ভুলল   আর মনে নাহি লয়॥
অযশ ঘোষণা   যাক’ দেশে দেশে   সে মোর চন্দন চূয়া।
শ্যামের চরণে   এ তনু সঁপেছি   তিল তুলসী দিয়া॥
কি মোর ধরম   ঘর ব্যবহার   তিলেক না সহে গায়।
জ্ঞানদাস কহে   এ তনু নিছিনু   শ্যামের ও রাঙ্গা পায়॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^