কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
হাটক হাট পড়ল নদীয়াপুর
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, ২য ভাগ, আত্মপ্রতিষ্ঠ জ্ঞানদাস, বন্দনা, ৯৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হাটক হাট     পড়ল নদীয়াপুর
গৌরচন্দ্র অধিকারী।
তাহে কত রতন     আছয়ে অমূলধন
শ্রীনিবাস আদি পশারী॥
দেখি ধনি ধনি ধনি কলিকাল।
গাহক আদর     বাদর সাদর
অদ্বৈত চন্দ্র রসাল॥
ভকতি রতনমণি     কাঞ্চন আরতি
প্রেম-পরশ-রস হারে।
দীন অকিঞ্চন     জনে জনে দেয়ল
নিত্যানন্দ করুণা বিথারে॥
শ্রীহরিদাস     ভাব রস পাওল
উনমত বহু নিধি লাভে।
জ্ঞানদাস     হাট শেষে আওল
পাওল আপন স্বভাবে॥

টীকা ---
নদীয়াপুরে সোনার ( হাটক ) হাট বসিল। সেই হাটের অধিকারী হইতেছেন গৌরচন্দ্র। সেই হাটে কত রত্নাদি অমূল্যধন আছে। শ্রীনিবাস ( শ্রীবাস ) প্রভৃতি তাহা বিক্রয় করেন। দেখ কলিকাল ধন্য ধন্য ধন্য। রসময় অদ্বৈতচন্দ্র গ্রাহকদের উপর আদরের বাদলধারা বর্ষণ করেন। নিত্যানন্দ করুণা বিস্তার করিয়া ভক্তিরূপ রত্নমণি, অনুরাগরূপ কাঞ্চন, এবং প্রেমের স্পর্শ রসরূপ প্রত্যেক দীন দরিদ্রকে দিলেন। শ্রীহরিদাস ভাবরস পাইলেন এবং বহু গচ্ছিত ধন ( নিধি ) লাভ করিয়া উন্মত্ত হইলেন। হাট ভাঙ্গিয়া যাইবার পর জ্ঞানদাস আসিলেন এবং স্বভাবতঃ যাহা পাওয়া উচিত তাহাই পাইলেন অর্থাত কিছুই পাইলেন না।

এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, শ্রীগৌরচন্দ্র, ৩৬৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশ্রী॥

হাটক হাট     পড়ল নদীয়াপুর
গৌরচন্দ্র অধিকারী।
তাহে কত রতন     আছয়ে অমূল ধন
শ্রীবাস আদি পশারী॥
(দেখ) ধনি ধনি ধনি কলিকাল।
গাহক আদর     বাদর সিরজল
অদ্বৈত চন্দ্র রসাল॥ ধ্রু॥
ভকতি রতনমণি     কাঞ্চন আরতি
প্রেম পরশ রস হারে।
দীন অকিঞ্চন     জনে জনে দেয়ল
নিত্যানন্দ করুণা বিথারে॥
শ্রীহরিদাস     ভাব রস পাওল
উনমত বহু নিধি লাভে।
জ্ঞানদাস     হাট শেষে আওল
পাওল আপন স্বভাবে॥

এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশ্রী॥

হাটক হাট     পড়ল নদীয়াপুর
গৌরচন্দ্র অধিকারী।
তাহে কত রতন     আছয়ে অমূলধন
শ্রীনিবাস আদি পশারী॥
দেখি ধনি ধনি ধনি কলিকাল।
গাহক আদর     বাদর সাদর
অদ্বৈত চন্দ্র রসাল॥ ধ্রু॥
ভকতি রতন-মণি     কাঞ্চন আরতি
প্রেম-পরশ-রস-হারে।
দীন অকিঞ্চন     জনে জনে দেয়ল
নিত্যানন্দ করুণা বিথারে॥
শ্রীহরিদাস     ভাব রস পাওল
উনমত বহু নিধি লাভে।
জ্ঞানদাস     হাট শেষে আওল
পাওল আপন স্বভাবে॥

এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৬৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হাটক হাট পড়ল নদীয়াপুর
      গৌরচন্দ্র অধিকারী।
তাহে কত রতন আছয়ে অমূল্য ধন
      শ্রীবাস আদি পশারী॥
ধনি ধনি ধনি কলিকাল।
গাহক আদর বাদর সিরজল
      অদ্বৈত চন্দ্র রসাল॥
ভকতি রতনমণি কাঞ্চন আরতি
      প্রেম পরশ রস হারে।
দীন অকিঞ্চন জনে জনে দেয়ল
      নিত্যানন্দ করুণা বিথারে॥
শ্রীহরিদাস ভাব রস পাওল
      উনমত বহু নিধি লাভে।
জ্ঞানদাস হাট শেষে আওল
      পাওল আপন স্বভাবে॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^