কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
কষিল কাঞ্চন মনি গৌর কলেবর
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, ৯৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কষিল কাঞ্চন মনি গৌর কলেবর।
আজানুলম্বিত ভূজ পুলক-উজর॥
বরণ কিরণে দেশ গেল আঁধিয়ার।
ধন্য কলিযুগ-লোক, ধন্য অবতার॥
গৌর করুণার সীমা।
বিরিঞ্চি সিঞ্চিত ভব ভাবিতে মহিমা॥
তরুণী তরুণ বৃদ্ধ শিশু পশু পাখি।
যারে দেখে সভে সুখী চাহে অশ্রুমুখী॥
আনন্দে রসাল শৈল-শিখর সমান।
জগভরি যারে তারে কৈল প্রেম দান॥
অখিলের সার প্রভু গৌর চিন্তামণি।
কেবল কৃপায় কৈল ধরণিরে ধনি ॥
হেন প্রেম না পাইল পাপী হেনজনা।
জ্ঞানদাস বলে তারে নহিল করুণা॥

টীকা ---
গৌরাঙ্গের দেহ যেন কষিত কাঞ্চন এবং মণির ন্যায় আভাযুক্ত। জানুপর্য্যন্ত লম্বিত তাঁহার বাহু, দেহ তাঁর পুলকে উজ্জ্বল। তাঁহার বর্ণের আভায় দেশ হইতে অন্ধকার দূর হইল। কলি-যুগের লোক ধন্য যে এমন অবতার পাইয়াছে ---করুণা কতদূর পর্য্যন্ত বিস্তৃত হইতে পারে তাহাই দেখাইবার জন্য যেন তাঁহার আবির্ভাব। তাঁহার মহিমার কথা ভাবিয়া শিব এবং ব্রহ্মাও সিঞ্চিত (প্রেমরসে আপ্লুত) হন। গৌরাঙ্গ তরুণ-তরুণী, শিশুবৃদ্ধ, পশুপক্ষী প্রভৃতি যাহার প্রতি দৃষ্টিপাত করেন সেই আনন্দে অশ্রু বিসর্জ্জন করে। গৌরাঙ্গ আনন্দের ভরে রসময় শৈলশিখরতুল্য (পর্ব্বতশিখর হইতে যেমন নির্ঝরিণী ধারা বহে, তেমনি তাঁহার প্রেমধারা প্রহাহিত হয়)। তিনি নির্ব্বিচারে জগত্ ভরিয়া প্রেমদান করিলেন। জগতের সারবস্তু হইতেছেন চিন্তামণিস্বরূপ গৌরচন্দ্র (চিন্তামাত্রেই যিনি সকল অভীষ্ট পূরণ করেন তাঁহাকে চিন্তামণি বলে) ; তিনি কেবল কৃপার দ্বারা পৃথিবীকে ধন্য করিলেন (ধনি অর্থে ধন্য, এখানে বড় লোক নহে)।
এমন যে প্রেম তাহা এরূপ পাপীজন পাইল না ; জ্ঞানদাস বলেন যে তাঁহার প্রতি প্রভুর করুণা হইল না।

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, শ্রীগৌরচন্দ্র, ৩৭০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া পাহিড়া॥

কষিল কাঞ্চন মণি গৌরকলেবর।
আজানুলম্বিত ভুজ পুলক উজর॥
বরণকিরণে দেশে গেল আঁধিয়ার।
ধন্য কলিযুগ লোক, ধন্য অবতার॥
গৌর করুণার সীমা।
বিরিঞ্চিবাঞ্ছিত ভবভাবিতে মহিমা॥ ধ্রু॥
তরুণী তরুণ বৃদ্ধ শিশু পশু পাখি।
যারে দেখে সভে সুখি চাহে অশ্রুমুখি॥
আনন্দে রসাল শৈলশিখর সমান।
জগভরি যারে তারে কৈল প্রেম দান॥
অখিলের সার প্রভু গৌর চিন্তামণি।
কেবল কৃপায় কৈল ধরণিরে ধনি॥
হেন প্রেম না পাইল পাপী হেন জনা।
জ্ঞানদাস বলে তারে নহিল করুণা॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া পাহিড়া॥

কষিল কাঞ্চন মণি গৌর-কলেবর।
আজানু-লম্বিত ভুজ পুলক-উজর॥
বরণ-কিরণে দেশ গেল আঁধিয়ার।
ধন্য কলিযুগ-লোক, ধন্য অবতার॥
গৌর করুণার সীমা।
বিরিঞ্চি সিঞ্চিত ভব ভাবিতে মহিমা॥ ধ্রু॥
তরুণী তরুণ বৃদ্ধ শিশু পশু পাখি।
যারে দেখে সভে সুখি চাহে অশ্রুমুখি॥
আনন্দে রসাল শৈল-শিখর সমান।
জগভরি যারে তারে কৈল প্রেম দান॥
অখিলের সার প্রভু গৌর চিন্তামণি।
কেবল কৃপায় কৈল ধরণিরে ধনি॥
হেন প্রেম না পাইল পাপী হেন জনা।
জ্ঞানদাস বলে তারে নহিল করুণা॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬০৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কষিল কাঞ্চন মণি গৌরকলেবর।
আজানুলম্বিত ভুজ পুলক উজর॥
বরণকিরণে দেশে গেল আঁধিয়ার।
ধন্য কলিযুগ লোক, ধন্য অবতার॥
গৌর করুণার সীমা।
বিরিঞ্চিবাঞ্ছিত ভবভাবিত মহিমা॥
তরুণী তরুণ বৃদ্ধ শিশু পশু পাখি।
যারে দেখে সভে সুখি চাহে অশ্রুমুখি॥
আনন্দে রসাল শৈলশিখর সমান।
জগভরি যারে তারে কৈল প্রেম দান॥
অখিলের সার প্রভু গৌর চিন্তামণি।
কেবল কৃপায় কৈল ধরণিরে ধনি॥
হেন প্রেম না পাইল পাপী হেন জনা।
জ্ঞানদাস বলে তারে নহিল করুণা॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^