কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
কাঞ্চন কিরণ গৌর তনু মোহন
কাঞ্চন বরণ গৌর তনু মোহন

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ২৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্র
॥ গৌরী॥

কাঞ্চন কিরণ,     গৌর তনু মোহন,
প্রেমে আকুল দুই নয়ন ঝরে।
করিবর সুবলিত,     আজানু লম্বিত,
ভুজ যুগ শোভিত পুলক ভরে॥
জয় শচী নন্দন গৌরাঙ্গ নাম।
জয় জগতারণ কারণ ধাম॥ ধ্রু।
হরি গুণ কীর্ত্তন,     প্রকট অনুক্ষণ,
নাহি পরাভব ভরে।
শিব শুক নারদ,     ব্যাস বিশারদ,
অনুক্ষণ রঙ্গে সঙ্গে ফিরে॥
চুয়া চন্দন,     অঙ্গে বিলেপন,
রূপ সুধাকর মোহ করে।
জ্ঞানদাস কহে,     গৌর কৃপাময়ে ,
হেরইতে কোন জীব দেহ ধরে॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্র
॥ গৌরী॥

কাঞ্চন কিরণ,     গৌর তনু মোহন,
প্রেমে আকুল দুই নয়ন ঝরে।
করিবর সুবলিত,     আজানু লম্বিত,
ভুজ যুগ শোভিত পুলক ভরে॥
জয় শচী নন্দন গৌরাঙ্গ নাম।
জয় জগতারণ কারণ ধাম॥ ধ্রু
হরি গুণ কীর্ত্তন,    প্রকট অনুক্ষণ,
নাহি পরাভব ভরে।
শিব শুক নারদ,    ব্যাস বিশারদ,
অনুক্ষণ রঙ্গে সঙ্গে ফিরে॥
চুয়া চন্দন,     অঙ্গে বিলেপন,
রূপ সুধাকর মোহ করে।
জ্ঞানদাস কহে,     গৌর কৃপাময়ে,
হেরইতে কোন জীব দেহ ধরে॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, ৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কাঞ্চন কিরণ,     গৌর তনু মোহন,
প্রেমে আকুল দুই নয়ন ঝরে।
করিবর সুবলিত     আজানু লম্বিত,
ভূজ যুগে শোভিত পুলক ভরে॥
জয় শচী নন্দন গৌরাঙ্গ নাম।
জয় জগতারণ কারণ ধাম॥
হরি গুণ কীর্ত্তন     প্রকট অনুক্ষণ
নাহি পরাভব ভবে।
শিব শুক নারদ     ব্যাস বিশারদ
অণুক্ষণ রঙ্গে সঙ্গে ফিরে॥
চুয়া চন্দন,     অঙ্গে বিলেপন
রূপ সুধাকর মোহ করে॥
জ্ঞানদাস কহে,     গৌর কৃপাময়ে
হেরইতে কোন জীব দেহ ধরে॥

টীকা ---
জয় জগতারণ ধাম --- জগতের ত্রান কর্ত্তা এবং বিশ্বের কারণস্বরূপ। এই চরণটি গোবিন্দদাসের একটি সুপ্রসিদ্ধ পদের প্রথম চরণ, কিন্তু নিত্যানন্দ সম্বন্ধে প্রযুক্ত।
ব্যাস বিশারদ --- ব্যাস যিনি সর্ব্বজ্ঞ। ভাগবতে সর্ব্বজ্ঞ অর্থে বিশারদ শব্দ ব্যবহৃত হইয়াছে।

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, শ্রীগৌরচন্দ্র, ৩৬৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গৌরীরাগ॥

কাঞ্চন বরণ     গৌর তনু মোহন
প্রেমে আকুল দুই নয়ন ঝরে।
করিকর ললিত     আজানুলম্বিত
ভুজযুগ শোভিত পুলকভরে॥
শ্রীশচীনন্দন চৈতন্য নাম।
জয় জগতারণ কারণধাম॥
নিজ গুণ কীর্ত্তন     নটন অনুক্ষণ
নাহি পরাপর ভাব-ভরে।
শিব শুক নারদ     ব্যাস বিশারদ
রঙ্গে সব খণ সঙ্গে ফিরে॥
চূয়া চন্দন     অঙ্গে বিলেপন
রূপসুধাকর মোহ করে।
জ্ঞানদাস কহ     গৌর কৃপাময়
হেরইতে কো জীব থেহ ধরে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্র
॥ গৌরীরাগ॥

কাঞ্চন বরণ     গৌর তনু মোহন
প্রেমে আকুল দুই নয়ন ঝরে।
করি-কর ললিত     আজানুলম্বিত
ভুজযুগ শোভিত পুলক-ভরে॥
শ্রীশচীনন্দন চৈতন্যনাম।
জয় জগতারণ কারণধাম॥
নিজ গুণ কীর্তন     নটন অনুক্ষণ
নাহি পরাপর ভাব-ভরে।
শিব শুক নারদ     ব্যাস বিশারদ
রঙ্গে সব খণ সঙ্গে ফিরে॥
চুয়া-চন্দন     অঙ্গে বিলেপন
রূপ-সুধাকর মোহ করে।
জ্ঞানদাস কহ     গৌর কৃপাময়
হেরইতে কো জীব থেহ ধরে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬০৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কাঞ্চন বরণ গৌর তনু মোহন
      প্রেমে আকুল দুই নয়ন ঝরে।
করিকর ললিত আজানুলম্বিত
      ভুজযুগ শোভিত পুলকভরে॥
শ্রীশচীনন্দন চৈতন্য নাম।
      জয় জগতারণ কারণধাম॥
নিজ গুণ কীর্ত্তন নটন অনুক্ষণ
      নাহি পরাপর ভাব ভরে।
শিব শুক নারদ ব্যাস বিসারদ
      রঙ্গে সব খণ সঙ্গে ফিরে॥
চুয়া চন্দন অঙ্গে বিলেপন
      রূপসুধাকর মোহ করে।
জ্ঞানদাস কহ গৌর কৃপাময়
      হেরইতে কো জীব থেহ ধরে॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^